প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
পোরশায় কাদা মাটির নিচ থেকে ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ দেবতার মূর্তি উদ্ধার
মো: রায়হান আলী , নওগাঁ প্রতিনিধি ||
নওগাঁর পোরশায় কাদা মাটির নিচ থেকে প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ হিন্দুধর্মীয় দেবতার একটি মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটির আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকারও বেশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মূর্তিটি উদ্ধারের পর পোরশা থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে পোরশা উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের ঘাটনগর কানাপাড়া গ্রামের কুজা পুকুরের পশ্চিম পাশে পানির ধারে মূর্তিটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। কাদা মাটির নিচে মূর্তিটির কিছু অংশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘটনাটি পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জকে জানান।সংবাদ পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় পোরশা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিকেল আনুমানিক ৪টা ৫ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাদা মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা মূর্তিটি দেখতে পায়। পরে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মূর্তিটি কাদা মাটি থেকে উদ্ধার করেন এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় জব্দ করেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটির উচ্চতা আনুমানিক ২৫ ইঞ্চি এবং প্রস্থ প্রায় ১১ ইঞ্চি। মূর্তিটির ওজন প্রায় ১৯ কেজি ৮০০ গ্রাম। দেখতে এটি কষ্টিপাথরের মতো কালো পাথরের তৈরি এবং প্রাথমিকভাবে এটিকে হিন্দুধর্মীয় দেবতার মূর্তি বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূর্তিটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।মূর্তিটি পুকুরের পানির ধারে কাদা মাটির নিচে কীভাবে এলো, কে বা কারা সেখানে এটি রেখে গেছে এবং মূর্তিটি আদৌ কষ্টিপাথরের তৈরি কি না এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মূর্তিটির প্রকৃত পরিচয় ও মূল্য নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।স্থানীয় কয়েকজন জানান, পুকুরের পশ্চিম পাশে কাদা মাটির মধ্যে মূর্তিটি পড়ে থাকতে দেখে তারা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে কাছে গিয়ে মূর্তির আকৃতি দেখে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশের দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করায় সেটি নিরাপদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।পোরশা থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মূর্তিটি বর্তমানে থানা হেফাজতে নিরাপদে সংরক্ষিত রয়েছে। মূর্তিটির প্রকৃত পরিচয়, নির্মাণ উপাদান ও আনুমানিক মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি এটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই