মুক্তির লড়াই

গণিতের সর্বোচ্চ সম্মানে চীনের সাফল্য দেশটির গবেষণার অগ্রগতির প্রমাণ: মার্টিন হেয়ার

সম্প্রতি বেইজিংয়ে ২০২৬ সালের 'আন্তর্জাতিক মৌলিক বিজ্ঞান সম্মেলন' অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট গণিতবিদ ও ফিল্ডস পদক বিজয়ী মার্টিন হেয়ার এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বিজয়ী গবেষক ও বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। চায়না মিডিয়া গ্রুপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত প্রশংসা করে জানান যে, বিগত ৫ থেকে ১০ বছরে চীনের গণিত গবেষণার মান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় গুণগত রূপান্তর ঘটেছে।সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের কাজের গতি নিশ্চিত করতে এক অনুকূল ও স্থিতিশীল বহিরাগত পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। তাঁর দৃষ্টিতে, চীনের বর্তমান গবেষণা পরিবেশ অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং দেশের সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞান চর্চায় স্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতামূলক নীতি বিদ্যমান।তিনি আরও বলেন, পক্ষান্তরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু নীতি-নির্ধারকের সাময়িক সিদ্ধান্তের কারণে হয়ত মাত্র ২ বছরের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতের বাজেট ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। ফলে তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদী নীতি প্রণয়নে চীন সরকারের যে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়—যা বিদেশ থেকে দেশে ফেরা গবেষকদের জন্য এক অনন্য ও সুদৃঢ় ভিত্তিমূল তৈরি করেছে।মার্টিন হেয়ার বলেন, বিগত বছরগুলোতে চীন সরকার গণিতসহ সব মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার খাতে যে পরিমাণ ধারাবাহিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সংস্থান বরাদ্দ করেছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর ও প্রশংসনীয়। আজ অসংখ্য মেধাবী তরুণ গবেষক ও ছাত্রছাত্রী চীনে থেকেই পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং তাঁদের সমগ্র একাডেমিক জীবন চীনেই সম্পন্ন করছেন—এই বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে।চলতি বছর দুই চীনা গণিতবিদ ডেন ইয়ু এবং ওয়াং হোং গণিত ক্ষেত্রের সর্বোচ্চ সম্মানজনক ফিল্ডস পদক লাভ করেছেন। এ বিষয়ে মার্টিন হেয়ার বলেন, ফিল্ডস পদক মূলত "গণিতের নোবেল পুরস্কার" হিসেবে খ্যাত। ফলে যেকোনো বিজয়ীর গবেষণা সম্পর্কে জানা পুরো বিশ্বের গণিত সমাজের জন্যই অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আর চলতি বছরের ফলাফল প্রত্যক্ষভাবে এটিই প্রমাণ করে দিয়েছে যে, চীন থেকে আজ বিশ্বমানের শীর্ষস্থানীয় গণিতবিদের আগমন ঘটছে এবং তাঁরা গণিত জগতের সর্বোচ্চ সম্মান ছিনিয়ে নিচ্ছেন। সূত্র: শুয়েই-তৌহিদ-জিনিয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রদর্শনী করে মাত্র চার দিনেই ১১তম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। ৯ উইকেটে জিতে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ।টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা দলের কাছে শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়া ডেরা থেকে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চার জনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়া মাটিতে একটি টেস্টের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং নিশ্চিতভাবে এই টেস্ট সিরিজ তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত যেন তৈরি হয়ে গেল।দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

চীনের মুদ্রানীতিতে অগ্রাধিকার পাচ্ছে প্রযুক্তি, সবুজ অর্থায়ন ও এসএমই

পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে উৎসাহ প্রদান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে সহায়তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা জোরদার করবে চীন।পিবিওসি’র ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের মুদ্রানীতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথাযথভাবে নমনীয় মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে উন্নতমানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক মুদ্রা ও আর্থিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি কাঠামোগত মুদ্রানীতির উপকরণগুলো আরও উন্নত এবং অর্থায়নের কাঠামোকে আরও কার্যকর করার কাজও অব্যাহত রেখেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুনের শেষে প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন, বয়স্কদের সেবা এবং ডিজিটাল অর্থনীতি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির হার মোট ঋণের প্রবৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সরবরাহ ও চাহিদা মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। একই সময়ে, আরএমবির বিনিময় হারও একটি যুক্তিসঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ পর্যায়ে স্থিতিশীল ছিল।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও তারা মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক, আর্থিক পরিস্থিতি এবং আর্থিক বাজারের কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে নীতি বাস্তবায়নের মাত্রা, গতি ও সময় নির্ধারণ করা হবে।এছাড়া, বিনিময় হারের মাত্রাতিরিক্ত ওঠানামার ঝুঁকি মোকাবিলা, আর্থিক বাজারের স্থিতিশীল কার্যক্রম বজায় রাখা এবং পদ্ধতিগত আর্থিক ঝুঁকি দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধে কাজ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সূত্র: জেনিফার-সাকিব, চায়না মিডিয়া গ্রুপ। তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া।

চীনের মুদ্রানীতিতে অগ্রাধিকার পাচ্ছে প্রযুক্তি, সবুজ অর্থায়ন ও এসএমই
অবশেষে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অবশেষে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২২–২৩ আগস্ট সম্ভাব্য তারিখ, মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য-জ্বালানি-সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বঅবশেষে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনায় নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর।ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুই দেশেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সফরের বিষয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় কিংবা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনার টেবিলে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু সৌজন্য সফর হিসেবে নয়, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন ও পারস্পরিক স্বার্থের জায়গাগুলো নতুন করে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে এই সফরে।আমন্ত্রণ ছিল ক্ষমতায় আসার পরইগত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই আমন্ত্রণের ধারাবাহিকতায় এবার সফরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।প্রস্তাবিত ২২–২৩ আগস্টের সময়সূচি ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্টের প্রায় এক সপ্তাহ পর। ফলে সফরটি কোনো বহুপক্ষীয় সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত না থেকে মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেন্দ্রিক রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি।বৈঠকের টেবিলে যেসব ইস্যুতারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ভারসাম্য, সড়ক-রেল ও নৌ যোগাযোগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সীমান্তে প্রাণহানি, সীমান্ত অপরাধ ও আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হতে পারে।BRICS-এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরকে গুরুত্বপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় BRICS সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে সেখানে তার অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।তবে BRICS-এর ওই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, বহুপক্ষীয় কোনো আয়োজনের চেয়ে প্রথমে ভারতের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।হাইকমিশনারের বৈঠকের পরই গতিপ্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতির মধ্যে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও সেখানে মতবিনিময় হয়ে থাকতে পারে। এরপরই সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তৎপরতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে জানা গেছে।নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির নতুন সমীকরণ?রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কাঠামো কেমন হবে, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা কতটা বাড়বে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সমঝোতা হবে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে দুই দেশ কীভাবে সমন্বয় করবে—এসব প্রশ্নের উত্তরও অনেকটা নির্ভর করতে পারে আসন্ন সফরের আলোচনার ওপর।সবকিছু ঠিক থাকলে ২২–২৩ আগস্টের সম্ভাব্য সফর তাই শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরই নয়; বরং নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের নতুন সমীকরণেরও সূচনা হতে পারে।তবে সফরের তারিখ, কর্মসূচি ও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।সূত্র: এনডিটিভি

দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ পরিকল্পনায় চীনের সাফল্য বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে ঘনঘন দেখা দেওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্বের সব দেশের সামনে একটি বিষয় স্পষ্ট করে তুলেছে—অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা এখন সময়ের চরম দাবি। জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব এবং 'জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ সংক্রান্ত কনভেনশন'-এর নির্বাহী সচিব ইয়াসমিন ফুয়াদ সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপের বিশেষ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি পরিবেশগত উন্নয়ন ও সুরক্ষায় চীনের অর্জিত অভূতপূর্ব সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, চীন দীর্ঘমেয়াদী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তা বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পরিবেশবান্ধব ও কম কার্বন নির্গমন নির্ভর টেকসই উন্নয়নের এক কার্যকর পথ উন্মোচিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক পরিবেশ শাসন ও টেকসই উন্নয়নে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে। ইয়াসমিন ফুয়াদ বলেন, ‘চীনের মূল শক্তির কথা বলতে গেলে, আমি মনে করি সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাই হলো চীনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব। চীনের পরিবেশ প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সুদৃঢ়। আমি বিশ্বাস করি, এই বিশেষ অভিজ্ঞতার আলোকে চীন সম্পর্কিত অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, “চীনের 'স্বচ্ছ পানি ও সবুজ পাহাড়ই অমূল্য সম্পদ'—এই যুগান্তকারী চিন্তাধারা সর্বক্ষেত্রে অত্যন্ত গভীর তাৎপর্য বহন করে। আমরা একদিকে প্রাকৃতিক সম্পদ বিনাশ ও পরিবেশ ধ্বংস করে যাব, আর অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশা করব—এই ধারণার দিন অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। পরিবেশ বিনষ্ট করে যে অর্থনৈতিক লাভ আসে, তা অতি ক্ষণস্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদে এর জন্য বিশ্বকে চরম মূল্য দিতে হয়। প্রকৃত সমাধানের পথ আমাদের হাতের নাগালেই রয়েছে; তাই সংকট তৈরি হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেয়ে এখনই দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।” সূত্র: শুয়েই-তৌহিদ-জিনিয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

মোংলায় ৬০ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার প্রথম ধাপের কাজ, অক্টোবরে শুরু

বাগেরহাটের মোংলায় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।রবিবার (১৬'আগস্ট) বিকেলে মোংলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে পৌর বিএনপির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রথম ধাপের কাজ আগামী অক্টোবরে শুরু হবে। এতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়ে প্রায় ৬০ হাজারে পৌঁছাবে।এ সময় মোংলার শিল্পায়নে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। আকরাম পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকা থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস মোংলায় আনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।এ ছাড়া মোংলা নদীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে বলেও জানান মন্ত্রী।সেতু, অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন হলে মোংলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রদর্শনী করে মাত্র চার দিনেই ১১তম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। ৯ উইকেটে জিতে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ।টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা দলের কাছে শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়া ডেরা থেকে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চার জনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়া মাটিতে একটি টেস্টের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং নিশ্চিতভাবে এই টেস্ট সিরিজ তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত যেন তৈরি হয়ে গেল।দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

বরুড়ায়  ১২ স্কুলে এসএসসি'র ফলাফলে পাশের চেয়ে ফেল বেশি

বরুড়ায় ১২ স্কুলে এসএসসি'র ফলাফলে পাশের চেয়ে ফেল বেশি

কুমিল্লার বরুড়ায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২টি স্কুলে পাশের চেয়ে ফেল করেছেন বেশি শিক্ষার্থী। উপজেলার ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১২টি বিদ্যালয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর চেয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে মহেশপুর আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে, ৬৭ জন।ফলাফল সিটের তথ্য অনুযায়ী মহেশপুর আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ১১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫১ জন। বিপরীতে ফেল করেছে ৬৭ জন।মুগগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১২ জন এবং ফেল করেছে ২৪ জন। বড় কৈয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২ জনের মধ্যে পাস ৬ জন, ফেল ১৬ জন। ভাতেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ জনের মধ্যে পাস ৮ জন এবং ফেল ১৭ জন।হরিপুর আগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৭ জন, ফেল করেছে ৩৮ জন। জয়নগর সিডিউল কাস্ট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন, আর ফেল করেছে ২৯ জন।কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১০ জন এবং ফেল করেছে ১৫ জন।মুগুজী মাষ্টার ছোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৩ জন, ফেল ২২ জন।এ ছাড়া নলুয়া মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১০ জন, ফেল ১৫ জন।নরিন্দ্রপুর নোয়াদ্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫ জন, ফেল করেছে ১৫ জন।শিলমুড়ী রাজ রাজেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৪ জন, বিপরীতে ফেল করেছে ৩৮ জন।বরুড়া হাই স্কুলে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ জন এবং ফেল করেছে ৯ জন।এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা বলেন, যেসব স্কুলে পাসের সংখ্যার চেয়ে ফেল বেশি হয়েছে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেব। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই।

পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা

বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী মহড়া • মামলা সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন / পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা

প্রকাশ্যে দিবালোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা ও তাণ্ডব সংঘটিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে ঘটা এই বর্বরোচিত হামলাকে দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত বলে মনে করছেন সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ।​পুলিশের সামনেই সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসী তাণ্ডব: ​প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রবাসী জুবায়ের আহমেদের মালিকানাধীন সম্পদ দখলচেষ্টায় ভূমিদস্যু চক্রের জালিয়াতির দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওই বাড়ির সিকিউরিটি ইনচার্জ সোহাগ বিন সাইফুল্লাহ। খবর পেয়ে মোহনা টিভি, দেশ টিভি, গ্রীন টিভি, এশিয়ান টিভি, পাক্ষিক অপরাধ জগত, দৈনিক মুক্তির লড়াই, দৈনিক লাল সবুজের দেশ, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার এবং দৈনিক ভোরের কাগজসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় ২৫-৩০ জন সংবাদকর্মী সেখানে উপস্থিত হন।​সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সিকিউরিটি ইনচার্জ জালিয়াতির কাগজপত্র প্রদর্শন শুরু করা মাত্রই রাজেশের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী চক্রের ক্যাডাররা সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভিডিও ফুটেজে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক, নিরাপত্তা কর্মী ও ভাড়াটিয়াদের উদ্ধার করে।​মামলার পরও অধরা আসামিরা, প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া: ​অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে হামলা ও জখমের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর: ১১) দায়ের করা হয়।​তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে এবং গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। মামলা সত্ত্বেও থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তাদের অপরাধমূলক তাণ্ডব আরও বেড়ে যায়। গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমদের নেতৃত্বে প্রশাসনের সামনেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় মহড়া ও হামলা চালানো হয়।​দিনের আলোয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে চিহ্নিত চক্রের এমন মুক্ত বিচরণ ও তাণ্ডবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি তবে ভূমিদস্যু ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?​স্থানীয় ও সাধারণ মানুষের ৩ দফা দাবি: ​এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন: ​জালিয়াতির নিরপেক্ষ তদন্ত: ভুয়া বালাম বইয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাতের ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ ফরেনসিক তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।​মদদদাতা ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার: জমি দখল ও হামলায় জড়িত অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে তাণ্ডব চালানো গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া ও রেজাউল করিমসহ সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।​এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা: চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের অস্ত্র মহড়া বন্ধ করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা দিতে হবে এবং সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ । 

বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

সরকারি হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন / বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

কুমিল্লার  বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের বড় কৈয়নি ও শাকপুর গ্রামে পাগলা কুকুরের হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে বরুড়া সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাফি (২০), পিতা- রশিদ, গ্রাম শাকপুর; আবুল হোসেন (৪০), পিতা- মনির হোসেন, শাকপুর; আনাস (৪ মাস), পিতা- রিয়াদ হোসেন, শাকপুর এবং সামিয়া (২৬ মাস), পিতা- মিল্লাত হোসেন, শাকপুর।এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আয়ান (৩ মাস), পিতা- মো. বাহার, গ্রাম বামন্ডা, উপজেলা চান্দিনা; নিলুফা বেগম (৪০), স্বামী- ফরিদ উদ্দিন, মহেশপুর, বরুড়া; নিরুদা (৭০), স্বামী- মৃত সীতিম সরকার, শাকপুর, বরুড়া এবং কুহিনূর বেগম (৩৫), স্বামী- মো. বিল্লাল হোসেন, শাকপুরকে।এদিকে দুঃখজনক হলেও সত্য, আহতদের কাউকেই বরুড়া সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হাসপাতালের ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সবসময় পর্যাপ্ত রেবিস ভ্যাকসিন মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুর রহমান বলেন, “রেবিস ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে।”স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে সরকারি হাসপাতালে নিয়মিতভাবে রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। এতে জরুরি বিভাগে রোগী আনা-নেওয়া, বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ এবং ওয়ার্ডে যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় হাসপাতাল এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের এমন নাজুক পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।রোগীর স্বজন আব্দুল্লাহীল কাফী বলেন, "রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি চারদিকে পানি জমে আছে। জরুরি বিভাগে পৌঁছাতেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা শুধু রোগীদের দুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি।১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি, রোগীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিচু স্থান ভরাট, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করারও দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ  খায়রুল আলম বলেন, "জলাবদ্ধতার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।"স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে হাসপাতালের জলাবদ্ধতা ও মশা-মাছির উপদ্রব থেকে মুক্তি মিলবে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানও আরও উন্নত হবে।

রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান / রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট তৈরি করে রাখার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার জাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমা।অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, রোগী আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য আসার আগেই বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখা হতো। পরে রোগীর নাম ও পরিচয় যুক্ত করে তা সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইউরিনের নমুনা সংরক্ষণ এবং রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় থার্মোমিটার না রাখাসহ আরও কয়েকটি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।অভিযানে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ ।