মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

নতুন সামরিক কৌশলে জাপান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে উদ্বেগ

জাপানের ক্ষমতায় আসার পর সানায়ে তাকাইচির প্রথম প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং জাপানের ডানপন্থীদের মনগড়া ‘যুদ্ধ-চালিত সম্পদ’ তত্ত্বটি জনরোষ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে পরিচালিত সিজিটিএন-এর একটি জরিপে দেখা গেছে যে, ৮৩.৬% উত্তরদাতা মনে করেন যে, জাপানের নতুন সামরিকবাদ তার সামরিক সম্প্রসারণকে বেগবান করছে এবং আন্তর্জাতিক সমাজের অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।নতুন প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চালনায় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর ব্যাপকভাবে জোর দিয়েছে, যা বেপরোয়াভাবে ‘যুদ্ধ-চালিত সম্পদ’ তত্ত্বটি তৈরি করেছে। ৭২% উত্তরদাতা এই দাবিটিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছেন; আরও ৮০.৯% উল্লেখ করেছেন যে, বাস্তবতা ঠিক তার বিপরীত। জাপান সরকার কর বৃদ্ধি এবং ব্যয় সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে জিডিপির ২%-এ উন্নীত করেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং এই ক্রমাগত ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ব্যয় জাপানি জনগণের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ৬৫.৫% উত্তরদাতা মনে করেন যে, জাপানের আর্থিক চাপ এবং উচ্চ জাতীয় ঋণের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রতিরক্ষাকে জনগণের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জোরপূর্বক যুক্ত করার প্রথাটি একেবারেই টেকসই নয়।এটি লক্ষণীয় যে, নতুন প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রটির প্রচ্ছদে অ্যানিমে-শৈলীর ব্যবহার করা হয়েছে, যা সামরিক সম্প্রসারণের যুদ্ধংদেহী দিকগুলোকে লঘু করে দেখানোর একটি প্রচেষ্টা। এ প্রসঙ্গে ৭৯.১% উত্তরদাতা মনে করেন যে, জাপান সরকার দৈনন্দিন জীবনে সামরিক উপাদানগুলোর একীকরণকে উৎসাহিত করছে এবং সামাজিক সামরিকীকরণের এই প্রবণতার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের উচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।এই সমীক্ষাটি সিজিটিএন-এর ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি এবং রুশসহ এই পাঁচটি ভাষার প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৩৪৩ জন তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন।সূত্র: তুহিনা-ফয়সল-জিনিয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

একই কর্মস্থলে বারবার পদায়ন আব্দুল মান্নানের / ঘুষ-নিয়োগ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদে বিতর্কিত বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য, এমপিওভুক্তিতে অনিয়ম, শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিদ্যালয় পরিদর্শনের নামে অর্থ আদায়, একই কর্মস্থলে বারবার পদায়ন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে।অভিযোগ রয়েছে, একজন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা হয়েও তিনি কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়ায় তিনটি ফ্ল্যাট ও দুটি প্লটের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব সম্পদের উৎস ও বৈধতা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত প্রয়োজন।স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বুড়িচংয়ে দায়িত্ব পালনের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও একই উপজেলায় ফিরে আসেন তিনি। পরে ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল পুনরায় বুড়িচংয়ে যোগদান করেন। একই কর্মস্থলে বারবার পদায়নের নেপথ্যে কী কারণ—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয়দের মধ্যে।অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালে বুড়িচং কালীনারায়ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিজের স্ত্রী খন্দকার উম্মে সালমাকে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা পদে নিয়োগে প্রভাব খাটান আব্দুল মান্নান। অভিযোগকারীদের দাবি, যোগ্যতা ও কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও প্রভাব বিস্তার করে নিয়োগ এবং পরবর্তীতে এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হয়।জামাল মামুন নামে এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকতার চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম অর্থ নেওয়া হলেও চাকরি দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদনের জন্য গেলে আব্দুল মান্নান বলেন, “বিএনপির কারও নাম নিয়ে আমার কাছে আসবেন না।” পরে অন্য একজনের নাম প্রস্তাব করার পর অনুমোদন দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।আরেকজন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তা বিদায়ের সময় ‘খাম’ বা ‘তেল খরচ’ বাবদ প্রায় ৫ হাজার টাকা প্রত্যাশা করেন। টাকা দিতে দেরি হলে বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে হয়রানি করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।বুড়িচং উপজেলার এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, “দায়িত্ব পালনকালে আব্দুল মান্নানের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। এখন আবার একই উপজেলায় ফিরে আসায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।”অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অনেকেই বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করছে। সব অভিযোগ সঠিক নয়। আমার চাকরি আর বেশি দিন নেই।” তিনি আরও বলেন জামাল মামুন নামে কাউকে আমি চিনি। এই সমস্ত অভিযোগ হল কাল্পনিক ভিত্তিহীন। নিয়োগের বিষয় হল বিদ্যালের ম্যানেজিং কমিটির লোকজনের। আমি সরকারি চাকুরী করি আমাদের একটা বাইন্ডিং রয়েছে এর বাহিরে যাওয়া যায় না।এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”শিক্ষক ও সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচিত, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা এখন সময়ের দাবি। তারা বলছেন, শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে দুদক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘুষ-নিয়োগ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদে বিতর্কিত বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

বাগেরহাটে একটি বসতঘর থেকে একই পরিবারের ৩ জনের গলিত লাশ উদ্ধার

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দেরকোলা গ্রামে একটি বসতঘর থেকে একই পরিবারের তিনজনের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে।নিহত ব্যক্তিরা হলেন আহাত হাওলাদার (২২), তার বাবা আব্দার হাওলাদার; মনিরা বেগম (৫৫), তার বাবা রশিদ শেখ; এবং রাশিদা বেগম (৮৫), তার স্বামী মৃত রশিদ শেখ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পরে বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর তিনজনের গলিত লাশ দেখতে পায়।পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের প্রাথমিক ধারণা, কয়েক দিন আগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। লাশে পচন ধরায় হত্যাকাণ্ডটি কয়েক দিন আগে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।খবর পেয়ে কচুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয় এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

বাগেরহাটে একটি বসতঘর থেকে একই পরিবারের ৩ জনের গলিত লাশ উদ্ধার
পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে গুরুত্বারোপ করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী

পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে গুরুত্বারোপ করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী

পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে ভবনে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল এবং পয়ঃশোধনাগার (এসটিপি) স্থাপন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির বাসিন্দাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।রাজধানীর গুলশান সোসাইটি পার্কে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জনাব জাকারিয়া তাহের, এমপি।সভায় ভবনে আধুনিক ও কার্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও এসটিপি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা, বাস্তবায়নের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, “টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরায়ণের স্বার্থে পরিবেশসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। সরকারের লক্ষ্য একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক নগরব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমান গুরুত্ব পাবে।”সভায় গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিরা ভবনে পরিবেশসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।বক্তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো ও কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ সরকারের চলমান পরিকল্পিত নগরায়ণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নতুন সামরিক কৌশলে জাপান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে উদ্বেগ

জাপানের ক্ষমতায় আসার পর সানায়ে তাকাইচির প্রথম প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং জাপানের ডানপন্থীদের মনগড়া ‘যুদ্ধ-চালিত সম্পদ’ তত্ত্বটি জনরোষ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে পরিচালিত সিজিটিএন-এর একটি জরিপে দেখা গেছে যে, ৮৩.৬% উত্তরদাতা মনে করেন যে, জাপানের নতুন সামরিকবাদ তার সামরিক সম্প্রসারণকে বেগবান করছে এবং আন্তর্জাতিক সমাজের অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।নতুন প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চালনায় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর ব্যাপকভাবে জোর দিয়েছে, যা বেপরোয়াভাবে ‘যুদ্ধ-চালিত সম্পদ’ তত্ত্বটি তৈরি করেছে। ৭২% উত্তরদাতা এই দাবিটিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছেন; আরও ৮০.৯% উল্লেখ করেছেন যে, বাস্তবতা ঠিক তার বিপরীত। জাপান সরকার কর বৃদ্ধি এবং ব্যয় সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে জিডিপির ২%-এ উন্নীত করেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং এই ক্রমাগত ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ব্যয় জাপানি জনগণের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ৬৫.৫% উত্তরদাতা মনে করেন যে, জাপানের আর্থিক চাপ এবং উচ্চ জাতীয় ঋণের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রতিরক্ষাকে জনগণের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জোরপূর্বক যুক্ত করার প্রথাটি একেবারেই টেকসই নয়।এটি লক্ষণীয় যে, নতুন প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রটির প্রচ্ছদে অ্যানিমে-শৈলীর ব্যবহার করা হয়েছে, যা সামরিক সম্প্রসারণের যুদ্ধংদেহী দিকগুলোকে লঘু করে দেখানোর একটি প্রচেষ্টা। এ প্রসঙ্গে ৭৯.১% উত্তরদাতা মনে করেন যে, জাপান সরকার দৈনন্দিন জীবনে সামরিক উপাদানগুলোর একীকরণকে উৎসাহিত করছে এবং সামাজিক সামরিকীকরণের এই প্রবণতার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের উচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।এই সমীক্ষাটি সিজিটিএন-এর ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি এবং রুশসহ এই পাঁচটি ভাষার প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৩৪৩ জন তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন।সূত্র: তুহিনা-ফয়সল-জিনিয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

নোয়াখালীতে যুবদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর, আহত ৬

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরের দিকে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম। এর আগে, শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিনার দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের বসুরহাট বাজারের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।আহতরা হলেন, সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো.আনোয়ার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ওমর ফারুক, যুবদল নেতা শরীফ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ওসমান গনি শিহাব, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি এনায়েত উল্লাহ রিফাত এবং শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদ।স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন আগে স্থানীয় পিএল একাডেমি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদকে যুবদলের নেতাকর্মীরা আটক করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত সোয়া ৮টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোস্তফা রাজু ভূঁইয়া শিবিরের কয়েকজন নেতাকে ঘটনাস্থলে ডাকেন।সিরাজপুর ইউনিয়ন জায়াতের আমির আবুল হাসেম বলেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে রাত সোয়া ৮টার দিকে সিরাজপুর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মুজাহিদসহ কয়েকজন শিবির নেতাকর্মি দিনার দোকানের একটি চা দোকানে যান। তাৎক্ষণিক সেখানে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ফারুক ও সিএনজি চালক বেলালের নেতৃত্বে শিবিরের নেতাকর্মিদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে আমি চলে আসার পর রাত পৌনে ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।তবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আফতাব আহমেদ বাচ্চু অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিবির বহিরাগত লোকজন এনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দিনার দোকান এলাকায় বিএনপির কার্যালয় ও একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ফারুক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, এ ঘটনায় বিএনপির দুজন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

কচুয়ায় আরাফাত রহমান কোকো স্মরণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের সাহেদাপুরে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে পূর্ব সাহেদাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ​স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। ​টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মনির হোসেন পাটোওয়ারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কচুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি  রফিকুল ইসলাম রনি তালুকদার ও কচুয়া উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শান্তা ইসলাম পপি। বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের সুস্থ বিনোদনমূলক আয়োজন তরুণ সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ রাসেল, কচুয়া উপজেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু সোলতান রিপন, কড়ইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হক, কড়ইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সাইফুল মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রদলের  সাধারণ সম্পাদক পদ-প্রার্থী রনি ফরাজি সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।​খেলা শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। 

ঘুষ-নিয়োগ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদে বিতর্কিত বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

একই কর্মস্থলে বারবার পদায়ন আব্দুল মান্নানের / ঘুষ-নিয়োগ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদে বিতর্কিত বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য, এমপিওভুক্তিতে অনিয়ম, শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিদ্যালয় পরিদর্শনের নামে অর্থ আদায়, একই কর্মস্থলে বারবার পদায়ন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে।অভিযোগ রয়েছে, একজন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা হয়েও তিনি কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়ায় তিনটি ফ্ল্যাট ও দুটি প্লটের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব সম্পদের উৎস ও বৈধতা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত প্রয়োজন।স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বুড়িচংয়ে দায়িত্ব পালনের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও একই উপজেলায় ফিরে আসেন তিনি। পরে ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল পুনরায় বুড়িচংয়ে যোগদান করেন। একই কর্মস্থলে বারবার পদায়নের নেপথ্যে কী কারণ—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয়দের মধ্যে।অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালে বুড়িচং কালীনারায়ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিজের স্ত্রী খন্দকার উম্মে সালমাকে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা পদে নিয়োগে প্রভাব খাটান আব্দুল মান্নান। অভিযোগকারীদের দাবি, যোগ্যতা ও কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও প্রভাব বিস্তার করে নিয়োগ এবং পরবর্তীতে এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হয়।জামাল মামুন নামে এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকতার চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী অগ্রিম অর্থ নেওয়া হলেও চাকরি দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদনের জন্য গেলে আব্দুল মান্নান বলেন, “বিএনপির কারও নাম নিয়ে আমার কাছে আসবেন না।” পরে অন্য একজনের নাম প্রস্তাব করার পর অনুমোদন দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।আরেকজন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তা বিদায়ের সময় ‘খাম’ বা ‘তেল খরচ’ বাবদ প্রায় ৫ হাজার টাকা প্রত্যাশা করেন। টাকা দিতে দেরি হলে বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে হয়রানি করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।বুড়িচং উপজেলার এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, “দায়িত্ব পালনকালে আব্দুল মান্নানের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। এখন আবার একই উপজেলায় ফিরে আসায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।”অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অনেকেই বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করছে। সব অভিযোগ সঠিক নয়। আমার চাকরি আর বেশি দিন নেই।” তিনি আরও বলেন জামাল মামুন নামে কাউকে আমি চিনি। এই সমস্ত অভিযোগ হল কাল্পনিক ভিত্তিহীন। নিয়োগের বিষয় হল বিদ্যালের ম্যানেজিং কমিটির লোকজনের। আমি সরকারি চাকুরী করি আমাদের একটা বাইন্ডিং রয়েছে এর বাহিরে যাওয়া যায় না।এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”শিক্ষক ও সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচিত, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা এখন সময়ের দাবি। তারা বলছেন, শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে দুদক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা

বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী মহড়া • মামলা সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন / পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা

প্রকাশ্যে দিবালোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা ও তাণ্ডব সংঘটিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে ঘটা এই বর্বরোচিত হামলাকে দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত বলে মনে করছেন সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ।​পুলিশের সামনেই সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসী তাণ্ডব: ​প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রবাসী জুবায়ের আহমেদের মালিকানাধীন সম্পদ দখলচেষ্টায় ভূমিদস্যু চক্রের জালিয়াতির দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওই বাড়ির সিকিউরিটি ইনচার্জ সোহাগ বিন সাইফুল্লাহ। খবর পেয়ে মোহনা টিভি, দেশ টিভি, গ্রীন টিভি, এশিয়ান টিভি, পাক্ষিক অপরাধ জগত, দৈনিক মুক্তির লড়াই, দৈনিক লাল সবুজের দেশ, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার এবং দৈনিক ভোরের কাগজসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় ২৫-৩০ জন সংবাদকর্মী সেখানে উপস্থিত হন।​সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সিকিউরিটি ইনচার্জ জালিয়াতির কাগজপত্র প্রদর্শন শুরু করা মাত্রই রাজেশের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী চক্রের ক্যাডাররা সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভিডিও ফুটেজে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক, নিরাপত্তা কর্মী ও ভাড়াটিয়াদের উদ্ধার করে।​মামলার পরও অধরা আসামিরা, প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া: ​অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে হামলা ও জখমের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর: ১১) দায়ের করা হয়।​তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে এবং গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। মামলা সত্ত্বেও থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তাদের অপরাধমূলক তাণ্ডব আরও বেড়ে যায়। গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমদের নেতৃত্বে প্রশাসনের সামনেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় মহড়া ও হামলা চালানো হয়।​দিনের আলোয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে চিহ্নিত চক্রের এমন মুক্ত বিচরণ ও তাণ্ডবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি তবে ভূমিদস্যু ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?​স্থানীয় ও সাধারণ মানুষের ৩ দফা দাবি: ​এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন: ​জালিয়াতির নিরপেক্ষ তদন্ত: ভুয়া বালাম বইয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাতের ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ ফরেনসিক তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।​মদদদাতা ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার: জমি দখল ও হামলায় জড়িত অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে তাণ্ডব চালানো গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া ও রেজাউল করিমসহ সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।​এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা: চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের অস্ত্র মহড়া বন্ধ করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা দিতে হবে এবং সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ । 

বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

সরকারি হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন / বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

কুমিল্লার  বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের বড় কৈয়নি ও শাকপুর গ্রামে পাগলা কুকুরের হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে বরুড়া সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাফি (২০), পিতা- রশিদ, গ্রাম শাকপুর; আবুল হোসেন (৪০), পিতা- মনির হোসেন, শাকপুর; আনাস (৪ মাস), পিতা- রিয়াদ হোসেন, শাকপুর এবং সামিয়া (২৬ মাস), পিতা- মিল্লাত হোসেন, শাকপুর।এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আয়ান (৩ মাস), পিতা- মো. বাহার, গ্রাম বামন্ডা, উপজেলা চান্দিনা; নিলুফা বেগম (৪০), স্বামী- ফরিদ উদ্দিন, মহেশপুর, বরুড়া; নিরুদা (৭০), স্বামী- মৃত সীতিম সরকার, শাকপুর, বরুড়া এবং কুহিনূর বেগম (৩৫), স্বামী- মো. বিল্লাল হোসেন, শাকপুরকে।এদিকে দুঃখজনক হলেও সত্য, আহতদের কাউকেই বরুড়া সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হাসপাতালের ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সবসময় পর্যাপ্ত রেবিস ভ্যাকসিন মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুর রহমান বলেন, “রেবিস ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে।”স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে সরকারি হাসপাতালে নিয়মিতভাবে রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। এতে জরুরি বিভাগে রোগী আনা-নেওয়া, বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ এবং ওয়ার্ডে যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় হাসপাতাল এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের এমন নাজুক পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।রোগীর স্বজন আব্দুল্লাহীল কাফী বলেন, "রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি চারদিকে পানি জমে আছে। জরুরি বিভাগে পৌঁছাতেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা শুধু রোগীদের দুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি।১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি, রোগীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিচু স্থান ভরাট, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করারও দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ  খায়রুল আলম বলেন, "জলাবদ্ধতার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।"স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে হাসপাতালের জলাবদ্ধতা ও মশা-মাছির উপদ্রব থেকে মুক্তি মিলবে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানও আরও উন্নত হবে।

রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান / রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট তৈরি করে রাখার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার জাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমা।অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, রোগী আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য আসার আগেই বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখা হতো। পরে রোগীর নাম ও পরিচয় যুক্ত করে তা সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইউরিনের নমুনা সংরক্ষণ এবং রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় থার্মোমিটার না রাখাসহ আরও কয়েকটি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।অভিযানে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ ।