মুক্তির লড়াই

তরুণ প্রজন্মের ধ্বংস ও সম্মিলিত প্রতিরোধের অপরিহার্য আহ্বান / মাদকের বিষবাষ্পে নিমজ্জিত জাতি

বাংলাদেশ আজ এক ভয়াবহ জাতীয় সংকটের সম্মুখীন, যেখানে মাদকের বিস্তার দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, পরিবারের বন্ধন ছিন্ন করছে, সমাজের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং জাতির সামগ্রিক অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবসম্পদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে। সাম্প্রতিক জাতীয় গবেষণা অনুসারে দেশে বর্তমানে প্রায় আটাত্তর লক্ষ থেকে তিরাশি লক্ষ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় চার দশমিক আট শতাংশের সমান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাঁজা সেবনকারী প্রায় একান্ন লক্ষ থেকে একাত্তর লক্ষের মতো, তারপর ইয়াবা বা মেথামফেটামিন প্রায় তেইশ লক্ষ, অ্যালকোহল বিশ লক্ষসহ কোডিনযুক্ত সিরাপ, ঘুমের ওষুধ, হেরোইন এবং অন্যান্য সিন্থেটিক মাদকের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই সংখ্যা শুধু সংখ্যা নয়, বরং জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার এক ভয়ংকর সূচক, যেখানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গ্রামের কিশোর, তরুণ-তরুণী এমনকি শিশুরাও এই বিষাক্ত জালে আটকে পড়ছে। ফলস্বরূপ মেধাশূন্যতা, অপরাধপ্রবণতা, পরিবার ভাঙন ও সামাজিক অস্থিরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানিয়েছেন যে, গত সতেরোই ফেব্রুয়ারি থেকে একত্রিশে মে পর্যন্ত সারাদেশে ত্রিশ হাজার সাতশ চুয়াল্লিশটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যাতে নয় হাজার দুইশ একান্নটি মামলা দায়ের করে নয় হাজার ছয়শ পঁচাশি জন মাদক চোরাকারবারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকাভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে, যার ভিত্তিতে দুই হাজার ছাব্বিশ-সাতাশ অর্থবছরের প্রথম ষাট দিনে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। সরকার জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, উপজেলা-জেলা ও মেট্রোপলিটন থানাভিত্তিক তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং গত এক মে থেকে দেশব্যাপী মাদক, অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেপ্তারে সুনির্দিষ্ট অভিযান চলছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হয়ে ব্যবসায়ীদের পুনরায় সক্রিয় হওয়া, সীমান্তপথে অবাধ চোরাচালান, অনলাইন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আড়ালে চালান পরিবহন, ভেজাল বিষাক্ত মাদকের কারণে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি এবং প্রকাশ্য বেচাকেনা দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত মাদকের বিস্তারকে অসহনীয় করে তুলেছে। টেকনাফ, উখিয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ সীমান্ত এলাকায় মাদকের বড় বড় চালান আসছে, যেখানে অনেক ব্যবসায়ী রাজনৈতিক আশ্রয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের হাটবাজার পর্যন্ত ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে, শিশুরা জুতার সলিউশন বা পলিথিনে মাদক নিয়ে নেশা করছে এবং মাদকাসক্তদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতি মেধাশূন্য হওয়ার চরম হুমকির মুখে পড়েছে।জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইউএনওডিসির ওয়ার্ল্ড ড্রাগ রিপোর্ট ২০২৫ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী দুই হাজার তেইশ সালে তিনশ ষোলো মিলিয়ন মানুষ মাদক ব্যবহার করেছে, যা পনেরো থেকে চৌষট্টি বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর ছয় শতাংশ এবং এই সংখ্যা দশ বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিশ্বব্যাপী প্রবণতা আরও ভয়াবহ, কারণ দেশটি গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল ও গোল্ডেন ক্রিসেন্টের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল আসছে, অন্যদিকে ভারত থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল ড্রাগস ঢুকছে এবং আধুনিক কৌশলে নারী-শিশু, অ্যাম্বুল্যান্স, সবজির গাড়ি, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চালান পৌঁছাচ্ছে। দুই হাজার চব্বিশ-পঁচিশ সালে ইয়াবা জব্দের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।শুধু আইন প্রয়োগ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, কারণ ইউএনওডিসির মতে ধরা পড়া মাদক মাত্র দশ শতাংশ, বাকিটা অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিকে বাস্তবে রূপ দিতে সীমান্তে ড্রোন, আধুনিক প্রযুক্তি, বিজিবি-পুলিশ-কাস্টমসের সমন্বয় জোরদার করতে হবে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষ করে মিয়ানমার-ভারতের সাথে বৃদ্ধি করতে হবে, মাদক মামলায় জামিন কঠিন করা, দ্রুত বিচার, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। চাকরি ও শিক্ষায় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা, সরকারি-বেসরকারি রিহ্যাব সেন্টার বৃদ্ধি করে মাদকাসক্তদের রোগী হিসেবে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। ইউএনওডিসি, ডব্লিউএইচও, ইউএনএইডসের সুপারিশ অনুসারে নিডল-সিরিঞ্জ প্রোগ্রাম, অপয়েড সাবস্টিটিউশন থেরাপি, এইচআইভি প্রতিরোধ ও কাউন্সেলিংসহ সমন্বিত প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে হবে। বেসরকারি সংস্থা যেমন মানস তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা ও পুনর্বাসনে কাজ করছে, যা আরও সম্প্রসারিত করা দরকার।পরিবারই প্রথম প্রতিরোধের ক্ষেত্র। সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হওয়া, চলাফেরা ও বন্ধুবান্ধবের ওপর নজরদারি, খোলামেলা আলোচনা ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সেমিনার, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করে যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইমাম, পুরোহিত ও ধর্মীয় নেতারা জুমার খুতবা ও সভায় মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনা করে সামাজিক বয়কটের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চলচ্চিত্র ও নাটকের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটিয়ে মাদককে সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। সীমান্ত এলাকায় বৈধ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মাদকের আকর্ষণ কমানো, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দূর করে দুর্নীতিমুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়ে তোলা এবং সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও জনতার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।মাদক কেবল একজন ব্যক্তির জীবন কেড়ে নেয় না, বরং তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয় পুরো পরিবার, সমাজ ও জাতির সুন্দর ভবিষ্যৎ। বর্তমানে আমাদের তরুণ প্রজন্মের এক বড় অংশ এই বিষাক্ত নেশার জালে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজকাঠামোর ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গ্রাম-শহর নির্বিশেষে মাদকের নীল দংশন ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের টহলের অভাব, সামাজিক শাসনের দুর্বলতা, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া এবং ভয়ের সংস্কৃতি মাদক ব্যবসায়ীদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন ও কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান ঘটছে, অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চিকিৎসকরা বলছেন, মাদকাসক্তদের মৃত্যুর মূল কারণ বিষক্রিয়া, হার্ট, লিভার, কিডনির সমস্যা, এইচআইভি, হেপাটাইটিসের ঝুঁকি এবং মানসিক অবক্ষয়, যা জাতির কর্মক্ষম প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।এই পরিস্থিতিতে সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন ও সমাজপতিদের সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। ইতি মধ্যে দেশের  বিভিন্ন জেলায় সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা কর্মশালা চলছে, যা আরও ব্যাপক করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রয়াসে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। ইউএনওডিসির সুপারিশ অনুসারে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণ জোরদার করতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি, নিজে মাদক থেকে দূরে থাকব, সমাজকেও এর বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা করব, একটি মাদকমুক্ত সুস্থ শক্তিশালী প্রজন্ম গড়ে তুলে স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। এই লড়াই আমাদের অস্তিত্বের লড়াই এবং জয় আমাদের হতেই হবে।লেখক: সাংবাদিক ও সংগঠক।

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান

বাংলাদেশ: বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সম্প্রতি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জন্য ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। পাকিস্তানের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সেই সাবমেরিনটিকে কমিশনও (আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি) করেছে। সাবমেরিনটিকে নিয়ে আসতে নৌবাহিনীর একটি বহর নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফিরে আসার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতি দেন তিনি। সেখানে শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দেবে।“পিএনএস হ্যাঙ্গর সিরিজের আরও ৭টি সাবমেরিন শিগগিরই পাকস্তিানের নৌবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত হবে।  এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি বজায় রাখবে। ”, দ্য মর্নিংকে বলেছেন কমোডর ফারুক।১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। সেটির নামও ছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর।তবে সেই যুদ্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর বঙ্গপোসাগর ছেড়ে চলে যায় পাকিস্তান। এতদিন মূলত উত্তর আরব সাগরেই সীমাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানি নৌবাহিনীর উপস্থিতি।অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবে এমন একটি এলাকা যেখানে ভারত উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক এবং কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য বঙ্গোপসাগর ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই বিস্তৃত জলরাশি, যার উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য নৌ শক্তিগুলোর উত্থানের মধ্যেও এই দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক।এ কারণেই শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার করা মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ।দ্য মর্নিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক পিএনএস হ্যাঙ্গরকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান এই শ্রেণির আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।গত ৭ জুন এই সংবাদটি প্রকাশ করেছে দ্য মর্নিং।উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর কোনো একটি দেশের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের উপকূলরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার উপর সার্বভৌমত্ব এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে।এই সীমার বাইরে রয়েছে আন্তর্জাতিক জলসীমা, যেখানে এমনকি বিদেশি সামরিক জাহাজগুলোও মূলত অবাধে চলাচল করতে পারে।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen)।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬ -২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে প্রতারণা: গ্রেফতার দুই

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ০২ (দুই) জন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।গ্রেফতারকৃতরা হলো- (১) মো. রাকিবুল হোসেন (২৬), পিতা- মো. আনিছুর রহমান, মাতা- মোছা. রশিদা বানু, সাং- আইসঢাল, হাজীপাড়া, ইউনিয়ন-কামারপুকুর, থানা-সৈয়দপুর, জেলা-নীলফামারী ও (২) মো. রনি ইসলাম @ খাজা মোহাম্মদ আলী (১৯), পিতা- মো. রফিকুল ইসলাম, মাতা- মোছা. ময়না খাতুন, স্থায়ী ঠিকানা- মৌলভীপাড়া, ডাকঘর-ফাজিলপুর, থানা-তারাগঞ্জ, জেলা-রংপুর। সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস এর একটি চৌকশ আভিযানিক দল গত ১৭/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানাধীন কামারপুকুর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধকার্যে ব্যবহৃত ০৬টি মোবাইল ফোন এবং ১২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর মামা ভুক্তভোগী একজন ওমান প্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকেন। যোগাযোগকারী পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধুও এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছে মর্মে জানিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে কথিত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধু ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ ভুক্তভোগীর সঙ্গে মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিভিন্ন প্রসেসিং, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসা সংক্রান্ত খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করে। প্রথম ধাপে সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আরও অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতারক কর্তৃক একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’সহ অন্যান্য যোগাযোগকারীদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি একটি সংঘবদ্ধ পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে তার ভাগ্নে বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী (ডিএমপি) থানায় মামলা নং-০৪, তারিখ ০২/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা-৪০৬/৪২০ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তে সিআইডি জানতে পারে যে, গ্রেফতারকৃত রনি ইসলাম নিজেকে ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ নামে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করত। পেজটিতে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ও অভিবাসন সংক্রান্ত আকর্ষণীয় ভিডিওসহ প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে আসছিল। একই সঙ্গে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগের জন্য অনলাইনে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো, যাতে ভুক্তভোগীরা প্রক্রিয়াটি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে সহজেই প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়।তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, স্থানান্তর এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করত। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্য প্রযুক্তি দ্বারা বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হোসেন ও মো. রনি ইসলামদ্বয়কে গ্রেফতার করে সিপিসি ।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদেরকে  বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের সুযোগের কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশে চাকরি বা অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো প্রস্তাব গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী সংস্থা এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার জন্য সিআইডির পক্ষ হতে জনগণকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে প্রতারণা: গ্রেফতার দুই
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান

বাংলাদেশ: বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সম্প্রতি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জন্য ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। পাকিস্তানের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সেই সাবমেরিনটিকে কমিশনও (আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি) করেছে। সাবমেরিনটিকে নিয়ে আসতে নৌবাহিনীর একটি বহর নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফিরে আসার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতি দেন তিনি। সেখানে শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দেবে।“পিএনএস হ্যাঙ্গর সিরিজের আরও ৭টি সাবমেরিন শিগগিরই পাকস্তিানের নৌবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত হবে।  এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি বজায় রাখবে। ”, দ্য মর্নিংকে বলেছেন কমোডর ফারুক।১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। সেটির নামও ছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর।তবে সেই যুদ্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর বঙ্গপোসাগর ছেড়ে চলে যায় পাকিস্তান। এতদিন মূলত উত্তর আরব সাগরেই সীমাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানি নৌবাহিনীর উপস্থিতি।অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবে এমন একটি এলাকা যেখানে ভারত উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক এবং কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য বঙ্গোপসাগর ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই বিস্তৃত জলরাশি, যার উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য নৌ শক্তিগুলোর উত্থানের মধ্যেও এই দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক।এ কারণেই শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার করা মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ।দ্য মর্নিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক পিএনএস হ্যাঙ্গরকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান এই শ্রেণির আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।গত ৭ জুন এই সংবাদটি প্রকাশ করেছে দ্য মর্নিং।উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর কোনো একটি দেশের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের উপকূলরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার উপর সার্বভৌমত্ব এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে।এই সীমার বাইরে রয়েছে আন্তর্জাতিক জলসীমা, যেখানে এমনকি বিদেশি সামরিক জাহাজগুলোও মূলত অবাধে চলাচল করতে পারে।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen)।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬ -২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

ন্যায্য বিশ্বশাসন ব্যবস্থার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান চীনের

শাংহাইকে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে অফশোর ফাইন্যান্স খাতের উন্নয়নের জন্য একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে চীন। বুধবার শাংহাই শহরে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী লুচিয়াচুই ফোরাম ২০২৬ এ এই কর্মপরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগ শাংহাইয়ের আর্থিক খাতের আন্তর্জাতিকীকরণকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে শহরটির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।অফশোর ফাইন্যান্স বলতে এমন আর্থিক সেবা ও লেনদেনকে বোঝায়, যা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের বাইরে আন্তর্জাতিক গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিচালিত হয়। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং বৈশ্বিক মূলধন প্রবাহে শাংহাইয়ের ভূমিকা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাংহাই আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র গঠনের লক্ষ্যে একাধিক সংস্কার ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন অফশোর ফাইন্যান্স উন্নয়ন পরিকল্পনা সেই প্রচেষ্টায় নতুন গতি যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।তথ্য ও ছবি: সিনহুয়া।

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যকে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পদ দেওয়ায় তীব্র বিতর্ক

নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সহ-সভাপতি পদ পাওয়া নাইমুর রহমান মাসুমের নাম। স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তার পরিবারের একাধিক সদস্য দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকলেও তাকে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তৃণমূল বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।রায়পুরা থানা কৃষক ধলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল রোব সরকার ও রায়পুরা থানা কৃষক ধলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল রোব সরকার বলেন, মাসুমের ছোট ভাই জিসান মির্জানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তার চাচা মুকুল উদ্দিন রায়পুরা থানা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। মাসুমের মা অতীতে উত্তর মির্জানগর ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু তাই নয়, নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ও মিছিলেও তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে।এমন রাজনৈতিক পটভূমির একজনকে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করাকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে মনে করছেন বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। তাদের প্রশ্ন, “যাদের পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তারা কীভাবে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসে?”তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করা ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের আদর্শিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে ভবিষ্যতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।নেতাকর্মীরা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, “দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদীদের নেতৃত্বে আনা হলে সেটি সংগঠনের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াবে।”এ বিষয়ে নাইমুর রহমান মাসুম বা সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর
র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

পবায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

রাজশাহীর পবা উপজেলায় ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে এক ব্যতিক্রমী ও উৎসবমুখর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১২ জুন (শুক্রবার) স্থানীয় সবসার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই ফুটবল লড়াই অনুষ্ঠিত হয়।বিশ্বকাপের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের উন্মাদনাকে মাঠের লড়াইয়ে রূপ দিতে এই ম্যাচের আয়োজন করেন স্থানীয় ক্রীড়ামোদী তরুণরা। খেলায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামে— 'বড় আমগাছী আর্জেন্টিনা সমর্থক দল' বনাম 'বড় আমগাছী ব্রাজিল সমর্থক দল'।উক্ত ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কে এইচ রানা শেখ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বড়গাছী ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোঃ বাবুল হোসেন। এমতাবস্থায় উপস্থিত নওহাটা পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক  দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সম্রাট আলী।বিশ্বকাপের এই চিরপরিচিত দ্বৈরথকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সবসার উচ্চ বিদ্যালয় এলাকাসহ পুরো পবা জুড়ে এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দুই দলের সমর্থকরাই তাদের প্রিয় দলের জার্সি পরে মাঠে এসে খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেন।আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খেলাটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এলাকার সর্বস্তরের ফুটবলপ্রেমী ও সাধারণ দর্শক মাঠে উপস্থিত থেকে এই জমজমাট ম্যাচটি উপভোগ করেন।

আমতলীতে জীবনের ঝুঁকিতে শতাধিক শিক্ষার্থী, ঘটতে প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরেও জোটেনি সরকারি কোনো ভবন

আমতলীতে জীবনের ঝুঁকিতে শতাধিক শিক্ষার্থী, ঘটতে প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরেও জোটেনি সরকারি কোনো ভবন

প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরেও জোটেনি সরকারি কোনো ভবন বা টিনের ঘর। উল্টো বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা না করেই দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলমান বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে যেকোনো সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮৫ সালের জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির চেয়েও ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। শুরুর দিকে যে দ্বিতল ভবনটি দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, বর্তমানে সেটি সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ। এর পাশাপাশি পরবর্তীতে তৈরি করা ছোট দুটি হাফ বিল্ডিংয়ের অবস্থাও তথৈবচ।সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেওয়ালে বিশাল ফাটল এবং রড বেরিয়ে আছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ হয়ে ওঠে পাঠদান অযোগ্য। অথচ বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই শত শত শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে এই ভবনেই ক্লাস করতে হচ্ছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যালয়টি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উচিৎ ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ না থাকায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান সহ কার্যক্রম পরিচালনা করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। রোববার সংগঠনটি চাঞ্চল্যকর অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা, গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান ও মানবাধিকার কর্মীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদে এ অনুষ্ঠানে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা  প্রদান করেছে এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন। সংগঠনের কেন্দ্রিয় চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল মিয়ার সভাপতিত্বে সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, সাহিত্যিক সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখত। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্ম জেগে উঠেছে, দেশের উন্নয়নে প্রেসক্লাব ইউনিটি ও হোসাইনিয়া পাক দরবার শরীফ আত্মনিবেদিত হয়ে বিশ্বমন্ডলে শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা জাগ্রত করার আহ্বান জানান। সুপ্রিম কোর্ট সিনিয়র আইনজীবী লতিফুর রহমান সম্মিলিত মানবাধিকার কর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেসক্লাব এর নতুন কমিটিকে সাথে নিয়ে ডা মাঈনুদ্দীন স্বেচ্ছাশ্রমে সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কাজে সম্পৃক্ত হতে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। উদ্ভাধনী আলোচনায় কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাহী পরিচালক ইন্জিনিয়র এম সোহেল আহমদ বলেন, দীর্ঘ সময়ে সংগঠনের সাথে রয়েছি, কখনো দায়িত্ব পালনে বিচলিত হইনি, আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকব ইনশাল্লাহ। এ সময় ঢাকা বিভাগীয় শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের হাততালিতে শুভেচ্ছা জানান। কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ শহীদুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ মজুমদার, আনজার শাহ,আবু আহাদ আল মাহমুদ দীপু মীর, আলমগীর ওয়েচী, মোঃ জাকির হোসেন, আনছারুল হক, মোঃ শাকিল হাওলাদার স্বাধীন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক ভূঁইয়া, তাছলিমা আক্তার লিজা, হাসুরা বেগম, মোঃ মানিক মিয়া, ফুল চান্দ বাবু,নূরে আলম,নাছির উদ্দিন পলাশ,আহম উল্যাহ, কাজী নূরুল আজিম, মোঃ আবু সালেক ভূঁইয়া, এম জি বাবর ও  আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ। সংগঠনের সাদা মনের সাদা সম্মাননা ১০ গুণীজনদের প্রদান শেষে সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্মরণ  ও জাতীর শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া কামনা করা হয়।

ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের পায়রা চত্বরে ‘আমরা ঝিনাইদহবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচী পালিত হয়।এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়।ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচীতে ঝিনাইদহ ২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল আলিম, সেক্রেটারী আব্দুল আওয়ালসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।সেসময় বক্তারা বলেন, ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য জেলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। সম্প্রতি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে শৈলকুপা উপজেলায় স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। সেখানে করা হলে শুধুমাত্র একটি উপজেলার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাবে। তাই জেলার কেন্দ্রস্থল শহরের পাশে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবী জানান বক্তারা।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ক্লোজড

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়। একই সঙ্গে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা.আনার হোসেনকে হাসপাতালের অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসাসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। হাসপাতালে প্রবেশের পরই তিনি হাজিরা খাতা ও ডিউটি রোস্টার যাচাই করেন। এ সময় বেশিরভাগ চিকিৎসক ও কর্মকর্তার কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।মন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা তার সঙ্গে কথা বলতে ভিড় করেন। তিনি তাদের কাছ থেকে হাসপাতালের সেবার মান, ভোগান্তি এবং বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ শোনেন। এ সময় রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া, দালালচক্রের সীমাহীন দৌরাত্ম্য, রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের নিম্নমান এবং টয়লেটের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়েকজন স্বজন অভিযোগ করেন, হাসপাতালে বিভিন্ন সেবা পেতে উঠতে-বসতে টাকা লাগে।পরিদর্শনের একপর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব, বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং টয়লেট ঘুরে দেখেন। তিনি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের মজুত এবং রোগীদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সেবার মানও খাবার পর্যবেক্ষণ করেন। হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। মন্ত্রীর আকস্মিক উপস্থিতির পর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে তৎপরতা বেড়ে যায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তোড়জোড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়েন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৩টার দিকে মন্ত্রী হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর কক্ষ থেকে বের হলে তার সিন্ডিকেটের ১০০-১৫০ অনুসারী তাৎক্ষণিক হ্যান্ড মাইক নিয়ে এসে তার প্রত্যাহার বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এ সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মন্ত্রী হাসপাতাল থেকে চলে যান। রোগী ও স্বজনদের প্রত্যাশা, এই আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে শুধু অনিয়ম চিহ্নিত করাই নয়, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।  পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের শাসন ছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব দেখা গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও টিকাদান কার্যক্রমে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। পরে অনেক কষ্ট করে টিকা সংগ্রহ করে আমরা শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি। স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতেই আমরা নানা সমস্যা দেখতে পাচ্ছি; যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এসে অমানবিক পরিস্থিতি দেখেছি। এখানে নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, তবে এর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির। আজ যেসব অব্যবস্থাপনা আমরা দেখেছি, সেগুলোর দায় তত্ত্বাবধায়ক এড়াতে পারেন না। এ কারণেই তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন. এম. নাসিরুদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জনবল সংকটে ধুঁকছে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা

জনবল সংকটে ধুঁকছে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জনবল সংকট, চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের অভাব এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত প্রায় ৬ লাখ মানুষের এই বৃহৎ উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বর্তমানে নানা সংকটে জর্জরিত।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ২৮২ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭৩ জন। ফলে ১০৯টি পদ শূন্য রয়েছে। অনুমোদিত ১০ জন কনসালটেন্টের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন এবং ৪৫ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২৩ জন। এছাড়া কয়েকজন চিকিৎসক বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকায় এবং কয়েকজন প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।* ১০৯ টি পদ শুন্য।*চিকিৎসক-নার্সের ঘাটতি।*বন্ধ এক্স-রে সেবা।* প্রতিদিন ভোগান্তিতে শত শত রোগী।নার্সিং সেবাতেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। অনুমোদিত ৪২ জন নার্সের মধ্যে কর্মরত আছেন ২৮ জন। তৃতীয় শ্রেণির ১৫৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১০২ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৯টি পদের বিপরীতে মাত্র ১৪ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।জনবল সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোতে। নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন মাত্র একজন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন দুইজন। ফলে বিশাল হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক্স-রে টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে সেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে। একইভাবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীরা সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত বড় একটি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এভাবে চলতে পারে না। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।এদিকে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধাও নেই। বিদ্যমান আবাসন ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় দুই বছর আগে আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে পরিত্যক্ত ভবনগুলো হাসপাতাল চত্বরে অপরিচ্ছন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করছে।হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। কিন্তু সীমিত জনবল নিয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “সরকার স্বাস্থ্য খাতে ৫ হাজার চিকিৎসক, নার্সসহ প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জনবল সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে।”মুরাদনগরবাসীর দাবি, দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, অচল সেবাগুলো পুনরায় চালু এবং আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে উপজেলার লাখো মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে।

মে মাসে ১২হাজার রুগী স্বাস্থ্য সেবা নিয়েছেন বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

মে মাসে ১২হাজার রুগী স্বাস্থ্য সেবা নিয়েছেন বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

শুধু এক মাসেই ১২হাজার রুগী সেবা নিয়েছেন বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। হয়েছে ১২টি অপারেশন ও ৩৫টি নরমাল ডেলিভারি।সম্প্রতি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপির নির্দেশনায় বরুড়ার স্বাস্থ্যসেবা মান অনেকটাই উন্নত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান, খাবার মান, বিদ্যুৎ সমস্যা, এম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর পরামর্শে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত করতে নিরলস কাজ করছেন।তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মে মাসে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটডোর এ ১১ হাজার ৩১১, জরুরি বিভাগে ৬৫৩ জন ও ভর্তি হয়ে ৪০০ রুগী সেবা গ্রহণ করেন। এছাড়া এসময়ে ১২ জন রুগীর বিভিন্ন অপারেশন, ৩৫ জন প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি, ১৪৮জন রুগীকে এক্সরে, ১২১ জন রুগীকে ইসিজি, ১৬৫ জন রুগীকের আল্ট্র, একহাজার ৫০ জন রুগীকে প্যাথলজি ও ২১ টি এম্বুলেন্স সেবা দেয়া হয়।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্যানসার স্কেনিং ও চক্ষু সেবার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে বরুড়ার সকল মানুষ এসকল সেবা বিনা মূল্যে নিতে পরাবেন। ২৪ ঘন্টা ইসিজি ও অফিস সময়ে অন্যান্য সেবা চালু রয়েছে। 

ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের পায়রা চত্বরে ‘আমরা ঝিনাইদহবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচী পালিত হয়।এতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়।ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচীতে ঝিনাইদহ ২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল আলিম, সেক্রেটারী আব্দুল আওয়ালসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।সেসময় বক্তারা বলেন, ঝিনাইদহ জেলা শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য জেলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। সম্প্রতি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে শৈলকুপা উপজেলায় স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। সেখানে করা হলে শুধুমাত্র একটি উপজেলার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাবে। তাই জেলার কেন্দ্রস্থল শহরের পাশে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবী জানান বক্তারা।