প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
তরুণ ডিজাইনারদের বিনিময়ে সমৃদ্ধ হবে চীন-বাংলাদেশ ফ্যাশন খাত
আন্তর্জাতিক: ||
সোমবার, ১৭ আগস্ট ঢাকার বিজিএমইএ কনফারেন্স সেন্টারে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে ফ্যাশন, টেক্সটাইল, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বিশেষ সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ফ্যাশন প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে দুই দেশের পোশাক, নকশা, সংগীত, ঐতিহ্য ও সমকালীন ফ্যাশনের নানা দিক তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে চীনা ও বাংলা পোশাকের নকশা ও সংস্কৃতির সমন্বিত উপস্থাপনা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এতে বাংলাদেশের তরুণ ফ্যাশন শিক্ষার্থীদের নকশা ভাবনা, চীনা নকশায় বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রভাব এবং দুই দেশের সংগীত ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের সৃজনশীল শিল্পের মধ্যে নতুন সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে চেচিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির ফ্যাশন বিভাগের অ্যাডভাইজার ও অধ্যাপক নুসরাত নিপা বলেন, চীন ও বাংলাদেশ—দুই দেশই গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে ফ্যাশন ও পোশাকশিল্পে দুই দেশের সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশ যৌথভাবে আরও ফ্যাশন শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সৃজনশীল প্রকল্প আয়োজন করতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এলিগেন্ট উইমেন্স কলেজের প্রেসিডেন্ট পাই মেই বলেন, বাংলাদেশে এসে স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। চীনের সমকালীন নারীদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের নারীদের জীবন ও সংস্কৃতির আরও গভীর যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।তিনি বলেন, চেচিয়াং ফ্যাশন রিসার্চ সেন্টারের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে চীনের সমকালীন ফ্যাশন ও সংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও গভীর সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।চেচিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির ভাইস ডিন ও অধ্যাপক সু ছিউচিয়ে বলেন, একজন ডিজাইনারের জন্য নিজের দেশের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কাপড়, ফেব্রিক, প্যাটার্ন ও ডিজাইনের কারিগরি বিষয়েও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।তিনি আরও বলেন, একজন ডিজাইনারকে সংশ্লিষ্ট দেশের বাজার ও ভোক্তার চাহিদা সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে। নকশা যেমন নান্দনিক হতে হবে, তেমনি তা বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ফ্যাশন ব্যবসা ও শিল্প উভয়ই এগিয়ে যেতে পারে।চায়না একাডেমি অব আর্টের অধ্যাপক চেং চুসিন বলেন, বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি সংস্কৃতি, শিল্প ও সৃজনশীলতার বিনিময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও গভীর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠান পরিদর্শন শেষে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাও ফেং বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ফ্যাশন, সংস্কৃতি, উদ্ভাবন ও টেক্সটাইল খাতে পারস্পরিক বিনিময় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিজিএমইএতে এটি তার প্রথম সফর উল্লেখ করে তিনি ফ্যাশন শোর প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও অধ্যাপকদের চীন সফরের সুযোগ তৈরি হলে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি, ফ্যাশন ও টেক্সটাইল বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।অনুষ্ঠানে চীন ও বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ও টেক্সটাইল খাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের ফ্যাশন, টেক্সটাইল ও সংস্কৃতিভিত্তিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে তরুণ ডিজাইনার, শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নিয়মিত বিনিময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশের ফ্যাশন ও সংস্কৃতির পরিচিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।সূত্র: নাহার-জেনিফার,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই