প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
পাঁচ বছর আগে কেনা জমি এখন বাউন্ডারির ভেতরে
মো: আজিম মিঞা , ক্রাইম রিপোর্টার ||
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী কলেজ রোডের মিদ্দা বাড়ি এলাকায় বৈধভাবে ক্রয়কৃত একটি জমি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিক ব্যবসায়ী আজিম মিঞার অভিযোগ, তার নামে রেজিস্ট্রিকৃত সাড়ে পাঁচ শতক জমি পাশের একটি সম্পত্তির সঙ্গে একীভূত করে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দখলের আশঙ্কা তৈরি করেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে আজিম মিঞা চৌমুহনী প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ সিদ্দিক বাবুর কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন। রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হলেও এখনো মিউটেশন (নামজারি) করা হয়নি। পরিবারের দাবি, জমি বিক্রির সময় বিক্রেতা নিজেই নামজারি সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।ঢাকায় বসবাসের কারণে দীর্ঘদিন জমিটির খোঁজখবর নিতে পারেননি আজিম মিঞা। সম্প্রতি স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার জমি পাশের ১৮ শতক জমির সঙ্গে একই বাউন্ডারির ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট সাড়ে ২৩ শতক জমি একত্রে ঘিরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজিম মিঞা ও স্থানীয় ব্যক্তি ফরহাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে। কথোপকথনের একপর্যায়ে ফরহাদ প্রশ্ন তোলেন, কেন তানভীরুর রহিম সম্রাটকে বিষয়টিতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। জবাবে আজিম মিঞা বলেন, “আমার টাকায় কেনা সম্পদের বিষয়ে আমি কাকে দায়িত্ব দেব, সেটি আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এ জন্য কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।”পরে কথোপকথন আরও উত্তপ্ত হলে ফরহাদ তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি নিজেকে কী মনে করেন?” এর জবাবে আজিম মিঞা বলেন, “আমি নিজেকে বিশেষ কিছু মনে করি না। আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে সম্পত্তি কিনেছি। কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা হুমকি আমাকে আমার অধিকার থেকে সরাতে পারবে না। আমার জমিতে বাউন্ডারি দেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে, সেটাই আমার প্রশ্ন।”স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ফরহাদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। যদিও এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে ঘটনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে জমির সামনে স্থাপিত একটি সাইনবোর্ড। সেখানে জমিটি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ বা বন্ধক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, অন্যের নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমি কীভাবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলো এবং এর আইনগত ভিত্তি কী?জমি ক্রয়ের মধ্যস্থতাকারী তানভীরুর রহিম সম্রাট জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি বাউন্ডারি নির্মাণের বিষয়টি দেখতে পান। পরে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে আশরাফ সিদ্দিক বাবুর কাছ থেকে হুমকি ও অশালীন ভাষায় ভয়েস মেসেজ পান বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।ফরহাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক ভয়েস মেসেজে তিনি এ বিষয়ে আশরাফ সিদ্দিক বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে জমির মালিকানা, বাউন্ডারি নির্মাণ বা দখল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।অন্যদিকে আশরাফ সিদ্দিক বাবুর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে জিএস রুবেল ও মনজুরুল আজিম সুমন অবগত আছেন।” তবে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত মালিকানা যাচাই, ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে স্থাপিত সাইনবোর্ডের বৈধতা পরীক্ষা এবং দখলচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই