মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অবৈধ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। সাইবার ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনস শাখার একটি চৌকস আভিযানিক দল। গ্রেফতারকৃতদের  নাম-  (১) মো. আলা উদ্দিন (৪২), পিতা- মো. আবুল কালাম, সাং- জিলতলী, দাঁতমারা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম, (২) শাহাদাৎ হোসেন (৩২), পিতা- ইয়াকুব আলী, সাং- কুরুয়া, পোস্ট- কমর আলী, থানা- মীরসরাই, চট্টগ্রাম এবং  (৩) মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮), পিতা- মৃত শামসুদ্দিন, সাং- বাঁশবাড়ী, পোস্ট- সৈয়দপুর, থানা-সৈয়দপুর, জেলা- নীলফামারী। চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে  তাদের গ্রেফতার করে সাইবার ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনস শাখার একটি চৌকস আভিযানিক দল। অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অবৈধ অর্থপাচারের মতো অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ০৫টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময়  কিছু চক্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করছে মর্মে দেখতে পায়। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছিল। এই প্রেক্ষিতে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায়  মামলা নং-৪১, তারিখ: ১৬/১১/২০২৫ খ্রি.,  ধারা- সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ২০(২)/২১(২)/২৩(২)/২৪(২)/২৭(২)/২৯ রুজু করা হয়।মামলাটির তদন্তে জানা যায়, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। তদন্তে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে অনলাইন বেটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল।তদন্তে আরও জানা যায়, জুয়ার সাইটগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা বট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। চক্রটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার ও পরিবর্তন করত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব নম্বর সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো।তদন্তে আরও প্রতীয়মান হয়েছে যে, অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি’র মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিএসডি সার্কুলার নং-০৭, তারিখ: ২৮/০৫/২০২৫ খ্রি. অনুযায়ী অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু অনলাইন গ্যাম্বলিং চক্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান উক্ত নির্দেশনা প্রতিপালন না করে অপরাধকর্ম পরিচালনা করছিল। পরবর্তীতে সিআইডির একটি চৌকস দল চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত (১) মো. আলা উদ্দিন (৪২), (২) শাহাদাৎ হোসেন (৩২) ও (৩) মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮) কে  পুলিশ রিমান্ড আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিরাপদ ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের জোর সুপারিশ জানানো হয়েছে।  বুধবার (২০ মে) দুপুর ১ টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে “রোডক্র্যাশ রোধে নিরাপদ ঈদযাত্রায় করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এই সুপারিশ জানানো হয়। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারি শারমিন রহমান সরকারের প্রতি জরুরি কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ঈদযাত্রাকালীন রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এছাড়াও ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত করা, স্পিডগানের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, টোল প্লাজায় দ্রুত ডিজিটাল বুথ চালু এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হয়।সভায় শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ)’র সাধারণ সম্পাদক ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)’র বিশেষ প্রতিনিধি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম হাইওয়েতে রোডক্র্যাশ কমাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েনসহ বাসটার্মিনাল থেকে যাতে কোনো ফিটনেসবিহীন বাস বের হতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্ছান শিপু বলেন, ঈদের সময় টোলপ্লাজায় বা ব্রিজের উপর গাড়ির লম্বা লাইন হয় এবং এই জন্য তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজট নিরসনে টোলপ্লাজায় বুথ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে অনেক আইন প্রণয়ন হলেও সেসব আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকড়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যায়। সড়ক পরিবহন আইনেও এমন কিছু দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার কারণে কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং রোডক্র্যাশ কমিয়ে আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।এদিকে জাগোনিউজ২৪ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদুজ্জামান তন্ময় বলেন, গণমাধ্যমে সবসময় রোডক্র্যাশের সংবাদ প্রকাশ করা হলেও কেন রোডক্র্যাশ হলো এবং এর পেছনের কারণ কী, তা বেশিরভাগ সংবাদে থাকে না। এমনকি এর পরবর্তী ফলোআপ প্রতিবেদনও দেখা যায় না। তাই যেকোনো রোডক্র্যাশের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান ও ফলোআপ প্রতিবেদন থাকা জরুরি। সভার সঞ্চালক দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) শুভ্র দেব বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থা বা ব্যক্তির না, এটি সকলের দায়িত্ব। এই সমন্বিত উদ্যোগে গণমাধ্যমকেও সক্রিয় অংশ হতে হবে।এছাড়াও উপস্থিত সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী নিশ্চিত করা, বেপরোয়া লেন পরিবর্তন রোধ করা, বাম পাশের লেন মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য সুনির্দিষ্ট করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি সর্বস্তরে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা পরিশেষে উল্লেখ করেন, 'সেইফ সিস্টেমের' আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন যত দ্রুত প্রণয়ন হবে এবং যত দ্রুত এর কঠোর বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাবে, সরকারের পক্ষে সড়কের এই বিশৃঙ্খলা রোধ করা তত দ্রুত সম্ভব হবে। তাই সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও এর কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি ঈদযাত্রাসহ সড়কপথকে সর্বদা সকলের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় করে তোলাই সরকারের প্রধান করণীয় হওয়া উচিত।

নিরাপদ ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ

কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগমের বিরুদ্ধে কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখা, অর্থের বিনিময়ে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া, ছাত্র হাজিরা খাতায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর চেয়ে কয়েকগুন বেশি নাম তালিকাভুক্তি, বোর্ড বই বিক্রি ও বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ করে অর্থ আত্মসাতসহ সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ সেশনে নবম শ্রেণীতে ৪৭ জন ছাত্রের রেজিষ্ট্রেশন করা হলেও টেষ্ট পরীক্ষায় ২৮ জন ছাত্র কৃতকার্য হয়। এছাড়াও ১৫ জন অনিয়মিত ছাত্র ছিল। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৩জন শিক্ষার্থী ছাড়াও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম গঠনিকা বিদ্যানিকেতন ও নতুন কুঁড়ি কিন্ডার গার্টেনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আরো ৫০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করেন। মাহবুবা বেগম বিভিন্ন বিদ্যালয়ের একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে ফরম পূরণ করলেও নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উর্মি হাবীবা, সৃজন রক্ষিত ও শাহাদাত হোসেনের ফরম পূরণ করেননি। এছাড়াও কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় মানবিক বিভাগের শিহাব (রোল ৩১১২৭৪, রেজিঃ ২৩১০৮১২৬০০) ও মোঃ রিফাত (রোল ৩১১২৭৫, রেজিঃ ২৩১০৮১২৫৯৬), ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিপুল রায় (রোল ৩১১২৮১, রেজিঃ ২৩১০৮১২৭৭৫), শোভন এগ্নেসিয়াস ক্রুশ (রোল ৫১৪০২১, রেজিঃ ২৩১০৮১২৭০৪) এবং নিরব হোসেন (রোল ৫১৪০২২, রেজিঃ ২৩১০৮০২৪৬৮) এর প্রবেশপত্র আটকে দেন মাহবুবা বেগম। ফলে ফরম ফিলাপের পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কোন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষিকার এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রতিবাদ করলে তাদেরকে শোকজসহ নানা ভাবে হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম প্রায় ১২ বছর যাবৎ বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তিকৃত ছাত্রের চেয়ে হাজিরা খাতায় দুই তিন গুণ বেশি ছাত্র দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বোর্ড বই সংগ্রহ করছেন। পরে পার্শ্ববর্তী গঠনিকা বিদ্যানিকেতন, নুতন কুড়িঁ কিন্ডার গার্টেন-১ (দূর্বাটি) ও নতুন কুড়িঁ কিন্ডার গার্টেন-২ (ভাদার্ত্তী) সহ বিভিন্ন অননোমোদিত বেসরকারী বিদ্যালয়ে ওই বইগুলো উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। গত ১৭ মে নাগরী ইউনিয়নের গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের মালিকানাধীন একটি দোকান থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর দুই বস্তা বোর্ড বই উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম। এ বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী মোঃ রিফাতের মা হোসনেয়ারা আক্তার জানান, আমার ছেলের প্রবেশপত্র আসার পরও প্রধান শিক্ষিকার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়নি। এবার পরীক্ষা দিতে না পারায় আমার ছেলের শিক্ষা জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও অন্য চারজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন।গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র বণিক জানান, আবেদনের পরও আমাদের বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় আমরা বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ১০ বছর যাবৎ বোর্ড বই সংগ্রহ, রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছি। বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম বলেন, আমি বেসরকারী কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও এলাকাবাসীর অনুরোধে বিদ্যালয়ের স্বার্থে বহিরাগত ছাত্রদের বোর্ড বই সরবরাহ ও ফরম পূরণ করি। টেষ্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পাঁচজন শিক্ষার্থীর ভুলবশতঃ ফরম পূরণ হয় বিধায় আমি তাদের প্রবেশপত্র প্রদান করিনি। বহিরাগত অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ, বোর্ড বই বিক্রি ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিরব থাকেন। বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত কমিটির সাথে আলোচনা করেই যাবতীয় কাজ করা হয়েছে।বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং প্রবিধানমালা চূড়ান্তের দাবি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং প্রবিধানমালা চূড়ান্তের দাবি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে দ্রুত ফ্রন্ট-অফ-প্যাক (এফওপি) লেবেলিং প্রবিধানমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার সকালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাদ্যের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং চালুর ফলে ভোক্তারা স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে সচেতন হয়েছেন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে। একইসঙ্গে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোও পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সতর্কবার্তাসহ সহজবোধ্য ও দৃশ্যমান প্রতীকী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাঁদের দাবি, ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং প্যাকেটের সামনের অংশে দৃশ্যমান সতর্কবার্তা যুক্ত করতে হবে, যাতে ভোক্তারা খাদ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সহজেই ধারণা পেতে পারেন।মানববন্ধনে জানানো হয়, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ইতোমধ্যে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং বিষয়ে খসড়া প্রবিধানমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। জনস্বার্থে এ নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, “বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যাকেটজাত খাবারের ওপর কার্যকর স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের ৪৪টি দেশের মতো বাংলাদেশেও ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং নীতিমালা চালু করা সময়ের দাবি।”আয়োজকরা বলেন, “দেখুন-বুঝুন-তারপর কিনুন”— এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, স্বাস্থ্যব্যয় হ্রাস এবং সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মানববন্ধন সমন্বয় করেন আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং, প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন, সোনালী সকাল, মুক্তাক্ষর, ভয়েস ইয়ুথ, মিশন গ্রীন বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান।

চীনা সংস্কৃতিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম শেনচেন মেলা

২২তম চীন (শেনচেন) আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক শিল্প মেলা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ চীনের কুয়াংতোং প্রদেশের শেনচেন শহরে এ আয়োজনের উদ্বোধন হয়। পাঁচ দিনব্যাপী চলমান এ মেলায় সাংস্কৃতিক শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ৬ হাজার ৩১২টি প্রদর্শক বুথ অংশ নিয়েছে।  প্রদর্শন করা হচ্ছে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি সাংস্কৃতিক পণ্য। শেনচেন বিশ্ব প্রদর্শনী ও সম্মেলন কেন্দ্রে মোট আটটি প্রদর্শনী হল স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে কুয়াংতং-হংকং-ম্যাকাও গ্রেটার বে এরিয়ার সাংস্কৃতিক শিল্প উদ্ভাবন নিয়ে একটি বিশেষ হলও রয়েছে।এ বছরের মেলায় প্রথমবারের মতো এপেক অর্থনীতির জন্য এক বিশেষ প্রদর্শনী এলাকা স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পর্যটনের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলটির বিশেষ পণ্য, বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত সৃজনশীল সাংস্কৃতিক পণ্য এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক খাবারও প্রদর্শীত হচ্ছে।চলতি বছরের নভেম্বরেই শেনচেনে ৩৩তম এপেক অর্থনৈতিক নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মেলাটি বর্তমানে চীনের অন্যতম শীর্ষ সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং চীনা সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি

মোংলায় মাদক, চাঁদাবাজি ও নারী হয়রানির অভিযোগ এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৭'নং ওয়ার্ডের  উলুবুনিয়া এলাকায় সরকারি বরাদ্দকৃত আবাসনে ওই বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহিদ শেখ মাদক সেবন, নারীদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে আবাসনের বর্তমান বাসিন্দারা একযোগে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উলুবুনিয়া সরকারি আবাসন প্রকল্পে মোট ২৫টি ঘর রয়েছে। আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মোঃ জাহিদ শেখ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণে আবাসনের অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবাসনের বাসিন্দা মোসাঃ হেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ সেখানে বসবাস করে আসছেন। একই এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগমের সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে কলহ, ভয়ভীতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগীর দাবি, গত ৭ মে ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সালমা বেগম তার বসতঘরের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।এদিকে আবাসনের একাধিক নারী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৭'নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহিদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে আবাসনে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। লিখিত অভিযোগে তারা দাবি করেন, তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং আবাসনের নারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে আবাসন থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।স্থানীয় কয়েকজন নারী অভিযোগ করে আরও বলেন, মোঃ জাহিদ শেখের ছেলের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি, মোঃ জাহিদ শেখ ভয়ভীতি ও প্রভাবের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে আবাসনে অবস্থানরত পরিবারগুলো একত্রিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এলাকাবাসীর দেওয়া সূত্র মতে জানা যায়, বিএনপির পদ ব্যবহার করে মোঃ জাহিদ শেখ সোনাইলতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।এ অভিযোগের বিষয়ে ওই বিএনপি নেতা মোঃ জাহিদ শেখের কাছে জানতে চাইলেন তিনি বলেন, এ অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করা করেন।এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, “আবাসনের বাসিন্দাদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

শেরপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন

শেরপুরে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।শনিবার ১৬ মে সকাল ১১ টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন শেরপুর-১  আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।উক্ত ​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁঞা । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল।  উদ্বোধনী পর্ব শেষে মাঠের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় ঝিনাইগাতির উপজেলার চ্যাম্পিয়ন হাতিবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল বনাম নকলার উপজেলার চ্যাম্পিয়ন বাছুর আগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল।  এ সময় প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ গ্যালারিতে বসে ক্ষুদে ফুটবলারদের চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্য উপভোগ করেন এবং তাদের করতালি দিয়ে উৎসাহিত করেন। ​টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে স্টেডিয়ামে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শক, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক খাতে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা, ফ্যাশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে BGMEA University of Fashion & Technology (BUFT)।২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার তুরাগ থানার নিশাতনগর (পশ্চিম উত্তরা সংলগ্ন) এলাকায় অবস্থিত।দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন BGMEA-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ফ্যাশন, টেক্সটাইল, পোশাক প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক শিক্ষাকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফ্যাশন ডিজাইন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং, বিজনেস স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক ল্যাব, গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং, ফ্যাক্টরি ভিজিট এবং বাস্তবভিত্তিক প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে স্মার্ট টেক্সটাইল, সাসটেইনেবল ফ্যাশন, ডিজিটাল ডিজাইন ও অটোমেশনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শিক্ষার্থীরা জানান, BUFT-এ পড়াশোনার মাধ্যমে তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন প্রেজেন্টেশন এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন।নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য। ফ্যাশন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে দক্ষ ও উদ্ভাবনী তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে BUFT গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি

প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি

যৌথ অভিযান চালিয়ে বুধবার (২০ মে) সকালে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার জয়নগর এলাকায় আসামির বোন শিল্পী আক্তারের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮)। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে পূর্বের পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি মুগদার মান্ডা প্রথম গলিতে প্রেমিকা তাসলিমা ওরফে হাসনার বড় বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন। এরপর ১৭ মে দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ মান্ডা ১ম গলির ২৬০/১ নম্বর ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করা হয়। তদন্তে জানা যায়, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের সূত্রে বিভিন্ন সময়ে মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেন তাসলিমা। গত ১৪ মে দুপুরে মোকাররম ওই টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। এতে দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ান। তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা ও ভাগ্নি হালিমা আক্তার মিলে ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মাথা, ঘাড় ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বাথরুমে নিয়ে মরদেহের মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে খণ্ডিত অংশগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা মোকাররমের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ১৮ মে র‌্যাব এ মামলার এক নম্বর আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে (১৩) গ্রেপ্তার করে। পরে হেলেনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে

মানসিক স্বাস্থ্য দক্ষতা বাড়াতে আহ্ছানিয়া মিশন কেন্দ্রের কর্মশালা

মানসিক স্বাস্থ্য দক্ষতা বাড়াতে আহ্ছানিয়া মিশন কেন্দ্রের কর্মশালা

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ব্যাসিকস অব অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২১ মে) ৩ টায় রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কর্মরত সকল কর্মীদের অংশগ্রহণে এ কর্মশালার আয়োজন করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ রাহানুল ইসলাম। এছাড়া প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখি গাঙ্গুলী।কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরূপণ এবং যেকোনো সংকটকালীন পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলার ব্যবহারিক কৌশল ও তাত্ত্বিক বিষয়সমূহ নিয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে আত্মহানি প্রবণতা, মানসিক অস্থিরতা, জরুরি কাউন্সেলিং এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরা হয়।আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে মানসিক সংকটের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে সঠিক মূল্যায়ন এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। এই কর্মশালা অংশগ্রহণকারীদের জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলায় আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।এছাড়াও কর্মশালায় তিনটি ড্রাগ ট্রিটমেন্ট কেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

কালীগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

কালীগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালি  এলাকায় পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে) আয়োজিত বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় পাঁচ শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।‎ রবিবার  সকাল থেকে দিনব্যাপী কালীগঞ্জ  শাখা অফিস প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ‎ক্যাম্পে চক্ষু, মেডিসিন, গাইনি, চর্ম ও যৌন, শিশু এবং সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রেসক্রিপশন, ওষুধ, চক্ষুরোগীদের পাওয়ারের চশমা ও চোখের ড্রপ ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ডেপুটি  প্রোগ্রাম ম্যানেজার অরুণ কুমার বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক  চিত্তরঞ্জন রায় ।‎বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।কালীগঞ্জ  শাখার  ব্যবস্থাপক চিত্তরঞ্জন রায়  বলেন, ১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মা ও শিশু স্বাস্থ্যসচেতনতা, চক্ষু চিকিৎসা এবং গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।‎চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. আরশাফুল আলম। ডা.মোঃমিনহাজুল ইসলাম,ডা. চন্দন দেব বক্ষণ , ডা. মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ।

রাণীনগরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

রাণীনগরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার মাস্টার পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে রানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে এই ঘটনাটি ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল আনুমান ৬:৩০ মিনিট  মাস্টার পাড়া এলাকায় এক ব্যক্তিকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক মনে হওয়ায় এলাকাবাসী দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে ভর্তির কিছুক্ষণ পর পুষষ ওয়ার্ডে দেয়া হয় , চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০:১৫ মিনিটে  তার মৃত্যু হয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে যখন আনা হয়েছিল তখন তিনি অত্যন্ত দুর্বল ও অচেতন ছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।এলাকার বাসিন্দারা জানান, মৃত ব্যক্তিকে তারা আগে কখনো এই এলাকায় দেখেননি। তার পরনে ছিল পাঞ্জাবী ও লুঙ্গি সাথে কোনো পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাইরে থেকে এই এলাকায় এসেছিলেন অথবা পথচারী ছিলেন।রানীনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার জন্য আশপাশের থানাগুলোতে সংবাদ পাঠানো হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

চোখের স্ট্রোকের জন্য কি হাইপারটেনশন দায়ী?চোখের চিকিৎসক ডা. সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘হাইপারটেনশনের কারণে চোখের একাধিক ক্ষতি হতে পারে।’ উচ্চ রক্তচাপে চোখের রেটিনার শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। এর ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবস্থাকে ‘সেন্টাল রেটিনাল ভেইন অকুলেশন’ বলা হয়। এটি শিরার পাশাপাশি ধমনীতেও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডা. মুখোপাধ্যায়। আসলে চলতি ভাষায় এই অবস্থাকেই চোখের স্ট্রোক বলা হয়।সিআরভিও-এ কি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন?সিআরভিও-এর একাধিক উপসর্গ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন হলো- হঠাৎ করে একটা চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া। এছাড়া চোখে রক্তপাত হলে চোখের ভিতর কালো ঝুলের মতো অংশ দেখা যায়।‘সিআরভিও-এর চিকিৎসা হলো ইনজেকশন বা রেটিনাল লেজার’ বলেন ডা. মুখোপাধ্যায়। সিআরভিও হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কতটা ক্ষতিকর?ডা. মুখোপাধ্যায়ের সংযোজন, ‘প্রেশার খুব বেশি থাকলে চোখের ভিতর যে অপটিক নার্ভ থাকে, তারও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’ এই অবস্থায় চোখে রক্তপাতও হতে পারে। একে চিকিৎসার ভাষায় হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বলা হয়।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কি গর্ভবতীদেরও হয়?হাইপারটেনশনে ভয় রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের ব্লাড প্রেশার অত্যধিক বেড়ে যায়। যাকে বলে প্রেগন্যান্সি হাইপারটেনশন বা ‘একলাম্পসিয়া’। এই অবস্থা তৈরি হলে মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর ঠিক আগে চোখের উপর প্রভাব পড়ে। দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। এই লক্ষণ দেখে বোঝা যায় যে, ‘একলাম্পসিয়া’ খারাপ দিকে এগোচ্ছে ‘অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার কন্ট্রোলে রাখা দরকার কেন?এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার বারবার যাচাই করা দরকার। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে চোখে রক্তপাত হতে পারে এবং চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য দক্ষতা বাড়াতে আহ্ছানিয়া মিশন কেন্দ্রের কর্মশালা

মানসিক স্বাস্থ্য দক্ষতা বাড়াতে আহ্ছানিয়া মিশন কেন্দ্রের কর্মশালা

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ব্যাসিকস অব অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২১ মে) ৩ টায় রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কর্মরত সকল কর্মীদের অংশগ্রহণে এ কর্মশালার আয়োজন করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ রাহানুল ইসলাম। এছাড়া প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখি গাঙ্গুলী।কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরূপণ এবং যেকোনো সংকটকালীন পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলার ব্যবহারিক কৌশল ও তাত্ত্বিক বিষয়সমূহ নিয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে আত্মহানি প্রবণতা, মানসিক অস্থিরতা, জরুরি কাউন্সেলিং এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরা হয়।আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে মানসিক সংকটের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে সঠিক মূল্যায়ন এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। এই কর্মশালা অংশগ্রহণকারীদের জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলায় আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।এছাড়াও কর্মশালায় তিনটি ড্রাগ ট্রিটমেন্ট কেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।