মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

অবশেষে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২২–২৩ আগস্ট সম্ভাব্য তারিখ, মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য-জ্বালানি-সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বঅবশেষে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনায় নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর।ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুই দেশেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সফরের বিষয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় কিংবা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনার টেবিলে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু সৌজন্য সফর হিসেবে নয়, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন ও পারস্পরিক স্বার্থের জায়গাগুলো নতুন করে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে এই সফরে।আমন্ত্রণ ছিল ক্ষমতায় আসার পরইগত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই আমন্ত্রণের ধারাবাহিকতায় এবার সফরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।প্রস্তাবিত ২২–২৩ আগস্টের সময়সূচি ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্টের প্রায় এক সপ্তাহ পর। ফলে সফরটি কোনো বহুপক্ষীয় সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত না থেকে মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেন্দ্রিক রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি।বৈঠকের টেবিলে যেসব ইস্যুতারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ভারসাম্য, সড়ক-রেল ও নৌ যোগাযোগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সীমান্তে প্রাণহানি, সীমান্ত অপরাধ ও আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হতে পারে।BRICS-এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরকে গুরুত্বপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় BRICS সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে সেখানে তার অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।তবে BRICS-এর ওই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, বহুপক্ষীয় কোনো আয়োজনের চেয়ে প্রথমে ভারতের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।হাইকমিশনারের বৈঠকের পরই গতিপ্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতির মধ্যে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও সেখানে মতবিনিময় হয়ে থাকতে পারে। এরপরই সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তৎপরতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে জানা গেছে।নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির নতুন সমীকরণ?রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কাঠামো কেমন হবে, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা কতটা বাড়বে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সমঝোতা হবে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে দুই দেশ কীভাবে সমন্বয় করবে—এসব প্রশ্নের উত্তরও অনেকটা নির্ভর করতে পারে আসন্ন সফরের আলোচনার ওপর।সবকিছু ঠিক থাকলে ২২–২৩ আগস্টের সম্ভাব্য সফর তাই শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরই নয়; বরং নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের নতুন সমীকরণেরও সূচনা হতে পারে।তবে সফরের তারিখ, কর্মসূচি ও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।সূত্র: এনডিটিভি

এলএনজি টার্মিনালের অপেক্ষায় থমকে থাকা বাংলাদেশ / লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে যখন মানুষ একটু স্বস্তির জন্য বিদ্যুতের অপেক্ষায় থাকে, তখন ঘরে নেমে আসা দীর্ঘ অন্ধকার কেবল আলোহীনতার নয়-এটি রাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার গভীর দুর্বলতার নির্মম প্রতিচ্ছবি। জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়া এবং ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় তা প্রায় তিন হাজার সাতশ পঞ্চান্ন মেগাওয়াটে পৌঁছানো পরিস্থিতির গুরুতরতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। ওই সময় চাহিদা ছিল প্রায় ষোলো হাজার দুইশ বাষট্টি মেগাওয়াট, অথচ সরবরাহ নেমে আসে প্রায় বারো হাজার পাঁচশ মেগাওয়াটে। গ্রামীণ এলাকায় দিনে ছয় থেকে বারো ঘণ্টা, কোথাও কোথাও চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু-বৃদ্ধ-অসুস্থ মানুষের কষ্ট বেড়েছে, কৃষকের সেচ ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়ছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থমকে যাচ্ছে। এমনকি বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রে ক্ষুব্ধ মানুষের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।এই বাস্তবতা কেবল সাময়িক ঘাটতি নয়-এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস সরবরাহ, এলএনজি আমদানি এবং সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সংকটের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ গ্যাসনির্ভর। অথচ বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক প্রায় আড়াই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন থাকলেও সরবরাহ সেই চাহিদার ধারেকাছেও নেই। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দশ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না; উৎপাদন নেমে আসছে প্রায় চার হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। কয়লার সংকট, আদানি পাওয়ার থেকে প্রত্যাশিত মাত্রায় বিদ্যুৎ না আসা, পায়রাসহ কয়েকটি কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা এবং তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানোর উচ্চ ব্যয়-সব মিলিয়ে ঘাটতি আরও তীব্র হয়েছে। স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় উনত্রিশ হাজার মেগাওয়াট হলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে উৎপাদন বারো-তেরো হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে আটকে থাকার অর্থ একটাই: কেন্দ্র নির্মাণ করলেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং আর্থিক সক্ষমতার সমন্বয়।এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট করেছেন-মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া সরকারের সামনে আপাতত কোনো বিকল্প নেই। এফএসআরইউ ছাড়া গ্যাস নামানোর সুযোগ নেই। তিনি বলেছেন, এই ক্রাইসিসের সময় আমার কিছু করার নাই। এখন শুধু আমাকে দিন গোনা ছাড়া আর ইঞ্জিনিয়াররা যে কাজ করছে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু নাই। মেরামতের দায়িত্ব মূলত মালিকানাধীন মার্কিন কোম্পানির। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেশে আসার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সাইটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দিনরাত কাজ করছেন। এফএসআরইউ অচল থাকলেও এলএনজি কেনা বন্ধ নেই-আগের দিনই চারটি কার্গো কেনা হয়েছে। টার্মিনাল সচল হলে এগুলো আনলোড করে সংকট অনেকাংশে কমানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কম লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাপনাও চলছে।তবে মন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপনা সংকটের মূল কারণকে ঢেকে রাখতে পারে না। গত সতেরো বছরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও যথেষ্ট গড়ে তোলা হয়নি। দুটি এফএসআরইউয়ের পরিবর্তে চারটি স্থাপন করা হলে আজকের মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না-এ কথা মন্ত্রী নিজেই বলেছেন। বর্তমান সরকার বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে, দ্রুত কূপ খননের জন্য আরও দুটি রিগ কেনার নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে; একটির কার্যাদেশ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, বাকি দুটিরও আগামী দুই মাসের মধ্যে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে সব টার্মিনাল কেন্দ্রীভূত থাকায় খুলনা অঞ্চলে (পায়রা, মোংলা, হিরণ পয়েন্ট) নতুন টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিনিয়োগকারী দলও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত পাইপলাইন ঘাটতি দূর করতে নতুন লাইন নির্মাণ এবং ভোলা থেকে গ্যাস আনার বিষয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে।তবুও সংকট কেবল অবকাঠামোর নয়। শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ কমেছে। ডাইং, ফিনিশিং, নিটিং, প্লাস্টিক ও সিরামিক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিকের আয়, রপ্তানি আয় এবং জাতীয় অর্থনীতিতে। সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয়-সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। সরকার দোকানপাটের সময় সীমিত করা, সাইনবোর্ডের আলো বন্ধ রাখাসহ কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো জরুরি, কিন্তু সংকটের চিকিৎসা নয়-আপাতত ব্যথা কমানোর ব্যবস্থা মাত্র।দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া এই চক্র থেকে বেরোনো সম্ভব নয়। প্রথমত, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গতি বাড়াতে হবে; নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান, পুরোনো ক্ষেত্রের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এলএনজি আমদানিতে একক উৎস বা সীমিত সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎস ও চুক্তি ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনতে হবে। তৃতীয়ত, সৌর, বায়ু ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে হবে-ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও শিল্পাঞ্চলে সৌর প্রকল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। চতুর্থত, বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা জরুরি; কোন কেন্দ্র কত ব্যয়ে উৎপাদন করছে এবং কোন চুক্তি রাষ্ট্রের জন্য যৌক্তিক-এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানা দরকার। পঞ্চমত, উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, জ্বালানি নীতিকে রাজনৈতিক মেয়াদের বাইরে নিয়ে জাতীয় পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা কোনো দলের একক সম্পদ নয়-এটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার প্রশ্ন।আজকের লোডশেডিং আগামী দিনের জন্য একটি সতর্কবার্তা। অন্ধকার ঘরে বসে থাকা মানুষ শুধু বিদ্যুতের অপেক্ষা করছে না-সে একটি কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার অপেক্ষা করছে। শিল্পমালিক নির্ভরযোগ্য উৎপাদন পরিবেশ চাইছেন, কৃষক নিশ্চিত সেচব্যবস্থা চাইছেন, ব্যবসায়ী স্থিতিশীল অর্থনীতি চাইছেন। এই সংকটকে সাময়িক বলে পাশ কাটানোর সময় শেষ। উত্তর কেবল আরও কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা টার্মিনাল নির্মাণে নেই। উত্তর রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তায়, দক্ষ ব্যবস্থাপনায়, স্বচ্ছতায়, বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থায় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়। মানুষ এখন আর আশ্বাসের আলো চায় না-চায় ঘরের আলো। বিদ্যুৎহীন একটি রাত হয়তো সহ্য করা যায়, কিন্তু বারবার ফিরে আসা অন্ধকার কোনো উন্নয়নশীল দেশের ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি হতে পারে না। এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে-বাংলাদেশ কি প্রতি গ্রীষ্মে লোডশেডিংয়ের সঙ্গে আপস করবে, নাকি একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যাবে? এই সিদ্ধান্তের সময় এখনই।লেখক : সাংবাদিক ও সংগঠক। 

লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন

মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: স্বরাষ্ট্রের দায়িত্বে এ্যানি, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন

মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের আভাস পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। আর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে চলমান বৈঠকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তার হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সালাহউদ্দিন আহমেদের হাতে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নতুন করে গতি আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।সচিবালয় সূত্রের দাবি, শুধু এই দুই মন্ত্রণালয় নয়, মন্ত্রিসভার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরেও রদবদল হতে পারে। দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।তবে কার দায়িত্বে কী পরিবর্তন আসছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্যকে আনুষ্ঠানিক বলে মনে না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য এই রদবদল ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন মন্ত্রণালয়ে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পরই নিশ্চিত হবে।

মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: স্বরাষ্ট্রের দায়িত্বে এ্যানি, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন
অবশেষে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অবশেষে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২২–২৩ আগস্ট সম্ভাব্য তারিখ, মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য-জ্বালানি-সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বঅবশেষে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনায় নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর।ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুই দেশেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সফরের বিষয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় কিংবা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনার টেবিলে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু সৌজন্য সফর হিসেবে নয়, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন ও পারস্পরিক স্বার্থের জায়গাগুলো নতুন করে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে এই সফরে।আমন্ত্রণ ছিল ক্ষমতায় আসার পরইগত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই আমন্ত্রণের ধারাবাহিকতায় এবার সফরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।প্রস্তাবিত ২২–২৩ আগস্টের সময়সূচি ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্টের প্রায় এক সপ্তাহ পর। ফলে সফরটি কোনো বহুপক্ষীয় সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত না থেকে মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেন্দ্রিক রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি।বৈঠকের টেবিলে যেসব ইস্যুতারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ভারসাম্য, সড়ক-রেল ও নৌ যোগাযোগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সীমান্তে প্রাণহানি, সীমান্ত অপরাধ ও আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হতে পারে।BRICS-এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরকে গুরুত্বপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় BRICS সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে সেখানে তার অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।তবে BRICS-এর ওই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, বহুপক্ষীয় কোনো আয়োজনের চেয়ে প্রথমে ভারতের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।হাইকমিশনারের বৈঠকের পরই গতিপ্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতির মধ্যে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও সেখানে মতবিনিময় হয়ে থাকতে পারে। এরপরই সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তৎপরতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে জানা গেছে।নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির নতুন সমীকরণ?রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কাঠামো কেমন হবে, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা কতটা বাড়বে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সমঝোতা হবে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে দুই দেশ কীভাবে সমন্বয় করবে—এসব প্রশ্নের উত্তরও অনেকটা নির্ভর করতে পারে আসন্ন সফরের আলোচনার ওপর।সবকিছু ঠিক থাকলে ২২–২৩ আগস্টের সম্ভাব্য সফর তাই শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরই নয়; বরং নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের নতুন সমীকরণেরও সূচনা হতে পারে।তবে সফরের তারিখ, কর্মসূচি ও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।সূত্র: এনডিটিভি

চীনের উচ্চপ্রযুক্তি অর্থনীতিতে এআই ও রোবট শিল্পের উত্থান

চীনের শীর্ষ বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা শনিবার জানিয়েছে যে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে নতুন জ্বালানিচালিত যানবাহন, ফটোভোলটাইক (সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি) এবং লিথিয়াম ব্যাটারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সুশৃঙ্খল বিদায় বা তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে; অন্যদিকে উদীয়মান প্রযুক্তি খাতগুলোতে নতুন নতুন ব্যবসায়ের আগমন অব্যাহত আছে।বাজার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে নতুন জ্বালানিচালিত যানবাহন-সংশ্লিষ্ট ৭ হাজার ৬৩২টি প্রতিষ্ঠান, ৫ হাজার ৮৯টি ফটোভোলটাইক প্রতিষ্ঠান এবং ১৫৫টি লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, ৮ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।একই সময়ে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি খাতগুলো শক্তিশালী গতি ধরে রেখেছে। প্রথমার্ধে উৎপাদনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ৫৫ হাজার নতুন কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি।মানবসদৃশ রোবট খাতে আরও দ্রুত সম্প্রসারণ দেখা গেছে। এ সময় ১ লাখ ১৬ হাজারটি নতুন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এই পরিসংখ্যান উদীয়মান শিল্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে তুলে ধরে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।চীনের উচ্চ-প্রযুক্তিভিত্তিক উৎপাদন খাতের শক্তিও বেড়েছে। জুন মাসের শেষ নাগাদ দেশটিতে উচ্চ-প্রযুক্তি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজারে, যার মধ্যে বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৫ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।সূত্র: হাশিম-লুৎফর, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

রূপসার যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

রূপসা উপজেলার নৈহাটিতে ইটভাটার ভেতরে ঢুকে ফখরুল শেখ নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে নৈহাটি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কিসমত খুলনা গ্রামের এমআরবি ইটভাটার অফিসের এ ঘটনা ঘটে।নিহত ফখরুল শেখ নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দীনের ছেলে এবং সাবেক ছাত্রনেতা ফরহাদ শেখের ছোট ভাই। নিহত ফকরুল রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে যুবদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে ফখরুল ছিলেন সবার ছোট ভাই। তার দুটি মেয়ে রয়েছে।স্বজনরা জানান, ইটভাটাটি ফখরুলদের। ভাটায় বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার জন্য মাঝেমধ্যে তিনি রাতে সেখানে পাহারার দায়িত্ব পালন করতেন।ঘটনার রাতে ইটভাটার ভেতরে অবস্থান করছিলেন ফখরুল। আনুমানিক রাত ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা সেখানে ঢুকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।রাত ১টা ১১ মিনিটের দিকে ফখরুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পান তার মেজ ভাই সাবেক ছাত্রনেতা ফরহাদ শেখ। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ইটভাটায় গিয়ে ছোট ভাইকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ফখরুলকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ফখরুলের শরীরে দুটি গুলির আঘাত রয়েছে। একটি গুলি লাগে ঘাড়ে। আরেকটি ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে ঢুকে বাম কানের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।তবে কারা এবং কী কারণে ফখরুলকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

কচুয়ায় আরাফাত রহমান কোকো স্মরণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের সাহেদাপুরে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে পূর্ব সাহেদাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ​স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। ​টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মনির হোসেন পাটোওয়ারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কচুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি  রফিকুল ইসলাম রনি তালুকদার ও কচুয়া উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শান্তা ইসলাম পপি। বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের সুস্থ বিনোদনমূলক আয়োজন তরুণ সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ রাসেল, কচুয়া উপজেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু সোলতান রিপন, কড়ইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হক, কড়ইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সাইফুল মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রদলের  সাধারণ সম্পাদক পদ-প্রার্থী রনি ফরাজি সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।​খেলা শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। 

বরুড়ায়  ১২ স্কুলে এসএসসি'র ফলাফলে পাশের চেয়ে ফেল বেশি

বরুড়ায় ১২ স্কুলে এসএসসি'র ফলাফলে পাশের চেয়ে ফেল বেশি

কুমিল্লার বরুড়ায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২টি স্কুলে পাশের চেয়ে ফেল করেছেন বেশি শিক্ষার্থী। উপজেলার ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১২টি বিদ্যালয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর চেয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে মহেশপুর আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে, ৬৭ জন।ফলাফল সিটের তথ্য অনুযায়ী মহেশপুর আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ১১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫১ জন। বিপরীতে ফেল করেছে ৬৭ জন।মুগগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১২ জন এবং ফেল করেছে ২৪ জন। বড় কৈয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২ জনের মধ্যে পাস ৬ জন, ফেল ১৬ জন। ভাতেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ জনের মধ্যে পাস ৮ জন এবং ফেল ১৭ জন।হরিপুর আগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৭ জন, ফেল করেছে ৩৮ জন। জয়নগর সিডিউল কাস্ট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন, আর ফেল করেছে ২৯ জন।কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১০ জন এবং ফেল করেছে ১৫ জন।মুগুজী মাষ্টার ছোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৩ জন, ফেল ২২ জন।এ ছাড়া নলুয়া মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১০ জন, ফেল ১৫ জন।নরিন্দ্রপুর নোয়াদ্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫ জন, ফেল করেছে ১৫ জন।শিলমুড়ী রাজ রাজেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৪ জন, বিপরীতে ফেল করেছে ৩৮ জন।বরুড়া হাই স্কুলে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ জন এবং ফেল করেছে ৯ জন।এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা বলেন, যেসব স্কুলে পাসের সংখ্যার চেয়ে ফেল বেশি হয়েছে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেব। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই।

পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা

বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী মহড়া • মামলা সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন / পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা

প্রকাশ্যে দিবালোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা ও তাণ্ডব সংঘটিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে ঘটা এই বর্বরোচিত হামলাকে দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত বলে মনে করছেন সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ।​পুলিশের সামনেই সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসী তাণ্ডব: ​প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রবাসী জুবায়ের আহমেদের মালিকানাধীন সম্পদ দখলচেষ্টায় ভূমিদস্যু চক্রের জালিয়াতির দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওই বাড়ির সিকিউরিটি ইনচার্জ সোহাগ বিন সাইফুল্লাহ। খবর পেয়ে মোহনা টিভি, দেশ টিভি, গ্রীন টিভি, এশিয়ান টিভি, পাক্ষিক অপরাধ জগত, দৈনিক মুক্তির লড়াই, দৈনিক লাল সবুজের দেশ, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার এবং দৈনিক ভোরের কাগজসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় ২৫-৩০ জন সংবাদকর্মী সেখানে উপস্থিত হন।​সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সিকিউরিটি ইনচার্জ জালিয়াতির কাগজপত্র প্রদর্শন শুরু করা মাত্রই রাজেশের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী চক্রের ক্যাডাররা সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ভিডিও ফুটেজে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক, নিরাপত্তা কর্মী ও ভাড়াটিয়াদের উদ্ধার করে।​মামলার পরও অধরা আসামিরা, প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া: ​অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে হামলা ও জখমের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর: ১১) দায়ের করা হয়।​তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে এবং গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। মামলা সত্ত্বেও থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তাদের অপরাধমূলক তাণ্ডব আরও বেড়ে যায়। গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমদের নেতৃত্বে প্রশাসনের সামনেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় মহড়া ও হামলা চালানো হয়।​দিনের আলোয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে চিহ্নিত চক্রের এমন মুক্ত বিচরণ ও তাণ্ডবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি তবে ভূমিদস্যু ও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?​স্থানীয় ও সাধারণ মানুষের ৩ দফা দাবি: ​এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন: ​জালিয়াতির নিরপেক্ষ তদন্ত: ভুয়া বালাম বইয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাতের ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ ফরেনসিক তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।​মদদদাতা ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার: জমি দখল ও হামলায় জড়িত অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে তাণ্ডব চালানো গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া ও রেজাউল করিমসহ সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।​এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা: চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের অস্ত্র মহড়া বন্ধ করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা দিতে হবে এবং সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ । 

বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

সরকারি হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন / বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

কুমিল্লার  বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের বড় কৈয়নি ও শাকপুর গ্রামে পাগলা কুকুরের হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে বরুড়া সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাফি (২০), পিতা- রশিদ, গ্রাম শাকপুর; আবুল হোসেন (৪০), পিতা- মনির হোসেন, শাকপুর; আনাস (৪ মাস), পিতা- রিয়াদ হোসেন, শাকপুর এবং সামিয়া (২৬ মাস), পিতা- মিল্লাত হোসেন, শাকপুর।এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আয়ান (৩ মাস), পিতা- মো. বাহার, গ্রাম বামন্ডা, উপজেলা চান্দিনা; নিলুফা বেগম (৪০), স্বামী- ফরিদ উদ্দিন, মহেশপুর, বরুড়া; নিরুদা (৭০), স্বামী- মৃত সীতিম সরকার, শাকপুর, বরুড়া এবং কুহিনূর বেগম (৩৫), স্বামী- মো. বিল্লাল হোসেন, শাকপুরকে।এদিকে দুঃখজনক হলেও সত্য, আহতদের কাউকেই বরুড়া সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হাসপাতালের ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সবসময় পর্যাপ্ত রেবিস ভ্যাকসিন মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুর রহমান বলেন, “রেবিস ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে।”স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে সরকারি হাসপাতালে নিয়মিতভাবে রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। এতে জরুরি বিভাগে রোগী আনা-নেওয়া, বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ এবং ওয়ার্ডে যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় হাসপাতাল এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের এমন নাজুক পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।রোগীর স্বজন আব্দুল্লাহীল কাফী বলেন, "রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি চারদিকে পানি জমে আছে। জরুরি বিভাগে পৌঁছাতেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা শুধু রোগীদের দুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি।১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি, রোগীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিচু স্থান ভরাট, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করারও দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ  খায়রুল আলম বলেন, "জলাবদ্ধতার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।"স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে হাসপাতালের জলাবদ্ধতা ও মশা-মাছির উপদ্রব থেকে মুক্তি মিলবে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানও আরও উন্নত হবে।

রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান / রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট তৈরি করে রাখার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার জাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমা।অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, রোগী আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য আসার আগেই বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখা হতো। পরে রোগীর নাম ও পরিচয় যুক্ত করে তা সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইউরিনের নমুনা সংরক্ষণ এবং রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় থার্মোমিটার না রাখাসহ আরও কয়েকটি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।অভিযানে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ ।