প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রবাসে থেকেও ‘মিছিলে’! দেবিদ্বারে পুলিশের মামলায় তিন প্রবাসী, ফেসবুকে তোলপাড়
কুমিল্লা প্রতিনিধি। ||
কুমিল্লার দেবিদ্বারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে দায়ের করা পুলিশের মামলায় সৌদি আরব ও কাতারে অবস্থানরত তিন প্রবাসীকে আসামি করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিষয়টি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। যদিও পুলিশ বলছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত মামলা নেওয়ায় আসামিদের কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি; তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে।রোববার দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৩ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ইউসুফপুর এলাকায় কুমিল্লাগামী লেনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ৩৫ থেকে ৪০ জন সক্রিয় সদস্য বেআইনিভাবে একত্রিত হয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় তারা সরকারবিরোধী ও বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন স্লোগান দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মিছিলকারীরা পালিয়ে যান। পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জনের বেশি নয়। এরই মধ্যে মামলার তিন আসামি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করলেও তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলার ৬ নম্বর আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রুবেল দীর্ঘদিন ধরে কাতারে অবস্থান করছেন। ৭ নম্বর আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম রয়েছেন সৌদি আরবে। এছাড়া ৯ নম্বর আসামি পৌর ছাত্রলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক শাওনও সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। সাইদুল ইসলামের ছোট ভাই মিজানুর রহমান জানান, তার ভাই গত বছরের ৩১ মে সৌদি আরব যান। এক বছরের বেশি সময় ধরে বিদেশে থাকা একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মামলা হওয়ায় তারা বিস্মিত।এদিকে কাতার থেকে ফেসবুক লাইভে এসে ইকবাল হোসেন রুবেল দাবি করেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে এবং আরও দুই প্রবাসীকে মামলার আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পুলিশ ভিডিও দেখে আসামি শনাক্তের কথা বলছে, অথচ সেই ভিডিওতে আমরা তিন প্রবাসীসহ অধিকাংশ আসামিকেই দেখা যায় না। মনে হয় পুলিশ ঘুমিয়েও আমাদেরই দেখে।” অপরদিকে, শাওনের মা ফেরদৌসি আক্তার বলেন, তার ছেলে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি সৌদি আরবে গেছেন। বিদেশে থাকা ছেলেকে দেশে মিছিল করার অভিযোগে মামলার আসামি করাকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।অন্যদিকে, এ ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে রোববার আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আবু তাহের মামলার ৮ নম্বর আসামি এবং তিনি উপজেলার সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তবে তার পরিবারের অভিযোগ, শনিবার রাতে দেবিদ্বার উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হলেও ভাইরাল হওয়া মিছিলের ভিডিওতে তাকে দেখা যায় না। এরপরও তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত মামলা নিতে হয়েছে। তাই আসামিদের কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তদন্তে বিষয়টি সুরাহা হবে।”বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের মামলার আসামি করার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিও ফুটেজ, প্রবাসীদের বিদেশে অবস্থানের তথ্য এবং পুলিশের এজাহারের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগে অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই