ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর করতে টাকা দিত হয় ইউপি সদস্যকে

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্গারীর অভিযোগ উঠেছে। ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর দেওয়ার নামে আদায় করছেন চার থেকে পাঁচশ টাকা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদে ঘুষ গ্রহনের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে এলাকা জুড়ে ব্যাপাক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত পনির হাওলাদার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, এক যুবক ওয়ারিশ সনদসহ এক’শ টাকার চারটি নোট নিয়ে ওই ইউপি সদস্যের স্থানীয় কার্যালয় গেলে ঘুষের টাকা গ্রহনের পর ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর করেন।

জানা গেছে, ইউনিয়নের উত্তর তালগাছিয়া গ্রামের নজরুল হাওলাদার তার পারিবারিক একটি ওয়ারিশ সনদের আবেদন করলে ইউপি সদস্য পনির হাওলাদার তার কাছে ৪’শ টাকা দাবি করেন। নিয়ম মাফিক আবেদন করার পরও ইউপি সদস্যকে ঘুষের টাকা না দেওয়ায় ওয়ারিশ সনদ না পেয়ে বিপাকে পরতে হয়েছে তাকে।

পরবর্তীতে তার ভাতিজা গোলাম মাওলার মাধ্যমে ঘুষের টাকা দিয়ে ওই ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর আনতে হয়। সেসময় গোলাম মাওলা তার নিজের স্মার্ট ফোনে ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি ধারন করে রাখে। যা তিনি সম্প্রতি তার নিজস্ব ফেইজবুক আইডিতে প্রচার করেন।

এদিকে ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে গোলাম মাওলাকে হামলা-মামলাসহ প্রান নাশের হুমকি দিয়ে আসছে ওই ইউপি সদস্য পনির।

গোলাম মাওলা বলেন, সরকার বিনা মূল্যে ওয়ারিশ সনদ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের মেম্বার (পনির) টাকা টাকা কোনো সনদে স্বাক্ষর করেন না। এছাড়াও তিনি ভিজিডি, ডিজিএফ, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা ও প্রতিবন্ধীসহ সরকারি সম্পদ বিতরনে অর্থ আদায় করে থাকেন। এ বিষয় আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হামলা-মামলার হুমকি দেয়।

বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি সদস্য পনির হাওলাদার বলেন, ‘ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষরের জন্য আমি কোনো টাকা নেই না। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রেজিস্টারে সনদ তালিকাভুক্ত করতে এক’শ টাকা করে নেন।’

এর বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিঠু শিকদারের সাথে একাধিকবার তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা মিজানুর রহমান (চঞ্চল) বলেন, ‘ওয়ারিশ সনদপত্র নেওয়ার জন্য কোনো অর্থ নেওয়ার বিধান নেই। সকল ইউনিয়ন পরিষদ বিনা মূল্যে এ সনদ দিয়ে থাকে। আমি ভিডিও পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে এর ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আপলোডকারীর তথ্য

ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর করতে টাকা দিত হয় ইউপি সদস্যকে

আপডেট সময় ০২:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্গারীর অভিযোগ উঠেছে। ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর দেওয়ার নামে আদায় করছেন চার থেকে পাঁচশ টাকা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদে ঘুষ গ্রহনের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে এলাকা জুড়ে ব্যাপাক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত পনির হাওলাদার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, এক যুবক ওয়ারিশ সনদসহ এক’শ টাকার চারটি নোট নিয়ে ওই ইউপি সদস্যের স্থানীয় কার্যালয় গেলে ঘুষের টাকা গ্রহনের পর ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর করেন।

জানা গেছে, ইউনিয়নের উত্তর তালগাছিয়া গ্রামের নজরুল হাওলাদার তার পারিবারিক একটি ওয়ারিশ সনদের আবেদন করলে ইউপি সদস্য পনির হাওলাদার তার কাছে ৪’শ টাকা দাবি করেন। নিয়ম মাফিক আবেদন করার পরও ইউপি সদস্যকে ঘুষের টাকা না দেওয়ায় ওয়ারিশ সনদ না পেয়ে বিপাকে পরতে হয়েছে তাকে।

পরবর্তীতে তার ভাতিজা গোলাম মাওলার মাধ্যমে ঘুষের টাকা দিয়ে ওই ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষর আনতে হয়। সেসময় গোলাম মাওলা তার নিজের স্মার্ট ফোনে ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি ধারন করে রাখে। যা তিনি সম্প্রতি তার নিজস্ব ফেইজবুক আইডিতে প্রচার করেন।

এদিকে ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে গোলাম মাওলাকে হামলা-মামলাসহ প্রান নাশের হুমকি দিয়ে আসছে ওই ইউপি সদস্য পনির।

গোলাম মাওলা বলেন, সরকার বিনা মূল্যে ওয়ারিশ সনদ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের মেম্বার (পনির) টাকা টাকা কোনো সনদে স্বাক্ষর করেন না। এছাড়াও তিনি ভিজিডি, ডিজিএফ, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা ও প্রতিবন্ধীসহ সরকারি সম্পদ বিতরনে অর্থ আদায় করে থাকেন। এ বিষয় আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হামলা-মামলার হুমকি দেয়।

বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি সদস্য পনির হাওলাদার বলেন, ‘ওয়ারিশ সনদে স্বাক্ষরের জন্য আমি কোনো টাকা নেই না। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রেজিস্টারে সনদ তালিকাভুক্ত করতে এক’শ টাকা করে নেন।’

এর বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিঠু শিকদারের সাথে একাধিকবার তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা মিজানুর রহমান (চঞ্চল) বলেন, ‘ওয়ারিশ সনদপত্র নেওয়ার জন্য কোনো অর্থ নেওয়ার বিধান নেই। সকল ইউনিয়ন পরিষদ বিনা মূল্যে এ সনদ দিয়ে থাকে। আমি ভিডিও পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে এর ব্যবস্থা নিচ্ছি।