মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখছে না ইসি

সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের কোনো শর্ত রাখা হয়নি। একই সঙ্গে হলফনামায় নতুন তথ্য সংযোজন, অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিল এবং দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসহ বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।সম্প্রতি ইসির এসব প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। ইসি ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ওআইসি মিশন প্রধানদের বৈঠক: সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশাপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া বা কোনো তথ্য গোপন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা হয়েছে, তাদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব রয়েছে। তবে হলফনামা যাচাই কী প্রক্রিয়ায় করা হবে, সে বিষয়ে প্রস্তাবে পুরোপুরি স্পষ্ট করা হয়নি।এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চাকরিতে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না—এমন বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে ইসি। জামায়াতে ইসলামী এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও কমিশনের চূড়ান্ত প্রস্তাবে বিধানটি বহাল রাখা হয়েছে।ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনি অপরাধের সাজা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনি অপরাধে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো কারণে ওই সময়ের মধ্যে ভোট আয়োজন সম্ভব না হলে ইসি সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচন করতে পারবে।ইসি জানিয়েছে, পলাতকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছিল। একই উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে একাধিক স্থানে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ রাখা হবে। ফলে নির্বাচনে বাধা দিয়ে কাউকে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ইসির প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নামও বহাল রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনেও প্রায় একই ধরনের সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।চলতি সেপ্টেম্বরেই কিছু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এবারও ধাপে ধাপে এসব নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ কয়েকটি উপকূলীয় জেলার ইউনিয়ন পরিষদকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে কবে ভোট হবে, তা শিগগিরই কমিশন সভায় চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।এই নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের আইন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধি সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।তবে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কার্যকর করতে সংসদে আইন পাস হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি অধিবেশনে এসব সংশোধনী সংসদে উত্থাপনের সম্ভাবনা কম। ফলে সংশোধনী পাস না হলে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে

উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবকেন্দ্রিক সহযোগিতায় এসসিওর নতুন অগ্রযাত্রা

‘প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এসসিও’র উন্নয়ন নিয়ে তাঁর বক্তব্যে যে প্রস্তাবগুলি তুলে ধরেছেন, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও তাৎপর্যপূর্ণ’, ‘সি চিন পিংয়ের নীতি প্রস্তাবসমূহ এসসিও পরিবারের ২৭টি দেশের মধ্যে আন্তঃসংযোগ আরও জোরদার করবে’... ১ সেপ্টেম্বর, কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পরিষদের ২৬তম বৈঠক এবং ‘এসসিও+’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন, যেখানে তিনি এসসিওর উন্নয়ন সম্পর্কিত ৪টি মূল প্রস্তাব এবং সংস্থাটির ভূমিকা আরও কার্যকরভাবে পালনের জন্য ৩টি পরামর্শ দেন, যা ব্যাপক অনুরণন সৃষ্টি করে। সিএমজি সম্পাদকীয় এসব কথা বলেছে। চলতি বছর শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা প্রতিষ্ঠার ২৫তম বার্ষিকী। প্রাথমিকভাবে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের সর্বাধিক বিস্তৃত ভূখণ্ড, সর্বাধিক জনসংখ্যা এবং বিপুল উন্নয়ন সম্ভাবনাসম্পন্ন একটি নতুন ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থায় পরিণত হওয়া পর্যন্ত এসসিও’র যাত্রা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এক নতুন আদর্শে পরিণত হয়েছে। এই শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এসসিওর ‘সর্বশ্রেষ্ঠ উন্নয়ন অর্জন’, ‘সর্বমূল্যবান আধ্যাত্মিক সম্পদ’ এবং ‘সর্বগুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা অভিজ্ঞতা’ তুলে ধরেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই তিনটি ‘সর্বোচ্চ’ এসসিওর বিকাশ ও শক্তিশালী হওয়ার ‘সাফল্যের রহস্য’ ব্যাখ্যা করে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতারা ‘শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশকেক ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষর ও প্রকাশ করেন, ‘শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সনদ’ সংশোধন ও পরিপূরক করার প্রটোকল অনুমোদন করেন এবং ২৮টি নথি গ্রহণ করেন... ‘এসসিও পরিবার’ বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি ও যৌথ উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায় রচনার ইচ্ছা প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে চীন ক্রমাগতভাবে এসসিও’র উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণে জ্ঞান ও শক্তি প্রদান করে আসছে। গত বছর থিয়েনচিন শীর্ষ সম্মেলনে এসসিও’র আগামী ১০ বছরের উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন করা হয় এবং প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ পেশ করেন, যা বৈশ্বিক শাসনকে জোরদার ও উন্নত করতে চীনের জ্ঞান আরও প্রদান করে এবং এসসিওর বৈশ্বিক শাসনে অংশগ্রহণের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করে। বর্তমানে বিশ্ব শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং মানবসভ্যতা কোন পথে যাবে তার এক সংকটময় মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এসসিও কীভাবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং সক্রিয়ভাবে ইতিহাসের গতিপথকে নেতৃত্ব দিতে পারে? ‘উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা’, ‘নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে সর্বজনীন নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি করা’, ‘মানবকেন্দ্রিক হয়ে প্রজন্মান্তরের বন্ধুত্বের ভিত্তি মজবুত করা’, ‘সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্য ও সুশৃঙ্খল শাসন প্রতিষ্ঠা করা’—প্রেসিডেন্ট সি-এর উত্থাপিত এই ৪টি প্রস্তাব যথাক্রমে চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যা এসসিও’র উচ্চতর মানের উন্নয়ন অর্জনে ‘চীনা সমাধান’ প্রদান করে। চায়না ইনস্টিটিউট অব কনটেম্পোরারি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্সের একাডেমিক কমিটির উপ-মহাসচিব তিং শিয়াওশিং ‘আন্তর্জাতিক সমালোচনা’কে বিশ্লেষণ করে বলেন, এর অর্থ হলো এসসিও চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ সক্রিয়ভাবে বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে এবং বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়ন রক্ষায় আরও বড় ভূমিকা পালন করবে। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিজো এনকালা মনে করেন, চীন কর্তৃক প্রস্তাবিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ এসসিওর মূল্যবোধ ও উন্নয়নের দিকনির্দেশনার সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য স্পষ্ট কর্ম নির্দেশিকা প্রদান করে। উন্নয়ন হল সব সমস্যার সমাধানের মূল চাবিকাঠি। বর্তমানে এসসিও’র সব সদস্য রাষ্ট্র সাধারণত উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে চীনের অন্যান্য এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৪২ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা বছরে ১৪.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই শীর্ষ সম্মেলনে চীন অসংখ্য সহযোগিতা উদ্যোগ প্রস্তাব করেছে—যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য বিনিয়োগ, আন্তঃসংযোগ, শক্তি ও সম্পদের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্রগুলোর সহযোগিতা জোরদার করা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ শিল্পের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোর সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং তিয়েনচিনে চীন-শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বন্দর অর্থনৈতিক সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা—এগুলোর লক্ষ্য আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গভীরতর, বাস্তবসম্মত ও মানোন্নত করা। কাজাখস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক আমাঙ্গেলদি তাজেনভ মনে করেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জের মুখে চীনের বহুপাক্ষিক সহযোগিতা চালনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা সহযোগিতা এসসিওর ভিত্তি। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি পরস্পর জড়িত। চীন প্রস্তাব করেছে যৌথভাবে ‘তিনটি সন্ত্রাসী শক্তি’, আন্তঃসীমান্ত সংগঠিত অপরাধ ইত্যাদি মোকাবিলা করা; বহিরাগত শক্তির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস করা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা; পারমাণবিক নিরাপত্তা বহুপাক্ষিক অংশীদারত্ব জোরদার করা সমর্থন করা; এবং শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ‘চারটি নিরাপত্তা কেন্দ্র’ দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা সমর্থন করা... এই উদ্যোগগুলি ‘নিরাপত্তা জাল’ আরও মজবুত করবে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা হুমকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করবে। বৈচিত্র্যময় সভ্যতা ও সংস্কৃতি ‘এসসিও পরিবারের’ একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন ফোরাম সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা, চীন-শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা প্রাথমিক শিক্ষা সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং লুবান ওয়ার্কশপের মতো প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে পারস্পরিক শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের সেতু নির্মাণ অব্যাহত রাখা... চীনের এই উদ্যোগ ও প্রস্তাবগুলি এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রজন্মান্তরের বন্ধুত্বের ভিত্তি মজবুত করবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শক্তি ভারসাম্য গভীরভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিশ্বের বহুমুখীকরণের প্রবণতা অপ্রতিরোধ্য। একটি আরও ঐক্যবদ্ধ ও প্রাণবন্ত শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বিশ্ব বহুমুখীকরণের অগ্রগতিতে বৃহত্তর অবদান রাখতে সম্পূর্ণ সক্ষম। ‘এসসিও+’ বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বিশ্ব বহুমুখীকরণের পক্ষে সমর্থন জানানোর মূল নীতি, আবশ্যক পূর্বশর্ত, গুরুত্বপূর্ণ পথ ও উন্নয়নের দিকনির্দেশনা ব্যাখ্যা করেন এবং ‘এসসিও শক্তি’ দ্বারা ইউরেশীয় মহাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন চালনা, ‘এসসিও জ্ঞান’ দ্বারা বৈশ্বিক দক্ষিণের বিকাশ ও শক্তিশালীকরণ উন্নয়ন এবং ‘এসসিও পদক্ষেপ’ দ্বারা বৈশ্বিক শাসনের সংস্কার ও উন্নতি নেতৃত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ৩টি পরামর্শ এসসিওকে আরও ভালোভাবে ভূমিকা পালন করতে এবং আরও ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসন অর্জনে সহায়তা করবে। অসাধারণ ২৫ বছর অতিক্রম করে এসসিও একটি নতুন প্রারম্ভিক বিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক লক্ষ্য অপরিবর্তিত ও অটুট রয়েছে, এসসিও উচ্চতর মানের উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীন ‘শাংহাই স্পিরিট’ ধারণ করে এবং চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘এসসিও পরিবারের’ সদস্যদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে বৈশ্বিক শাসনের উন্নতি ও মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সম্মিলিত সমাজ গঠনে ক্রমাগত চীনা জ্ঞান ও সমাধান প্রদান করতে থাকবে। সূত্র: স্বর্ণা,তৌহিদ,লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ

উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবকেন্দ্রিক সহযোগিতায় এসসিওর নতুন অগ্রযাত্রা

দ্বিতীয় স্ত্রীর শাবল ও হাতুড়ির আঘাতে স্বামীর মৃত্যু

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীর শাবল ও হাতুড়ির আঘাতে খায়রুল ইসলাম পলাশ (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে আটক করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ আউড়া গ্রামে লিজার বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছের রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশ পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। তাঁর গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। কিছুদিন আগে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজার বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি একটি ফার্মেসি পরিচালনা করছিলেন।স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পলাশ ও লিজার মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে লিজা শাবল ও হাতুড়ি দিয়ে পলাশের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয় লোকজন পলাশকে উদ্ধার করে কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।কাঁঠালিয়া থানার ওসি মো. নাছের রায়হান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ লিজার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দ্বিতীয় স্ত্রীর শাবল ও হাতুড়ির আঘাতে স্বামীর মৃত্যু
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখছে না ইসি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখছে না ইসি

সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের কোনো শর্ত রাখা হয়নি। একই সঙ্গে হলফনামায় নতুন তথ্য সংযোজন, অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিল এবং দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসহ বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।সম্প্রতি ইসির এসব প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। ইসি ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ওআইসি মিশন প্রধানদের বৈঠক: সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশাপ্রস্তাবে বলা হয়েছে, হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া বা কোনো তথ্য গোপন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা হয়েছে, তাদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব রয়েছে। তবে হলফনামা যাচাই কী প্রক্রিয়ায় করা হবে, সে বিষয়ে প্রস্তাবে পুরোপুরি স্পষ্ট করা হয়নি।এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চাকরিতে থাকা অবস্থায় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না—এমন বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে ইসি। জামায়াতে ইসলামী এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও কমিশনের চূড়ান্ত প্রস্তাবে বিধানটি বহাল রাখা হয়েছে।ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনি অপরাধের সাজা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনি অপরাধে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো কারণে ওই সময়ের মধ্যে ভোট আয়োজন সম্ভব না হলে ইসি সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচন করতে পারবে।ইসি জানিয়েছে, পলাতকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছিল। একই উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে একাধিক স্থানে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ রাখা হবে। ফলে নির্বাচনে বাধা দিয়ে কাউকে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ইসির প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নামও বহাল রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনেও প্রায় একই ধরনের সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।চলতি সেপ্টেম্বরেই কিছু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এবারও ধাপে ধাপে এসব নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ কয়েকটি উপকূলীয় জেলার ইউনিয়ন পরিষদকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে কবে ভোট হবে, তা শিগগিরই কমিশন সভায় চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।এই নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের আইন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধি সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।তবে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কার্যকর করতে সংসদে আইন পাস হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি অধিবেশনে এসব সংশোধনী সংসদে উত্থাপনের সম্ভাবনা কম। ফলে সংশোধনী পাস না হলে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে

জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতির অভিন্ন সংকট: চীনা মুখপাত্র

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়া খুন (বুধবার) বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভূমিধস দুর্যোগ সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সমগ্র মানবজাতির একটি সাধারণ সংকট এবং কোনো দেশই এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব কার্যকরভাবে প্রতিরোধ ও হ্রাস করার জন্য চীন আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।মুখপাত্র বলেন, চীন ও নেপাল উভয় দেশের বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে একটি হিমবাহের অস্থিতিশীলতার কারণে এই দুর্যোগটি ঘটেছে। নেপালের একটি হিমবাহ থেকে বরফ ও পাথরের দ্রুত ধস নেমে পাহাড়ের গা ক্ষয় করে এটি তৈরি হয়। প্রকৃতপক্ষে, চীন ও নেপাল আবহাওয়া, জলসম্পদ এবং দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমনের ক্ষেত্রে ভালো সহযোগিতা বজায় রেখেছে। দুর্যোগের পর, চীন নেপালের সঙ্গে দুর্যোগ এলাকার ছবি, স্যাটেলাইট ও জলবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত তথ্য এবং উজানের ভূমিধস বাঁধ সম্পর্কিত আগাম সতর্কবার্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও ভাগ করে নিয়েছে।মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন যে, চীন নেপালের দুর্যোগ ত্রাণ প্রচেষ্টাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে যাবে এবং দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমনের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।সূত্র: লিলি,তৌহিদ,রুবি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ

আমি বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না / মৃত্যুই তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়েছে!

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’— নির্বাচনী মাঠে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সামনে এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় চিরতরে বিদায় নিলেন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম খোকন।সোমবার দিনভর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ নম্বর শুহিলপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে শোডাউন ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। কিন্তু কে জানত, সেই শোডাউন আর জয়সূচক বক্তব্যই হবে তাঁর জীবনের শেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি!স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শালিখা গ্রামে নানার বাড়ি থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক এই সহ-সভাপতি। দুই শতাধিক মোটরসাইকেল ও অর্ধশত সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে এলাকায় সুবিশাল শোডাউন করেন তিনি। পরে শালিখা গ্রামের অলিগলিতে হেঁটে ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ ও কুশল বিনিময় করেন।পরিবারের সদস্যরা জানান, দিনভর প্রচারণা শেষ করে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান খোকন। রাত ১২টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তাঁর মেজো ছেলে মো. সাঈদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা সারাদিন প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। রাতে সুস্থভাবেই বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বুক ব্যথায় সব শেষ হয়ে গেল।’বিএনপি নেতার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি লেখেন, ‘মৃত্যুর স্বাদ সবাইকে গ্রহণ করতে হবে এটি চিরন্তন সত্য, তবে কিছু মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। সাইফুল ইসলাম খোকন কাকার অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মহান আল্লাহ উনার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে বেহেশত নসীব করুন।’এক রাতের ব্যবধানে প্রিয় রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়ে স্তব্ধ পুরো শুহিলপুর। যে প্রার্থী কয়েক ঘণ্টা আগেও নির্বাচনী ময়দানে পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন, তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে ।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রদর্শনী করে মাত্র চার দিনেই ১১তম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। ৯ উইকেটে জিতে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ।টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা দলের কাছে শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়া ডেরা থেকে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চার জনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়া মাটিতে একটি টেস্টের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং নিশ্চিতভাবে এই টেস্ট সিরিজ তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত যেন তৈরি হয়ে গেল।দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটি-ডিম খেয়ে হাসপাতালে ৯ শিক্ষার্থী

স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটি-ডিম খেয়ে হাসপাতালে ৯ শিক্ষার্থী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে নয়াগোলা এলাকার যহুরুল ইসলামের মেয়ে জয়নব, হারুনুর রশিদের মেয়ে সিনথিয়া, সুমনের মেয়ে সুমাইয়া ও মোজাম্মেলের মেয়ে মাহমুদাসহ আরও পাঁচজন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে স্কুল ফিডিংয়ের খাবারের সঙ্গে দেওয়া ডিম ও পাউরুটি খাওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়। পরে কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আজও স্কুল ফিডিংয়ের খাবার দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার পর বেশ কয়েকজন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।’চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাহবুব হাসান বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ১০ শিক্ষার্থীর অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিম্নমানের বা অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং অতিরিক্ত গরম উভয় কারণেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেহানা প্লাজায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দৈনিক দিন প্রতিদিনের সহকারী সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান পিন্টুর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক প্রতিদিনের খবরের সম্পাদক সরকার জামাল।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশের আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ও কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার প্রধান উপদেষ্টা সুমন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাইম ২৪-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং দৈনিক দিন প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি আয়শা আক্তার জেসিকা, শনিআখড়া পপুলার হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হুদা শামীম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হালিম শিকদার ও হাজী মো. নজরুল ইসলাম।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়-নীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের একপর্যায়ে স্থানীয় মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও পবিত্র কুরআনের হাফেজদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মিলাদ শেষে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগঅনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনের সদস্যদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।প্রস্তুতি কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সভাপতি: সরকার জামাল, দৈনিক প্রতিদিনের খবরসাধারণ সম্পাদক: মো. জাহিদ হাসান পিন্টু, দৈনিক দিন প্রতিদিনসাংগঠনিক সম্পাদক: আশিকুর রহমান, দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকাসিনিয়র সহসভাপতি: কবির হোসেন মঞ্জু, দৈনিক প্রতিদিনের খবরসহসভাপতি: হালিম শিকদার, দৈনিক বাংলা ভূমি; এস কে সবুজ আহমেদ, দৈনিক মুক্তির লড়াই; মাকসুদুর রহমান, টাইম ২৪যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শামীম হোসেন অর্নব, প্রথম আলো; নাছির সরদার, দৈনিক রূপবানীসহসাধারণ সম্পাদক: সামাদ সরওয়ার, নাগরিক টিভি; সোহেল আহমেদ, চ্যানেল এসদপ্তর সম্পাদক: এস এম সোহাগ রানা, টাইম ২৪মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: ইভা রহমান, দৈনিক বাংলা ভূমিঅর্থ সম্পাদক: তাহের শেখ, প্রতিদিনের খবরপ্রচার সম্পাদক: লিটন গাজী, সাহারা টিভিসাংস্কৃতিক সম্পাদক: এম এ এইচ মাসুদ, বার্তা বিচিত্রাতথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক: মো. শাওন, দৈনিক আলোর সময়সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: মো. মাইনুদ্দিন, বাংলাদেশের আলোত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক: দিপু ভূঁইয়া, আওয়ার বাংলাদেশপাঠাগার সম্পাদক: রুহুল আমীন হাওলাদার, দৈনিক সবার আগেকার্যকরী সদস্য: মো. জসিমউদ্দিন, সাহারা টিভি; নাছির মোল্লা, দৈনিক মাতৃভূমি; চৌধুরী ওহেদুন্নবী সানী, দৈনিক স্বাধীন কাগজ; শরিফুল হক, তথ্যবাণী; মো. হাকিম, দৈনিক ভোরের কথা; বাদল, রাজধানী টিভি; শাওন, প্রতিদিনের আলো এবং শাহারীয়া ইসলাম বাপ্পি।আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তুতি কমিটির মূল লক্ষ্য হলো সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা এবং সকল সদস্যের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা।অনুষ্ঠানের পরিশেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং সর্বস্তরের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

শেরপুরে হাসপাতালে টেকনিশিয়ানকে ছুরিকাঘাত, গ্রেপ্তার -১

শেরপুরে হাসপাতালে টেকনিশিয়ানকে ছুরিকাঘাত, গ্রেপ্তার -১

শেরপুর জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত মেডিকেল টেকনিশিয়ান হুমায়ুন কবিরকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে আরাফাত নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (৫সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা শহরের পুরাতন হাসপাতাল গেইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের ভেতরে দায়িত্ব পালনকালে হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে আহত করার অভিযোগ ওঠে আরাফাতের বিরুদ্ধে। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।ঘটনার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রবিবার (৬সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরাফাতকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ । 

বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

সরকারি হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন / বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

কুমিল্লার  বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের বড় কৈয়নি ও শাকপুর গ্রামে পাগলা কুকুরের হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে বরুড়া সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাফি (২০), পিতা- রশিদ, গ্রাম শাকপুর; আবুল হোসেন (৪০), পিতা- মনির হোসেন, শাকপুর; আনাস (৪ মাস), পিতা- রিয়াদ হোসেন, শাকপুর এবং সামিয়া (২৬ মাস), পিতা- মিল্লাত হোসেন, শাকপুর।এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আয়ান (৩ মাস), পিতা- মো. বাহার, গ্রাম বামন্ডা, উপজেলা চান্দিনা; নিলুফা বেগম (৪০), স্বামী- ফরিদ উদ্দিন, মহেশপুর, বরুড়া; নিরুদা (৭০), স্বামী- মৃত সীতিম সরকার, শাকপুর, বরুড়া এবং কুহিনূর বেগম (৩৫), স্বামী- মো. বিল্লাল হোসেন, শাকপুরকে।এদিকে দুঃখজনক হলেও সত্য, আহতদের কাউকেই বরুড়া সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হাসপাতালের ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সবসময় পর্যাপ্ত রেবিস ভ্যাকসিন মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুর রহমান বলেন, “রেবিস ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে।”স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে সরকারি হাসপাতালে নিয়মিতভাবে রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। এতে জরুরি বিভাগে রোগী আনা-নেওয়া, বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ এবং ওয়ার্ডে যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় হাসপাতাল এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের এমন নাজুক পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।রোগীর স্বজন আব্দুল্লাহীল কাফী বলেন, "রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি চারদিকে পানি জমে আছে। জরুরি বিভাগে পৌঁছাতেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা শুধু রোগীদের দুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি।১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি, রোগীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিচু স্থান ভরাট, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করারও দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ  খায়রুল আলম বলেন, "জলাবদ্ধতার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।"স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে হাসপাতালের জলাবদ্ধতা ও মশা-মাছির উপদ্রব থেকে মুক্তি মিলবে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানও আরও উন্নত হবে।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

শেরপুরে হাসপাতালে টেকনিশিয়ানকে ছুরিকাঘাত, গ্রেপ্তার -১

শেরপুরে হাসপাতালে টেকনিশিয়ানকে ছুরিকাঘাত, গ্রেপ্তার -১

শেরপুর জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত মেডিকেল টেকনিশিয়ান হুমায়ুন কবিরকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে আরাফাত নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (৫সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা শহরের পুরাতন হাসপাতাল গেইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের ভেতরে দায়িত্ব পালনকালে হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে আহত করার অভিযোগ ওঠে আরাফাতের বিরুদ্ধে। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।ঘটনার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রবিবার (৬সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরাফাতকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।