মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ভাঙ্গা: কোরবানির মাংস ভাগাভাগি নিয়ে আহত ৩০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় কোরবানির মাংস ভাগাভাগির স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার আলগি ইউনিয়নের পশ্চিম আড়ুয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে কোরবানির মাংস ভাগাভাগির স্থান নির্ধারণ নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সেই উত্তেজনা রূপ নেয় ভয়াবহ সংঘর্ষে।সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন আবু বকর মুন্সী এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান সম্রাট। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সরকি, টেটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ২৭ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ এর ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, কোরবানির মাংস ভাগাভাগির স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লাখো মুসল্লির প্রার্থনা

পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিণত হয় এক আবেগঘন ধর্মীয় মিলনমেলায়। তাকবিরের ধ্বনি আর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে দেশের প্রধান ঈদ জামাতে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত এই প্রধান জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই জাতীয় ঈদগাহে জড়ো হতে থাকেন হাজারো মুসল্লি। নির্ধারিত সময়ের আগেই রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ঈদগাহ ময়দানে উপস্থিত হন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহে পৌঁছান।ঈদের এই কেন্দ্রীয় জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ঈদগাহ ময়দান হয়ে ওঠে এক বিশাল ধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক।খুতবায় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়।প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন নজরদারির আওতায়। মুসল্লিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পল্টন, হাইকোর্ট মোড় ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে যান চলাচল ও পার্কিংয়ের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাত দেশবাসীর মাঝে ঈদের সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লাখো মুসল্লির প্রার্থনা

১৬১ ভিআইপির উৎসব এবার লোহার ফটকের ওপারে / কারাগারের দেয়ালে বন্দি ঈদ!

একসময় ঈদ মানেই ছিল রাজনৈতিক নেতাদের ব্যস্ততা, অনুসারীদের ভিড়, ঈদগাহে গণসংযোগ আর ক্ষমতার প্রদর্শনী। কেউ নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে ঈদের নামাজে অংশ নিতেন, কেউ বা গণভবনের আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ে মাততেন রাজনৈতিক আড্ডায়। অথচ সময়ের নির্মম পরিহাসে এবার সেই পরিচিত অনেক মুখের ঈদ কাটবে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে।পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে ঈদ উদযাপন করবেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬১ জন ভিআইপি বন্দি। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। কারা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে দুই শতাধিক ভিআইপি আসামি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬১ জন আইন অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির বন্দি বা ‘ডিভিশন’ সুবিধা পাচ্ছেন।নিরাপত্তাজনিত কারণে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৬০ জন হেভিওয়েট বন্দিকে রাখা হয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে। কঠোর নজরদারির মধ্যেই সেখানে কাটবে তাদের ঈদের দিন।কারা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে দেশের সব কারাগারে সাধারণ বন্দি ও ভিআইপি বন্দিদের জন্য একই ধরনের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।ঈদের দিনের শুরু হবে সেমাই বা পায়েস এবং মুড়ির নাশতায়। দুপুরে পরিবেশন করা হবে বিশেষ খাবার—পোলাও, গরুর মাংস, একটি আস্ত মুরগির রোস্ট, ডিম, মিষ্টান্ন, কোল্ড ড্রিংকস, পান ও সুপারি। অন্য ধর্মাবলম্বী বন্দিদের জন্য গরুর মাংসের পরিবর্তে রাখা হয়েছে খাসির মাংসের ব্যবস্থা। রাতের খাবারে থাকবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।শুধু খাবার নয়, ঈদকে কিছুটা আনন্দময় করতে বিভিন্ন কারাগারে আয়োজন করা হচ্ছে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও। ঈদের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন বন্দিরা পরিবারের সদস্যদের আনা খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি স্বজনদের সাক্ষাতের জন্য কারাফটকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ কারাগারে থাকা ভিআইপি বন্দিদের ঈদের দিন সকালে একসঙ্গে জামাতে ঈদের নামাজ আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে। পরে তারা নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময়ও করতে পারবেন। এছাড়া ঈদের দিন ও পরবর্তী দুই দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ এবং মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে আগে থেকে অনুমোদিত নম্বরেই ফোনালাপ সীমাবদ্ধ থাকবে।ক্ষমতার চূড়ায় থাকা মানুষদের জন্য এবারের ঈদ তাই এক ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। রাজনৈতিক মঞ্চ, ক্ষমতার বলয় আর প্রটোকলের বাইরে, লোহার গেট আর কারাপ্রাচীর ঘেরা জীবনে তাদের ঈদ যেন সময়ের এক নীরব বার্তা—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, সময়ই শেষ কথা বলে।

কারাগারের দেয়ালে বন্দি ঈদ!
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লাখো মুসল্লির প্রার্থনা

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লাখো মুসল্লির প্রার্থনা

পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিণত হয় এক আবেগঘন ধর্মীয় মিলনমেলায়। তাকবিরের ধ্বনি আর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে দেশের প্রধান ঈদ জামাতে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত এই প্রধান জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই জাতীয় ঈদগাহে জড়ো হতে থাকেন হাজারো মুসল্লি। নির্ধারিত সময়ের আগেই রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ঈদগাহ ময়দানে উপস্থিত হন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহে পৌঁছান।ঈদের এই কেন্দ্রীয় জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ঈদগাহ ময়দান হয়ে ওঠে এক বিশাল ধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক।খুতবায় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়।প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন নজরদারির আওতায়। মুসল্লিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পল্টন, হাইকোর্ট মোড় ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে যান চলাচল ও পার্কিংয়ের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাত দেশবাসীর মাঝে ঈদের সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

রাজনীতি থেকে প্রযুক্তি-২০টির বেশি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী দুই নেতা

২৫ মে (সোমবার) বিকেলে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের গণ-মহাভবনে চীন সফরে আসা সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ বৈঠক করেছেন।প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে সার্বিয়ায় তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষ যৌথভাবে নতুন যুগে চীন-সার্বিয়া অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছিল। বিগত দুই বছরে এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল বয়ে এনেছে, যা কেবল দুই দেশের মানুষের কল্যাণই করেনি, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"তিনি আরও বলেন, উভয় দেশের উচিত পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো, পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করা, সহযোগিতা গভীর করা এবং একে অপরকে নিঃশর্ত সমর্থন জোগানো; যাতে যৌথভাবে অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির একটি উজ্জ্বল পথ তৈরি করা যায় এবং চীন-সার্বিয়া সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, চীন ও সার্বিয়ার একে অপরকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করা অব্যাহত রাখতে হবে। চীন সার্বিয়ার নিজস্ব জাতীয় পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ইচ্ছুক। চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনায়  উচ্চ-মানসম্পন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে সম্পূর্ণরূপে বিন্যস্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে নিজ নিজ জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় ঘটাতে হবে, বেল্ট অ্যান্ড রোড  উদ্যোগের মধ্যমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে হবে।তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তিগত বিপ্লব এবং শিল্প পরিবর্তনের ঢেউয়ের মুখে দুই দেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ জ্বালানি এবং উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো উদীয়মান খাতগুলোতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে, যাতে নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি করা যায়।তিনি আরও বলেন, দুই দেশের  ভিসা-ফ্রি + মুক্ত বাণিজ্য + সরাসরি বিমান যোগাযোগ—এই ত্রিমাত্রিক কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে সংস্কৃতি, শিক্ষা, ক্রীড়া, পর্যটন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সহযোগিতা সর্বাত্মকভাবে প্রসারিত করতে হবে, যাতে চীন ও সার্বিয়ার জনগণের ঐতিহ্যবাহী লৌহকঠিন বন্ধুত্ব  প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকে থাকে। এ ছাড়া, বর্তমান অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশকে বৈশ্বিক বিষয়ে সমন্বয় বাড়াতে হবে এবং প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা চর্চার মাধ্যমে একটি সমতাভিত্তিক বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন গঠনে নিরলস কাজ করতে হবে।প্রেসিডেন্ট ভুচিচ তাঁর বক্তব্যে চীনকে সফলভাবে পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন যে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে চীন আরও বড় অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করবে।ভুচিচ বলেন, সার্বিয়া ও চীনের মধ্যে সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অভাবনীয় গতিতে এগিয়ে গেছে। সার্বিয়া ও চীনের জনগণের মধ্যে রয়েছে এক অটুট "লৌহকঠিন বন্ধুত্ব"। সার্বিয়ার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীনভাবে উন্নয়নের পথ অনুসন্ধানে চীনের সমর্থনকে সার্বিয়ার জনগণ কখনোই ভুলবে না। একই সাথে তিনি সার্বিয়ার জাতীয় অবকাঠামো নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।তিনি স্পষ্ট করেন যে, সার্বিয়া চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় এবং চীনের মূল স্বার্থের সাথে জড়িত সব ইস্যুতে অবিচলভাবে চীনের অবস্থানকে সমর্থন করে। সার্বিয়া চীনের সাথে উচ্চ-মানসম্পন্ন বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা গভীর করতে, প্রধান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নিতে এবং আরও বাস্তবসম্মত ফলাফল অর্জনে মুখিয়ে আছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চীন একটি পরাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও সর্বদা সার্বিয়ার মতো ছোট দেশকে সমতা ও শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে, যা সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সার্বিয়া প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষায় চীনের সঙ্গে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে প্রস্তুত।দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যৌথভাবে রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিচার বিভাগ এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ২০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।এ ছাড়া, উভয় পক্ষ যৌথভাবে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক দলিল প্রকাশ করেছে। তা হলো- গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এবং সার্বিয়া প্রজাতন্ত্রের যৌথ বিবৃতি: নতুন যুগে চীন-সার্বিয়া অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে, এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ও সার্বিয়া প্রজাতন্ত্রের যৌথ বিবৃতি: যৌথভাবে চারটি প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রসঙ্গে।বৈঠকের পূর্বে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং স্ত্রী মাদাম ফেং লি ইউয়ান প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ এবং ফার্স্ট লেডি তামারা ভুচিচকে স্বাগত জানিয়ে একটি জমকালো রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ দিন সন্ধ্যায় ভুচিচ দম্পতির সম্মানে এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়।

ঝিনাইদহে গ্রেপ্তার এনসিপির নেতা তারেক রেজা জামিনে মুক্ত

ঝিনাইদহে ছাত্রদলের মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা জামিনে মুক্ত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) সকালে তিনি জামিনে মুক্ত হন।এর আগে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল কবিরের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।জানা গেছে, এনসিপি নেতা তারেক রেজা রোববার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিলনায়তনের সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।গ্রেপ্তারের সময় ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামানসহ পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে রাতেই তারেক রেজাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, হামলা, ভাঙচুর, হত্যার হুমকির অভিযোগে গতকাল (শনিবার) এনসিপি নেতা তারেক রেজাসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়ের করা মামলার আসামি তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারেও অভিযান চলমান আছে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক খাতে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা, ফ্যাশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে BGMEA University of Fashion & Technology (BUFT)।২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার তুরাগ থানার নিশাতনগর (পশ্চিম উত্তরা সংলগ্ন) এলাকায় অবস্থিত।দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন BGMEA-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ফ্যাশন, টেক্সটাইল, পোশাক প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক শিক্ষাকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফ্যাশন ডিজাইন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং, বিজনেস স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক ল্যাব, গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং, ফ্যাক্টরি ভিজিট এবং বাস্তবভিত্তিক প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে স্মার্ট টেক্সটাইল, সাসটেইনেবল ফ্যাশন, ডিজিটাল ডিজাইন ও অটোমেশনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শিক্ষার্থীরা জানান, BUFT-এ পড়াশোনার মাধ্যমে তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন প্রেজেন্টেশন এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন।নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য। ফ্যাশন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে দক্ষ ও উদ্ভাবনী তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে BUFT গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব

ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব

ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা ও আপনজনদের সঙ্গে সুখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার উৎসব। তবে সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে ঈদ মানে শুধুই নতুন পোশাকের স্বপ্ন, একটু ভালো খাবারের অপেক্ষা আর ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। সেইসব শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে রাজধানীর মুগদায় ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক আয়োজন করেছে সাউথ এশিয়ান ইউনাইটেড অর্গানাইজেশন ও সিড ফাউন্ডেশন।আজ সকালে মুগদার জে এস গ্রামার হাইস্কুল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। উপহার হাতে পেয়ে শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পুরো পরিবেশ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউথ এশিয়ান ইউনাইটেড অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান রাকিব আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জে এস গ্রামার হাইস্কুলের চেয়ারম্যান শামসুজ্জাহান বাদল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জে এস গ্রামার হাইস্কুলের শিক্ষিকা প্রিয়াংকা আক্তার সুমি, সিড ফাউন্ডেশনের শিক্ষিকা ডলি আক্তার সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের প্রতিটি শিশুরই সমানভাবে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। ঈদের আনন্দ শুধু বিত্তবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে।প্রধান অতিথি জনাব রাকিব আলী বলেন,“সমাজের প্রতিটি শিশুই ভালোবাসা ও মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রাখে। আমরা চাই, সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও ঈদের আনন্দ অনুভব করুক এবং নিজেদের এই সমাজের অংশ হিসেবে গর্বিত বোধ করুক।তিনি আরও বলেন,“মানবতার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সমাজের সবাই যদি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”প্রধান আলোচক শামসুজ্জাহান বাদল বলেন,“সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। শিশুদের এই আনন্দই আমাদের অনুপ্রেরণা। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”উপহার হাতে পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে অনাবিল আনন্দ। কেউ নতুন পোশাক বুকে জড়িয়ে ধরে হাসছিল, কেউ আবার অতিথিদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ভালোবাসা, আবেগ ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু শিশুদের হাতে উপহার তুলে দেয় না, বরং তাদের মনে নতুন স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসার অনুভূতিও জাগিয়ে তোলে।

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থল আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ সেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই নেই হৃদরোগ শনাক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ইসিজি (ECG) ও ইকো( Echo) মেশিন। ফলে হৃদরোগ, বুকে ব্যথা, স্ট্রোকের ঝুঁকি কিংবা হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ইসিজি ও ইকো মেশিন নয়— হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ডাক্তার সংকট, ওষুধ সংকট, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা, রোগীদের প্রতি অবহেলা এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান—ইসিজি ও ইকো  মেশিনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।হাসপাতালে গিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা : বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কোটি মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই শেষ ভরসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা আশা নিয়ে ছুটে যান সরকারি হাসপাতালের দিকে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করার সামর্থ্য অধিকাংশ মানুষের নেই।কিন্তু বাস্তবে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অনেক রোগীকেই শুনতে হয়—মেশিন নষ্ট, এই পরীক্ষা এখানে হয় না, ডাক্তার নেই, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হবে, অথবা “দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান।ফলে দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঋণ করছেন, গবাদিপশু বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ: মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে গেলে মনে হয় শুধু নামেই চিকিৎসা হয়। ডাক্তাররা কিছু সাধারণ ওষুধ লিখে দেন, কিন্তু বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে? হাসপাতালে যদি ওষুধই না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর ভরসা করবে কীভাবে?তিনি আরও বলেন—অনেক সময় রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। জরুরি রোগী হলেও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। মকবুল হোসেন বলেন—একটু জটিল রোগী হলেই বলা হয়— ‘দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান’। এখানে নাকি চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষ আসবে কেন?তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—অনেক রোগীকে রাতের বেলা রাজশাহী নিতে গিয়ে রাস্তায় আরও খারাপ অবস্থায় পড়তে হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল। আবুল কাশেম বলেন—অ্যাম্বুলেন্সে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে না— এমন অভিযোগ বহুদিনের। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে থেকে বের হতে হয়।তিনি আরও বলেন—সরকার কোটি কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ সেই সেবার সুফল পাচ্ছে না। জরুরি মুহূর্তে যদি অক্সিজেন বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিই না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?এক নারী রোগীর স্বজন রতন মল্লিক  বলেন--রাতে মহিলা রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলে খুব ভয় লাগে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, নার্সও কম থাকে। রোগীর কষ্ট দেখেও অনেক সময় কেউ দ্রুত এগিয়ে আসে না। এক বৃদ্ধ রোগীর অভিযোগ—আজিম উদ্দিন মন্ডল (৬৯) বয়স হয়েছে, টাকা-পয়সাও নেই। সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম একটু ভালো চিকিৎসা পাবো বলে। কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে গরিব মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, কিন্তু দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না।তিনি আরও বলেন—কিছু অসাধু ব্যক্তি কৌশলে রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করেন। এতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচের শিকার হন। সরকারি হাসপাতালে যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেগুলোও অনেক সময় বাইরে করতে বাধ্য করা হয়। তার অভিযোগ—ওষুধ সরবরাহ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা প্রায়ই বলেন, হাসপাতালে ওষুধ নেই। অথচ এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি খুব কম।তিনি আরও বলেন—হাসপাতালে জনবল সংকট আছে ঠিকই, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলাও রয়েছে। গোপনে তদন্ত হলে অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসতে পারে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন—পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সংকট, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সংকট এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবের কারণেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অধিকাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।একই সঙ্গে হাসপাতালের পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট সচল রাখতে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দেন তিনি।সোমবার (২৫ মে) বিকেলে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে আকস্মিকভাবে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, চিকিৎসা সেবা, ওয়াসরুম সহ অবকাঠামোগত অবস্থা পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এছাড়াও হাসপাতালের রন্ধনশালায় রোগীদের পরীক্ষামূরক খেয়ে দেখেন তিনি।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছেন। আমি হাসপাতালের পুরাতন ভবন ও অক্সিজেন প্ল্যান্টটির কথা বললাম। উনি কাজ করতে বলেছেন। আমি বলেছি এটা পুরানো ভবন, এটা ভাঙতে হবে। নতুন ভবন করতে হবে। অক্সিজেন প্ল্যান্টের বিদ্যুতের সাব-স্টেশন দিতে হবে। তিনি কাগজপত্র প্রস্তুত করে কাজ শুরু করতে বলেছেন। আর এটার সাথে ১০০ শয্যার কাজ করে ফেলব।”তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের সামনের রাস্তার ব্যাপারে আমি সওজের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তারা ব্যবস্থা নেবেন।”স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় সেটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবিও দীর্ঘদিনের। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরু ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. ফজলে রাব্বি, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মো. বশির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান, থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান।

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

প্রয়োজন ৪ লক্ষ টাকা / হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

১৩ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু অর্পিতা। এই বয়সে তার দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে এবং তার খাদ্যনালী ব্লক হয়ে আছে। তাকে বাঁচাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।অর্পিতার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া গ্রামে। তার বাবা বিষ্ট রঞ্জন সাহা একজন সাধারণ মানুষ। সন্তানের এমন দুরারোগ্য ব্যাধির কথা শুনে দিশেহারা পুরো পরিবার। দিনের পর দিন মেয়ের কষ্ট দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে তাদের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব অর্পিতার অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, অন্যথায় তাকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে জমানো সব সম্বল শেষ করেছেন অর্পিতার বাবা। এখন নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তারা।বিষ্ট রঞ্জন সাহা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি একজন বাবা, আমার সন্তানের এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। ডাক্তাররা বলেছেন ৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। আমার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি দেশের সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে আমার সন্তানকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।"আপনার সামান্য একটু সহায়তা হয়তো ছোট্ট অর্পিতার জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে সুস্থতার হাসি। দানশীল ব্যক্তিরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিচের বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠাতে পারেন:সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:বিকাশ নম্বর: ০১৩২৮৪২৪৭৮৫ (অর্পিতার বাবা - বিষ্ট রঞ্জন সাহা)একটি নিষ্পাপ প্রাণ বাঁচাতে আজই এগিয়ে আসুন। আপনার এই সহযোগিতা হয়তো একটি শিশুকে নতুন জীবন দিতে পারে।

শাহরাস্তিতে বিনামূল্যে ৪ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা সেবা

শাহরাস্তিতে বিনামূল্যে ৪ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা সেবা

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ইঞ্জিনিয়ার মকবুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে ৪ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বলশিদ হাজি আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মকবুল হোসেন জানান, ৪ শতাধিক রোগী দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে। এতে ২৫ জন রোগীকে অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়। এছাড়া রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে। যাদেরকে অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে তাদের সবাইকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঢাকায় নিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন করা হবে। এছাড়াও যাতায়াত থাকা খাওয়া সহ সকল ব্যয় ফাউন্ডেশন বহন করবে। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন জানান, পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উপজেলা জুড়ে আয়োজন করা হবে। বিকেল পর্যন্ত ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পত্র প্রদান করেন। 

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থল আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ সেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই নেই হৃদরোগ শনাক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ইসিজি (ECG) ও ইকো( Echo) মেশিন। ফলে হৃদরোগ, বুকে ব্যথা, স্ট্রোকের ঝুঁকি কিংবা হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ইসিজি ও ইকো মেশিন নয়— হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ডাক্তার সংকট, ওষুধ সংকট, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা, রোগীদের প্রতি অবহেলা এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান—ইসিজি ও ইকো  মেশিনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।হাসপাতালে গিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা : বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কোটি মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই শেষ ভরসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা আশা নিয়ে ছুটে যান সরকারি হাসপাতালের দিকে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করার সামর্থ্য অধিকাংশ মানুষের নেই।কিন্তু বাস্তবে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অনেক রোগীকেই শুনতে হয়—মেশিন নষ্ট, এই পরীক্ষা এখানে হয় না, ডাক্তার নেই, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হবে, অথবা “দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান।ফলে দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঋণ করছেন, গবাদিপশু বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ: মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে গেলে মনে হয় শুধু নামেই চিকিৎসা হয়। ডাক্তাররা কিছু সাধারণ ওষুধ লিখে দেন, কিন্তু বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে? হাসপাতালে যদি ওষুধই না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর ভরসা করবে কীভাবে?তিনি আরও বলেন—অনেক সময় রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। জরুরি রোগী হলেও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। মকবুল হোসেন বলেন—একটু জটিল রোগী হলেই বলা হয়— ‘দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান’। এখানে নাকি চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষ আসবে কেন?তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—অনেক রোগীকে রাতের বেলা রাজশাহী নিতে গিয়ে রাস্তায় আরও খারাপ অবস্থায় পড়তে হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল। আবুল কাশেম বলেন—অ্যাম্বুলেন্সে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে না— এমন অভিযোগ বহুদিনের। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে থেকে বের হতে হয়।তিনি আরও বলেন—সরকার কোটি কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ সেই সেবার সুফল পাচ্ছে না। জরুরি মুহূর্তে যদি অক্সিজেন বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিই না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?এক নারী রোগীর স্বজন রতন মল্লিক  বলেন--রাতে মহিলা রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলে খুব ভয় লাগে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, নার্সও কম থাকে। রোগীর কষ্ট দেখেও অনেক সময় কেউ দ্রুত এগিয়ে আসে না। এক বৃদ্ধ রোগীর অভিযোগ—আজিম উদ্দিন মন্ডল (৬৯) বয়স হয়েছে, টাকা-পয়সাও নেই। সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম একটু ভালো চিকিৎসা পাবো বলে। কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে গরিব মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, কিন্তু দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না।তিনি আরও বলেন—কিছু অসাধু ব্যক্তি কৌশলে রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করেন। এতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচের শিকার হন। সরকারি হাসপাতালে যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেগুলোও অনেক সময় বাইরে করতে বাধ্য করা হয়। তার অভিযোগ—ওষুধ সরবরাহ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা প্রায়ই বলেন, হাসপাতালে ওষুধ নেই। অথচ এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি খুব কম।তিনি আরও বলেন—হাসপাতালে জনবল সংকট আছে ঠিকই, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলাও রয়েছে। গোপনে তদন্ত হলে অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসতে পারে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন—পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সংকট, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সংকট এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবের কারণেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অধিকাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।