প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
কালীগঞ্জ পৌরসভায় ত্রুটিপূর্ণ পানির পাইপলাইন ও পাম্পের বেহাল দশা
শাহিনুর রহমান পিন্টু,, ঝিনাইদহ ||
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার দীর্ঘদিন ধরে ত্রুটিপূর্ণ পানির পাইপলাইন সংস্কার না করার কারণে পৌর এলাকার আড়পাড়া ও শিবনগর এলাকার বাসিন্দারা ব্যবহারযোগ্য পানির অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দীর্ঘদিন দিন ধরে পৌর কতৃপক্ষকে স্থানীয়রা বিষয়টি অবগত করলেও মিলছে না কোনো সুরহা। প্রথম শ্রেণীর এই পৌরসভায় জন গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আমলে নিচ্ছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার মেইন বাস টার্মিনালসংলগ্ন স্থাপিত পাম্পের প্রধান পানি সরবরাহের পাইপ ফেটে পচা-কাদাযুক্ত দুর্গন্ধ পানি গ্রাহকদের লাইনে ঢুকে পড়ছে। এই পানির পাম্পটির প্রধান পাইপ মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ভবনের নিচ দিয়ে টানা হয়েছিল। ভবনের নিচের অংশের পাইপের একটি অংশ ফেটে যাওয়ার কারণে পাম্প চালু হলেই পাইপ থেকে পানি বাইরে বের হয় যায়। পাম্পটির প্রধান পাইপের ছিদ্র দিয়ে বের হওয়া পানি শুধু অপচয়ই হচ্ছে না বরং আশপাশের এলাকায় ওই পানি ছড়িয়ে পড়ে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।একইসাথে জমা হওয়া এই পানিতে এডিস মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া পাশের ব্যাবসায়ী এবং মাছের আড়তদারা সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে বাধাগ্রস্ত হন। পৌরসভার এই পাম্পের সাপ্লাইয়ের পানি কোনো কাজেই ব্যবহার করতে পারছেন না গ্রাহকরা। দীর্ঘ দিন ধরে এই পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি যদিও কেউ ব্যবহার করছেন তাহলেও তারা নানা রকম পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবন বাঁচাতে আড়পাড়া ও শিবনগরের বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। নিয়মিত পৌর কর ও পানির বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও এই সমস্যার কোনো সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্প চালুর সাথে সাথেই ফাটা পাইপের পানি বাইরে গিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধযুক্ত পানি বন্ধ, পাইপের ফাটা অংশ সংস্কার এবং পাম্পের আশপাশের পরিবেশ উন্নত করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতাই এলাকাবাসীর এই চরম দুর্ভোগের মূল কারণ। শুধু তাই নয়, পৌর এলাকায় স্থাপিত ছয়টি পানির পাম্পের মধ্যে আড়পড়ার পাম্পটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বাকি পাঁচটি পানির পাম্পের ভবনগুলোরও জরাজীর্ণ অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না করাই ভবন ও প্রাচীর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আড়পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা গৃহবধূ ঋপনা খাতুন বলেন,পৌরসভার পানি খাওয়ার কাজে তো ব্যবহার করাই যায় না। গোসলের জন্য ব্যবহার করে দেখছি আমার চুল পড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার কি কোন সমাধান হবে না? বাস টার্মিনাল পৌর পানির পাম্পের পাম্প অপারেটর হারুনুর রশিদ জানান, প্রায় এক বছর যাবত পাম্পটির প্রধান পানির লাইনের পাইপ ফেটে গেছে। যে কারণে এমনটি হচ্ছে। বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা এসে দেখেও গিয়েছেন। বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে অনেক অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তা এখনো সারানো হচ্ছে না। কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দীন বলেন, পৌরসভার পানির লাইনের পানি আমার অফিস ভবনের নিচেয় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভায় মোট ৩৪ কিলোমিটার প্রধান পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্রাহককে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পৌর এলাকার প্রায় ১৩শ’ গ্রাহককে পানির এ সেবা পেয়ে থাকেন। প্রতিদিন সকাল দুপুর ও বিকেলে তিন দফায় পানি সরবরাহ করা হয়।এবিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ইতিপূর্বে ওই পাম্পে সংস্কার করা হয়েছিল। তবে এটি সম্পূর্ণরূপে সংস্কার করতে পরিপূর্ন বাজেটের প্রয়োজন। যে কারনে বিলম্ব হচ্ছে। তবে আশার সংবাদ হলো পানির পাম্পের সকল জটিলতা এবং ত্রুটি নিরসনে প্রজেক্ট আকারে জমা দেওয়া আছে। প্রজেক্টটি পাস হলে সব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই