মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

সাময়িক বরখাস্ত হলেন দুর্নীতিবাজ মূ. কবিরের পৃষ্ঠপোষক বিআইডব্লিউটিএর আলোচিত পরিচালক আরিফ উদ্দিন

নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহণ বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তর আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।আদেশে বলা হয়, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগের ভিডিও ক্লিপ প্রকাশিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের কর্মচারী চাকুরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০-এর বিধি ৩৫ (খ) ও (ঙ) লঙ্ঘনের কারণে বিধি ৪১ (১) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে আরিফ উদ্দিন বিধি মোতাবেক খোরাকী ভাতা প্রাপ্য হবেন। তবে এ সময় তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগে হাজিরা দিতে হবে এবং হাজিরার ভিত্তিতেই ভাতা পরিশোধ করা হবে।এদিকে, আরিফ উদ্দিনের স্থলে বন্দর ও পরিবহণ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে। তিনি নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি এ দায়িত্ব পালন করবেনকে এই আরিফ উদ্দিন:পুরো নাম: এ.কে.এম.আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাত পিতা: করিম হাজী.গ্রাম-রায়পুর.থানা-সুজানগর, পাবনা। বর্তমানে তিনি বন্দর ও পরিবহন শাখা অতিরিক্ত পরিচালক ও ল্যান্ড এন্ড এস্টেট এর পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত। চৌকষ এ কর্মকর্তা অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও পাবনা জেলার সন্তান হিসেবে নিজেকে আরও সুপার পাওয়ার হিসেবে মনে করে থাকেন এ বক্তব্য বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের । তার গ্রামের বাড়ী:-রায়পুর, সুজানগর, পাবনাতে খোঁজ নিয়ে ও আমাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একজন আরিফ উদ্দিনের ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হয়ে উঠার কথা। তথ্য সূত্র যতটুকু পাওয়া গেছে স্ত্রী শামীমা, ছেলে সাদ ও মেয়ে আরিন। সাদ ও আরিন দু'জনই দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষারত আছেদুদকের অনুসন্ধান:স্বারক নং- ০০.০১.২৬০০.৬০৩.০১.২৩৪.২৩-৩২১৭ এ দুর্নীতি দমন কশিনের উপ-পরিচালক মো: হাফিজুল ইসলাম ( অনু ও তদন্ত-২) টিমের পক্ষ থেকে ০৩/০৯/২০২৩ ইং তারিখে পরিচালক ( প্রশাসন) বিআইডব্লিউটিএ বরাবরে এ পত্রে “আরিফ হাসনাত” যুগ্ম পরিচালক বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নানাবিধ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এর সুষ্ঠ অনুসন্ধানের জন্য নিম্নবর্নিত রেকর্ডপত্র সংগ্রহপূর্বক চিঠি প্রদান করে।উক্ত স্বারকের নামের স্থলে আরিফ হাসনাত লেখা রয়েছে কিন্তু যুগ্ম পরিচালক আরিফ হাসনাত নামক কোন কর্মকর্তা বিআইডব্লিউটিএ পাওয়া যায়নি।দুদকের চাহিদা পত্রে যে সমস্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে তা হলো বিআইডব্লিউটিএ আওতাধীন নারায়নগঞ্জ পোর্ট হইতে ১/১/১৯-৩১/১২/২২ তারিখ সময়ে সদরঘাট পোর্ট হতে ১/১/২০২০-৩১/১২/২২ তারিখ সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক খাতের হিসেবের বিবরনী এ ছাড়াও জনাব আরিফ হাসনাত, যুগ্ম পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএ এর ব্যক্তিগত নথি, উত্তোলিত বেতন ভাতার বিবরন (শুরু হইতে জুন/২৩ সময় পর্যন্ত) দায় দায়িত্ব সম্পর্কীত অফিস আদেশ সমূহ তার নিজ স্ত্রী/সন্তান/ভাই গনের নামে ব্যবসা/শেয়ার পরিচালনায় আবেদন এবং অনুমোদন সংক্রান্ত সমুদয় রেকর্ডপত্র।সম্পদের খতিয়ান:অনুসন্ধানকালে জানাগেছে, অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ দ্বারা ঢাকা এলিফ্যান্ট রোডে ২২ কোটি টাকা দিয়ে একটি বহুতলা বাড়ী ক্রয় করেছেন। বাড়ী নং ৩০১,এলিফেন্ট রোড,ঢাকা ১২০৫। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি আলীশান ফ্ল্যাট ক্রয় করে বসবাস করছেন। যার মূল্য কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা। ওই ফ্ল্যাটের মধ্যে সুইমিংপুলও তৈরি করেছেন। এ ছাড়া ডেকোরেশন করেছেন প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে। ফ্ল্যাট নং –ব্লক-সি,রোড নং-১,প্লট নং ৫৪,৫৫,৫৬। এ ছাড়া তিনি লেটেষ্ট মডেলের গাড়ি ব্যবহার করেন। তার ছেলে মেয়ে আমেরিকায় লেখা পড়া করে। গ্রামের বাড়ী পাবনাতে নাকি ২০০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। এ বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধান চলছে। দুদকের অভিযোগ মতে তিনি একাধিক ব্যবসাদেও অর্থ লগ্নি করেছেন। অন্তত: ৫ টি বেসরকারী ব্যাংকে তার ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এসব ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখা হয়েছে। তিনি আমেরিকা ও কানাডায় দুটি বাড়ী ক্রয় করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি এলোটি না হয়েও বিআইডব্লিউটিএর একখানা গাড়ী সার্বক্ষনিক ব্যবহার করেন। এছাড়া তার স্ত্রীর ব্যবহারের জন্য রয়েছে লেটেষ্ট মডেলের আলাদা গাড়ি। তার স্ত্রীর চাল চলন দেখলে মনে হয় তিনি কোন শিল্পপতির স্ত্রী। এর আগে বিআইডব্লিউটিএর একজন চেয়ারম্যানের সাথে তার কলংক রটেছিল বলে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে গুঞ্জন আছে।আইন ও এস্টেট পরিচালক পদ দখল:নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং- ১৮.০০.০০০০.০১৯.১৮.০১৩.২১-২৯৫, তারিখ:২৬ ডিসেম্বর ২০২৩। পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে: উপযুক্ত বিষয় ও সুত্রস্থ পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মো: মশিউর রহমান তালুকদার উপসচিব স্বাক্ষরিত পত্রে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সাংগঠনিক কাঠামোতে এস্টেট ও আইন বিভাগের জন্য অর্থ বিভাগ থেকে ১৬/০৮/২০২৩ তারিখের ১৬৮নং স্মারকের মাধ্যমে ১২টি পদ সৃজনে সম্মতি প্রদান করা হয়েছে। পদগুলোর মধ্যে ০২টি উপপরিচালক উপ-পরিচালক (এস্টেট)-০১টি, উপপরিচালক (আইন)-০১টি] এর পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রদানের জন্য সরকারের বাজেট সহায়তার উপর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে, পদ সৃজনে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত পরিচালক পদ এবং পরিচালকের সহায়ক পদ হিসেবে ব্যক্তিগত সহকারী এবং অফিস সহায়ক পদ সৃজনে অর্থ বিভাগের অসম্মতি জ্ঞাপন করা হয়। আইন ও এস্টেট পরিচালক পদ সৃজনে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অসম্মতি জানিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে বিআইডব্লিউটিএ কে পত্র: নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় টি শাখা ১৫ এপ্রিল ২০২৪ এর স্মারক নং- ১৮.০০.০০০০.০১৯.১৮.০১৩.২১.১০৩ এ বিআইডব্লিউটিএ সাংগাঠনিক কাঠামোতে এষ্টেট ও আইন বিভাগের জন্য বছর বছর সংরক্ষনের ভিত্তিতে অস্থায়ী ভাবে ০৩ পদ সৃষ্টিতে সম্মতি জ্ঞাপন সংক্রান্ত একটি পত্র দেন। উক্ত পত্রে অর্থ বিভাগের সূত্র: পত্র নং-০৭.০০.০০০০.১২৬.০০.০০৮ (অংশ-১) ২২.৭৯ তারিখ ২১.৩.২০২৪ এক পত্রে বিআইডব্লিউটিএ সংগাঠনিক কাঠামোতে এষ্টেট ও আইন বিভাগের জন্য ০৩ (তিন) ক্যাটাগরির ০৩ (তিন) টি পদ পরিচালক এর ০১ টি, সাঁটলিপিকারের (ব্যক্তিগত সহকারী) ০১টি এবং অফিস সহকারী ০১টি, রাজস্বখাতে অস্থায়ী ভাবে সৃজনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ের সম্মতি প্রদানের জন্য অর্থ বিভাগ,অর্থ মন্ত্রনালয় গত ১৬-১২-১০২৩ তারিখ অনুরোধ করা হয়। তদপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ পদ সৃজনে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রম্ভাবিত পরিচালক পদ এবং পরিচালকের সহায়ক পদ হিসেবে ব্যক্তিগত সহকারী এবং অফিস সহকারী এবং অফিস সহায়ক পদ সৃজনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেছে। অথচ বিআইডব্লিউটিএ ওয়েব সাইট ঘেঁটে করে দেখা গেছে ল্যান্ড এস্টেট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন এর নাম রয়েছে। এবং পরিচালক হিসেবে তিনি যাবতীয় গাড়ী সুবিধা সহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করছেন। অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে পরিচালক পদ সৃজনের কোন সম্মতি নাই।এই সকল বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিচালক আরিফ উদ্দিনের মুঠোফোনে ফোন দিয়ে খুঁজে বার্তা পাঠিয়ো কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।সদ্য বহিষ্কৃত আলোচিত পরিচালক বন্দর কে এম আরিফ উদ্দিনের আশীর্বাদপুষ্ট বিআইডব্লিউটিএ এমএমই শাখার দুর্নীতিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী মূ: কবিরের নজিরবিহীন অনিয়ম দুর্নীতির ফিরিস্তিঃআওয়ামী লীগ সরকারের দোসর বিআইডব্লিউটিএ'র সাবেক এমএমই শাখার তত্ত্বাফধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মহা দুর্নীতিবাজ মূঃ কবির হোসেন নজিরবিহীন অনিয়ম দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা করে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ৫ই আগস্ট-২৪ ইং তারিখের পর মহা দুর্নীতিবাজ পতিত আওয়ামী সরকারের দোসর তত্ত্বাফধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক)মূঃ কবির হোসেন তার নজিরবিহীন অনিয়ম দুর্নীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রক্ষার জন্য আওয়ামী জার্সি বদল করে রাতারাতি নব্য জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারক বাহক হিসেবে বিআইডব্লিউটিএতে নিজেকে জাহির করে অনিয়ম দুর্নীতির সিন্ডিকেট ধরে রেখেছেন অতীতের ন্যায়।বিআইডব্লিউটিএ এর এমএমই শাখার তত্ত্বাফধায়ক প্রকৌশলী মূঃ কবির হোসেন এর অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিগত দিনে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও কবির হোসেন সদ্য বহিষ্কৃত আলোচিত পরিচালক বন্দর আরিফ উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছিলেন বহাল তবিয়তে। যাহা নিয়ে খোদ বিআইডব্লিউটিএ বিএনপির রাজনীতির মতাদর্শে বিশ্বাসী কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ মুখে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এমএমই শাখা থেকে তত্ত্বাফধায়ক প্রকৌশলী মূঃ কবির হোসেন'র ডিজাইন এন্ড মনিটরিং শাখায় বদলি করা হয়। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ এর প্রভাবশালী পরিচালক (বন্দর) সদ্য সাময়িক বহিষ্কৃত মহা দুর্নীতিবাজ অসংখ্য নারি কেলেঙ্কারির হোতা কে এম আরিফ উদ্দিন কিছুদিন পরেই তার আশীর্বাদ পুষ্ট (সেকেন্ড ম্যান) হিসাবে খ্যাতি অর্জন করা মু. কবির কে পুনরায় এমএমই শাখায় নিয়ে আসেন। এমএমই শাখার তত্ত্বাফধায়ক ম. কবির দীর্ঘ সময় এমএমই শাখায় বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতি ঠিকাদারী ব্যবসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয় নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা তথ্য প্রামানের চুম্বক অংশ নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়,দুর্নীতি দমন কমিশন ও পাঠকদের মাঝে তুলে ধরা হলো:- পতিত আওয়ামী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে একই চেয়ারে দীর্ঘ ষোল বছর বিআইডব্লিউটিএ'র এমএমই শাখায় একচেটিয়া রাজত্ব বজায় রেখে ঠিকাদারদের সাথে সিন্ডিকেট করে কমিশন বাণিজ্য ও পছন্দের ঠিকাদারদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।অনুসন্ধানে আরও জানা যায় পতিত আওয়ামী সরকার এর সময়ে বিআইডব্লিউটিএ তালিকা ভক্ত হওয়া আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগ,যুবলীগ ঠিকাদার নামক দুর্নীতিবাজদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলো মধ্যে অন্যতম হামজা এসোসিয়েট,নিউ ইসলাম,সেলিম রেজা এন্টারপ্রাইজ সহ ১০/১২টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কবির হোসেন'র অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এমএমই শাখায় একচেটিয়া ব্যবসা করার প্রমাণ পাওয়া যায়।৫ ই আগস্টে পতিত আওয়ামী সরকার পতনের পর বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কর্তৃক মহা দুর্নীতিবাজ তত্ত্বাফধায়ক প্রকৌশলী মূঃ কবির হোসেনকে এমএমই শাখায় থেকে ডিজাইন এন্ড মনিটরিং শাখায় বদলি করা হয়।বিআইডব্লিউটিএ এর সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান কর্তৃক বদলি হওয়ার পর মহা দুর্নীতিবাজ মূঃ কবির হোসেন কে তার দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক আরিফ উদ্দিন  পুনরায় এমএমই শাখায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। দুর্নীতিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী মু. কবির হোসেন এর মতো দুর্নীতিবাজ একজনকে পুনরায় এমএমই শাখায় বদলি করে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে খোদ বিআইডব্লিউটিএ এর প্রকৌশলীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিএ এর কয়েকজন প্রকৌশলী প্রতিবেদককে জানান বিগত সরকারের আমলে বিএনপির মতাদর্শের রাজনীতিতে বিশ্বাসী বিধায় পদোন্নতিতে আমরা বঞ্চিত ছিলাম কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা থাকা অবস্থায়ও আমরা বারবার বঞ্চিত হয়েছি এইদিকে পুনরায় ভালো ভালো জায়গায় পোস্টিং এবং পদোন্নতি পেয়েছিলেন আলোচিত সদ্য সাময়িক বহিষ্কৃত দুর্নীতিবাজদের গডফাদার নারী লোভী আরিফ উদ্দিন এর পৃষ্ঠপোষকতায় যাহা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাই আমরা চাই বর্তমান বিআইডব্লিউটিএ এর সম্মানিত চেয়ারম্যান স্যার আরিফ উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় সুবিধাভোগী মহা দুর্নীতিবাজ এমএমই শাখার তত্ত্বাফধায়ক প্রকৌশলী মু. কবির গংদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিআইডব্লিউটিএ এর মতো প্রতিষ্ঠানের গৌরব ফিরিয়ে আনবেন।পূর্বে  মূঃ কবির হোসেন এমএমই শাখায় দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিভিন্ন বন্দরের পুরাতন মালামাল বিক্রির জন্য নামমাত্র মূল্যে দরপত্র আহ্বান এর মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএ'র পুরাতন মালামাল ব্যবসায় ঠিকাদারদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একচেটিয়া ব্যবসা করার ফলে সরকার হারিয়েছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব,সরকারি মালামাল নামমাত্র মূল্যে দরপত্রের মাধ্যমে মহা দুর্নীতিবাজ কবির হোসেন সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা।মহা দুর্নীতিবাজ তত্ত্বাফধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার এর দোসর নব্য জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারক মূঃ কবির হোসেন নজিরবিহীন অনিয়ম দুর্নীতির টাকায় রাজধানী ঢাকার আভিজাত্য এলাকা সিদ্ধেশ্বরী ইস্টান হাউসিং এ ২৫০০ স্কয়ার ফিটের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আলিশান ফ্লাট,রাজধানী ঢাকার আরেক অভিজাত্য এলাকা বনানীতে রয়েছে ১৮০০ স্কয়ার ফিটের বিলাসহুল কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আলিশান ফ্ল্যাট (বনানী সড়ক ভবনের পিছনে) বিলাসবহুল গাড়ি গাড়ির নাম্বার:- ঢাকা মেট্রো-গ ৪২-৯১২১।অনুসন্ধানে আরও জানা যায় গ্রামের বাড়ি বরিশালে রয়েছে বিঘায় বিঘায় সম্পত্তি।নিজের প্রিয়তমা স্ত্রী,সন্তান ও  আত্মীয়-স্বজনের নামে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে রয়েছে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট এবং বিভিন্ন ব্যাংকে নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার এফডিআরও সঞ্চয়পত্র। এই সকল অনিয়ম দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নব্য জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারক ও সম্পদের বিষয়ে জানতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সু-চতুর মহা দুর্নীতিবাজ তত্ত্বাফধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক)মূঃ কবির হোসেন এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানোর পরেও কোন প্রকার সাড়া পাওয়া যায়নি।

সিলেটের জেলাপ্রশাসক সারওয়ার আরম প্রত্যাহার, শাহজালাল (রহ.) মাজার কর্তৃপক্ষ খুশি

সমালোচনার মুখে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার-কান্ড নিয়ে সমালোচনার মুখে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রুসই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ২২ জুন ২০২৬ইং (সোমবার) তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে  যোগ দিতে বলা হয়েছে।সিলেটে যোগ দেওয়ার পর প্রথম দিকে তার কিছু কর্মকান্ড বেশ প্রশংসিত হলেও সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সারওয়ার আলম। কয়েক শত বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বৃস্পতির মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স বসান সারওয়ার আলম। এই দানবাক্সের পাহারায় আনসার নিযুক্ত ও সিসি ক্যামেরা বসান এই জেলা প্রশাসক।মাজারের আয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সারওয়ার আলম। তবে মাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাজার বিরোধী এই চক্রের ইন্ধনে দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য ও রেওয়াজ ভেঙে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।২৭ তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন।২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে  ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে ছিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয় টিকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদন্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সিলেটের জেলাপ্রশাসক সারওয়ার আরম প্রত্যাহার, শাহজালাল (রহ.) মাজার কর্তৃপক্ষ খুশি

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান

বাংলাদেশ: বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সম্প্রতি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জন্য ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। পাকিস্তানের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সেই সাবমেরিনটিকে কমিশনও (আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি) করেছে। সাবমেরিনটিকে নিয়ে আসতে নৌবাহিনীর একটি বহর নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফিরে আসার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতি দেন তিনি। সেখানে শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দেবে।“পিএনএস হ্যাঙ্গর সিরিজের আরও ৭টি সাবমেরিন শিগগিরই পাকস্তিানের নৌবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত হবে।  এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি বজায় রাখবে। ”, দ্য মর্নিংকে বলেছেন কমোডর ফারুক।১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। সেটির নামও ছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর।তবে সেই যুদ্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর বঙ্গপোসাগর ছেড়ে চলে যায় পাকিস্তান। এতদিন মূলত উত্তর আরব সাগরেই সীমাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানি নৌবাহিনীর উপস্থিতি।অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবে এমন একটি এলাকা যেখানে ভারত উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক এবং কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য বঙ্গোপসাগর ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই বিস্তৃত জলরাশি, যার উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য নৌ শক্তিগুলোর উত্থানের মধ্যেও এই দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক।এ কারণেই শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার করা মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ।দ্য মর্নিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক পিএনএস হ্যাঙ্গরকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান এই শ্রেণির আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।গত ৭ জুন এই সংবাদটি প্রকাশ করেছে দ্য মর্নিং।উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর কোনো একটি দেশের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের উপকূলরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার উপর সার্বভৌমত্ব এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে।এই সীমার বাইরে রয়েছে আন্তর্জাতিক জলসীমা, যেখানে এমনকি বিদেশি সামরিক জাহাজগুলোও মূলত অবাধে চলাচল করতে পারে।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen)।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬ -২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান
সিলেটের জেলাপ্রশাসক সারওয়ার আরম প্রত্যাহার, শাহজালাল (রহ.) মাজার কর্তৃপক্ষ খুশি

সিলেটের জেলাপ্রশাসক সারওয়ার আরম প্রত্যাহার, শাহজালাল (রহ.) মাজার কর্তৃপক্ষ খুশি

সমালোচনার মুখে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার-কান্ড নিয়ে সমালোচনার মুখে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রুসই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ২২ জুন ২০২৬ইং (সোমবার) তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে  যোগ দিতে বলা হয়েছে।সিলেটে যোগ দেওয়ার পর প্রথম দিকে তার কিছু কর্মকান্ড বেশ প্রশংসিত হলেও সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সারওয়ার আলম। কয়েক শত বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বৃস্পতির মাজারের দানের ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স বসান সারওয়ার আলম। এই দানবাক্সের পাহারায় আনসার নিযুক্ত ও সিসি ক্যামেরা বসান এই জেলা প্রশাসক।মাজারের আয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সারওয়ার আলম। তবে মাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাজার বিরোধী এই চক্রের ইন্ধনে দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য ও রেওয়াজ ভেঙে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।২৭ তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন।২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে  ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে ছিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয় টিকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদন্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মুক্ত বাণিজ্য ও পারস্পরিক সংযোগে জোর এপেক আলোচনায়

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ স্তরের, সর্বব্যাপী এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতা ব্যবস্থা। এপেক-এর "চীন বছর"-এর বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের প্রতীকী অনুষ্ঠান হিসেবে, "উন্মুক্ততা, পারস্পরিক সংযোগ ও সমন্বয়: এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সংযুক্তি ও ভবিষ্যৎ সৃষ্টি" শীর্ষক এপেক বাণিজ্যিক নেতৃবৃন্দের চীনা সম্মেলন, ২১ জুন বেইজিংয়ে আয়োজিত হয়। এতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, পারস্পরিক সংযোগ, ডিজিটাল উদ্ভাবন—এসব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিষয়গুলোর ওপর, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক নেতারা, গভীর মতবিনিময় ও ঐক্যমত গঠন করেন এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও বৈশ্বিক উন্নয়নের নতুন অধ্যায় রচনার জন্য হাতে হাত মেলান। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জনসংখ্যা বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ; অর্থনীতি বিশ্বের ৬০%-এর বেশি; এবং বাণিজ্য প্রায় অর্ধেক। বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা আছে; টেকসই উন্নয়নের চালিকাশক্তিও দুর্বল। এই প্রেক্ষাপটে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়য়নের মান বিশেষ নজর কাড়ে। "এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক মহল হলো যুগের অগ্রদূত, পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক এবং প্রবাহের নেতৃত্বদানকারী। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই অস্থির ও জটিল হোক না কেন, আমাদের উচিত একে অপরের দিকে এগিয়ে আসা, সংকট কাটিয়ে উঠতে হাতে হাত মেলানো, সহযোগিতা গভীর করা এবং পারস্পরিক লাভ নিশ্চিত করা।" চীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রচার পরিষদের সভাপতি রেন হংপিন বলেন, এপেকের সদস্যদেশগুলোর উচিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা, বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা; একতরফাবাদ ও সংরক্ষণবাদের বিরোধিতা করা; বাণিজ্য ও বিনিয়োগের উদারীকরণ ও সহজীকরণ অব্যাহত রাখা; এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও পারস্পরিক সংযোগ নেটওয়ার্ক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীভবনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ২০২৬ সাল এপেক নেতৃবৃন্দের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের স্বপ্ন ঘোষণার ২০তম বার্ষিকী। এপেক আন্তর্জাতিক সচিবালয়ের নির্বাহী পরিচালক এডুয়ার্ডো পেদ্রোসা বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক মহলের উচিত, সহযোগিতার মূল কথায় অটল থাকা, উন্মুক্ততার ঐক্যমত জোরদার করা, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীভবনের প্রক্রিয়া সুসংহতভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং এপেককে শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সহায়তা করা, যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে ওঠে। এপেক বাণিজ্যিক উপদেষ্টা পরিষদের মার্কিন প্রতিনিধি ও বোয়িং চীনের সভাপতি লেন্ডন লুমিস বলেন, বিমান শিল্প পারস্পরিক সংযোগের জাল আরও ঘন করার গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বর্তমানে প্রতিদিন বিশ্বে প্রায় ১৪ হাজার বোয়িং বিমান চলাচল করে; প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ১০ লাখ যাত্রী পরিবহন করে। আগামী ২০ বছরে আনুমানিক ৬০% বিমান এপেক অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সংযোগের মান বাড়ালে, অর্থনৈতিক বাণিজ্য সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়বে এবং বৈশ্বিক উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে। উদ্ভাবন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক উড্ডয়নের ডানা এবং এপেকের বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র। বর্তমানে, নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও শিল্প রূপান্তর দ্রুত এগোচ্ছে; বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে, যা বিশ্বের সম্পদ বণ্টন ও শিল্প বিকাশের ধরনকে ব্যাপকভাবে বদলে দিচ্ছে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শিল্প-সহযোগিতায় অফুরন্ত ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করছে। আলোকচিত্রের সরঞ্জাম, সম্প্রচার যন্ত্রপাতি, ফ্যান জোনের প্রদর্শনী উপকরণ—চলমান যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বিশ্বকাপের ১৬টি বৈশ্বিক পৃষ্ঠপোষকের মধ্যে চীনা সংস্থা রয়েছে চারটি। আর আর্জেন্টিনা, স্পেন, জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের জাতীয় ফুটবল দলের সরকারি অংশীদার হিসেবে, টিসিএল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে চীনা ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক প্রভাব আবারও প্রমাণ করছে। "গত এক দশকেরও বেশি সময়ে চীনা উত্পাদন শিল্প স্মার্ট উত্পাদন, শিল্প ইন্টারনেট, ডিজিটাল সরবরাহ শৃঙ্খল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ—এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক অনুশীলন করেছে এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।" টিসিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লি তুংশেং বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এখনও উন্নয়নের পার্থক্য ও ডিজিটাল বিভাজন বিদ্যমান; তাই, চীনের অগ্রণী উত্পাদন সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ও সক্ষমতা রয়েছে—অভিজ্ঞতা বিনিময়, সক্ষমতা নির্মাণ এবং বাস্তুতান্ত্রিক সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের সামগ্রিক আপগ্রেডেশন ঘটানো, অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া অর্থনীতিগুলোকে শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক সম্মিলিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। শিল্প উৎপাদন, আর্থিক সেবা, জ্বালানি রূপান্তর—এসব ক্ষেত্রে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ দেখে, "টেকসই বাজার উদ্যোগ"-এর প্রধান নির্বাহী সেফি বলেন, প্রয়োগের পর্দা উন্মোচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরও বেশি ক্ষেত্র ও মানুষের জীবনকে "আলোকিত" করবে। এই প্রেক্ষাপটে এপেকের সদস্যদেশগুলোর উচিত ডিজিটাল বিভাজন দূর করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ডিজিটাল উদ্ভাবন প্রযুক্তির গুণক প্রভাব পুরোপুরি কাজে লাগানো, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করা, এবং আরও স্থিতিস্থাপক ও সজীব এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ডিজিটাল অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা। সূত্র:স্বর্ণা-আলিম-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর
র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

এক কিলোমিটার জুড়ে আর্জেন্টিনার পতাকা, দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর কোরবানপুর বাজার

কুমিল্লার মুরাদনগরের কোরবানপুর বাজারে ঢুকতেই চোখে পড়ে নীল-সাদার এক ভিন্ন জগৎ। বাজারের প্রধান সড়কজুড়ে সারি সারি আর্জেন্টিনার পতাকা বাতাসে উড়ছে। প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই সাজসজ্জা শুধু ফুটবলপ্রেমীদেরই নয়, সাধারণ মানুষেরও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে।উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোরবানপুর বাজারে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রনি, অপু রায়হান, হাবিব খান ও রুহুল আমিনের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য, প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং ফুটবল উৎসবকে ঘিরে আনন্দ ছড়িয়ে দিতেই প্রায় ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে পতাকাগুলো টানানো হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের প্রবেশপথ থেকে বিভিন্ন সড়কের ওপর দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়েছে শত শত পতাকা। দূর থেকে দেখলে অনেকের কাছেই এটি কোনো বড় উৎসব কিংবা নির্বাচনী প্রচারণার সাজসজ্জা বলে মনে হতে পারে। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়, এটি ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ আর উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে বাজারে মানুষের আনাগোনা তুলনামূলক কম থাকলেও পতাকা টানানোর পর দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে ছবি তুলছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।তবে খেলাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সচেতন রয়েছেন এলাকার বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে, ফুটবল মানুষের বিনোদনের খোরাক এবং সম্প্রীতির বন্ধন জোরদার করার একটি মাধ্যম। সমর্থনের ভিন্নতা থাকলেও তা যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য নষ্ট না করে।আয়োজকরাও জানান, তাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য আনন্দ ভাগাভাগি করা। ফুটবলকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় হোক—এটাই তাদের প্রত্যাশা।ফুটবলপ্রেমের রঙে রাঙানো কোরবানপুর বাজার তাই এখন শুধু আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আবেগের জায়গা নয়, বরং উৎসব, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ।

ভিক্টোরিয়া কলেজস্থ বরুড়া স্টুডেন্ট'স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

ভিক্টোরিয়া কলেজস্থ বরুড়া স্টুডেন্ট'স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজস্থ বরুড়া স্টুডেন্ট'স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বরুড়া উপজেলার ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের "নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬" জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাসার ভূঁঞা। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং তাদেরকে নৈতিকতা, অধ্যবসায় ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুল মজিদ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক জনাব গাজী মো. গোলাম সোহরাব হাসান, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. মোশারফ হোসাইন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মাহমুদা আক্তার, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মিহির রঞ্জন ভৌমিক, কুমিল্লা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ জনাব হুমায়ুন কবির মাসুদ, শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক জনাব ওমর ফারুক মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ জনাব ইমাম হোসেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জনাব আবদুল কুদ্দুস রাফাত।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভিক্টোরিয়া কলেজস্থ বরুড়া স্টুডেন্ট'স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোমরেজ হোসেন মোল্লা। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মহিন উদ্দিন স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আবু সাঈদ এবং অর্থ সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ।এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং এতে বরুড়া উপজেলার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। রোববার সংগঠনটি চাঞ্চল্যকর অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা, গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান ও মানবাধিকার কর্মীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদে এ অনুষ্ঠানে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা  প্রদান করেছে এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন। সংগঠনের কেন্দ্রিয় চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল মিয়ার সভাপতিত্বে সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, সাহিত্যিক সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখত। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্ম জেগে উঠেছে, দেশের উন্নয়নে প্রেসক্লাব ইউনিটি ও হোসাইনিয়া পাক দরবার শরীফ আত্মনিবেদিত হয়ে বিশ্বমন্ডলে শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা জাগ্রত করার আহ্বান জানান। সুপ্রিম কোর্ট সিনিয়র আইনজীবী লতিফুর রহমান সম্মিলিত মানবাধিকার কর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেসক্লাব এর নতুন কমিটিকে সাথে নিয়ে ডা মাঈনুদ্দীন স্বেচ্ছাশ্রমে সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কাজে সম্পৃক্ত হতে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। উদ্ভাধনী আলোচনায় কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাহী পরিচালক ইন্জিনিয়র এম সোহেল আহমদ বলেন, দীর্ঘ সময়ে সংগঠনের সাথে রয়েছি, কখনো দায়িত্ব পালনে বিচলিত হইনি, আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকব ইনশাল্লাহ। এ সময় ঢাকা বিভাগীয় শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের হাততালিতে শুভেচ্ছা জানান। কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ শহীদুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ মজুমদার, আনজার শাহ,আবু আহাদ আল মাহমুদ দীপু মীর, আলমগীর ওয়েচী, মোঃ জাকির হোসেন, আনছারুল হক, মোঃ শাকিল হাওলাদার স্বাধীন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক ভূঁইয়া, তাছলিমা আক্তার লিজা, হাসুরা বেগম, মোঃ মানিক মিয়া, ফুল চান্দ বাবু,নূরে আলম,নাছির উদ্দিন পলাশ,আহম উল্যাহ, কাজী নূরুল আজিম, মোঃ আবু সালেক ভূঁইয়া, এম জি বাবর ও  আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ। সংগঠনের সাদা মনের সাদা সম্মাননা ১০ গুণীজনদের প্রদান শেষে সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্মরণ  ও জাতীর শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া কামনা করা হয়।

বরুড়ায় ২৬ জুন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির, অপারেশনসহ থাকবে নানা সুবিধা

বরুড়ায় ২৬ জুন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির, অপারেশনসহ থাকবে নানা সুবিধা

আগামী ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের মহিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হবে।বাংলাদেশ অন্ধকল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা ও চক্ষু হাসপাতাল শংকর, আলেখারচর, বিশ্বরোড, কুমিল্লার পরিচালনায় এবং বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকার ব্যবস্থাপনায় এই চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।শিবিরে চক্ষু রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হবে। এছাড়াও যেসব রোগীর অপারেশনের প্রয়োজন হবে, তাদেরকে সেদিনই চক্ষু হাসপাতালের নিজস্ব গাড়িতে কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হবে। রোগীদের জন্য যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, সেবাযত্ন এবং চশমা প্রদানের ব্যবস্থাও বিনামূল্যে করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বরুড়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। এসব সংগঠনের সদস্যরা যদি নিজ নিজ এলাকার চক্ষু রোগীদের সংগঠিত করে চিকিৎসা শিবিরে নিয়ে আসেন, তাহলে অধিকসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং মানবিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুস সামাদ সকল স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা শিবিরে নিয়ে আসার জন্য বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।যোগাযোগ:মোঃ আবদুস সামাদসাবেক সাধারণ সম্পাদকবরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকামোবাইল: ০১৭১৮-৫৬৯৭৮০

ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের পায়রা চত্বরে ‘আমরা ঝিনাইদহবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচী পালিত হয়।এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়।ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচীতে ঝিনাইদহ ২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল আলিম, সেক্রেটারী আব্দুল আওয়ালসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।সেসময় বক্তারা বলেন, ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য জেলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। সম্প্রতি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে শৈলকুপা উপজেলায় স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। সেখানে করা হলে শুধুমাত্র একটি উপজেলার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাবে। তাই জেলার কেন্দ্রস্থল শহরের পাশে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবী জানান বক্তারা।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়। একই সঙ্গে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা.আনার হোসেনকে হাসপাতালের অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসাসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। হাসপাতালে প্রবেশের পরই তিনি হাজিরা খাতা ও ডিউটি রোস্টার যাচাই করেন। এ সময় বেশিরভাগ চিকিৎসক ও কর্মকর্তার কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।মন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা তার সঙ্গে কথা বলতে ভিড় করেন। তিনি তাদের কাছ থেকে হাসপাতালের সেবার মান, ভোগান্তি এবং বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ শোনেন। এ সময় রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া, দালালচক্রের সীমাহীন দৌরাত্ম্য, রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের নিম্নমান এবং টয়লেটের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়েকজন স্বজন অভিযোগ করেন, হাসপাতালে বিভিন্ন সেবা পেতে উঠতে-বসতে টাকা লাগে।পরিদর্শনের একপর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব, বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং টয়লেট ঘুরে দেখেন। তিনি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের মজুত এবং রোগীদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সেবার মানও খাবার পর্যবেক্ষণ করেন। হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। মন্ত্রীর আকস্মিক উপস্থিতির পর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে তৎপরতা বেড়ে যায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তোড়জোড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়েন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৩টার দিকে মন্ত্রী হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর কক্ষ থেকে বের হলে তার সিন্ডিকেটের ১০০-১৫০ অনুসারী তাৎক্ষণিক হ্যান্ড মাইক নিয়ে এসে তার প্রত্যাহার বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এ সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মন্ত্রী হাসপাতাল থেকে চলে যান। রোগী ও স্বজনদের প্রত্যাশা, এই আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে শুধু অনিয়ম চিহ্নিত করাই নয়, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।  পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের শাসন ছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব দেখা গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও টিকাদান কার্যক্রমে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। পরে অনেক কষ্ট করে টিকা সংগ্রহ করে আমরা শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি। স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতেই আমরা নানা সমস্যা দেখতে পাচ্ছি; যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এসে অমানবিক পরিস্থিতি দেখেছি। এখানে নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, তবে এর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির। আজ যেসব অব্যবস্থাপনা আমরা দেখেছি, সেগুলোর দায় তত্ত্বাবধায়ক এড়াতে পারেন না। এ কারণেই তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন. এম. নাসিরুদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জনবল সংকটে ধুঁকছে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা

জনবল সংকটে ধুঁকছে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জনবল সংকট, চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের অভাব এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত প্রায় ৬ লাখ মানুষের এই বৃহৎ উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বর্তমানে নানা সংকটে জর্জরিত।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ২৮২ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭৩ জন। ফলে ১০৯টি পদ শূন্য রয়েছে। অনুমোদিত ১০ জন কনসালটেন্টের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন এবং ৪৫ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২৩ জন। এছাড়া কয়েকজন চিকিৎসক বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকায় এবং কয়েকজন প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।* ১০৯ টি পদ শুন্য।*চিকিৎসক-নার্সের ঘাটতি।*বন্ধ এক্স-রে সেবা।* প্রতিদিন ভোগান্তিতে শত শত রোগী।নার্সিং সেবাতেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। অনুমোদিত ৪২ জন নার্সের মধ্যে কর্মরত আছেন ২৮ জন। তৃতীয় শ্রেণির ১৫৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১০২ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৯টি পদের বিপরীতে মাত্র ১৪ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।জনবল সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোতে। নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন মাত্র একজন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন দুইজন। ফলে বিশাল হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক্স-রে টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে সেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে। একইভাবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীরা সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত বড় একটি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এভাবে চলতে পারে না। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।এদিকে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধাও নেই। বিদ্যমান আবাসন ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় দুই বছর আগে আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে পরিত্যক্ত ভবনগুলো হাসপাতাল চত্বরে অপরিচ্ছন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করছে।হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। কিন্তু সীমিত জনবল নিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “সরকার স্বাস্থ্য খাতে ৫ হাজার চিকিৎসক, নার্সসহ প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জনবল সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে।”মুরাদনগরবাসীর দাবি, দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, অচল সেবাগুলো পুনরায় চালু এবং আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে উপজেলার লাখো মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে।

বরুড়ায় ২৬ জুন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির, অপারেশনসহ থাকবে নানা সুবিধা

বরুড়ায় ২৬ জুন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির, অপারেশনসহ থাকবে নানা সুবিধা

আগামী ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের মহিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হবে।বাংলাদেশ অন্ধকল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা ও চক্ষু হাসপাতাল শংকর, আলেখারচর, বিশ্বরোড, কুমিল্লার পরিচালনায় এবং বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকার ব্যবস্থাপনায় এই চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।শিবিরে চক্ষু রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হবে। এছাড়াও যেসব রোগীর অপারেশনের প্রয়োজন হবে, তাদেরকে সেদিনই চক্ষু হাসপাতালের নিজস্ব গাড়িতে কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হবে। রোগীদের জন্য যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, সেবাযত্ন এবং চশমা প্রদানের ব্যবস্থাও বিনামূল্যে করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বরুড়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। এসব সংগঠনের সদস্যরা যদি নিজ নিজ এলাকার চক্ষু রোগীদের সংগঠিত করে চিকিৎসা শিবিরে নিয়ে আসেন, তাহলে অধিকসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং মানবিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুস সামাদ সকল স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনের সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা শিবিরে নিয়ে আসার জন্য বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।যোগাযোগ:মোঃ আবদুস সামাদসাবেক সাধারণ সম্পাদকবরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকামোবাইল: ০১৭১৮-৫৬৯৭৮০