প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুন্দরবনের ৪ দস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ
অতনু চৌধুরী (রাজু) , বাগেরহাট ||
সুন্দরবনের চারটি সক্রিয় দস্যু বাহিনীর প্রধানসহ মোট ৫২ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। র্যাব-৬ এর মাধ্যমে তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সোমবার সুন্দরবনে বড় জাহাঙ্গীর, আনারুল, আফজাল ওরফে দুলাভাই এবং আফতাব বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেন। এর মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন রয়েছেন।র্যাব জানায়, সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ হাজারো মানুষ জীবিকার জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদারের পর বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চার বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।র্যাবের দাবি, একসঙ্গে চারটি জলদস্যু বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনে দস্যুদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমবে। পাশাপাশি নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবেন বনজীবীরা।র্যাব-৬ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।এদিকে, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে। এর ঠিক আগের দিন ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণকে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে র্যাব।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই