প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
শাহিনুর রহমান পিন্টু,, ঝিনাইদহ ||
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং অডিও ভিডিও বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়। এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই