প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
চাকরির প্রলোভন, কর্পোরেট সিম ও পদ-পদবীর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার ||
চাকরি, কর্পোরেট সিম, সম্মাননা ক্রেস্ট, পদ-পদবী এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশনের প্রধান নুরুল্লাহ আল আমিন ও তার সহযোগী মুশকিল আহমেদ রনির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ সংগ্রহের পর অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গায়েব এবং এখন তাদের কোনো খোঁজই মিলছে না।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির নামে ও বেনামে পরিচালিত একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ, পদ-পদবী প্রদান এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। কিন্তু সম্প্রতি গ্রুপগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর অকার্যকর থাকায় তারা কার্যত যোগাযোগহীন অবস্থায় পড়েছেন। ফলে অর্থ ফেরত বা অভিযোগ জানানো—কোনোটিই সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি তাদের।অভিযোগকারীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে তাদের ব্যবহৃত ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর অফিস কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো যোগাযোগের ঠিকানাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে চাকরি, কর্পোরেট সিম, সম্মাননা ক্রেস্ট এবং অন্যান্য সুবিধার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুত সেবা বা সুবিধা না পাওয়ায় অনেকেই নিজেদের প্রতারণার শিকার বলে দাবি করছেন।সিলেটের ভুক্তভোগী এনাম চৌধুরী জানান, বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তাকে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে ওই অর্থ ফেরতের পর থেকেই অভিযুক্তদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।আরেক ভুক্তভোগী আব্দুর রব বলেন, চাকরির আশ্বাসে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত পেলেও বাকি ৫০ হাজার টাকা এখনো পাননি। তিনি বলেন, "এটি আমার কষ্টার্জিত অর্থ। বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাইনি। আমি আমার অবশিষ্ট টাকা ফেরত চাই। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।"ভুক্তভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই