কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে থ্রি-হুইলার আটকের জেরে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা) আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাইওয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে চলাচলরত একটি থ্রি-হুইলার আটক করে। এ নিয়ে চালক ও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এক পর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং গাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিয়মিত আইন প্রয়োগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে একটি থ্রি-হুইলার আটক করা হয়েছিল। এর জের ধরে কিছু শ্রমিক উত্তেজিত হয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
হামে শিশু মৃত্যুর দায়: ড. ইউনূস ও নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
দেশে চলমান হামের প্রকোপে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ব্যর্থতা এবং আশঙ্কাজনক হারে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলাটি করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন— সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান, ড. ইউনূসের তৎকালীন বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. আবু জাফর। মামলার আরজিতে বাদী অভিযোগ করেন, দেশে হামের টিকা সংকট মোকাবিলায় চরম উদাসীনতা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নজিরবিহীন ব্যর্থতার কারণেই শত শত শিশুর অকাল মৃত্যু ঘটেছে। প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলাই এই মানবিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।এর আগে গত ২০ মে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল (ইউনিসেফ) বাংলাদেশে হামের টিকা পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, দেশে হামের টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অন্তত ১০ বার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে ৫টি আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে টিকা ক্রয়ের জন্য অর্থের কোনো সংকট ছিল না; মূলত সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতা এবং ক্রয়সংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই সময়মতো টিকা আনা সম্ভব হয়নি, যার খেসারত দিতে হচ্ছে শিশুদের।প্রসঙ্গত, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হাম এবং হামজনিত বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২০ জনে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেবেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন ৪০২ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৯৪ জন। বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার তালিকায় সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিল মোটরসাইকেল।বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হন। একই সময়ে ৩১টি রেল দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত এবং ১৭টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪০ জন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ঈদের সময়ে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের হার ছিল ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ২১ শতাংশ, বাস ১৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ, অবৈধ ব্যাটারিচালিত যান ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, কার ও মাইক্রোবাস ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, নছিমন-করিমন ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং সিএনজি অটোরিকশা ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ।গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন।দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কার ঘটনায়, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এবং বাকিগুলো অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে বৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া গর্ত, ভাঙাচোরা অবকাঠামো, চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতা এবং বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল চলাচল দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়া চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একটানা ও বিশ্রামহীনভাবে চালানো হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।তিনি জানান, ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার পর ৮০ জন চালক জনরোষের শিকার হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, ৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৩ জন শিক্ষক, ১ জন চিকিৎসক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে— জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবাধ চলাচল, সড়কে রোড সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, মিডিয়ান ও ডিভাইডার না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, উল্টোপথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি এবং দীর্ঘ সময় বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো।প্রাণহানি কমাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা চালু করা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট, ফিটনেস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে।সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, যাত্রী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর কবির লিটুসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা জাহেদ। আপনি ও কি তাই মনে করেন?
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব
প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি
প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে জেএ টিভির প্রতিনিধি কর্মশালা অনুষ্টিত