মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবকেন্দ্রিক সহযোগিতায় এসসিওর নতুন অগ্রযাত্রা

‘প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এসসিও’র উন্নয়ন নিয়ে তাঁর বক্তব্যে যে প্রস্তাবগুলি তুলে ধরেছেন, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও তাৎপর্যপূর্ণ’, ‘সি চিন পিংয়ের নীতি প্রস্তাবসমূহ এসসিও পরিবারের ২৭টি দেশের মধ্যে আন্তঃসংযোগ আরও জোরদার করবে’... ১ সেপ্টেম্বর, কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পরিষদের ২৬তম বৈঠক এবং ‘এসসিও+’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন, যেখানে তিনি এসসিওর উন্নয়ন সম্পর্কিত ৪টি মূল প্রস্তাব এবং সংস্থাটির ভূমিকা আরও কার্যকরভাবে পালনের জন্য ৩টি পরামর্শ দেন, যা ব্যাপক অনুরণন সৃষ্টি করে। সিএমজি সম্পাদকীয় এসব কথা বলেছে। চলতি বছর শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা প্রতিষ্ঠার ২৫তম বার্ষিকী। প্রাথমিকভাবে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের সর্বাধিক বিস্তৃত ভূখণ্ড, সর্বাধিক জনসংখ্যা এবং বিপুল উন্নয়ন সম্ভাবনাসম্পন্ন একটি নতুন ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থায় পরিণত হওয়া পর্যন্ত এসসিও’র যাত্রা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক নতুন আদর্শে পরিণত হয়েছে। এই শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এসসিওর ‘সর্বশ্রেষ্ঠ উন্নয়ন অর্জন’, ‘সর্বমূল্যবান আধ্যাত্মিক সম্পদ’ এবং ‘সর্বগুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা অভিজ্ঞতা’ তুলে ধরেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই তিনটি ‘সর্বোচ্চ’ এসসিওর বিকাশ ও শক্তিশালী হওয়ার ‘সাফল্যের রহস্য’ ব্যাখ্যা করে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা ‘শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশকেক ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষর ও প্রকাশ করেন, ‘শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সনদ’ সংশোধন ও পরিপূরক করার প্রটোকল অনুমোদন করেন এবং ২৮টি নথি গ্রহণ করেন... ‘এসসিও পরিবার’ বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি ও যৌথ উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায় রচনার ইচ্ছা প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে চীন ক্রমাগতভাবে এসসিও’র উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণে জ্ঞান ও শক্তি প্রদান করে আসছে। গত বছর থিয়েনচিন শীর্ষ সম্মেলনে এসসিও’র আগামী ১০ বছরের উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন করা হয় এবং প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ পেশ করেন, যা বৈশ্বিক শাসনকে জোরদার ও উন্নত করতে চীনের জ্ঞান আরও প্রদান করে এবং এসসিওর বৈশ্বিক শাসনে অংশগ্রহণের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করে। বর্তমানে বিশ্ব শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং মানবসভ্যতা কোন পথে যাবে তার এক সংকটময় মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এসসিও কীভাবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং সক্রিয়ভাবে ইতিহাসের গতিপথকে নেতৃত্ব দিতে পারে? ‘উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা’, ‘নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে সর্বজনীন নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি করা’, ‘মানবকেন্দ্রিক হয়ে প্রজন্মান্তরের বন্ধুত্বের ভিত্তি মজবুত করা’, ‘সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্য ও সুশৃঙ্খল শাসন প্রতিষ্ঠা করা’—প্রেসিডেন্ট সি-এর উত্থাপিত এই ৪টি প্রস্তাব যথাক্রমে চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যা এসসিও’র উচ্চতর মানের উন্নয়ন অর্জনে ‘চীনা সমাধান’ প্রদান করে। চায়না ইনস্টিটিউট অব কনটেম্পোরারি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্সের একাডেমিক কমিটির উপ-মহাসচিব তিং শিয়াওশিং ‘আন্তর্জাতিক সমালোচনা’কে বিশ্লেষণ করে বলেন, এর অর্থ হলো এসসিও চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ সক্রিয়ভাবে বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে এবং বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়ন রক্ষায় আরও বড় ভূমিকা পালন করবে। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিজো এনকালা মনে করেন, চীন কর্তৃক প্রস্তাবিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ এসসিওর মূল্যবোধ ও উন্নয়নের দিকনির্দেশনার সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য স্পষ্ট কর্ম নির্দেশিকা প্রদান করে। উন্নয়ন হল সব সমস্যার সমাধানের মূল চাবিকাঠি। বর্তমানে এসসিও’র সব সদস্য রাষ্ট্র সাধারণত উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে চীনের অন্যান্য এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৪২ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা বছরে ১৪.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই শীর্ষ সম্মেলনে চীন অসংখ্য সহযোগিতা উদ্যোগ প্রস্তাব করেছে—যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য বিনিয়োগ, আন্তঃসংযোগ, শক্তি ও সম্পদের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্রগুলোর সহযোগিতা জোরদার করা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ শিল্পের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোর সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং তিয়েনচিনে চীন-শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বন্দর অর্থনৈতিক সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা—এগুলোর লক্ষ্য আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গভীরতর, বাস্তবসম্মত ও মানোন্নত করা। কাজাখস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক আমাঙ্গেলদি তাজেনভ মনে করেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জের মুখে চীনের বহুপাক্ষিক সহযোগিতা চালনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা সহযোগিতা এসসিওর ভিত্তি। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি পরস্পর জড়িত। চীন প্রস্তাব করেছে যৌথভাবে ‘তিনটি সন্ত্রাসী শক্তি’, আন্তঃসীমান্ত সংগঠিত অপরাধ ইত্যাদি মোকাবিলা করা; বহিরাগত শক্তির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস করা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা; পারমাণবিক নিরাপত্তা বহুপাক্ষিক অংশীদারত্ব জোরদার করা সমর্থন করা; এবং শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ‘চারটি নিরাপত্তা কেন্দ্র’ দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা সমর্থন করা... এই উদ্যোগগুলি ‘নিরাপত্তা জাল’ আরও মজবুত করবে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা হুমকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করবে। বৈচিত্র্যময় সভ্যতা ও সংস্কৃতি ‘এসসিও পরিবারের’ একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন ফোরাম সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা, চীন-শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা প্রাথমিক শিক্ষা সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং লুবান ওয়ার্কশপের মতো প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে পারস্পরিক শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের সেতু নির্মাণ অব্যাহত রাখা... চীনের এই উদ্যোগ ও প্রস্তাবগুলি এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রজন্মান্তরের বন্ধুত্বের ভিত্তি মজবুত করবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শক্তি ভারসাম্য গভীরভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিশ্বের বহুমুখীকরণের প্রবণতা অপ্রতিরোধ্য। একটি আরও ঐক্যবদ্ধ ও প্রাণবন্ত শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বিশ্ব বহুমুখীকরণের অগ্রগতিতে বৃহত্তর অবদান রাখতে সম্পূর্ণ সক্ষম। ‘এসসিও+’ বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বিশ্ব বহুমুখীকরণের পক্ষে সমর্থন জানানোর মূল নীতি, আবশ্যক পূর্বশর্ত, গুরুত্বপূর্ণ পথ ও উন্নয়নের দিকনির্দেশনা ব্যাখ্যা করেন এবং ‘এসসিও শক্তি’ দ্বারা ইউরেশীয় মহাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন চালনা, ‘এসসিও জ্ঞান’ দ্বারা বৈশ্বিক দক্ষিণের বিকাশ ও শক্তিশালীকরণ উন্নয়ন এবং ‘এসসিও পদক্ষেপ’ দ্বারা বৈশ্বিক শাসনের সংস্কার ও উন্নতি নেতৃত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ৩টি পরামর্শ এসসিওকে আরও ভালোভাবে ভূমিকা পালন করতে এবং আরও ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসন অর্জনে সহায়তা করবে। অসাধারণ ২৫ বছর অতিক্রম করে এসসিও একটি নতুন প্রারম্ভিক বিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক লক্ষ্য অপরিবর্তিত ও অটুট রয়েছে, এসসিও উচ্চতর মানের উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীন ‘শাংহাই স্পিরিট’ ধারণ করে এবং চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘এসসিও পরিবারের’ সদস্যদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে বৈশ্বিক শাসনের উন্নতি ও মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সম্মিলিত সমাজ গঠনে ক্রমাগত চীনা জ্ঞান ও সমাধান প্রদান করতে থাকবে। সূত্র: স্বর্ণা,তৌহিদ,লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ

দ্বিতীয় স্ত্রীর শাবল ও হাতুড়ির আঘাতে স্বামীর মৃত্যু

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীর শাবল ও হাতুড়ির আঘাতে খায়রুল ইসলাম পলাশ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে আটক করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ আউড়া গ্রামে লিজার বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছের রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশ পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। তাঁর গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। কিছুদিন আগে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজার বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি একটি ফার্মেসি পরিচালনা করছিলেন।স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পলাশ ও লিজার মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে লিজা শাবল ও হাতুড়ি দিয়ে পলাশের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয় লোকজন পলাশকে উদ্ধার করে কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।কাঁঠালিয়া থানার ওসি মো. নাছের রায়হান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ লিজার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দ্বিতীয় স্ত্রীর শাবল ও হাতুড়ির আঘাতে স্বামীর মৃত্যু

ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চীন-মিশরের নতুন সহযোগিতা

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বুধবার সকালে কায়রোর ‘প্যালেস অব দ্য সান’-এ বৈঠক করেন।বৈঠককালে সি চিন পিং উল্লেখ করেন যে, ১৯৫৬ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী প্রথম আরব ও আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে মিশর অন্যতম ছিল। উভয় দেশের পূর্ববর্তী প্রজন্মের নেতারা জাতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামে এবং সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে নিজ নিজ জনগণকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা এক অটুট ও গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করে। ৭০ বছরের নানা উত্থান-পতন চীন-মিশর সম্পর্কের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলোকে লালন করেছে এবং তার সাক্ষী হয়েছে: ‘সমতা ও পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শিক্ষা, পারস্পরিক সহায়তা ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সহযোগিতা।’সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের যৌথ নির্দেশনায়, চীন-মিশর সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব এক উল্লম্ফনমূলক উন্নয়ন অর্জন করেছে। উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবন, জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের অভিন্ন আদর্শ ও কৌশলগত সমন্বয় রয়েছে। এক জটিল ও অস্থির আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে, উভয় দেশের উচিত একে অপরকে সমর্থন করা, সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং চীন-মিশরের একটি অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনে ক্রমাগত অগ্রগতি সাধন করা।দুই রাষ্ট্রপ্রধান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন। সি চিন পিং উল্লেখ করেন যে, চীন আঞ্চলিক দেশগুলোকে সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে, একটি অভিন্ন, ব্যাপক, সহযোগিতামূলক ও টেকসই নিরাপত্তা ধারণা সমুন্নত রাখতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো নির্মাণে সমর্থন করে। এ প্রসঙ্গে তিনি চারটি উদ্যোগ পেশ করেন।আলোচনার পর, দুই রাষ্ট্রপ্রধান যৌথভাবে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সহযোগিতা দলিলে স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেন। উভয় পক্ষ গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এবং আরব প্রজাতন্ত্র মিশরের মধ্যে ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে। সফরকালে, উভয় পক্ষ ডিজিটাল অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং পরিবহনের মতো ক্ষেত্রে ২০টিরও বেশি সহযোগিতা দলিলে স্বাক্ষর করে।সূত্র: লিলি,তৌহিদ,রুবি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ

ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চীন-মিশরের নতুন সহযোগিতা
জিপিএ-৫ স্কাউটদের জন্য শিক্ষাবাজেটে ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা-শিক্ষামন্ত্রী

জিপিএ-৫ স্কাউটদের জন্য শিক্ষাবাজেটে ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা-শিক্ষামন্ত্রী

বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিলেন-এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী মেধাবী স্কাউট শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বাজেট থেকে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।মন্ত্রী বলেন, এইমাত্র আমাকে স্লিপ দেওয়া হলো-স্কাউটের জন্য বাজেট বাড়াতে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মেধাবী স্কাউটদের দিকে তাকিয়ে তিনি যোগ করেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেখলে ভালো লাগে। কিন্তু যারা ভালো ফল করতে পারেনি, তাদের নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে।” আগামী শনিবার কচুয়ায় যারা পরীক্ষায় ফেল করেছে, তাদের সঙ্গে তিনি বসবেন বলেও জানান।স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্কাউট শিক্ষার্থীদের শেখায় জনসেবা, নেতৃত্ব, মানুষকে ভালোবাসা এবং দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার মন্ত্র। এই শিক্ষাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আজকের সচিবরাও একসময় শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়েই তারা আজ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। আজকের শিক্ষার্থীরাও একদিন সেই জায়গায় পৌঁছাবে-এমন প্রত্যাশা তিনি ব্যক্ত করেন।দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তি ও নৈতিকতাহীন পরিবেশ থেকে সমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফুটবল প্রতিযোগিতায় উৎসাহিত করছেন। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ড্রেস ও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা চলছে। কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্পোর্টস কালচার, ‘লার্নিং হ্যাপিনেস’ এবং কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে। স্কাউটের জন্য পৃথক স্কিম নেওয়া হয়েছে এবং বিএনসিসির জন্যও উদ্যোগ চলছে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নৈতিকতা ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। লেখাপড়া করতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। জাতি গঠন করতে হলে শৃঙ্খলায় আসতে হবে এবং আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হবে। আগামী বাংলাদেশ আজকের শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠবে।উপস্থিত মেধাবী স্কাউটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ভালো ফল করেছে তাদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হবে। আগামী প্রজন্মকে যোগ্য ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতির অভিন্ন সংকট: চীনা মুখপাত্র

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়া খুন (বুধবার) বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভূমিধস দুর্যোগ সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সমগ্র মানবজাতির একটি সাধারণ সংকট এবং কোনো দেশই এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব কার্যকরভাবে প্রতিরোধ ও হ্রাস করার জন্য চীন আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।মুখপাত্র বলেন, চীন ও নেপাল উভয় দেশের বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে একটি হিমবাহের অস্থিতিশীলতার কারণে এই দুর্যোগটি ঘটেছে। নেপালের একটি হিমবাহ থেকে বরফ ও পাথরের দ্রুত ধস নেমে পাহাড়ের গা ক্ষয় করে এটি তৈরি হয়। প্রকৃতপক্ষে, চীন ও নেপাল আবহাওয়া, জলসম্পদ এবং দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমনের ক্ষেত্রে ভালো সহযোগিতা বজায় রেখেছে। দুর্যোগের পর, চীন নেপালের সঙ্গে দুর্যোগ এলাকার ছবি, স্যাটেলাইট ও জলবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত তথ্য এবং উজানের ভূমিধস বাঁধ সম্পর্কিত আগাম সতর্কবার্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও ভাগ করে নিয়েছে।মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন যে, চীন নেপালের দুর্যোগ ত্রাণ প্রচেষ্টাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে যাবে এবং দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমনের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।সূত্র: লিলি,তৌহিদ,রুবি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ

বরুড়া পৌর বিএনপির সভাপতি হলেন সাবেক পৌর মেয়র জসিম পাটোয়ারী

কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভা বিএনপি'র সভাপতি হলেন সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জসীম উদ্দীন পাটোয়ারী।বরুড়া পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরুড়া পৌরসভার অধীনে মোট ২৪টি গ্রাম বা মহল্লা এবং ২১টি মৌজা রয়েছে। এটি প্রশাসনিকভাবে ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।মোট জনসংখ্যা ৫৭,৯৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ জনসংখ্যা ২৭,৮৮৯ জন এবং মহিলা জনসংখ্যা ৩০,০৪৬ জন। সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ২৬,৬২৫ জন (পুরুষ ১২,৪৯৯ জন এবং মহিলা ১৪,১২৬ জন)। পৌরসভার মোট আয়তন ২৩.১৩ বর্গ কিলোমিটার। এ জনসাধারণের উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল গুলো অন্যান্য ১৫টি ইউনিয়নের আগে পৌরসভার জন্য এগিয়ে আসে সম্প্রতি বরুড়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক সর্দার এর মৃত্যুতে পৌরসভা বিএনপির সভাপতি পদটি শুন্য হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ও কুমিল্লা দঃ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন (এমপি) দলের সিনিয়র ও দায়িত্বশীলদের সাথে এক বৈঠকে এ শুন্য পদটি পুরণের লক্ষ্যে বর্তমান বরুড়া পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকায় বরুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ জসিম উদ্দিন পাটোয়ারীকে দলের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তাকে বরুড়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম, সাবেক সভাপতি হাজী মোঃ জুনাব আলী, সিনিয়র সহ সভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু, বরুড়া বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, গরুরে পৌরসভা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, সহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন বরুড়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন (এমপি) কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নব নির্বাচিত বরুড়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোঃ জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রদর্শনী করে মাত্র চার দিনেই ১১তম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। ৯ উইকেটে জিতে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ।টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা দলের কাছে শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়া ডেরা থেকে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চার জনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়া মাটিতে একটি টেস্টের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং নিশ্চিতভাবে এই টেস্ট সিরিজ তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত যেন তৈরি হয়ে গেল।দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

কালীগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দুইশত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান

কালীগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দুইশত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দুইশত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্টানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছার ক্রেষ্ট তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ। উল্লেখ্য, এবারে ২০২৬ এর এসএসসির ফলাফলে উপজেলার ২৮টি মাধ্যমিক ও ৩ টি মাদ্রাসা থেকে মোট ২০০ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ লাভ করেছে।কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গিয়াস উদ্দিন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, সরকারী নলডাঙ্গা ভ্থষন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন তোতা, সলিমুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিদৌরা আক্তারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধানগন। শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছার ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। 

কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেহানা প্লাজায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দৈনিক দিন প্রতিদিনের সহকারী সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান পিন্টুর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক প্রতিদিনের খবরের সম্পাদক সরকার জামাল।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশের আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ও কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার প্রধান উপদেষ্টা সুমন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাইম ২৪-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং দৈনিক দিন প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি আয়শা আক্তার জেসিকা, শনিআখড়া পপুলার হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হুদা শামীম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হালিম শিকদার ও হাজী মো. নজরুল ইসলাম।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়-নীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের একপর্যায়ে স্থানীয় মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও পবিত্র কুরআনের হাফেজদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মিলাদ শেষে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগঅনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনের সদস্যদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।প্রস্তুতি কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সভাপতি: সরকার জামাল, দৈনিক প্রতিদিনের খবরসাধারণ সম্পাদক: মো. জাহিদ হাসান পিন্টু, দৈনিক দিন প্রতিদিনসাংগঠনিক সম্পাদক: আশিকুর রহমান, দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকাসিনিয়র সহসভাপতি: কবির হোসেন মঞ্জু, দৈনিক প্রতিদিনের খবরসহসভাপতি: হালিম শিকদার, দৈনিক বাংলা ভূমি; এস কে সবুজ আহমেদ, দৈনিক মুক্তির লড়াই; মাকসুদুর রহমান, টাইম ২৪যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শামীম হোসেন অর্নব, প্রথম আলো; নাছির সরদার, দৈনিক রূপবানীসহসাধারণ সম্পাদক: সামাদ সরওয়ার, নাগরিক টিভি; সোহেল আহমেদ, চ্যানেল এসদপ্তর সম্পাদক: এস এম সোহাগ রানা, টাইম ২৪মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: ইভা রহমান, দৈনিক বাংলা ভূমিঅর্থ সম্পাদক: তাহের শেখ, প্রতিদিনের খবরপ্রচার সম্পাদক: লিটন গাজী, সাহারা টিভিসাংস্কৃতিক সম্পাদক: এম এ এইচ মাসুদ, বার্তা বিচিত্রাতথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক: মো. শাওন, দৈনিক আলোর সময়সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: মো. মাইনুদ্দিন, বাংলাদেশের আলোত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক: দিপু ভূঁইয়া, আওয়ার বাংলাদেশপাঠাগার সম্পাদক: রুহুল আমীন হাওলাদার, দৈনিক সবার আগেকার্যকরী সদস্য: মো. জসিমউদ্দিন, সাহারা টিভি; নাছির মোল্লা, দৈনিক মাতৃভূমি; চৌধুরী ওহেদুন্নবী সানী, দৈনিক স্বাধীন কাগজ; শরিফুল হক, তথ্যবাণী; মো. হাকিম, দৈনিক ভোরের কথা; বাদল, রাজধানী টিভি; শাওন, প্রতিদিনের আলো এবং শাহারীয়া ইসলাম বাপ্পি।আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তুতি কমিটির মূল লক্ষ্য হলো সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা এবং সকল সদস্যের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা।অনুষ্ঠানের পরিশেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং সর্বস্তরের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ । 

বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

সরকারি হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন / বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

কুমিল্লার  বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের বড় কৈয়নি ও শাকপুর গ্রামে পাগলা কুকুরের হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে বরুড়া সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাফি (২০), পিতা- রশিদ, গ্রাম শাকপুর; আবুল হোসেন (৪০), পিতা- মনির হোসেন, শাকপুর; আনাস (৪ মাস), পিতা- রিয়াদ হোসেন, শাকপুর এবং সামিয়া (২৬ মাস), পিতা- মিল্লাত হোসেন, শাকপুর।এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আয়ান (৩ মাস), পিতা- মো. বাহার, গ্রাম বামন্ডা, উপজেলা চান্দিনা; নিলুফা বেগম (৪০), স্বামী- ফরিদ উদ্দিন, মহেশপুর, বরুড়া; নিরুদা (৭০), স্বামী- মৃত সীতিম সরকার, শাকপুর, বরুড়া এবং কুহিনূর বেগম (৩৫), স্বামী- মো. বিল্লাল হোসেন, শাকপুরকে।এদিকে দুঃখজনক হলেও সত্য, আহতদের কাউকেই বরুড়া সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হাসপাতালের ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সবসময় পর্যাপ্ত রেবিস ভ্যাকসিন মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুর রহমান বলেন, “রেবিস ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে।”স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে সরকারি হাসপাতালে নিয়মিতভাবে রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। এতে জরুরি বিভাগে রোগী আনা-নেওয়া, বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ এবং ওয়ার্ডে যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় হাসপাতাল এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের এমন নাজুক পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।রোগীর স্বজন আব্দুল্লাহীল কাফী বলেন, "রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি চারদিকে পানি জমে আছে। জরুরি বিভাগে পৌঁছাতেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা শুধু রোগীদের দুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি।১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি, রোগীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিচু স্থান ভরাট, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করারও দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ  খায়রুল আলম বলেন, "জলাবদ্ধতার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।"স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে হাসপাতালের জলাবদ্ধতা ও মশা-মাছির উপদ্রব থেকে মুক্তি মিলবে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানও আরও উন্নত হবে।

রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান / রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট তৈরি করে রাখার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার জাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমা।অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, রোগী আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য আসার আগেই বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখা হতো। পরে রোগীর নাম ও পরিচয় যুক্ত করে তা সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইউরিনের নমুনা সংরক্ষণ এবং রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় থার্মোমিটার না রাখাসহ আরও কয়েকটি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।অভিযানে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ ।