প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
মুরাদনগরে প্রধান শিক্ষক শূন্য ৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
মাহফুজুর রহমান, , মুরাদনগর (কুমিল্লা) ||
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৪টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৯৩টি পদও শূন্য । দীর্ঘদিন যাবত পদ গুলো শূন্য থাকায় পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদও ২০৪টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১১০ জন। তবে তাদের মধ্যে ৪১ জন চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।এদিকে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১ হাজার ২৪১টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ১৪৮ জন। বাকি ৯৩টি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।একাধিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হয়। আবার দাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিস বা বিভিন্ন সভায় অংশ নিতে হলে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা রেখে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষকদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।মটকিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, “প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও করতে হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যা কম থাকায় কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে বা দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের সংকটও রয়েছে। শিক্ষার মান বজায় রাখতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া জরুরি।”অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা হোক।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর মোল্লা বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় আমাদের কিছুটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। মূলত এ নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে কিছু আইনি জটিলতা বা মামলা ছিল, যা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। শিক্ষক সংকট দূর করতে খুব শিগগিরই পদোন্নতি, নতুন নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। সাময়িক এই সংকট কাটিয়ে উঠে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই