প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হঠাৎ শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়লেন ইউএনও, নিজেই নিলেন ক্লাস
বরুড়া প্রতিনিধি ||
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) যেন হঠাৎই অন্যরকম এক পরিবেশ তৈরি হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে নলুয়া মনোহরপুর ও পেরপেটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরিদর্শন আর সীমাবদ্ধ রইল না। তিনি সরাসরি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়েন এবং নিজেই শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।শ্রেণিকক্ষে ঢোকার পর ইউএনও প্রথমে শিক্ষার্থীদের রিডিং দক্ষতা যাচাই করেন। কে কতটা সাবলীলভাবে পড়তে পারছে, তা নিজে শুনে দেখেন। এরপর ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই পাঠদান শুরু করেন। হঠাৎ করে উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে পাঠ অনুসরণ করে।ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি এ সময় বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন,“প্রাথমিক শিক্ষাই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই হবে না, শিক্ষার্থীরা কী শিখছে এবং কতটা শিখছে—সেটিও নিয়মিত যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে রিডিং দক্ষতা ভালো হলে শিশুর শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়ে।”তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি শিশুর জন্য আনন্দময় ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।পরে আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ইউএনও। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান। উপস্থিত ছিলেন পেরপেটি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহেল পারভেজ, আদ্রা ভূমি কর্মকর্তা মনির হোসেন, ইউপি সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা।একজন প্রশাসকের হঠাৎ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান—এটি শুধু পরিদর্শনের গল্প নয়, প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে বরুড়ায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই