প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ চীনা গবেষকের
আন্তর্জাতিক: ||
নির্বাচনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও অর্থনৈতিক সংস্কারের ধীরগতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শাংহাই ইনস্টিটিউটস অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের চীনা গবেষক ও বিশেষজ্ঞ লিউ চোংই।সোমবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত ‘শাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়’ বিষয়ক দ্বিতীয় চীন-বাংলাদেশ গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।বৈঠকে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের স্থিতিশীলতা প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতার চেয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের ওপর বেশি নির্ভর করছে, যা ভবিষ্যতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিত্রে দুই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স), রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করায় বাহ্যিক অর্থনীতিতে স্বস্তি এসেছে। কিন্তু অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও চাহিদা মারাত্মকভাবে কমে গেছে।বেসরকারি বিনিয়োগ বিগত ৪০ বছরের এবং ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় ৯৫টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় ৬০ হাজারেরও বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ বেকার এবং প্রতিবছর শ্রমবাজারে আসা তরুণদের এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকাটা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে তিনি চিহ্নিত করেন।পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির প্রশংসনীয় প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক রক্ষা করে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীনের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বিস্তৃত করার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ‘লুক ইস্ট’ নীতি গ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে।বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগে প্রবল আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং তাদের উন্নয়নের প্রবল ইচ্ছা রয়েছে। তবে চীনা বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট নীতিগত সংস্কারের অপেক্ষায় আছেন।’পরিশেষে তিনি বলেন, ‘কেবল অনুদান বা কল্যাণমূলক ব্যয় বাড়িয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়; বরং শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সর্বজনীন উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ।’এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র গবেষক লি খাইশেং, বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলন, চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাও ফেং এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ আরও অনেকে।সূত্র: শুভ, সাকিব, সিএমজি বাংলা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই