প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ প্রকাশের পর ডিমলা খাদ্য গুদামের দুই কর্মকর্তার বদলি
মোঃ আবুল হাসেম, স্টাফ রিপোর্টার (নীলফামারী) ||
বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ, অভিযোগের তদন্ত এবং গুদামে আকস্মিক অডিটের পর নীলফামারীর ডিমলা সরকারি খাদ্য গুদামের দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ (বদলি) করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনার রশিদ এবং ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নবাব।গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ চন্দ্র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁদের বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মামুনার রশিদকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এবং নবাবকে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়ায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।এর আগে গত আগস্টে ডিমলা সরকারি খাদ্য গুদামে সরকারি নতুন বস্তা বিক্রি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সরবরাহে অনিয়ম, অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে ‘দৈনিক ঘোষণা’, ‘দৈনিক জনতা’, ‘Mirro News ’সহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনের পর নীলফামারী জেলা খাদ্য বিভাগ তিন সদস্যের এবং খাদ্য অধিদপ্তর এক সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে।এরও আগে গত ১৯ মে ‘দুই কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যে ক্ষতি দেড় কোটির অধিক’ এবং ২২ মে ‘টিসিবির ডিলারদের দিয়ে পচা-দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিক্রি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা খাদ্য বিভাগ দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।তবে ওই তদন্তের কার্যক্রম ও প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সর্বশেষ জেলা খাদ্য বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা না বলে শুধু ডিলারদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন হয়নি মর্মে লিখিত বক্তব্য নেওয়ার মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।পরবর্তীতে গত ২৭ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তরের এক সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ও রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালেহ আজিজ ডিমলা খাদ্য গুদামে তদন্তে আসেন। তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় গুদামের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়।এর ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান ডিমলা খাদ্য গুদামে আকস্মিক অডিটে আসেন। দিনব্যাপী অডিটে গুদামের বস্তা, চাল ও ধানের হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে গরমিল ও অনিয়ম ধরা পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।পরে ওই অডিটের তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক (মামলা ও তদন্ত শাখা) ফজলে রাব্বি হায়দারের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ডিমলা খাদ্য গুদামে উপস্থিত হয়ে পুনরায় তদন্ত করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁরাও গুদামের হিসাব ও কার্যক্রমে বিভিন্ন অসংগতি দেখতে পান।এর পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের চাল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরদিনই অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ প্রকাশ, একাধিক তদন্ত এবং আকস্মিক অডিটের পর দুই কর্মকর্তার বদলির ঘটনা ডিমলা খাদ্য গুদামের কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগের গুরুত্বই তুলে ধরে। তবে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বিভাগীয়ভাবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।এ বিষয়ে জানতে ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনার রশিদ ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা নবাবের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই