মুক্তির লড়াই

প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে পিতা মাতার হাতে কন্যা খুন, মা গ্রেফতার

খুলনায় মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে ১৬ বছরের কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনাকে হত্যা করেছে বাবা ও মা। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অপর অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকটিমের ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ১০ জুলাই খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা। পরে তার বাসায় গিয়ে মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক কে কেন্দ্র করে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে তর্কের একপর্যায়ে মেয়ের মাথায় লাঠি দিয়ে তিন চারটি আঘাত করেন বাবা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মেয়েটির মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেন বাবা মা।ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে স্বেচ্ছায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকালেও জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং নগরীর বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি পুরোপুরি না নামায় জনজীবন স্বাভাবিক হয়নি। লাখো মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। কোথাও বসতঘর, কোথাও কৃষিজমি, আবার কোথাও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলা। এসব এলাকায় আকস্মিক বন্যার পানিতে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। সরকারি হিসাবে শুধু চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলাতেই প্রায় চার লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।চট্টগ্রাম নগরীতেও দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি। যদিও সিটি করপোরেশনের দাবি, নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকার পানি নেমে গেছে, তবে নিচু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট, শমসেরপাড়া, বালুরতাল, অনন্যা আবাসিকসহ কয়েকটি এলাকায় মানুষ এখনো জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা নৌকা ও উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।সরকার জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে মোট ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গতদের সহায়তায় ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।টানা বৃষ্টির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ রয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় পাঁচজনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। তবে বৃষ্টি কমে এলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম

মুক্ত বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখতে একমত চীন ও নর্ডিক দেশগুলো

৬ দিনের নর্ডিক সফর শেষ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সফরে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর করা এবং নানা ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে উভয়পক্ষ।সফরকালে ওয়াং ই ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক দশম, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইউনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থকে সম্মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া চার দেশ এক চীন নীতির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।উভয়পক্ষ মুক্ত বাণিজ্য, অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এবং শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। চীন জানায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত থাকবে এবং নর্ডিক দেশগুলোও চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন

মুক্ত বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখতে একমত চীন ও নর্ডিক দেশগুলো
সম্মাননা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে - ভূমিমন্ত্রী

সম্মাননা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে - ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেছেন, মেধা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও শান্তির জন্য এমন কিছু আবিষ্কার করবে যা বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।                                                      আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলানায়তনে জেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এসএসসি-২০২৫ ব্যাচের ৪৮৩ জন মেধাবী কৃতি শিক্ষার্থীর এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।মিজানুর রহমান মিনু বলেন, যে জাতি, যে সমাজ বা যে প্রতিষ্ঠান তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মানিত করতে জানে না, তারা কখনও বড় হতে পারে না।শিক্ষার্থীদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী কলেজের শীর্ষ অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে রাজশাহী শিক্ষা ক্ষেত্রে দেশসেরা অবস্থানে রয়েছে। । এ অর্জন এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গর্বের বলেও তিনি উল্লেখ করেন।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভূমিমন্ত্রী বলেন, চরম প্রতিকূলতার মাঝেও দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিশ্ববরেণ্য স্থপতি এফ. আর. খান এবং ওরস্যালাইন আবিষ্কারক ড. কাদরির মতো বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। জুলাইয়ের ছাত্র-আন্দোলনের বীরত্বগাথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ছাত্ররাই যুগে যুগে বাংলাদেশের প্রতিটি সংকটে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারাই নেতৃত্ব দিবে।তিনি আরও বলেন, অচিরেই রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এখানে 'এগ্রো-বেসড' ইপিজেড স্থাপন করা হবে।এসময় তিনি আইনশৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে রাজশাহী বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শহর বলে উল্লেখ করেন।রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান শেষে এসএসসি-২০২৫ ব্যাচের ৪৮৩ জন মেধাবী কৃতি শিক্ষার্থীদের এককালীন শিক্ষাবৃত্তির  ৫ হাজার টাকার চেক ও ক্রেস্ট তুলে দেন মন্ত্রী।

মুক্ত বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখতে একমত চীন ও নর্ডিক দেশগুলো

৬ দিনের নর্ডিক সফর শেষ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সফরে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর করা এবং নানা ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে উভয়পক্ষ।সফরকালে ওয়াং ই ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক দশম, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইউনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থকে সম্মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া চার দেশ এক চীন নীতির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।উভয়পক্ষ মুক্ত বাণিজ্য, অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এবং শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। চীন জানায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত থাকবে এবং নর্ডিক দেশগুলোও চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন

বাগেরহাটে বিএনপি নেতার মরদেহ উদ্ধার

বাগেরহাট সদর উপজেলার রনবিজয়পুর গ্রামে নিজ বাসা থেকে বিএনপির এক নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।নিহত আবুল কালাম চাকলাদার (৫৫) সদর উপজেলার রনবিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং হাতেম আলী চাকলাদারের ছেলে। তিনি ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতা ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে তিনি সদর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্ত্রী শিল্পী আক্তার সন্তানদের নিয়ে শহরে বসবাস করছিলেন। এ সময় আবুল কালাম চাকলাদার নিজ বাড়িতে একাই থাকতেন। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে তার স্বজন ইয়াসমিন বেগম খাবার দিতে বাড়িতে যান। প্রথমে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান, জানালার সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় খাটে বসে আছেন আবুল কালাম চাকলাদার। কাছে গিয়ে তিনি তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন।ইয়াসমিন বেগমের দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে তার মনে হচ্ছে না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল জানান, আবুল কালাম চাকলাদার ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য ছিলেন। যতদূর জানি, গত কয়েক মাস ধরে তিনি পারিবারিক অশান্তির মধ্যে ছিলেন। সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তার মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাই।এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান,মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর
র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

কটিয়াদীতে কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর  উদ্যোগে প্রথম বারের গ্রামীণ ঐতিহ্যের আমেজ: জমে উঠেছে হাড্ডাহাড্ডি কাবাডি প্রতিযোগিতা।বাঙালির প্রাণের খেলা কাবাডি। মাঠের কাদা আর দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে । শুক্রবার বিকেলে হযরত মিয়া চান্দ শাহ্ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ,  আয়োজিত এক জমজমাট কাবাডি প্রতিযোগিতায় দেখা গেল খেলোয়াড়দের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশিকুজ্জামান নজরুল ; ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ; মোঃ রিয়াজুল ইসলাম সেবক  চান্দ্পুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি, ইমাম হোসেন দুলাল মেম্বার চান্দপুর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক, এবং চান্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, শহিদুল হক উজ্জ্বল প্যানেল চেয়ারম্যান চান্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বাটা হাওর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ  মোঃ রাজিব সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।বিকেলের সূর্য নামার আগেই মাঠের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় দর্শকে। স্থানীয় জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় মাঠ প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। প্রতিটি ম্যাচেই খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করে।প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জাসাস-এর স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জনবল সংকটে রাণীনগর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস

অতিরিক্ত দায়িত্বে ৪ উপজেলা সামলাচ্ছেন এক কর্মকর্তা / জনবল সংকটে রাণীনগর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের মোট ৭টি পদের মধ্যে প্রধান কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে একদিকে যেমন দাপ্তরিক কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে এসেছে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত তদারকির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার মানোন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিসটিতে অনুমোদিত মোট ৭টি পদের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এবং একাডেমিক সুপারভাইজার - এই তিনটি মূল পদই শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে একাডেমিক সুপারভাইজার পদটি কাগজে-কলমে রাণীনগরে থাকলেও, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল থেকে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে সংযুক্তিতে কর্মরত আছেন। এছাড়া, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি গত ৫ বছর ধরে শূন্য। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর এই পদে নতুন কেউ আসেননি। আর সর্বশেষ গত বছরের ৫ জানুয়ারি মূল মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলি করার পর থেকে অফিসটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।বর্তমানে নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম এই কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, এই একজন কর্মকর্তাই বর্তমানে জেলার ৪টি উপজেলা- মান্দা, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর ও রাণীনগরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞের চাপে তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন রাণীনগর অফিসে সময় দিতে পারছেন। ফলে জরুরি দাপ্তরিক কাজ ও স্বাক্ষর নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতারা।রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী-কাম-ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ফারুক আহমেদ জানান, এই উপজেলায় ৩১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৬টি কলেজ, ৭টি মাদ্রাসা এবং ৪টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ মোট ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষা অফিসে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় প্রতিদিনের স্বাভাবিক ও জরুরি কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও

সমাজের প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন "বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেজ)" প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৯ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুজাউদ্দৌলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকার সহকারী পরিচালক তাসলিমা খাতুন। সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকার উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৫, আজিমপুরের সমাজসেবা অফিসার মো. জহির উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, খাগড়াছড়ির উপপরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালীউল্লাহ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, যশোরের সমাজসেবা অফিসার (রেজি.) মো. আব্দুল কাদের, প্রশিক্ষকবৃন্দ এবং পৌর সমাজকর্মী সোহেল রানা।বক্তারা বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ শুধু নিজের কর্মসংস্থানই নিশ্চিত করতে পারেন না, বরং পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবীর প্রত্যেককে এককালীন ১৮ হাজার টাকা অনুদান এবং প্রশিক্ষণ সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা এ উদ্যোগকে তাদের আত্মনির্ভরশীল জীবনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার, কর্মস্থলেও অনুপস্থিতি / চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার মালিকানার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অপর দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অফিস চলাকালে বেসরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৫ জুলাই পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নেয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু-শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং সরকারি অফিস সময় বেসরকারি সিটি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ডা. সামছুল আলম রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের বদলিকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে ওই বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।এ পরিস্থিতিতে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার গ্রহণ, হাসপাতাল পরিচালনায় সম্পৃক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তি তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।জেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অদৃশ্য কারণে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ

চরম ভোগান্তিতে রোগীরা / অদৃশ্য কারণে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স গত ২৯ জুন ২০২৬ থেকে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার রোগী ও তাদের স্বজনরা। জরুরি রোগীদের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়াসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে বাধ্য হয়ে অনেকেই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করছেন। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে জরুরি রোগী স্থানান্তরে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোহাম্মদ খায়রুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা বলেন। কখনও তিনি বরাদ্দসংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, আবার কখনও দাবি করেন, কয়েকটি পেট্রোল পাম্প জ্বালানি সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "অ্যাম্বুলেন্স বন্ধের কারণ হিসেবে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। এটি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) ব্যক্তিগত বা মনগড়া বক্তব্য।"সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক টিপু জানান, "অফিস থেকেই আমাকে গাড়ি চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। অফিস থেকে নির্দেশ পেলেই আমি আবার অ্যাম্বুলেন্স চালাব। প্রতিদিন রোগী ও তাদের স্বজনরা আমাকে ফোন দেন। আমি সবাইকে বলি, অফিস থেকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। শুনেছি বাজেট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে গাড়িটি বন্ধ রয়েছে।"সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগীদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে তাঁর বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (বড়বাবু) শাহি আলমের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।এদিকে দীর্ঘদিন ধরে জরুরি এই সেবা বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। রোগীর স্বজনরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মিডল্যান্ড হাসপাতালের সেই ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে আদালতের তলবে

কুমিল্লায় সিজারের পর রোগীর পেটে কাপড় রেখে সেলাই / মিডল্যান্ড হাসপাতালের সেই ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে আদালতের তলবে

কুমিল্লায় সিজার অপারেশনের সময় এক প্রসূতি রোগীর পেটে কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগে চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসককে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ধার্য তারিখে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।মামলার বাদী মো. এনামুল হক মজুমদার অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে মাকসুদা আক্তার (২৪) ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার মিডল্যান্ড হাসপাতালে সিজার অপারেশন করান। ওই সময় জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর পেটের ভেতরে একটি কাপড় রেখে সেলাই করা হয়।অভিযোগে বলা হয়, অপারেশনের পর থেকেই মাকসুদা আক্তার তীব্র পেটব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। পরে ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় তাঁর শরীরে টেক্সটাইলোমা (Textiloma) শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে রোগীর পেট থেকে কাপড়টি বের করা হয়।বাদীপক্ষের দাবি, চিকিৎসা অবহেলার কারণে ভুক্তভোগীর প্রায় আট লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এখনও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। মামলার সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি এবং রোগীর পেট থেকে বের করা কাপড়ের ছবিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় দায়ের করা মামলাটি কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (কগ নং-১)-এ সি.আর. ৬৭৩/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। আদালত কুমিল্লার সিভিল সার্জনকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। সদস্য ছিলেন ডা. রেজা মো. সারোয়ার আকবর, ডেপুটি সিভিল সার্জন, কুমিল্লা এবং ডা. ফারিয়া জাকরিন আনসারী, মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়, কুমিল্লা। তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসা অবহেলার ঘটনায় ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে।কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ দায় কোনোভাবেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারবে না।আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ জন

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ জন

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৯ জন। বিশেষ করে সিলেটে হামে মৃত্যুর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সিলেটে নতুন করে হাম উপসর্গে আরো ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৫ বছর বয়সী শিশু আবু হুরাইরা হবিগঞ্জ  জেলার বানিয়চং উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত হয়নি। এই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৭৯ জন। রোববার (৫ জুলাই) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৭৫ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স এবং বাকী ৮৬ জন শিশু। এর মধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন।মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন সুনামগঞ্জ জেলার, এরপর ৩১ জন সিলেটের, মৌলভীবাজারের ১১ ও হবিগঞ্জের ৮ জন রয়েছেন।এদিকে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ৪১৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩৪ জন সুনামগঞ্জ  জেলার, সিলেটের ১৩১, হবিগঞ্জের ৩৭ ও মৌলভীবাজারের ১৬ জন রয়েছেন।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৭৫ জন রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ১১২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৪, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৪, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন ভর্তি রয়েছেন।06/07/26, 15:07:15

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার, কর্মস্থলেও অনুপস্থিতি / চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার মালিকানার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অপর দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অফিস চলাকালে বেসরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৫ জুলাই পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নেয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু-শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং সরকারি অফিস সময় বেসরকারি সিটি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ডা. সামছুল আলম রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের বদলিকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে ওই বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।এ পরিস্থিতিতে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার গ্রহণ, হাসপাতাল পরিচালনায় সম্পৃক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তি তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।জেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।