রূপগঞ্জে এনসিপির ফল উৎসব পণ্ড, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ফল উৎসব হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পণ্ড হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেছেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় উৎসবের প্যান্ডেল একাধিকবার ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন।শনিবার (৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, রূপগঞ্জে এনসিপির উদ্যোগে শনিবার একটি ফল উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে শুক্রবার রাতে প্রথম দফায় নির্মিত প্যান্ডেল ভেঙে দেওয়া হয়। পরে শনিবার সকালে পুনরায় স্টেজ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ শুরু হলে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিনতাই করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তার দাবি, হামলার সময় দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন রক্তাক্ত হয়েছেন।ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।এনসিপির এই নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা প্রদানকারী দুষ্কৃতিকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সহিংসতার সংস্কৃতি রোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানের চেষ্টা করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধকে আমরা ধারণ করি। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যদি কোনো দল বা ব্যক্তি, যেই হোক না কেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করে, তাহলে প্রয়োজনে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের পাকিস্তান পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। তিনি স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান, আমরা এতে গর্ববোধ করি।বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর নন্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, আজ যারা ১৯৭১-কে মুছে ফেলতে চায়, আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন বিগত ১৭ বছর একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছিল। তারা বাংলাদেশে লুটপাট করেছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। এখন আরেকটি দল ২০২৪ সালের জনগণের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের পকেটস্থ করে সেখান থেকে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ বোকা নয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা সব সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে চাই। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তরপরে বারে বারে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করে বহু আন্দোলন হয়েছে। আরো আন্দোলন দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষ করবে। কিন্তু ১৯৭১ সাল ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে দেখবে তাহলে আমরা শহীদ জিয়ার আর্দশের সৈনিকেরা চেয়ে চেয়ে দেখব, সেটা কোন দিনই হবেনা।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, যারা মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে এবং পাকহানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য গ্রামে গ্রামে চষে বেড়িয়েছেন, আজ তাদের দলের আস্ফালন দেখা যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে একটি টকশোতে শামসুজ্জামান দুদুর সঙ্গে মীরপুরের এমপি বাতেন প্রকাশ্যে বলেছেন, পাকিস্তান ভালো। ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি সেখান থেকে চলে যান। অথচ বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এটাই আমাদের অস্তিত্ব, এটাই আমাদের পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি মানচিত্র, একটি পতাকা এবং একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। অতত্রব এর সাথে কোন কম্পোমাইজ হবেনা।গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি এবং সকল সমমনা দল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে। সেই সময় শত শত হত্যাকান্ড ও গুম খুনের ঘটনা ঘটেছে। ইলিয়াছ আলী চৌধুরীসহ বহু নেতৃবৃন্দ গুম হয়েছে। সেটাকি ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করার জন্য ও প্রেক্ষাপট রচনা করার জন্য কোন ভূমিকা রাখে নাই, অব্যশই রেখেছে। এ আন্দোলনে বাংলাদেশের আপামর জনগণ,কোলের শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি। তবুও বাংলাদেশের জনগণ দমে যায়নি।তিনি বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশকে একটি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের দাস রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। সেখান থেকে মুক্তির জন্যই ২০২৪ সালের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এ আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জুলাই মাস থেকে জাতীয়তাবাদী দল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কাজ করেছে। এই আন্দোলনে শুধু ছাত্রদলের ১৪৮ জন পদধারী নেতা জীবন দিয়েছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এ.টি.এম. মোশারেফ হোসেনসহ অন্যান্যরা।
সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন
সিলেটে এবার হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন ২০২৬ইং) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী ওই নার্স তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফারি ইন্টার্ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি হামের উপসর্গে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)- তে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ওই তরুণীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার অকাল মুত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাহবুবুল আলম বলেন, হামের উপসর্গ ছাড়াও ওই তরুণীর অন্যান্য জটিল সমস্যা ছিল। তবে এটি হচ্ছে হাম উপসর্গে সিলেট বিভাগের ২২ বছর বয়স্ক কারও মৃত্যুএর কারণ অনুসন্ধান করা হবে।এদিকে সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় প্রায় দেড় বছরের শিশু ইরফান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন। সোমবার (১ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৫৬ জন রোগী।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৬ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ৪২, হবিগঞ্জের ২১ ও মৌলভীবাজারের ১৬।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৫৬ রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ২, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৩, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৭, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ৪, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২২, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।