রাজপথ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের নীরব দৃঢ়তার যাত্রা
ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় মঞ্চ, সেখান থেকে মন্ত্রীসভা এবং অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ-মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই দীর্ঘ পথচলা শুধুমাত্র একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি গোটা বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে সংগ্রাম, ধৈর্য, সংযম ও আদর্শিক স্থিরতা একসূত্রে গাঁথা। বৃহস্পতিবার সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শপথ গ্রহণ শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হয়েছেন। পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন যে ব্যক্তি, তার জীবনপথ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও নীরব দৃঢ়তারও পরীক্ষা।১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি তৎকালীন দিনাজপুরের (বর্তমান ঠাকুরগাঁও) এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম মির্জা ফখরুলের। পিতা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ। পরিবার থেকেই তিনি ন্যায়বোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের বীজ পেয়েছিলেন। ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ পায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এস. এম. হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তার বক্তব্য ছিল যুক্তিনির্ভর, সংযত ও আবেগঘন-যা পরবর্তী জীবনেও তার পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকে।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন। সংগঠক ও যোদ্ধা-উভয় ভূমিকাতেই অবদান রাখেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরেও দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও কাজ করেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান।১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) তে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে পরাজিত হলেও ২০০১ সালে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে পরাজয় এলেও দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। ২০১৮ সালে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও শপথ গ্রহণ না করায় আসনটি শূন্য হয়। সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তার নেতৃত্ব আরও বেশি প্রশংসিত। ২০০৯ সালে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। দলের কঠিন সময়ে গ্রেপ্তার, মামলা, আন্দোলন ও সাংগঠনিক সংকটের মধ্য দিয়েও তিনি সংযত কণ্ঠে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। অনেকেই তাকে “ভদ্র রাজনীতির প্রতীক” বলে অভিহিত করেন। তার ভাষা আক্রমণাত্মক নয়, কিন্তু অবস্থান দৃঢ়। সংসদীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের পক্ষে তিনি সর্বদা সোচ্চার থেকেছেন। সহিংসতার পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়াই তার কৌশলগত বৈশিষ্ট্য।ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই মেয়াদের দেড় বছর বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন। চলতি মাসের শুরুতে তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি তাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে প্রার্থী করে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, যিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সংসদে ভোটে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পান, অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ভূমিকার। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি ছিলেন দলীয় কণ্ঠস্বর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। বামপন্থী ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতা, মন্ত্রী, দীর্ঘ বিরোধী আন্দোলনের মুখ এবং অবশেষে রাষ্ট্রপতি-এই যাত্রা সহজ ছিল না। কিন্তু তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ধৈর্য, সহনশীলতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাই রাজনীতির প্রকৃত শক্তি।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবন কেবল একজন ব্যক্তির জীবনী নয়; এটি সংগ্রাম, আদর্শ ও নীরব দৃঢ়তার দীর্ঘ পথচলার দলিল।শুক্রবার সন্ধ্যা ৭.৩০ টায় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন অধ্যায় শুরু করছেন। দেশবাসী আশা করবে, তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবেও সেই একই সংযম, ন্যায়বোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনা ধরে রাখবেন, যা তাকে এতদূর এনেছে। রাজপথ থেকে বঙ্গভবন-এই যাত্রা যেন রাষ্ট্রের জন্যও শুভ হয়।লেখক : সাংবাদিক ও সংগঠক।
শূন্য-কার্বন কারখানায় জীবাশ্মবহির্ভূত শক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব
১৮ আগস্ট চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি "জাতীয় পর্যায়ে শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের আয়োজন ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি" জারি করেছে, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে শূন্য-কার্বন কারখানা (শূন্য-কার্বন কম্পিউটিং সুবিধাসহ) নির্মাণের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।শূন্য-কার্বন কারখানা কী? ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্বন নিউট্রালিটি ইনস্টিটিউটের ডিন হ্য খ্য পিন বলেন, একটি শূন্য-কার্বন কারখানা মানে একেবারে "শূন্য" কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন নয় বরং এর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কাঠামোগত সমন্বয় এবং ব্যবস্থাপনার সর্বোত্তমকরণের মতো পদ্ধতিগত নির্গমন হ্রাসকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্গমন হ্রাসের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগানো। বর্তমানে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে, এর লক্ষ্য হলো কারখানার সর্বনিম্ন সম্ভাব্য কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন বজায় রেখে, সর্বোচ্চ নির্গমন হ্রাস এবং ক্রমাগত উন্নতি অর্জন করা।শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণে শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষামূলকভাবে পথনির্দেশনা দেওয়ার জন্য, পাঁচটি বিভাগের যৌথভাবে জারি করা নির্দেশনামূলক মতামত থেকে শুরু করে, ‘শূন্য-কার্বন কারখানা ও শিল্প পার্ক নির্মাণ’-এর প্রস্তাবনাসম্বলিত ‘পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ এবং তারপরে ৫০০টি শূন্য-কার্বন কারখানার উন্নয়ন ও নির্মাণের সুস্পষ্ট উল্লেখসম্বলিত ‘শিল্পের সবুজ ও স্বল্প-কার্বন উন্নয়নের জন্য পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ পর্যন্ত—এই বছর ধারাবাহিক নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের কাজকে ক্রমাগতভাবে উত্সাহিত করছে।এই বিজ্ঞপ্তিটি শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণকে শীর্ষ-পর্যায়ের নকশা পর্যায় থেকে পূর্ণ বাস্তবায়নে উত্তরণের সূচনা করে। শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের শক্তি সংরক্ষণ ও সমন্বিত ব্যবহার বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, “বিজ্ঞপ্তিটি একটি পর্যায়ক্রমিক ও স্তরভিত্তিক উন্নয়ন-পদ্ধতি অনুসরণ করে, নির্মাণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি, সুস্পষ্ট নির্মাণ লক্ষ্য এবং একটি সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পথসহ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং কম্পিউটিং সুবিধাগুলোকে নির্বাচন করে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের নির্মাণ লক্ষ্যগুলো সম্পন্ন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। এগুলোকে মানদণ্ড হিসেবে কাজ করার জন্য জাতীয়-স্তরের শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণ তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”একটি শূন্য-কার্বন কারখানা দেখতে কেমন হবে? বিজ্ঞপ্তিটিতে তিনটি মূল সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে: প্রতি ইউনিট শক্তি ব্যবহারে কার্বন নির্গমন; জীবাশ্ম-বহির্ভূত শক্তি ব্যবহারের অনুপাত; এবং ভৌতভাবে যাচাইকৃত জীবাশ্ম-বহির্ভূত শক্তি থেকে বিদ্যুতের ব্যবহারের অনুপাত।তা ছাড়া, এই তিনটি মূল সূচকই শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের সম্পূর্ণতা নয়। একটি কারখানা জাতীয় পর্যায়ের শূন্য-কার্বন কারখানা হতে পারবে কি না, তার জন্য নির্মাণ কার্যকারিতা, কর্মপন্থার যৌক্তিকতা, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, ব্যবস্থাপনার মানসম্মতকরণ এবং চালিকাশক্তির মতো বিষয়গুলোর একটি ব্যাপক মূল্যায়ন প্রয়োজন।শূন্য-কার্বন কারখানা কীভাবে নির্মাণ করা উচিত? বিজ্ঞপ্তিটি একটি মূল্যায়ন সূচক পদ্ধতিকে নির্দেশিকা হিসেবে ব্যবহার করে, যা বৈজ্ঞানিক কার্বন গণনা, উত্স থেকে কার্বন হ্রাস, প্রক্রিয়াগত কার্বনমুক্তকরণ, সম্মিলিত কার্বন হ্রাস, এবং বুদ্ধিদীপ্ত কার্বন নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক দিক থেকে একটি বাস্তবায়ন পথের রূপরেখা দেয়।শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণের জন্য সম্মিলিত কার্বন হ্রাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। চায়নিজ ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রনিক্স-এর ডেপুটি সেক্রেটারি-জেনারেল ছাও শুয়েছিন জানান, কম্পিউটিং পাওয়ার ফ্যাসিলিটিগুলো চীনের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শক্তি-ব্যবহারকারী খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। ২০২৫ সালের মধ্যে কম্পিউটিং পাওয়ার ফ্যাসিলিটিগুলোর জন্য বিদ্যুতের খরচ মোট সামাজিক বিদ্যুতের খরচের প্রায় ১.৬% হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।শূন্য-কার্বন কারখানা তৈরির মূল পথ হলো বুদ্ধিমান কার্বন নিয়ন্ত্রণ। বিজ্ঞপ্তিতে একটি ডিজিটাল শক্তি ও কার্বন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ও পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে; এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট, ইন্টারনেট অফ থিংস, বিগ ডেটা ও ব্লকচেইনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।নির্মাণের মান কীভাবে নিশ্চিত করা যায়? বিজ্ঞপ্তিতে "নির্মাণ পরিকল্পনায় সময়োপযোগী সমন্বয় ও উন্নতি", "একটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা" এবং "নির্মাণের অগ্রগতির সময়োপযোগী পর্যবেক্ষণ"-এর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, শূন্য-কার্বন কারখানা নির্মাণে এককালীন মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেশনের পরিবর্তে, প্রযুক্তি, নির্মাণ এবং কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।সূত্র: লিলি-আলিম-সুবর্ণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অটোরিকশা, বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি
দেশের সড়ক এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে কোটি মানুষের স্বল্পমূল্যের যাতায়াত ও জীবিকার অবলম্বন, অন্যদিকে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অসহনীয় চাপ, রাজস্বের বিপুল ক্ষতি এবং সড়ক নিরাপত্তার ভয়াবহ সংকট। এই দ্বৈত রূপের নাম ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা তথাকথিত ‘বাংলার টেসলা’। একসময় প্রান্তিক মানুষের সাশ্রয়ী বাহন হিসেবে সমাদৃত এই যান আজ পরিণত হয়েছে এক অদৃশ্য ‘লোড-দানব’-এ।যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করছে। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতেই সংখ্যাটা ১৫ থেকে ২০ লাখের কাছাকাছি। প্রতিটি যানে সাধারণত ১২ ভোল্টের চার থেকে ছয়টি ব্যাটারি থাকে। টানা চার্জে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। সামগ্রিক হিসাবে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে শুধু এই খাতেই-যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ। বছরে এই পরিমাণ বিদ্যুতের আর্থিক মূল্য হাজার হাজার কোটি টাকা। অথচ এর সিংহভাগই আসে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। রাজধানীতে বৈধ চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা মাত্র কয়েক হাজার হলেও অবৈধ পয়েন্টের সংখ্যা ৪৮ হাজারেরও বেশি। ফলে সরকার প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে গ্যারেজ ও চার্জিং ব্যবসায় বছরে লেনদেন হচ্ছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। শুধু ঢাকায়ই প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকার লেনদেন চলছে।এই অপচয় কেবল রাজস্ব ক্ষতির বিষয় নয়। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়িয়ে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা বাড়াচ্ছে সাধারণ গ্রাহক ও শিল্পখাতে। রাতের অফ-পিক সময়েও চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে। পাশাপাশি সড়কে তৈরি হয়েছে এক সমান্তরাল অবৈধ পরিবহন ব্যবস্থা। নিবন্ধিত মোট যানবাহনের সংখ্যা যেখানে প্রায় ৬২ লাখ, সেখানে প্রায় সমান সংখ্যক অনিবন্ধিত তিন চাকার যান সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নিম্নমানের লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি, দুর্বল ব্রেকিং সিস্টেম এবং কোনো কারিগরি মানদণ্ড ছাড়াই তৈরি এই যানগুলো মহাসড়কে দ্রুতগতির বাহনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সড়ককে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পঙ্গু, গড় গতি কমছে, যানজট বাড়ছে। সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশে এই যানগুলোর দায় রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল শৃঙ্খলার অভাব নয়-দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা। বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান সতর্ক করেছেন যে, কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত থাকায় একে হঠাৎ নিষিদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন রাখার মাশুল দিচ্ছে পুরো রাষ্ট্র। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জোর দিয়েছেন সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে একযোগে কাজ করে দায়িত্ব ভাগ করে দিতে হবে।সমাধানের পথ অবশ্যই বাস্তবসম্মত হতে হবে। প্রথমত, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার অবাস্তব চিন্তা বাদ দিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রতিটি যানের জন্য ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও চালকের লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অবৈধ চার্জিং বন্ধে নির্ধারিত এলাকায় বৈধ চার্জিং স্টেশন স্থাপন করে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ও আলাদা ট্যারিফ চালু করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার শর্ত আরোপের কথাও উঠেছে-যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে। তৃতীয়ত, উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমবে এবং পরিবেশগত ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। মহাসড়ক ও প্রধান ধমনীতে এসব যানের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বিকল্প রুট নির্ধারণ জরুরি।ব্যাটারি রিকশা আজ একই সঙ্গে দরিদ্র মানুষের অর্থনীতির চাকা এবং রাষ্ট্রের জন্য এক নীরব সংকট। এই দ্বৈত বাস্তবতাকে অস্বীকার করে আর এগোানো যায় না। আজ যদি এই ‘ক্ষুদ্র যান’-এর লাগাম টেনে ধরে শৃঙ্খলার আওতায় আনা না যায়, তবে ভবিষ্যতে এটি জাতীয় বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থার জন্য অপূরণীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে। সময় এখন সিদ্ধান্তের-খণ্ডিত অভিযান নয়, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিনির্ধারণের।লেখক : সাংবাদিক ও সংগঠক।
মৃত সাংবাদিক পরিবারের হাতে সহায়তার চেক, বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
মোংলায় ৬০ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার প্রথম ধাপের কাজ, অক্টোবরে শুরু
আত্রাইয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
ঝিনাইদহে নাশকতা মামলায় সাবেক এমপি সহ গ্রেফতার ৫
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী মহড়া • মামলা সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন / পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকা’র উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ ফল উৎসব অনুষ্ঠিত
প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও
গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী