প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় আ'লীগ নেতা ও সাবেক এমপি সুজন
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের ৭ বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামিলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিতে কারাগার থেকে ৭ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন তার ছেলে ও একই আসনের আ'লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন।শনিবার (৩০ মে) সকালে দিনাজপুর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের ডাঙ্গী বাজারে পৌঁছান মাজহারুল ইসলাম। বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে তাকে এই সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়।কারা ও পারিবারিক সূত্র জানায়, জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মাজহারুল ইসলাম সুজনকে পুনরায় দিনাজপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক সাংসদ দবিরুল ইসলাম।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক অনুসারী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বালিয়াডাঙ্গীসহ পুরো ঠাকুরগাঁও জেলায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৭ বার সংসদ সদস্য ও ৩ বার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।এদিকে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কারাবন্দী রয়েছেন। ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটায় রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১। প্রাথমিকভাবে চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও হত্যাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর থেকে তিনি দিনাজপুর কারাগারে বন্দী রয়েছেন।আজ প্রবীণ এই নেতার শেষ বিদায়ে শোকাহত স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে বালিয়াডাঙ্গীতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ভাঙ্গা: কোরবানির মাংস ভাগাভাগি নিয়ে আহত ৩০
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় কোরবানির মাংস ভাগাভাগির স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার আলগি ইউনিয়নের পশ্চিম আড়ুয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে কোরবানির মাংস ভাগাভাগির স্থান নির্ধারণ নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সেই উত্তেজনা রূপ নেয় ভয়াবহ সংঘর্ষে।সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন আবু বকর মুন্সী এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান সম্রাট। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সরকি, টেটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ২৭ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এর ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, কোরবানির মাংস ভাগাভাগির স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লাখো মুসল্লির প্রার্থনা
পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিণত হয় এক আবেগঘন ধর্মীয় মিলনমেলায়। তাকবিরের ধ্বনি আর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে দেশের প্রধান ঈদ জামাতে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত এই প্রধান জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই জাতীয় ঈদগাহে জড়ো হতে থাকেন হাজারো মুসল্লি। নির্ধারিত সময়ের আগেই রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ঈদগাহ ময়দানে উপস্থিত হন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহে পৌঁছান।ঈদের এই কেন্দ্রীয় জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ঈদগাহ ময়দান হয়ে ওঠে এক বিশাল ধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক।খুতবায় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়।প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন নজরদারির আওতায়। মুসল্লিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পল্টন, হাইকোর্ট মোড় ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে যান চলাচল ও পার্কিংয়ের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাত দেশবাসীর মাঝে ঈদের সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।