প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বরুড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, শিশু-কিশোরসহ পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুট
স্টাফ রিপোর্টার ||
কুমিল্লার বরুড়ায় সৌদিপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, রুপার গয়না ও মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার **আরিফপুর চেয়ারম্যান বাড়ির পাশে** সৌদিপ্রবাসী ফয়সাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ফয়সাল হোসেন স্থানীয় মালেক মেম্বারের ভাতিজা।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে ফয়সাল হোসেনের স্ত্রী নাঈমা আক্তার, তার মা ও বোন ফারভীন আক্তার ছিলেন। এ সময় ডাকাতরা ফয়সালের দেড় বছরের শিশু ও ১৩ বছরের মেয়েকেও জিম্মি করে। একপর্যায়ে ফয়সালের স্ত্রী নাঈমা আক্তার ও বোন ফারভীন আক্তারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতদলের সদস্য সংখ্যা ছিল আনুমানিক ছয়জন। তাদের মুখ ডাকা ও পড়নে সর্টপেন্ট ছিলো। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। ডাকাতরা একটি গাছ বেয়ে বাড়ির ছাদে উঠে সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে ধূমপান করে। পরে ছাদের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট চালায়। সংঘবদ্ধ ডাকাতরা ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে ডাকাতি শেষ করে পালিয়ে যায়।ঘটনাস্থল থেকে **স্টার বিড়ির অবশিষ্ট অংশ** পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে, যা ডাকাতদের ছাদে অবস্থানের সময় ধূমপানের আলামত বলে ধারণা করা হচ্ছে।ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা চার জোড়া কানের স্বর্ণের দুল, চারটি চেইন, একটি আংটিসহ আনুমানিক ৮ থেকে ১০ ভরি স্বর্ন ও ১০/১৫ ভরি রুপার অলংকার নিয়ে গেছে। এছাড়া আনুমানিক নগদ **৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা** এবং তিনটি মোবাইল ফোন—একটি হোনার ও দুটি স্যামসাং—লুট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ **কাজী নাজমুল হক** পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে খোসবাস ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান সর্দার বলেন, “এলাকায় আমার অনুপস্থিতির কারণে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমি দায়িত্বে থাকাকালীন যেসব এলাকায় চিহ্নিত ডাকাতদের বসবাস ছিল, সেসব এলাকায় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে বিভিন্ন দেয়ালে লাগানো হয়েছিল। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমানে অনেকেই ডাকাতির মামলায় জামিনে রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক বলেন, **“ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখব। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।”**এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই