মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

বিদ্যুৎ সংকটের দ্বৈত আঘাত: লোডশেডিংয়ের অন্ধকার, ভুতুড়ে বিল ও চুরির ছায়ায় জিম্মি জনজীবন

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড কেবল বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে নয়, বরং সেই অবকাঠামো কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সেবা দিতে পারছে-তার ওপর নির্ভর করে। বিদ্যুৎ খাত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কারণ বিদ্যুৎ আজ আর বিলাসিতা নয়; এটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রাণশক্তি, অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ এবং নাগরিক জীবনের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। অথচ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত আজ এমন এক দ্বৈত সংকটের মধ্যে পড়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ একই সঙ্গে দুই ধরনের শাস্তি ভোগ করছেন-একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অন্ধকার, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও গুনতে হচ্ছে অস্বাভাবিক বা তথাকথিত ‘ভুতুড়ে’ বিল। এমন পরিস্থিতি শুধু জনদুর্ভোগ নয়; এটি জনসেবা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়।গত জুন মাসে দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চল থেকেই বিদ্যুৎ সংকটের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দিনে আট থেকে দশবার লোডশেডিং, ভালুকায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ, নরসিংদীর রায়পুরায় টানা দশ থেকে বারো ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, খুলনা, সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের প্রায় সর্বত্র একই চিত্র। শহরে অনিশ্চিত সরবরাহ, গ্রামে দীর্ঘ বিদ্যুৎহীনতা-এই বাস্তবতা প্রমাণ করে, সংকটটি আর আঞ্চলিক নয়; এটি জাতীয় চরিত্র ধারণ করেছে।আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল কমছে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। হাজারো গ্রাহক অভিযোগ করছেন, গত জুন মাসের বিল পূর্ববর্তী মাসগুলোর তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা তাদের প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের পরও যখন অতিরিক্ত বিল পরিশোধের নোটিশ আসে, তখন মানুষ শুধু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; রাষ্ট্রীয় সেবার প্রতি তাদের আস্থাও ভেঙে পড়ে। সেবা না দিয়ে মূল্য আদায় কোনো সভ্য গণসেবার নীতি হতে পারে না।বিদ্যুৎ বিভাগ অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ গ্রহণ এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। হটলাইন নম্বরও চালু রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো-কেন একই ধরনের অভিযোগ বছরের পর বছর ফিরে আসে? যদি একটি সমস্যা নিয়মিত পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে সেটি আর বিচ্ছিন্ন ভুল নয়; সেটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতা। জনগণের দায়িত্ব অভিযোগ জানানো নয়; জনগণের অধিকার হলো নির্ভুল সেবা পাওয়া। ভুল বিল সংশোধনের জন্য মানুষকে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হবে-এমন ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই আধুনিক বা ডিজিটাল সেবা বলা যায় না।এখানেই বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বহু বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। কাগজে-কলমে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু বাস্তবে জ্বালানি সংকট, কয়লা সরবরাহের অনিশ্চয়তা, গ্যাসের ঘাটতি, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি সমস্যার কারণে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটে। অথচ চাহিদা ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। অর্থাৎ সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু সেই সক্ষমতা ব্যবহারের সামর্থ্য নেই। এটি পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা, জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির সম্মিলিত প্রতিফলন।বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক বাস্তবতাও কম উদ্বেগজনক নয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিপুল বকেয়া, আমদানিনির্ভর জ্বালানি, ডলার সংকট এবং উচ্চ উৎপাদন ব্যয় পুরো খাতকে আর্থিক চাপের মধ্যে ফেলেছে। বিদ্যুতের মূল্য উৎপাদনের আগেই রাষ্ট্রকে বিপুল ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। এই চাপ শেষ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের ওপরই এসে পড়ে। একদিকে করের অর্থ দিয়ে ভর্তুকি, অন্যদিকে বাড়তি বিল-অর্থাৎ জনগণ একই সংকটের মূল্য দুইবার পরিশোধ করছেন।এই সংকটকে আরও গভীর করেছে বিদ্যুৎ চুরি। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশের হাজার হাজার অবৈধ চার্জিং স্টেশন, গ্যারেজ এবং হুকিংয়ের মাধ্যমে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে, তা শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই করছে না; ট্রান্সফর্মারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, ভোল্টেজের ওঠানামা বাড়াচ্ছে এবং নিয়মিত লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বড় অন্যায় হলো, যারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করেন, তারাই এই চুরির অর্থনৈতিক বোঝা বহন করছেন।একটি রাষ্ট্রে আইন মানা নাগরিক যদি শাস্তি পান আর আইন ভঙ্গকারী যদি সুবিধা ভোগ করেন, তবে সেটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; সেটি ন্যায়বিচারেরও সংকট। বিদ্যুৎ চুরি রোধে অভিযান পরিচালনার খবর মাঝেমধ্যে শোনা গেলেও বাস্তবে অবৈধ চার্জিং নেটওয়ার্ক দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে-এই চক্রের পেছনে কারা? কেন বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে বিদ্যুৎ চুরি চললেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না? এই প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে শুধু অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।বিদ্যুৎ সংকটের অর্থনৈতিক অভিঘাত বহুমাত্রিক। শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কারখানাগুলোকে জেনারেটর চালিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমছে। তৈরি পোশাক, সিরামিক, স্টিল, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিদ্যুৎনির্ভর শিল্পগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব সরাসরি রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ওপর পড়ে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। অনেকেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব ভয়াবহ। গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো জমিতে পানি না পৌঁছালে উৎপাদন কমে যায়, কৃষকের ব্যয় বাড়ে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। অন্যদিকে ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্য নষ্ট হওয়া, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পণ্য বিনষ্ট হওয়া এবং ঘরোয়া অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ-সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ সংকট এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়িয়ে দিচ্ছে।শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব গভীর। পরীক্ষার্থীরা রাতের পর রাত অন্ধকারে পড়াশোনা করছে। হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চিকিৎসা সেবাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ডিজিটাল শিক্ষা, অনলাইন সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির যুগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নয়নের কোনো লক্ষ্যই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।এই বাস্তবতায় বিদ্যুৎ খাতে নীতিগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি। শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতি। স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ, রিয়েল-টাইম বিলিং, স্বয়ংক্রিয় ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে ভুতুড়ে বিল ও বিদ্যুৎ চুরির বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও বাস্তববাদ প্রয়োজন। উৎপাদন সক্ষমতার পরিসংখ্যান দিয়ে আত্মতুষ্টির পরিবর্তে জ্বালানি সরবরাহ, আর্থিক সক্ষমতা এবং পরিচালন দক্ষতার বাস্তব চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কারণ জনগণকে তথ্য গোপন করে নয়, সত্য জানিয়ে আস্থা অর্জন করা যায়।আজ বিদ্যুৎ সংকট কেবল একটি খাতের সংকট নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি এবং জনঅসন্তোষের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা প্রশাসনের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা। জনসেবামূলক খাতে আস্থার সংকট দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব রাষ্ট্রের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়ে।সরকারের এখন দায়িত্ব শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা আশ্বাস দেওয়া নয়; দৃশ্যমান ফল নিশ্চিত করা। বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, অস্বাভাবিক বিলের দ্রুত সংশোধন, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, জ্বালানি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়ন এবং বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ-এসব পদক্ষেপ আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই।কারণ বিদ্যুৎ কেবল একটি পণ্য নয়; এটি নাগরিকের অধিকার, অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং উন্নয়নের ভিত্তি। জনগণ অন্ধকারে বসে উন্নয়নের গল্প শুনতে চায় না। তারা চায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, স্বচ্ছ বিলিং এবং জবাবদিহিমূলক সেবা। উন্নয়নের প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে, প্রতিটি বিল হবে নির্ভুল, প্রতিটি ইউনিট বিদ্যুতের হিসাব হবে স্বচ্ছ এবং প্রতিটি নাগরিক বিশ্বাস করতে পারবেন-রাষ্ট্র তার প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম। সেই লক্ষ্য অর্জনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় জাতীয় অঙ্গীকার হওয়া উচিত।লেখক: সাংবাদিক ও সংগঠক। 

রোবট রপ্তানিতে গতি, পাঁচ মাসে ১ কোটির বেশি ইউনিট পাঠিয়েছে চীন

এ বছর থেকে চীনের রোবট রপ্তানি দ্রুত বেড়েছে। রোবটের ধরণ দিন দিন উন্নত হয়েছে; যা বিদেশে রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।চীনের শুল্ক বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে চীনের তৈরি রোবট বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়েছে, রোবটের পরিমাণ ১ কোটি ৩ লাখ ৭৭ হাজার, এর মোট মূল্য ১৯.৯৯ বিলিয়ন ইউয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আসিয়ান দেশগুলো রপ্তানির গন্তব্য দেশ।বিভিন্ন ধরণের রোবটের মধ্যে পরিষ্কার কাজের রোবট বিক্রির পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ইউয়ান, যা মোট রপ্তানির ৭০ শতাংশেরও বেশি। শিল্পজাত রোবটের রপ্তানি পরিমাণ ৭০ হাজার, ‘ভিশন স্বীকৃতি ও বুদ্ধিমান অ্যালগরিদম-ভিত্তিক’ পরিবহন রোবট বিদেশে অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়। তা ছাড়া, বুদ্ধিমান বায়োনিক রোবট রপ্তানির সংখ্যা ৮০০০-এরও বেশি।সূত্র:সুবর্ণা-তৌহিদ-স্বর্ণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

রোবট রপ্তানিতে গতি, পাঁচ মাসে ১ কোটির বেশি ইউনিট পাঠিয়েছে চীন

চীন-মার্কিন যুবসম্পর্কে নতুন সেতুবন্ধন গড়ছে ‘পান্ডার সঙ্গে চীন ভ্রমণ’

সম্প্রতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্য থেকে বিশেরও বেশি কিশোর-কিশোরী সিচুয়ানে এসে ‘পান্ডার সাথে চীন ভ্রমণ’ চীন-মার্কিন যুবকদের মিথস্ক্রিয়া ও বিনিময় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। তারা জাতীয় সম্পদ পান্ডার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হয় এবং পাশু অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শহরের দৃশ্যাবলী উপভোগ করে। হাঁটা ও আদান-প্রদানের মাধ্যমে তারা একটি বাস্তব, ত্রিমাত্রিক এবং প্রাণবন্ত চীনকে স্পর্শ করে।ছেংতু পান্ডা প্রজনন গবেষণা কেন্দ্রে প্রবেশ করেই নিষ্পাপ ও সুন্দর পান্ডাগুলো সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। জনপ্রিয় পান্ডা "হুয়াহুয়া"-এর সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা ছবি তোলে এবং পর্যবেক্ষণে সময় কাটায়, ঘনিষ্ঠভাবে এই জাতীয় সম্পদের চঞ্চলতা ও সৌন্দর্য উপলব্ধি করে। মার্কিন যুবক ইভা অ্যাঞ্জেলিক বেক উত্তেজিত হয়ে বলেন, "এটাই আমার প্রথমবার পান্ডা দেখা, যা আমার কল্পনার চেয়েও ছোট ও চঞ্চল।" প্রথমবার পান্ডার সাথে সাক্ষাৎকারী শিক্ষার্থীরা তাদের আনন্দ লুকাতে পারেনি। পান্ডার গাছে চড়ে খেলাধুলা করার প্রাণবন্ত দৃশ্য দেখে তাদের পান্ডা সম্পর্কে আগের ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং তারা প্রকৃতির এই প্রাণীদের অনন্য সৌন্দর্য অনুভব করে।এই কার্যক্রম পান্ডা সংস্কৃতিকে সেতুবন্ধন হিসেবে ব্যবহার করে মার্কিন যুবকদের একটি নিমগ্ন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা দেয়। তারা নিজের হাতে পান্ডার খাবার তৈরি করে, চীনা শৈলীর পান্ডার হাতপাখা আঁকে এবং পান্ডার ছায়াপুতুল খোদাই করে। অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই হাতে-কলমে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তারা চীনা ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সূক্ষ্মতা উপলব্ধি করে। সহজ প্রক্রিয়া এবং প্রাণবন্ত চীনা শৈলীর উপাদান বিদেশি যুবকদের চীনা ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অনন্য সৌন্দর্য সহজেই বুঝতে সাহায্য করে। মার্কিন যুবক জেসি বাউম নিজের হাতে তৈরি পান্ডার ছায়াপুতুল দেখে ঐতিহ্যবাহী ছায়াপুতুল শিল্পের প্রতি গভীর মুগ্ধতা প্রকাশ করে এবং বলে যে এই প্রাচীন শিল্পকে "জীবন্ত" করার পদ্ধতি অত্যন্ত চমকপ্রদ, যা তাকে আরও গভীরভাবে শিখতে আগ্রহী করে তুলেছে।নিমগ্ন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরা ছেংদুর গলিতে ঘুরে বেড়ায় এবং সিচুয়ানের প্রাচীন ও আধুনিক মিলনময় শহুরে পরিবেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে। আধুনিক বিশাল স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত শহরের দৃশ্য এবং জীবনের প্রাণচাঞ্চল্য ও মানবিক ঐতিহ্যে ভরপুর পরিবেশ প্রথমবার চীন সফরে আসা কিশোর-কিশোরীদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তারা সবাই মনে করে যে, সিচুয়ানে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রাণশক্তি উভয়ই বিদ্যমান এবং স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা ও বন্ধুত্ব এই যাত্রাকে আরও উষ্ণ ও স্মরণীয় করে তুলেছে।চীন-মার্কিন যুবক শিক্ষার্থী বিনিময় সমিতির সভাপতি চৌ শুছি বলেন, তরুণদের জ্ঞান অর্জনের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও নিজের চোখে দেখা। মার্কিন যুবকদের চীনে এসে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং মুখোমুখি আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রকৃত আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব অর্জন করতে দেওয়া উচিত। এই অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি তাদের দীর্ঘমেয়াদী বিকাশে সঙ্গী হবে।জানা গেছে, "পান্ডার সাথে চীন ভ্রমণ" চীন-মার্কিন যুবকদের মিথস্ক্রিয়া ও বিনিময় কার্যক্রম চায়না মিডিয়া গ্রুপ এবং চীন-মার্কিন যুবক শিক্ষার্থী বিনিময় সমিতি যৌথভাবে আয়োজন করে। এই কার্যক্রম যুবকদের সেতু এবং সংস্কৃতিকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করে, অনুভবযোগ্য, দৃশ্যমান এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিনিময় পদ্ধতির মাধ্যমে চীন-মার্কিন যুবকদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব কমিয়ে আনে, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ঐক্যমত জোরদার করে এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের সুস্থ বিকাশে একটি উষ্ণ ও স্থায়ী যুবশক্তি যোগায়।সূত্র:স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

চীন-মার্কিন যুবসম্পর্কে নতুন সেতুবন্ধন গড়ছে ‘পান্ডার সঙ্গে চীন ভ্রমণ’
সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু

সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু

অবশেষে সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে।  দীর্ঘ দিনের দাবি ও প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে  ফের চালু হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে সিলেটি কমিউনিটির অন্যতম প্রাণের দাবি পূরণে এই ররুটটি ফের চালু করা হয়েছে।আর সেই দাবিকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর ইএ-২০৮ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে জানা গেছে। ফ্লাইটটির যাত্রীদের স্বাগত জানাতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।গত ২৯ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে অন্তর্বরতী সরকারের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বিমান বাংলাদেশের পরিচালক ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির।বৈঠকে ফ্লাইটটি বন্ধ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এবং রুটটি পুনরায় চালুর জন্য জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র আট দিন আগে, ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির ঘোষণা দিয়ে ছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে।নতুন সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর হুমায়ুন কবির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধারাবাহিক সমন্বয় বজায় রাখেন।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার ফলেই বহু প্রতীক্ষিত এই ফ্লাইটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটিদের জন্য এই রুট শুধু একটি বিমান যোগাযোগ নয়, এটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সংযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আবেগের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ। ফলে ফ্লাইটটি পুণরায় চালুর খবরে প্রবাসী সিলেটিদের মধ্যে স্বস্তি, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।05/07/26, 12:37:2

রোবট রপ্তানিতে গতি, পাঁচ মাসে ১ কোটির বেশি ইউনিট পাঠিয়েছে চীন

এ বছর থেকে চীনের রোবট রপ্তানি দ্রুত বেড়েছে। রোবটের ধরণ দিন দিন উন্নত হয়েছে; যা বিদেশে রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।চীনের শুল্ক বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে চীনের তৈরি রোবট বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়েছে, রোবটের পরিমাণ ১ কোটি ৩ লাখ ৭৭ হাজার, এর মোট মূল্য ১৯.৯৯ বিলিয়ন ইউয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আসিয়ান দেশগুলো রপ্তানির গন্তব্য দেশ।বিভিন্ন ধরণের রোবটের মধ্যে পরিষ্কার কাজের রোবট বিক্রির পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ইউয়ান, যা মোট রপ্তানির ৭০ শতাংশেরও বেশি। শিল্পজাত রোবটের রপ্তানি পরিমাণ ৭০ হাজার, ‘ভিশন স্বীকৃতি ও বুদ্ধিমান অ্যালগরিদম-ভিত্তিক’ পরিবহন রোবট বিদেশে অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়। তা ছাড়া, বুদ্ধিমান বায়োনিক রোবট রপ্তানির সংখ্যা ৮০০০-এরও বেশি।সূত্র:সুবর্ণা-তৌহিদ-স্বর্ণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: নাজমুন নাহার বেবী

​২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরের কচুয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে রোপা আমন বীজ, সার ও ফলজ চারা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৮৬ জন কৃষকের মাঝে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়।​শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে কচুয়া উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমেই কচুয়াসহ সারা দেশে কৃষিখাতে সমৃদ্ধি আসবে। তিনি আরও বলেন, কৃষি উপকরণের পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেলের সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি খায়রুল আবেদীন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুবাস, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম।কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার মোট ১৩শ জন কৃষককে রোপা আমন ধানের বীজ, সার এবং বিভিন্ন প্রকার ফলজ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৮৬ জন কৃষকের হাতে হ্যান্ড স্প্রে মেশিন, ফিতা পাইপ, এলএলপি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (ধান কাটার যন্ত্র), ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, ফুট পাম্প ও ধান মাড়াই যন্ত্র তুলে দেওয়া হয়।​এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া উত্তর অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মিয়াজী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুস সালাম শান্ত, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর নবী সুমন, ছাত্রদলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সম্রাট রইসুদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় কৃষকরা।ছবি: কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী।

১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর
র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

জার্সি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল ‘চকবাজার কিংস

রাজধানীর ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে চকবাজার কিংস। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, ক্রীড়া সংগঠক, সমাজের বিশিষ্টজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরুণ সমাজকে সুস্থ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা শুধু শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না, বরং শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাও গড়ে তোলে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে চকবাজার কিংস।সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, জার্সি উন্মোচনের এই আয়োজন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্ট, যুব উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, সমাজসেবা এবং মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠনটি তরুণদের জন্য একটি ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি, শুভাকাঙ্ক্ষী, সংগঠনের সদস্য এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।এ সময় বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয় জনাব আলহাজ হামিদুর রহমান, সংসদ সদস্য (ঢাকা-৭) এবং হাজী মোঃ টিপু সুলতান, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক, চকবাজার কিংস-এর প্রতি। তাঁদের মূল্যবান দিকনির্দেশনা, নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা এবং অনুপ্রেরণায় সংগঠনের এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়।বক্তারা আরও বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই ক্রীড়াকে কেন্দ্র করে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত ভূমিকা রাখবে চকবাজার কিংস।আয়োজকদের বিশ্বাস, ধারাবাহিক ক্রীড়া আয়োজন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে চকবাজার কিংস অচিরেই দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় যুব ক্রীড়া সংগঠন হিসেবে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

বুড়িচংয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায়  প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৬৯ জন

বুড়িচংয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৬৯ জন

বৃহস্পতিবার  ২ জুলাই থেকে সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লার শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা  অনুপস্থিত ৬৯ জন পরীক্ষার্থী।  প্রথম দিনের পরীক্ষায় উপজেলার পরীক্ষা কেন্দ্রে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরীক্ষার পরিবেশ ছিল শান্ত সুশৃঙ্খল।উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩ হাজার ১১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৯ জন ছিল অনুপস্থিত।  ইতোমধ্যে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল।বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা  শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার নির্ধারিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।উপজেলায় কুমিল্লা  শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০টি কলেজের মোট ২ হাজার ৬৭৩ জন পরীক্ষার্থী ৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩০১ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৩৭২ জন।এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৪৫ জন পরীক্ষার্থী।মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলার ১৫টি মাদ্রাসার ৩২০ জন পরীক্ষার্থী ২টি কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থীর  মধ্যে ছাত্র ১৩৯ জন এবং ছাত্রী ১৮১ জন। এর অনুপস্থিত ছিল ২১ জন।এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজি কেন্দ্রে এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৮৬ জন এবং ছাত্রী ৩৯ জন। এর অনুপস্থিত ছিল ৩ জন।কোরপাই কাকিয়ার চর ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরিদর্শনে আসেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মান্নান, উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আজিজুর রহমান, কেন্দ্র ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা মাওলানা অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান সরকার, হলসুপার মাওলানা অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রুহুল আমিন।পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজে পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি, ফাবলিহা আনবার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ ভূইয়া, উপজেলা প্রোগ্রামার মইন আল রশিদ।এদিকে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মোঃ তানভীর হোসেন  বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রী কলেজ, ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজি সহ বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শন করে তিনি কেন্দ্রের পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ,ফাবলিহা আনবার,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মান্নান, বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুতফুর রহমান।

গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী

গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী

রাজধানীর গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে আব্দুল আলীম (৪৭) নামের এক ব্যবসায়ী অচেতন হয়েছেন। এ সময় তার কাছে থাকা এক লাখ টাকা খোয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে গুলিস্তান পুলিশ বক্সের পাশ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে প্রথমে আজগর আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।আব্দুল আলীমের ভাগ্নে মোস্তফা জানান, তার মামা একটি লিফট কম্পানিতে কাজ করতেন। সম্প্রতি তিনি নিজে ব্যবসা শুরু করেন।সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শনিরআখড়া জাপানি বাজার এলাকার বাসা থেকে ব্যাবসায়িক কাজে এক লাখ টাকা নিয়ে বের হন। পরে খবর পান, তিনি গুলিস্তান পুলিশ বক্সের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, অচেতন অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।আব্দুল আলীম কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ছোরা পুকুরিয়া গ্রামের মৃত আজমত আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর শনিরআখড়া এলাকায় বসবাস করতেন।

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ জন

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ জন

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৯ জন। বিশেষ করে সিলেটে হামে মৃত্যুর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সিলেটে নতুন করে হাম উপসর্গে আরো ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৫ বছর বয়সী শিশু আবু হুরাইরা হবিগঞ্জ  জেলার বানিয়চং উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত হয়নি। এই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৭৯ জন। রোববার (৫ জুলাই) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৭৫ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স এবং বাকী ৮৬ জন শিশু। এর মধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন।মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন সুনামগঞ্জ জেলার, এরপর ৩১ জন সিলেটের, মৌলভীবাজারের ১১ ও হবিগঞ্জের ৮ জন রয়েছেন।এদিকে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ৪১৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩৪ জন সুনামগঞ্জ  জেলার, সিলেটের ১৩১, হবিগঞ্জের ৩৭ ও মৌলভীবাজারের ১৬ জন রয়েছেন।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৭৫ জন রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ১১২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৪, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৪, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন ভর্তি রয়েছেন।06/07/26, 15:07:15

কচুয়ায় প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান

কচুয়ায় প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাধারণ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উপজেলার  বিতারা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরামের অর্থায়নে বিনামূল্যে  একটি অ্যাম্বুলেন্স  প্রদান  করা হয়েছে। ​শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) বিকেলে এ উপলক্ষ্যে স্থানীয় মাঝিগাছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এম্বুলেন্স  হস্তান্তর করা হয়। মানবিক এই মহতি উদ্যোগটির অর্থায়নে ছিলেন স্থানীয় মাঝিগাছা গ্রামের অধিবাসী  মো. কামরুজ্জামান মজুমদার (জামাল)।বিতারা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরামের উপদেষ্টা শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উক্ত হস্তান্তর অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রবাসী ভাইদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। দুর্যোগ ও জরুরি মুহূর্তে এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিতে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, অত্র এলাকার অসহায় ও দুস্থ রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করবে। স্থানীয়রা জানান, স্পেন প্রবাসী, বিতারা ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান মজুমদার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে। এই অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে স্বল্প খরচে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে রোগী পরিবহন করা যাবে। বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র, গর্ভবতী মা, জরুরি রোগী ও বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য এই সেবা হবে আশার আলো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খায়রুল আবেদীন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ এলাহি সুভাস, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল)মোঃ আব্দুল হাই চৌধুরী, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম, উত্তর কচুয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মিয়াজী, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, মো. মকবুল হোসেন পাটোয়ারী এবং মো. ইউসুফ খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ২৬ জুন উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের মহিদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা কৰ্তৃক আয়োজিত বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, স্বাস্থ্য সেবা ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। চক্ষু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা ও শংকর হাসপাতাল। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ফ্রেন্ডস ব্লাড ব্যাংক, মহিদপুর গ্রামবাসী এবং প্রফেসর ডাক্তার রুহুল আমিন রুরাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যক্ষ ইয়াসিন মিয়া ও শিক্ষার্থীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ, সাবেক সহ সভাপতি আলহাজ্ব মো.আমির হোসেন ভূঁইয়া,  সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান জেড. এইচ. জহির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আমিন, দপ্তর সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান শিশির, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. কামাল হোসেন ভূঁইয়া, মেহেদী হাসান, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, আজীবন সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোশাররফ হোসেন, ডাক্তার মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবৰ্গরা উপস্থিত ছিলেন।এদিন প্রায় সহস্রাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা সহযোগিতা পাওয়ার পাশাপাশি ১৩২ জন রোগীর ছানি অপারেশন করার ব্যবস্থা করা হয়।

বরুড়ায় ৭৩ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

বরুড়ায় ৭৩ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

আগামী ২৮ জুন কুমিল্লার বরুড়ায়  ৭৩ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।বৃহস্পতিবার জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কতৃক আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় এ তথ্য জানানো হয়।সভায় আরো জানানো হয়, এবছর ৬ থেকে ১১ মাস বয়সের ৮ হাজার ৯০০ শিশু ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সের ৬৪ হাজার ৩০০ শিশুকে ৪০৮ টি ইপিআই সাবব্লক, ১ টি স্থায়ী কেন্দ্র সহ মোট ৪০৯ টি টিকা কেন্দ্রে ভিটামিন এ খাওয়ানো হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি"র সভাপতিত্বে এসব কথা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো: মাজেদুর রহমান। সভা অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ আহমদ সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ জন

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ জন

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৯ জন। বিশেষ করে সিলেটে হামে মৃত্যুর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সিলেটে নতুন করে হাম উপসর্গে আরো ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৫ বছর বয়সী শিশু আবু হুরাইরা হবিগঞ্জ  জেলার বানিয়চং উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত হয়নি। এই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৭৯ জন। রোববার (৫ জুলাই) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৭৫ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স এবং বাকী ৮৬ জন শিশু। এর মধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন।মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন সুনামগঞ্জ জেলার, এরপর ৩১ জন সিলেটের, মৌলভীবাজারের ১১ ও হবিগঞ্জের ৮ জন রয়েছেন।এদিকে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ৪১৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩৪ জন সুনামগঞ্জ  জেলার, সিলেটের ১৩১, হবিগঞ্জের ৩৭ ও মৌলভীবাজারের ১৬ জন রয়েছেন।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৭৫ জন রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ১১২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৪, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৪, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন ভর্তি রয়েছেন।06/07/26, 15:07:15