প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
বরুড়ায় থানার ১০০ ফুট দূরে দুর্ধর্ষ চুরি
ফয়জুল ইসলাম পলাশ ||
কুমিল্লার বরুড়ায় থানার মাত্র ১০০ ফুট দূরে সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তালা কেটে একটি টেলিকম ও কম্পিউটার দোকানে প্রবেশ করে নগদ অর্থসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়, বরুড়া পশ্চিম বাজারের চৌধুরীর মার্কেটে অবস্থিত “নূরহান টেলিকম এন্ড কম্পিউটার” দোকানে এ ঘটনা ঘটে। দোকানটির মালিক শাহীন ভূইয়া জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে দোকান খুলতে এসে তিনি দেখতে পান দোকানের তালা ভাঙা এবং ভেতরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভোর ৬টার দিকে সংঘবদ্ধ চোরচক্র মার্কেটের দক্ষিণ পাশের কোলাপ্সিবল গেইটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এ চুরির ঘটনা ঘটায়। চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মোবাইল ফোন ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। এছাড়া নগদ ২০ হাজার টাকাও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।দোকান মালিকের ছেলে সৌরভ ভূঁইয়া বলেন, “সকালে দোকান খুলে দেখি সবকিছু নিয়ে গেছে। এরা শুধু সাধারণ চোর নয়, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যও হতে পারে। মার্কেটের উত্তর ও দক্ষিণ দুই পাশের কোলাপ্সিবল গেইটে তালা ছিল। থানার পাশের দক্ষিণ গেইটের তালা ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের কাছে তালা কাটার যন্ত্রপাতি ছিল এবং সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাইরে আরও সহযোগী ছিল।”তিনি আরও বলেন, “এত বড় ঘটনা থানার এত কাছে ঘটেছে, বিষয়টি উদ্বেগজনক।”দোকানের মালিক শাহীন ভূইয়া তার নগদ অর্থ ও মালামাল উদ্ধারসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।ঘটনার খবর পেয়ে বরুড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় এসআই মহিনসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।তদন্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় সরকার বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধীরা বাইরের হতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দোকান মালিককে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”এদিকে বাজার কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাজারের পাহারাদারদের দায়িত্ব সকাল ৬টা পর্যন্ত ছিল এবং ঘটনার সময় সম্ভবত তার পরবর্তী সময়ে। তারা জানান, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজনে পাহারাদারদের দায়িত্বের সময় বৃদ্ধি করা হবে।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, থানার এত কাছাকাছি এলাকায় এমন ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই