প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
দিনে নিখোঁজ রাতে মিলল নারীর লাশ
মো: সালাউদ্দিন সোহাগ , স্টাফ রিপোর্টার ||
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের খলাগাঁও গ্রামে সাদিয়া (২৫) নামে এক নারীর লাশ মিলেছে।রবিবার দিবাগত রাতে ওই নারীর বাবার বাড়ির এলাকায় মরদেহ দেখতে পেয়ে তার স্বজনরা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করে। সাদিয়া ওই গ্রামের শহীদ উল্লাহর মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের হাটমুড়া গ্রামে ওই নারীর বিয়ে হয়। কিন্তু ৪ বছর পূর্বে বিবাহবিচ্ছেদের কারণে সাদিয়া তার আপন বড় বোন একই উপজেলার খেলমেহের গ্রামের অধিবাসী সাজেদার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। সাজেদার স্বামী প্রবাসে থাকায় দু'জনের সংসার ভালোই চলছিল। এদিকে রবিবার (১৪ জুন) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাসা থেকে সাদিয়া বের হয়ে যায় বলে তার পরিবার দাবি করে।বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর সাদিয়া বোনের বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।পরিবারের দাবি, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সাদিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে একটি কল আসে। কলদাতা জানান, সাদিয়া কীটনাশক সেবন করে মারা গেছেন। একই সঙ্গে জানানো হয়, তার মরদেহ বাবার বাড়ির খলাগাঁও গ্রামের খোরশেদ ভুঁইয়ার দোকানের সামনে রাখা রয়েছে।খবর পেয়ে সাদিয়ার তিন ভাই, চাচাসহ স্বজনরা টর্চলাইট নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে পৌঁছে তারা সাদিয়ার মরদেহ দেখতে পান। পরে স্বজনরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে কচুয়া থানার সেকেন্ড অফিসার নাজমুল ইসলাম ও এসআই মৃদুল বড়ুয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে- ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক। দিনের বেলায় নিখোঁজ হওয়ার পর রাতের আঁধারে মরদেহ বাবার বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার করা ও মোবাইল ফোন থেকে মৃত্যুর সংবাদ দেওয়ার বিষয়টি সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই