গাইড ও প্রাইভেটনির্ভর শিক্ষা : বাড়ছে অভিভাবকদের উদ্বেগ
জাতীয় শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবইকে শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হলেও বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডবই ও প্রাইভেটনির্ভর শিক্ষার প্রবনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ শুধু পাঠ্যবই পড়ে ভাল ফল করা কঠিন এমন একটি ধারণা ক্রমেই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে গাইড বই কেনা এবং সারা বছর প্রইভেট পড়া অনেক পরিবারের জন্য একপ্রকার বাধ্যতামূলক ব্যয়ে পরনিত হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়,অনেক শ্রেনিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্নন প্রকাশনীর গাইড বই ব্যবহার করে পাঠদান করা হচ্ছে। ফুলকুঁড়ি, পাঞ্জেরী, লেকচারসহ বিভিন্ন প্রকাশণীর গাইড বই শিক্ষার্থীদের হাতে বেশী দেখা গেছে। অনেক অভিভাবকের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট গাইড বই সংগ্রহে উৎসাহিত করা হয়। একাধিক অভিভাবক জানান, শুধু গাইড বই কিনলেই হয়না, অনেক শিক্ষক প্রাইভেট পড়ার প্রতি জোর দেন।তাদের আশঙ্কা , প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ভার ফল তো দুরের কথা, পাস করাও কঠিন। এ কারণেই মাসের পর মাস প্রাইভেট শিক্ষার খরছ বহন করতে হচ্ছে। নি¤œ আয়ের পরিবারের অভিভাবকদের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বই, কোচিং ও প্রাইভেটশিক্ষার অতিরিক্ত ব্যায় সামলানো তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। অনেকেই সংসারের অন্যান্য প্রয়োজন কমিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাচ্ছেন।এতে শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। এদিকে কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক প্রকাশনীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি বইয়ের চাপ সৃষ্টি করছেন। যদিও তারা এ অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোন প্রমান দেখাতে পারেননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবী জানান। তারা আরও বলেন, কিছু শিক্ষক ভোর থেকে বিদ্যালয় শুরুর আগ পর্যন্ত একাধিক ব্যাচে প্রাইভেট পড়ান। ফলে শ্রেণিকক্ষে এসে তারা আগের মতো মনোযোগ ও উদ্যম নিয়ে পাঠদান করতে পারেন না। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়া হলে তারা বলেন, প্রাইভেট পড়ানো ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে কোন সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই এবং তারা যথাথথ দায়িত্ব পালন করেন। অনেক শিক্ষক আরও বলেন গাইড বই কেবল সহায়ক উপকরণ ,পাঠ্যবইই শিক্ষার মূল ভিত্তি। শিক্ষাবিদদের মতে পাঠ্যবইকেন্দ্রিক শিক্ষা থেকে সরে গিয়ে গাইড ও প্রাইভেটনির্ভর ব্যবস্থা জোরদার হলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ,বিশ্লেষণী দক্ষতা ও স্বশিক্ষার অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরবিারের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহবায়ক সোনাইমূড়ী উচ্চ বিদ্যারয়ের প্রধান শিক্ষক প্রাণেশ্বর আচার্য বলেন, শিক্ষার মানোন্নায়নে শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইভিত্তিক কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা, গাইড বইয়ের ওপর অতিনির্ভরতা কমানো এবং প্রাইভেটনির্ভরতা হ্রাসে কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবইই শিক্ষার মূল উপকরণ। কোন শিক্ষার্থীকে গাইড বই কিনতে বাধ্য করা বা প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ লিখিতভাবে পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। আর বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হবে এবং প্রধান শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
বড় ঘোষণা তারেক রহমানের: আগামী জুনেই ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড
আগামী জুন মাসের মধ্যে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে আগামী পাঁচ বছরে ৪ কোটি পরিবারের নারী সদস্যদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা।সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।তিনি জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৭ হাজার পরিবারের নারী সদস্য ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের ৪ কোটি পরিবারের নারী সদস্যদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।তারেক রহমান বলেন, “জনগণ যতদিন বিএনপির পাশে থাকবে, ততদিন দেশের স্বার্থে কোনো বাধাকেই পরোয়া না করে কাজ করে যাবে বিএনপি।”শিক্ষাখাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। সেই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।এর আগে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখননকৃত সরিকল খালের পাশে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বন্যার্তদের পাশে সরকার: ৬৪ জেলায় ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও ৮,৯৫০ মেট্রিক টন চাল
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জরুরি মানবিক সহায়তা জোরদার করেছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে।মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। চার দফায় জেলার জন্য মোট ৬৫ লাখ টাকা এবং ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া বন্যাকবলিত অন্যান্য জেলার মধ্যে কক্সবাজারে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙ্গামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, খাগড়াছড়িতে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জে ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয়েছে। এভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া দেশের বাকি ৫৭টি জেলার প্রতিটির জন্য ৫ লাখ টাকা এবং ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এসব জেলার জন্য মোট ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ সংকটের দ্বৈত আঘাত: লোডশেডিংয়ের অন্ধকার, ভুতুড়ে বিল ও চুরির ছায়ায় জিম্মি জনজীবন
মোহাম্মদ আলী সুমন।
শিক্ষার আলো বনাম ডিজিটাল অন্ধকার: এহসানুল হক মিলনের সংস্কারের পথে ট্রলের বিষাক্ত ছায়া
মোহাম্মদ আলী সুমন।
স্বাস্থ্য খাতের মহাপতন-অবৈধ ক্লিনিকের বিষবৃক্ষ ও ভুল চিকিৎসার মৃত্যুফাঁদ
মোহাম্মদ আলী সুমন।
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?
গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী
এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব
বিদ্যুৎ সংকটের দ্বৈত আঘাত: লোডশেডিংয়ের অন্ধকার, ভুতুড়ে বিল ও চুরির ছায়ায় জিম্মি জনজীবন
শিক্ষার আলো বনাম ডিজিটাল অন্ধকার: এহসানুল হক মিলনের সংস্কারের পথে ট্রলের বিষাক্ত ছায়া
স্বাস্থ্য খাতের মহাপতন-অবৈধ ক্লিনিকের বিষবৃক্ষ ও ভুল চিকিৎসার মৃত্যুফাঁদ
ডিজিটাল লোভের অন্ধকার জাল: অনলাইন জুয়ায় ধ্বংসোন্মুখ যুবসমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিরোধ