মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

গাইড ও প্রাইভেটনির্ভর শিক্ষা : বাড়ছে অভিভাবকদের উদ্বেগ

জাতীয় শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবইকে শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হলেও বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডবই ও প্রাইভেটনির্ভর শিক্ষার প্রবনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ শুধু পাঠ্যবই পড়ে ভাল ফল করা কঠিন এমন একটি ধারণা ক্রমেই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে গাইড বই কেনা এবং সারা বছর প্রইভেট পড়া অনেক পরিবারের জন্য একপ্রকার বাধ্যতামূলক ব্যয়ে পরনিত হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়,অনেক শ্রেনিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্নন প্রকাশনীর গাইড বই ব্যবহার করে পাঠদান করা হচ্ছে। ফুলকুঁড়ি, পাঞ্জেরী, লেকচারসহ বিভিন্ন প্রকাশণীর গাইড বই শিক্ষার্থীদের হাতে বেশী দেখা গেছে। অনেক অভিভাবকের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট গাইড বই সংগ্রহে উৎসাহিত করা হয়। একাধিক অভিভাবক জানান, শুধু গাইড বই কিনলেই হয়না, অনেক শিক্ষক প্রাইভেট পড়ার প্রতি জোর দেন।তাদের আশঙ্কা , প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ভার ফল তো দুরের কথা, পাস করাও কঠিন। এ কারণেই মাসের পর মাস প্রাইভেট শিক্ষার খরছ বহন করতে হচ্ছে। নি¤œ আয়ের পরিবারের অভিভাবকদের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বই, কোচিং ও প্রাইভেটশিক্ষার অতিরিক্ত ব্যায় সামলানো তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। অনেকেই সংসারের অন্যান্য প্রয়োজন কমিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাচ্ছেন।এতে শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। এদিকে কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক প্রকাশনীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি বইয়ের চাপ সৃষ্টি করছেন। যদিও তারা এ অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোন প্রমান দেখাতে পারেননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবী জানান। তারা আরও বলেন, কিছু শিক্ষক ভোর থেকে বিদ্যালয় শুরুর আগ পর্যন্ত একাধিক ব্যাচে প্রাইভেট পড়ান। ফলে শ্রেণিকক্ষে এসে তারা আগের মতো মনোযোগ ও উদ্যম নিয়ে পাঠদান করতে পারেন না। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়া হলে তারা বলেন, প্রাইভেট পড়ানো ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে কোন সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই এবং তারা যথাথথ দায়িত্ব পালন করেন। অনেক শিক্ষক আরও বলেন গাইড বই কেবল সহায়ক উপকরণ ,পাঠ্যবইই শিক্ষার মূল ভিত্তি। শিক্ষাবিদদের মতে পাঠ্যবইকেন্দ্রিক  শিক্ষা থেকে সরে গিয়ে গাইড ও প্রাইভেটনির্ভর ব্যবস্থা জোরদার হলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ,বিশ্লেষণী দক্ষতা ও স্বশিক্ষার অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরবিারের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহবায়ক সোনাইমূড়ী উচ্চ বিদ্যারয়ের প্রধান শিক্ষক প্রাণেশ্বর আচার্য বলেন, শিক্ষার মানোন্নায়নে শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইভিত্তিক কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা, গাইড বইয়ের ওপর অতিনির্ভরতা কমানো এবং প্রাইভেটনির্ভরতা হ্রাসে কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবইই শিক্ষার মূল উপকরণ। কোন শিক্ষার্থীকে গাইড বই কিনতে বাধ্য করা বা প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ লিখিতভাবে পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। আর বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হবে এবং প্রধান শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।   

বড় ঘোষণা তারেক রহমানের: আগামী জুনেই ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

আগামী জুন মাসের মধ্যে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে আগামী পাঁচ বছরে ৪ কোটি পরিবারের নারী সদস্যদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা।সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।তিনি জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৭ হাজার পরিবারের নারী সদস্য ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের ৪ কোটি পরিবারের নারী সদস্যদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।তারেক রহমান বলেন, “জনগণ যতদিন বিএনপির পাশে থাকবে, ততদিন দেশের স্বার্থে কোনো বাধাকেই পরোয়া না করে কাজ করে যাবে বিএনপি।”শিক্ষাখাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। সেই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।এর আগে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখননকৃত সরিকল খালের পাশে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বড় ঘোষণা তারেক রহমানের: আগামী জুনেই ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

বন্যার্তদের পাশে সরকার: ৬৪ জেলায় ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও ৮,৯৫০ মেট্রিক টন চাল

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জরুরি মানবিক সহায়তা জোরদার করেছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে।মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। চার দফায় জেলার জন্য মোট ৬৫ লাখ টাকা এবং ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া বন্যাকবলিত অন্যান্য জেলার মধ্যে কক্সবাজারে ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙ্গামাটিতে ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, খাগড়াছড়িতে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জে ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয়েছে। এভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাত জেলার জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া দেশের বাকি ৫৭টি জেলার প্রতিটির জন্য ৫ লাখ টাকা এবং ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এসব জেলার জন্য মোট ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

    বন্যার্তদের পাশে সরকার: ৬৪ জেলায় ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও ৮,৯৫০ মেট্রিক টন চাল
    বড় ঘোষণা তারেক রহমানের: আগামী জুনেই ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

বড় ঘোষণা তারেক রহমানের: আগামী জুনেই ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

আগামী জুন মাসের মধ্যে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে আগামী পাঁচ বছরে ৪ কোটি পরিবারের নারী সদস্যদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা।সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।তিনি জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৭ হাজার পরিবারের নারী সদস্য ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের ৪ কোটি পরিবারের নারী সদস্যদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।তারেক রহমান বলেন, “জনগণ যতদিন বিএনপির পাশে থাকবে, ততদিন দেশের স্বার্থে কোনো বাধাকেই পরোয়া না করে কাজ করে যাবে বিএনপি।”শিক্ষাখাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। সেই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।এর আগে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখননকৃত সরিকল খালের পাশে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে আসিয়ানের সঙ্গে সংলাপ জোরদারের আহ্বান বেইজিংয়ের

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং গত (শুক্রবার) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক তথাকথিত "দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায়" প্রসঙ্গে তাঁর কাছে জানতে চান। জবাবে মাও নিং বলেন, চীন বারবার স্পষ্ট করেছে যে, তথাকথিত ওই 'রায়' অবৈধ, অকার্যকর এবং এর কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। চীন এই রায় গ্রহণ করে না এবং এর কোনও স্বীকৃতিও দেয় না। এমনকি এই রায়ের ওপর ভিত্তি করে দাবি করা কোনও বিষয় বা পদক্ষেপও চীন মেনে নেবে না।তিনি আরও বলেন, "দক্ষিণ চীন সাগর আচরণবিধি" প্রণয়ন করা মূলত "দক্ষিণ চীন সাগরে পক্ষগুলোর আচরণের ঘোষণা" বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি চীন ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যও বটে। দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীন সর্বদা আসিয়ান দেশগুলোর সাথে আলোচনা ত্বরান্বিত করতে এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি 'আচরণবিধি' চূড়ান্ত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তথাকথিত ওই 'রায়ের' সাথে এই আচরণবিধির কোনও সম্পর্ক নেই। তাই ফিলিপাইনের উচিত নয় এই 'রায়কে' কাজে লাগিয়ে 'আচরণবিধি' চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা সৃষ্টি করা।সূত্র:স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী মহানগর বিএনপির শোক পালন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) রাজশাহী মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এক দিনের শোক কর্মসূচি পালিত হয়েছে।কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ৭টায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। একই সঙ্গে নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। পরে মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান জনিসহ রাজশাহী মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।নেতৃবৃন্দ মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ

১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর
র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

কটিয়াদীতে কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর  উদ্যোগে প্রথম বারের গ্রামীণ ঐতিহ্যের আমেজ: জমে উঠেছে হাড্ডাহাড্ডি কাবাডি প্রতিযোগিতা।বাঙালির প্রাণের খেলা কাবাডি। মাঠের কাদা আর দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে । শুক্রবার বিকেলে হযরত মিয়া চান্দ শাহ্ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ,  আয়োজিত এক জমজমাট কাবাডি প্রতিযোগিতায় দেখা গেল খেলোয়াড়দের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশিকুজ্জামান নজরুল ; ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ; মোঃ রিয়াজুল ইসলাম সেবক  চান্দ্পুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি, ইমাম হোসেন দুলাল মেম্বার চান্দপুর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক, এবং চান্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, শহিদুল হক উজ্জ্বল প্যানেল চেয়ারম্যান চান্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বাটা হাওর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ  মোঃ রাজিব সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।বিকেলের সূর্য নামার আগেই মাঠের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় দর্শকে। স্থানীয় জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় মাঠ প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। প্রতিটি ম্যাচেই খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করে।প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জাসাস-এর স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গাইড ও প্রাইভেটনির্ভর শিক্ষা : বাড়ছে অভিভাবকদের উদ্বেগ

গাইড ও প্রাইভেটনির্ভর শিক্ষা : বাড়ছে অভিভাবকদের উদ্বেগ

জাতীয় শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবইকে শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হলেও বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডবই ও প্রাইভেটনির্ভর শিক্ষার প্রবনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ শুধু পাঠ্যবই পড়ে ভাল ফল করা কঠিন এমন একটি ধারণা ক্রমেই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে গাইড বই কেনা এবং সারা বছর প্রইভেট পড়া অনেক পরিবারের জন্য একপ্রকার বাধ্যতামূলক ব্যয়ে পরনিত হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়,অনেক শ্রেনিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্নন প্রকাশনীর গাইড বই ব্যবহার করে পাঠদান করা হচ্ছে। ফুলকুঁড়ি, পাঞ্জেরী, লেকচারসহ বিভিন্ন প্রকাশণীর গাইড বই শিক্ষার্থীদের হাতে বেশী দেখা গেছে। অনেক অভিভাবকের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট গাইড বই সংগ্রহে উৎসাহিত করা হয়। একাধিক অভিভাবক জানান, শুধু গাইড বই কিনলেই হয়না, অনেক শিক্ষক প্রাইভেট পড়ার প্রতি জোর দেন।তাদের আশঙ্কা , প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ভার ফল তো দুরের কথা, পাস করাও কঠিন। এ কারণেই মাসের পর মাস প্রাইভেট শিক্ষার খরছ বহন করতে হচ্ছে। নি¤œ আয়ের পরিবারের অভিভাবকদের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বই, কোচিং ও প্রাইভেটশিক্ষার অতিরিক্ত ব্যায় সামলানো তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। অনেকেই সংসারের অন্যান্য প্রয়োজন কমিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাচ্ছেন।এতে শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। এদিকে কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক প্রকাশনীর পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি বইয়ের চাপ সৃষ্টি করছেন। যদিও তারা এ অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোন প্রমান দেখাতে পারেননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবী জানান। তারা আরও বলেন, কিছু শিক্ষক ভোর থেকে বিদ্যালয় শুরুর আগ পর্যন্ত একাধিক ব্যাচে প্রাইভেট পড়ান। ফলে শ্রেণিকক্ষে এসে তারা আগের মতো মনোযোগ ও উদ্যম নিয়ে পাঠদান করতে পারেন না। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়া হলে তারা বলেন, প্রাইভেট পড়ানো ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে কোন সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই এবং তারা যথাথথ দায়িত্ব পালন করেন। অনেক শিক্ষক আরও বলেন গাইড বই কেবল সহায়ক উপকরণ ,পাঠ্যবইই শিক্ষার মূল ভিত্তি। শিক্ষাবিদদের মতে পাঠ্যবইকেন্দ্রিক  শিক্ষা থেকে সরে গিয়ে গাইড ও প্রাইভেটনির্ভর ব্যবস্থা জোরদার হলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ,বিশ্লেষণী দক্ষতা ও স্বশিক্ষার অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরবিারের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহবায়ক সোনাইমূড়ী উচ্চ বিদ্যারয়ের প্রধান শিক্ষক প্রাণেশ্বর আচার্য বলেন, শিক্ষার মানোন্নায়নে শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইভিত্তিক কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করা, গাইড বইয়ের ওপর অতিনির্ভরতা কমানো এবং প্রাইভেটনির্ভরতা হ্রাসে কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবইই শিক্ষার মূল উপকরণ। কোন শিক্ষার্থীকে গাইড বই কিনতে বাধ্য করা বা প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ লিখিতভাবে পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। আর বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হবে এবং প্রধান শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।   

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও

সমাজের প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন "বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেজ)" প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৯ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুজাউদ্দৌলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকার সহকারী পরিচালক তাসলিমা খাতুন। সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকার উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৫, আজিমপুরের সমাজসেবা অফিসার মো. জহির উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, খাগড়াছড়ির উপপরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালীউল্লাহ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, যশোরের সমাজসেবা অফিসার (রেজি.) মো. আব্দুল কাদের, প্রশিক্ষকবৃন্দ এবং পৌর সমাজকর্মী সোহেল রানা।বক্তারা বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ শুধু নিজের কর্মসংস্থানই নিশ্চিত করতে পারেন না, বরং পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবীর প্রত্যেককে এককালীন ১৮ হাজার টাকা অনুদান এবং প্রশিক্ষণ সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা এ উদ্যোগকে তাদের আত্মনির্ভরশীল জীবনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য :  স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য : স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে চলছে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের অবাধ বিচরণ। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা এবং ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতের জন্য অনেক চিকিৎসক উদগ্রীব হয়ে থাকেন, আর সেসময় রোগীদের কখনো লম্বা লাইনে  দাঁড়িয়ে  কখনো বা দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েন তারা ।সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা শুধুমাত্র সপ্তাহে ২ দিন সোমবার ও বৃহ:বার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত চিকিৎসকদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। কিন্তু এই নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতালের অফিস কক্ষগুলোতে এবং চিকিৎসকদের চেম্বারে ভিড় করছেন তারা। কালীগঞ্জ হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিগণ প্রতিদিন নিয়ম করে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ডাক্তারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছেন। আর অঘোষিত এই নিয়ম সরকারি বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে  চালু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফারিয়া নামক সংগঠনের নেতারা। এভাবেই অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ   বিক্রয় প্রতিনিধিদের সাথে ডাক্তারদের সাক্ষাৎকারকে প্রাধান্য দিয়ে রোগী সেবা ব্যাহত করে চলেছেন। বিষয়টি বেশ কয়েকবার স্থানীয় সচেতন মহল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবগত করলেও তিনি এ ব্যাপারে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী রোগী রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু ডাক্তার সাহেব আমাদের দিকে না তাকিয়ে ওষুধ কোম্পানির লোকজনের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত। আমাদের সময়ের কোনো মূল্য নেই তাদের কাছে।স্কয়ার কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি অনিক হাসান এই প্রতিবেদককে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং আমাদের সংগঠন ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাতের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।আমরা সে অনুযায়ী সাক্ষাৎ করছি। প্রতিদিনই সব কোম্পানির প্রতিনিধিগণ   ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। নির্দেশনা না থাকলে কি আর সেটি করা সম্ভব হতো? এ বিষয়ে কালীগঞ্জ ওষুধ কোম্পানির সংগঠন ‘ফারিয়া’র সাধারণ সম্পাদক ফরাদুজ্জামান ফরহাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাতের জন্য বলা হয়েছে। তাহলে প্রতিদিন সান্ধ্যকালীন এবং রাত্রিকালীন ডাক্তারদের সঙ্গে  সাক্ষাৎ কার অনুমতিতে করা হচ্ছে  জানতে চাইলে তিনি তা কৌশলে এড়িয়ে যান।  বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমানুল্লাহ আল মামুন জানান, সরকারি হাসপাতালে সরকারি বিধি উপেক্ষা  করার কোনো সুযোগ নেই। রোগীদের সেবা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান বলেন,সাক্ষাৎকার বিষয়ে  সরকারি পরিপত্রের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।কোনো চিকিৎসক  যদি নিয়ম বহি:র্ভূতভাবে বিক্রয় প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার, কর্মস্থলেও অনুপস্থিতি / চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার মালিকানার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অপর দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অফিস চলাকালে বেসরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৫ জুলাই পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নেয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু-শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং সরকারি অফিস সময় বেসরকারি সিটি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ডা. সামছুল আলম রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের বদলিকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে ওই বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।এ পরিস্থিতিতে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার গ্রহণ, হাসপাতাল পরিচালনায় সম্পৃক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তি তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।জেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অদৃশ্য কারণে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ

চরম ভোগান্তিতে রোগীরা / অদৃশ্য কারণে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স গত ২৯ জুন ২০২৬ থেকে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার রোগী ও তাদের স্বজনরা। জরুরি রোগীদের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়াসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে বাধ্য হয়ে অনেকেই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করছেন। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে জরুরি রোগী স্থানান্তরে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোহাম্মদ খায়রুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা বলেন। কখনও তিনি বরাদ্দসংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, আবার কখনও দাবি করেন, কয়েকটি পেট্রোল পাম্প জ্বালানি সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "অ্যাম্বুলেন্স বন্ধের কারণ হিসেবে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। এটি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) ব্যক্তিগত বা মনগড়া বক্তব্য।"সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক টিপু জানান, "অফিস থেকেই আমাকে গাড়ি চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। অফিস থেকে নির্দেশ পেলেই আমি আবার অ্যাম্বুলেন্স চালাব। প্রতিদিন রোগী ও তাদের স্বজনরা আমাকে ফোন দেন। আমি সবাইকে বলি, অফিস থেকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। শুনেছি বাজেট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে গাড়িটি বন্ধ রয়েছে।"সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগীদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে তাঁর বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (বড়বাবু) শাহি আলমের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।এদিকে দীর্ঘদিন ধরে জরুরি এই সেবা বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। রোগীর স্বজনরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মিডল্যান্ড হাসপাতালের সেই ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে আদালতের তলবে

কুমিল্লায় সিজারের পর রোগীর পেটে কাপড় রেখে সেলাই / মিডল্যান্ড হাসপাতালের সেই ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে আদালতের তলবে

কুমিল্লায় সিজার অপারেশনের সময় এক প্রসূতি রোগীর পেটে কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগে চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসককে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ধার্য তারিখে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।মামলার বাদী মো. এনামুল হক মজুমদার অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে মাকসুদা আক্তার (২৪) ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার মিডল্যান্ড হাসপাতালে সিজার অপারেশন করান। ওই সময় জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর পেটের ভেতরে একটি কাপড় রেখে সেলাই করা হয়।অভিযোগে বলা হয়, অপারেশনের পর থেকেই মাকসুদা আক্তার তীব্র পেটব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। পরে ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় তাঁর শরীরে টেক্সটাইলোমা (Textiloma) শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে রোগীর পেট থেকে কাপড়টি বের করা হয়।বাদীপক্ষের দাবি, চিকিৎসা অবহেলার কারণে ভুক্তভোগীর প্রায় আট লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এখনও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। মামলার সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি এবং রোগীর পেট থেকে বের করা কাপড়ের ছবিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় দায়ের করা মামলাটি কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (কগ নং-১)-এ সি.আর. ৬৭৩/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। আদালত কুমিল্লার সিভিল সার্জনকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। সদস্য ছিলেন ডা. রেজা মো. সারোয়ার আকবর, ডেপুটি সিভিল সার্জন, কুমিল্লা এবং ডা. ফারিয়া জাকরিন আনসারী, মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়, কুমিল্লা। তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসা অবহেলার ঘটনায় ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে।কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ দায় কোনোভাবেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারবে না।আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য :  স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য : স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে চলছে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের অবাধ বিচরণ। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা এবং ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতের জন্য অনেক চিকিৎসক উদগ্রীব হয়ে থাকেন, আর সেসময় রোগীদের কখনো লম্বা লাইনে  দাঁড়িয়ে  কখনো বা দরজার বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েন তারা ।সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা শুধুমাত্র সপ্তাহে ২ দিন সোমবার ও বৃহ:বার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত চিকিৎসকদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। কিন্তু এই নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতালের অফিস কক্ষগুলোতে এবং চিকিৎসকদের চেম্বারে ভিড় করছেন তারা। কালীগঞ্জ হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিগণ প্রতিদিন নিয়ম করে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ডাক্তারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছেন। আর অঘোষিত এই নিয়ম সরকারি বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে  চালু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফারিয়া নামক সংগঠনের নেতারা। এভাবেই অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ   বিক্রয় প্রতিনিধিদের সাথে ডাক্তারদের সাক্ষাৎকারকে প্রাধান্য দিয়ে রোগী সেবা ব্যাহত করে চলেছেন। বিষয়টি বেশ কয়েকবার স্থানীয় সচেতন মহল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবগত করলেও তিনি এ ব্যাপারে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী রোগী রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু ডাক্তার সাহেব আমাদের দিকে না তাকিয়ে ওষুধ কোম্পানির লোকজনের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত। আমাদের সময়ের কোনো মূল্য নেই তাদের কাছে।স্কয়ার কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি অনিক হাসান এই প্রতিবেদককে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং আমাদের সংগঠন ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাতের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।আমরা সে অনুযায়ী সাক্ষাৎ করছি। প্রতিদিনই সব কোম্পানির প্রতিনিধিগণ   ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। নির্দেশনা না থাকলে কি আর সেটি করা সম্ভব হতো? এ বিষয়ে কালীগঞ্জ ওষুধ কোম্পানির সংগঠন ‘ফারিয়া’র সাধারণ সম্পাদক ফরাদুজ্জামান ফরহাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাতের জন্য বলা হয়েছে। তাহলে প্রতিদিন সান্ধ্যকালীন এবং রাত্রিকালীন ডাক্তারদের সঙ্গে  সাক্ষাৎ কার অনুমতিতে করা হচ্ছে  জানতে চাইলে তিনি তা কৌশলে এড়িয়ে যান।  বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমানুল্লাহ আল মামুন জানান, সরকারি হাসপাতালে সরকারি বিধি উপেক্ষা  করার কোনো সুযোগ নেই। রোগীদের সেবা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান বলেন,সাক্ষাৎকার বিষয়ে  সরকারি পরিপত্রের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।কোনো চিকিৎসক  যদি নিয়ম বহি:র্ভূতভাবে বিক্রয় প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।