শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারি মামলায় ১৫ জন কারাগারে
শেরপুর জেলায় সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১০ জন বিসিআইসি সার ডিলারসহ ১৫ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির আত্মসমর্পণকারী আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে বিকেলে তাঁদের জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন, বিসিআইসি সার ডিলার মো. ফরহাদ আলী, মাজাহারুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, সুফিয়া বেগম, মরিয়ম আক্তার মুন্নী, তাপস নন্দী, সিরাজুল হক, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী ও বোরহান উদ্দিন। এ ছাড়া ডিলারদের পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. বাদশা মিয়া ও জাকির হোসেন রতনকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বিশেষ ক্ষমতা আইনে সদর উপজেলার ১৫ জন সার ডিলারসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের সার অধিক মুনাফার আশায় কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এতে কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয় এবং অনেক কৃষক সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হন।মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিক্রয় রেজিস্টার, ক্যাশ মেমো ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে ব্যাপক অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এর আগে আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার তাঁরা শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।শেরপুর জেলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজউকের যেকোনো প্ল্যান ২৪ দিনের মধ্যে অনুমোদনের উদ্যোগ... গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী
রাজউক থেকে যেকোনো প্ল্যান ২৪ দিনের মধ্যে অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে রাজউকের বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি আলাদা বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, রাজউক এই সরকারেরই একটি অংশ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও সরকারেরই অংশ। জনগণের জন্য যেটা ভালো হবে, সেটাই করা হবে।নারায়ণগঞ্জের জন্য বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজউকের বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের জন্য আলাদা মাস্টারপ্ল্যান করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সীমানা আরো বাড়ানোর বিষয়টিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ফতুল্লাসহ আশপাশের এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।রাজউকের দুর্নীতি ও সেবায় হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রাজউকের আওতাধীন এলাকা বড় হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম ছিল। এ কারণে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে, যাতে মানুষের কাছে সেবা আরো সহজে পৌঁছানো যায়। রাজউকের সেবায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের রাজউকের চেয়ে আগামী দিনের রাজউক অনেক ডিফারেন্ট হবে।'তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মূল লক্ষ্য হলো নারায়ণগঞ্জবাসীকে আরো ভালো সেবা দেওয়া এবং একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত এনডিএর চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা
পাবনায় এক নিষ্পাপ শিশুর শেষ সন্ধ্যা / ধর্ষণের মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই নিভে গেল কলির প্রাণ
পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে যেন এক অন্ধকার ছায়া নেমে এসেছিল। মাত্র দশ বছরের ছোট্ট কামরুন্নাহার কলি—চতুর্থ শ্রেণির এক অসহায় ফুলের মতো শিশু। তার চোখে ছিল স্বপ্ন, হাতে ছিল খেলার আনন্দ। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় সব শেষ হয়ে গেল।মাগরিবের নামাজ শেষ করে জায়নামাজ থেকে ওঠার পরই তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় মুদি দোকানের পেছনের অন্ধকার কক্ষে। সেখানে তার ওপর নেমে আসে নৃশংসতা। ধর্ষণের পর মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই বালিশ চেপে তার শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। এক নিষ্পাপ প্রাণ এভাবেই নিভে যায়।৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর কলি নিখোঁজ হয়। সাত দিন ধরে পরিবারের চোখে ঘুম নেই, বুক ভরে আহাজারি। অবশেষে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার হয়। দুর্গন্ধ আর কুকুরের তাড়ায় আসামিরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়—মরদেহ বাইরে নিতে পারেনি। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। সেই মুহূর্তে গ্রামের বুক ফেটে যায়।গ্রেপ্তার হয় দুজন—মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলী। রিমান্ডে মোস্তফা স্বীকার করেছে সেই ভয়ংকর সত্য। ঘটনার পর রাত দশটার দিকে সে আবার দোকান খুলে বসে, রক্তমাখা শরীর নিয়ে গোসল করে। এমনকি নিখোঁজ কলির পরিবারের সঙ্গে মিশে খোঁজার নাটকে অংশ নেয়। গভীর রাতে মোবাইলে খোঁজখবর রাখে, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও যোগ দেয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় সাংবাদিক ও পুলিশের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে সে—যেন কিছুই হয়নি।তদন্তকারী ডিবি পুলিশের এসআই বেনু রায় পিপিএম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। মোস্তফার আচরণেই সন্দেহ জাগে। স্থানীয় এক মেম্বার তার হাত ধরতেই সে কাঁপতে শুরু করে। পুলিশ বুকে কান দিয়ে বুঝতে পারে—তাকে তৎক্ষণাৎ আটক করা হয়।ঘটনার দিন সকালেই কলি ভাইকে নিয়ে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে যায়। সেখানে মোস্তফা মোবাইলে শিশুটির অসঙ্গতিপূর্ণ ছবি তোলে। সন্ধ্যায় দোকানের সামনে বেঞ্চে বসে থাকা কলিকে নামাজ শেষে পেছনের কক্ষে নিয়ে যায়। কয়েক দফা ধর্ষণের পর মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই হত্যা নিশ্চিত করে। মোস্তফার ফোনে আরও অসংখ্য উঠতি বয়সী মেয়ের আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে—যা তার আগের দুশ্চরিত্রের ইঙ্গিত দেয়।মোস্তফা দাবি করে, দুজনে মিলে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে। ইয়াসিন অস্বীকার করে বলে, সে শুধু হত্যার পর সহযোগিতা করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় দুজনের বীর্যের আলামত পাওয়া গেলে সত্য আরও স্পষ্ট হবে। তদন্ত প্রায় শেষ; সোমবার আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হবে।এদিকে নিহতের বাড়ি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উত্তেজিত জনতার হাতে। আদালতে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের দাবিতে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এক নিষ্পাপ শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়ার এই নৃশংসতা পাবনার মাটিতে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে—যে ক্ষত সহজে শুকোবে না। কলির চোখের স্বপ্ন আর কখনো ফিরবে না। শুধু রয়ে গেছে এক অসহায় মায়ের বুকের কান্না আর এক গ্রামের নিঃশব্দ আর্তনাদ।
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
ব্রাহ্মণপাড়ায় ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশন গ্রেফতার
বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী মহড়া • মামলা সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন / পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকা’র উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ ফল উৎসব অনুষ্ঠিত