চীন-আসিয়ান বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার
ম্যানিলায় চীন-আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত (বৃহস্পতিবার) বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং চীন-আসিয়ান সম্পর্কের সমন্বয়কারী দেশ মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান। আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আসিয়ানের মহাসচিব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।ওয়াং ই বলেন, এ বছর চীন-আসিয়ান ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার পঞ্চম বার্ষিকী। উভয় পক্ষের নেতাদের যৌথ কৌশলগত নির্দেশনায় চীন-আসিয়ান সহযোগিতা উন্নত ও স্থিতিশীল হয়েছে। এর ফলে উভয় পক্ষের ২০০ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন এবং চীন-আসিয়ানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনের ভিত্তি আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন-আসিয়ান সম্পর্কের উন্নয়ন প্রমাণ করে যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসই সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তি, আন্তরিকতাই সহাবস্থানের পথ, উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সহযোগিতাই সাফল্যের ভিত্তি এবং উন্মুক্ততা ও অন্তর্ভুক্তিই সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। ওয়াং ই উল্লেখ করেন, চীন সম্প্রতি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। বিগত ১০৫ বছরে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ১৪০ কোটিরও বেশি চীনা জনগণকে নিরলস সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ ও নেতৃত্ব দিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করেছে এবং বিশ্বের উন্নয়ন প্রেক্ষাপটকে গভীরভাবে পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, একের পর এক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মানবজাতির অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনের মূল ধারণা এবং চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রস্তাব করেছেন। এর লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের ধারার সঙ্গে সঙ্গতি রাখা, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও শাসনের ঘাটতি মোকাবিলা করা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা।শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা ও পারস্পরিক লাভের নীতি সমুন্নত রাখতে, ঘনিষ্ঠতর সহযোগিতার মাধ্যমে এই অঞ্চলের সব দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করা থেকে শুরু করে উদীয়মান চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় আরও দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে ইচ্ছুক চীন। পাশাপাশি ‘পঞ্চ-গৃহ’ সম্প্রদায় গঠনে ক্রমাগত অগ্রগতি সাধনে আসিয়ানের সঙ্গে চীন কাজ করতেও ইচ্ছুক বলেও জানান ওয়াং ই। তার মতে, এর মাধ্যমেই এশিয়ার উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের চালিকাশক্তি, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার মডেল এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের ঐক্য ও আত্মনির্ভরশীলতার মানদণ্ড হিসেবে চীন-আসিয়ান সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।বৈঠকে ওয়াং ই চারটি পরামর্শ দেন। প্রথমত, এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নশীল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে; দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক উন্নয়নের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে হবে; তৃতীয়ত, উদ্ভাবনী ও সবুজ উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে হবে এবং চতুর্থত, জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি মেনে চলতে হবে।দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে চীনের নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করে ওয়াং ই বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর আমাদের অভিন্ন আবাস। চীন ও আসিয়ান দেশগুলোর দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যু যথাযথভাবে মোকাবিলা করে যাওয়ার মতো প্রজ্ঞা ও সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।তার মতে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর উচিত ‘দক্ষিণ চীন সাগরে পক্ষগুলোর আচরণ সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র’ (ডিওসি) কঠোরভাবে মেনে চলা এবং বহিরাগত শক্তির উসকানি প্রতিরোধ করা। সেইসঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনো একক দেশের কার্যকলাপের বিরোধিতা করা এবং এ অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখার উদ্যোগ দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে রাখা উচিত বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।ওয়াং ই বলেন, ‘এখন দক্ষিণ চীন সাগরে একটি আচরণবিধি (সিওসি) প্রণয়নের জন্য আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে, হস্তক্ষেপ দূর করতে হবে এবং লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে।’বিগত পাঁচ বছরে আসিয়ান-চীন ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্বের ফলপ্রসূ সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বৈঠকের সকল পক্ষ। সবাই এ ব্যাপারে একমত যে, চীন আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী। পাশাপাশি সংলাপ ও বাণিজ্যের বৃহত্তম অংশীদারও। বৈঠকে মানবজাতির অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনসংক্রান্ত চীনা ধারণা এবং এর চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগকে আসিয়ান পক্ষগুলো সমর্থন করে বলে জানান সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।সূত্র: লিলি-ফয়সল,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখের খোঁজে আলোচনা তুঙ্গে, বিএনপির তিন নেতা ও এক আমলা আলোচনায়
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি শিগগিরই পদ ছাড়তে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে সম্ভাব্য নাম হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম সামনে এসেছে। তারা হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান। রাজনৈতিক মহলে তাদের সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে এসব নাম আলোচিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক জ্যেষ্ঠ সচিবের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।সূত্রগুলোর মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদে কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে।সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আলোচনা চলছে।আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে বিএনপির কোনো নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ এবং দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ—এমন হিসাবও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। তবে এটিকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই সাংবিধানিক পদে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।অন্যদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো এখনো অনুমাননির্ভর। বাস্তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে জানেন কেবল শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা।সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও জল্পনা দুটোই বাড়ছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য নামগুলোকে আলোচনার পর্যায়েই রাখতে চাইছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, বিকেল ৫টায় স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা ও নানা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানাতে আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ-পরবর্তী জরুরি সংবাদ সম্মেলন বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) অনুষ্ঠিত হবে।উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। এরপর থেকে জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয় এবং এ দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কর্মসূচি ও আন্দোলনও অনুষ্ঠিত হয়।রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতার সূচনা হলো। এখন সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও অন্তর্বর্তী সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও
গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী
এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি