সিলেটকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতেই সিউক কাজ করবে.. গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী
সিলেটকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক) কাজ করবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এম পি।মঙ্গলবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিউকের কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী।এর আগে, বেলা ১২টার দিকে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে নামফলক উন্মোচন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর।গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘সিলেটকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রম ও কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিলেট অর্থনীতি, পর্যটন ও প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ণের কারণে আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। কৃষিজমি রক্ষা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত ও টেকসই শহর গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যেই প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।
পরিবেশ ও উন্নয়নের ভারসাম্যে চীনা মডেলের প্রশংসায় জাতিসংঘ
সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন)-কে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন জাতিসংঘের উপমহাসচিব ও মরুকরণ রোধবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন সচিবালয়ের নির্বাহী সচিব ইয়াসমিন ফুয়াদ।সাক্ষাৎকারে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উদ্যোগে ‘স্বচ্ছ জলরাশি ও সুজলা-সুফলা পাহাড়-পর্বত অমূল্য সম্পদ’-এর ধারণার প্রশংসা করে বলেন, যেকোনো শাসন-সংক্রান্ত উদ্যোগের মাধ্যমে অসাধারণ ফলাফল অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও অবিচল রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অঙ্গীকার অপরিহার্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে মরুভূমি ও বালুকাময় ভূমির আয়তন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে দেশটি ভূমির অবক্ষয় রোধ ও পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বড় পরিসরের অন্যতম স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে। চীনের অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্ব শিক্ষা নিতে পারে। এতে ভূমি পুনরুদ্ধার প্রকল্প, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পরিচিতি, মানবতা ও প্রকৃতির সুষম সহাবস্থানভিত্তিক উন্নয়ন মডেল এবং শেখার প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত আছে।তিনি বলেন, চীন ব্যাপক পরিসরে ভূমি পুনরুদ্ধারের কাজ করেছে। এটি ‘মরুকরণ রোধে জাতিসংঘের কনভেনশন’-এর আওতায় পরিচালিত ভূমি পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টারও একটি অন্যতম প্রধান উপাদান। চীন দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো দেশের প্রতিষ্ঠিত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটেছে। এ সম্পর্কিত সমস্যাগুলো মোকাবিলার উপায় খুঁজতে হবে। এ ছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মরুকরণ রোধের ক্ষেত্রে আমরা চীনের সঙ্গে সহযোগিতা চালাতে ইচ্ছুক। সূত্র: ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
রাজপথ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের নীরব দৃঢ়তার যাত্রা
ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় মঞ্চ, সেখান থেকে মন্ত্রীসভা এবং অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ-মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই দীর্ঘ পথচলা শুধুমাত্র একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি গোটা বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে সংগ্রাম, ধৈর্য, সংযম ও আদর্শিক স্থিরতা একসূত্রে গাঁথা। বৃহস্পতিবার সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শপথ গ্রহণ শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হয়েছেন। পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন যে ব্যক্তি, তার জীবনপথ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও নীরব দৃঢ়তারও পরীক্ষা।১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি তৎকালীন দিনাজপুরের (বর্তমান ঠাকুরগাঁও) এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম মির্জা ফখরুলের। পিতা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ। পরিবার থেকেই তিনি ন্যায়বোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের বীজ পেয়েছিলেন। ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ পায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এস. এম. হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি সংগঠনের নেতৃত্বে থেকে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তার বক্তব্য ছিল যুক্তিনির্ভর, সংযত ও আবেগঘন-যা পরবর্তী জীবনেও তার পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকে।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন। সংগঠক ও যোদ্ধা-উভয় ভূমিকাতেই অবদান রাখেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরেও দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও কাজ করেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান।১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) তে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে পরাজিত হলেও ২০০১ সালে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে পরাজয় এলেও দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। ২০১৮ সালে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও শপথ গ্রহণ না করায় আসনটি শূন্য হয়। সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তার নেতৃত্ব আরও বেশি প্রশংসিত। ২০০৯ সালে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। দলের কঠিন সময়ে গ্রেপ্তার, মামলা, আন্দোলন ও সাংগঠনিক সংকটের মধ্য দিয়েও তিনি সংযত কণ্ঠে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। অনেকেই তাকে “ভদ্র রাজনীতির প্রতীক” বলে অভিহিত করেন। তার ভাষা আক্রমণাত্মক নয়, কিন্তু অবস্থান দৃঢ়। সংসদীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের পক্ষে তিনি সর্বদা সোচ্চার থেকেছেন। সহিংসতার পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়াই তার কৌশলগত বৈশিষ্ট্য।ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্বাচিত ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই মেয়াদের দেড় বছর বাকি থাকতেই পদত্যাগ করেন। চলতি মাসের শুরুতে তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি তাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে প্রার্থী করে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, যিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সংসদে ভোটে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পান, অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ভূমিকার। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি ছিলেন দলীয় কণ্ঠস্বর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। বামপন্থী ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতা, মন্ত্রী, দীর্ঘ বিরোধী আন্দোলনের মুখ এবং অবশেষে রাষ্ট্রপতি-এই যাত্রা সহজ ছিল না। কিন্তু তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ধৈর্য, সহনশীলতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাই রাজনীতির প্রকৃত শক্তি।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবন কেবল একজন ব্যক্তির জীবনী নয়; এটি সংগ্রাম, আদর্শ ও নীরব দৃঢ়তার দীর্ঘ পথচলার দলিল।শুক্রবার সন্ধ্যা ৭.৩০ টায় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন অধ্যায় শুরু করছেন। দেশবাসী আশা করবে, তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবেও সেই একই সংযম, ন্যায়বোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনা ধরে রাখবেন, যা তাকে এতদূর এনেছে। রাজপথ থেকে বঙ্গভবন-এই যাত্রা যেন রাষ্ট্রের জন্যও শুভ হয়।লেখক : সাংবাদিক ও সংগঠক।
রাণীনগরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
নিজ জেলা চাঁদপুরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
মৃত সাংবাদিক পরিবারের হাতে সহায়তার চেক, বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
মোংলায় ৬০ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার প্রথম ধাপের কাজ, অক্টোবরে শুরু
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী মহড়া • মামলা সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন / পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকা’র উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ ফল উৎসব অনুষ্ঠিত
প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও
গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী