যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগমের দুর্নীতির মহাকাব্য
রাজধানীর জনপদ মোড়ে অবস্থিত স্বনামধন্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজকে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অত্যাচারের সাম্রাজ্যে পরিণত করেছেন বর্তমান অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মরিয়ম বেগম। দেশের প্রচলিত শিক্ষানীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার প্রবর্তিত অনিয়ম, দুর্নীতি , স্বেচ্ছাচারিতা, অত্যাচারিতা, নিজ নিজ খেয়াল - খুশি নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে বর্তমান স্কুল এন্ড কলেজটি । তার হিংস্র থাবা থেকে মুক্তি পায়নি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী , শিক্ষক-শিক্ষিকা , অভিভাবক, পিয়ন - আয়ারা পর্যন্ত । যে কারণে একাধিকবার তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় , জেলা শিক্ষা অফিসে , থানা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দায়ের করা হয় কিন্তু অদৃশ্য ছায়ার কল্যাণে বারবার তিনি মুক্তি পেয়ে যান । প্রাপ্ত সূত্রে , ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সহিত দক্ষ অধ্যক্ষ , শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রশাসনিক কর্মচারী- কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছিল । নিম্ন মাধ্যমিক থাকাকালীন ২০০৪ সালে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে উক্ত প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল , প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বা বিধি মোতাবেক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষকের কোন পদ থাকে না । তাহলে তিনি কিভাবে এই পদে যোগদান করেন। তার উক্ত পদে যোগদান বিধি মোতাবেক অবৈধ ও বিতর্কিত । কিন্তু সুচতুর মরিয়ম বেগম রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ এ বিতর্কিত কর্মকান্ডটি বস্তাবন্দী হয়ে যায় । ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিকট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক উন্নতি লাভ করে মাধ্যমিকের রূপান্তরিত ও ২০১০ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিও ভুক্ত হয় । এখানে উল্লেখ্য , একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকের চাকরির ক্ষেত্রে সরকারি বিধি মোতাবেক এসএসসি সহ সকল পরীক্ষায় নুন্যতম দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হয়। তবে মরিয়ম বেগম ডিগ্রী পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ উত্তীর্ণ সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন বলে বিদ্যালয়ের সূত্র হতে প্রাপ্ত । অভিযোগ থেকে আরো প্রকাশ , তার সকল অপকর্মে সর্বদা সহযোগিতা করেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন মুসলেম যিনি অধ্যক্ষের অনেক অনুগত ও আস্থাভাজন । মরিয়ম বেগম নিজেও ২০০৯ হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দুর্নীতিতে সাব্যস্ত হওয়ায় বরখাস্ত ছিলেন । আবার যখন পূর্ণবহাল হন তখন তিনি বিগত দিনের একটি টাকা নিবেন না বলে মুচলেকা দেন । কিন্তু অভ্যাস এত সহজেই যায় না, বরখাস্ত থেকে উদ্ধারের পর তিনি নানা ফন্দি - ফিকির করে ৪০ লক্ষ টাকা আদায় করেন । তার উক্ত দুর্নীতি ও অনিয়মে প্রশ্রয় না দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রভাতী শাখায় ৬৭ জন , দিবা শাখা ৫৭ জন ও কলেজের ১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা তার হিংস্র থাবায় জর্জরিত হন। উক্ত শিক্ষক - শিক্ষিকারা মাসের পর মাস যাবত বেতন ভাতা পাচ্ছেন না । অথচ তিনি নিয়মিত বেতন ভাতা নিয়ে যাচ্ছেন । বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের কিছু জমি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয় । অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবত বিদ্যালয় বরাবর চেকের মাধ্যমে যমুনা ব্যাংকের দিলকুশা শাখা, ঢাকা, ২৮-৪ -২২ ইং তারিখে ২ কোটি ও অগ্রণী ব্যাংক গুলশান শাখায় , ঢাকা , ১৮-৪-২২ ইং তারিখে ৫ কোটি ৯০ লাখ ১৭ হাজার ২৬০ টাকা সরকার কর্তৃক প্রদান করা হয় । কিন্তু এত বিশাল অংকের টাকার হিসাব তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক - শিক্ষিকা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখাতে পারছেন না । শুধু তাই নয় , চার বছরের সেশন চার্জের টাকা , বিদ্যালয় নিজস্ব জমিতে নির্মিত দোকানের এডভান্স ও ভাড়া , প্রতিষ্ঠানের পুরাতন মালামাল বিক্রির টাকার কোন হাদিস নেই । উক্ত সকল অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মরিয়ম বেগমের মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলো তিনি রিসিভ করেননি । এ ব্যাপারে সুশীলসমাজ, দেশের শিক্ষার ও বিদ্যালয়ের স্বার্থে মরিয়ম বেগমের যথাযথ শাস্তি হওয়া দরকার বলে মনে করেন । দুর্নীতিবাজ এই শিক্ষিকার ব্যাপারে এই প্রতিবেদকের তদন্ত অব্যহত আছে।
গুলশান-বাড়িধারা লেকে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা নিতে হবে... গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী
গুলশান-বাড়িধারা লেকে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। রোববার গুলশান-বাড়িধারা লেকের সার্বিক উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি একথা বলেন। সভায় লেকের পানি দূষণ রোধ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন, হাঁটার পথ ও বিনোদন সুবিধা বৃদ্ধি, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।গুলশান-বাড়িধারা লেক শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নগরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত স্থান। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই লেককে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও প্রাণবন্ত করে গড়ে তোলা সম্ভব।সুন্দর, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করেন।
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, দেশে ফেরাতে শুরু প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া
দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ একাধিক মামলার আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।রোববার (১৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।এ বিষয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতাস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন করতে হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।যেসব অভিযোগে মামলাবেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল দলিল ব্যবহার, অপরাধে সহায়তা, দুর্নীতি এবং মানি লন্ডারিংসহ একাধিক অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া পাসপোর্ট আইনের বিভিন্ন ধারায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।কীভাবে গ্রেপ্তার হলেন?স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে আসছিল। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে আবেদন পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে এবং সেই নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ বলছে সরকারএই গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি প্রমাণ করে যে অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”দীর্ঘদিন ছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালেআইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ মে বেনজীর আহমেদ দেশ ত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি জনসম্মুখে আসেননি এবং তার অবস্থান নিয়েও ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা।উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। ওই সময় তিনি দেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তারের খবর দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব
প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি
প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে জেএ টিভির প্রতিনিধি কর্মশালা অনুষ্টিত