বিএনপি সরকার ব্যার্থ হওয়ার জন্য আসেনি- সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী
বিএনপি সরকার ব্যার্থ হওয়ার জন্য আসেনি| এই সরকার সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার| তাই আমরা ব্যার্থ হব না| আমরা দেশকে নতুন করে ঢেলে সাজাবো| ব্যার্থতার জায়গাগুলোকে আমরা চিহ্নিত করে জঞ্জাল পরিস্কার করে নতুন বাংলাদেশ ˆতরী করব বলে জানিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী এ্যাড নিতাই রায় চৌধুরী| শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন|মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৮ বছরে দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সকল প্রতিষ্ঠান ধংস করা হয়েছিলো| সেগুলো নতুন জাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে| আমরা সেই জায়গাগুলোতে কাজ করছি| এদেশের সংস্কৃতি রক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে আমাদের কাজ চলছে|জেলার শিল্পকলা একাডেমীতে নতুন করে সুস্থ ধারার যাত্রা আবারো শুরু হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত দিনের অশ্লীল যাত্রা বাদ দিয়ে জীবনমুখী যাত্রা আমরা শুরু করতে যাচ্ছি|পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী| জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাড. এম এ মজিদ, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন|
ডিজিটাল লোভের অন্ধকার জাল: অনলাইন জুয়ায় ধ্বংসোন্মুখ যুবসমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিরোধ
অনলাইন জুয়া আজ বাংলাদেশের প্রতিটি শহর-গ্রাম, ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিতের জীবনকে গ্রাস করছে। স্মার্টফোনের একটি অ্যাপ, কয়েক ক্লিক আর লোভের জাল-এতেই লাখ লাখ মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসছেন। পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে, অর্থ পাচার হচ্ছে বিদেশে। এই সর্বনাশা খেলার বিরুদ্ধে সরকার অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে, যেখানে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬-এর আওতায়ও এটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে-এই আইন কতটা যৌক্তিক এবং বাস্তবে অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে পারবে কি?সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলে সাধারণ জুয়ায় দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনলাইন জুয়ায় পাঁচ বছর বা এক কোটি টাকা, এবং অনলাইন বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সাত বছর বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ভিপিএন-মিরর সাইট ব্যবহার, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, ভুয়া সিম-এমএফএস অ্যাকাউন্টসহ সংঘবদ্ধ অপরাধে আরও কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। বিলটি পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭-কে রহিত করে নতুন যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে অনলাইন জুয়া ও হুন্ডির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে। সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে।এই আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেকে মনে করেন, পুরোনো ১৮৬৭ সালের আইনের তুলনায় এটি অনেক বেশি কঠোর এবং প্রাসঙ্গিক। সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ ১৮(২) অনুসারে জুয়া নিরোধ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ডিজিটাল যুগে ভিপিএন, ক্রিপ্টো এবং এআই-চালিত অ্যাপের মাধ্যমে জুয়ার বিস্তার রোধে কঠোর দণ্ড অপরিহার্য। তবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ বড়। আইনজীবী ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন প্রয়োগে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সামাজিক সচেতনতা ছাড়া শুধু দণ্ড দিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট, এআই মনিটরিং, ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন এবং এনআইডি-সিম লিংকিংয়ের মতো প্রস্তাবগুলো ইতিবাচক, কিন্তু এগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।বাস্তব চিত্র ভয়াবহ। যশোরের ঝিকরগাছায় দিনমজুর, ব্যবসায়ী, হোমিও চিকিৎসকসহ সাধারণ মানুষ অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। এক হোমিও চিকিৎসক তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি ও উপার্জিত অর্থ খুইয়ে দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবন ধ্বংসের কথা জানিয়েছেন। কুমিল্লার হোমনায় প্রবাসী মেরাজুল ইসলাম ২২ লাখ টাকা হারিয়ে মানসিক অবসাদে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। মেধাবী শিক্ষার্থী ফ্রি ফায়ার খেলতে গিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে দোকান বন্ধ করছেন, কর্মজীবী যুবক অলস হয়ে পরিবারে অশান্তি ছড়াচ্ছেন।এই জুয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রতারক চক্র রয়েছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে লোভ দেখিয়ে প্রথমে সামান্য লাভ দিয়ে পরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়া, ইনফ্লুয়েন্সার এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চলে। হুন্ডি, ক্রিপ্টো ও এমএফএসের মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এবং বিএফআইইউর নজরদারি সত্ত্বেও চক্রগুলো মিরর সাইট ও ভিপিএনের মাধ্যমে চলমান রাখছে।আইনের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। শুধু দণ্ড দিয়ে ডিজিটাল অপরাধ দমন কঠিন। আন্তর্জাতিক সার্ভার, অফশোর কোম্পানি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির অস্বচ্ছতা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে কঠোর আইনের পাশাপাশি শিক্ষা, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও শুধু দমন নয়, প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনের উপর জোর দিতে হবে। স্কুল-কলেজে সচেতনতা ক্যাম্পেইন, হেল্পলাইন এবং অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট সেন্টার জরুরি।তবু এই বিলকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত। এটি সরকারের সদিচ্ছার প্রমাণ। জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট, এআই মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্টের বিধান কার্যকর হলে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিন্তু সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সমাজের। পরিবার, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যুবকদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দক্ষতা উন্নয়নে আকৃষ্ট করতে হবে।অনলাইন জুয়া শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, নৈতিক ও সামাজিক ধ্বংস। এটি যুবশক্তিকে নিষ্ক্রিয় করে জাতীয় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। সরকারের আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হতে হবে-এক ক্লিকে লোভের ফাঁদে পা দেওয়া মানে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা।আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। সাইবার ট্রাইব্যুনালের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করে যুবকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের দিকে নিয়ে যেতে হবে।অনলাইন জুয়া বন্ধ না হলে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিপন্ন। ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সঠিক দিকে একটি পদক্ষেপ। এখন দরকার কঠোর বাস্তবায়ন, সামাজিক ঐক্য এবং অব্যাহত সচেতনতা। শুধু আইন নয়, মানুষের মনে পরিবর্তন আনতে হবে। তবেই এই সর্বনাশা ফাঁদ থেকে জাতি মুক্তি পাবে।লেখক: সাংবাদিক ও সংগঠক।
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু
প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। আগামী ২৮ জুন থেকে থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী এ ঘোষণা দেন।ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ৫টি ভিসা কেন্দ্র থেকে দেওয়া হবে ট্যুরিস্ট ভিসা। বাকিগুলো ধাপে ধাপে চালু হবে। ভিসা সেন্টারগুলো হলো— ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী।এ সময় মেডিকেল ভিসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে উল্লেখ করে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান দিনেশ ত্রিবেদী।এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে সবগুলো ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ করে ভারত।পরবর্তীতে কূটনৈতিক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রেরকার্যক্রম এবং ট্যুরিস্ট ভিসা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ডিজিটাল লোভের অন্ধকার জাল: অনলাইন জুয়ায় ধ্বংসোন্মুখ যুবসমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিরোধ
মোহাম্মদ আলী সুমন।
রাষ্ট্রের অখণ্ডতা নিয়ে ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা চাই
শাহিন আলম আশিক,
তরুণ প্রজন্মের ধ্বংস ও সম্মিলিত প্রতিরোধের অপরিহার্য আহ্বান / মাদকের বিষবাষ্পে নিমজ্জিত জাতি
মোহাম্মদ আলী সুমন।
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব
প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি
প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে জেএ টিভির প্রতিনিধি কর্মশালা অনুষ্টিত
ডিজিটাল লোভের অন্ধকার জাল: অনলাইন জুয়ায় ধ্বংসোন্মুখ যুবসমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিরোধ
রাষ্ট্রের অখণ্ডতা নিয়ে ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা চাই
তরুণ প্রজন্মের ধ্বংস ও সম্মিলিত প্রতিরোধের অপরিহার্য আহ্বান / মাদকের বিষবাষ্পে নিমজ্জিত জাতি
বাংলাদেশ আমাদের / ঐক্য ও সম্প্রীতিই হোক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বড়ো হাতিয়ার