প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
ভরা বর্ষাতেও শুকিয়ে আছে নিকলী হাওর: হতাশ পর্যটক, দুশ্চিন্তায় স্থানীয়রা
মো: ওয়াহিদ , কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ||
পঞ্জিকার পাতায় আষাঢ় মাস চললেও কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীতে দেখা নেই চিরচেনা সেই উত্তাল জলরাশির। সাধারণত বছরের এই সময়ে যে হাওর পানিতে টইটম্বুর থাকার কথা, সেখানে এখন দিগন্তজোড়া ধু-ধু মাঠ আর সামান্য কাদার আস্তরণ। বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও হাওরে আশানুরূপ পানি না আসায় চরম হতাশা প্রকাশ করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। একই সাথে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে হাওরকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহ করা স্থানীয় বাসিন্দাদের কপালে।পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, কিন্তু পানি উধাও প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই নিকলী বেড়িবাঁধ এলাকায় ঢল নামে হাজারো পর্যটকের। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে বিশাল জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়াতে আসেন তারা। তবে এ বছর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজধানী ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন: "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিকলী হাওরের সৌন্দর্যের ভিডিও দেখে বন্ধুদের নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি পানিই নেই! নৌকাগুলো সব ঘাটে বাঁধা, শুকনা মাটিতে শিশুরা খেলা করছে। বর্ষার এই সময়ে এমন দৃশ্য আশা করিনি।"সংকটে মাঝী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাওরে পানি না আসায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নৌকা চালক এবং স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। বছরের এই ৪-৫ মাস পর্যটকদের ওপর নির্ভর করেই তাদের মূল আয় হয়।নৌকা মাঝীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সঠিক সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে নদী ও হাওর শুকিয়ে থাকছে। কয়েকজন মাঝী জানান: পর্যটকরা এসে পানি না দেখে ফিরে যাচ্ছেন।সারাদিন বসে থেকেও একটি ট্রিপ পাওয়া যাচ্ছে না।ধার-দেনা করে নৌকার মেরামত ও রঙ করার খরচ তোলা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব স্থানীয় প্রবীণদের মতে, উজান থেকে পাহাড়ি ঢল এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণেই মূলত এই কৃত্রিম খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাওরে সময়মতো পানি না আসায় শুধু পর্যটনই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং দেশীয় মাছের প্রজনন এবং জলজ উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।সবশেষে: স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢল নামলে হাওর আবার তার চেনা রূপ ফিরে পাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই