প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
ময়নামতি’র গোমতী নদী পারা পারে তিন খেয়া ঘাট
সৌরভ মাহমুদ হারুন, বুড়িচং ||
সড়ক ব্যবস্থায় যখন সারাদেশে অভাবনীয় উন্নয়ন,তখন কুমিল্লার ঐতিহাসিক সমৃদ্ধ জনপদ বুড়িচং উপজেলার ময়নামতির পাশ দিয়ে বহে যাওয়া গোমতী নদীর তিনটি খেয়া ঘাট দুপারের যোগাযোগ রক্ষা করছে অসংখ্য মানুষের। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী গোমতী নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণ করার। অথচ এ ব্রীজের অভাবে কয়েক লক্ষ মানুষের যোগাযোগে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষের। ময়নামতি ইউনিয়নের গোমতীর পাড়ের মীরপুর,নানুয়ার বাজার,বাহেরচর (মিঘিলাপুর) এলাকার মানুষ অপেক্ষায় থাকে কখন পাড়ে ভীড়বে নৌকা কিংবা নৌকা থাকলেও মাঝিকে হাক ডাক দেয় ওই মাঝি তাড়াতাড়ি আসো।বছরের অন্যান্য সাধারন দিনে-রাতে ডাকের সুর এক রকম হলেও অঝোঁর বৃষ্টি,কূয়াশা কিংবা রাত গভীর হলে ঘর ফেরা মানুষগুলো পারাপারের অপেক্ষায় কখনো আগাম জানিয়ে রাখে অথবা মোবাইল ফোনে ডেকে এনে বাড়ি-ঘরে ফিরছে এখানকার তিনটি খেয়া পাড়ের মানুষগুলো। ঘাটগুলো তে মানুষের পাড়াপাড়ে যুগের পর যুগ মাঝি কর্মব্যস্ত সময় পাড় করলেও এসব ঘাট অনেকটাই অবহেলিত। নেই রোদে বৃষ্টিতে দাড়ানো বা অপেক্ষর নুন্যতম সুযোগ। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব ঘাট দিয়ে মাঝিরা পারাপার করছেন। আর এটাই তাদেও আয়ের একমাত্র উৎস।যুগ অনেক পাল্টে গেছে। সড়ক,মহাসড়ক,ফ্লাইওভার, নদীর উপর ব্রীজ সব কিছুই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দেশের সর্বত্র। কিন্তু শতাব্দি প্রাচীন খেয়াঘাটগুলো সেই মান্ধাতা আমলের ডিঙ্গি নৌকায় ভর করে এপাড়-ওপাড় করছে প্রতিদিন শত শত যাত্রী। জেলা পরিষদের অধীনে থাকা এইসব ঘাটগুলোর সংস্কার বা আধুনিকায়নে যেমন কর্তৃপক্ষের কোন খেয়াল নেই,তেমনি সাধারন কারো চোখে-মুখেও কোন অভিযোগ নেই। প্রতিটি যাত্রী মনে হয় কোনরকমেএপাড়-ওপাড় হতে পারলেই হলো। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের র্পূর্ব দিক দিয়ে বয়ে গেছে জেলার প্রধান নদী গোমতী। আর এই ইউনিয়নের প্রায় ৪ কিলোমিটার দুরত্বেও মধ্যেই তিনটি খেয়া ঘাটের অবস্থান।মীরপুর খেয়া ঘাটঃ ময়নামতি রানীর বাংলোর পূর্বদিকে প্রায় অর্ধকিলোমিটারেরও কম দুরত্বে মীরপুর খেয়া ঘাটটির অবস্থান। ঘাটটিতে কোন যাত্রীছাউনি নেই। মীরপুর অংশে ঘাট সংলগ্ন একটি মসজিদ ও একটি দোকান দুর্যোগকালীন বা রোদে-বৃষ্টিতে আশ্রয় নেওয়ার উপায়,ওপাড়ের নৌকা ভীড়ার স্থান ভান্তিতে একটি ছোট আকারের ছাপড়া রয়েছে। এই ঘাটের মাঝি আব্দুল কুদ্দুস। পঞ্চাশ পেরুনো এই মাঝি সকাল ৬ টা থেকে নৌকায় যাত্রীপারাপারে ব্যস্ত হয়েপড়েন। একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে তার কর্ম ব্যস্ততা। নদীর দু’পাড়ের মীরপুর,কাঁঠালিয়া,ভান্তি,কাহেতরা,বালিখাড়া,পূর্বহুরা,ফরিজপুর এলাকার লোকজন চলাচল করে এই ঘাট দিয়ে। পুরাতন একটি ডিঙ্গি নৌকাই এই ঘাট দিয়ে পারাপারের একমাত্র অবলম্বন। কথা প্রসঙ্গে মাঝি কুদ্দুস জানান, আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সরকার পাকা সেতু করে দিয়েছে। এতে করে যোগাযোগ অনেকটা সহজ হয়ে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো মানুষের ভীড় নেই এই ঘাটে। তিনিও চান এইখানে একটি সেতু নির্মানের। ঘাটটির ইজারাদার নিখিল চন্দ্র দাস বলেন,তিন পুরুষের এই পেশা তিনি এখনো টিকিয়ে রেখেছেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫’শতাধিক মানুষ এই ঘাট দিয়ে চলাচল করে। যাত্রীপিছু প্রতিবারে এপাড়-ওপাড় হতে নেওয়া হয় ১০ টাকা। ইজারাদার আরো বলেন, যেটাকা আয় হয় মাঝির বেতন দেওয়ার পর খুব একটা লাভ হয় না।নানুয়ার বাজার খেয়াঘাটঃ এই ঘাটের মাঝি কামাল হোসেন ওরফে বজলুমিয়া। সকাল ৬ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত তার দৈনিক কাজ। দু’তীরের বুড়বুড়িয়া,বেড়াজাল, শিকারপুর,খাড়াতাইয়া,পূর্বহুরা,রামনগর,বাজেহুরা, বাগিলারাসহ াাশপাশের দুগ্রামের মানুষের সেতু বন্ধন এইখেয়া ঘাটের নৌকা। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩’শতাধিক মানুষ পারাপার হয় এই ঘাট দিয়ে। বলে রাখা ভালো এই ঘাটের মাঝি আর ইজারাদার একই ব্যক্তি। তিনি আরো জানান,এখানকার অনেক পরিবার বছরে এককালীন নৌকা ভাড়া দেয়। এই ঘাটটিতেও নেইকোন যাত্রী ছাইনি। বাৎসরিক ২০ হাজার টাকায় ইজারা নেওয়া ঘাটটি মাঝির পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন। মিথিলাপুর খেয়া ঘাট ( বাহের চর)ঃ কেউ বলে মিথিলাপুর,কেউবা বলে বাহের চর খেয়া ঘাট। ময়নামতি ইউনিয়নের সর্বোত্তরে এই ঘাটটির অবস্থান। মাঝি আব্দুল মালেক দেখতে অনেকটা নিরিহ । ইজারাদারের বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করা এই মাঝির বেতন মাত্র দেড়’শ টাকা। সকাল ৬ টা থেকে একটানা রাত ১০ টা পর্যন্ত তার চাকুরীর মেয়াদকাল। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে ৩’শতাধিক লোক আসাযাওয়া করে। এই ঘাটে নৌকায় নদী এপাড়-ওপাড় হতে মাত্র ৫ টাকা নেওয়া হয়। এই ঘাটের ইজারাদার আব্দুল জলিল জানান, মানুষ জরুরী প্রয়োজন না হলে কষ্ট করে নদী পারাপার হতে চায় না নৌকায় করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই