মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

পাবনায় এক নিষ্পাপ শিশুর শেষ সন্ধ্যা / ধর্ষণের মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই নিভে গেল কলির প্রাণ

পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে যেন এক অন্ধকার ছায়া নেমে এসেছিল। মাত্র দশ বছরের ছোট্ট কামরুন্নাহার কলি—চতুর্থ শ্রেণির এক অসহায় ফুলের মতো শিশু। তার চোখে ছিল স্বপ্ন, হাতে ছিল খেলার আনন্দ। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় সব শেষ হয়ে গেল।মাগরিবের নামাজ শেষ করে জায়নামাজ থেকে ওঠার পরই তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় মুদি দোকানের পেছনের অন্ধকার কক্ষে। সেখানে তার ওপর নেমে আসে নৃশংসতা। ধর্ষণের পর মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই বালিশ চেপে তার শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। এক নিষ্পাপ প্রাণ এভাবেই নিভে যায়।৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর কলি নিখোঁজ হয়। সাত দিন ধরে পরিবারের চোখে ঘুম নেই, বুক ভরে আহাজারি। অবশেষে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার হয়। দুর্গন্ধ আর কুকুরের তাড়ায় আসামিরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়—মরদেহ বাইরে নিতে পারেনি। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। সেই মুহূর্তে গ্রামের বুক ফেটে যায়।গ্রেপ্তার হয় দুজন—মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলী। রিমান্ডে মোস্তফা স্বীকার করেছে সেই ভয়ংকর সত্য। ঘটনার পর রাত দশটার দিকে সে আবার দোকান খুলে বসে, রক্তমাখা শরীর নিয়ে গোসল করে। এমনকি নিখোঁজ কলির পরিবারের সঙ্গে মিশে খোঁজার নাটকে অংশ নেয়। গভীর রাতে মোবাইলে খোঁজখবর রাখে, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও যোগ দেয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় সাংবাদিক ও পুলিশের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে সে—যেন কিছুই হয়নি।তদন্তকারী ডিবি পুলিশের এসআই বেনু রায় পিপিএম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। মোস্তফার আচরণেই সন্দেহ জাগে। স্থানীয় এক মেম্বার তার হাত ধরতেই সে কাঁপতে শুরু করে। পুলিশ বুকে কান দিয়ে বুঝতে পারে—তাকে তৎক্ষণাৎ আটক করা হয়।ঘটনার দিন সকালেই কলি ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। সেখানে মোস্তফা মোবাইলে শিশুটির অসঙ্গতিপূর্ণ ছবি তোলে। সন্ধ্যায় দোকানের সামনে বেঞ্চে বসে থাকা কলিকে নামাজ শেষে পেছনের কক্ষে নিয়ে যায়। কয়েক দফা ধর্ষণের পর মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই হত্যা নিশ্চিত করে। মোস্তফার ফোনে আরও অসংখ্য উঠতি বয়সী মেয়ের আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে—যা তার আগের দুশ্চরিত্রের ইঙ্গিত দেয়।মোস্তফা দাবি করে, দুজনে মিলে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে। ইয়াসিন অস্বীকার করে বলে, সে শুধু হত্যার পর সহযোগিতা করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় দুজনের বীর্যের আলামত পাওয়া গেলে সত্য আরও স্পষ্ট হবে। তদন্ত প্রায় শেষ; সোমবার আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হবে।এদিকে নিহতের বাড়ি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উত্তেজিত জনতার হাতে। আদালতে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের দাবিতে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এক নিষ্পাপ শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়ার এই নৃশংসতা পাবনার মাটিতে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে—যে ক্ষত সহজে শুকোবে না। কলির চোখের স্বপ্ন আর কখনো ফিরবে না। শুধু রয়ে গেছে এক অসহায় মায়ের বুকের কান্না আর এক গ্রামের নিঃশব্দ আর্তনাদ।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিজ মা ও আট মাসের শিশুকে হত্যা, যুবক ইমন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, ২৫ বছর বয়সী যুবক ইমন তার মা পেয়ারা বেগম (৬৫) ও আট মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাতকে হত্যা করেছে। মা ও শিশুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা শাশুড়ি রায়েয়া বেগম (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।ঘটনাস্থল ছিল বড়শালঘর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়ি। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ইমন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে মাকে আক্রমণ করে হত্যা করে। এরপর শিশু ভাতিজিকেও হত্যা করে। বাধা দিতে এগিয়ে আসা রায়েয়া বেগমকেও আক্রমণ করা হয়। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত রায়েয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান এবং ইমনকে আটক করে একটি ঘরে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ এলে তাকে হস্তান্তর করা হয়।দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত ইমনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তবে ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিজ মা ও আট মাসের শিশুকে হত্যা, যুবক ইমন গ্রেপ্তার

‘ফটোভোলটাইক-পশুপালন’ মডেলে মরুভূমির নতুন জীবন

ছিংহাই প্রদেশের তা লা সৈকতের সবুজ রূপান্তর, টেকসই উন্নয়নে চীনের উদ্ভাবনী পদ্ধতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একসময়কার ঊষর গোবি মরুভূমি, যার মরুকরণের হার ছিল ৯৮.৫ শতাংশ পর্যন্ত, একটিমাত্র ফটোভোলটাইক শক্তি প্রকল্পের কল্যাণে এক অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করেছে।প্রাথমিকভাবে পরিচ্ছন্ন শক্তির উন্নয়ন ও অব্যবহৃত মরুভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে শুরু হলেও, প্রকল্পটি অপ্রত্যাশিতভাবে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে এবং তৃণভূমির বিকাশ ঘটায়, যা একটি নতুন ‘ফটোভোলটাইক-পশুপালন পরিপূরক’ কাঠামোর অন্বেষণের পথ খুলে দেয়। কাঠামোটি নতুন শক্তির উৎসগুলোর উন্নয়নকে সম্পর্কহীন এবং এমনকি পারস্পরিকভাবে সীমাবদ্ধ অবস্থা থেকে পারস্পরিকভাবে উপকারী ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক অবস্থায় রূপান্তরিত করে, যা বিশ্বজুড়ে মরু অঞ্চলের সবুজ রূপান্তরের জন্য একটি উজ্জ্বল চীনা উদাহরণ স্থাপন করে।৩ হাজার মিটারের বেশি গড় উচ্চতার কারণে তা লা সৈকতে প্রচুর সূর্যালোক এবং বিশাল ও অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড রয়েছে, যা ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি প্রাকৃতিক সুবিধা প্রদান করে। এই অনন্য প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে, একটি বড় আকারের ফটোভোলটাইক শিল্প-উদ্যান নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্যানটিতে বিস্তৃত ফটোভোলটাইক প্যানেলগুলো একটি নীল শক্তি ম্যাট্রিক্স তৈরি করেছে, যা ক্রমাগত স্থিতিশীল ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ করে এই অঞ্চলের নিম্ন-কার্বন রূপান্তরে অবদান রাখছে। প্রাথমিকভাবে, সকলের মূল উদ্দেশ্য ছিল শক্তি উৎপাদন এবং তাঁরা কেবল অনুর্বর গোবি মরুভূমি থেকে সবুজ অর্থনৈতিক মূল্য তৈরির আশা করেছিলেন। কিন্তু, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পশুপালন শিল্পের সঙ্গে এর গভীর সংযোগের কথা কল্পনাও করেননি।শিল্প উন্নয়নের বিস্ময়কর রূপান্তর শুরু হয়েছিল পরিবেশের নীরব পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে। সারি সারি ফটোভোলটাইক প্যানেল একটি প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে, যা মালভূমির ভূমিকে তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং মাটির আর্দ্রতা বাষ্পীভবন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্যানেল থেকে চুইয়ে পড়া জল ক্রমাগত অনুর্বর ভূমিকে পুষ্ট করে। বছরের পর বছর ধরে পরিবেশগত সংরক্ষণ হাজার হাজার বছর ধরে সুপ্ত থাকা মরুভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, উদ্ভিদের আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে এবং একদা অনুর্বর ভূমিকে সুবিশাল উন্নত মানের তৃণভূমিতে রূপান্তরিত করেছে।পরিবেশগত অবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন উন্নয়নমূলক প্রতিবন্ধকতাও দেখা দিচ্ছে। অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা ঘাস ফটোভোলটাইক কাঠামোর কাজে বাধা সৃষ্টি করে বিদ্যুতের উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে এবং শরৎ ও শীতকালে শুকিয়ে যাওয়া আগাছা অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। প্রচলিত হাতে আগাছা পরিষ্কার করার পদ্ধতিতে প্রচুর জনবল ও সম্পদের প্রয়োজন হয়, যা উদ্যানের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি, এটি একটি বিশাল ফটোভোলটাইক পার্কের ব্যবস্থাপনার কাজকেও কঠিনতর করে। একদিকে যেমন নতুন জ্বালানি শিল্পের স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি পুনরুজ্জীবিত তৃণভূমি ও স্থানীয় পশুপালকদের জীবিকা রক্ষারও প্রয়োজন আছে। আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী এই দুটি বিষয় একটি জরুরি উন্নয়নমূলক সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যার সমাধান করা প্রয়োজন।দ্বন্দ্ব ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়ে, চীন একক উন্নয়ন মানসিকতা পরিত্যাগ করে। মালভূমি অঞ্চলের বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে, এক অনন্য ‘পশুপালন-সৌর পরিপূরক’ উন্নয়ন-পথ খুঁজে বের করে। এতে সমস্যা সুযোগে রূপান্তরিত হয়। স্থানীয় এলাকাগুলো নবগঠিত তৃণভূমি সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার করে, পশুপালকদের বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যায়ক্রমিক পশুচারণ পরিচালনায় নির্দেশনা দেয় এবং এক স্বতন্ত্র ‘ফটোভোলটাইক ভেড়া’ শিল্প গড়ে তোলে।এই উদ্ভাবনী কাঠামো একাধিক সুবিধা প্রদান করে। ফটোভোলটাইক শিল্পের জন্য ভেড়াগুলো স্বাভাবিকভাবে আগাছা খেয়ে উদ্যানে আগাছা পরিষ্কার করা এবং আগুন প্রতিরোধের মতো কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করে। এটি উচ্চ শ্রম খরচ ছাড়াই ফটোভোলটাইক যন্ত্রপাতির স্থিতিশীল কার্যক্রম নিশ্চিত করে। গ্রামীণ পশুপালন এলাকায় প্যানেলের নিচের প্রাকৃতিক চারণভূমি গবাদি পশুর উচ্চমানের, বিনামূল্যে প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ করে। এটি কৃষকদের পশুপালনের খরচ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয় ও স্থানীয়ভাবে তাদের আয় বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, ভেড়ার বিষ্ঠা জমিতে ফিরে আসে, যা ক্রমাগত মাটির গুণগত মান উন্নত করে, পরিবেশগত পুনরুদ্ধারের ফলাফলকে আরও সুসংহত করে এবং একটি সম্পূর্ণ বদ্ধ চক্র তৈরি করে।বর্তমানে তা লা সৈকত জনশূন্য মরুভূমির রূপ ঝেড়ে ফেলে পরিবেশ, শিল্প ও মানুষের জীবনযাত্রায় এক যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জন করেছে। ফটোভোলটাইক শিল্প উদ্যানটি এখন আর একটি স্রেফ শক্তি উৎপাদনকেন্দ্র নয়, বরং এটি একটি পরিবেশবান্ধব চারণভূমিতেও পরিণত হয়েছে, যা গ্রামীণ উন্নয়নকে চালিত করে ও পশুপালকদের সমৃদ্ধ করে। এই উদ্ভাবনী কাঠামো পার্শ্ববর্তী ১৮টি গ্রামে সম্মিলিত অর্থনীতির উন্নয়নে ছড়িয়ে পড়েছে ও তাকে চালিত করেছে।তা লা সৈকতের এই অসাধারণ রূপান্তরের মূলে রয়েছে সহাবস্থান ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার প্রজ্ঞা। এটি এই প্রচলিত ধারণাটিকে ভেঙে দিয়েছে যে, ‘শিল্প উন্নয়ন অনিবার্যভাবে পরিবেশকে বলি দেয় ও নির্মাণকাজ অনিবার্যভাবে ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে প্রতিস্থাপন করে’। এটি নতুন শক্তি উন্নয়নের জন্য স্থানীয় শিল্পকে পরিত্যাগ করেনি, কিংবা ঐতিহ্যবাহী উন্নয়ন মডেল আঁকড়ে ধরে সবুজ সুযোগও হাতছাড়া করেনি। এটি একটি স্বল্প খরচের, অনুকরণযোগ্য ও টেকসই স্থানীয় সমাধানের মাধ্যমে শক্তি উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য স্থাপন করেছে।ঊষর গোবি মরুভূমি থেকে শক্তির মরূদ্যানে, একক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে কৃষি ও সৌরশক্তির মধ্যে এক মিথোজীবী সম্পর্কে, তা লা সৈকতের উদ্ভাবনী কার্যক্রম মানবতা ও প্রকৃতির মধ্যে সুরেলা সহাবস্থানের উন্নয়ন দর্শনকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। চীনের গ্রামীণ সবুজ উন্নয়নের অভিজ্ঞতাটি সহজবোধ্য, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। এটি বিশ্বজুড়ে শুষ্ক ও মরু অঞ্চলে পরিবেশগত শাসন, শক্তির রূপান্তর ও মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি অত্যন্ত মূল্যবান নতুন সমাধান প্রদান করে।সূত্র: ছাই, আলিম, ওয়াং হাইমান, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

‘ফটোভোলটাইক-পশুপালন’ মডেলে মরুভূমির নতুন জীবন
অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার

অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৬৩ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে নগর পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তারা প্রায় দেড় মাস আগে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা ও অন্যান্য অনলাইন অপরাধে জড়িত ছিলেন। তাদের কার্যক্রমে দেশি-বিদেশি কয়েকজন সহযোগী লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আসছিলেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ আরও জানায়, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা তাদের কয়েকজন সহযোগী এখনও পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

‘ফটোভোলটাইক-পশুপালন’ মডেলে মরুভূমির নতুন জীবন

ছিংহাই প্রদেশের তা লা সৈকতের সবুজ রূপান্তর, টেকসই উন্নয়নে চীনের উদ্ভাবনী পদ্ধতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একসময়কার ঊষর গোবি মরুভূমি, যার মরুকরণের হার ছিল ৯৮.৫ শতাংশ পর্যন্ত, একটিমাত্র ফটোভোলটাইক শক্তি প্রকল্পের কল্যাণে এক অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করেছে।প্রাথমিকভাবে পরিচ্ছন্ন শক্তির উন্নয়ন ও অব্যবহৃত মরুভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে শুরু হলেও, প্রকল্পটি অপ্রত্যাশিতভাবে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে এবং তৃণভূমির বিকাশ ঘটায়, যা একটি নতুন ‘ফটোভোলটাইক-পশুপালন পরিপূরক’ কাঠামোর অন্বেষণের পথ খুলে দেয়। কাঠামোটি নতুন শক্তির উৎসগুলোর উন্নয়নকে সম্পর্কহীন এবং এমনকি পারস্পরিকভাবে সীমাবদ্ধ অবস্থা থেকে পারস্পরিকভাবে উপকারী ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক অবস্থায় রূপান্তরিত করে, যা বিশ্বজুড়ে মরু অঞ্চলের সবুজ রূপান্তরের জন্য একটি উজ্জ্বল চীনা উদাহরণ স্থাপন করে।৩ হাজার মিটারের বেশি গড় উচ্চতার কারণে তা লা সৈকতে প্রচুর সূর্যালোক এবং বিশাল ও অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড রয়েছে, যা ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি প্রাকৃতিক সুবিধা প্রদান করে। এই অনন্য প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে, একটি বড় আকারের ফটোভোলটাইক শিল্প-উদ্যান নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্যানটিতে বিস্তৃত ফটোভোলটাইক প্যানেলগুলো একটি নীল শক্তি ম্যাট্রিক্স তৈরি করেছে, যা ক্রমাগত স্থিতিশীল ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ করে এই অঞ্চলের নিম্ন-কার্বন রূপান্তরে অবদান রাখছে। প্রাথমিকভাবে, সকলের মূল উদ্দেশ্য ছিল শক্তি উৎপাদন এবং তাঁরা কেবল অনুর্বর গোবি মরুভূমি থেকে সবুজ অর্থনৈতিক মূল্য তৈরির আশা করেছিলেন। কিন্তু, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পশুপালন শিল্পের সঙ্গে এর গভীর সংযোগের কথা কল্পনাও করেননি।শিল্প উন্নয়নের বিস্ময়কর রূপান্তর শুরু হয়েছিল পরিবেশের নীরব পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে। সারি সারি ফটোভোলটাইক প্যানেল একটি প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে, যা মালভূমির ভূমিকে তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং মাটির আর্দ্রতা বাষ্পীভবন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্যানেল থেকে চুইয়ে পড়া জল ক্রমাগত অনুর্বর ভূমিকে পুষ্ট করে। বছরের পর বছর ধরে পরিবেশগত সংরক্ষণ হাজার হাজার বছর ধরে সুপ্ত থাকা মরুভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, উদ্ভিদের আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে এবং একদা অনুর্বর ভূমিকে সুবিশাল উন্নত মানের তৃণভূমিতে রূপান্তরিত করেছে।পরিবেশগত অবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন উন্নয়নমূলক প্রতিবন্ধকতাও দেখা দিচ্ছে। অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা ঘাস ফটোভোলটাইক কাঠামোর কাজে বাধা সৃষ্টি করে বিদ্যুতের উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে এবং শরৎ ও শীতকালে শুকিয়ে যাওয়া আগাছা অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। প্রচলিত হাতে আগাছা পরিষ্কার করার পদ্ধতিতে প্রচুর জনবল ও সম্পদের প্রয়োজন হয়, যা উদ্যানের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি, এটি একটি বিশাল ফটোভোলটাইক পার্কের ব্যবস্থাপনার কাজকেও কঠিনতর করে। একদিকে যেমন নতুন জ্বালানি শিল্পের স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি পুনরুজ্জীবিত তৃণভূমি ও স্থানীয় পশুপালকদের জীবিকা রক্ষারও প্রয়োজন আছে। আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী এই দুটি বিষয় একটি জরুরি উন্নয়নমূলক সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যার সমাধান করা প্রয়োজন।দ্বন্দ্ব ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়ে, চীন একক উন্নয়ন মানসিকতা পরিত্যাগ করে। মালভূমি অঞ্চলের বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে, এক অনন্য ‘পশুপালন-সৌর পরিপূরক’ উন্নয়ন-পথ খুঁজে বের করে। এতে সমস্যা সুযোগে রূপান্তরিত হয়। স্থানীয় এলাকাগুলো নবগঠিত তৃণভূমি সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার করে, পশুপালকদের বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যায়ক্রমিক পশুচারণ পরিচালনায় নির্দেশনা দেয় এবং এক স্বতন্ত্র ‘ফটোভোলটাইক ভেড়া’ শিল্প গড়ে তোলে।এই উদ্ভাবনী কাঠামো একাধিক সুবিধা প্রদান করে। ফটোভোলটাইক শিল্পের জন্য ভেড়াগুলো স্বাভাবিকভাবে আগাছা খেয়ে উদ্যানে আগাছা পরিষ্কার করা এবং আগুন প্রতিরোধের মতো কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করে। এটি উচ্চ শ্রম খরচ ছাড়াই ফটোভোলটাইক যন্ত্রপাতির স্থিতিশীল কার্যক্রম নিশ্চিত করে। গ্রামীণ পশুপালন এলাকায় প্যানেলের নিচের প্রাকৃতিক চারণভূমি গবাদি পশুর উচ্চমানের, বিনামূল্যে প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ করে। এটি কৃষকদের পশুপালনের খরচ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয় ও স্থানীয়ভাবে তাদের আয় বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, ভেড়ার বিষ্ঠা জমিতে ফিরে আসে, যা ক্রমাগত মাটির গুণগত মান উন্নত করে, পরিবেশগত পুনরুদ্ধারের ফলাফলকে আরও সুসংহত করে এবং একটি সম্পূর্ণ বদ্ধ চক্র তৈরি করে।বর্তমানে তা লা সৈকত জনশূন্য মরুভূমির রূপ ঝেড়ে ফেলে পরিবেশ, শিল্প ও মানুষের জীবনযাত্রায় এক যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জন করেছে। ফটোভোলটাইক শিল্প উদ্যানটি এখন আর একটি স্রেফ শক্তি উৎপাদনকেন্দ্র নয়, বরং এটি একটি পরিবেশবান্ধব চারণভূমিতেও পরিণত হয়েছে, যা গ্রামীণ উন্নয়নকে চালিত করে ও পশুপালকদের সমৃদ্ধ করে। এই উদ্ভাবনী কাঠামো পার্শ্ববর্তী ১৮টি গ্রামে সম্মিলিত অর্থনীতির উন্নয়নে ছড়িয়ে পড়েছে ও তাকে চালিত করেছে।তা লা সৈকতের এই অসাধারণ রূপান্তরের মূলে রয়েছে সহাবস্থান ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার প্রজ্ঞা। এটি এই প্রচলিত ধারণাটিকে ভেঙে দিয়েছে যে, ‘শিল্প উন্নয়ন অনিবার্যভাবে পরিবেশকে বলি দেয় ও নির্মাণকাজ অনিবার্যভাবে ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে প্রতিস্থাপন করে’। এটি নতুন শক্তি উন্নয়নের জন্য স্থানীয় শিল্পকে পরিত্যাগ করেনি, কিংবা ঐতিহ্যবাহী উন্নয়ন মডেল আঁকড়ে ধরে সবুজ সুযোগও হাতছাড়া করেনি। এটি একটি স্বল্প খরচের, অনুকরণযোগ্য ও টেকসই স্থানীয় সমাধানের মাধ্যমে শক্তি উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য স্থাপন করেছে।ঊষর গোবি মরুভূমি থেকে শক্তির মরূদ্যানে, একক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে কৃষি ও সৌরশক্তির মধ্যে এক মিথোজীবী সম্পর্কে, তা লা সৈকতের উদ্ভাবনী কার্যক্রম মানবতা ও প্রকৃতির মধ্যে সুরেলা সহাবস্থানের উন্নয়ন দর্শনকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। চীনের গ্রামীণ সবুজ উন্নয়নের অভিজ্ঞতাটি সহজবোধ্য, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। এটি বিশ্বজুড়ে শুষ্ক ও মরু অঞ্চলে পরিবেশগত শাসন, শক্তির রূপান্তর ও মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি অত্যন্ত মূল্যবান নতুন সমাধান প্রদান করে।সূত্র: ছাই, আলিম, ওয়াং হাইমান, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

বুড়িচংয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ, আটক ৮

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ভরাসার-কালখের পাড় এলাকায় কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, রোববার সকাল ৮টার দিকে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় যুবলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূইয়া রুমির তত্ত্বাবধানে ষোলনল ইউনিয়নের ভরাসার ও কালখের পাড় এলাকায় একটি ব্যানার নিয়ে সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে জানা গেছে।এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায় মানি না, মানব না’—এমন স্লোগান দেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। পরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান শুরু করে বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, পুলিশের অভিযানে বুড়িচং সদর এলাকা থেকে যুবলীগ নেতা সফিকুল ইসলাম, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো. কামাল হোসেন মাস্টার এবং বাকশীমূল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়।তবে মিছিলের স্থান নিয়ে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।বুড়িচং থানার এসআই মো. রাকিবুল হাসান বলেন, বুড়িচং উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কে কোনো মিছিল হয়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার এলাকায় মিছিল হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এ ঘটনায় রোববার আটজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।অন্যদিকে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজিত বড়ুয়া বলেন, রোববার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের কোনো মিছিল বা সভা হয়নি। তবে শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের লোকজন মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের প্রতিহত করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভরাসার ও কালখের পাড় এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ে। তবে কর্মসূচির স্থান ও অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আরও যাচাই-বাছাই চলছে।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

বরুড়ায় এ কে এম আবু তাহের স্মৃতি আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিমূলক সভ অনুষ্ঠিত

কুমিল্লার বরুড়ায় মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের স্মৃতি আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ আয়োজন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বরুড়া উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ, বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক।এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউল হক রেজু, সহ-সভাপতি ও বরুড়া বাজার কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরু, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জামান হানিফ, উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সেলিম মিয়াজি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফারভেজ।এছাড়াও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব খন্দকার জাফর ইকবাল এবং বরুড়া উপজেলা ক্রীড়া কমিটির সদস্য ও পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সাদ্দাম সহ ১৮ টি উপজেলার প্রতিনিধি ও ক্রিড়ানুরাগী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় টুর্নামেন্টের সার্বিক আয়োজন, মাঠ প্রস্তুতি, অংশগ্রহণকারী দল, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।আয়োজকরা জানান, কুমিল্লা জেলার ১৮টি উপজেলা ও কুমিল্লা মহানগরের দলগুলো এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।মরহুম এ কে এম আবু তাহের ফাউন্ডেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ইলেভেন স্টার ক্লাব, কুমিল্লার সার্বিক সহযোগিতায় এ আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে মাদ্রাসায় ২৩ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে

কিশোরগঞ্জে মাদ্রাসায় ২৩ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ২৩ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ১৮ জন ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। আর আগের নিয়োগ দেখিয়ে আরও পাঁচজনকে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির নকল কাটিং তৈরি, নিয়োগ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল এবং প্রকৃত নিয়োগের সময়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ তারিখ দেখিয়ে কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরে এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফাইল পাঠানো হয়।স্থানীয় মোখলেছুর রহমান বলেন, মাদ্রাসাটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁর দাবি, নিয়োগের কাগজপত্রে অসঙ্গতি ও জালিয়াতির বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।অলিয়ার রহমান বলেন, তাঁর ছেলের চাকরির জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, চাকরি হবে আশায় তাঁর ছেলে চার-পাঁচ বছর মাদ্রাসায় কাজ করলেও কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। পরে চাকরি হবে না জানিয়ে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় দেওয়া টাকার কিছু অংশ ফেরত দেওয়া হলেও পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. অহিদুল ইসলাম ব্যাকডেটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভুয়া পেপার কাটিং তৈরি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জাল এবং নিবন্ধনহীন ব্যক্তিদের ২০০৫ সালের আগে ও জাল নিবন্ধনধারীদের ২০১৬ সালের আগে নিয়োগ দেখিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মচারী পদে আট থেকে নয় লাখ টাকা এবং শিক্ষক পদে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর এমপিওভুক্তির জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের চাকরি দেওয়ার কথা বলেও বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।চাকরিপ্রত্যাশী আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘চাকরির জন্য আমিও ১০ লাখ টাকা দিয়েছি। পরে আমাকে চাকরি দেওয়া হয়নি। টাকাও এখনো ফেরত পাইনি। এলাকার আরও অনেকের কাছ থেকে অধ্যক্ষ টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত দেওয়ার চাপের কারণে তিনি মাদ্রাসায় আসেন না।’স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা ফেরত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রত্যাশীদের চাপের মুখে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষ মো. অহিদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফ-উজ-জামান সরকার বলেন, ‘মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা পাওয়ার কথা জানা গেছে। তবে এটি ফাজিল মাদ্রাসা হওয়ায় এ বিষয়ে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই।’জানা গেছে, জাল নিয়োগ ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির অভিযোগে মাদ্রাসাটিতে একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের তদন্তেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানা গেছে। তবে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির সুযোগ তৈরি করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেহানা প্লাজায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দৈনিক দিন প্রতিদিনের সহকারী সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান পিন্টুর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক প্রতিদিনের খবরের সম্পাদক সরকার জামাল।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশের আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ও কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার প্রধান উপদেষ্টা সুমন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাইম ২৪-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং দৈনিক দিন প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি আয়শা আক্তার জেসিকা, শনিআখড়া পপুলার হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হুদা শামীম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হালিম শিকদার ও হাজী মো. নজরুল ইসলাম।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়-নীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের একপর্যায়ে স্থানীয় মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও পবিত্র কুরআনের হাফেজদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মিলাদ শেষে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগঅনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনের সদস্যদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।প্রস্তুতি কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সভাপতি: সরকার জামাল, দৈনিক প্রতিদিনের খবরসাধারণ সম্পাদক: মো. জাহিদ হাসান পিন্টু, দৈনিক দিন প্রতিদিনসাংগঠনিক সম্পাদক: আশিকুর রহমান, দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকাসিনিয়র সহসভাপতি: কবির হোসেন মঞ্জু, দৈনিক প্রতিদিনের খবরসহসভাপতি: হালিম শিকদার, দৈনিক বাংলা ভূমি; এস কে সবুজ আহমেদ, দৈনিক মুক্তির লড়াই; মাকসুদুর রহমান, টাইম ২৪যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শামীম হোসেন অর্নব, প্রথম আলো; নাছির সরদার, দৈনিক রূপবানীসহসাধারণ সম্পাদক: সামাদ সরওয়ার, নাগরিক টিভি; সোহেল আহমেদ, চ্যানেল এসদপ্তর সম্পাদক: এস এম সোহাগ রানা, টাইম ২৪মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: ইভা রহমান, দৈনিক বাংলা ভূমিঅর্থ সম্পাদক: তাহের শেখ, প্রতিদিনের খবরপ্রচার সম্পাদক: লিটন গাজী, সাহারা টিভিসাংস্কৃতিক সম্পাদক: এম এ এইচ মাসুদ, বার্তা বিচিত্রাতথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক: মো. শাওন, দৈনিক আলোর সময়সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: মো. মাইনুদ্দিন, বাংলাদেশের আলোত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক: দিপু ভূঁইয়া, আওয়ার বাংলাদেশপাঠাগার সম্পাদক: রুহুল আমীন হাওলাদার, দৈনিক সবার আগেকার্যকরী সদস্য: মো. জসিমউদ্দিন, সাহারা টিভি; নাছির মোল্লা, দৈনিক মাতৃভূমি; চৌধুরী ওহেদুন্নবী সানী, দৈনিক স্বাধীন কাগজ; শরিফুল হক, তথ্যবাণী; মো. হাকিম, দৈনিক ভোরের কথা; বাদল, রাজধানী টিভি; শাওন, প্রতিদিনের আলো এবং শাহারীয়া ইসলাম বাপ্পি।আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তুতি কমিটির মূল লক্ষ্য হলো সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা এবং সকল সদস্যের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা।অনুষ্ঠানের পরিশেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং সর্বস্তরের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কচুয়া  হাসপাতালে ৫০ বেডে ৮৮ রোগীর  চিকিৎসা চলছে!

কচুয়া হাসপাতালে ৫০ বেডে ৮৮ রোগীর চিকিৎসা চলছে!

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা বিছানা (বেড) না পেয়ে বারান্দায়ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- চাঁদপুরের এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বেড রয়েছে মাত্র  ৫০ টি। কিন্তু  ওইদিন (সোমবার) ৮৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।তার মধ্যে পুরনো ভর্তি রোগীও ছিলো। অর্থাৎ গত ২৪ ঘন্টায় ৮৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত  বেড না থাকায় হসপিটাল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বারান্দায় ও মেঝেতে চিকিৎসা দিচ্ছেন।সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোর ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সম্প্রসারনের উদ্যোগ নিয়েছে । সরকারের এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এই উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবার দুর্ভোগ লাগব হবে। প্রসঙ্গত :এই উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ লোকের বসবাস রয়েছে।  কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ( ইউএইচও) ডাক্তার মোহাম্মদ সোহেল রানা জানিয়েছেন -এটা প্রায় প্রতিদিনকার চিত্র। তবুও তারা সাধ্যমত মানুষকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষদের শহরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা কষ্টসাধ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা: কচুয়ায় রেনেঁসা ও সেবা ডায়াগনস্টিককে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা: কচুয়ায় রেনেঁসা ও সেবা ডায়াগনস্টিককে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০,০০০/- (ষাট হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।​অভিযানে লাইসেন্স বা মানদণ্ড ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা, অপারেশন থিয়েটারে বা হাসপাতালে চরম অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ রাখা, অযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার দায়ে রেনেঁসা মেডিকেল সেন্টারকে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা প্রতারণা সহ্য করা হবে না। চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং ভেজাল বা অনিয়ম রোধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু নাছির, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোঃ  জাহিদ হোসাইন এবং সাচার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা প্রমুখ।

শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় হাজেরা বেগম (৪২) নামে এক রোগী মৃত্যুর অভিযোগ করেছে স্বজনরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনরা জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শেখের বাড়ির আক্তার হোসেনের স্ত্রী হাজেরা বেগম দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে হাজেরা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে একাধিকবার রোগী দেখার অনুরোধ করেন। তিনি রোগী দেখতে স্বশরীরে ওয়ার্ডে না এসে নিজ কক্ষে অবস্থান করে মোবাইল স্ক্রলিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ওই সময় তিনি রোগীকে তার কক্ষে নিয়ে আসার জন্য স্বজনদের বলেন।নিহতের স্বামী আক্তার হোসেন অসুস্থ রোগীকে একা ডাক্তারের কক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব নয় জানালে তিনি রোগী না দেখেই অক্সিজেন দেয়ার পরামর্শ দেন। এর কিছুক্ষণ পর রাত ১২টার দিকে হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়। নিহতের স্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসককে বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি রোগী দেখতে আসেননি। সময়মতো রোগী দেখে চিকিৎসা দিলে হয়তো এ ঘটনার শিকার হতে হতো না। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য নিতে গেলে হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. জয়ন্ত মালাকার সাংবাদিকদের বক্তব্য সংগ্রহে বাঁধা প্রদান করেন। তিনি নিজেকে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন দাবি করে বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকের পক্ষে তিনিই বক্তব্য দেবেন।তার দাবি, ওই রোগীর আইসিইউ (ICU) সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল এবং লিভারের এ ধরনের জটিল রোগীর চিকিৎসা এ হাসপাতালে সম্ভব নয়। শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল জানান, চিকিৎসকের কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরুড়ায় ১০০০ চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ১০০ জনের অপারেশনের ব্যবস্থা

বরুড়ায় ১০০০ চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ১০০ জনের অপারেশনের ব্যবস্থা

চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। অথচ অর্থের অভাবে অনেক মানুষ সময়মতো চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য চক্ষু চিকিৎসা অনেক সময় হয়ে ওঠে ব্যয়বহুল ও কঠিন। এমন মানুষের পাশে দাঁড়াতে কুমিল্লার বরুড়ায় আয়োজন করা হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও রোগী বাছাই কার্যক্রম।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পেরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ চিকিৎসা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চোখের নানা সমস্যা নিয়ে ছুটে আসেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। প্রায় এক হাজার রোগীর চোখ পরীক্ষা, বিভিন্ন ধরনের চক্ষু রোগ শনাক্তকরণ, রোগী বাছাই এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও প্রদান করা হয়।চিকিৎসা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. শাহ আলম।এ সময় তিনি বলেন, বরুড়া জনকল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানবিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বন্যা, শীত ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটি কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমটি অত্যন্ত মানবিক উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করে বরুড়ার প্রতিটি ইউনিয়নে সারা বছরব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পারা মানুষের জন্য এ আয়োজন ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।চিকিৎসা নিতে আসা পয়েলগাছা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চোখের সমস্যায় ভুগছেন। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারেননি। বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তার চোখে ছানি ধরা পড়েছে এবং অপারেশনের জন্য তাকে কুমিল্লার চক্ষু হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।এ চিকিৎসা কার্যক্রমে ১8 জন চিকিৎসকের একটি বিশেষজ্ঞ টিম রোগীদের সেবা দেয়।চিকিৎসকরা জানান, চোখের ছোটখাটো সমস্যাকেও অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে অনেক ক্ষেত্রে তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।এদিকে, শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এ আয়োজন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে যাদের চোখে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন, তাদের মধ্য থেকে প্রায় ১০০ জন রোগীকে বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিল্লার আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপারেশনের পাশাপাশি এসব রোগীর যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, ওষুধ এবং চশমা প্রদানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের জন্য চোখের চিকিৎসার বড় একটি প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে।আয়োজকদের ভাষ্য, প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এ মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে আরবিস ইন্টারন্যাশনাল। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা। আর পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা।আয়োজনটি সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন। চিকিৎসা কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে বরুড়ার আরও ইউনিয়নে সম্প্রসারিত হবে। এতে অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত আরও অসংখ্য মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

কচুয়া  হাসপাতালে ৫০ বেডে ৮৮ রোগীর  চিকিৎসা চলছে!

কচুয়া হাসপাতালে ৫০ বেডে ৮৮ রোগীর চিকিৎসা চলছে!

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা বিছানা (বেড) না পেয়ে বারান্দায়ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- চাঁদপুরের এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বেড রয়েছে মাত্র  ৫০ টি। কিন্তু  ওইদিন (সোমবার) ৮৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।তার মধ্যে পুরনো ভর্তি রোগীও ছিলো। অর্থাৎ গত ২৪ ঘন্টায় ৮৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত  বেড না থাকায় হসপিটাল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বারান্দায় ও মেঝেতে চিকিৎসা দিচ্ছেন।সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোর ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সম্প্রসারনের উদ্যোগ নিয়েছে । সরকারের এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এই উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবার দুর্ভোগ লাগব হবে। প্রসঙ্গত :এই উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ লোকের বসবাস রয়েছে।  কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ( ইউএইচও) ডাক্তার মোহাম্মদ সোহেল রানা জানিয়েছেন -এটা প্রায় প্রতিদিনকার চিত্র। তবুও তারা সাধ্যমত মানুষকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষদের শহরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা কষ্টসাধ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।