এক দলিলে দ্বৈত রূপ: মোহাম্মদপুরে ভূমি নথির ‘জাদুকরী’ জালিয়াতি ও রহস্যের হাতছানি
ঢাকার মোহাম্মদপুরে ভূমি মালিকানা নিয়ে এক অদ্ভুত ও ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে, যা কেবল নথিপত্রের অসংগতি নয়, বরং পরিকল্পিত অপরাধের এক অনন্য নজির। একই দলিল নম্বর (১৪৩৩) এবং একই তারিখের (০৫/০৩/২০০৮) বিপরীতে একটি ‘হেবা’ এবং অন্যটি ‘সাব-কবলা’ দলিলের অস্তিত্ব এখন ভূমি প্রশাসনের অন্দরমহলে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এই কারসাজি কি কেবল clerical error, নাকি সরকারি নথিপত্রকে হাতের মোয়া বানিয়ে কোনো অদৃশ্য সিন্ডিকেটের ভূমি দখলের মহোৎসব?*জালিয়াতির অংকশাস্ত্র: যখন একটি দলিলে দুই স্বত্ত্বা*২০০৮ সালের ৫ মার্চ সম্পাদিত ১৪৩৩ নং দলিলটি রহস্যময়ভাবে দুই ধরণের পরিচয় ধারণ করছে। একদিকে আদালতে বিচারাধীন একটি মামলায় এটি কুতুবউদ্দিনের নামে ‘হেবা’ দলিল হিসেবে প্রদর্শিত। অন্যদিকে, একই নম্বর ও তারিখ ব্যবহার করে গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমের পক্ষ দাবি করছে এটি তাদের ‘সাব-কবলা’। একটি দলিলে দুই রূপ ধারণ করার এই ঘটনা কি বালাম বই টেম্পারিং বা নথিপত্র জালিয়াতির কোনো সুপরিকল্পিত মডেল? আমাদের অনুসন্ধান বলছে, এই অসংগতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ঢাকার ভূমির মালিকানা নিয়ে প্রচলিত এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।*অদৃশ্য নোটিশ ও নামজারির ‘জাদুকরী’ গতি*সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো নামজারি প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা। যেখানে জোবায়ের হোসেন গত দেড় দশক ধরে ওই জমিতে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করে আইনগতভাবে ভোগদখলে আছেন, সেখানে তাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই কীভাবে নামজারি সম্পন্ন হলো? নামজারি প্রক্রিয়ার আইনি ধাপ হিসেবে 'নোটিশ সার্ভ' করার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা কি এই বিশেষ ক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে? আইনি বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগী মহলের মতে, প্রকৃত মালিককে অন্ধকারে রেখে নামজারি সম্পন্ন করার এই প্রক্রিয়া স্পষ্টতই একতরফা ও অপরাধমূলক।*উন্নয়নের দোহাই নাকি দখলের মহোৎসব?*যদি ১৪৩৩ নং সাব-কবলা দলিলটিই আসল হতো, তবে জোবায়ের হোসেনের ৮ তলা ভবন নির্মাণের সময় এই তথাকথিত মালিকরা কোথায় ছিলেন? কেন তারা নির্মাণের সময় বাধা দেননি? ভবন নির্মাণের পর হঠাৎ করে এই দলিল প্রদর্শনের মাধ্যমে নামজারি সম্পন্ন করাটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও দখলবাজির চূড়ান্ত নীল নকশা।*প্রশাসনের ভূমিকা ও আমাদের প্রত্যাশা*আমরা বর্তমান দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রাখতে চাই। এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা অদৃশ্য সিন্ডিকেটকে খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি এবং রাজস্ব সার্কেল কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোরালো আহ্বান—বালাম বইয়ের অসংগতিগুলো খতিয়ে দেখা হোক। কোন দলিলে কার স্বাক্ষর রয়েছে, এবং কেন নোটিশ ছাড়াই নামজারি সম্পন্ন হলো—এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।*শেষ কথা*ভূমি মালিকানা কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি হরণের হাতিয়ার হতে পারে না। এই জালিয়াতির সাথে জড়িত রথী-মহারথীদের চিহ্নিত করা না হলে ঢাকার বুকে ভূমির নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তথ্যের প্রতিটি স্তর উন্মোচন করে আমরা এই ভূমি জালিয়াতির কুশীলবদের মুখোশ খুলে দিতে বদ্ধপরিকর।জনস্বার্থে এবং প্রকৃত মালিকের অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠায় আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—সময় এসেছে এই অশুভ চক্রের যবনিকা টানার।
বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থা প্রতিষ্ঠাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ বললেন সি চিন পিং
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, গতকাল (শুক্রবার) সকালে সাংহাই শহরে অনুষ্ঠিত, ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন, ২০২৬’ তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং ‘একসঙ্গে ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।সি চিন পিং বলেন, বর্তমান বিশ্ব, বিগত একশত বছরে দেখা যায়নি—এমন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন বিপ্লব এবং শিল্পে রূপান্তর দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উদ্ভাবন অভূতপূর্ব সক্রিয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এতে যেমন বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে নানান শাসনগত চ্যালেঞ্জ। মানবজাতিকে আজ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—যখন যন্ত্র চিন্তা করতে শুরু করবে, তখন মানুষ এর সঙ্গে কীভাবে সহাবস্থান করবে? যখন অ্যালগরিদম সিদ্ধান্তগ্রহণে অংশ নেবে, তখন নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে? যখন প্রযুক্তি নৈতিকতার জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে, তখন শাসনব্যবস্থা কীভাবে তার সাথে তাল মিলিয়ে চলবে? আর যখন প্রযুক্তিগত বৈষম্য বাড়ছে, তখন প্রযুক্তিগত সুফল কীভাবে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে? তিনি বলেন, চীনের মতে, সব দেশের উচিত মানুষকেন্দ্রিক এবং কল্যাণমুখী ধারণা অনুসরণ করা, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যৌথ সমৃদ্ধি ও অভিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয় এবং সবাই মিলে একটি ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।এ প্রসঙ্গে সি চিন পিং চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন: প্রথমত, উন্মুক্ত সহযোগিতা ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে হবে; দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থেকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে; তৃতীয়ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে, সভ্যতার পারস্পরিক শিক্ষা ও বিনিময় জোরদার করতে হবে; চতুর্থত, ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে।প্রেসিডেন্ট সি বলেন, ২০২৬ সাল চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সূচনা বছর। এই পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরে চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেবে এবং আন্তর্জাতিক সমাজের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন কার্যকর বাজার ও সক্রিয় সরকারের সমন্বয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন জোরদার করেছে এবং সক্রিয়ভাবে ‘এআই প্লাস’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে; বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের সহাবস্থান ও যৌথ বিকাশের জন্য, একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলেছে। বর্তমানে চীনের স্মার্ট অর্থনীতির মূল শিল্পের আকার এক ট্রিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি। ‘চায়না ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং’ চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের আরেকটি উজ্জ্বল প্রতীকে পরিণত হয়েছে।তিনি বলেন, চীন উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পর্কিত আইন, নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, প্রয়োগবিধি ও নৈতিক নির্দেশিকা ক্রমাগত উন্নত করছে, যাতে প্রযুক্তিটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকে। একটি দায়িত্বশীল বড় দেশ হিসেবে, চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সবসময় আন্তর্জাতিক জনকল্যাণমূলক পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে এবং বিশ্বকে ধারাবাহিকভাবে চীনা পরিকল্পনা উপহার দিয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট সি আরও বলেন, সব পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায়, বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা সাংহাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি ‘বৈশ্বিক দক্ষিণ’ দেশগুলোর আহ্বানের প্রতি চীনের ইতিবাচক সাড়া এবং আন্তর্জাতিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও বৈশ্বিক শাসন এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল, এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও ভাষণ দেন। সম্মেলনে ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন, ২০২৬ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের সভাপতির ঘোষণা’ প্রকাশ করা হয়। সূত্র: শিশির-আলিম-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে হঠাৎ টর্নেডো, আতঙ্কে ছোটাছুটি
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে হঠাৎ টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এতে পর্যটকদের জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকস্মিক এ ঘটনায় সৈকতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাগরের দিক থেকে ঘূর্ণায়মান বাতাস ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে এটি সৈকতের একটি অংশে আঘাত হানে। টর্নেডোটি তিন থেকে পাঁচ মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময় চেয়ার, ছাতা ও বিভিন্ন হালকা সামগ্রী উড়ে যেতে থাকে।
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী
এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব