নরসিংদীতে ৯ দিনেও অধরা মূল আসামিরা: আশিক হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশি বৈঠকের মধ্যেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ যুবক আশিক ভূঁইয়াকে। এ ঘটনায় ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এখনো তাদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি।এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আজ সকালে পলাশ উপজেলায় মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে শত শত মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। মানববন্ধনে আশিকের ছবি প্রদর্শন করা হয় এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন এলাকার একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে রাকিব ও আরমান নামের দুই ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিকল্পিতভাবে আশিককে বাড়ি থেকে ফোন করে কথা বলার অজুহাতে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন।আশিক সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাকিব ও আরমানের সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আশিককে হত্যা করা হয়। তারা কেউই হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেনি, যা তাদের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ৯ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি—এটি চরম ব্যর্থতা।” দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।বক্তারা আরও জানান, হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন রুহুল আমিন ও রিয়াদ ফকির। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহারভুক্ত প্রধান অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করা হয়। তারা হলেন—সন্ত্রাসী চক্রের মূল হোতা সাগর, তার পিতা ইউনুস আলী, মিন্নত আলী এবং ছোট ভাই সোহাগ। এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালী এই চক্রের কারণেই আসামিরা এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে।মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, “৯ দিন ধরে আমরা ঘুমাতে পারি না, অথচ খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাকিব ও আরমান ফোন করে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কসাইদের হাতে তুলে দিয়েছে। আমরা বিচার চাই—খুনি সাগরের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”এলাকাবাসীর দাবি, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে সব আসামি ও সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন এলাকাবাসীর মধ্যে মনা ফকির, আমজাদ, শহীদ ফকির, বাচ্চু ফকিরসহ আরও অনেকে।
দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে হঠাৎ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, এলাকায় চাঞ্চল্য
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি আকস্মিক ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।রোববার (৩১ মে) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার ও কোরপাই এলাকায় এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর থেকেই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তারা নিমসার এলাকায় সংক্ষিপ্ত মিছিল বের করেন এবং কোরপাই এলাকাতেও উপস্থিতি জানান দেন।মিছিলের বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন বলেন, “প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেছি।”অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের মুন্সী এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বিষয়টি দলীয়ভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।এ ব্যাপারে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান জানান, কোরপাই এলাকায় কিছু লোকজন একত্রিত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সরে পড়ে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।হঠাৎ আয়োজিত এই ঝটিকা মিছিলকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দেবীদ্বারে জাকির হোসেন চক্রকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ / কানাডার স্বপ্ন দেখিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা
কানাডায় পাঠানোর প্রলোভন, জাল ভিসার আশ্বাস, কোটি কোটি টাকার লেনদেন এবং পরে রহস্যজনক আত্মগোপন— এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত জাকির হোসেন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ্যে আনছেন ভুক্তভোগীরা।স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, বিদেশে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেবীদ্বারের বাসিন্দা জাকির হোসেন।“৫৫ লাখ টাকা নিয়েও কাউকে পাঠায়নি”প্রতারণার শিকার দাবি করা সোহেল মাঝি জানান, কানাডায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তার পরিবার ও স্বজনদের কাছ থেকে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়।তার ভাষায়,“আমাকে জিম্মাদার বানিয়ে আমার আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় পার হলেও কেউ বিদেশ যেতে পারেনি। পরে বুঝতে পারি আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি।”সোহেল মাঝির দাবি, তার পরিবারের চার সদস্য— কামরুন নাহার, মোঃ মিঠুন, জুবায়ের হাওলাদার ও মোঃ সাইমুনকে কানাডা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুরো কার্যক্রমটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত।তাদের দাবি অনুযায়ী—প্রথম স্ত্রী আয়শা আক্তার নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন।দ্বিতীয় স্ত্রী শামিমা আক্তারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর টাকা জমা নেওয়া হতো।ছেলে শাহাতাৎ হোসেন (আরিন) বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন।দুলাল আহম্মেদ পাসপোর্ট ও অর্থ বহনকারী হিসেবে কাজ করতেন।শ্যালক রাসেল আহমেদও চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীদের মতে, সম্পর্ক তৈরি, বিশ্বাস অর্জন এবং বিদেশে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েই মানুষকে ফাঁদে ফেলা হতো।প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগঅভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত জাকির হোসেনের পিতা জমসের আলী একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য হওয়ায় সেই পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা হতো।ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। এমনকি প্রতারণার অভিযোগ তোলার পর উল্টো অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।ভিসা দেওয়ার পরই আত্মগোপন?সোহেল মাঝির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে লেনদেন শুরু হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে কথিত ভিসা দেওয়া হলেও বিদেশ যাত্রার কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। এরপর অভিযুক্ত পরিবার আত্মগোপনে চলে যায় বলে দাবি করা হয়।আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালে পুনরায় যোগাযোগ করে নতুন করে অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে আগের টাকার কোনো সমাধান করা হয়নি।“সব হারিয়ে নিঃস্ব”চোখে কানাডার স্বপ্ন, হাতে জাল ভিসা আর শেষে সর্বস্বান্ত জীবন— এমনই বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী সোহেল মাঝি।তিনি বলেন,“সবকিছু হারিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।”আরও অনেক ভুক্তভোগীর সন্ধানস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু একটি পরিবার নয়— বিভিন্ন জেলা ও এলাকার আরও বহু মানুষ একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকলেও ভয় ও প্রভাবের কারণে অনেকেই মুখ খুলতে পারেননি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ব্যক্তি প্রকাশ্যে অভিযোগ করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবিভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নিএ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেন বা তার পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি ও সরকারি অনুমোদন যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।মানুষের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ এবং কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে যদি প্রতারণা হয়ে থাকে, তবে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।