প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
গ্যাস লিকেজের আগুনে দগ্ধ; স্বামীর দাফনের ছয় ঘণ্টা পর স্ত্রীরও মৃত্যু, পাশাপাশি চিরনিদ্রায় দম্পতি
কুমিল্লা প্রতিনিধি। ||
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ পোশাকশ্রমিক খোকন সরকার (৫৪) ও তাঁর স্ত্রী ফজিলত বেগমের (৪০) করুণ মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ যখন কুমিল্লার দেবিদ্বারে দাফন করা হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন স্ত্রী। স্বামীকে দাফনের মাত্র ছয় ঘণ্টা পর বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফজিলত বেগম।একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর এমন মৃত্যুতে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার উজানীকান্দি ও উজানীজোড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।নিহত খোকন সরকার দেবিদ্বার উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের উজানীকান্দি গ্রামের মরহুম আব্দুল গয়ফুরের দ্বিতীয় ছেলে। তাঁর স্ত্রী ফজিলত বেগম পাশের উজানীজোড়া গ্রামের নানু মিয়া খন্দকারের মেয়ে।খোকন ও ফজিলত দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকার জাহীন গার্মেন্টসে পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের দুই সন্তান-ইউসুফ সরকার (২০) ও খাদিজা আক্তার (১৮)। মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের সময় সন্তানরা গ্রামের বাড়িতে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যায় বলে জানিয়েছে পরিবার।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মুরাদপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে খোকন ও ফজিলত গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।সেখানে আইসিইউতে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মারা যান খোকন সরকার। বুধবার সকালে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি উজানীকান্দিতে আনা হয়। বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।স্বামীর দাফন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা না পেরোতেই পরিবারের কাছে আসে আরেকটি মৃত্যুসংবাদ। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফজিলত বেগম। অর্থাৎ, একদিকে যখন স্বামী খোকনকে শেষ বিদায় জানাচ্ছিলেন স্বজনরা, অন্যদিকে রাজধানীর হাসপাতালে মৃত্যুর কাছে হার মানছিলেন তাঁর স্ত্রী।স্বামীকে দাফনের পর স্ত্রীও চলে যাওয়ায় পরিবারটির ওপর যেন নেমে এসেছে একের পর এক শোকের পাহাড়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই আপনজনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁদের দুই সন্তান ও স্বজনরা।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ফজিলত বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে স্বামী খোকন সরকারের কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হবে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হওয়া এই দম্পতি এবার পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন।দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে দেবিদ্বারের দুই পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এই কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারটির পাশে উপজেলা প্রশাসন থাকবে। তাঁদের সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ভাড়া বাসায় গ্যাস ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্বজনদের দাবি, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে গ্যাস সংযোগ ও ভাড়া বাসাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই