প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আত্রাইয়ে সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে নির্মাণ কাজ
মোঃ মোজাক্কেরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার ||
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর বাজারে সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে সড়ক ঢালাই ও পাকাকরণের কাজ। নির্মাণাধীন সড়কের একেবারে মাঝবরাবর পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে তৈরি হয়েছে বাড়তি ঝুঁকি। যেকোনো সময় খুঁটিতে যানবাহনের ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের কাজ শুরুর আগে বিদ্যুতের খুঁটিটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ ও আবেদন করা হয়েছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও দীর্ঘদিনেও খুঁটিটি সরানো হয়নি। এরই মধ্যে খুঁটিটি রেখেই সড়কের ঢালাই ও পাকাকরণের কাজ এগিয়ে চলছে।স্থানীয়রা বলছেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও যদি খুঁটিটি সড়কের মাঝখানে থেকে যায়, তাহলে প্রতিদিনের যান চলাচলে স্থায়ী ঝুঁকি তৈরি হবে। বিশেষ করে বাজারের ব্যস্ত সময়ে একই সড়ক দিয়ে ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাবে।ভবানীপুর বাজারটি স্থানীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ও মঙ্গলবার হাটবারে এখানে মানুষের সমাগম বেড়ে যায়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ধান, চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে হাটে আসেন। ফলে হাটের দিন সড়কটিতে যানবাহন ও পথচারীদের চাপও থাকে বেশি।এমন ব্যস্ত একটি সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, হাটের দিন বিশেষ করে পণ্যবাহী ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সময় খুঁটিটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানজটও তৈরি হতে পারে।ভবানীপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আরিফুজ্জামান লেবু বলেন, “গত দুই মাস ধরে আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করছি। এর মধ্যে দুইবার তদন্ত দল এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুঁটিটি সরানো হয়নি।”তিনি বলেন, সড়কের কাজ শেষ হয়ে গেলে পরে খুঁটি সরানো আরও জটিল হতে পারে। তাই সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই খুঁটিটি স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।ভবানীপুর হাট-বাজার ইজারাদারের পার্টনার রফিকুল ইসলাম বলেন, “শনিবার ও মঙ্গলবার ভবানীপুর হাটে বিপুল পরিমাণ ধান, চাল ও কৃষিপণ্য বেচাকেনা হয়। সড়কের ঠিক মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ করায় ভবিষ্যতে চরম জনভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই দ্রুত খুঁটিটি সরানো প্রয়োজন।”তার মতে, হাটের ব্যস্ত সময়ে পণ্যবাহী যানবাহন ও মানুষের চাপ সামলাতে সড়কটি উন্মুক্ত রাখা জরুরি। মাঝখানে খুঁটি থাকলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকবে।ভ্যানচালক জামাল উদ্দীন বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। মাঝখানে খুঁটি থাকায় গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকতে হয়। রাতে আলো কম থাকলে খুঁটিটি সহজে চোখে না পড়ায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।হাটের ক্রেতা মেহেদি হাসান বলেন, “সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি থাকা স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। দ্রুত এটি সরানো না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, “ইউপির পক্ষ থেকে হাট উন্নয়নের অংশ হিসেবে সড়ক ঢালাইয়ের কাজ চলছে। বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগকে বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি।”তিনি বলেন, সড়কের উন্নয়নকাজের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজারের মানুষের চলাচল সহজ করা। তাই সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে সেটি কাঙ্ক্ষিত সুফল দেবে না।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উন্নয়নকাজের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সড়কের ঢালাই ও পাকাকরণের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে খুঁটিটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে সড়ক কাটাকাটি বা পুনরায় নির্মাণের প্রয়োজন হবে না।তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত বিদ্যুতের খুঁটিটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হোক। একই সঙ্গে সড়ক নির্মাণের কাজও যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা হোক।এ বিষয়ে আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জসিম উদ্দীন বলেন, “বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁটিটি সরিয়ে নেওয়া হবে।”স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ বিভাগের এ আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এবং সড়কের মাঝখান থেকে খুঁটিটি সরিয়ে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যান চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই