প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
গুজবে পেট্রোল পাম্পে ভিড়, রেশনিং করে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল
মো: ফুহাদ আলী , চাঁপাইনবাবগঞ্জ ||
গুজবের জেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের কয়েকটি পাম্পে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে।তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পেট্রোল পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে।জানা গেছে, গত বুধবার হঠাৎ করেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকটের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেন মোটরসাইকেল চালকরা। আশঙ্কা থেকে অনেকেই অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেন।বুধবার সকালে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পরে বুধবার রাতে শহরের অন্তত তিনটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, কর্মীরা ক্রেতাদের জানাচ্ছেন—সেদিনের জন্য তেল শেষ হয়ে গেছে, পরদিন তেল দেওয়া হবে।তেল না পেয়ে ফিরে আসা ভুক্তভোগী মো. ওয়াসিম বলেন, “বাড়ি ফেরার আগে হোসেন পেট্রোল পাম্প ও ইসলাম পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গিয়েছিলাম। কোথাও তেল পাইনি। কর্মীরা জানান, আজকের জন্য তেল শেষ, কাল আসতে হবে।”এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেলপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার পেট্রোল রেশনিং করে দেওয়া হচ্ছে। পাম্প মালিকরা জানান, গুজবের কারণে গত দুই দিনে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি গ্রাহক অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করেছেন। ফলে বিদ্যমান মজুত দিয়ে সবার কাছে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে রেশনিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় বা মজুত না করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল ক্রয় এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে।জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে বাজার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কিংবা অবৈধ মজুতদারির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে—“গুজবে নয়, সত্য তথ্যে আস্থা রাখুন। অপ্রয়োজনীয় মজুত নয়, সচেতন হোন। স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই