বন্যা নিয়ন্ত্রণে জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রীর
বন্যা মৌসুমে দেশের জলাধারগুলোর নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ও দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিউ কুওচোং।তিনি বলেছেন, বন্যা মোকাবিলার সব ধরনের ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।রোববার বেইজিংয়ে এক পরিদর্শন সফরকালে লিউ কুওচোং এ কথা বলেন। সফরের সময় তিনি বেইজিংয়ের পিংকু জেলার দুটি জলাধার পরিদর্শন করেন এবং সেগুলোর অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। চীনজুড়ে বিপুল সংখ্যক জলাধার বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধান বন্যা মৌসুমে এ সব জলাধারের নিরাপদ পরিচালনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন দায়িত্ব।লিউ বৃষ্টিপাত ও পানির অবস্থার পর্যবেক্ষণ এবং পূর্বাভাস ব্যবস্থা আরও উন্নত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি জলাধার পরিচালনার বিধিমালা ও জরুরি পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তিনি নির্দেশ দেন, ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জলাধারগুলোতে আগেভাগেই পানি ছেড়ে ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই জলাধারকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের নির্ধারিত স্তরের ওপরে পরিচালনা করা যাবে না।লিউ বলেন, “জলাধারের বাঁধ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম ও জনবল প্রস্তুত রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে।”তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ সক্ষমতা আরও উন্নত করতে হবে, যাতে সতর্কবার্তার তথ্য কোনো বিলম্ব ছাড়াই তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত পৌঁছে যায়।তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া।
দক্ষিণ চীন সাগর প্রশ্নে জাপানকে ‘হস্তক্ষেপ না করার’ আহ্বান চীনের
দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায়’-এর দশম বার্ষিকী উপলক্ষে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বিবৃতি দিয়ে প্রকাশ্যে ওই অবৈধ সালিশি রায়ের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে চীনের বৈধ দাবি ও অবস্থানের সমালোচনাও করেন তিনি। তিনি আরও দাবি করেন, দক্ষিণ চীন সাগরের একটি পক্ষ হলো জাপান। তার এ দাবির প্রতি তীব্র অসন্তোষ ও দৃঢ় বিরোধিতা জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধে জাপান কোনো পক্ষ নয়। তাই এ বিষয়ে চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকার নিয়ে মন্তব্য বা হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকারও তার নেই।মুখপাত্র বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দক্ষিণ চীন সাগরের চীনা দ্বীপ ও প্রবালপ্রাচীর অবৈধভাবে দখলসহ চীনের বিরুদ্ধে বহু আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল জাপান, যা চীনা জনগণের জন্য গভীর দুর্ভোগ ডেকে এনেছিল। দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপপুঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট জলসীমায় চীনের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায়। এর পক্ষে পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক ও আইনি ভিত্তিও রয়েছে।তিনি আরও বলেন, অস্থায়ীভাবে গঠিত তথাকথিত সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে চীনের এসব অধিকার অস্বীকার করা যায় না। চীনের মতে, ওই ট্রাইব্যুনাল তার এখতিয়ার অতিক্রম করে রায় দিয়েছে। ফলে এই রায় অবৈধ, অকার্যকর এবং এর কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। একই সঙ্গে এটি জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক সনদের কর্তৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের শাসনকেও ক্ষুণ্ন করেছে বলে জানান তিনি।মুখপাত্র বলেন, জাপান এই রায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের পরিচয় দিয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, তথাকথিত ওই রায়ের যুক্তি অনুযায়ী যদি স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের থাইপিং দ্বীপকে পূর্ণাঙ্গ দ্বীপ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হয় এবং তার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল দাবি করার অধিকার না থাকে, তা হলে জাপানের ওকিনোতোরিশিমা প্রবালপ্রাচীরের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত। উল্লেখ্য, স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের ৫ লাখ বর্গমিটার আয়তনের থাইপিং দ্বীপে মিঠা পানি, ফল, শাকসবজি ও গৃহপালিত প্রাণী রয়েছে। অন্যদিকে,প্রশান্ত মহাসাগরের ১০ বর্গমিটারেরও কম আয়তনের মাত্র দুটি শিলা নিয়ে গঠিত বিচ্ছিন্ন প্রবাল প্রাচীর ওকিনোতোরিশিমা। এর জন্য কয়েক লক্ষ বর্গকিলোমিটার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মহীসোপানের দাবি করে জাপান।এ অবস্থায় ওই ‘রায়’র পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের আরও অনেক সামুদ্রিক দাবিও প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, যেহেতু জাপান এই ‘রায়’র বিষয়বস্তুর সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে, তাই চীনের বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে যে, একই মানদণ্ড অনুযায়ী জাপান স্বেচ্ছায় তার সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক দাবিগুলোও ত্যাগ করেছে।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, জাপানের প্রকৃত উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষা নয়; বরং দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করা। তিনি জাপানকে চীনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করা, দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে উত্তেজনা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট না করার আহ্বান জানান।মুখপাত্র বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকার দৃঢ়ভাবে রক্ষা করে যাবে চীন। সূত্র:রুবি-ফয়সল-সুর্বণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
গাইড ও প্রাইভেটনির্ভর শিক্ষা : বাড়ছে অভিভাবকদের উদ্বেগ
জাতীয় শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবইকে শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হলেও বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডবই ও প্রাইভেটনির্ভর শিক্ষার প্রবনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ শুধু পাঠ্যবই পড়ে ভাল ফল করা কঠিন এমন একটি ধারণা ক্রমেই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে গাইড বই কেনা এবং সারা বছর প্রইভেট পড়া অনেক পরিবারের জন্য একপ্রকার বাধ্যতামূলক ব্যয়ে পরনিত হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়,অনেক শ্রেনিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্নন প্রকাশনীর গাইড বই ব্যবহার করে পাঠদান করা হচ্ছে। ফুলকুঁড়ি, পাঞ্জেরী, লেকচারসহ বিভিন্ন প্রকাশণীর গাইড বই শিক্ষার্থীদের হাতে বেশী দেখা গেছে। অনেক অভিভাবকের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট গাইড বই সংগ্রহে উৎসাহিত করা হয়। একাধিক অভিভাবক জানান, শুধু গাইড বই কিনলেই হয়না, অনেক শিক্ষক প্রাইভেট পড়ার প্রতি জোর দেন।তাদের আশঙ্কা , প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ভার ফল তো দুরের কথা, পাস করাও কঠিন। এ কারণেই মাসের পর মাস প্রাইভেট শিক্ষার খরছ বহন করতে হচ্ছে। নি¤œ আয়ের পরিবারের অভিভাবকদের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বই, কোচিং ও প্রাইভেটশিক্ষার অতিরিক্ত ব্যায় সামলানো তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। অনেকেই সংসারের অন্যান্য প্রয়োজন কমিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাচ্ছেন।এতে শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। এদিকে কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক প্রকাশনীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি বইয়ের চাপ সৃষ্টি করছেন। যদিও তারা এ অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোন প্রমান দেখাতে পারেননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবী জানান। তারা আরও বলেন, কিছু শিক্ষক ভোর থেকে বিদ্যালয় শুরুর আগ পর্যন্ত একাধিক ব্যাচে প্রাইভেট পড়ান। ফলে শ্রেণিকক্ষে এসে তারা আগের মতো মনোযোগ ও উদ্যম নিয়ে পাঠদান করতে পারেন না। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়া হলে তারা বলেন, প্রাইভেট পড়ানো ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে কোন সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই এবং তারা যথাথথ দায়িত্ব পালন করেন। অনেক শিক্ষক আরও বলেন গাইড বই কেবল সহায়ক উপকরণ ,পাঠ্যবইই শিক্ষার মূল ভিত্তি। শিক্ষাবিদদের মতে পাঠ্যবইকেন্দ্রিক শিক্ষা থেকে সরে গিয়ে গাইড ও প্রাইভেটনির্ভর ব্যবস্থা জোরদার হলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ,বিশ্লেষণী দক্ষতা ও স্বশিক্ষার অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরবিারের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহবায়ক সোনাইমূড়ী উচ্চ বিদ্যারয়ের প্রধান শিক্ষক প্রাণেশ্বর আচার্য বলেন, শিক্ষার মানোন্নায়নে শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইভিত্তিক কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা, গাইড বইয়ের ওপর অতিনির্ভরতা কমানো এবং প্রাইভেটনির্ভরতা হ্রাসে কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবইই শিক্ষার মূল উপকরণ। কোন শিক্ষার্থীকে গাইড বই কিনতে বাধ্য করা বা প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ লিখিতভাবে পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। আর বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হবে এবং প্রধান শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ সংকটের দ্বৈত আঘাত: লোডশেডিংয়ের অন্ধকার, ভুতুড়ে বিল ও চুরির ছায়ায় জিম্মি জনজীবন
মোহাম্মদ আলী সুমন।
শিক্ষার আলো বনাম ডিজিটাল অন্ধকার: এহসানুল হক মিলনের সংস্কারের পথে ট্রলের বিষাক্ত ছায়া
মোহাম্মদ আলী সুমন।
স্বাস্থ্য খাতের মহাপতন-অবৈধ ক্লিনিকের বিষবৃক্ষ ও ভুল চিকিৎসার মৃত্যুফাঁদ
মোহাম্মদ আলী সুমন।
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী
এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব
বিদ্যুৎ সংকটের দ্বৈত আঘাত: লোডশেডিংয়ের অন্ধকার, ভুতুড়ে বিল ও চুরির ছায়ায় জিম্মি জনজীবন
শিক্ষার আলো বনাম ডিজিটাল অন্ধকার: এহসানুল হক মিলনের সংস্কারের পথে ট্রলের বিষাক্ত ছায়া
স্বাস্থ্য খাতের মহাপতন-অবৈধ ক্লিনিকের বিষবৃক্ষ ও ভুল চিকিৎসার মৃত্যুফাঁদ
ডিজিটাল লোভের অন্ধকার জাল: অনলাইন জুয়ায় ধ্বংসোন্মুখ যুবসমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিরোধ