প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
জনগণের সুন্দর জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবিচল সি চিন পিং
আন্তর্জাতিক: ||
১৯৭৪ সালে, তরুণ সি চিন পিং, শ্যানসি প্রদেশের লিয়াংচিয়াহে গ্রামে চীনা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং উত্পাদন ব্রিগেডের সিপিসি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় লিয়াংচিয়াহের জমি ছিল অনুর্বর। সম্পাদক হওয়ার পর, তিনি গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিলে পলি-ধারণ বাঁধ নির্মাণ করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, “এখানে বাঁধ তৈরি হলে সেচযোগ্য জমির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে; ভবিষ্যতে লিয়াংচিয়াহের প্রজন্মের পর প্রজন্ম এর সুফল ভোগ করবে।”লিয়াংচিয়াহেতে সাত বছরের সময়কালে তিনি গ্রামবাসীদের নিয়ে কূপ খনন, পলি-ধারণ বাঁধ নির্মাণ, টেরেসিং জমি তৈরি, বায়োগ্যাস পুল নির্মাণ এবং লৌহশিল্প সমবায়, বিক্রয়কেন্দ্র ও সেলাই সমবায় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি গ্রামের মানুষের জন্য বহু কল্যাণকর ও বাস্তব কাজ করেছেন।১৯৮২ সালের মার্চ থেকে ১৯৮৫ সালের মে পর্যন্ত সি চিন পিং, হেপেই প্রদেশের চেংতিং জেলায় সিপিসির উপ-সম্পাদক ও পরে সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “১৯৮২ সালে আমি স্বেচ্ছায় কেন্দ্রীয় সংস্থা থেকে আবার তৃণমূল পর্যায়ে, জনগণের মাঝে কাজ করতে যাওয়ার আবেদন করি। আমি বলেছিলাম, জনগণকে আমি আমার বাবা-মায়ের মতোই ভালোবাসতে চাই।” তিনি আরও বলেন, তাঁর সবচেয়ে গভীর উপলব্ধি ছিল—সবচেয়ে কঠিন সময়ে জনগণই সবচেয়ে বড় ভরসা। ১৯৮৩ সালে, তত্কালীন চেং তিং জেলায় সিপিসির সম্পাদক হিসেবে সি চিন পিং রাস্তায় অস্থায়ীভাবে একটি টেবিল বসিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত শুনছেনসময় বদলেছে, কিন্তু তাঁর আদর্শ বদলায়নি। ২০১৬ সালের পয়লা জুলাই, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ৯৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, পার্টির সদস্য ও কর্মকর্তাদের “সবসময় জনগণের প্রতি নির্মল ও আন্তরিক মনোভাব বজায় রাখতে হবে।”চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৮তম জাতীয় কংগ্রেসের পর, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং পাহাড়-পর্বত অতিক্রম করে, ১৪টি সংলগ্ন দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলে সফর করেন এবং ৫০ বারেরও বেশি দারিদ্র্যবিমোচন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। “প্রকৃত দারিদ্র্যকে দেখতে হবে” থেকে “প্রকৃত দারিদ্র্যমুক্তি নিশ্চিত করতে হবে”—এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি ঐতিহাসিক দায়িত্ব দৃঢ়ভাবে কাঁধে তুলে নেন। তিনি সবসময় বলেন, “গ্রামের মানুষ একদিনও দরিদ্র থাকলে, আমাকে জনগণের কাছে ও ইতিহাসের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।”সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে গঠিত পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির শক্তিশালী নেতৃত্বে, চীন প্রায় ১০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করেছে; মধ্যম মানের সচ্ছল সমাজ গড়ে তুলেছে; এবং বিশ্বের বৃহত্তম শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও নগর আবাসন সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। জনগণের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, শ্যানসি প্রদেশের মিচি জেলার কাও সি কো গ্রামে পরিদর্শনে যাওয়ার পথে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং সাময়িকভাবে গাড়ি থেকে নেমে ফসলের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করেন এবং মাঠে কাজ করা কৃষকদের সঙ্গে আন্তরিক আলাপ করেন।সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং বলেন, “জনগণই রাষ্ট্রের ভিত্তি। কমিউনিস্ট পার্টি রাষ্ট্র গড়েছে ও রক্ষা করছে—আসলে কী রক্ষা করছে? জনগণের হৃদয়ই রক্ষা করছে।”গত বছরের অক্টোবরে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “প্রাথমিক লক্ষ্য কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না, জনগণের অবস্থান থেকে সমস্যা বিবেচনা করতে হবে, উন্নয়নের মধ্য দিয়েই জনকল্যাণ নিশ্চিত ও উন্নত করতে হবে এবং ধাপে ধাপে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।”২০২৬ সাল ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র সূচনাবর্ষ এবং সিপিসি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী। এ বছরের জানুয়ারিতে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং পার্টির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক কর্মদৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনগণের জন্য কাজের সাফল্য অর্জন করতে হবে, বাস্তব কর্মের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করতে হবে।” ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল, রাজধানীতে স্বেচ্ছামূলক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাদের অধ্যবসায়ের সঙ্গে পড়াশোনা, শরীরচর্চা, সুস্থ বিকাশ ও নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা, শারীরিক সক্ষমতা, নান্দনিকতা এবং শ্রম—সব ক্ষেত্রে উন্নতির মাধ্যমে দেশের যোগ্য স্তম্ভ হয়ে ওঠার আহ্বান জানানতিনি বলেন, “এতো বড় একটি দেশের দায়িত্ব অত্যন্ত ভারী, কাজও অত্যন্ত কঠিন। আমি নিজেকে ভুলে গিয়ে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে চাই। জনগণ যা ভাবছে তা ভাবতে হবে, জনগণ যা প্রত্যাশা করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের সুন্দর জীবনের আকাঙ্ক্ষাকে ক্রমাগত বাস্তবে রূপ দিতে হবে।” এসব বক্তব্য জনগণের প্রতি এক মহান নেতার গভীর ভালোবাসা এবং শতবর্ষী রাজনৈতিক দলের জনগণকেন্দ্রিক চেতনাকেই প্রতিফলিত করে। সূত্র: শিশির-আলিম-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই