মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

নিরাপদ ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের জোর সুপারিশ জানানো হয়েছে।  বুধবার (২০ মে) দুপুর ১ টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে “রোডক্র্যাশ রোধে নিরাপদ ঈদযাত্রায় করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এই সুপারিশ জানানো হয়। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারি শারমিন রহমান সরকারের প্রতি জরুরি কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ঈদযাত্রাকালীন রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এছাড়াও ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত করা, স্পিডগানের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, টোল প্লাজায় দ্রুত ডিজিটাল বুথ চালু এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হয়।সভায় শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ)’র সাধারণ সম্পাদক ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)’র বিশেষ প্রতিনিধি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম হাইওয়েতে রোডক্র্যাশ কমাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েনসহ বাসটার্মিনাল থেকে যাতে কোনো ফিটনেসবিহীন বাস বের হতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্ছান শিপু বলেন, ঈদের সময় টোলপ্লাজায় বা ব্রিজের উপর গাড়ির লম্বা লাইন হয় এবং এই জন্য তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজট নিরসনে টোলপ্লাজায় বুথ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে অনেক আইন প্রণয়ন হলেও সেসব আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকড়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যায়। সড়ক পরিবহন আইনেও এমন কিছু দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার কারণে কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং রোডক্র্যাশ কমিয়ে আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।এদিকে জাগোনিউজ২৪ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদুজ্জামান তন্ময় বলেন, গণমাধ্যমে সবসময় রোডক্র্যাশের সংবাদ প্রকাশ করা হলেও কেন রোডক্র্যাশ হলো এবং এর পেছনের কারণ কী, তা বেশিরভাগ সংবাদে থাকে না। এমনকি এর পরবর্তী ফলোআপ প্রতিবেদনও দেখা যায় না। তাই যেকোনো রোডক্র্যাশের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান ও ফলোআপ প্রতিবেদন থাকা জরুরি। সভার সঞ্চালক দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) শুভ্র দেব বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থা বা ব্যক্তির না, এটি সকলের দায়িত্ব। এই সমন্বিত উদ্যোগে গণমাধ্যমকেও সক্রিয় অংশ হতে হবে।এছাড়াও উপস্থিত সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী নিশ্চিত করা, বেপরোয়া লেন পরিবর্তন রোধ করা, বাম পাশের লেন মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য সুনির্দিষ্ট করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি সর্বস্তরে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা পরিশেষে উল্লেখ করেন, 'সেইফ সিস্টেমের' আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন যত দ্রুত প্রণয়ন হবে এবং যত দ্রুত এর কঠোর বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাবে, সরকারের পক্ষে সড়কের এই বিশৃঙ্খলা রোধ করা তত দ্রুত সম্ভব হবে। তাই সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও এর কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি ঈদযাত্রাসহ সড়কপথকে সর্বদা সকলের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় করে তোলাই সরকারের প্রধান করণীয় হওয়া উচিত।

কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগমের বিরুদ্ধে কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখা, অর্থের বিনিময়ে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া, ছাত্র হাজিরা খাতায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর চেয়ে কয়েকগুন বেশি নাম তালিকাভুক্তি, বোর্ড বই বিক্রি ও বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ করে অর্থ আত্মসাতসহ সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ সেশনে নবম শ্রেণীতে ৪৭ জন ছাত্রের রেজিষ্ট্রেশন করা হলেও টেষ্ট পরীক্ষায় ২৮ জন ছাত্র কৃতকার্য হয়। এছাড়াও ১৫ জন অনিয়মিত ছাত্র ছিল। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৩জন শিক্ষার্থী ছাড়াও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম গঠনিকা বিদ্যানিকেতন ও নতুন কুঁড়ি কিন্ডার গার্টেনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আরো ৫০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করেন। মাহবুবা বেগম বিভিন্ন বিদ্যালয়ের একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে ফরম পূরণ করলেও নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উর্মি হাবীবা, সৃজন রক্ষিত ও শাহাদাত হোসেনের ফরম পূরণ করেননি। এছাড়াও কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় মানবিক বিভাগের শিহাব (রোল ৩১১২৭৪, রেজিঃ ২৩১০৮১২৬০০) ও মোঃ রিফাত (রোল ৩১১২৭৫, রেজিঃ ২৩১০৮১২৫৯৬), ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিপুল রায় (রোল ৩১১২৮১, রেজিঃ ২৩১০৮১২৭৭৫), শোভন এগ্নেসিয়াস ক্রুশ (রোল ৫১৪০২১, রেজিঃ ২৩১০৮১২৭০৪) এবং নিরব হোসেন (রোল ৫১৪০২২, রেজিঃ ২৩১০৮০২৪৬৮) এর প্রবেশপত্র আটকে দেন মাহবুবা বেগম। ফলে ফরম ফিলাপের পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কোন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষিকার এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রতিবাদ করলে তাদেরকে শোকজসহ নানা ভাবে হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম প্রায় ১২ বছর যাবৎ বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তিকৃত ছাত্রের চেয়ে হাজিরা খাতায় দুই তিন গুণ বেশি ছাত্র দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বোর্ড বই সংগ্রহ করছেন। পরে পার্শ্ববর্তী গঠনিকা বিদ্যানিকেতন, নুতন কুড়িঁ কিন্ডার গার্টেন-১ (দূর্বাটি) ও নতুন কুড়িঁ কিন্ডার গার্টেন-২ (ভাদার্ত্তী) সহ বিভিন্ন অননোমোদিত বেসরকারী বিদ্যালয়ে ওই বইগুলো উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। গত ১৭ মে নাগরী ইউনিয়নের গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের মালিকানাধীন একটি দোকান থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর দুই বস্তা বোর্ড বই উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম। এ বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী মোঃ রিফাতের মা হোসনেয়ারা আক্তার জানান, আমার ছেলের প্রবেশপত্র আসার পরও প্রধান শিক্ষিকার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়নি। এবার পরীক্ষা দিতে না পারায় আমার ছেলের শিক্ষা জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও অন্য চারজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন।গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র বণিক জানান, আবেদনের পরও আমাদের বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় আমরা বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ১০ বছর যাবৎ বোর্ড বই সংগ্রহ, রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছি। বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম বলেন, আমি বেসরকারী কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও এলাকাবাসীর অনুরোধে বিদ্যালয়ের স্বার্থে বহিরাগত ছাত্রদের বোর্ড বই সরবরাহ ও ফরম পূরণ করি। টেষ্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পাঁচজন শিক্ষার্থীর ভুলবশতঃ ফরম পূরণ হয় বিধায় আমি তাদের প্রবেশপত্র প্রদান করিনি। বহিরাগত অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ, বোর্ড বই বিক্রি ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিরব থাকেন। বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত কমিটির সাথে আলোচনা করেই যাবতীয় কাজ করা হয়েছে।বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি

ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালকের ক্যাশিয়ার রেজায়ে রাব্বি

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাময়িক বরখাস্তকৃত ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ রেজায়ে রাব্বীকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, বিতর্ক ও প্রশাসনিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া, প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন বাণিজ্য এবং আন্দোলনকালীন ভূমিকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিএন-১০০৩১৮ নম্বরধারী রেজায়ে রাব্বী দীর্ঘদিন ঢাকা অঞ্চলে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালের ৮ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ঢাকার বিভিন্ন লাইসেন্সিং এলাকায় কর্মরত ছিলেন। এই সময়েই তাকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ সামনে আসে।অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার বদলি ও পদায়নে সুবিধা নিয়েছেন। স্থানীয় ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক সুবিধা ভোগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে আচরণগত কারণে বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। পরে এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং রংপুরে পদায়ন দেওয়া হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি সরকারি কোয়ার্টার নিয়ে। অভিযোগ আছে, নিজের নামে বরাদ্দ নেওয়া সরকারি বাসা তিনি নিজে ব্যবহার না করে ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন। এমনকি চাকরিচ্যুত এক ফায়ার ফাইটার হান্নানের কাছে সেই কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি মহাপরিচালক জায়েদ কামালের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবারও পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন রেজায়ে রাব্বী। এতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও।ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালকের ক্যাশিয়ার রেজায়ে রাব্বি
নিরাপদ ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ

নিরাপদ ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের জোর সুপারিশ জানানো হয়েছে।  বুধবার (২০ মে) দুপুর ১ টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে “রোডক্র্যাশ রোধে নিরাপদ ঈদযাত্রায় করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এই সুপারিশ জানানো হয়। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারি শারমিন রহমান সরকারের প্রতি জরুরি কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ঈদযাত্রাকালীন রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এছাড়াও ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত করা, স্পিডগানের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, টোল প্লাজায় দ্রুত ডিজিটাল বুথ চালু এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হয়।সভায় শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ)’র সাধারণ সম্পাদক ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)’র বিশেষ প্রতিনিধি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম হাইওয়েতে রোডক্র্যাশ কমাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েনসহ বাসটার্মিনাল থেকে যাতে কোনো ফিটনেসবিহীন বাস বের হতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্ছান শিপু বলেন, ঈদের সময় টোলপ্লাজায় বা ব্রিজের উপর গাড়ির লম্বা লাইন হয় এবং এই জন্য তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজট নিরসনে টোলপ্লাজায় বুথ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে অনেক আইন প্রণয়ন হলেও সেসব আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকড়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যায়। সড়ক পরিবহন আইনেও এমন কিছু দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার কারণে কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং রোডক্র্যাশ কমিয়ে আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।এদিকে জাগোনিউজ২৪ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদুজ্জামান তন্ময় বলেন, গণমাধ্যমে সবসময় রোডক্র্যাশের সংবাদ প্রকাশ করা হলেও কেন রোডক্র্যাশ হলো এবং এর পেছনের কারণ কী, তা বেশিরভাগ সংবাদে থাকে না। এমনকি এর পরবর্তী ফলোআপ প্রতিবেদনও দেখা যায় না। তাই যেকোনো রোডক্র্যাশের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান ও ফলোআপ প্রতিবেদন থাকা জরুরি। সভার সঞ্চালক দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) শুভ্র দেব বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থা বা ব্যক্তির না, এটি সকলের দায়িত্ব। এই সমন্বিত উদ্যোগে গণমাধ্যমকেও সক্রিয় অংশ হতে হবে।এছাড়াও উপস্থিত সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী নিশ্চিত করা, বেপরোয়া লেন পরিবর্তন রোধ করা, বাম পাশের লেন মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য সুনির্দিষ্ট করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি সর্বস্তরে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা পরিশেষে উল্লেখ করেন, 'সেইফ সিস্টেমের' আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন যত দ্রুত প্রণয়ন হবে এবং যত দ্রুত এর কঠোর বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাবে, সরকারের পক্ষে সড়কের এই বিশৃঙ্খলা রোধ করা তত দ্রুত সম্ভব হবে। তাই সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও এর কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি ঈদযাত্রাসহ সড়কপথকে সর্বদা সকলের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় করে তোলাই সরকারের প্রধান করণীয় হওয়া উচিত।

চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বে নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আমন্ত্রণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৯ ও ২০ মে চীন সফর করবেন। এ বছর চীন-রাশিয়া কৌশলগত সমন্বয় অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ৩০তম বার্ষিকী এবং চীন ও রাশিয়ার মধ্যে সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী। জটিল ও সদা পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সামনে দু’নেতা কৌশলগত নির্দেশনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অটল ও স্থিতিশীল থাকে এবং বিশ্বকে স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা প্রদান করবে।দু’জন নেতাদের নেতৃত্বই চীন-রাশিয়া সম্পর্কের উচ্চস্তরের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় সুবিধা ও মৌলিক নিশ্চয়তা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সি চিন পিং ও পুতিন বিভিন্ন পদ্ধতিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছেন এবং অসংখ্য আন্তরিক আলাপচারিতা ও খোলামেলা মতবিনিময় করেছেন। ২০১৯ সালে দু’নেতা যৌথভাবে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন যুগের জন্য একটি সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের উন্নয়নের ঘোষণা দেন। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুণগত উন্নতি সাধন করে। উভয় পক্ষ কৌশলগত যোগাযোগ আরও গভীর করছে, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি আরও সুসংহত করছে এবং চীন-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।বাস্তব সহযোগিতাগুলো হলো চীন-রাশিয়া সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়নের অন্তর্নিহিত চালিকাশক্তি। জটিল ও সদা পরিবর্তনশীল বাহ্যিক পরিবেশের সম্মুখীন হয়েও টানা তিন বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা আরও গভীর ও বাস্তবসম্মত হয়েছে। স্থানীয় সহযোগিতা ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে এবং সংযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ, সবুজ অর্থনীতি ও আন্তঃসীমান্ত ই-কমার্সের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলো সমৃদ্ধি লাভ করছে। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পরিমাণগত সঞ্চয় থেকে গুণগত উল্লম্ফনের দিকে এগিয়েছে। উচ্চমানের ও বাস্তবসম্মত সহযোগিতার এই সংমিশ্রণ উভয় দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুবিধা বয়ে এনেছে। এদিকে, চীন-রাশিয়া ভিসামুক্ত নীতি বাস্তবায়নের ফলে জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান আরও সক্রিয় হয়েছে এবং শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও পর্যটন বিনিময় ক্রমাগত গভীরতর হয়েছে। গত বছর ‘চীন-রাশিয়া সাংস্কৃতিক বর্ষ’ সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছরে ‘চীন-রাশিয়া শিক্ষা বর্ষ’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। চীন-রাশিয়া বন্ধুত্বের প্রজন্মগত হস্তান্তর এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বে নতুন গতি সঞ্চার করবে।চীন ও রাশিয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরের সাথে সমন্বয় ও সমর্থন করে, যা বিশ্বকে দেখিয়ে দেয় যে প্রতিকূলতার মাঝেও ন্যায়পরায়ণতার জয় হয় এবং পরিবর্তনের সময়ে দায়িত্বশীলতাই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল প্রধান দেশ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে, চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে আন্তর্জাতিক সমাজের মধ্যে ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আনুগত্যকে উৎসাহিত করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের অর্জনকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করে এবং জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে গঠিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালাকে অটলভাবে সমুন্নত রাখে।ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে, উভয় দেশের উচিত বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা, বহুপাক্ষিকতাকে দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখা ও অনুশীলন করা, জাতিসংঘের কর্তৃত্ব ও প্রাণশক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে একসঙ্গে কাজ করা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ও সমতাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার উন্নয়নে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকস-এর কাঠামোর মধ্যে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় ও সহযোগিতা করা।সূত্র: ছাই-তৌহিদ-ওয়াং হাই মান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

মোংলায় মাদক, চাঁদাবাজি ও নারী হয়রানির অভিযোগ এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৭'নং ওয়ার্ডের  উলুবুনিয়া এলাকায় সরকারি বরাদ্দকৃত আবাসনে ওই বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহিদ শেখ মাদক সেবন, নারীদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে আবাসনের বর্তমান বাসিন্দারা একযোগে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উলুবুনিয়া সরকারি আবাসন প্রকল্পে মোট ২৫টি ঘর রয়েছে। আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মোঃ জাহিদ শেখ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণে আবাসনের অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবাসনের বাসিন্দা মোসাঃ হেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ সেখানে বসবাস করে আসছেন। একই এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগমের সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে কলহ, ভয়ভীতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগীর দাবি, গত ৭ মে ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সালমা বেগম তার বসতঘরের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।এদিকে আবাসনের একাধিক নারী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৭'নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহিদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে আবাসনে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। লিখিত অভিযোগে তারা দাবি করেন, তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং আবাসনের নারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে আবাসন থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।স্থানীয় কয়েকজন নারী অভিযোগ করে আরও বলেন, মোঃ জাহিদ শেখের ছেলের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি, মোঃ জাহিদ শেখ ভয়ভীতি ও প্রভাবের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে আবাসনে অবস্থানরত পরিবারগুলো একত্রিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এলাকাবাসীর দেওয়া সূত্র মতে জানা যায়, বিএনপির পদ ব্যবহার করে মোঃ জাহিদ শেখ সোনাইলতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।এ অভিযোগের বিষয়ে ওই বিএনপি নেতা মোঃ জাহিদ শেখের কাছে জানতে চাইলেন তিনি বলেন, এ অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করা করেন।এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, “আবাসনের বাসিন্দাদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

শেরপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন

শেরপুরে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।শনিবার ১৬ মে সকাল ১১ টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন শেরপুর-১  আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।উক্ত ​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁঞা । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল।  উদ্বোধনী পর্ব শেষে মাঠের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় ঝিনাইগাতির উপজেলার চ্যাম্পিয়ন হাতিবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল বনাম নকলার উপজেলার চ্যাম্পিয়ন বাছুর আগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল।  এ সময় প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ গ্যালারিতে বসে ক্ষুদে ফুটবলারদের চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্য উপভোগ করেন এবং তাদের করতালি দিয়ে উৎসাহিত করেন। ​টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে স্টেডিয়ামে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শক, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।

কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি

কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগমের বিরুদ্ধে কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখা, অর্থের বিনিময়ে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া, ছাত্র হাজিরা খাতায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর চেয়ে কয়েকগুন বেশি নাম তালিকাভুক্তি, বোর্ড বই বিক্রি ও বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ করে অর্থ আত্মসাতসহ সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ সেশনে নবম শ্রেণীতে ৪৭ জন ছাত্রের রেজিষ্ট্রেশন করা হলেও টেষ্ট পরীক্ষায় ২৮ জন ছাত্র কৃতকার্য হয়। এছাড়াও ১৫ জন অনিয়মিত ছাত্র ছিল। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৩জন শিক্ষার্থী ছাড়াও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম গঠনিকা বিদ্যানিকেতন ও নতুন কুঁড়ি কিন্ডার গার্টেনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আরো ৫০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করেন। মাহবুবা বেগম বিভিন্ন বিদ্যালয়ের একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে ফরম পূরণ করলেও নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উর্মি হাবীবা, সৃজন রক্ষিত ও শাহাদাত হোসেনের ফরম পূরণ করেননি। এছাড়াও কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় মানবিক বিভাগের শিহাব (রোল ৩১১২৭৪, রেজিঃ ২৩১০৮১২৬০০) ও মোঃ রিফাত (রোল ৩১১২৭৫, রেজিঃ ২৩১০৮১২৫৯৬), ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিপুল রায় (রোল ৩১১২৮১, রেজিঃ ২৩১০৮১২৭৭৫), শোভন এগ্নেসিয়াস ক্রুশ (রোল ৫১৪০২১, রেজিঃ ২৩১০৮১২৭০৪) এবং নিরব হোসেন (রোল ৫১৪০২২, রেজিঃ ২৩১০৮০২৪৬৮) এর প্রবেশপত্র আটকে দেন মাহবুবা বেগম। ফলে ফরম ফিলাপের পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কোন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষিকার এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রতিবাদ করলে তাদেরকে শোকজসহ নানা ভাবে হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম প্রায় ১২ বছর যাবৎ বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তিকৃত ছাত্রের চেয়ে হাজিরা খাতায় দুই তিন গুণ বেশি ছাত্র দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বোর্ড বই সংগ্রহ করছেন। পরে পার্শ্ববর্তী গঠনিকা বিদ্যানিকেতন, নুতন কুড়িঁ কিন্ডার গার্টেন-১ (দূর্বাটি) ও নতুন কুড়িঁ কিন্ডার গার্টেন-২ (ভাদার্ত্তী) সহ বিভিন্ন অননোমোদিত বেসরকারী বিদ্যালয়ে ওই বইগুলো উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। গত ১৭ মে নাগরী ইউনিয়নের গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের মালিকানাধীন একটি দোকান থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর দুই বস্তা বোর্ড বই উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম। এ বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী মোঃ রিফাতের মা হোসনেয়ারা আক্তার জানান, আমার ছেলের প্রবেশপত্র আসার পরও প্রধান শিক্ষিকার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়নি। এবার পরীক্ষা দিতে না পারায় আমার ছেলের শিক্ষা জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও অন্য চারজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন।গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র বণিক জানান, আবেদনের পরও আমাদের বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় আমরা বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ১০ বছর যাবৎ বোর্ড বই সংগ্রহ, রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছি। বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম বলেন, আমি বেসরকারী কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও এলাকাবাসীর অনুরোধে বিদ্যালয়ের স্বার্থে বহিরাগত ছাত্রদের বোর্ড বই সরবরাহ ও ফরম পূরণ করি। টেষ্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পাঁচজন শিক্ষার্থীর ভুলবশতঃ ফরম পূরণ হয় বিধায় আমি তাদের প্রবেশপত্র প্রদান করিনি। বহিরাগত অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ, বোর্ড বই বিক্রি ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিরব থাকেন। বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত কমিটির সাথে আলোচনা করেই যাবতীয় কাজ করা হয়েছে।বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি

প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি

যৌথ অভিযান চালিয়ে বুধবার (২০ মে) সকালে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার জয়নগর এলাকায় আসামির বোন শিল্পী আক্তারের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮)। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে পূর্বের পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি মুগদার মান্ডা প্রথম গলিতে প্রেমিকা তাসলিমা ওরফে হাসনার বড় বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন। এরপর ১৭ মে দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ মান্ডা ১ম গলির ২৬০/১ নম্বর ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করা হয়। তদন্তে জানা যায়, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের সূত্রে বিভিন্ন সময়ে মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেন তাসলিমা। গত ১৪ মে দুপুরে মোকাররম ওই টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। এতে দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ান। তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা ও ভাগ্নি হালিমা আক্তার মিলে ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মাথা, ঘাড় ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বাথরুমে নিয়ে মরদেহের মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে খণ্ডিত অংশগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা মোকাররমের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ১৮ মে র‌্যাব এ মামলার এক নম্বর আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে (১৩) গ্রেপ্তার করে। পরে হেলেনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে

কালীগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

কালীগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালি  এলাকায় পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে) আয়োজিত বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় পাঁচ শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।‎ রবিবার  সকাল থেকে দিনব্যাপী কালীগঞ্জ  শাখা অফিস প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ‎ক্যাম্পে চক্ষু, মেডিসিন, গাইনি, চর্ম ও যৌন, শিশু এবং সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রেসক্রিপশন, ওষুধ, চক্ষুরোগীদের পাওয়ারের চশমা ও চোখের ড্রপ ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ডেপুটি  প্রোগ্রাম ম্যানেজার অরুণ কুমার বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক  চিত্তরঞ্জন রায় ।‎বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।কালীগঞ্জ  শাখার  ব্যবস্থাপক চিত্তরঞ্জন রায়  বলেন, ১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মা ও শিশু স্বাস্থ্যসচেতনতা, চক্ষু চিকিৎসা এবং গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।‎চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. আরশাফুল আলম। ডা.মোঃমিনহাজুল ইসলাম,ডা. চন্দন দেব বক্ষণ , ডা. মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ।

রাণীনগরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

রাণীনগরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার মাস্টার পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে রানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে এই ঘটনাটি ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল আনুমান ৬:৩০ মিনিট  মাস্টার পাড়া এলাকায় এক ব্যক্তিকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক মনে হওয়ায় এলাকাবাসী দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে ভর্তির কিছুক্ষণ পর পুষষ ওয়ার্ডে দেয়া হয় , চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০:১৫ মিনিটে  তার মৃত্যু হয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে যখন আনা হয়েছিল তখন তিনি অত্যন্ত দুর্বল ও অচেতন ছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।এলাকার বাসিন্দারা জানান, মৃত ব্যক্তিকে তারা আগে কখনো এই এলাকায় দেখেননি। তার পরনে ছিল পাঞ্জাবী ও লুঙ্গি সাথে কোনো পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বাইরে থেকে এই এলাকায় এসেছিলেন অথবা পথচারী ছিলেন।রানীনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার জন্য আশপাশের থানাগুলোতে সংবাদ পাঠানো হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

চোখের স্ট্রোকের জন্য কি হাইপারটেনশন দায়ী?চোখের চিকিৎসক ডা. সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘হাইপারটেনশনের কারণে চোখের একাধিক ক্ষতি হতে পারে।’ উচ্চ রক্তচাপে চোখের রেটিনার শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। এর ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবস্থাকে ‘সেন্টাল রেটিনাল ভেইন অকুলেশন’ বলা হয়। এটি শিরার পাশাপাশি ধমনীতেও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডা. মুখোপাধ্যায়। আসলে চলতি ভাষায় এই অবস্থাকেই চোখের স্ট্রোক বলা হয়।সিআরভিও-এ কি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন?সিআরভিও-এর একাধিক উপসর্গ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন হলো- হঠাৎ করে একটা চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া। এছাড়া চোখে রক্তপাত হলে চোখের ভিতর কালো ঝুলের মতো অংশ দেখা যায়।‘সিআরভিও-এর চিকিৎসা হলো ইনজেকশন বা রেটিনাল লেজার’ বলেন ডা. মুখোপাধ্যায়। সিআরভিও হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কতটা ক্ষতিকর?ডা. মুখোপাধ্যায়ের সংযোজন, ‘প্রেশার খুব বেশি থাকলে চোখের ভিতর যে অপটিক নার্ভ থাকে, তারও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’ এই অবস্থায় চোখে রক্তপাতও হতে পারে। একে চিকিৎসার ভাষায় হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বলা হয়।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কি গর্ভবতীদেরও হয়?হাইপারটেনশনে ভয় রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের ব্লাড প্রেশার অত্যধিক বেড়ে যায়। যাকে বলে প্রেগন্যান্সি হাইপারটেনশন বা ‘একলাম্পসিয়া’। এই অবস্থা তৈরি হলে মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর ঠিক আগে চোখের উপর প্রভাব পড়ে। দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। এই লক্ষণ দেখে বোঝা যায় যে, ‘একলাম্পসিয়া’ খারাপ দিকে এগোচ্ছে ‘অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার কন্ট্রোলে রাখা দরকার কেন?এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার বারবার যাচাই করা দরকার। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে চোখে রক্তপাত হতে পারে এবং চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

রক্তচাপ কতটা বেড়ে গেলে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে

রক্তচাপ কতটা বেড়ে গেলে হার্টঅ্যাটাক হতে পারে

প্রথমত, উচ্চ রক্তচাপ কখন হয় এবং এটি আসলে কী তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। সহজ কথায়, এটি এমন একটি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যেখানে রক্ত পাম্প করার জন্য হৃদপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হয়। এর ফলে, শিরাগুলির উপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যার কারণে তাদের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। গুরুতর ক্ষেত্রে, শিরা ফেটে যেতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে।উচ্চ রক্তচাপের পরিসীমা কতযদি শরীরের রক্তচাপের পরিসীমা ১২০/৮০ মিমি এইচজি হয় তবে তাকে স্বাভাবিক রক্তচাপ বলা হয়। কিন্তু যখন এই পরিসীমা সিস্টোলিক ১৩০/১৩৯ এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ থেকে ৯০ মিমি এইচজি-র মধ্যে পড়ে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপের অবস্থা বলা হয়।রক্তচাপের কোন স্তরটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও হার্টঅ্যাটাকের জন্য অনেকাংশে দায়ী। পরিসরের কথা বলতে গেলে, যদি রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমিএইচজি-র উপরে পৌঁছায়, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে, আপনার অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত যাতে অবস্থা গুরুতর না হয়।দৃশ্যমান লক্ষণগুলি কী কীরক্তচাপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি কোনও গুরুতর লক্ষণ দেখায় না। এজন্যই একে 'নীরব ঘাতক' বলা হয়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখ লাল হওয়া, বুকে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্তপাত এবং বমি বমি ভাব অনুভব করতে পারেন। অতএব, যদি আপনার রক্তচাপের সমস্যা থাকে, তাহলে নিয়মিত আপনার রিডিং পরীক্ষা করে দেখুন এবং গুরুতর অবস্থার ক্ষেত্রে, অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

কালীগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

কালীগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালি  এলাকায় পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে) আয়োজিত বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় পাঁচ শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।‎ রবিবার  সকাল থেকে দিনব্যাপী কালীগঞ্জ  শাখা অফিস প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ‎ক্যাম্পে চক্ষু, মেডিসিন, গাইনি, চর্ম ও যৌন, শিশু এবং সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রেসক্রিপশন, ওষুধ, চক্ষুরোগীদের পাওয়ারের চশমা ও চোখের ড্রপ ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ডেপুটি  প্রোগ্রাম ম্যানেজার অরুণ কুমার বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক  চিত্তরঞ্জন রায় ।‎বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।কালীগঞ্জ  শাখার  ব্যবস্থাপক চিত্তরঞ্জন রায়  বলেন, ১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মা ও শিশু স্বাস্থ্যসচেতনতা, চক্ষু চিকিৎসা এবং গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।‎চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. আরশাফুল আলম। ডা.মোঃমিনহাজুল ইসলাম,ডা. চন্দন দেব বক্ষণ , ডা. মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ।