বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থা প্রতিষ্ঠাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ বললেন সি চিন পিং
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, গতকাল (শুক্রবার) সকালে সাংহাই শহরে অনুষ্ঠিত, ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন, ২০২৬’ তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং ‘একসঙ্গে ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।সি চিন পিং বলেন, বর্তমান বিশ্ব, বিগত একশত বছরে দেখা যায়নি—এমন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন বিপ্লব এবং শিল্পে রূপান্তর দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উদ্ভাবন অভূতপূর্ব সক্রিয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এতে যেমন বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে নানান শাসনগত চ্যালেঞ্জ। মানবজাতিকে আজ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—যখন যন্ত্র চিন্তা করতে শুরু করবে, তখন মানুষ এর সঙ্গে কীভাবে সহাবস্থান করবে? যখন অ্যালগরিদম সিদ্ধান্তগ্রহণে অংশ নেবে, তখন নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে? যখন প্রযুক্তি নৈতিকতার জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে, তখন শাসনব্যবস্থা কীভাবে তার সাথে তাল মিলিয়ে চলবে? আর যখন প্রযুক্তিগত বৈষম্য বাড়ছে, তখন প্রযুক্তিগত সুফল কীভাবে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে? তিনি বলেন, চীনের মতে, সব দেশের উচিত মানুষকেন্দ্রিক এবং কল্যাণমুখী ধারণা অনুসরণ করা, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যৌথ সমৃদ্ধি ও অভিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয় এবং সবাই মিলে একটি ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।এ প্রসঙ্গে সি চিন পিং চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন: প্রথমত, উন্মুক্ত সহযোগিতা ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে হবে; দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থেকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে; তৃতীয়ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে, সভ্যতার পারস্পরিক শিক্ষা ও বিনিময় জোরদার করতে হবে; চতুর্থত, ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে।প্রেসিডেন্ট সি বলেন, ২০২৬ সাল চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সূচনা বছর। এই পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরে চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেবে এবং আন্তর্জাতিক সমাজের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন কার্যকর বাজার ও সক্রিয় সরকারের সমন্বয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন জোরদার করেছে এবং সক্রিয়ভাবে ‘এআই প্লাস’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে; বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের সহাবস্থান ও যৌথ বিকাশের জন্য, একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলেছে। বর্তমানে চীনের স্মার্ট অর্থনীতির মূল শিল্পের আকার এক ট্রিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি। ‘চায়না ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং’ চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের আরেকটি উজ্জ্বল প্রতীকে পরিণত হয়েছে।তিনি বলেন, চীন উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পর্কিত আইন, নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, প্রয়োগবিধি ও নৈতিক নির্দেশিকা ক্রমাগত উন্নত করছে, যাতে প্রযুক্তিটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকে। একটি দায়িত্বশীল বড় দেশ হিসেবে, চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সবসময় আন্তর্জাতিক জনকল্যাণমূলক পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে এবং বিশ্বকে ধারাবাহিকভাবে চীনা পরিকল্পনা উপহার দিয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট সি আরও বলেন, সব পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায়, বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা সাংহাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি ‘বৈশ্বিক দক্ষিণ’ দেশগুলোর আহ্বানের প্রতি চীনের ইতিবাচক সাড়া এবং আন্তর্জাতিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও বৈশ্বিক শাসন এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল, এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও ভাষণ দেন। সম্মেলনে ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন, ২০২৬ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের সভাপতির ঘোষণা’ প্রকাশ করা হয়। সূত্র: শিশির-আলিম-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে হঠাৎ টর্নেডো, আতঙ্কে ছোটাছুটি
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে হঠাৎ টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এতে পর্যটকদের জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকস্মিক এ ঘটনায় সৈকতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাগরের দিক থেকে ঘূর্ণায়মান বাতাস ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে এটি সৈকতের একটি অংশে আঘাত হানে। টর্নেডোটি তিন থেকে পাঁচ মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময় চেয়ার, ছাতা ও বিভিন্ন হালকা সামগ্রী উড়ে যেতে থাকে।
পিউ জরিপে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের উত্থান, কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা
পিউ রিসার্চ কেন্দ্রের সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপ অনুয়ায়ী, বিগত ২০ বছরে এই প্রথম বারের মতো, বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক জনমতের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে চীন। মার্কিন মিত্রদেশগুলোর মানুষের মধ্যেও চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি দুর্বল হওয়ার প্রেক্ষাপটে, চলতি বছরের জরিপে অন্তর্ভুক্ত ৩৬টি দেশের অধিকাংশেই, চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রও।বিশেষ করে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব আরও স্পষ্ট। কেবল ভারত, জাপান, ফিলিপিন্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ইসরায়েল ও পোল্যান্ড—এই ৬টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক জনমত চীনের তুলনায় বেশি।২০২৩ সাল থেকে জরিপের উপাত্ত পাওয়া যায় এমন ২০টি দেশের মধ্যে প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা চীনের প্রতি ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ৩৬ শতাংশ।তিন বছর আগে এই অনুপাত ছিল চীনের ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ৫৮ শতাংশ। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ঐতিহাসিক নিম্নস্তরে নেমে যাওয়ার পর, চীনের ভাবমূর্তি আবারও উন্নতির দিকে ফিরছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বৈশ্বিক জনমতে আরও নেতিবাচক পরিবর্তন পরে। যদিও তখনও অধিকাংশ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মূল্যায়ন চীনের চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু, এ বছর সেই পরিস্থিতি আর নেই।” পিউ-র চীনবিষয়ক আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ইউরোপের কয়েকটি দেশসহ বহু দেশে, চীনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিহাসে সর্বোচ্চ বা তার কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে।পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে, জরিপে অন্তর্ভুক্ত ১৭টি মধ্যম আয়ের দেশের উত্তরদাতারা চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব দেশে বেশি মানুষ চীনকে “বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার” হিসেবে দেখেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় “বড় অবদান” অথবা “উল্লেখযোগ্য অবদান” রাখছে বলে মনে করেন। পিউ রিসার্চ কেন্দ্র চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত, ৪২ হাজারের বেশি মানুষের ওপর, এই জরিপ পরিচালনা করে। জরিপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে।সূত্র:শিশির-আলিম-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী
এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব