মুক্তির লড়াই

সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ। ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানায় চাদপাই রেঞ্জ ও পুর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা। এ সময় জেলে, বাওয়াল, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশী পর্যটক-কেউই সুন্দরবনের ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। বনের মৎস্য সম্পদ ও বন্যপ্রানী প্রজনন নিভিগ্ন করতে জেলে, বাওয়ালী, মৌয়াল ও পর্যটক সহ সকল ধরনের লোকজন এই তিন মাসের জন্য প্রবেশ বন্ধ ঘোষ করে সরকার ২০২০ সাল থেকে। সেই থেকে দীর্ঘ ৫ বছর পর এবছর থেকে শুধুমাত্র করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র উম্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে। বন বিভাগের মতে, জুন, জুলাই ও আগস্ট-এই তিন মাস মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, সরীসৃপ, পাখি ও স্থন্যপায়ী প্রাণীর প্রজননকাল। এ সময় বনে মানুষের প্রবেশ সীমিত করা না হলে মাছ, বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। দীর্ঘ মেয়াদে সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য এ নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বন বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু করা হবে না। কেউ অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করলে বন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হবে।খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, সরীসৃপ, পাখি ও স্থন্যপায়ী প্রাণীর প্রজননকাল। এ সময়ে বনাঞ্চলের নদী-খালগুলো নানা প্রজাতির মাছের ডিম ছাড়ার নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ অঙ্কুরোদ্গম ও নতুন চারা জন্মানোর জন্যও সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সাল থেকে প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনকে মানুষের সব ধরনের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। বন সংরক্ষক আরো বলেন, বনজীবীদের নৌযান চলাচল, মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, পর্যটকবাহী ট্রলারের শব্দ এবং মানুষের উপস্থিতির কারণে বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও প্রজননপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে তিন মাস সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখা গেলে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, গত ২০২০ সাল থেকে ৩ মাসের জন্য সুন্দরবনে সকল ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বন বিভাগ। তবে দীর্ঘ ৫ বছর পর এবার শুধু মাত্র করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র উম্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। করমজল পশুর নদীর পাড়ে হওয়ার মৎস্য, বন্যপ্রানী বা বনাঞ্চলের তেমন কোন ক্ষতি হবে না বলে এমন সিদ্দান্ত নেয়া হয়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের জন্য এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী তিন মাস কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বনজীবীরা।বনজীবীদের দাবি, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ প্রয়োজন হলেও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘ তিন মাস বন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। তিন মাস বন বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেককে ঋণ করে সংসার চালাতে হয় এবং মহাজনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ধারদেনায় জড়িয়ে পড়তে হয়।নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। এ সময় খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন কর্মহীন বনজীবীরা।বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা ‘ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ’ থাকে উল্লেখ করে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল একাধিক বনজীবী বলেন, নিষেধাজ্ঞার মাঝেই অল্প সময়ে বেশি মাছ পেতে স্থানীয় কয়েকটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় সুন্দরবনের অভয়ারণ্যের নদী-খালে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করেন একশ্রেণীর জেলেরা। যে কারণে সুন্দরবনে প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা-প্রহরীদের ঘুস-বাণিজ্যে সেই কাজে সফলতা খুবই কম। এছাড়া, এসময় মাছের ডিম ছারার মৌসুম এবং মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্ত বর্তমানে বন সংলগ্ন ও বনের ভিতরের নদী ও খালে নির্বিচারে অবৈধ নেটজাল দিয়ে মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। সে ব্যাপারে কোন উদ্দোগ নেই প্রশাসন থেকে শুরু করে কারই। আর বর্তমানের এ কার্যক্রম চলছে খোদ কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও বন বিভাগের সামনেই।  সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক শুভ্র শচীন জানান, সুন্দরবন উপকূলীয় প্রান্তিক মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস সুন্দরবন। তবে গত এক দশকে সুন্দরবনের অর্থনীতির গতিপথ অনেকটাই বদলে গেছে, তাতে ভুক্তভোগী হচ্ছে বনজীবীরা। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ নানা কারণে বনজসম্পদ আহরণসহ নানা উপায়ে বননির্ভরশীল মানুষের আয় কমেছে। মাছ-কাঁকড়া, মধু আহরণ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।তাছাড়া বন সুরক্ষায় স্থানীয় ও বনজীবীদের কার্যকর সম্পৃক্ততাও নিশ্চিত হয়নি। যে কারণে জীবীকার তাগিদে বনজসম্পদ আহরণে তাদের কেউ কেউ অবৈধ ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেন। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে অপরাধ প্রবণতার পাশাপাশি বননির্ভরতা কমবেও। বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের বিকল্প কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সুন্দরবনে ‘প্রবেশনিষিদ্ধ’ সময়ে সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করতে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জলভাগ প্রায় ৩১ শতাংশ। এখানে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী আছে।গোটা সুন্দরবনের ওপর প্রায় দেড় লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে নির্ভরশীল। প্রতি বছর ১২ হাজারের বেশি ‘জেলেনৌকা’ সুন্দরবনে প্রবেশের বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যায়। এসব নৌকায় জেলেরা দলবদ্ধভাবে থাকেন। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে পাঁচ হাজার ৮০০ জন আর পশ্চিম বিভাগে ছয় হাজার ৩১০ জন তালিকাভুক্ত বনজীবী রয়েছেন। বছরে ২ লাখেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন বলে জানায় বন বিভাগ।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা এক আবেদনে তিনি জানান, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন। এ কারণে তিনি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরই মধ্যে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

ইতিহাসের বরপুত্র ও বঙ্গবন্ধু উপাধির ঘোষক: এক বর্নাঢ্য রাজনৈতিক নক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশের দেদীপ্যমান এক নক্ষত্র নিভে গেল। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মহান সংগঠক, সাবেক সফল মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান অভিভাবক তোফায়েল আহমেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ১ জুন, সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজডসহ বার্ধক্যজনিত নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগে অবশেষে তিনি পাড়ি জমালেন না-ফেরার দেশে। তার এই প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। গত বছরের ২০ নভেম্বর তার সহধর্মিণী আনোয়ারা আহমেদও মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র কন্যা চিকিৎসক তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী ও জামাতা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুজ্জামান তুহিনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শোকাকুল রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক রেখে গেছেন।তোফায়েল আহমেদের জীবন মানেই বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। বাবা মৌলভী আজহার আলী ও মা ফাতেমা বেগমের যোগ্য সন্তান তোফায়েল আহমেদ ভোলা সরকারি হাই স্কুল ও বরিশাল ব্রজমোহন কলেজের পাঠ চুকিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়েও তার জীবনের বড় বিদ্যাপীঠ ছিল রাজপথ।ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের উত্থান ছিল রূপকথার মতো। ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হলের ভিপি এবং পরবর্তীতে ১৯৬৮-৬৯ মেয়াদে ডাকসুর ভিপি হিসেবে তিনি বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি ছিলেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক। তার তেজস্বী ও আপসহীন নেতৃত্বে তৎকালীন আইয়ুব খানের সামরিক জান্তা কেঁপে উঠেছিল, যার ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।ইতিহাসের পাতায় তোফায়েল আহমেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে একটি বিশেষ ঘটনার জন্য। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে তোফায়েল আহমেদই বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সের এক যুবকের বজ্রকণ্ঠের সেই ঘোষণা আজ বাঙালির জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ-প্রতিটি বাঁকে তোফায়েল আহমেদ রেখেছেন অসামান্য কীর্তি। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও অকুতোভয় 'মুজিব বাহিনী'র (বিএলএফ) অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের অন্যতম একজন।দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তৎকালীন সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আদর্শের পথে অবিচল ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সালের পর টানা ৩৩ মাসসহ জীবনের দীর্ঘ সময় তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে, কিন্তু আদর্শ থেকে তিনি বিচ্যুত হননি এক চুলও।সংসদীয় রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদ তৈরি করেছেন এক অনন্য ও দুর্ভেদ্য রেকর্ড। তিনি ভোলা ও ময়মনসিংহ আসন থেকে মোট নয়বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দলের ক্রান্তিলগ্নে শক্ত হাল ধরেছেন তিনি।শুধু রাজপথের লড়াকু সৈনিকই নন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ও দেশের অর্থনীতি সচল রাখতেও তিনি আধুনিক ও দূরদর্শী দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদের সরকারে তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারকরণে তার অবদান চিরস্মরণীয়।তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু কেবল একজন ব্যক্তির প্রয়াণ নয়, বরং একটি জীবন্ত ইতিহাসের অবসান। রাজপথের তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির নীতি নির্ধারক এবং প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি যে কীর্তি রেখে গেছেন, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের নাম চিরকাল উজ্জ্বল থাকবে। আমরা এই মহান নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। ইতিহাসের এই মহানায়ক বেঁচে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে, অনন্তকাল।লেখক : সাংবাদিক ও সংগঠক। 

ইতিহাসের বরপুত্র ও বঙ্গবন্ধু উপাধির ঘোষক: এক বর্নাঢ্য রাজনৈতিক নক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ
সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা

সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ। ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানায় চাদপাই রেঞ্জ ও পুর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা। এ সময় জেলে, বাওয়াল, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশী পর্যটক-কেউই সুন্দরবনের ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। বনের মৎস্য সম্পদ ও বন্যপ্রানী প্রজনন নিভিগ্ন করতে জেলে, বাওয়ালী, মৌয়াল ও পর্যটক সহ সকল ধরনের লোকজন এই তিন মাসের জন্য প্রবেশ বন্ধ ঘোষ করে সরকার ২০২০ সাল থেকে। সেই থেকে দীর্ঘ ৫ বছর পর এবছর থেকে শুধুমাত্র করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র উম্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে। বন বিভাগের মতে, জুন, জুলাই ও আগস্ট-এই তিন মাস মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, সরীসৃপ, পাখি ও স্থন্যপায়ী প্রাণীর প্রজননকাল। এ সময় বনে মানুষের প্রবেশ সীমিত করা না হলে মাছ, বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। দীর্ঘ মেয়াদে সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য এ নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বন বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু করা হবে না। কেউ অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করলে বন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হবে।খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, সরীসৃপ, পাখি ও স্থন্যপায়ী প্রাণীর প্রজননকাল। এ সময়ে বনাঞ্চলের নদী-খালগুলো নানা প্রজাতির মাছের ডিম ছাড়ার নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ অঙ্কুরোদ্গম ও নতুন চারা জন্মানোর জন্যও সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সাল থেকে প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনকে মানুষের সব ধরনের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। বন সংরক্ষক আরো বলেন, বনজীবীদের নৌযান চলাচল, মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, পর্যটকবাহী ট্রলারের শব্দ এবং মানুষের উপস্থিতির কারণে বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও প্রজননপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে তিন মাস সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখা গেলে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, গত ২০২০ সাল থেকে ৩ মাসের জন্য সুন্দরবনে সকল ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বন বিভাগ। তবে দীর্ঘ ৫ বছর পর এবার শুধু মাত্র করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র উম্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। করমজল পশুর নদীর পাড়ে হওয়ার মৎস্য, বন্যপ্রানী বা বনাঞ্চলের তেমন কোন ক্ষতি হবে না বলে এমন সিদ্দান্ত নেয়া হয়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের জন্য এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী তিন মাস কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বনজীবীরা।বনজীবীদের দাবি, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ প্রয়োজন হলেও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘ তিন মাস বন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। তিন মাস বন বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেককে ঋণ করে সংসার চালাতে হয় এবং মহাজনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ধারদেনায় জড়িয়ে পড়তে হয়।নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। এ সময় খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন কর্মহীন বনজীবীরা।বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা ‘ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ’ থাকে উল্লেখ করে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল একাধিক বনজীবী বলেন, নিষেধাজ্ঞার মাঝেই অল্প সময়ে বেশি মাছ পেতে স্থানীয় কয়েকটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় সুন্দরবনের অভয়ারণ্যের নদী-খালে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করেন একশ্রেণীর জেলেরা। যে কারণে সুন্দরবনে প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা-প্রহরীদের ঘুস-বাণিজ্যে সেই কাজে সফলতা খুবই কম। এছাড়া, এসময় মাছের ডিম ছারার মৌসুম এবং মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্ত বর্তমানে বন সংলগ্ন ও বনের ভিতরের নদী ও খালে নির্বিচারে অবৈধ নেটজাল দিয়ে মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। সে ব্যাপারে কোন উদ্দোগ নেই প্রশাসন থেকে শুরু করে কারই। আর বর্তমানের এ কার্যক্রম চলছে খোদ কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও বন বিভাগের সামনেই।  সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক শুভ্র শচীন জানান, সুন্দরবন উপকূলীয় প্রান্তিক মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস সুন্দরবন। তবে গত এক দশকে সুন্দরবনের অর্থনীতির গতিপথ অনেকটাই বদলে গেছে, তাতে ভুক্তভোগী হচ্ছে বনজীবীরা। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ নানা কারণে বনজসম্পদ আহরণসহ নানা উপায়ে বননির্ভরশীল মানুষের আয় কমেছে। মাছ-কাঁকড়া, মধু আহরণ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।তাছাড়া বন সুরক্ষায় স্থানীয় ও বনজীবীদের কার্যকর সম্পৃক্ততাও নিশ্চিত হয়নি। যে কারণে জীবীকার তাগিদে বনজসম্পদ আহরণে তাদের কেউ কেউ অবৈধ ও অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেন। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে অপরাধ প্রবণতার পাশাপাশি বননির্ভরতা কমবেও। বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের বিকল্প কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সুন্দরবনে ‘প্রবেশনিষিদ্ধ’ সময়ে সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করতে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জলভাগ প্রায় ৩১ শতাংশ। এখানে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী আছে।গোটা সুন্দরবনের ওপর প্রায় দেড় লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে নির্ভরশীল। প্রতি বছর ১২ হাজারের বেশি ‘জেলেনৌকা’ সুন্দরবনে প্রবেশের বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যায়। এসব নৌকায় জেলেরা দলবদ্ধভাবে থাকেন। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে পাঁচ হাজার ৮০০ জন আর পশ্চিম বিভাগে ছয় হাজার ৩১০ জন তালিকাভুক্ত বনজীবী রয়েছেন। বছরে ২ লাখেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন বলে জানায় বন বিভাগ।

রাজনীতি থেকে প্রযুক্তি-২০টির বেশি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী দুই নেতা

২৫ মে (সোমবার) বিকেলে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের গণ-মহাভবনে চীন সফরে আসা সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ বৈঠক করেছেন।প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে সার্বিয়ায় তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষ যৌথভাবে নতুন যুগে চীন-সার্বিয়া অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছিল। বিগত দুই বছরে এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল বয়ে এনেছে, যা কেবল দুই দেশের মানুষের কল্যাণই করেনি, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"তিনি আরও বলেন, উভয় দেশের উচিত পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো, পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করা, সহযোগিতা গভীর করা এবং একে অপরকে নিঃশর্ত সমর্থন জোগানো; যাতে যৌথভাবে অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির একটি উজ্জ্বল পথ তৈরি করা যায় এবং চীন-সার্বিয়া সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, চীন ও সার্বিয়ার একে অপরকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করা অব্যাহত রাখতে হবে। চীন সার্বিয়ার নিজস্ব জাতীয় পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ইচ্ছুক। চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনায়  উচ্চ-মানসম্পন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে সম্পূর্ণরূপে বিন্যস্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে নিজ নিজ জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় ঘটাতে হবে, বেল্ট অ্যান্ড রোড  উদ্যোগের মধ্যমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে হবে।তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তিগত বিপ্লব এবং শিল্প পরিবর্তনের ঢেউয়ের মুখে দুই দেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ জ্বালানি এবং উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো উদীয়মান খাতগুলোতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে, যাতে নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি করা যায়।তিনি আরও বলেন, দুই দেশের  ভিসা-ফ্রি + মুক্ত বাণিজ্য + সরাসরি বিমান যোগাযোগ—এই ত্রিমাত্রিক কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে সংস্কৃতি, শিক্ষা, ক্রীড়া, পর্যটন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সহযোগিতা সর্বাত্মকভাবে প্রসারিত করতে হবে, যাতে চীন ও সার্বিয়ার জনগণের ঐতিহ্যবাহী লৌহকঠিন বন্ধুত্ব  প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকে থাকে। এ ছাড়া, বর্তমান অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশকে বৈশ্বিক বিষয়ে সমন্বয় বাড়াতে হবে এবং প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা চর্চার মাধ্যমে একটি সমতাভিত্তিক বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন গঠনে নিরলস কাজ করতে হবে।প্রেসিডেন্ট ভুচিচ তাঁর বক্তব্যে চীনকে সফলভাবে পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন যে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে চীন আরও বড় অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করবে।ভুচিচ বলেন, সার্বিয়া ও চীনের মধ্যে সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অভাবনীয় গতিতে এগিয়ে গেছে। সার্বিয়া ও চীনের জনগণের মধ্যে রয়েছে এক অটুট "লৌহকঠিন বন্ধুত্ব"। সার্বিয়ার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীনভাবে উন্নয়নের পথ অনুসন্ধানে চীনের সমর্থনকে সার্বিয়ার জনগণ কখনোই ভুলবে না। একই সাথে তিনি সার্বিয়ার জাতীয় অবকাঠামো নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।তিনি স্পষ্ট করেন যে, সার্বিয়া চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় এবং চীনের মূল স্বার্থের সাথে জড়িত সব ইস্যুতে অবিচলভাবে চীনের অবস্থানকে সমর্থন করে। সার্বিয়া চীনের সাথে উচ্চ-মানসম্পন্ন বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা গভীর করতে, প্রধান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নিতে এবং আরও বাস্তবসম্মত ফলাফল অর্জনে মুখিয়ে আছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চীন একটি পরাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও সর্বদা সার্বিয়ার মতো ছোট দেশকে সমতা ও শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে, যা সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সার্বিয়া প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষায় চীনের সঙ্গে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে প্রস্তুত।দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যৌথভাবে রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিচার বিভাগ এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ২০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।এ ছাড়া, উভয় পক্ষ যৌথভাবে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক দলিল প্রকাশ করেছে। তা হলো- গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এবং সার্বিয়া প্রজাতন্ত্রের যৌথ বিবৃতি: নতুন যুগে চীন-সার্বিয়া অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে, এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ও সার্বিয়া প্রজাতন্ত্রের যৌথ বিবৃতি: যৌথভাবে চারটি প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রসঙ্গে।বৈঠকের পূর্বে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং স্ত্রী মাদাম ফেং লি ইউয়ান প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ এবং ফার্স্ট লেডি তামারা ভুচিচকে স্বাগত জানিয়ে একটি জমকালো রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ দিন সন্ধ্যায় ভুচিচ দম্পতির সম্মানে এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়।

শেরপুরে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শেরপুরে এতিম শিশু, দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার ৫ নং ধলা ইউনিয়নের মোহাম্মদীয়া নূরানী ও হাফেজিয়া ক্বওমী মাদ্রাসায় নিজস্ব অর্থায়নে ৩ শতাধিক রান্না করা খাবার বিতরণ করেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শওকত হোসেন। আয়োজকরা জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।  মোহাম্মদ শওকত হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে বিএনপি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের মানবিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার আহ্বান করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি যুবনেতা মনোয়ার হোসেন রুপক ও রাকিবুল ইসলাম সাগর, শহর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক রাসেল সিকদার, যুবনেতা মাহমুদুল হাসান রুবেল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক মাহানুর রোশান মাহিন, ছাত্রনেতা রিদয় সহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

৩০ মে ২০২৬, ০৮:১৯ এএম
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।  আপনি ও কি তাই মনে করেন?

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য। আপনি ও কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক খাতে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা, ফ্যাশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে BGMEA University of Fashion & Technology (BUFT)।২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার তুরাগ থানার নিশাতনগর (পশ্চিম উত্তরা সংলগ্ন) এলাকায় অবস্থিত।দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন BGMEA-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ফ্যাশন, টেক্সটাইল, পোশাক প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক শিক্ষাকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফ্যাশন ডিজাইন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং, বিজনেস স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক ল্যাব, গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং, ফ্যাক্টরি ভিজিট এবং বাস্তবভিত্তিক প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে স্মার্ট টেক্সটাইল, সাসটেইনেবল ফ্যাশন, ডিজিটাল ডিজাইন ও অটোমেশনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শিক্ষার্থীরা জানান, BUFT-এ পড়াশোনার মাধ্যমে তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন প্রেজেন্টেশন এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন।নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য। ফ্যাশন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে দক্ষ ও উদ্ভাবনী তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে BUFT গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরবাসীর জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার আক্রমণে ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।নগরবাসীর অভিযোগ, মশা নিধনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। অনেক এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের অভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে মশার বিস্তার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মশার কারণে শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা দ্রুত ও কার্যকর মশা নিধন অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান, প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। অন্যথায় মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।এ বিষয়ে নগরবাসীর প্রশ্ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মশা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থল আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ সেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই নেই হৃদরোগ শনাক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ইসিজি (ECG) ও ইকো( Echo) মেশিন। ফলে হৃদরোগ, বুকে ব্যথা, স্ট্রোকের ঝুঁকি কিংবা হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ইসিজি ও ইকো মেশিন নয়— হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ডাক্তার সংকট, ওষুধ সংকট, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা, রোগীদের প্রতি অবহেলা এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান—ইসিজি ও ইকো  মেশিনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।হাসপাতালে গিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা : বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কোটি মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই শেষ ভরসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা আশা নিয়ে ছুটে যান সরকারি হাসপাতালের দিকে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করার সামর্থ্য অধিকাংশ মানুষের নেই।কিন্তু বাস্তবে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অনেক রোগীকেই শুনতে হয়—মেশিন নষ্ট, এই পরীক্ষা এখানে হয় না, ডাক্তার নেই, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হবে, অথবা “দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান।ফলে দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঋণ করছেন, গবাদিপশু বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ: মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে গেলে মনে হয় শুধু নামেই চিকিৎসা হয়। ডাক্তাররা কিছু সাধারণ ওষুধ লিখে দেন, কিন্তু বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে? হাসপাতালে যদি ওষুধই না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর ভরসা করবে কীভাবে?তিনি আরও বলেন—অনেক সময় রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। জরুরি রোগী হলেও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। মকবুল হোসেন বলেন—একটু জটিল রোগী হলেই বলা হয়— ‘দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান’। এখানে নাকি চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষ আসবে কেন?তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—অনেক রোগীকে রাতের বেলা রাজশাহী নিতে গিয়ে রাস্তায় আরও খারাপ অবস্থায় পড়তে হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল। আবুল কাশেম বলেন—অ্যাম্বুলেন্সে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে না— এমন অভিযোগ বহুদিনের। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে থেকে বের হতে হয়।তিনি আরও বলেন—সরকার কোটি কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ সেই সেবার সুফল পাচ্ছে না। জরুরি মুহূর্তে যদি অক্সিজেন বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিই না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?এক নারী রোগীর স্বজন রতন মল্লিক  বলেন--রাতে মহিলা রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলে খুব ভয় লাগে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, নার্সও কম থাকে। রোগীর কষ্ট দেখেও অনেক সময় কেউ দ্রুত এগিয়ে আসে না। এক বৃদ্ধ রোগীর অভিযোগ—আজিম উদ্দিন মন্ডল (৬৯) বয়স হয়েছে, টাকা-পয়সাও নেই। সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম একটু ভালো চিকিৎসা পাবো বলে। কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে গরিব মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, কিন্তু দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না।তিনি আরও বলেন—কিছু অসাধু ব্যক্তি কৌশলে রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করেন। এতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচের শিকার হন। সরকারি হাসপাতালে যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেগুলোও অনেক সময় বাইরে করতে বাধ্য করা হয়। তার অভিযোগ—ওষুধ সরবরাহ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা প্রায়ই বলেন, হাসপাতালে ওষুধ নেই। অথচ এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি খুব কম।তিনি আরও বলেন—হাসপাতালে জনবল সংকট আছে ঠিকই, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলাও রয়েছে। গোপনে তদন্ত হলে অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসতে পারে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন—পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সংকট, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সংকট এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবের কারণেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অধিকাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।একই সঙ্গে হাসপাতালের পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট সচল রাখতে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দেন তিনি।সোমবার (২৫ মে) বিকেলে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে আকস্মিকভাবে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, চিকিৎসা সেবা, ওয়াসরুম সহ অবকাঠামোগত অবস্থা পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এছাড়াও হাসপাতালের রন্ধনশালায় রোগীদের পরীক্ষামূরক খেয়ে দেখেন তিনি।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছেন। আমি হাসপাতালের পুরাতন ভবন ও অক্সিজেন প্ল্যান্টটির কথা বললাম। উনি কাজ করতে বলেছেন। আমি বলেছি এটা পুরানো ভবন, এটা ভাঙতে হবে। নতুন ভবন করতে হবে। অক্সিজেন প্ল্যান্টের বিদ্যুতের সাব-স্টেশন দিতে হবে। তিনি কাগজপত্র প্রস্তুত করে কাজ শুরু করতে বলেছেন। আর এটার সাথে ১০০ শয্যার কাজ করে ফেলব।”তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের সামনের রাস্তার ব্যাপারে আমি সওজের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তারা ব্যবস্থা নেবেন।”স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় সেটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবিও দীর্ঘদিনের। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরু ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. ফজলে রাব্বি, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মো. বশির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান, থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান।

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

প্রয়োজন ৪ লক্ষ টাকা / হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

১৩ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু অর্পিতা। এই বয়সে তার দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে এবং তার খাদ্যনালী ব্লক হয়ে আছে। তাকে বাঁচাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।অর্পিতার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া গ্রামে। তার বাবা বিষ্ট রঞ্জন সাহা একজন সাধারণ মানুষ। সন্তানের এমন দুরারোগ্য ব্যাধির কথা শুনে দিশেহারা পুরো পরিবার। দিনের পর দিন মেয়ের কষ্ট দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে তাদের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব অর্পিতার অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, অন্যথায় তাকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে জমানো সব সম্বল শেষ করেছেন অর্পিতার বাবা। এখন নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তারা।বিষ্ট রঞ্জন সাহা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি একজন বাবা, আমার সন্তানের এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। ডাক্তাররা বলেছেন ৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। আমার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি দেশের সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে আমার সন্তানকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।"আপনার সামান্য একটু সহায়তা হয়তো ছোট্ট অর্পিতার জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে সুস্থতার হাসি। দানশীল ব্যক্তিরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিচের বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠাতে পারেন:সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:বিকাশ নম্বর: ০১৩২৮৪২৪৭৮৫ (অর্পিতার বাবা - বিষ্ট রঞ্জন সাহা)একটি নিষ্পাপ প্রাণ বাঁচাতে আজই এগিয়ে আসুন। আপনার এই সহযোগিতা হয়তো একটি শিশুকে নতুন জীবন দিতে পারে।

শাহরাস্তিতে বিনামূল্যে ৪ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা সেবা

শাহরাস্তিতে বিনামূল্যে ৪ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা সেবা

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ইঞ্জিনিয়ার মকবুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে ৪ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বলশিদ হাজি আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মকবুল হোসেন জানান, ৪ শতাধিক রোগী দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে। এতে ২৫ জন রোগীকে অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়। এছাড়া রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে। যাদেরকে অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে তাদের সবাইকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঢাকায় নিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন করা হবে। এছাড়াও যাতায়াত থাকা খাওয়া সহ সকল ব্যয় ফাউন্ডেশন বহন করবে। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন জানান, পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উপজেলা জুড়ে আয়োজন করা হবে। বিকেল পর্যন্ত ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পত্র প্রদান করেন। 

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থল আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ সেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই নেই হৃদরোগ শনাক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ইসিজি (ECG) ও ইকো( Echo) মেশিন। ফলে হৃদরোগ, বুকে ব্যথা, স্ট্রোকের ঝুঁকি কিংবা হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ইসিজি ও ইকো মেশিন নয়— হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ডাক্তার সংকট, ওষুধ সংকট, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা, রোগীদের প্রতি অবহেলা এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান—ইসিজি ও ইকো  মেশিনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।হাসপাতালে গিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা : বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কোটি মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই শেষ ভরসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা আশা নিয়ে ছুটে যান সরকারি হাসপাতালের দিকে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করার সামর্থ্য অধিকাংশ মানুষের নেই।কিন্তু বাস্তবে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অনেক রোগীকেই শুনতে হয়—মেশিন নষ্ট, এই পরীক্ষা এখানে হয় না, ডাক্তার নেই, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হবে, অথবা “দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান।ফলে দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঋণ করছেন, গবাদিপশু বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ: মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে গেলে মনে হয় শুধু নামেই চিকিৎসা হয়। ডাক্তাররা কিছু সাধারণ ওষুধ লিখে দেন, কিন্তু বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে? হাসপাতালে যদি ওষুধই না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর ভরসা করবে কীভাবে?তিনি আরও বলেন—অনেক সময় রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। জরুরি রোগী হলেও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। মকবুল হোসেন বলেন—একটু জটিল রোগী হলেই বলা হয়— ‘দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান’। এখানে নাকি চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষ আসবে কেন?তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—অনেক রোগীকে রাতের বেলা রাজশাহী নিতে গিয়ে রাস্তায় আরও খারাপ অবস্থায় পড়তে হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল। আবুল কাশেম বলেন—অ্যাম্বুলেন্সে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে না— এমন অভিযোগ বহুদিনের। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে থেকে বের হতে হয়।তিনি আরও বলেন—সরকার কোটি কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ সেই সেবার সুফল পাচ্ছে না। জরুরি মুহূর্তে যদি অক্সিজেন বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিই না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?এক নারী রোগীর স্বজন রতন মল্লিক  বলেন--রাতে মহিলা রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলে খুব ভয় লাগে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, নার্সও কম থাকে। রোগীর কষ্ট দেখেও অনেক সময় কেউ দ্রুত এগিয়ে আসে না। এক বৃদ্ধ রোগীর অভিযোগ—আজিম উদ্দিন মন্ডল (৬৯) বয়স হয়েছে, টাকা-পয়সাও নেই। সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম একটু ভালো চিকিৎসা পাবো বলে। কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে গরিব মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, কিন্তু দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না।তিনি আরও বলেন—কিছু অসাধু ব্যক্তি কৌশলে রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করেন। এতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচের শিকার হন। সরকারি হাসপাতালে যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেগুলোও অনেক সময় বাইরে করতে বাধ্য করা হয়। তার অভিযোগ—ওষুধ সরবরাহ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা প্রায়ই বলেন, হাসপাতালে ওষুধ নেই। অথচ এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি খুব কম।তিনি আরও বলেন—হাসপাতালে জনবল সংকট আছে ঠিকই, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলাও রয়েছে। গোপনে তদন্ত হলে অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসতে পারে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন—পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সংকট, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সংকট এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবের কারণেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অধিকাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।