মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারে সি চিন পিংয়ের নির্দেশ

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, গত (মঙ্গলবার) বেইজিংয়ে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-র বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খরা ত্রাণ কার্যক্রমসংশ্লিষ্ট এক সভায় সভাপতিত্ব করেন।সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছর প্রধান বর্ষা মৌসুমে চীনে আরও চরম আবহাওয়া ও জলবায়ুগত ঘটনা ঘটবে, যেখানে খরা ও বন্যা উভয়ই প্রকট থাকবে। সকল অঞ্চল ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে বন্যা প্রতিরোধ, খরা ত্রাণ এবং দুর্যোগ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সম্মেলনে জোর দিয়ে বলা হয়, সর্বদা জনগণের জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসের নির্ভুলতা বাড়াতে হবে; দ্রুত ও দৃঢ়তার সাথে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; ব্যাপক প্রাণহানি কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে; পানি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন জোরদার করতে হবে; এবং কৃষি অবকাঠামো সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।সম্মেলনে বলা হয়, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দুর্যোগ ত্রাণ ও সহায়তার কাজ ভালোভাবে করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মৌলিক জীবনধারণের চাহিদা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।পাশাপাশি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খরা ত্রাণের দায়িত্ব ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে; রাজ্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খরা ত্রাণ সদর দপ্তরকে সার্বিক সমন্বয় ও পরিচালনা জোরদার করতে হবে; সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে; তৃণমূল স্তরের দলীয় সংগঠন এবং বিপুলসংখ্যক দলীয় সদস্য ও কর্মীকে জনগণের জীবন ও সম্পত্তি কার্যকরভাবে রক্ষা করতে হবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।সূত্র:ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

জনগণের আস্থাই সিপিসির শক্তির উৎস: সি চিন পিং

"পরিবার, মানুষ ও কর্মজীবনের সমৃদ্ধি হোক; ভাগ্য, সম্পদ ও সৌভাগ্যের প্রসার হোক" গত ২৪ জুন, সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, চীনের প্রেসিডেন্ট এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান সি চিন পিং শানতুং প্রদেশের সি ইউ চিয়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। গ্রামটির বাসিন্দাদের বাড়ির দরজার দু'পাশে লাগানো বসন্ত উৎসবের শ্লোক-এ লেখা ছিল—"পরিবার, মানুষ ও কর্মজীবনের সমৃদ্ধি হোক; ভাগ্য, সম্পদ ও সৌভাগ্যের প্রসার হোক।" চীনা ভাষায় লেখা এই বাক্যটি সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেন, এটি হলো "জনগণের মনের সুন্দর প্রত্যাশা"।তিনি সবাইকে বলেন, গত ১০৫ বছরে সিপিসি দেশের আপামর জনগণকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং সবার নিরলস প্রচেষ্টায় মহান সাফল্য অর্জিত হয়েছে বা হচ্ছে। বর্তমানে আমরা সার্বিকভাবে একটি সমাজতান্ত্রিক আধুনিক দেশ নির্মাণের নতুন অগ্রযাত্রায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে এই নতুন অগ্রযাত্রায় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া, আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করা এবং সুন্দর জীবনের প্রতি জনগণের মনের আকাঙ্ক্ষা অব্যাহতভাবে পূরণ করা।তিনি আরও জানান, সিপিসি জনগণ থেকে এসেছে এবং জনগণের জন্যই এর জন্ম হয়েছে। জনগণের কারণেই সিপিসি সমৃদ্ধি লাভ করেছে, সিপিসি সবসময় জনগণের সাথে রয়েছে, জনগণের সাথে একযোগে সব কঠিন সময় অতিক্রম করেছে এবং জনগণের সাথে একযোগে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতের পথচলায় সিপিসি যেমন জনগণের ওপর নির্ভর করে কাজ করে এসেছে, ভবিষ্যতেও আগের মতোই জনগণের ওপর নির্ভর করে সিপিসি নতুন ঐতিহাসিক সাফল্য সৃষ্টি করবে।মন দিয়ে গণকল্যাণ বৃদ্ধিতে কাজ করা২০১৭ সালের অক্টোবরে, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং গোটা পার্টিকে "প্রাথমিক লক্ষ্য কখনো ভুলে যেও না, মিশন মনে রাখো এবং চিরকাল সংগ্রাম করো"—এই মহান দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।সিপিসি সদস্যদের প্রাথমিক লক্ষ্য ও মিশন হচ্ছে চীনা জনগণের সুখ ও চীনা জাতির পুনরুজ্জীবন বাস্তবায়ন করা। জন্মের পর থেকে সিপিসি ‘জনগণ’ শব্দটিকে তাদের পতাকায় লিখে রেখেছে এবং নিজেদের রক্তে মিশিয়ে নিয়েছে।সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং জোর দিয়ে জানান, কোনো সময়েই আমরা আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ভুলে যেতে পারব না, সবসময় মিশনটিকে মনে রাখতে হবে। জনগণই যে আমাদের মূল শেকড়, তা ভুলে যাওয়া চলবে না; চিরকাল জনগণকে সেবা প্রদান করতে হবে। সমৃদ্ধির স্বপ্ন, শক্তিশালী দেশের স্বপ্ন এবং চীনা স্বপ্ন—এসবের মূল বিষয়ই হচ্ছে জনসাধারণের সুখের স্বপ্ন। সিপিসি যেসব প্রচেষ্টা চালিয়েছে বা চালাবে, তার সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো জনগণের সুখ অন্বেষণ করা।নতুন যুগে, কমরেড সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে গঠিত সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটি সুন্দর জীবনের প্রতি জনগণের নতুন প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। তারা গণকল্যাণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং মানুষের সার্বিক উন্নয়ন ও গোটা জনগণের অভিন্ন সমৃদ্ধি বাস্তবায়নে কাজ করে আসছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু যত্ন, বয়স্কদের যত্ন, আবাসন এবং পরিবেশসহ জনসাধারণের প্রাত্যহিক জীবন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে দেশের উন্নয়নের শীর্ষ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জনগণের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য অব্যাহতভাবে উন্নত হচ্ছে।সি চিন পিং জানান, "আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জনসাধারণের আরও সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা পূরণ করা।" জনগণের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা, জনগণকে মনে রাখা এবং জনগণের জন্য কাজ করার মাধ্যমে নতুন যুগে সিপিসি’র সদস্যরা গণকল্যাণ বৃদ্ধিতে বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা ফুটে উঠেছে।সূত্র:আকাশ-তৌহিদ-শিশির,চায়না মিডিয়া গ্রুপ

জনগণের আস্থাই সিপিসির শক্তির উৎস: সি চিন পিং

স্বাস্থ্য খাতের মহাপতন-অবৈধ ক্লিনিকের বিষবৃক্ষ ও ভুল চিকিৎসার মৃত্যুফাঁদ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে জনগণের জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির স্তর উন্নয়নকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে এসে আজ দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত এক চরম নৈরাজ্য, নৈতিক স্খলন এবং কাঠামোগত সহিংসতার আবর্তে নিমজ্জিত। রোগ নিরাময়ের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে যে হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোর ওপর মানুষ আস্থা রাখার কথা, সেগুলো আজ রূপ নিয়েছে অকালমৃত্যুর এক একটি সুসজ্জিত ফাঁদে। একদিকে দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা হাজার হাজার অবৈধ, লাইসেন্সবিহীন ও মানহীন বেসরকারি চিকিৎসালয়ের রমরমা বাণিজ্য, অন্যদিকে চিকিৎসার নামে চরম অবহেলা, ভুয়া ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য, দক্ষ নার্স ও টেকনিশিয়ানের অভাব এবং সর্বোপরি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। বিগত এক বছরের (২০২৫-২০২৬) বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করলে যে শিউরে ওঠার মতো চিত্র সামনে আসে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধের ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের এক গভীর ও পদ্ধতিগত সংকটের বহিঃপ্রকাশ। এই সংকট আজ সাধারণ মানুষের মনে এতটাই তীব্র ক্ষোভ ও অনাস্থার জন্ম দিয়েছে যে, মানুষ এখন চিকিৎসকদের ওপর আস্থা হারিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, হাসপাতাল ভাঙচুর করছে, যা একটি সভ্য সমাজের জন্য চরম অবক্ষয়ের লক্ষণ। নতুন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই অরাজকতা বন্ধে ইদানীং কঠোর অভিযানের কথা বলছেন, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান সিলগালাও করা হচ্ছে; কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, এই ধরনের সাময়িক ও লোকদেখানো ক্র্যাশ প্রোগ্রাম দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল আনে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত এই সংকটের মূলে থাকা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেক্সাস বা দালাল সিন্ডিকেটকে উপড়ে ফেলা যাবে এবং গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে একটি জবাবদিহিমূলক আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই মহাবিপর্যয় থেকে উত্তরণ অসম্ভব।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় অবৈধতার শিকড় কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে। গত ২০২৪ সালের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাপ্তরিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সারাদেশে অন্তত ১,২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং কোনো প্রকার বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে আসছে। এই তালিকার ভৌগোলিক বিন্যাস লক্ষ্য করলে দেখা যায়, রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকাগুলোতেই এই অবৈধ বাণিজ্যের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪১৫টি, এরপরই শিক্ষানগরী ও গ্রামীণ জনপদ পরিবেষ্টিত ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫২টি, বাণিজ্যিক ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ২৪০টি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনায় ১৫৬টি অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেন যে, সরকারি এই খতিয়ান হিমশৈলের দৃশ্যমান চূড়ামাত্র; বাস্তবে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে খোদ রাজধানীর অলিতে-গলিতে গড়ে ওঠা লাইসেন্সবিহীন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এই তালিকার চেয়ে অন্তত তিন থেকে চার গুণ বেশি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নতুন সরকারের স্বাস্থ্য নির্দেশনায় যখন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে ঝটিকা অভিযান শুরু করা হলো, তখন প্রথম তিন দিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডজনখানেক নামী-বেনামী প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়। কিন্তু এই অভিযানের ভেতরের সত্যটি অত্যন্ত করুণ। দেখা গেছে, সকালবেলা যে ক্লিনিকটি ম্যাজিস্ট্রেট এসে সিলগালা করে যাচ্ছেন, রাতের অন্ধকারে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও দুর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অলিখিত জোগসাজশে সেই সিলগালা ভেঙে আবার রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। ফলে এই ধরনের অনিয়মিত ও বিচ্ছিন্ন অভিযান কোনোভাবেই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা মরণফাঁদগুলোকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে পারছে না, বরং তা কেবল সাময়িক সময়ের জন্য অপরাধীদের আড়ালে চলে যেতে বাধ্য করছে।বিগত এক বছরে ভুল চিকিৎসা এবং চিকিৎসার নামে চরম অবহেলার কারণে যতগুলো প্রাণ ঝরে গেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত খতিয়ান নিলেও গা শিউরে ওঠে। এটি কেবল কোনো পরিসংখ্যান নয়, প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে রয়েছে একেকটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ আর আজীবনের কান্না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৬ বছরের নববিবাহিত গৃহবধূ মাইশা আক্তারের কথাই ধরা যাক; একটি সাধারণ ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই যেভাবে তার জীবন প্রদীপ নিভে গেল, তার কোনো যৌক্তিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি। মাদারীপুরের কে আই হাসপাতালে বিলকিস বেগম নামের এক নারী এসেছিলেন একটি অত্যন্ত সাধারণ ফোঁড়ার অপারেশন করাতে, যা কোনোভাবেই জীবনঘাতী হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অদক্ষ সার্জন ও এনেস্থেসিওলজিস্টের ভুলের কারণে ওপারেশন থিয়েটারেই তার মৃত্যু হয়, যার জেরে ক্ষুব্ধ জনতা পুরো হাসপাতাল ভাঙচুর করে। ফেনী অঞ্চলের প্রসূতি লিজার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সন্তান প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকলেও ক্লিনিকে কোনো দক্ষ রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা বা বিশেষজ্ঞ সার্জন ছিলেন না, যার ফলে চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ না পেয়ে তাকে অকালে প্রাণ হারাতে হয়। পরবর্তীতে সেই ক্লিনিক সিলগালা করা হলেও লিজার শিশু সন্তানটি তার মাকে আর কোনোদিন ফিরে পাবে না। একইভাবে কুমিল্লার নবীনগরে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় যে দৃশ্য আমরা দেখেছি, তা আরও লজ্জাজনক। সেখানে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মাত্র ১১ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি মানবজীবনকে বিক্রি করে দেয় এবং পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়। সিরাজগঞ্জে অ্যাপেনডিক্সের মতো একটি প্রাথমিক ও সহজ অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে সাবিনা খাতুন নামের এক তরুণীর মৃত্যু, ভোলায় চিকিৎসার অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর পর ইসলামীয়া মেডিকেল সেন্টারে হামলা, কিংবা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত নার্সের ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের পর দুই রোগীর সমসাময়িক মৃত্যু-এই প্রতিটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় মানুষের জীবন আজ কতটা সস্তা ও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এমনকি রাজধানীর নামকরা আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এবং পরবর্তীতে তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত এটিই প্রমাণ করে যে, অরাজকতার এই বিষবৃক্ষ কেবল মফস্বলেই নয়, ঢাকার বড় বড় করপোরেট হাসপাতালেও তার ডালপালা বিস্তার করেছে। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, যশোরসহ দেশের এমন কোনো জেলা বা উপজেলা নেই, যেখানে গত এক বছরে ভুল চিকিৎসায় মানুষ মারা যায়নি।এইসব লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে যে কারণগুলো কাজ করছে, তা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং ওপেন সিক্রেট। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সিংহভাগেরই নেই কোনো বিএমডিসি নিবন্ধিত স্থায়ী চিকিৎসক, নেই কোনো ডিপ্লোমাধারী প্রশিক্ষিত নার্স। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো এক সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়, আয়া অথবা ওটি বয়রা নিজেদের নামের আগে 'ডাক্তার' পদবি বসিয়ে কিংবা অন্য কোনো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর জালিয়াতি করে দিব্যি জটিল সব অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করছে। তাদের ওপারেশন থিয়েটারগুলোতে নেই কোনো আধুনিক লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম, জরুরি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিংবা জীবাণুমুক্তকরণের ন্যূনতম যন্ত্রপাতি। এক নোংরা, স্যাঁতসেঁতে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলছে এই বাণিজ্য। যখনই কোনো ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়, তখন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীকে লাইফ সাপোর্টের নামে মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে অন্য কোনো বড় হাসপাতালে রেফার করে দেয়, যাতে মৃত্যুর দায় তাদের ওপর না বর্তায়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, হাসপাতাল ভাঙচুর হয়, গণমাধ্যমে দুই-তিন দিন লেখালেখি হয় এবং পুলিশ এসে একটি অপমৃত্যুর মামলা বা বড়জোর একটি অবহেলার মামলা দায়ের করে। কিন্তু দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা এবং আইনের ফাঁকফোকর গলে আসামিরা খুব দ্রুতই জামিনে বেরিয়ে আসে। তার চেয়েও বড় সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে 'সালিশি সংস্কৃতি'। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, টাউট ও ক্লিনিক মালিক পক্ষ মিলে ভুক্তভোগী দরিদ্র পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা সামান্য কিছু টাকার লোভ দেখিয়ে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করে। টাকার এই অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে যখন একটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন চিকিৎসকদের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার জায়গাটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। অপরাধীরা জেনে যায় যে, ভুল চিকিৎসায় মানুষ মরলে বড়জোর কিছু টাকা জরিমানা দিতে হবে, ফাঁসি বা দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হবে না; আর এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই নতুন নতুন অপরাধী ও ভুয়া ডাক্তার তৈরিতে জ্বালানি জোগাচ্ছে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সামগ্রিক অবক্ষয়ের পেছনে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. লেনিন চৌধুরী অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই সংকটের স্বরূপ উন্মোচন করে বলেছেন যে, একটি লাইসেন্সহীন বা মানহীন হাসপাতাল একদিনে গড়ে ওঠে না। হাসপাতাল বা ক্লিনিকের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে অতীতে যে চরম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, ঘুষ ও অনিয়ম হয়েছে, তা সবার আগে খতিয়ে দেখতে হবে। যারা একটি নিরাময় কেন্দ্র খোলার আবেদন করছেন, তাদের নৈতিক ও পেশাগত পটভূমি বা ব্যাকগ্রাউন্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা দরকার। আমাদের দেশে মুদি দোকান বা চালের আড়ত খোলার মতো করে যেভাবে পুঁজি খাটিয়ে হাসপাতাল খোলার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা অবিলম্বে আইন করে বন্ধ করতে হবে। ভুয়া চিকিৎসকদের কেবল জরিমানা বা কয়েক মাসের জেল দিলে হবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় নরহত্যার মামলা দায়ের করা উচিত। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং জনপ্রতিনিধিদের এই তদারকি প্রক্রিয়ার মধ্যে সরাসরি দায়বদ্ধ করতে হবে; যদি কোনো এলাকায় একটি অবৈধ ক্লিনিক চলে, তবে তার দায় ওই এলাকার সিভিল সার্জন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিতে হবে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাতেরুল হক এই সংকটের আরেকটি অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছেন, যা হলো সরকারি হাসপাতালগুলোর তথাকথিত 'দালাল সিন্ডিকেট'। দেশের প্রতিটি বড় সরকারি হাসপাতালে গ্রামীণ ও দরিদ্র মানুষ যখন চিকিৎসার জন্য আসে, তখন একদল সুসংগঠিত দালাল, যাদের সাথে হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী ও চিকিৎসকেরও যোগসাজশ থাকে, তারা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে, ভয় দেখিয়ে বা কৃত্রিম শয্যা সংকট তৈরি করে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সেই এই সমস্ত নামহীন, অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে চলে পকেট কাটা এবং ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। এই দালাল চক্রকে সমূলে উৎপাটন না করতে পারলে কেবল প্রাইভেট ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে সুফল পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি রোগীদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে, কোনো ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার আগে তার বৈধ লাইসেন্স আছে কি না বা যিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন তার বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর সচল কি না, তা যাচাই করার ন্যূনতম নাগরিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।এই ভয়াবহ সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন মেয়াদের সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন যে কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন, তা সর্বস্তরের মানুষের মনে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে। তিনি বারবার বিভিন্ন ফোরামে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, জনগণের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। হাসপাতালের মানদণ্ড ও ন্যূনতম আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বজায় রাখতে যারা ব্যর্থ হবে, তাদের প্রতিষ্ঠান যত বড় বা প্রভাবশালীই হোক না কেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক তদবির বা অর্থনৈতিক প্রভাব খাটানো চলবে না। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মতো একটি বড় ও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সাহসী সিদ্ধান্তকে তিনি সঠিক এবং একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে অন্য সবাইকে সতর্ক করেছেন। সরকার এখন স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য 'ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড' প্রবর্তন, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মনিটরিং নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই সমস্ত নীতি ও পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং দূরদর্শী; কিন্তু সাধারণ জনগণের প্রশ্ন হলো, এই ধরনের প্রতিশ্রুতি আমরা অতীতেও অনেক মন্ত্রীর মুখে শুনেছি, কিন্তু কিছুদিন পর আমলাতন্ত্রের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আর দুর্নীতির মায়াজালে সেই সমস্ত উদ্যোগ ফাইলবন্দি হয়ে গেছে। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান যেন কোনো সাময়িক লোকদেখানো চমক না হয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক নীতিতে পরিণত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।একটি কল্যাণকামী ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের এই চিকিৎসাসংকট উত্তরণে অবিলম্বে কিছু বৈপ্লবিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। প্রথমত, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং ডিজিটালাইজড করতে হবে। একটি কেন্দ্রীয় উন্মুক্ত অনলাইন পোর্টাল থাকবে, যেখানে দেশের প্রতিটি অনুমোদিত হাসপাতালের নাম, তাদের সেবার ধরণ, শয্যা সংখ্যা, কর্মরত চিকিৎসকদের তালিকা এবং লাইসেন্সের মেয়াদের তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে, যেন সাধারণ রোগীরা এক ক্লিকেই যেকোনো হাসপাতালের বৈধতা যাচাই করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে একটি স্থায়ী, স্বাধীন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন 'সারপ্রাইজ ভিজিট টাস্কফোর্স' বা মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে, যাদের কাজ হবে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বছরজুড়ে দেশের বিভিন্ন ক্লিনিকে ঝটিকা অভিযান চালানো এবং অনিয়ম পেলেই তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করা। তৃতীয়ত, দেশের সকল চিকিৎসক, নার্স ও ওটি টেকনিশিয়ানদের জন্য নিয়মিত রিফ্রেশার্স কোর্স বা আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাজারে প্রচলিত সকল জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রপাতি ও ঔষধের মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভুয়া প্র্যাকটিশনার ও জাল সার্টিফিকেটধারীদের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আমূল শক্তিশালী ও আধুনিকায়ন করতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে যদি পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক আইসিইউ, সিসিইউ এবং ঔষধের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তবে সাধারণ মানুষ কখনোই বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে এই সমস্ত কসাইখানা তুল্য বেসরকারি ক্লিনিকে যাবে না। বেসরকারি খাতের এই সিন্ডিকেট ভাঙার একমাত্র উপায় হলো সরকারি খাতের সেবার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। পঞ্চমত, স্বাস্থ্য খাতের ভেতরে জেঁকে বসা সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও কেনাকাটার হরিলুট বন্ধ করতে হবে। প্রতি বছর জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। এই বরাদ্দ যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি বরাদ্দকৃত অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন আমলা ও ঠিকাদারদের পকেটে না গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়, তার জন্য একটি স্বাধীন অডিট বা জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।পরিশেষে এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসী পণ্য বা বাণিজ্যিক ব্যবসায়ের ক্ষেত্র নয়; এটি মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক মানবাধিকার ও একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্তম্ভ। চিকিৎসা নিতে এসে মানুষকে লাশ হয়ে ফিরতে হবে, আর অপরাধীরা টাকার জোরে পার পেয়ে যাবে-একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন রাষ্ট্রে এই বর্বরতা দিনের পর দিন চলতে পারে না। গত এক বছরের রক্তক্ষয়ী ঘটনাবলি ও নিরীহ মানুষের মৃত্যুর মিছিল থেকে আমাদের এই শিক্ষাই নিতে হবে যে, এই সংকট কেবল চিকিৎসা খাতের কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং এটি আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ও সামগ্রিক সুশাসনের এক চরম নৈতিক ধস। এই অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিষবৃক্ষ যদি এখনই গোড়া থেকে উপড়ে ফেলা না যায় এবং ভুল চিকিৎসার প্রতিটি ঘটনাকে 'কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড' হিসেবে বিবেচনা করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের মন থেকে রাষ্ট্র ও আইনের প্রতি শেষ আস্থাটুকুও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। হাজার হাজার মানুষের এই অকালমৃত্যু কেবল একেকটি পরিবারের ধ্বংস ডেকে আনছে না, বরং এটি আমাদের জাতীয় মানবসম্পদেরও এক অপূরণীয় ক্ষতি করছে। আমরা নতুন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান এবং গৃহীত সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলোকে পূর্ণভাবে স্বাগত জানাই; কিন্তু একই সাথে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই যে, এই উদ্যোগ যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বেড়াজালে আটকে কোনো 'এককালীন লোকদেখানো ক্র্যাশ প্রোগ্রাম'-এ পরিণত না হয়। জনগণের জীবন নিয়ে আর কোনো আপস, কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বা অর্থনৈতিক অনুকম্পা প্রদর্শন করার সুযোগ নেই। সময় এসেছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে এই চিকিৎসাসংকটের স্থায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও জবাবদিহিমূলক সমাধান নিশ্চিত করার। অন্যথায় ভুল চিকিৎসার এই মরণফাঁদ ও অবৈধ ক্লিনিকের বিষবৃক্ষ আমাদের পুরো জাতির ভবিষ্যৎ ও স্বাস্থ্যকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে ফেলবে। মানুষের জীবন রক্ষার চেয়ে বড় কোনো রাজনীতি বা ব্যবসা হতে পারে না-এই সত্যটিই হোক আমাদের আগামী দিনের পথচলার মূল চালিকাশক্তি।লেখক : সাংবাদিক ও সংগঠক।

স্বাস্থ্য খাতের মহাপতন-অবৈধ ক্লিনিকের বিষবৃক্ষ ও ভুল চিকিৎসার মৃত্যুফাঁদ
সংসদ ভিজিটে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছায় উচ্ছ্বসিত মনোহরগঞ্জের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

সংসদ ভিজিটে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছায় উচ্ছ্বসিত মনোহরগঞ্জের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৫ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক আজ (রবিবার) প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ লাভ করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ভিজিট শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ শিক্ষা সফর প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এক স্মরণীয়, অনুপ্রেরণাদায়ী ও স্বপ্নপূরণের অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা বিনিময়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল চর্চার প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি নিজ হাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ স্মরণীয় মুহূর্ত ধারণ করতে পেরে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে এবং এটিকে তাদের সংসদ ভিজিটের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে।পরিদর্শনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নীলকান্ত সরকারি কলেজ, নাথেরপেটুয়া ডিগ্রি কলেজ এবং শাহ শরীফ ডিগ্রি কলেজ।জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রথমে এলডি হল পরিদর্শন করেন। এরপর বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত সংসদ ভবনের নান্দনিক স্থাপত্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তারা চলমান বাজেট অধিবেশন সরাসরি উপভোগ করেন। পাশাপাশি সংসদের উত্তর ও দক্ষিণ প্লাজা, মনোরম ক্রিসেন্ট লেক, অধিবেশন কক্ষ এবং সমৃদ্ধ সংসদ গ্রন্থাগার (লাইব্রেরি) পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা মনোহরগঞ্জের কৃতী সন্তান, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন।সংসদ ভবনে আয়োজিত ব্রিফিং সেশনে জাতীয় সংসদ ভবনের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করে শিক্ষার্থীরা গভীর আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।পরিদর্শনের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত "শুভেচ্ছা বিনিময়" অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ আবুল কালাম, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন কেবল একটি স্থাপত্য নিদর্শন নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে রাষ্ট্র পরিচালনা, সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে এ ধরনের শিক্ষা সফরের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, সততা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান।সফরের অংশ হিসেবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাফেটেরিয়ায় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।অনেক শিক্ষার্থী জানান, এতদিন তারা জাতীয় সংসদ ভবন সম্পর্কে শুধু পাঠ্যপুস্তক, সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে জেনেছেন; বাস্তবে সংসদ ভবনে এসে ঘুরে দেখার সুযোগ তাদের কাছে আজীবন মনে রাখার মতো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য এই সফর ভবিষ্যৎ জীবনে দেশ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে জানার আগ্রহ বৃদ্ধি করবে এবং বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জোগাবে।বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সফররত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন সংসদ সদস্যকে সরাসরি দেখার বিরল সুযোগ পান। প্রতিনিধি দলের ভাষ্য অনুযায়ী, মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নীলকান্ত সরকারি কলেজ, নাথেরপেটুয়া ডিগ্রি কলেজ এবং শাহ শরীফ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে এই শিক্ষা সফর।পরিদর্শন শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের শিক্ষামূলক ও রাষ্ট্রপরিচয়মূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান।

দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারে সি চিন পিংয়ের নির্দেশ

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, গত (মঙ্গলবার) বেইজিংয়ে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-র বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খরা ত্রাণ কার্যক্রমসংশ্লিষ্ট এক সভায় সভাপতিত্ব করেন।সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছর প্রধান বর্ষা মৌসুমে চীনে আরও চরম আবহাওয়া ও জলবায়ুগত ঘটনা ঘটবে, যেখানে খরা ও বন্যা উভয়ই প্রকট থাকবে। সকল অঞ্চল ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে বন্যা প্রতিরোধ, খরা ত্রাণ এবং দুর্যোগ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সম্মেলনে জোর দিয়ে বলা হয়, সর্বদা জনগণের জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসের নির্ভুলতা বাড়াতে হবে; দ্রুত ও দৃঢ়তার সাথে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; ব্যাপক প্রাণহানি কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে; পানি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন জোরদার করতে হবে; এবং কৃষি অবকাঠামো সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।সম্মেলনে বলা হয়, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দুর্যোগ ত্রাণ ও সহায়তার কাজ ভালোভাবে করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মৌলিক জীবনধারণের চাহিদা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।পাশাপাশি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খরা ত্রাণের দায়িত্ব ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে; রাজ্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খরা ত্রাণ সদর দপ্তরকে সার্বিক সমন্বয় ও পরিচালনা জোরদার করতে হবে; সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে; তৃণমূল স্তরের দলীয় সংগঠন এবং বিপুলসংখ্যক দলীয় সদস্য ও কর্মীকে জনগণের জীবন ও সম্পত্তি কার্যকরভাবে রক্ষা করতে হবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।সূত্র:ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: নাজমুন নাহার বেবী

​২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরের কচুয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে রোপা আমন বীজ, সার ও ফলজ চারা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৮৬ জন কৃষকের মাঝে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়।​শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে কচুয়া উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমেই কচুয়াসহ সারা দেশে কৃষিখাতে সমৃদ্ধি আসবে। তিনি আরও বলেন, কৃষি উপকরণের পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেলের সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি খায়রুল আবেদীন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুবাস, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম।কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার মোট ১৩শ জন কৃষককে রোপা আমন ধানের বীজ, সার এবং বিভিন্ন প্রকার ফলজ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৮৬ জন কৃষকের হাতে হ্যান্ড স্প্রে মেশিন, ফিতা পাইপ, এলএলপি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (ধান কাটার যন্ত্র), ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, ফুট পাম্প ও ধান মাড়াই যন্ত্র তুলে দেওয়া হয়।​এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া উত্তর অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মিয়াজী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুস সালাম শান্ত, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর নবী সুমন, ছাত্রদলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সম্রাট রইসুদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় কৃষকরা।ছবি: কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী।

১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর
র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

ঝিনাইদহে জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠলো জেলা পরিষদ প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মাঝেই ঝিনাইদহে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে জেলা পরিষদ প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। শুক্রবার বিকেলে শহরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও টুর্নামেন্টের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী এ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী। সেসময় জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ্যাড. এম এ মজিদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় কুষ্টিয়ার পোড়াদহ ওয়ান্ডার্স ক্লাব ও শেরপুর ফুটবল একাডেমী। খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে বিভিন্ন বয়সী শত শত দর্শকের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তীব্র প্রতিযোগিতাপুর্ণ এ খেলায় শেরপুরকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ ওয়ান্ডার্স ক্লাব।চলো যাই খেলা দেখি-মাদক’কে না বলি’ এই শ্লোগানে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, নীলফামারীসহ দেশের ৮ টি জেলার ফুটবল দল অংশ নিবে।

শরণখোলায় স্কুল ফিডিংয়ের খাবারের ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

শরণখোলায় স্কুল ফিডিংয়ের খাবারের ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

বাগেরহাটের শরণখোলায় স্কুল ফিডিংয়ের খাবারের ডিম খেয়ে ৯৮ নং ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অসুস্থ ছাত্রছাত্রীদেরকে স্থানীয় রায়েন্দা গ্রামীণ জেনারেল হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে।বুধবার (১জুলাই) দুপুর একটার দিকে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের পূর্বধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ ঘটনা ঘটে।ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবক ও হসপিটাল সূত্রে জানা যায়, শরণখোলা ধানসাগর ইউনিয়নের ৯৮ নং পূর্ব ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ওপঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের দুপুরে টিফিন দেওয়া হয়। টিফিনের মধ্যে দেওয়া ডিম খেয়ে ১১ টি শিশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে।তারা জানায়, ডিম খাওয়ার পরে তাদের প্রচুর পেটে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাৎক্ষণিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও তার সহকর্মীরা শিশুদেরকে উপজেলার রায়েন্দা পাঁচ রাস্তার মোড় সংলগ্ন গ্রামীণ জেনারেল হসপিটালে ভর্তি করে।অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন- রুমানা, আব্দুন নূর, রাবেয়া, ফারিয়া, মিতু, সুমা, আফিফা, হুমায়রা, তামান্না, তানজিলা ও সিফা।গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার শাকিল কায়সার বলেন, স্যালাইন সহ অন্যান্য ওষুধ দিয়ে সুস্থতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে খাদ্য সরবরাহকারী আলিম আল রাজী মুক্তি বলেন, শনিবার (২৭ জুন) দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য ডিম দিতে পারেননি, সেই ডিমটি রোববারে পৌঁছানো হয়েছে। সেই রোববারের ডিম হয়তো তারা বুধবার (১ জুলাই) সিদ্ধ করে দিয়েছে, সেখানে নষ্ট ডিম থাকতে পারে।আর এ থেকে এঘটনা ঘটছে বলে তার ধারণা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, রোববারে যে ডিম দেওয়া হয়েছিল সেই ডিম থেকে কিছু ডিম সিদ্ধ করা হয়েছে। ওই ডিমের মধ্যে কোন সমস্যা থাকতে পারে যার জন্য ডিম খেয়ে শিশুদের পেটে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনির আহমেদ বলেন তিনি বিষয়টা শুনেছেন বর্তমানে বাগেরহাটে মিটিংয়ে থাকায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানেন না তবে খোঁজখবর নিবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। গ্রামীণ হাসপাতালের কর্তব্য চিকিৎসক জানিয়েছেন শিশু শিক্ষার্থীরা অনেকটা আশঙ্কা মুক্ত।শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার ভূমি অর্থিতা হাওলাদার জানান, তিনি বিষয়টা শুনেছেন এবং খোঁজখবর নিবেন। ওই ডিমে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তদন্ত সাপেক্ষে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। রোববার সংগঠনটি চাঞ্চল্যকর অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা, গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান ও মানবাধিকার কর্মীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদে এ অনুষ্ঠানে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা  প্রদান করেছে এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন। সংগঠনের কেন্দ্রিয় চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল মিয়ার সভাপতিত্বে সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, সাহিত্যিক সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখত। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্ম জেগে উঠেছে, দেশের উন্নয়নে প্রেসক্লাব ইউনিটি ও হোসাইনিয়া পাক দরবার শরীফ আত্মনিবেদিত হয়ে বিশ্বমন্ডলে শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা জাগ্রত করার আহ্বান জানান। সুপ্রিম কোর্ট সিনিয়র আইনজীবী লতিফুর রহমান সম্মিলিত মানবাধিকার কর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেসক্লাব এর নতুন কমিটিকে সাথে নিয়ে ডা মাঈনুদ্দীন স্বেচ্ছাশ্রমে সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কাজে সম্পৃক্ত হতে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। উদ্ভাধনী আলোচনায় কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাহী পরিচালক ইন্জিনিয়র এম সোহেল আহমদ বলেন, দীর্ঘ সময়ে সংগঠনের সাথে রয়েছি, কখনো দায়িত্ব পালনে বিচলিত হইনি, আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকব ইনশাল্লাহ। এ সময় ঢাকা বিভাগীয় শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের হাততালিতে শুভেচ্ছা জানান। কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ শহীদুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ মজুমদার, আনজার শাহ,আবু আহাদ আল মাহমুদ দীপু মীর, আলমগীর ওয়েচী, মোঃ জাকির হোসেন, আনছারুল হক, মোঃ শাকিল হাওলাদার স্বাধীন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক ভূঁইয়া, তাছলিমা আক্তার লিজা, হাসুরা বেগম, মোঃ মানিক মিয়া, ফুল চান্দ বাবু,নূরে আলম,নাছির উদ্দিন পলাশ,আহম উল্যাহ, কাজী নূরুল আজিম, মোঃ আবু সালেক ভূঁইয়া, এম জি বাবর ও  আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ। সংগঠনের সাদা মনের সাদা সম্মাননা ১০ গুণীজনদের প্রদান শেষে সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্মরণ  ও জাতীর শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া কামনা করা হয়।

কচুয়ায় প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান

কচুয়ায় প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উপজেলার  বিতারা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরামের অর্থায়নে বিনামূল্যে  একটি অ্যাম্বুলেন্স  প্রদান  করা হয়েছে। ​শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) বিকেলে এ উপলক্ষ্যে স্থানীয় মাঝিগাছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এম্বুলেন্স  হস্তান্তর করা হয়। মানবিক এই মহতি উদ্যোগটির অর্থায়নে ছিলেন স্থানীয় মাঝিগাছা গ্রামের অধিবাসী  মো. কামরুজ্জামান মজুমদার (জামাল)।বিতারা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরামের উপদেষ্টা শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উক্ত হস্তান্তর অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রবাসী ভাইদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। দুর্যোগ ও জরুরি মুহূর্তে এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, অত্র এলাকার অসহায় ও দুস্থ রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করবে। স্থানীয়রা জানান, স্পেন প্রবাসী, বিতারা ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান মজুমদার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে। এই অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে স্বল্প খরচে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে রোগী পরিবহন করা যাবে। বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র, গর্ভবতী মা, জরুরি রোগী ও বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য এই সেবা হবে আশার আলো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খায়রুল আবেদীন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ এলাহি সুভাস, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল)মোঃ আব্দুল হাই চৌধুরী, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম, উত্তর কচুয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মিয়াজী, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, মো. মকবুল হোসেন পাটোয়ারী এবং মো. ইউসুফ খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ২৬ জুন উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের মহিদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা কৰ্তৃক আয়োজিত বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, স্বাস্থ্য সেবা ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। চক্ষু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা ও শংকর হাসপাতাল। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ফ্রেন্ডস ব্লাড ব্যাংক, মহিদপুর গ্রামবাসী এবং প্রফেসর ডাক্তার রুহুল আমিন রুরাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যক্ষ ইয়াসিন মিয়া ও শিক্ষার্থীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ, সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ্ব মো.আমির হোসেন ভূঁইয়া,  সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান জেড. এইচ. জহির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আমিন, দপ্তর সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান শিশির, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. কামাল হোসেন ভূঁইয়া, মেহেদী হাসান, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, আজীবন সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোশাররফ হোসেন, ডাক্তার মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবৰ্গরা উপস্থিত ছিলেন।এদিন প্রায় সহস্রাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা সহযোগিতা পাওয়ার পাশাপাশি ১৩২ জন রোগীর ছানি অপারেশন করার ব্যবস্থা করা হয়।

বরুড়ায় ৭৩ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

বরুড়ায় ৭৩ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

আগামী ২৮ জুন কুমিল্লার বরুড়ায়  ৭৩ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।বৃহস্পতিবার জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কতৃক আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় এ তথ্য জানানো হয়।সভায় আরো জানানো হয়, এবছর ৬ থেকে ১১ মাস বয়সের ৮ হাজার ৯০০ শিশু ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সের ৬৪ হাজার ৩০০ শিশুকে ৪০৮ টি ইপিআই সাবব্লক, ১ টি স্থায়ী কেন্দ্র সহ মোট ৪০৯ টি টিকা কেন্দ্রে ভিটামিন এ খাওয়ানো হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি"র সভাপতিত্বে এসব কথা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো: মাজেদুর রহমান। সভা অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ আহমদ সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

বরুড়ায় ২৬ জুন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির, অপারেশনসহ থাকবে নানা সুবিধা

বরুড়ায় ২৬ জুন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির, অপারেশনসহ থাকবে নানা সুবিধা

আগামী ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের মহিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হবে।বাংলাদেশ অন্ধকল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা ও চক্ষু হাসপাতাল শংকর, আলেখারচর, বিশ্বরোড, কুমিল্লার পরিচালনায় এবং বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকার ব্যবস্থাপনায় এই চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।শিবিরে চক্ষু রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হবে। এছাড়াও যেসব রোগীর অপারেশনের প্রয়োজন হবে, তাদেরকে সেদিনই চক্ষু হাসপাতালের নিজস্ব গাড়িতে কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হবে। রোগীদের জন্য যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, সেবাযত্ন এবং চশমা প্রদানের ব্যবস্থাও বিনামূল্যে করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বরুড়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। এসব সংগঠনের সদস্যরা যদি নিজ নিজ এলাকার চক্ষু রোগীদের সংগঠিত করে চিকিৎসা শিবিরে নিয়ে আসেন, তাহলে অধিকসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং মানবিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুস সামাদ সকল স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা শিবিরে নিয়ে আসার জন্য বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।যোগাযোগ:মোঃ আবদুস সামাদসাবেক সাধারণ সম্পাদকবরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকামোবাইল: ০১৭১৮-৫৬৯৭৮০

কচুয়ায় প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান

কচুয়ায় প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উপজেলার  বিতারা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরামের অর্থায়নে বিনামূল্যে  একটি অ্যাম্বুলেন্স  প্রদান  করা হয়েছে। ​শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) বিকেলে এ উপলক্ষ্যে স্থানীয় মাঝিগাছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এম্বুলেন্স  হস্তান্তর করা হয়। মানবিক এই মহতি উদ্যোগটির অর্থায়নে ছিলেন স্থানীয় মাঝিগাছা গ্রামের অধিবাসী  মো. কামরুজ্জামান মজুমদার (জামাল)।বিতারা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরামের উপদেষ্টা শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উক্ত হস্তান্তর অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রবাসী ভাইদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। দুর্যোগ ও জরুরি মুহূর্তে এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, অত্র এলাকার অসহায় ও দুস্থ রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করবে। স্থানীয়রা জানান, স্পেন প্রবাসী, বিতারা ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান মজুমদার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে। এই অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে স্বল্প খরচে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে রোগী পরিবহন করা যাবে। বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র, গর্ভবতী মা, জরুরি রোগী ও বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য এই সেবা হবে আশার আলো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খায়রুল আবেদীন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ এলাহি সুভাস, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল)মোঃ আব্দুল হাই চৌধুরী, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম, উত্তর কচুয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মিয়াজী, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, মো. মকবুল হোসেন পাটোয়ারী এবং মো. ইউসুফ খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।