প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
হাসির রাজা’ দিলদারকে হারানোর ২৩ বছর আজ
বিনোদন ডেক্স। ||
তিনি পর্দায় এলেই হাসিতে ভরে উঠত প্রেক্ষাগৃহ। সংলাপ, অভিব্যক্তি আর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ে মুহূর্তেই মন জয় করতেন দর্শকের। কিন্তু সেই মানুষটিই হঠাৎ একদিন সব হাসি থামিয়ে চিরবিদায় নেন। ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা দিলদারকে হারানোর ২৩ বছর পূর্ণ হলো আজ।২০০৩ সালের ১৩ জুলাই না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা চলচ্চিত্রের এই অনন্য শিল্পী। সময় পেরিয়ে গেছে দুই দশকেরও বেশি, কিন্তু দর্শকের হৃদয়ে তার জায়গা আজও অটুট। টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা সামাজিক মাধ্যমে তার কোনো দৃশ্য ভেসে উঠলেই নতুন প্রজন্মও মুগ্ধ হয়ে দেখে সেই সহজ-সরল অথচ অসাধারণ অভিনয়।একসময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে দিলদারের স্মরণে আয়োজন করা হতো বিভিন্ন কর্মসূচি। তবে কয়েক বছর ধরে সেই আয়োজন আর দেখা যায় না। এখন মূলত পরিবারের সদস্যরাই নীরবে স্মরণ করেন প্রিয় মানুষটিকে। অথচ কোটি দর্শকের কাছে তিনি এখনও ‘হাসির রাজা’—এক অনন্য নাম, এক অমলিন স্মৃতি।১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন দিলদার। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষণ। মাত্র ২০ বছর বয়সে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পান। এরপর ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা, পরিশ্রম ও স্বকীয় অভিনয়শৈলীতে হয়ে ওঠেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতাদের একজন।১৯৭২ সালে ‘কেন এমন হয়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুন্দর আলীর জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’ এবং ‘শান্ত কেন মাস্তান’-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন।দিলদারের জনপ্রিয়তা ছিল এতটাই ব্যাপক যে, তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে নির্মিত হয়েছিল ‘আব্দুল্লাহ’ সিনেমা। একজন কৌতুক অভিনেতাকে ঘিরে এমন উদ্যোগ সে সময় ছিল বিরল, আর ছবিটিও দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।অভিনয়জীবনের শেষ সময়ে এসে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পান তিনি। ২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা কৌতুক অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সম্মান পাওয়ার বছরেই চিরবিদায় নেন এই প্রিয় শিল্পী।দিলদারের মৃত্যুর পর অনেকেই কৌতুক অভিনেতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। কেউ কেউ সফলও হয়েছেন নিজ নিজ জায়গায়। তবে দিলদারের সহজাত অভিনয়, মুখভঙ্গি, সংলাপ বলার অনন্য ভঙ্গি আর নির্মল হাসির যে স্বাক্ষর, তা আজও আলাদা হয়ে আছে। তাই সময় যতই এগিয়ে যাক, দর্শক বারবার ফিরে যান সেই পরিচিত মুখের কাছে—যিনি হাসাতে হাসাতেই জায়গা করে নিয়েছিলেন কোটি মানুষের হৃদয়ে।দিলদার নেই, কিন্তু তার সৃষ্টি করা হাসি আজও বেঁচে আছে। আর সেই হাসির মধ্যেই অমর হয়ে থাকবেন বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ ‘হাসির রাজা’।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই