প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
লালমনিরহাটে রত্নাই সেতু উদ্বোধন, কমবে দুই জেলার মানুষের দুর্ভোগ
এস.বি-সুজন,, লালমনিরহাট ||
দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত রত্নাই সেতু। ২৯ আগস্ট বিকেলে লালমনিরহাট-ফুলবাড়ী সড়কের ৮ম কিলোমিটারে নবনির্মিত ১৩০ দশমিক ৮৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুটির উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।সড়ক ও জনপথ বিভাগের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।সেতুটি চালু হওয়ায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের। বিশেষ করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।২০১৮ সালের ৩ জুন ফুলবাড়ী-ধরলা সেতু উদ্বোধনের পর ছোট ও হালকা যানবাহনে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হলেও রত্নাই নদীর ওপর থাকা পুরোনো জরাজীর্ণ বেইলি সেতুর কারণে বড় ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে সীমাবদ্ধতা ছিল। ফলে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে যানবাহনগুলোকে রত্নাই সেতু এড়িয়ে কুড়িগ্রাম হয়ে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হতো। এতে গন্তব্যভেদে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। নতুন রত্নাই সেতু চালু হওয়ায় এবার বড় ও পণ্যবাহী যানবাহনও সরাসরি চলাচলের সুযোগ পাবে। এতে দীর্ঘ ঘুরপথের পাশাপাশি সময় ও পরিবহন ব্যয়ও কমে আসবে।কুলাঘাট বাজারের সার ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, “ফুলবাড়ী-ধরলা সেতু উদ্বোধনের পরও রত্নাই সেতুর অভাবে আমরা এর পূর্ণ সুফল পাইনি। অবশেষে দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। সেতুটি চালু হওয়ায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। এতে পণ্য পরিবহন খরচও অনেকটা কমবে।”ফুলবাড়ীর ব্যবসায়ী আশরাফ ও বালারহাট বাজারের ব্যবসায়ী আদম আলী বলেন, এতদিন নাগেশ্বরী হয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার ঘুরে মালামাল আনতে হতো। রত্নাই সেতু চালু হওয়ায় এই অতিরিক্ত পথ আর পাড়ি দিতে হবে না। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয়- দুটিই সাশ্রয় হবে।সেতুটির নির্মাণকাজ চলাকালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উঠেছিল। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, রিটার্নিং ওয়াল ও বোল্ডার কম দেওয়াসহ নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়। সংযোগ সড়কের নকশা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্ভেয়ার টিম বিষয়টি পরিদর্শন করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, সংযোগ সড়কের কাজ চূড়ান্ত হয়নি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে রত্নাই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ১৩০ দশমিক ৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৫ মিটার। ‘প্রজেন্ট ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়। পরে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। সংযোগ সড়ক, রং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ এস. এম. রিয়াজ মোর্শেদ বলেন, জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করা হয়েছে। কোরবানির ঈদের চার দিন আগেই সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়। উদ্বোধনের পর মূল সেতুর রেলিংয়ের কিছু কাজ সম্পন্ন করা হবে।লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা বলেন, সেতুর মূল কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে সংযোগ সড়ক সেতুর রং ও রেলিংয়ের কিছু বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।”নতুন সেতুটি চালু হওয়ায় শুধু পণ্য পরিবহন নয়, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কম সময়ে যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন ব্যয় কমে আসবে। এতে দুই জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই