মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

বিজ্ঞান গবেষণায় এআই ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ নোবেলজয়ী নোভোসেলভের

নোবেল পুরস্কারজয়ী পদার্থবিদ কনস্টান্টিন নোভোসেলভ সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপকে (সিএমজি) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গ্রাফিন প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতি, চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন।২০১০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাওয়া কনস্টান্টিন নোভোসেলভ গ্রাফাইট থেকে গ্রাফিন আলাদা করার যুগান্তকারী গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তিনি বলেন, গ্রাফিন প্রযুক্তি বর্তমানে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’-এর পর্যায়ে প্রবেশ করছে। প্রচলিত ক্ষেত্রে গ্রাফিনের ব্যবহার মূলত জ্বালানি, ইলেকট্রনিকস ও কম্পোজিট উপকরণে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন আলোক-ইলেকট্রনিকস ও দূরপাল্লার যোগাযোগ প্রযুক্তিতে এর প্রয়োগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাক্ষেত্রেও গ্রাফিনের গবেষণা দ্রুত এগোচ্ছে।চীনে গ্রাফিনের শিল্পায়ন প্রসঙ্গে কনস্টান্টিন নোভোসেলভ বলেন, চীনের বড় সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁচামাল সরবরাহের সক্ষমতা এবং বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি। চীনে গ্রাফিন প্রযুক্তির বিকাশ তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো দেশটির ধারাবাহিক ও পূর্ণাঙ্গ সরবরাহব্যবস্থা। তাঁর মতে, নতুন কোনো উপকরণ নিজে থেকেই সম্পূর্ণ সমাধান নয়; সেটিকে কোনো না কোনোভাবে সরবরাহশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়, আর চীন ইতোমধ্যেই এই সংযোগ গড়ে তুলেছে।চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন প্রসঙ্গে নোভোসেলভ বলেন, চীনের উন্নয়নের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছিল দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সময়। বিশেষ করে ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর দেওয়া গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চীনা গবেষকদের সঙ্গে বহু বছর ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, এসব নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে বাস্তব প্রযুক্তিগত সাফল্যে রূপ নিয়েছে, তা নিজের চোখে দেখতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে মহাকাশ প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই চীনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষ করে ব্যাটারি প্রযুক্তিকে তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্ষেত্রগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পেও চীন বিশ্বে অগ্রণী অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।বিজ্ঞান গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা প্রসঙ্গে নোভোসেলভ বলেন, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও সৃজনশীল চিন্তার ক্ষেত্রে মানুষের অন্তর্দৃষ্টি সবসময়ই মূল বিষয় হয়ে থাকবে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার এবং ইতোমধ্যে বিজ্ঞানের একাধিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তবে সৃজনশীল অনুসন্ধানের মূল পথটি ভবিষ্যতেও মানুষের হাতেই থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা সবসময়ই নতুন নতুন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন, কিন্তু সেগুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের অবশ্যই সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং কোনটি বাস্তব বৈজ্ঞানিক ফলাফল আর কোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি ‘ভ্রম’—তা শনাক্ত করতে হবে।আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়েও কনস্টান্টিন নোভোসেলভ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক কারণে অনেক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থমকে যাচ্ছে, যা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। তাঁর মতে, বিজ্ঞানের অগ্রগতি কখনোই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাই ভবিষ্যতেও বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে—এটাই তাঁর আন্তরিক প্রত্যাশা।চীনে তাঁর দীর্ঘদিনের সফর ও কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নোভোসেলভ বলেন, চীন এমন একটি দেশ, যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি পাশাপাশি বিকশিত হয়েছে এবং প্রদেশগুলোর মধ্যেও বড় ধরনের বৈচিত্র্য রয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রেও প্রতিবার নতুন কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় গেলে তিনি নতুন নতুন ‘লুকানো রত্ন’ এবং অসাধারণ গবেষণাকাজ আবিষ্কার করেন বলে জানান। তাঁর অনেক চীনা বন্ধু রয়েছেন, যাঁদের কেউ কেউ একসময় তাঁর ছাত্র ছিলেন। তাঁদের তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৎ এবং কাজে মনোযোগী হিসেবে বর্ণনা করেন। বর্তমানে তাঁদের গবেষণাগারে গিয়ে তাঁদের কাজ দেখতে পারা তাঁর কাছে সত্যিই প্রশংসনীয় অভিজ্ঞতা।নিজের ৩৬ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তরুণদের জন্য কনস্টান্টিন নোভোসেলভের পরামর্শ হলো—নিজের অন্তরের প্রতি সৎ থাকা এবং নিজের মূল লক্ষ্য ও প্রেরণাকে ধরে রাখা। তিনি বলেন, মানুষ খুব সহজেই নানা ধরনের প্রচার ও সময়ের প্রবণতার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিজের পথ থেকে সরে যেতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানচর্চার মূল উদ্দেশ্য হলো এর মধ্য থেকে আনন্দ খুঁজে পাওয়া। তাঁর মতে, এই আনন্দই সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়।ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য একটি নতুন উপকরণ তৈরি করার সুযোগ পেলে কনস্টান্টিন নোভোসেলভ এমন একটি উপকরণ তৈরি করতে চান, যা কোনো না কোনোভাবে জীবন্ত ব্যবস্থার মতো আচরণ করবে। তাঁর মতে, এ ধরনের উপকরণ তৈরি করা গেলে জীবন্ত ব্যবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার ক্ষেত্রে মানবজাতি আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবে।সূত্র: শিশির, আলিম, আকাশ, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী : বিশ্বে ইতিবাচক শক্তি যোগাতে চায় চীন: সি চিন পিং

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের মহাগণভবনে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, চীনের প্রেসিডেন্ট ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান সি চিন পিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।সি চিন পিং বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা তার বিপুল শক্তি ও সুবিধা প্রদর্শন করেছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা ও শাসনক্ষমতার আধুনিকায়নের মান ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে এবং চীনা জাতির মহান পুনরুত্থানের গতি অপ্রতিরোধ্য।’সি চিন পিং বলেন, ‘আমরা যদি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস রাখি, লক্ষ্য স্থির রাখি এবং ধাপে ধাপে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাই, তবে সাফল্য অবশ্যই মহান চীনা কমিউনিস্ট পার্টি, মহান চীনা জনগণ এবং মহান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের হবে।’চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। চাও ল্যচি, ওয়াং হুনিং, ছাই ছি, তিং শুয়ে শিয়াং, লি সি ও হান চেং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৮০০ জন চীনা ও বিদেশি অতিথি একত্রিত হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জন্মদিন উদযাপন করেন।মহাগণভবনের ভোজকক্ষে ঝাড়বাতির আলোয় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মঞ্চের ওপরে শোভা পাচ্ছিল গম্ভীর জাতীয় প্রতীক। আর লাল পতাকার পটভূমিতে ‘১৯৪৯-২০২৬’ সালটি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল।অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শুরু হলে সবাই দাঁড়িয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। বীরত্বপূর্ণ ‘স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর কুচকাওয়াজ’ সংগীতের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সভাকক্ষ।এরপর সি চিন পিং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।প্রথমে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটি ও রাষ্ট্রীয় পরিষদের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জনগণ, চীনা গণমুক্তি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দল এবং দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।তিনি হংকং ও ম্যাকাও বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের স্বদেশবাসী, তাইওয়ানের স্বদেশবাসী এবং বিদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চীনের নির্মাণ ও উন্নয়নকে সমর্থন করে আসা বন্ধুপ্রতিম দেশ ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।সি চিন পিং উল্লেখ করেন, ৭৭ বছর ধরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে নেতৃত্ব দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। এর ফলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতার দুটি বড় অর্জন হয়েছে। সর্বাত্মকভাবে সচ্ছল সমাজ গঠনের প্রথম শতবর্ষের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং সমাজতান্ত্রিক আধুনিক শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় শতবর্ষের লক্ষ্যের দিকে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা নতুন চীনের বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণকারী অর্জনে অত্যন্ত গর্বিত এবং চীনা শৈলীর আধুনিকীকরণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।’সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, ‘চলতি বছর থেকে সারা পার্টি ও দেশের জনগণ উদ্যম ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলছে। চাপের মধ্যেও আমাদের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে, নতুন ও উন্নত দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা ও প্রাণশক্তি প্রদর্শন করছে। পার্টি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাজে নতুন অগ্রগতি অর্জন হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই স্থিতিশীলতার মধ্যে অগ্রগতির মূল সুর বজায় রাখতে হবে, নতুন উন্নয়ন ধারণা সম্পূর্ণ, সঠিক ও ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, নতুন উন্নয়ন কাঠামো দ্রুত গড়ে তুলতে হবে, সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ আরও গভীর করতে হবে এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় করতে হবে।’সি বলেন, ‘একই সঙ্গে অর্থনীতিকে ধারাবাহিকভাবে আরও উন্নত করতে হবে, জনগণের জীবনযাত্রার মান কার্যকরভাবে সুরক্ষা ও উন্নত করতে হবে, বছরের নির্ধারিত লক্ষ্য ও কাজ সম্পন্ন করতে হবে এবং পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার একটি সুষ্ঠু সূচনা নিশ্চিত করতে হবে।’হংকং ও ম্যাকাও সম্পর্কে সি চিন পিং বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’, ‘হংকংয়ের মানুষ হংকং শাসন করবে’, ‘ম্যাকাওয়ের মানুষ ম্যাকাও শাসন করবে’ এবং উচ্চমাত্রার স্বায়ত্তশাসনের নীতি দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। হংকং ও ম্যাকাওকে জাতীয় উন্নয়নের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত হতে ও এতে অবদান রাখতে সহায়তা করতে হবে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।’তিনি বলেন, ‘দুই তীরের মধ্যে আদানপ্রদান ও সহযোগিতা গভীর করতে হবে, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ চাওয়া বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে দৃঢ়ভাবে আঘাত করতে হবে, বাহ্যিক শক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে হবে, দুই তীরের সম্পর্কের শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে এবং মাতৃভূমির পুনঃএকীকরণের মহান কাজ এগিয়ে নিতে হবে।’সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই স্বাধীন ও স্বতন্ত্র শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে হবে, চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে হবে, মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গঠন এগিয়ে নিতে হবে এবং পরিবর্তন ও বিশৃঙ্খলায় ভরা বিশ্বে আরও নিশ্চয়তা ও ইতিবাচক শক্তি যোগাতে হবে।’অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আনন্দময় সংগীতের সুরে চীনা ও বিদেশি অতিথিরা একসঙ্গে পানপাত্র তুলে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উদযাপন করেন। তারা চীনের সমৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিশালী ভবিষ্যৎ, জনগণের সুখ ও কল্যাণ কামনা করেন এবং চীনা জনগণের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণের চিরস্থায়ী বন্ধুত্বের শুভকামনা জানান। সূত্র: স্বর্ণা, ফয়সল, লিলি, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী : বিশ্বে ইতিবাচক শক্তি যোগাতে চায় চীন: সি চিন পিং

বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে ‘৩০ বিলিয়ন বনাম ৩০ বিলিয়ন’ কাঠামো

২০২৬ সালের মে মাসে বেইজিংয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সরকারি পর্যায়ের একটি বাণিজ্য পরিষদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এরপর ২০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অষ্টম দফা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চীন-মার্কিন বাণিজ্য পরিষদের কার্যপ্রণালি, ‘৩০ বিলিয়ন বনাম ৩০ বিলিয়ন’ সমতুল্য শুল্ক হ্রাস কাঠামোর দায়িত্ব ও কার্যপ্রণালির নির্দেশিকা এবং শুল্ক হ্রাসের আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই পক্ষ। কার্যপ্রণালি অনুযায়ী, বাণিজ্য পরিষদের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও উন্নত করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করা এবং বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় সমাধান করা। ধারণা করা হচ্ছে, চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং মতপার্থক্যের বিষয়গুলো কমিয়ে আনতে বাণিজ্য পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ও প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য পরিষদের কাঠামোর অধীনে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য শুল্ক হ্রাস কাঠামো নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে, ২০২৪ সালের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণের ভিত্তিতে প্রত্যেক পক্ষের প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের আমদানি পণ্যের ওপর নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ আইন ও বিধি অনুযায়ী সমতুল্য হারে শুল্ক হ্রাসের সুবিধা দেওয়া হবে। এর আওতাভুক্ত ৯০ শতাংশেরও বেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিকভাবে আরোপিত সব অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে এবং এসব পণ্য সর্বাধিক অনুকূল শুল্ক সুবিধা পাবে। দুই পক্ষ নিজ নিজ বাজারের চাহিদা ও শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমতুল্য শুল্ক হ্রাসের আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকা নির্ধারণ করেছে। চীন থেকে আমদানি করা খেলনা, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, শিশুদের পণ্য, রান্নাঘর ও বাথরুমের সামগ্রী এবং উৎসবের উপহারসহ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কৃষিপণ্য, ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কয়লাসহ প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে চীন। দুই পক্ষ নিজ নিজ শুল্ক হ্রাসের আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকা যৌথভাবে প্রকাশ করতে সম্মত হয়েছে। এরপর নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একই সময়ে শুল্ক হ্রাস কার্যকর করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। পাশাপাশি, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটাতে কৃষিপণ্য, জ্বালানি, শিল্পপণ্য ও ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারেও এটি সহায়ক হবে। এ ছাড়া, দুই পক্ষ বাণিজ্য পরিষদের অধীনে একটি কৃষি কার্যকারী দল গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। কার্যকারী দলটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বাজারে প্রবেশাধিকারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে, বাণিজ্যসংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলা করবে এবং কৃষি ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করবে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দলটির প্রথম বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। চীন জানিয়েছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট উদ্বেগগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সূত্র: স্বর্ণা, ফয়সল, লিলি, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়তে সব দেশের সঙ্গে কাজ করবে

বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে ‘৩০ বিলিয়ন বনাম ৩০ বিলিয়ন’ কাঠামো
রোডক্র্যাশে তরুণদের হতাহত বেশি, সড়ক নিরাপত্তা আইন চায় তারা

রোডক্র্যাশে তরুণদের হতাহত বেশি, সড়ক নিরাপত্তা আইন চায় তারা

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় (রোডক্র্যাশ) তরুণ ও যুবকেরা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরুণদের সম্পৃক্ততা ও হতাহতের হার বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তরুণদের একটি বড় অংশ মোটরসাইকেল ব্যবহার করায় অতিরিক্ত গতি, হেলমেটের সঠিক ব্যবহার না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ বিভিন্ন কারণে তারা সড়কে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে তরুণদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ যানবাহন, মানসম্মত হেলমেট, সিটবেল্ট এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবাকে সমন্বিত করে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।‘সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের পক্ষে তরুণদের আহ্বান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবি উঠে আসে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।সভায় নিরাপদ যানবাহন, গতি নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত হেলমেট এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা নিয়ে প্যানেল আলোচনা হয়। পাশাপাশি ‘রোড সেফটি আইন কেন দরকার ও তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেশনে সড়ক নিরাপত্তায় তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহার সঞ্চালনায় কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সদস্য মো. ইস্তিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সদস্য মো. ইফরাত হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কারী মো. আরমান হোসাইন রায়েদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য নওশীন নাওয়ার আচল।আলোচনায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণদের ঝুঁকির চিত্রও উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিএইচও) হিসাবে, সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী ৫–২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ। অতিরিক্ত গতি, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে অনীহা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা ও জরুরি সেবা না পাওয়ায় দুর্ঘটনার ক্ষতি বেড়ে যেতে পারে। তাই সড়ক নিরাপত্তায় যানবাহন, গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ব্যবহারকারীর আচরণ এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।তারা আরও বলেন, আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তরুণদের মতামত ও উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একমত চীন-যুক্তরাষ্ট্র

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত সিয়ে ফেং।নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ১১ বছর পর সি চিন পিংয়ের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর এবং দুই দেশের প্রেসিডেন্টের পারস্পরিক সফর চীন-মার্কিন সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও উন্নত করার সুযোগ তৈরি করেছে।রাষ্ট্রদূত সিয়ে ফেং বলেন, সফরে দুই দেশ পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে কৌশলগতভাবে স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে।তিনি জানান, সফরের গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি।এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। এ লক্ষ্যে চীন-মার্কিন এআই সংলাপ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ। এআইয়ের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী নভেম্বর ২০২৬-এ এর পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, এআই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন কোনো সংঘাতের ক্ষেত্র না হয়ে বরং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।উল্লেখ্য, ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন সি চিন পিং। এর আগে মে মাসে চীনের বেইজিং সফর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।নাহার/শুভ, সিনহুয়া।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির তিন সংগঠনের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

চাঁদপুর জেলা বিএনপির তিন সংগঠনের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর( শুক্রবার ) চাঁদপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে মিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চাঁদপুরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। অনুষ্ঠিত মিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমদ মানিক। সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমদ মানিক বলেন, চাঁদপুর জেলায় যারা  শান্তিতে ঘুমিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত  সংগঠনের মিছিলে যোগদান করেন তারা এখনো বোকার স্বর্গে বাস করতেছেন ।আপনারা যারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন  ঘোষিত নানা দাবী করেন তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য যা যা দরকার আমরা তাই করবো। চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিকের সভাপতিত্ব এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের এডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সিনিয়র শামসুল আরেফিন খানের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সলিমুল্লাহ সেলিম, চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মাসুদুর রহমান মাঝি ,পৌর যুবদলের খোকা, চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল মান্নান খান কাজল ,সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম সূর্য ,,সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান খান কাজল, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু হানিফ কাকন পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক দলের  আহ্বায়ক শফিউদ্দিন বাবলু প্রমুখ। আরো  উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ,পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  এডভোকেট হারুনুর রশিদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন বেপারী সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফ উদ্দিন পলাশ ,জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সালা আহমেদ বাহার ,জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারী  ,সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগসহ বিএনপি যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দল ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন নেতাকর্মীরা। পরিশেষে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি আবার পুনরায় চাঁদপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ফিরে আসেন এবং শেষ করেন।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন

বরুড়ায় এ কে এম আবু তাহের আন্ত উপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

বরুড়া কুমিল্লা, বরুড়ায় এ কে এম আবু তাহের আন্ত-উপজেলা  ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৩শে সেপ্টেম্বর বিকাল তিনটায় বরুড়া পৌরসভার তলাগ্রাম ত.চ. লাহা উচ্চ বিদ্যালয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সাবেক সাংসদ মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের সন্তান কুমিল্লা দঃ জেলা বিএনপির সভাপতি ও গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও  গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। উল্লেখ্য এ কে এম আবু তাহের ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় কুমিল্লা  ইলেভেন স্টার ক্লাবের সার্বিক সহযোগীতায় বরুড়ার তলাগ্রাম ত.চ লাহা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ মাঠে একযোগে কুমিল্লা জেলার সকল উপজেলার একটি করে দল চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহন করবে।প্রাথমিক পর্বে সকল দলের মোট  ৩৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং চার গ্রুপের চ্যান্পিয়ান ও রানারআপ দল কোয়াটার ফাইনালে উত্তির্ন হয়ে, সেমিফাইনাল  ও ফাইনাল মিলে সর্বমোট ৪২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্টে। আগামী ১৬ই অক্টোবর দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে ফাইনালের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি, সহকারী কমিশনার ভুমি আহসান হাফিজ,  বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম,  সহসভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু,সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন,  বরুড়া পৌরসভার বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজুল ইসলাম সহ প্রমুখ।

ভারতীয় সনদে সরকারি চাকরি করছেন প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ

ভারতীয় সনদে সরকারি চাকরি করছেন প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পুকুর ইজারায় নিয়ম না মানা, আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে তসরুপ, মুভমেন্ট রেজিস্টার না থাকা, অনলাইন এবং শ্রেণী ভিত্তিক রেজিস্টার খাতায় শিক্ষার্থীর সংখ্যার অমিল, একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীকে একই কক্ষে পাঠদান এবং নিয়মিত পাঠদান ও শ্রেণি পর্যবেক্ষণ না করা,স্লিপ এর অর্থ ভুয়া বিল ভাউচারে উত্তোলন, ভারতীয় সনদ ব্যবহার করে  চাকরিতে  যোগদানের অভিযোগ উঠেছে খোদ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রমাণাদি ইতিমধ্যে প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বিদ্যালয়টিতে প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ৪৪ জন হলেও মাসিক রিটার্নে দেখানো হয়েছে ৫৯ জন। মূলত কাগজে-কলমে ভুয়া ১৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও  বাস্তবে বিদ্যালয়ে তাদের কোন অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ প্রায় ৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য  ১ জন করে  সর্বমোট ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন বিদ্যালয়টিতে।জানা যায়, বিদ্যালয়টির প্রাক শ্রেণীতে ৮ জন থাকলেও রিটার্নে দেখানো হয়েছে ১৪ জন।  প্রথম শ্রেণীতে ১৩ জন রিটার্নে এবং  বাস্তবেও  আছে ১৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ৫ জন থাকলেও  রিটার্নে ৭ জন দেখানো হয়েছে । তৃতীয় শ্রেণীতে রিটার্নে ১০ জন বাস্তবে আছে ৮ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে রিটার্নের ৯ জন দেখানো হলেও আছে ৭ জন, সর্বশেষ পঞ্চম শ্রেণীতে রির্টানে উল্লেখ আছে ৬ জন কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রাক থেকে ইয়ামিন এবং প্রথম শ্রেণী থেকে ইয়াসিন ও রমজান নামের দুইজন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয় থেকে মাদ্রাসায় গিয়ে ভর্তি হলেও সরকারি বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়নি আজও। সরকারি বিধিকে উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী কম থাকলেও বেশি দেখিয়ে এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ পরিচালনা করে আসলেও দায়িত্বরত উপজেলা সহকারী  শিক্ষা অফিসার নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পিয়ার মোহাম্মদ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯০ সালে যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশের সনদ ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়। পশ্চিমবাংলার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯৮৮ সালে আলিম এবং ১৯৯০ সালে  ফাজিল পরীক্ষার সনদের কপি জমা দিয়েছিলেন তিনি । বাংলাদেশের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে তার ব্যবহারিত ভারতীয় সনদের সত্যতা এবং তা যথাযথ নিয়ম অনুসারে এবং বৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী যেকোনো বিদেশি ডিগ্রিধারী চাকরি প্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (ইউজিসি বা শিক্ষা বোর্ড) থেকে সমতা সনদ বা 'ইকুইভ্যালেন্সি সার্টিফিকেট' জমা দিতে পারেন, তবে তিনি সরকারি চাকরির জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এক্ষেত্রে পিয়ার মোহাম্মদ সমতা সনদ জমা দিয়েছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায় , ২০২৪ সালের পুকুর ইজারা বাবদ পাওয়া অর্থের যথাযথ হিসাব  না থাকা এবং  একইভাবে ২০২৬ সালে পুকুর ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে পছন্দের ব্যক্তিকে ইজারা দাওয়া হয়। ইজারা দেওয়ার পর বিষয়টি বৈধতা দেওয়ার জন্য পরবর্তী সময়ে ব্যাকডেটে রেজুলেশন তৈরি করে অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন, ব্যাংক হিসাব, ইজারা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অর্থ জমার সময় যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫-'২৬ অর্থ বছরে স্লিপের টাকা খরচ দেখিয়ে বিভিন্ন ভুয়া বিল ভাউচারে প্রধান শিক্ষক নিজের হাতে লিখে টাকা উত্তোলন করেছেন। ওইসব বিল ভাউচার পর্যালোচনা করে দেখা যায় কালীগঞ্জে অবস্থিত তুষার ইলেকট্রিক থেকে পেপার এবং প্রিন্টার মেশিনের  টোনার কেনা হয়েছে। অথচ ওই দোকানে এধরনের মালামাল বিক্রি হয় না। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে একজন মেয়ে শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে কর্মরত অবস্থায় পেটানোর  ঘটনায় তিনি  সাময়িক বরখাস্ত হন এবং ওই পরিবারের লোক তার নামে থানায় মামলা করেন। উক্ত ঘটনায় শাহ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং জামিনে মুক্ত হয়ে  প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুত সি আর ৫২ / ২০২৬ এ একটি মামলা দায়ের করেন। সিরিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত বিচার আদালত ঝিনাইদহ উক্ত মামলাটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তপূর্বক ১৪ ডিসেম্বর  প্রতিবেদন  দাখিলের আদেশ প্রদান করেন। বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম এবং চাকরিতে যোগদানে ভারতীয় সনদ ব্যবহারের  বিষয়ে প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয় টিকিয়ে রাখতে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী বেশি দেখানো হয়েছে। স্লিপের টাকা নিয়ম মেনে খরচ করা হয়েছে। পুকুর ইজারা দেওয়া এবং সেখান থেকে আয় হওয়া অর্থ ব্যয়ে কোন অনিয়ম করা হয়নি। বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার ভারতীয় সনদ যথাযথ নিয়ম মেনেই ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিপূর্বে তা কর্তৃপক্ষ একাধিকবার যাচাই-বাছাই করলেও কোন ত্রুটি পায়নি। সহকারী শিক্ষক শাহ আলম ও একজন শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতেই শাহ আলম কোর্টে মামলা করেছেন, যে বিষয়টি ইতিমধ্যে আমি জেনেছি। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে ওই বিষয়েও সুষ্ঠু মীমাংসা  হয়ে যাবে।কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা, রিটার্ন, পুকুর ইজারা, আয়-ব্যয়ের হিসাব, স্লিপের অর্থ ব্যয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে দেখা হবে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তের বিষয়টিও যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে।”ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের শিক্ষাগত সনদ ও চাকরিতে যোগদানের সময় ব্যবহৃত কাগজপত্র নিয়েও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।”

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সাথে শেরপুরের সংস্থাসমূহের নির্বাহী পরিচালকগদের সাক্ষাৎ

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সাথে শেরপুরের সংস্থাসমূহের নির্বাহী পরিচালকগদের সাক্ষাৎ

বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের শেরপুর জেলার সহযোগী সংস্থাসমূহের নির্বাহী পরিচালকগণ  ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মোঃ মোরতাজুল করিম বাদরুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সহযোগী সংস্থাসমূহ দারিদ্র্য বিমোচনে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে  এনজিও ফাউন্ডেশনের সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে। এ সময় সহযোগী সংস্থাসমূহের চেয়ারম্যানকে ক্রেষ্ট প্রদান করেন। আলাপকালে সংস্থাসমূহের প্রধান নির্বাহীরা  জানান তাঁরা স্বচ্ছতার সাথে ফাউন্ডেশনের অনুদানে গাভি পালন, ছাগল বিতরণ, স্যানিটেশন, মাদক নিরাময়সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।  এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজ থেকে যেমন দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে তেমনি আত্ম-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টি করে আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠনে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এজন্য তারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সাক্ষাতে উপস্থিত সহযোগী সংস্থাসমূহের মধ্য সেন্টার ফর অ্যাডভান্সডমেন্ট প্রোগ্রাম (ক্যাপ), সেবা পরিষদ ( এসপি), সবুজ বাংলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা, সুনীতি সংঘ, স্ব-নির্ভর নারী কল্যান সংস্থা, পল্লী উন্নয়ন সংস্থা, ভোরের আলো মহিলা সংস্থা, মহিলা ও শিশু পুনর্বাসন সংস্থা, দিশারী পৌর পল্লী সংস্থা, গ্রামীণ কল্যান সংস্থা, অভীষ্ঠ গণ উন্নয়ন সংস্থা, এক্স-সোলজার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ

কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু শনাক্তের কীট সংকট দেখা দেওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এতে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৮২ জন রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ জনের ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।➡️ সাধারণ রোগীরা সেবা বঞ্চিত➡️  বাড়তি খরচে ➡ বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে➡️ কীট না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা প্রমাণিত সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ক্ষেত্রে রোগীদের তুলনামূলক কম খরচ হয়। এনএস ১ ধরনের ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়। এছাড়া আইজিএমও আইজিজি ধরনের ডেঙ্গু পরীক্ষা সরকারি নির্ধারিত ১০০ টাকা ফি দিয়ে করা যায়। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই ধরনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে রোগীদের প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ কালীগঞ্জ হাসপাতালে দুই দিন যাবত কীটের অভাবে ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.আমানুল্লাহ আল মামুন   এ ব্যাপারে নেননি  কোন ব্যবস্থা। সঙ্গত কারণেই এই কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কীটের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো নতুন করে কীট সরবরাহ করা হয়নি।ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করাতে আসা রোগী শাহাদত হোসেন বলেন, “চিকিৎসক ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে বলেছেন। কিন্তু ল্যাবে কীট না থাকায় পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।” ডেঙ্গু নিয়ে সরকার চিন্তিত হলেও কালীগঞ্জ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে যারা শিথিলতা দেখিয়েছেন তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরী বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাদেরও পর্যাপ্ত কীট ছিল। সেখান থেকে কিছু কীট অন্য উপজেলায় ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে সংকট দেখা দিয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আবার কীটের মজুত হবে এবং ডেঙ্গু পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।”

বরুড়ায় বহু প্রতীক্ষিত মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

বরুড়ায় বহু প্রতীক্ষিত মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে বিষয়ভিত্তিক আধুনিক চিকিৎসাসেবায় সমৃদ্ধ *মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের* শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।বুধবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি।বরুড়া উপজেলার মানুষের জন্য উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।মরহুম এ কে এম আবু তাহে'র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছিন। একই সঙ্গে হাসপাতালটি যেন মানুষের কল্যাণে কার্যকর ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান ডাঃ মোহাম্মদ জুলকারনাইন  মজুমদারের সভাপতিত্বে ও উপসহকারী মেডিকেল অফিসার এটিএম গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ রেজা মোহাম্মদ সারোয়ার আকবর, বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি, বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম, সহসভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু সহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, মাদক একটি এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।তিনি বলেন, বরুড়ায় শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন।জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের জন্য দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের দিয়েও তিনি বিরতিহীনভাবে কাজ করিয়ে যাচ্ছেন এবং নিয়মিত কাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন। আমরা বরুড়ার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”হাসপাতালটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। প্রয়াত এ কে এম আবু তাহেরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি। হাসপাতালটি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরুড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ, বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকসহ চিকিৎসক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি পদায়নকৃত চিকিৎসক রয়েছেন একজন, সংযুক্ত চিকিৎসক দুইজন, সিনিয়র স্টাফ নার্স তিনজন, উপসহকারী মেডিকেল অফিসার দুইজন, ওয়ার্ডবয় একজন এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট একজন। সীমিত জনবল নিয়েই প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, শুরুর দিকে হাসপাতালে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে না এবং সার্জারি কার্যক্রমও চালু হচ্ছে না। প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কচুয়া  হাসপাতালে ৫০ বেডে ৮৮ রোগীর  চিকিৎসা চলছে!

কচুয়া হাসপাতালে ৫০ বেডে ৮৮ রোগীর চিকিৎসা চলছে!

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা বিছানা (বেড) না পেয়ে বারান্দায়ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- চাঁদপুরের এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বেড রয়েছে মাত্র  ৫০ টি। কিন্তু  ওইদিন (সোমবার) ৮৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।তার মধ্যে পুরনো ভর্তি রোগীও ছিলো। অর্থাৎ গত ২৪ ঘন্টায় ৮৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত  বেড না থাকায় হসপিটাল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বারান্দায় ও মেঝেতে চিকিৎসা দিচ্ছেন।সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোর ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সম্প্রসারনের উদ্যোগ নিয়েছে । সরকারের এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এই উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবার দুর্ভোগ লাগব হবে। প্রসঙ্গত :এই উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ লোকের বসবাস রয়েছে।  কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ( ইউএইচও) ডাক্তার মোহাম্মদ সোহেল রানা জানিয়েছেন -এটা প্রায় প্রতিদিনকার চিত্র। তবুও তারা সাধ্যমত মানুষকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষদের শহরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা কষ্টসাধ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা: কচুয়ায় রেনেঁসা ও সেবা ডায়াগনস্টিককে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা: কচুয়ায় রেনেঁসা ও সেবা ডায়াগনস্টিককে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০,০০০/- (ষাট হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।​অভিযানে লাইসেন্স বা মানদণ্ড ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা, অপারেশন থিয়েটারে বা হাসপাতালে চরম অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ রাখা, অযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার দায়ে রেনেঁসা মেডিকেল সেন্টারকে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা প্রতারণা সহ্য করা হবে না। চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং ভেজাল বা অনিয়ম রোধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু নাছির, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোঃ  জাহিদ হোসাইন এবং সাচার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা প্রমুখ।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ

কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু শনাক্তের কীট সংকট দেখা দেওয়ায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এতে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৮২ জন রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ জনের ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।➡️ সাধারণ রোগীরা সেবা বঞ্চিত➡️  বাড়তি খরচে ➡ বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে➡️ কীট না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা প্রমাণিত সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ক্ষেত্রে রোগীদের তুলনামূলক কম খরচ হয়। এনএস ১ ধরনের ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়। এছাড়া আইজিএমও আইজিজি ধরনের ডেঙ্গু পরীক্ষা সরকারি নির্ধারিত ১০০ টাকা ফি দিয়ে করা যায়। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই ধরনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে রোগীদের প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ কালীগঞ্জ হাসপাতালে দুই দিন যাবত কীটের অভাবে ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.আমানুল্লাহ আল মামুন   এ ব্যাপারে নেননি  কোন ব্যবস্থা। সঙ্গত কারণেই এই কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কীটের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো নতুন করে কীট সরবরাহ করা হয়নি।ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করাতে আসা রোগী শাহাদত হোসেন বলেন, “চিকিৎসক ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে বলেছেন। কিন্তু ল্যাবে কীট না থাকায় পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।” ডেঙ্গু নিয়ে সরকার চিন্তিত হলেও কালীগঞ্জ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে যারা শিথিলতা দেখিয়েছেন তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরী বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাদেরও পর্যাপ্ত কীট ছিল। সেখান থেকে কিছু কীট অন্য উপজেলায় ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে সংকট দেখা দিয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আবার কীটের মজুত হবে এবং ডেঙ্গু পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।”