প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
ঘুষ দূর্নীতি আর দালালের মাধ্যমেই চলে ইউনিয়ন ভূমি অফিস
নুরনবী সরকার,, ভোলা ||
ঘুষ দূর্নীতি দালালদের আধিপত্য আর অনিয়মে চলছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এ অফিসের দালালদের পদচারনা আর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমানের অনিয়মে মূখর থাকে। টাকা দিলে মিলে সেবা অন্যথায় দেখানো হয় নানান অজুহাত। তার অনিয়মে ভোগান্তীর শিকার সেবাগ্রহীতারা। কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধিনে রয়েছে ৭টি মৌজা। কাচিয়া ইউনিয়ন ভুক্ত ৪টি এবং টবগী ইউনিয়ন ভুক্ত ৩টি মৌজা। এসকল মৌজার ভূমির মালিকগন প্রতিনিয়ত ভোগান্তীর শিকার হয়ে নীরবে মেনে নিতে হচ্ছে। একাধীক অনিয়মের অভিযোগে কয়েক মাস আগে এ অফিস থেকে ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমানকে অন্যত্র বদলি করা হলেও কিছুদিন পরে উপরের মহলকে ম্যানেজ করে পুনরায় ফিরে আসেন পূর্বের জায়গায়। অভিযোগ রয়েছে ভূমি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত রিপোর্ট করাইতে ১০ হাজার টাকার বা তার অধিক দিতে হয় উক্ত কর্মকর্তাকে। আবার জমাখারিজ বা নামজারি খতিয়ান খোলাইতে ভূমি মালিকগনের কাছ থেকে উপজেলা ভূমি অফিসের বরাত দিয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবী করে । ভুক্তভোগীদের মতে, চাহিদা অনুযায়ী অর্থ প্রদান না করলে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং নানা অজুহাতে কাজ বিলম্বিত করা হয়।টাকা দিলেই মিলে একজনের রেকর্ডিয় সম্পত্তির দাখিলা অন্যজনের নামে। এমনও অভিযোগ পাওয়া যায় -চাহিদা অনুযায়ী ঘুষের টাকা দিতে না পারলে খারাপ ব্যবহার করেন সেবাগ্রহীতার সাথে। সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে খাজনা বাবদ যে টাকা নেওয়া হয়, খাজনার রশিদ দেওয়া হয় তার অনেক কম। এতে করে ফাঁকি দেওয়া হয় সরকারের রাজস্ব আয় কে। এমন একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে -অনুসন্ধানে দেখা যায়, টবগী ইউনিয়ন ভুক্ত দালালপুর মৌজার বিএস ১৯৪৫ নং খতিয়ানে ষোল আনা অংশে রেকর্ডিয় মালিক মিলন মিয়া চৌধুরী কিন্তু টাকার বিনিময়ে অনলাইন খাজনা রশিদ বা দাখিলা দেওয়া হয় নাজিমউদ্দীন চৌধুরীর নামে। এই খাজনা রশিদে ভূমির শ্রেণির কলামে উল্লেখ করা হয় ৪টি দাগে নাল ৫৯ শতাংশ ও ১টি দাগে বাড়ি ৫ শতাংশ মোট ৬৪ শতাংশ ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ১০ টাকা। যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও এখতিয়ার বহির্ভূত ভাবে করা হয়েছে। রেকর্ডিয় মালিক ব্যতিরেকে অন্যজনের নামে খাজনা রশিদ বা দাখিলা প্রদান করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন- তিনি একজনের রেকর্ডিও জমি অন্যের নামা খাজনা দাখিলা কাটা ভুল হয়েছে। অনিয়ম, ঘুষ আর দালালদের পদচারনা বিষয়টি অস্বীকার করে প্রতিবেদন প্রচার না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজের চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রণজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, খতিয়ানের রেকর্ডিয় মালিক ছাড়া অন্য কারো নামে ভূমি উন্নয়ন কর বা দাখিলা দেওয়ার সুযোগ নাই। তবে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনবো এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা পূর্বের ও বর্তমানের নানান অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভূমি অফিসে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।###
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই