প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
ব্রাহ্মণপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টায় সৎ পিতা গ্রেফতার
সৌরভ মাহমুদ হারুন৷ , ব্রাহ্মণপাড়া ||
: (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ঘরে একা পেয়ে ৯ বছরের এক অবুঝ শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মো. জলিল (৪৮) নামের এক পাষণ্ড সৎ পিতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিজের ঘরেই যেখানে একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে খোদ পিতারূপী এক পশুর এমন জঘন্য লালসার শিকার হতে হয়েছে শিশুটিকে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় লম্পট সৎ পিতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা।ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১ জুলাই) রাতে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের লাড়ুচৌ গ্রামের একটি বাড়িতে।মাঝরাতে মায়ের চোখে ধরা পড়ল স্বামীর কুৎসিত রূপ মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১ জুলাই রাত আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে ভুক্তভোগীর মা রাতের খাবার শেষে নিজের শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। মায়ের অজান্তেই শিশুটি পড়ার টেবিল থেকে উঠে ঘরের মাঝের কক্ষে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘরের ভেতর ধস্তাধস্তি ও অস্বাভাবিক নড়াচড়ার শব্দ পেয়ে মায়ের ঘুম ভেঙে যায়।তিনি দ্রুত পাশের কক্ষে গিয়ে যা দেখলেন, তাতে তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। তিনি দেখতে পান, তাঁর দ্বিতীয় স্বামী মো. জলিল তাঁর ৯ বছরের নিষ্পাপ সন্তানকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করছে। মায়ের আকস্মিক উপস্থিতিতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লম্পট জলিল পিছু হটে এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।মায়ের সাহসী পদক্ষেপ ও পুলিশের তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নিজের সন্তানের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করেননি সাহসী মা বকুল আক্তার (৩৩)। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে তিনি নিজেই ব্রাহ্মণপাড়া থানায় হাজির হয়ে নরপশু স্বামীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার জমা দেন।থানা পুলিশ বিষয়টির ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগটিকে মামলা হিসেবে রুজু করে। এরপরই পুলিশ বিশেষ অভিযানে নেমে নরপশু জলিলকে তার আত্মগোপনস্থল থেকে টেনে হিঁচড়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।অপরাধীর বিরুদ্ধে পুলিশের 'জিরো টলারেন্স' এই জঘন্য অপরাধের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক হোসেন চরম ক্ষোভ ও কঠোরতা প্রকাশ করে বলেন,"অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সমাজে শিশুদের ওপর এমন যেকোনো ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মামলা রুজু করার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আসামী মো. জলিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিকটিমের জবানবন্দি ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কঠোর পাহারায় জেলহাজতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। আমরা নিশ্চিত করব যেন এই অপরাধী সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই