প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
সাত দিনের মধ্যেই উঠে গেল ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের কার্পেটিং, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী
মোঃ আবুল হাসেম, , স্টাফ রিপোর্টার ||
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং ঢালাইয়ের মাত্র সাত দিনের মধ্যেই উঠে যেতে শুরু করেছে। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য নির্মিত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং আলগা হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাত বা পায়ের সামান্য ঘষাতেই পিচ উঠে যাচ্ছে। এছাড়া সড়কের কয়েকটি অংশে ফাটল ও পাশের অংশে ভাঙনের চিহ্নও লক্ষ্য করা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাগুড়া ইউনিয়নের চেকপোস্ট থেকে দর্জিপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা এবং কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্স।এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পর্যাপ্ত বিটুমিন না দেওয়া এবং নির্মাণ নীতিমালা উপেক্ষা করেই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনে তদারকি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, “ঢালাই দেওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে ভালোভাবে কাজ করার জন্য বলেছিলাম, কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি।”আরেক বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণেই এমন হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তার এই অবস্থা হয়ে গেছে।”মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু জানান, “সরকারি ছুটির দিন কাজে লাগিয়ে তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও ঠিকাদার কাজ চালিয়ে গেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মসদুল হক। তার দাবি, “আমরা কোথাও নিম্নমানের কাজ করিনি। অন্যান্য জায়গায় আমাদের কাজ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই, শুধুমাত্র এই প্রকল্প নিয়েই অভিযোগ উঠেছে।”এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং পুনরায় টেকসই ও মানসম্মতভাবে সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি এলাকাবাসী দীর্ঘমেয়াদে ভোগান্তির শিকার হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই