মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

চীন-মার্কিন সম্পর্কের নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দু : সি চিন পিং

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী ফেং লি ইউয়ানের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় স্বাগত ভোজের আয়োজন করেন। স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে হোয়াইট হাউসে এ ভোজের আয়োজন করা হয়। সি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ান হোয়াইট হাউসে পৌঁছালে ট্রাম্প ও মেলানিয়া তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুই রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁদের স্ত্রীরা একসঙ্গে ছবি তোলেন এবং ভোজে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভোজ শুরু হওয়ার পর সি চিন পিং ও ট্রাম্প পৃথক ভাষণ দেন। চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নয়নে আগ্রহী ও সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং মধ্যশরৎ উৎসবের শুভকামনা জানান সি চিন পিং। সি চিন পিং বলেন, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সফলভাবে চীন সফর করেছেন। ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানরা পরস্পরের দেশে সফর করেছেন, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি আরও বলেন, এবারের সফরে আবারও অনেক নতুন ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, যা চীন-মার্কিন গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্কের ভিত্তি আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং সম্পর্কে নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছে। সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, দুই শতাধিক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে। এর পরপরই চীনের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিল। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক পণ্য বিনিময় ও অর্থনৈতিক পরিপূরকতার মাধ্যমে বাণিজ্যিক আদান-প্রদানও শুরু হয় তখন। তিনি বলেন, ৮০ বছরেরও বেশি আগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাপানি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। রক্ত ও অগ্নিপরীক্ষায় গড়ে ওঠা এই বন্ধুত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে যাবে। ৫০ বছরেরও বেশি আগে দীর্ঘদিনের বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছিল টেবিল টেনিস কূটনীতি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিকরা ‘ছোট একটি বল বড় একটি বলকে নাড়ায়’—এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে চীন-মার্কিন সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মহান প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। ২০ বছরেরও বেশি আগে রোনাল্ড সাকোলস্কি নামের এক মার্কিন নাগরিক চীনের মরুকরণ নিয়ন্ত্রণকর্মী ইন ইয়ু চেনকে বৃক্ষরোপণে সহায়তা করেছিলেন। তাঁদের গল্প বহু চীনা মানুষকে মুগ্ধ করেছিল এবং এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে। সি চিন পিং বলেন, চীন-মার্কিন মানবিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও হৃদয়ের যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক। একইসঙ্গে এটি চীন-মার্কিন বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য জনসমর্থনের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে। সি চিন পিং উল্লেখ করেন, চীন-মার্কিন সম্পর্ক আবারও একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার মহান করার প্রস্তাব দিয়েছেন, আর চীনা জাতির মহান পুনরুত্থান বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। এই দুই লক্ষ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। তিনি বলেন, উভয়পক্ষের উচিত বড় দেশের দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বড় দেশগুলোর মধ্যে সঠিকভাবে সহাবস্থানের নতুন পথ অন্বেষণ করা। সি চিন পিং বলেন, ইতিহাসের স্রোত বয়ে চলেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্ভাবনাও বিস্তীর্ণ। উভয়পক্ষকে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং চীন-মার্কিন ‘বন্ধুত্বের সুন্দর ফুলের’ যত্ন নিয়ে যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনা করতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গত মে মাসে চীন সফরের সময় চীনা জনগণের উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তাঁর মনে গভীর ও সুন্দর ছাপ ফেলেছিল। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে দুই দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে হাজার হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা মৈত্রী উদযাপন করছেন।’ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—উভয় দেশেরই সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের ইতিহাস রয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও তাঁদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিন ধরে অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও লালন করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বয়ে আনতে ইচ্ছুক।’ ভোজসভাটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ভোজ চলাকালে মার্কিন শিল্পীরা চমৎকার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। সূত্র: আনন্দী, ফয়সল, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

কিশোর গ্যাং: এক ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি, যেন ঘরে ঘরে জন্ম নিচ্ছে আতঙ্ক

গত এক মাসের খবরগুলো পড়লে বুক কেঁপে ওঠে। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামের গলি-সবখানেই একই ছবি। কিশোর গ্যাং। নামে ‘কিশোর’, কাজে ভয়ংকর। ছুরি-চাপাতি হাতে মহড়া, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, আর এখন হত্যাও। এ যেন এক সামাজিক ক্যান্সার, যা ধীরে ধীরে পুরো জাতির শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় তার রক্তাক্ত মরদেহ। মাথায় বাঁশের লাঠির আঘাত। প্রধান অভিযুক্ত ১৯ বছরের সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ আরও কয়েকজন কিশোর গ্রেপ্তার হয়। তুহিন নিজেই একটি গ্যাং গড়ার চেষ্টা করছিল। টিকটকের ভিডিও, অস্ত্রের মহড়া, ‘হিরো’ হওয়ার নেশা-সব মিলেমিশে এক নিষ্পাপ শিশুর জীবন কেড়ে নেয়। অপ্রতিমের বাবা বলেন, “দশটা ফোন চাইলেও দিতাম।” কিন্তু ফোনের জন্যই শিশু হত্যা!এ ঘটনার পর কুমিল্লায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলে। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। অনেককে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়, কেউ কেউ মাদক ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকায় আদালতে পাঠানো হয়। অপরাধ সন্দেহে দাউদকান্দি থানায় আটকের পর কিছু কিশোর থানার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে বেরিয়ে যায়। কুমিল্লা শহরেই অন্তত ২০টি গ্যাং সক্রিয়। চলতি বছরের সাড়ে আট মাসে অন্তত ২৫টি আলোচিত অপরাধে এদের নাম এসেছে। টিকটকে অস্ত্র হাতে মহড়ার ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ভয়ে শাটার নামিয়ে দোকানে ঢুকে পড়ছেন।রাজধানীতেও কম নয়। ১৫ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে কিশোর গ্যাং হামলা চালায়। কর্মচারী ইমরানকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। ডিএমপি কমিশনার ঘোষণা দিয়েছেন, “মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না।” কিন্তু ঘোষণার দুদিন পরই এমন ঘটনা। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাং লিডার ‘কুত্তা শ্রাবণ’ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়। চাঁদাবাজি, ছিনতাই-সবই তার দলের কাজ।র‍্যাবের হালনাগাদ তথ্য বলছে, দেশে এখন ৩৩৯টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। আগে ছিল ২৩৭টি। ঢাকায় একাই ১২৭ থেকে ১৫৯টি গ্যাং। সারা দেশে সদস্য সংখ্যা হাজার হাজার। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা-কোথাও বাদ যায়নি। অপরাধের প্রায় ৪০ শতাংশই কিশোরদের হাতে। খুন, ছিনতাই, চাঁদা, মাদক, ধর্ষণ-সবই।চাঁদার জন্য পরিবারে ছুরি, নদীর তীরে অস্ত্রের মহড়া শুধু ঢাকা-কুমিল্লা নয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বরই কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক সাংবাদিক পরিবারের ওপর নৃশংস হামলা চালায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং। বাড়ি নির্মাণের সময় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় কিরিচ ও হাতুড়ি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় নুর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী কহিনুর আক্তার ও ছেলে মনিরুল মোস্তফাকে। রক্তাক্ত পরিবার, ভাঙা স্বপ্ন-এ যেন এক নতুন বাস্তবতা।বরিশাল নগরীতেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মোটরসাইকেলে চড়ে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্রের মহড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নদীর তীরে একে অন্যের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা ভয়ে কাঁপছেন। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দুই ডজনের বেশি গ্যাং সক্রিয়। চট্টগ্রামে শতাধিক গ্রুপ, রাজশাহীতে ছিনতাই-মারধর, ঢাকার দক্ষিণখানে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ সাত সদস্য গ্রেপ্তার-সবখানেই একই কাহিনি। পল্লবীর সবুজবাংলায় গণমাধ্যমকর্মীর বাসায় হামলা ও গুলির ঘটনাও ঘটেছে। দেশজুড়ে এখন প্রায় ৩৮৬ থেকে ৪০০টি গ্যাং, সদস্য সংখ্যা সাড়ে চার হাজারের বেশি।কেন এমন হচ্ছে? অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব, নাকি আরো ভয়ংকর কিছু? সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় নেই, স্ক্রিন সময় বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারির অভাব। রাজনৈতিক সংগঠনগুলো কিশোরদের হাতিয়ার বানাচ্ছে। রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা ভঙ্গুর, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল। মাদকের অবাধ বিচরণ। অনলাইন জুয়া ও টিকটক-ফেসবুকের নেশায় কিশোররা ‘হিরো’ হতে চায়। দ্রুত টাকা, ক্ষমতা, ভয় দেখানোর আকাঙ্ক্ষা। পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, মূল্যবোধ হারাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া যেন গ্যাং তৈরির নতুন কারখানা।এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে? এক প্রজন্ম যদি অস্ত্র হাতে বেড়ে ওঠে, তাহলে সমাজ কীভাবে বাঁচবে? রাষ্ট্র কীভাবে?একমাত্র পুলিশ নয়, পুরো জাতিকে জাগতে হবেকরণীয় একমাত্র পুলিশি অভিযান নয়। এটি বহুমুখী যুদ্ধ।পরিবারকে ফিরে আসতে হবে। বাবা-মাকে সন্তানের বন্ধু হতে হবে। রাতের আড্ডা, মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার, অদ্ভুত বন্ধুত্ব-সবকিছুতে নজর রাখতে হবে। স্কুল-কলেজে কাউন্সেলিং চালু করতে হবে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে বিকল্প পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীল কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে। গ্যাংয়ের বদলে স্পোর্টস ক্লাব, যুব ক্লাব গড়ে তুলতে হবে।রাষ্ট্রকে শক্ত হতে হবে। কিশোর অপরাধীদের জন্য বিশেষ আইন ও সংশোধনাগার জোরদার করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে বারবার মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে জড়ানোর সুযোগ বন্ধ করতে হবে। পৃষ্ঠপোষক রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সোশ্যাল মিডিয়ায় সহিংস কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা।সমাজকে জাগতে হবে। পাড়া-মহল্লায় কমিটি গড়ে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজ-সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যমকে শুধু খবর নয়, সচেতনতা তৈরির মাধ্যমও হতে হবে।কিশোর গ্যাং কোনো অমোঘ বিপর্যয় নয়। এটি আমাদের ব্যর্থতার ফসল। আমরা যদি এখনই জেগে না উঠি, তাহলে আগামী প্রজন্ম হাতের মুঠোয় অস্ত্র নিয়ে বেড়ে উঠবে। অপ্রতিমের মতো নিষ্পাপ শিশুরা আরও মরবে। ঘরে ঘরে আতঙ্ক বাড়বে।সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র-সবাই মিলে যদি একযোগে দাঁড়ায়, তাহলে এই ভয়ংকর ব্যাধি থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হতে পারে। একটি সুস্থ, নিরাপদ, মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা, সাহস এবং ঐক্য।আজকের কিশোর আগামীর নাগরিক। তাদের হাতে অস্ত্র নয়, কলম ও স্বপ্ন তুলে দিতে হবে। নয়তো ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।লেখক : সাংবাদিক ও সংগঠক। 

কিশোর গ্যাং: এক ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি, যেন ঘরে ঘরে জন্ম নিচ্ছে আতঙ্ক

চীনের প্রেসিডেন্টের ওয়াশিংটন সফর: চীন-মার্কিন সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং স্থানীয় সময় ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিশেষ বিমানে ওয়াশিংটনে পৌঁছে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেন।ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী ফেং লি ইউয়ানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ম্যাডাম ফেং লি ইউয়ানকে আতিথেয়তা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি আকর্ষণকারী একটি সফর। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একজন মহান নেতা। এটি একটি চমৎকার ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মতবিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।বিমানবন্দরে মার্কিন শিশুরা সি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। লালগালিচার দুই পাশে গার্ড অব অনার সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁদের সালাম জানায়। সামরিক ব্যান্ড চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। এ সময় ২১ বার তোপধ্বনি করা হয় এবং শ্রদ্ধা জানাতে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে।সি চিন পিং এক লিখিত ভাষণে চীনা জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।সি চিন পিং উল্লেখ করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই মহান দেশ এবং দুই দেশের জনগণই মহান হৃদয়ের অধিকারী। চীন ও মার্কিন জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। উভয় পক্ষের স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত। দুই দেশের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া। চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবন বাস্তবায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় মহান করে তোলার লক্ষ্য গঠনমূলক কাজ করা ও পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হওয়া। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষ একে অপরের সাফল্যে অবদান রাখতে পারে এবং বিশ্বকল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।তিনি বলেন, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের সময় চীন-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে দুই দেশ একটি গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত একে অপরের দিকে এগিয়ে আসা, সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রতিযোগিতা সীমিত রাখা এবং মতভেদ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শান্তির জন্য সহায়ক একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা। নতুন যুগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই বৃহৎ দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সঠিক পথ খুঁজে বের করতে হবে।সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে এবং সময়ের পরিবর্তন ঘটছে। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহাসিক যুক্তি পরিবর্তিত হয়নি। দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের আকাঙ্ক্ষাও অপরিবর্তিত রয়েছে। একইভাবে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন প্রত্যাশারও পরিবর্তন ঘটেনি।তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক এবং বিশ্ব পরিস্থিতি-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে মতবিনিময় করতে, চীন-মার্কিন গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্কের বিষয়বস্তুকে ধারাবাহিকভাবে সমৃদ্ধ করতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের বিনিময় ও সহযোগিতার পরিসর সম্প্রসারণ করতে তিনি আগ্রহী। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যাপক যোগাযোগ স্থাপন এবং বন্ধুত্ব আরও গভীর করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।সি চিন পিং বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, উভয় পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সফর অবশ্যই ফলপ্রসূ হবে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধি করবে এবং বিশ্বশান্তির ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করবে।চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য ছাই ছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ অন্যান্য সফরসঙ্গী একই বিমানে ওয়াশিংটনে পৌঁছান।চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও উপপ্রধানমন্ত্রী হে লি ফেং এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেংও বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।সি চিন পিং বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে তাঁর অবস্থানস্থল হোটেলে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা প্রবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা সড়কের দুই পাশে জড়ো হন। তাঁরা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে স্বাগত জানান।সূত্র: আনন্দী, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

চীনের প্রেসিডেন্টের ওয়াশিংটন সফর:  চীন-মার্কিন সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান
শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারি মামলায় ১৫ জন কারাগারে

শেরপুরে ১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারি মামলায় ১৫ জন কারাগারে

শেরপুর জেলায় সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১০ জন বিসিআইসি সার ডিলারসহ ১৫ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির আত্মসমর্পণকারী আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে বিকেলে তাঁদের জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন, বিসিআইসি সার ডিলার মো. ফরহাদ আলী, মাজাহারুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, সুফিয়া বেগম, মরিয়ম আক্তার মুন্নী, তাপস নন্দী, সিরাজুল হক, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী ও বোরহান উদ্দিন। এ ছাড়া ডিলারদের পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. বাদশা মিয়া ও জাকির হোসেন রতনকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বিশেষ ক্ষমতা আইনে সদর উপজেলার ১৫ জন সার ডিলারসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সরকারি বরাদ্দের প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের সার অধিক মুনাফার আশায় কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এতে কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয় এবং অনেক কৃষক সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হন।মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিক্রয় রেজিস্টার, ক্যাশ মেমো ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে ব্যাপক অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এর আগে আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার তাঁরা শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।শেরপুর জেলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চীন-মার্কিন জনগণের বন্ধুত্বে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর ফেং লি ইউয়ানের গুরুত্ব

চীনের ফার্স্ট লেডি ফেং লি ইউয়ান স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত জাতীয় এশীয় শিল্পকলা জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। দুই ফার্স্ট লেডি পিকক হলসহ একাধিক প্রদর্শনী হল পরিদর্শন করেন। এ সময় ফেং লি ইউয়ান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনকে একাধিকবার সাংস্কৃতিক নিদর্শন ফেরত দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও জোরদার করার লক্ষ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পরিদর্শনের পর ফেং লি ইউয়ান ও মেলানিয়া ট্রাম্প মার্কিন কিশোর-কিশোরীদের কোরাস গান শোনেন এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন। সূত্র: ছাই, আলিম, আনন্দি, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

বরুড়ায় আওয়ামীলীগ ও তরিকত ফেডারেশন থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান

কুমিল্লার বরুড়ায় আওয়ামী লীগ, তরিকত ফেডারেশন ও সনাতনী সংগঠন থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর বিকাল তিনটায় বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। বরুড়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি কায়সার আলম সেলিম এর তে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি'র সভাপতি ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জুনাব আলী, অ্যাডভোকেট খাইরুল এনাম তৌফিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সহ বিএনপি'র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এদিন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা তরিকত ফেডারেশন এর সদস্য সচিব ও বরুড়া উপজেলা জুয়েলারি মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বরুড়া বাজারের বিভিন্ন গলি মিছিল সহকারে বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন। একই দিন শাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ সোলাইমান মিয়া মেম্বার ও শাকপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খায়ের ইমাম এর নেতৃত্বে শাকপুর ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করে। এছাড়াও এই দিন গালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বাচ্চু মিয়া পুরো প্যানেল ও ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজন নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। একই দিন বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আনুমানিক ছয় শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বরুড়া উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃত্বে ডাক্তার তপন ভৌমিক, সাবেক রেলওয়ে কর্মকর্তা দীপক ভৌমিক, মাস্টার তপন কৃষ্ণ বণিক, সুদর্শন ভদ্র, বিনয় সাহা সহ সনাতনী সংঘের নেতাকর্মীদের সাথে একযোগে সনাতন ধর্মের নারী ও পুরুষ বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন (এমপি) সকলকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। সর্বশেষ বক্তব্য তিনি বলেন গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা যেভাবে আমাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন আজ আপনারা বাস্তবে রূপ দিলেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন আজকে যারা বিভিন্ন দল থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন তারা আমাদের মেহমান তাদের সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ করার জন্য অনুরোধ করেন, যদি এর ব্যতিক্রম হয় তাহলে আমাকে আপনারা অপমান করলেন। তাই দল মত নির্বিশেষে সকলে মিলে সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে অনুরোধ করেন।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন

বরুড়ায় এ কে এম আবু তাহের আন্ত উপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

বরুড়া কুমিল্লা, বরুড়ায় এ কে এম আবু তাহের আন্ত-উপজেলা  ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৩শে সেপ্টেম্বর বিকাল তিনটায় বরুড়া পৌরসভার তলাগ্রাম ত.চ. লাহা উচ্চ বিদ্যালয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সাবেক সাংসদ মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের সন্তান কুমিল্লা দঃ জেলা বিএনপির সভাপতি ও গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও  গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। উল্লেখ্য এ কে এম আবু তাহের ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় কুমিল্লা  ইলেভেন স্টার ক্লাবের সার্বিক সহযোগীতায় বরুড়ার তলাগ্রাম ত.চ লাহা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ মাঠে একযোগে কুমিল্লা জেলার সকল উপজেলার একটি করে দল চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহন করবে।প্রাথমিক পর্বে সকল দলের মোট  ৩৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং চার গ্রুপের চ্যান্পিয়ান ও রানারআপ দল কোয়াটার ফাইনালে উত্তির্ন হয়ে, সেমিফাইনাল  ও ফাইনাল মিলে সর্বমোট ৪২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্টে। আগামী ১৬ই অক্টোবর দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে ফাইনালের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি, সহকারী কমিশনার ভুমি আহসান হাফিজ,  বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম,  সহসভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু,সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন,  বরুড়া পৌরসভার বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজুল ইসলাম সহ প্রমুখ।

কিশোরগঞ্জে মাদ্রাসায় ২৩ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে

কিশোরগঞ্জে মাদ্রাসায় ২৩ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ২৩ শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ১৮ জন ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। আর আগের নিয়োগ দেখিয়ে আরও পাঁচজনকে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির নকল কাটিং তৈরি, নিয়োগ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল এবং প্রকৃত নিয়োগের সময়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ তারিখ দেখিয়ে কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরে এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফাইল পাঠানো হয়।স্থানীয় মোখলেছুর রহমান বলেন, মাদ্রাসাটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁর দাবি, নিয়োগের কাগজপত্রে অসঙ্গতি ও জালিয়াতির বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।অলিয়ার রহমান বলেন, তাঁর ছেলের চাকরির জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, চাকরি হবে আশায় তাঁর ছেলে চার-পাঁচ বছর মাদ্রাসায় কাজ করলেও কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। পরে চাকরি হবে না জানিয়ে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় দেওয়া টাকার কিছু অংশ ফেরত দেওয়া হলেও পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. অহিদুল ইসলাম ব্যাকডেটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভুয়া পেপার কাটিং তৈরি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জাল এবং নিবন্ধনহীন ব্যক্তিদের ২০০৫ সালের আগে ও জাল নিবন্ধনধারীদের ২০১৬ সালের আগে নিয়োগ দেখিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মচারী পদে আট থেকে নয় লাখ টাকা এবং শিক্ষক পদে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর এমপিওভুক্তির জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের চাকরি দেওয়ার কথা বলেও বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।চাকরিপ্রত্যাশী আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘চাকরির জন্য আমিও ১০ লাখ টাকা দিয়েছি। পরে আমাকে চাকরি দেওয়া হয়নি। টাকাও এখনো ফেরত পাইনি। এলাকার আরও অনেকের কাছ থেকে অধ্যক্ষ টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত দেওয়ার চাপের কারণে তিনি মাদ্রাসায় আসেন না।’স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা ফেরত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রত্যাশীদের চাপের মুখে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষ মো. অহিদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফ-উজ-জামান সরকার বলেন, ‘মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা পাওয়ার কথা জানা গেছে। তবে এটি ফাজিল মাদ্রাসা হওয়ায় এ বিষয়ে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই।’জানা গেছে, জাল নিয়োগ ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির অভিযোগে মাদ্রাসাটিতে একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের তদন্তেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানা গেছে। তবে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির সুযোগ তৈরি করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সাথে শেরপুরের সংস্থাসমূহের নির্বাহী পরিচালকগদের সাক্ষাৎ

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সাথে শেরপুরের সংস্থাসমূহের নির্বাহী পরিচালকগদের সাক্ষাৎ

বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের শেরপুর জেলার সহযোগী সংস্থাসমূহের নির্বাহী পরিচালকগণ  ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মোঃ মোরতাজুল করিম বাদরুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সহযোগী সংস্থাসমূহ দারিদ্র্য বিমোচনে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে  এনজিও ফাউন্ডেশনের সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে। এ সময় সহযোগী সংস্থাসমূহের চেয়ারম্যানকে ক্রেষ্ট প্রদান করেন। আলাপকালে সংস্থাসমূহের প্রধান নির্বাহীরা  জানান তাঁরা স্বচ্ছতার সাথে ফাউন্ডেশনের অনুদানে গাভি পালন, ছাগল বিতরণ, স্যানিটেশন, মাদক নিরাময়সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।  এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজ থেকে যেমন দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে তেমনি আত্ম-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টি করে আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠনে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এজন্য তারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সাক্ষাতে উপস্থিত সহযোগী সংস্থাসমূহের মধ্য সেন্টার ফর অ্যাডভান্সডমেন্ট প্রোগ্রাম (ক্যাপ), সেবা পরিষদ ( এসপি), সবুজ বাংলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা, সুনীতি সংঘ, স্ব-নির্ভর নারী কল্যান সংস্থা, পল্লী উন্নয়ন সংস্থা, ভোরের আলো মহিলা সংস্থা, মহিলা ও শিশু পুনর্বাসন সংস্থা, দিশারী পৌর পল্লী সংস্থা, গ্রামীণ কল্যান সংস্থা, অভীষ্ঠ গণ উন্নয়ন সংস্থা, এক্স-সোলজার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

বরুড়ায় বহু প্রতীক্ষিত মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

বরুড়ায় বহু প্রতীক্ষিত মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে বিষয়ভিত্তিক আধুনিক চিকিৎসাসেবায় সমৃদ্ধ *মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের* শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।বুধবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি।বরুড়া উপজেলার মানুষের জন্য উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।মরহুম এ কে এম আবু তাহে'র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছিন। একই সঙ্গে হাসপাতালটি যেন মানুষের কল্যাণে কার্যকর ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান ডাঃ মোহাম্মদ জুলকারনাইন  মজুমদারের সভাপতিত্বে ও উপসহকারী মেডিকেল অফিসার এটিএম গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ রেজা মোহাম্মদ সারোয়ার আকবর, বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি, বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম, সহসভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু সহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, মাদক একটি এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।তিনি বলেন, বরুড়ায় শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন।জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের জন্য দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের দিয়েও তিনি বিরতিহীনভাবে কাজ করিয়ে যাচ্ছেন এবং নিয়মিত কাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন। আমরা বরুড়ার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”হাসপাতালটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। প্রয়াত এ কে এম আবু তাহেরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি। হাসপাতালটি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরুড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ, বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকসহ চিকিৎসক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি পদায়নকৃত চিকিৎসক রয়েছেন একজন, সংযুক্ত চিকিৎসক দুইজন, সিনিয়র স্টাফ নার্স তিনজন, উপসহকারী মেডিকেল অফিসার দুইজন, ওয়ার্ডবয় একজন এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট একজন। সীমিত জনবল নিয়েই প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, শুরুর দিকে হাসপাতালে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে না এবং সার্জারি কার্যক্রমও চালু হচ্ছে না। প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কচুয়া  হাসপাতালে ৫০ বেডে ৮৮ রোগীর  চিকিৎসা চলছে!

কচুয়া হাসপাতালে ৫০ বেডে ৮৮ রোগীর চিকিৎসা চলছে!

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা বিছানা (বেড) না পেয়ে বারান্দায়ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- চাঁদপুরের এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বেড রয়েছে মাত্র  ৫০ টি। কিন্তু  ওইদিন (সোমবার) ৮৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।তার মধ্যে পুরনো ভর্তি রোগীও ছিলো। অর্থাৎ গত ২৪ ঘন্টায় ৮৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত  বেড না থাকায় হসপিটাল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বারান্দায় ও মেঝেতে চিকিৎসা দিচ্ছেন।সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোর ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় সরকার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সম্প্রসারনের উদ্যোগ নিয়েছে । সরকারের এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এই উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবার দুর্ভোগ লাগব হবে। প্রসঙ্গত :এই উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ লোকের বসবাস রয়েছে।  কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ( ইউএইচও) ডাক্তার মোহাম্মদ সোহেল রানা জানিয়েছেন -এটা প্রায় প্রতিদিনকার চিত্র। তবুও তারা সাধ্যমত মানুষকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষদের শহরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা কষ্টসাধ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা: কচুয়ায় রেনেঁসা ও সেবা ডায়াগনস্টিককে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা: কচুয়ায় রেনেঁসা ও সেবা ডায়াগনস্টিককে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০,০০০/- (ষাট হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।​অভিযানে লাইসেন্স বা মানদণ্ড ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা, অপারেশন থিয়েটারে বা হাসপাতালে চরম অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ রাখা, অযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার দায়ে রেনেঁসা মেডিকেল সেন্টারকে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা প্রতারণা সহ্য করা হবে না। চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং ভেজাল বা অনিয়ম রোধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু নাছির, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোঃ  জাহিদ হোসাইন এবং সাচার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা প্রমুখ।

শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় হাজেরা বেগম (৪২) নামে এক রোগী মৃত্যুর অভিযোগ করেছে স্বজনরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনরা জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শেখের বাড়ির আক্তার হোসেনের স্ত্রী হাজেরা বেগম দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে হাজেরা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে একাধিকবার রোগী দেখার অনুরোধ করেন। তিনি রোগী দেখতে স্বশরীরে ওয়ার্ডে না এসে নিজ কক্ষে অবস্থান করে মোবাইল স্ক্রলিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ওই সময় তিনি রোগীকে তার কক্ষে নিয়ে আসার জন্য স্বজনদের বলেন।নিহতের স্বামী আক্তার হোসেন অসুস্থ রোগীকে একা ডাক্তারের কক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব নয় জানালে তিনি রোগী না দেখেই অক্সিজেন দেয়ার পরামর্শ দেন। এর কিছুক্ষণ পর রাত ১২টার দিকে হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়। নিহতের স্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসককে বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি রোগী দেখতে আসেননি। সময়মতো রোগী দেখে চিকিৎসা দিলে হয়তো এ ঘটনার শিকার হতে হতো না। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য নিতে গেলে হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. জয়ন্ত মালাকার সাংবাদিকদের বক্তব্য সংগ্রহে বাঁধা প্রদান করেন। তিনি নিজেকে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন দাবি করে বলেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকের পক্ষে তিনিই বক্তব্য দেবেন।তার দাবি, ওই রোগীর আইসিইউ (ICU) সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল এবং লিভারের এ ধরনের জটিল রোগীর চিকিৎসা এ হাসপাতালে সম্ভব নয়। শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল জানান, চিকিৎসকের কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

বরুড়ায় বহু প্রতীক্ষিত মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

বরুড়ায় বহু প্রতীক্ষিত মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে বিষয়ভিত্তিক আধুনিক চিকিৎসাসেবায় সমৃদ্ধ *মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতালের* শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।বুধবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি।বরুড়া উপজেলার মানুষের জন্য উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।মরহুম এ কে এম আবু তাহে'র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছিন। একই সঙ্গে হাসপাতালটি যেন মানুষের কল্যাণে কার্যকর ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান ডাঃ মোহাম্মদ জুলকারনাইন  মজুমদারের সভাপতিত্বে ও উপসহকারী মেডিকেল অফিসার এটিএম গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ রেজা মোহাম্মদ সারোয়ার আকবর, বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি, বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম, সহসভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু সহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, মাদক একটি এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।তিনি বলেন, বরুড়ায় শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন।জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের জন্য দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের দিয়েও তিনি বিরতিহীনভাবে কাজ করিয়ে যাচ্ছেন এবং নিয়মিত কাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন। আমরা বরুড়ার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”হাসপাতালটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। প্রয়াত এ কে এম আবু তাহেরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি। হাসপাতালটি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরুড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ, বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকসহ চিকিৎসক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি পদায়নকৃত চিকিৎসক রয়েছেন একজন, সংযুক্ত চিকিৎসক দুইজন, সিনিয়র স্টাফ নার্স তিনজন, উপসহকারী মেডিকেল অফিসার দুইজন, ওয়ার্ডবয় একজন এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট একজন। সীমিত জনবল নিয়েই প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, শুরুর দিকে হাসপাতালে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে না এবং সার্জারি কার্যক্রমও চালু হচ্ছে না। প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।