প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে স্লিপার বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিমেষে ৯ প্রাণশূন্য
নিজস্ব প্রতিনিধি ||
ভারতের উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় ভোরের আলো ফোটার আগেই এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েছে একটি পর্যটকবাহী স্লিপার বাস। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের ওপর দিয়ে মহোবার উদ্দেশে যাওয়া বাসটিতে হঠাৎ করেই আগুন ধরে যায়। ঘুমন্ত যাত্রীদের নিমেষে ঘিরে ফেলে মৃত্যুর ছায়া। অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন—তাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। একাধিক যাত্রী আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঘটে এই দুর্ঘটনা। বাসটিতে ৩৪ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। আগুন লাগার সময় অধিকাংশই গভীর ঘুমে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত যাত্রীরা জানালা দিয়ে লাফিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বাসটি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।আগুনের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে প্রাথমিক অনুমান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও জেওয়ার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু করে। এখনও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে মোতায়েন রয়েছেন।ঘটনার খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পরিস্থিতির খোঁজ নেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং নিহতদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন।বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের ছবি। তিনি বলেন, “আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কেউ দরজায় ধাক্কা দিলে ঘুম ভেঙে যায়। চারদিকে শুধু মানুষের ভিড় আর ধোঁয়া। কোনো জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগ পাইনি, এমনকি জুতাও পরতে পারিনি। শুধু ফোন হাতে নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করি। এত ভিড় ছিল যে সবাই একে অন্যকে ধাক্কাধাক্কি করছিল। পরে কেউ একজন আমাকে টেনে বের করে নেয়। পুরো বাস ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল। ভেতরে থাকা মানুষগুলো শ্বাস নিতে পারছিলেন না। যারা কোনোভাবে বের হতে পেরেছেন, তারাই বেঁচে গেছেন। আমার পেছনেও অনেকে ছিলেন, যারা হয়তো আর বের হতে পারেননি।”ঘুমের মধ্যে এমন নির্মম পরিণতি দেখে স্থানীয়রাও হতবাক। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের এই অগ্নিকাণ্ড আবারও সড়ক নিরাপত্তা ও যাত্রীবাহী বাসের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই