প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
হাবিবুর রহমানের খোঁজখবর নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস
নিজস্ব প্রতিনিধি। ||
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন তারেক রহমান। গত রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি হাবিবুর রহমানের শারীরিক অবস্থা, আন্দোলনে তার ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিষয়ে খোঁজ নেন।সাক্ষাৎকালে হাবিবুর রহমানের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, “তুমি অনেক কষ্ট করে বেঁচে আছো। দলের জন্য তোমার যে অবদান, তা কখনো বিস্মৃত হবে না। দীর্ঘদিন ধরে তুমি যেভাবে সময়, শ্রম, ত্যাগ ও সাহস নিয়ে দলের পাশে থেকেছ, ইনশাআল্লাহ দল তার যথাযথ মূল্যায়ন করবে।”আলোচনার একপর্যায়ে আন্দোলনের সময়কার শারীরিক যন্ত্রণার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তুমি যে বেদনা নিয়ে আজও বেঁচে আছো, সেই বেদনা আমিও এখনো বহন করে চলেছি। আল্লাহ আমাদের সবার ত্যাগ কবুল করুন।”দলীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসারির সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরাসরি নেতৃত্ব দেন। কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মিছিলের প্রস্তুতি, ব্যানার তৈরিসহ আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।জুলাই আন্দোলনের সময় ১৮ জুলাই রাজধানীর শনির আখড়ায় বৃহৎ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ১৯ জুলাই সেগুনবাগিচা, সচিবালয়, শান্তিনগরসহ আশপাশের এলাকায় আন্দোলন সংগঠিত করেন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০ জুলাই শনির আখড়া এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে একটি স্থানীয় ফার্মেসিতে নেওয়া হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধান না পাওয়ায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত এখনো তাকে শারীরিকভাবে ভোগাচ্ছে। দীর্ঘদিন পরও তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।সাক্ষাৎ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় হাবিবুর রহমান বলেন, “এই অভিশপ্ত জুলাই আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে, যা কোনো কিছুর বিনিময়ে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ যদি সেদিন আমাকে বাঁচিয়ে না রাখতেন, তাহলে আজ আমার বেঁচে থাকার কথা ছিল না। কীভাবে যে বেঁচে আছি, সেই কষ্ট আমার পরিবার ছাড়া আর কেউ জানে না।”তিনি আরও বলেন, “দলের জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে থেকেছি, রক্ত দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, দল আমাদের সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দোয়া করেছেন, সাহস জুগিয়েছেন এবং বলেছেন, আমার অবদানের মূল্যায়ন অবশ্যই হবে। তাঁর এই কথাগুলো আমাকে নতুন করে দায়িত্ববোধ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাবিবুর রহমানের সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে।রাজনৈতিক জীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য, সহ-অর্থ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-স্কুলবিষয়ক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। ২০২৪ সালে ফেনীর ভয়াবহ বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে একাধিক দফায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া বর্তমানে তিনি সোনাগাজী আলহাজ রহিম উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলনে আত্মত্যাগ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে হাবিবুর রহমান তৃণমূলের কর্মীদের কাছে একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতি দলীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই