বিজ্ঞান গবেষণায় এআই ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ নোবেলজয়ী নোভোসেলভের
নোবেল পুরস্কারজয়ী পদার্থবিদ কনস্টান্টিন নোভোসেলভ সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপকে (সিএমজি) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গ্রাফিন প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতি, চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন।২০১০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাওয়া কনস্টান্টিন নোভোসেলভ গ্রাফাইট থেকে গ্রাফিন আলাদা করার যুগান্তকারী গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তিনি বলেন, গ্রাফিন প্রযুক্তি বর্তমানে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’-এর পর্যায়ে প্রবেশ করছে। প্রচলিত ক্ষেত্রে গ্রাফিনের ব্যবহার মূলত জ্বালানি, ইলেকট্রনিকস ও কম্পোজিট উপকরণে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন আলোক-ইলেকট্রনিকস ও দূরপাল্লার যোগাযোগ প্রযুক্তিতে এর প্রয়োগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাক্ষেত্রেও গ্রাফিনের গবেষণা দ্রুত এগোচ্ছে।চীনে গ্রাফিনের শিল্পায়ন প্রসঙ্গে কনস্টান্টিন নোভোসেলভ বলেন, চীনের বড় সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁচামাল সরবরাহের সক্ষমতা এবং বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি। চীনে গ্রাফিন প্রযুক্তির বিকাশ তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো দেশটির ধারাবাহিক ও পূর্ণাঙ্গ সরবরাহব্যবস্থা। তাঁর মতে, নতুন কোনো উপকরণ নিজে থেকেই সম্পূর্ণ সমাধান নয়; সেটিকে কোনো না কোনোভাবে সরবরাহশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়, আর চীন ইতোমধ্যেই এই সংযোগ গড়ে তুলেছে।চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন প্রসঙ্গে নোভোসেলভ বলেন, চীনের উন্নয়নের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছিল দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সময়। বিশেষ করে ত্রয়োদশ পাঁচসালা পরিকল্পনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর দেওয়া গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চীনা গবেষকদের সঙ্গে বহু বছর ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, এসব নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে বাস্তব প্রযুক্তিগত সাফল্যে রূপ নিয়েছে, তা নিজের চোখে দেখতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে মহাকাশ প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই চীনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষ করে ব্যাটারি প্রযুক্তিকে তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্ষেত্রগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পেও চীন বিশ্বে অগ্রণী অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।বিজ্ঞান গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা প্রসঙ্গে নোভোসেলভ বলেন, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও সৃজনশীল চিন্তার ক্ষেত্রে মানুষের অন্তর্দৃষ্টি সবসময়ই মূল বিষয় হয়ে থাকবে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার এবং ইতোমধ্যে বিজ্ঞানের একাধিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তবে সৃজনশীল অনুসন্ধানের মূল পথটি ভবিষ্যতেও মানুষের হাতেই থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা সবসময়ই নতুন নতুন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন, কিন্তু সেগুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের অবশ্যই সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং কোনটি বাস্তব বৈজ্ঞানিক ফলাফল আর কোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি ‘ভ্রম’—তা শনাক্ত করতে হবে।আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়েও কনস্টান্টিন নোভোসেলভ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক কারণে অনেক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থমকে যাচ্ছে, যা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। তাঁর মতে, বিজ্ঞানের অগ্রগতি কখনোই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাই ভবিষ্যতেও বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে—এটাই তাঁর আন্তরিক প্রত্যাশা।চীনে তাঁর দীর্ঘদিনের সফর ও কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নোভোসেলভ বলেন, চীন এমন একটি দেশ, যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি পাশাপাশি বিকশিত হয়েছে এবং প্রদেশগুলোর মধ্যেও বড় ধরনের বৈচিত্র্য রয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রেও প্রতিবার নতুন কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় গেলে তিনি নতুন নতুন ‘লুকানো রত্ন’ এবং অসাধারণ গবেষণাকাজ আবিষ্কার করেন বলে জানান। তাঁর অনেক চীনা বন্ধু রয়েছেন, যাঁদের কেউ কেউ একসময় তাঁর ছাত্র ছিলেন। তাঁদের তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৎ এবং কাজে মনোযোগী হিসেবে বর্ণনা করেন। বর্তমানে তাঁদের গবেষণাগারে গিয়ে তাঁদের কাজ দেখতে পারা তাঁর কাছে সত্যিই প্রশংসনীয় অভিজ্ঞতা।নিজের ৩৬ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তরুণদের জন্য কনস্টান্টিন নোভোসেলভের পরামর্শ হলো—নিজের অন্তরের প্রতি সৎ থাকা এবং নিজের মূল লক্ষ্য ও প্রেরণাকে ধরে রাখা। তিনি বলেন, মানুষ খুব সহজেই নানা ধরনের প্রচার ও সময়ের প্রবণতার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিজের পথ থেকে সরে যেতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানচর্চার মূল উদ্দেশ্য হলো এর মধ্য থেকে আনন্দ খুঁজে পাওয়া। তাঁর মতে, এই আনন্দই সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়।ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য একটি নতুন উপকরণ তৈরি করার সুযোগ পেলে কনস্টান্টিন নোভোসেলভ এমন একটি উপকরণ তৈরি করতে চান, যা কোনো না কোনোভাবে জীবন্ত ব্যবস্থার মতো আচরণ করবে। তাঁর মতে, এ ধরনের উপকরণ তৈরি করা গেলে জীবন্ত ব্যবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার ক্ষেত্রে মানবজাতি আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবে।সূত্র: শিশির, আলিম, আকাশ, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী : বিশ্বে ইতিবাচক শক্তি যোগাতে চায় চীন: সি চিন পিং
গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের মহাগণভবনে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, চীনের প্রেসিডেন্ট ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান সি চিন পিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।সি চিন পিং বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা তার বিপুল শক্তি ও সুবিধা প্রদর্শন করেছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা ও শাসনক্ষমতার আধুনিকায়নের মান ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে এবং চীনা জাতির মহান পুনরুত্থানের গতি অপ্রতিরোধ্য।’সি চিন পিং বলেন, ‘আমরা যদি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস রাখি, লক্ষ্য স্থির রাখি এবং ধাপে ধাপে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাই, তবে সাফল্য অবশ্যই মহান চীনা কমিউনিস্ট পার্টি, মহান চীনা জনগণ এবং মহান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের হবে।’চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। চাও ল্যচি, ওয়াং হুনিং, ছাই ছি, তিং শুয়ে শিয়াং, লি সি ও হান চেং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৮০০ জন চীনা ও বিদেশি অতিথি একত্রিত হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জন্মদিন উদযাপন করেন।মহাগণভবনের ভোজকক্ষে ঝাড়বাতির আলোয় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মঞ্চের ওপরে শোভা পাচ্ছিল গম্ভীর জাতীয় প্রতীক। আর লাল পতাকার পটভূমিতে ‘১৯৪৯-২০২৬’ সালটি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল।অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শুরু হলে সবাই দাঁড়িয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। বীরত্বপূর্ণ ‘স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর কুচকাওয়াজ’ সংগীতের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সভাকক্ষ।এরপর সি চিন পিং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।প্রথমে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটি ও রাষ্ট্রীয় পরিষদের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জনগণ, চীনা গণমুক্তি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দল এবং দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।তিনি হংকং ও ম্যাকাও বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের স্বদেশবাসী, তাইওয়ানের স্বদেশবাসী এবং বিদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চীনের নির্মাণ ও উন্নয়নকে সমর্থন করে আসা বন্ধুপ্রতিম দেশ ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।সি চিন পিং উল্লেখ করেন, ৭৭ বছর ধরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে নেতৃত্ব দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। এর ফলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতার দুটি বড় অর্জন হয়েছে। সর্বাত্মকভাবে সচ্ছল সমাজ গঠনের প্রথম শতবর্ষের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং সমাজতান্ত্রিক আধুনিক শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় শতবর্ষের লক্ষ্যের দিকে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা নতুন চীনের বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণকারী অর্জনে অত্যন্ত গর্বিত এবং চীনা শৈলীর আধুনিকীকরণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।’সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, ‘চলতি বছর থেকে সারা পার্টি ও দেশের জনগণ উদ্যম ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলছে। চাপের মধ্যেও আমাদের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে, নতুন ও উন্নত দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা ও প্রাণশক্তি প্রদর্শন করছে। পার্টি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাজে নতুন অগ্রগতি অর্জন হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই স্থিতিশীলতার মধ্যে অগ্রগতির মূল সুর বজায় রাখতে হবে, নতুন উন্নয়ন ধারণা সম্পূর্ণ, সঠিক ও ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, নতুন উন্নয়ন কাঠামো দ্রুত গড়ে তুলতে হবে, সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ আরও গভীর করতে হবে এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় করতে হবে।’সি বলেন, ‘একই সঙ্গে অর্থনীতিকে ধারাবাহিকভাবে আরও উন্নত করতে হবে, জনগণের জীবনযাত্রার মান কার্যকরভাবে সুরক্ষা ও উন্নত করতে হবে, বছরের নির্ধারিত লক্ষ্য ও কাজ সম্পন্ন করতে হবে এবং পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার একটি সুষ্ঠু সূচনা নিশ্চিত করতে হবে।’হংকং ও ম্যাকাও সম্পর্কে সি চিন পিং বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’, ‘হংকংয়ের মানুষ হংকং শাসন করবে’, ‘ম্যাকাওয়ের মানুষ ম্যাকাও শাসন করবে’ এবং উচ্চমাত্রার স্বায়ত্তশাসনের নীতি দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। হংকং ও ম্যাকাওকে জাতীয় উন্নয়নের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত হতে ও এতে অবদান রাখতে সহায়তা করতে হবে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।’তিনি বলেন, ‘দুই তীরের মধ্যে আদানপ্রদান ও সহযোগিতা গভীর করতে হবে, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ চাওয়া বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে দৃঢ়ভাবে আঘাত করতে হবে, বাহ্যিক শক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে হবে, দুই তীরের সম্পর্কের শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে এবং মাতৃভূমির পুনঃএকীকরণের মহান কাজ এগিয়ে নিতে হবে।’সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই স্বাধীন ও স্বতন্ত্র শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে হবে, চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে হবে, মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গঠন এগিয়ে নিতে হবে এবং পরিবর্তন ও বিশৃঙ্খলায় ভরা বিশ্বে আরও নিশ্চয়তা ও ইতিবাচক শক্তি যোগাতে হবে।’অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আনন্দময় সংগীতের সুরে চীনা ও বিদেশি অতিথিরা একসঙ্গে পানপাত্র তুলে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উদযাপন করেন। তারা চীনের সমৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিশালী ভবিষ্যৎ, জনগণের সুখ ও কল্যাণ কামনা করেন এবং চীনা জনগণের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণের চিরস্থায়ী বন্ধুত্বের শুভকামনা জানান। সূত্র: স্বর্ণা, ফয়সল, লিলি, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে ‘৩০ বিলিয়ন বনাম ৩০ বিলিয়ন’ কাঠামো
২০২৬ সালের মে মাসে বেইজিংয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সরকারি পর্যায়ের একটি বাণিজ্য পরিষদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এরপর ২০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অষ্টম দফা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চীন-মার্কিন বাণিজ্য পরিষদের কার্যপ্রণালি, ‘৩০ বিলিয়ন বনাম ৩০ বিলিয়ন’ সমতুল্য শুল্ক হ্রাস কাঠামোর দায়িত্ব ও কার্যপ্রণালির নির্দেশিকা এবং শুল্ক হ্রাসের আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই পক্ষ। কার্যপ্রণালি অনুযায়ী, বাণিজ্য পরিষদের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও উন্নত করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করা এবং বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় সমাধান করা। ধারণা করা হচ্ছে, চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং মতপার্থক্যের বিষয়গুলো কমিয়ে আনতে বাণিজ্য পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ও প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য পরিষদের কাঠামোর অধীনে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য শুল্ক হ্রাস কাঠামো নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে, ২০২৪ সালের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণের ভিত্তিতে প্রত্যেক পক্ষের প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের আমদানি পণ্যের ওপর নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ আইন ও বিধি অনুযায়ী সমতুল্য হারে শুল্ক হ্রাসের সুবিধা দেওয়া হবে। এর আওতাভুক্ত ৯০ শতাংশেরও বেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিকভাবে আরোপিত সব অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে এবং এসব পণ্য সর্বাধিক অনুকূল শুল্ক সুবিধা পাবে। দুই পক্ষ নিজ নিজ বাজারের চাহিদা ও শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমতুল্য শুল্ক হ্রাসের আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকা নির্ধারণ করেছে। চীন থেকে আমদানি করা খেলনা, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, শিশুদের পণ্য, রান্নাঘর ও বাথরুমের সামগ্রী এবং উৎসবের উপহারসহ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কৃষিপণ্য, ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কয়লাসহ প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে চীন। দুই পক্ষ নিজ নিজ শুল্ক হ্রাসের আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকা যৌথভাবে প্রকাশ করতে সম্মত হয়েছে। এরপর নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একই সময়ে শুল্ক হ্রাস কার্যকর করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। পাশাপাশি, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটাতে কৃষিপণ্য, জ্বালানি, শিল্পপণ্য ও ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারেও এটি সহায়ক হবে। এ ছাড়া, দুই পক্ষ বাণিজ্য পরিষদের অধীনে একটি কৃষি কার্যকারী দল গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। কার্যকারী দলটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বাজারে প্রবেশাধিকারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে, বাণিজ্যসংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলা করবে এবং কৃষি ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করবে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দলটির প্রথম বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। চীন জানিয়েছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট উদ্বেগগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সূত্র: স্বর্ণা, ফয়সল, লিলি, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়তে সব দেশের সঙ্গে কাজ করবে
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
ব্রাহ্মণপাড়ায় ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশন গ্রেফতার
বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী মহড়া • মামলা সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন / পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকা’র উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ ফল উৎসব অনুষ্ঠিত