প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বরুড়ায় সাপে কাটা শিশুকে ওঝার কাছে নিয়ে সময়ক্ষেপণ, পরে হাসপাতালে মৃত্যু
ফয়জুল ইসলাম পলাশ ||
কুমিল্লার বরুড়ায় সাপে কাটা এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে ওঝা ও কবিরাজের কাছে নিয়ে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনাটি এলাকায় কুসংস্কার ও সাপের কামড়ে প্রচলিত ভুল চিকিৎসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।নিহত শিশুটির নাম হাসান। সে ডিমডুল দক্ষিণপাড়ার মহিনের ছেলে।স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয় হাসান। সাপে কাটার পর পরিবারের লোকজন দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে তাকে গ্রামের এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে ঝাড়ফুঁকসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। তবে এতে শিশুটির অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রায় ছয় ঘণ্টা পর তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।স্থানীয় এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগেও সাপে কাটার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে অনেকে এখনও ওঝা-কবিরাজের ওপর নির্ভর করছেন। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। তার ভাষ্য, শিশুটিকে সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসার সুযোগ বেশি পাওয়া যেত।তিনি আরও জানান, শিশুটির মৃত্যুর পরও এলাকায় কুসংস্কারমূলক নানা কথা ছড়ানো হচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, আগে ডাক্তার না থাকায় ওঝারাই সাপে কাটা রোগী ভালো করতেন। এমনকি এক কবিরাজ শিশুটিকে ঝাড়ফুঁক করার পর তার মায়ের হাত লাগার কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, শিশুটির মৃত্যুর পরও তাকে নিয়ে আবার কবিরাজের কাছে যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে বলে জানান ওই স্থানীয় ব্যক্তি।এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সাপে কাটার পর ঝাড়ফুঁক, ওঝা বা কবিরাজের কাছে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম দেওয়াই জীবন রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এ বিষয়ে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কুসংস্কারের কারণে যেন আর কোনো পরিবারের সন্তানকে অকালে হারাতে না হয়, সে জন্য প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।স্থানীয় ওই ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা এইসব কুসংস্কার থেকে কবে মুক্ত হবো? সঠিক বিষয়টি মানুষকে বোঝাতে গেলেও নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। আমরা কুসংস্কারমুক্ত ও সচেতন সমাজব্যবস্থা চাই।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই