প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগমের দুর্নীতির মহাকাব্য
স্টাফ রিপোর্টার ||
রাজধানীর জনপদ মোড়ে অবস্থিত স্বনামধন্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজকে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অত্যাচারের সাম্রাজ্যে পরিণত করেছেন বর্তমান অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মরিয়ম বেগম। দেশের প্রচলিত শিক্ষানীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার প্রবর্তিত অনিয়ম, দুর্নীতি , স্বেচ্ছাচারিতা, অত্যাচারিতা, নিজ নিজ খেয়াল - খুশি নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে বর্তমান স্কুল এন্ড কলেজটি । তার হিংস্র থাবা থেকে মুক্তি পায়নি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী , শিক্ষক-শিক্ষিকা , অভিভাবক, পিয়ন - আয়ারা পর্যন্ত । যে কারণে একাধিকবার তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় , জেলা শিক্ষা অফিসে , থানা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দায়ের করা হয় কিন্তু অদৃশ্য ছায়ার কল্যাণে বারবার তিনি মুক্তি পেয়ে যান । প্রাপ্ত সূত্রে , ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সহিত দক্ষ অধ্যক্ষ , শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রশাসনিক কর্মচারী- কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছিল । নিম্ন মাধ্যমিক থাকাকালীন ২০০৪ সালে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে উক্ত প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল , প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বা বিধি মোতাবেক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষকের কোন পদ থাকে না । তাহলে তিনি কিভাবে এই পদে যোগদান করেন। তার উক্ত পদে যোগদান বিধি মোতাবেক অবৈধ ও বিতর্কিত । কিন্তু সুচতুর মরিয়ম বেগম রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ এ বিতর্কিত কর্মকান্ডটি বস্তাবন্দী হয়ে যায় । ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিকট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক উন্নতি লাভ করে মাধ্যমিকের রূপান্তরিত ও ২০১০ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিও ভুক্ত হয় । এখানে উল্লেখ্য , একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকের চাকরির ক্ষেত্রে সরকারি বিধি মোতাবেক এসএসসি সহ সকল পরীক্ষায় নুন্যতম দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হয়। তবে মরিয়ম বেগম ডিগ্রী পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ উত্তীর্ণ সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন বলে বিদ্যালয়ের সূত্র হতে প্রাপ্ত । অভিযোগ থেকে আরো প্রকাশ , তার সকল অপকর্মে সর্বদা সহযোগিতা করেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন মুসলেম যিনি অধ্যক্ষের অনেক অনুগত ও আস্থাভাজন । মরিয়ম বেগম নিজেও ২০০৯ হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দুর্নীতিতে সাব্যস্ত হওয়ায় বরখাস্ত ছিলেন । আবার যখন পূর্ণবহাল হন তখন তিনি বিগত দিনের একটি টাকা নিবেন না বলে মুচলেকা দেন । কিন্তু অভ্যাস এত সহজেই যায় না, বরখাস্ত থেকে উদ্ধারের পর তিনি নানা ফন্দি - ফিকির করে ৪০ লক্ষ টাকা আদায় করেন । তার উক্ত দুর্নীতি ও অনিয়মে প্রশ্রয় না দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রভাতী শাখায় ৬৭ জন , দিবা শাখা ৫৭ জন ও কলেজের ১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা তার হিংস্র থাবায় জর্জরিত হন। উক্ত শিক্ষক - শিক্ষিকারা মাসের পর মাস যাবত বেতন ভাতা পাচ্ছেন না । অথচ তিনি নিয়মিত বেতন ভাতা নিয়ে যাচ্ছেন । বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের কিছু জমি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয় । অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবত বিদ্যালয় বরাবর চেকের মাধ্যমে যমুনা ব্যাংকের দিলকুশা শাখা, ঢাকা, ২৮-৪ -২২ ইং তারিখে ২ কোটি ও অগ্রণী ব্যাংক গুলশান শাখায় , ঢাকা , ১৮-৪-২২ ইং তারিখে ৫ কোটি ৯০ লাখ ১৭ হাজার ২৬০ টাকা সরকার কর্তৃক প্রদান করা হয় । কিন্তু এত বিশাল অংকের টাকার হিসাব তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক - শিক্ষিকা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখাতে পারছেন না । শুধু তাই নয় , চার বছরের সেশন চার্জের টাকা , বিদ্যালয় নিজস্ব জমিতে নির্মিত দোকানের এডভান্স ও ভাড়া , প্রতিষ্ঠানের পুরাতন মালামাল বিক্রির টাকার কোন হাদিস নেই । উক্ত সকল অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মরিয়ম বেগমের মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলো তিনি রিসিভ করেননি । এ ব্যাপারে সুশীলসমাজ, দেশের শিক্ষার ও বিদ্যালয়ের স্বার্থে মরিয়ম বেগমের যথাযথ শাস্তি হওয়া দরকার বলে মনে করেন । দুর্নীতিবাজ এই শিক্ষিকার ব্যাপারে এই প্রতিবেদকের তদন্ত অব্যহত আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই