অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার
বাংলাদেশে অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অবৈধ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। সাইবার ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনস শাখার একটি চৌকস আভিযানিক দল। গ্রেফতারকৃতদের নাম- (১) মো. আলা উদ্দিন (৪২), পিতা- মো. আবুল কালাম, সাং- জিলতলী, দাঁতমারা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম, (২) শাহাদাৎ হোসেন (৩২), পিতা- ইয়াকুব আলী, সাং- কুরুয়া, পোস্ট- কমর আলী, থানা- মীরসরাই, চট্টগ্রাম এবং (৩) মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮), পিতা- মৃত শামসুদ্দিন, সাং- বাঁশবাড়ী, পোস্ট- সৈয়দপুর, থানা-সৈয়দপুর, জেলা- নীলফামারী। চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে সাইবার ইনভেস্টিগেশন এন্ড অপারেশনস শাখার একটি চৌকস আভিযানিক দল। অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অনলাইন বেটিং (জুয়া) ও অবৈধ অর্থপাচারের মতো অপরাধকর্মে ব্যবহৃত ০৫টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেকবই উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় কিছু চক্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালনা করছে মর্মে দেখতে পায়। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করছিল। এই প্রেক্ষিতে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন মডেল (ডিএমপি) থানায় মামলা নং-৪১, তারিখ: ১৬/১১/২০২৫ খ্রি., ধারা- সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ২০(২)/২১(২)/২৩(২)/২৪(২)/২৭(২)/২৯ রুজু করা হয়।মামলাটির তদন্তে জানা যায়, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। তদন্তে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে অনলাইন বেটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল।তদন্তে আরও জানা যায়, জুয়ার সাইটগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা বট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। চক্রটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার ও পরিবর্তন করত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে এসব নম্বর সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সেগুলো জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো।তদন্তে আরও প্রতীয়মান হয়েছে যে, অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি’র মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিএসডি সার্কুলার নং-০৭, তারিখ: ২৮/০৫/২০২৫ খ্রি. অনুযায়ী অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু অনলাইন গ্যাম্বলিং চক্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান উক্ত নির্দেশনা প্রতিপালন না করে অপরাধকর্ম পরিচালনা করছিল। পরবর্তীতে সিআইডির একটি চৌকস দল চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থ লেনদেন চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত (১) মো. আলা উদ্দিন (৪২), (২) শাহাদাৎ হোসেন (৩২) ও (৩) মো. সাহাব উদ্দিন (৪৮) কে পুলিশ রিমান্ড আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপদ ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের জোর সুপারিশ জানানো হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুর ১ টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে “রোডক্র্যাশ রোধে নিরাপদ ঈদযাত্রায় করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এই সুপারিশ জানানো হয়। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারি শারমিন রহমান সরকারের প্রতি জরুরি কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ঈদযাত্রাকালীন রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এছাড়াও ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত করা, স্পিডগানের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, টোল প্লাজায় দ্রুত ডিজিটাল বুথ চালু এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হয়।সভায় শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ)’র সাধারণ সম্পাদক ও ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)’র বিশেষ প্রতিনিধি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম হাইওয়েতে রোডক্র্যাশ কমাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েনসহ বাসটার্মিনাল থেকে যাতে কোনো ফিটনেসবিহীন বাস বের হতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্ছান শিপু বলেন, ঈদের সময় টোলপ্লাজায় বা ব্রিজের উপর গাড়ির লম্বা লাইন হয় এবং এই জন্য তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজট নিরসনে টোলপ্লাজায় বুথ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে অনেক আইন প্রণয়ন হলেও সেসব আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকড়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যায়। সড়ক পরিবহন আইনেও এমন কিছু দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার কারণে কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং রোডক্র্যাশ কমিয়ে আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।এদিকে জাগোনিউজ২৪ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদুজ্জামান তন্ময় বলেন, গণমাধ্যমে সবসময় রোডক্র্যাশের সংবাদ প্রকাশ করা হলেও কেন রোডক্র্যাশ হলো এবং এর পেছনের কারণ কী, তা বেশিরভাগ সংবাদে থাকে না। এমনকি এর পরবর্তী ফলোআপ প্রতিবেদনও দেখা যায় না। তাই যেকোনো রোডক্র্যাশের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান ও ফলোআপ প্রতিবেদন থাকা জরুরি। সভার সঞ্চালক দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) শুভ্র দেব বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থা বা ব্যক্তির না, এটি সকলের দায়িত্ব। এই সমন্বিত উদ্যোগে গণমাধ্যমকেও সক্রিয় অংশ হতে হবে।এছাড়াও উপস্থিত সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী নিশ্চিত করা, বেপরোয়া লেন পরিবর্তন রোধ করা, বাম পাশের লেন মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য সুনির্দিষ্ট করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি সর্বস্তরে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা পরিশেষে উল্লেখ করেন, 'সেইফ সিস্টেমের' আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন যত দ্রুত প্রণয়ন হবে এবং যত দ্রুত এর কঠোর বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাবে, সরকারের পক্ষে সড়কের এই বিশৃঙ্খলা রোধ করা তত দ্রুত সম্ভব হবে। তাই সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও এর কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি ঈদযাত্রাসহ সড়কপথকে সর্বদা সকলের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় করে তোলাই সরকারের প্রধান করণীয় হওয়া উচিত।
কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি
গাজীপুরের কালীগঞ্জে বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগমের বিরুদ্ধে কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে রাখা, অর্থের বিনিময়ে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া, ছাত্র হাজিরা খাতায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর চেয়ে কয়েকগুন বেশি নাম তালিকাভুক্তি, বোর্ড বই বিক্রি ও বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ করে অর্থ আত্মসাতসহ সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্ণীতি অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ সেশনে নবম শ্রেণীতে ৪৭ জন ছাত্রের রেজিষ্ট্রেশন করা হলেও টেষ্ট পরীক্ষায় ২৮ জন ছাত্র কৃতকার্য হয়। এছাড়াও ১৫ জন অনিয়মিত ছাত্র ছিল। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৩জন শিক্ষার্থী ছাড়াও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম গঠনিকা বিদ্যানিকেতন ও নতুন কুঁড়ি কিন্ডার গার্টেনসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আরো ৫০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করেন। মাহবুবা বেগম বিভিন্ন বিদ্যালয়ের একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে ফরম পূরণ করলেও নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উর্মি হাবীবা, সৃজন রক্ষিত ও শাহাদাত হোসেনের ফরম পূরণ করেননি। এছাড়াও কাঙ্খিত অর্থ না পাওয়ায় মানবিক বিভাগের শিহাব (রোল ৩১১২৭৪, রেজিঃ ২৩১০৮১২৬০০) ও মোঃ রিফাত (রোল ৩১১২৭৫, রেজিঃ ২৩১০৮১২৫৯৬), ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিপুল রায় (রোল ৩১১২৮১, রেজিঃ ২৩১০৮১২৭৭৫), শোভন এগ্নেসিয়াস ক্রুশ (রোল ৫১৪০২১, রেজিঃ ২৩১০৮১২৭০৪) এবং নিরব হোসেন (রোল ৫১৪০২২, রেজিঃ ২৩১০৮০২৪৬৮) এর প্রবেশপত্র আটকে দেন মাহবুবা বেগম। ফলে ফরম ফিলাপের পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কোন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষিকার এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রতিবাদ করলে তাদেরকে শোকজসহ নানা ভাবে হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম প্রায় ১২ বছর যাবৎ বিভিন্ন শ্রেণীতে ভর্তিকৃত ছাত্রের চেয়ে হাজিরা খাতায় দুই তিন গুণ বেশি ছাত্র দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বোর্ড বই সংগ্রহ করছেন। পরে পার্শ্ববর্তী গঠনিকা বিদ্যানিকেতন, নুতন কুড়িঁ কিন্ডার গার্টেন-১ (দূর্বাটি) ও নতুন কুড়িঁ কিন্ডার গার্টেন-২ (ভাদার্ত্তী) সহ বিভিন্ন অননোমোদিত বেসরকারী বিদ্যালয়ে ওই বইগুলো উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। গত ১৭ মে নাগরী ইউনিয়নের গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের মালিকানাধীন একটি দোকান থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর দুই বস্তা বোর্ড বই উদ্ধার করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম। এ বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী মোঃ রিফাতের মা হোসনেয়ারা আক্তার জানান, আমার ছেলের প্রবেশপত্র আসার পরও প্রধান শিক্ষিকার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়নি। এবার পরীক্ষা দিতে না পারায় আমার ছেলের শিক্ষা জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও অন্য চারজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন।গঠনিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র বণিক জানান, আবেদনের পরও আমাদের বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় আমরা বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ১০ বছর যাবৎ বোর্ড বই সংগ্রহ, রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছি। বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা বেগম বলেন, আমি বেসরকারী কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও এলাকাবাসীর অনুরোধে বিদ্যালয়ের স্বার্থে বহিরাগত ছাত্রদের বোর্ড বই সরবরাহ ও ফরম পূরণ করি। টেষ্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পাঁচজন শিক্ষার্থীর ভুলবশতঃ ফরম পূরণ হয় বিধায় আমি তাদের প্রবেশপত্র প্রদান করিনি। বহিরাগত অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ, বোর্ড বই বিক্রি ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিরব থাকেন। বিদ্যালয়ের জমিতে দোকান নির্মাণ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত কমিটির সাথে আলোচনা করেই যাবতীয় কাজ করা হয়েছে।বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বোয়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।