প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সড়কের ইট
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় আধা কিলোমিটার কাঁচা সড়কে ইট ও বালু ফেলে দ্রুত চলাচল উপযোগী করে তোলে। তবে সফর শেষে ওই সড়ক থেকে ইট অপসারণের ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি প্রস্তুত করতে ভাড়া করা ইট ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সেই ইট সরিয়ে নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কোনো স্থায়ী সড়ক নির্মাণকাজ ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়নকাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারি অর্থায়নে ভাড়া করা উপকরণ ব্যবহার করে এ ধরনের অস্থায়ী সড়ক নির্মাণের বিধান ও আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে জিয়াবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের কার্যাদেশও দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি কার্পেটিং করা হবে।জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে এসে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে তিনি তার পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ী পরিদর্শনে যান। সফরকে কেন্দ্র করে সড়কটিকে দ্রুত চলাচল উপযোগী করতে অস্থায়ীভাবে ইট ভাড়া নিয়ে সোলিং করা হয়।সংশ্লিষ্টর ব্যক্তিরা জানান, যেহেতু সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্প আগে থেকেই অনুমোদিত ছিল, তাই দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার উপযোগী করার পরিবর্তে সাময়িকভাবে ১০ লাখ টাকায় ইট ভাড়া নিয়ে বিছিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সফর শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে সেই ইট সরিয়ে নেওয়া হয়।এলজিইডির বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণের জন্য বরাদ্দ আগে থেকেই ছিল। সে কারণে অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত ইট পরে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ইটগুলো ক্রয় করা হয়নি; ভাড়াভিত্তিক ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়েছিল।এতে সরকারি অর্থের সাশ্রয় হয়েছে এবং স্থায়ী নির্মাণকাজে কোনো বাধা থাকছে না।অস্থায়ী সোলিংয়ের দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান বলেন, ‘এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী ভাটা থেকে ইট এনে সড়কে বিছানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই ইট আবার ভাটায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ এতে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় ছাড়া অতিরিক্ত কোনো অপচয় হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানান, প্রকল্পের আওতায় সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। কিছু জায়গায় সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা থাকায় কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং সড়কের পাশের সুরক্ষামূলক অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সড়কটির স্থায়ী উন্নয়নের অপেক্ষায় ছিল। এখন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ দৃশ্যমান হওয়ায় তারা আশাবাদী। অনেকেই মনে করছেন, সাময়িক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্থায়ী ও টেকসই সড়ক নির্মাণই এলাকার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে বাগবাড়ী ও জিয়াবাড়ী এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াত আরো সহজ হবে। ফলে এলাকাবাসী দীর্ঘ মেয়াদে এর সুফল ভোগ করতে পারবে।এদিকে সুশাসনের জন্য প্রশাসন (সুপ্র) বগুড়ার সম্পাদক কে জী এম ফারুক বলেন, একটি কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য দরপত্রপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে নতুন করে আর কোনো রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করার সুযোগ নেই। শুধু রাষ্ট্রীয় কোনো অতিথির সফরকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ব্যয় রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে কাঁচা সড়কে ইট বিছিয়ে প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়ায় চরম ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ কাজে সরকারি যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেখানো হোক, সেটার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে।
বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসায় সৌদি হজমন্ত্রী
বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর সঙ্গে সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল-রাবিয়াহ-এর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টার-এ অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অসাধারণ দক্ষতা, সুশৃঙ্খলতা এবং সফল সমন্বয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।ড. আল-রাবিয়াহ বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রীকে আন্তরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সফল হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন।বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী আগামী বছরের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব করতে সৌদি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।এ সময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) পবিত্র হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং হাজীদের সেবার মানোন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বিশেষভাবে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্মার্ট ভিড় ব্যবস্থাপনা, পরিবহন সমন্বয়, তথ্য-প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, মাশায়ের অঞ্চলে সেবার সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করেন।ধর্মমন্ত্রী আরও জানান যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র হজ সফলভাবে আয়োজন এবং বিশ্বের লাখো হাজীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিত করার জন্য পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, এবং সৌদি সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন।ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর মেহমানদের সেবায় সৌদি আরব যে দূরদর্শী নেতৃত্ব, আন্তরিকতা ও বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি আশ্বাস দেন যে, হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও সৌদি আরবের পাশে থাকবে।বৈঠকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন, কাউন্সিলর (হজ) মোঃ কামরুল ইসলাম এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজুল আলম খানের নাম , বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ
হাকিকুল ইসলাম খোকন : গত মঙ্গলবার,৯ ই জুন ২০২৬, বিকাল সাড়ে ৭টায় নিউইয়র্ক এর জ্যামাইকা ষ্টার কাবাব রেষ্টুরেন্টে ,নিউক্লিয়াস ও বিএলএফ এর প্রতিষ্ঠাতা ,স্বাধীন বাংলার অন্যতম রুপকার , সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধের প্সংগঠক সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় প্রয়ান দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। খবর আইবিএননিউজ ।সভায় সভাপতিত্ব করেন সিরাজুল আলম খান সৃতি পরিষদ নিউইয়র্কের সভাপতি ডা:মুজিবুল হক। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দীন। সভার শুরুতে মরহুমের সৃতির প্রতি এবং ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন,১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ,১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট,৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাসহ আজ পর্যন্ত সকল গনতন্ত্রীন আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান ,সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাঈদ তারেক ,এডভোকেট মুজিবুর রহমান,বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস,লিগ্যাল কনসালটেন্ট এডভোকেট মুজিবুর রহমান,অধ্যাপক ও কলামিস্ট হুসনে আরা,বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ,সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন,জেএসএফ সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন,সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কবি ছালেহা ইসলাম,অধ্যাপক শেখ মিজান ,আজিজুর রহমান ,এম আব্দুল কাদের,দীপন গাজী ,এম নজরুল ইসলাম , আবুল হোসেন ,, আব্দুর রহিমপ্রমুখ নেতৃবৃন্দ । বক্তারা সিরাজুল আলম খানের ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে বলেন ,তিনি একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্র জীবনে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংক শাস্ত্রে অনার্স পাশ করলেও সেই সময় " কনভেকশোনেল মুভমেন্টে "যোগদানের কারণে কারাবরণ ওবিশ্ববিদ্যালয় এবং হল থেকে বহিষ্কার করায় মাষ্টার্স সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজনীতি ও সমাজ বিজ্ঞান সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ছিল অসীম লেখাপড়া। সে কারনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিতেন। তিনি ছিলেন আজীবন দেশের মানুষ ও জনগণের জন্য একজন নিবেদিত প্রান পুরুষ।১৯৬৩ সালের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদের পর তিনি আর কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেননি। কিন্তু মূল সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সারাজীবন ছিলেন একজন অগ্রসর রাষ্ট্র চিন্তা শীল ব্যক্তি। যে কারনে ই '৬৩ সালেই আব্দুর রাজ্জাক , কাজী আরেফ আহমদকে নিয়ে স্বাধীন বাংলার নিউক্লিয়াস গঠন করেন। এবং তাদের নেতৃত্বেই '৬৬সালের ছয় দফা ৬৯ এর গন অভ্যুত্থান ,,এবং ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধের সময় বি এল এফ গঠন করে শসস্র যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছিলেন। তাদের চিন্তার কারনেই পাকিস্তানের আপোষকামী ধারা থেকে বেরিয়ে বাংগালীর মুক্তির জন্য আলাদা রাষ্ট্র করেন। এবং সাম্য ,গনতন্ত্র,সামাজিক ন্যায় বিচার,ও মূল্যবোধ ইত্যাদি সংযোজন করে মুজিব নগর সরকারের পক্ষথেকে "ডিকলারেশন অব ইনডিপেনডেন্স "ঘোষনা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর মানুষের আশা আকাংখা বাস্তবায়নের জন্য বৃটিশ ভাবধারার দুর্নীতিবাজ আমলা তন্ত্রের পরিবর্তে দেশ গড়ার অংগিকার নিয়ে একটি বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করে ছিলেন। কিন্তু বংগবন্ধু ,, আওয়ামী লীগ সে দিন ,সিরাজুল আলম খান সহ তরুন মেধাবী ও সাহসী যুক্তিযোদ্ধাদের কথা না শুনে বৃটিশ ,,পাকিস্থানের সেই প্রশাসন দিয়ে ই দেশ শাসন শুরু করলেন। বরং যারা এই প্রস্তাবনা করেন ,তারাই বংগবন্ধুর বিরাগভাজন হন। যে কারনেই ৭২সালের ৩১ অক্টোবর জাসদের জন্ম হয়। পথহারা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ,,এবং জাসদের অস্থির রাজনীতির কারনে ই স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর পরে ও দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। সিংগাপুর ,মালয়েশিয়া সহ পৃথিবীর অনেক দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হওয়ার পর ও অনেক উন্নত। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে ,,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ,ইতিহাস ,ন্যুনতম প্রতিষ্ঠা হয়নি। বরং ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে দিয়ে ৭১ এর পরাজিত শত্রুরা ক্ষমতায় আসার পায়তারা করছে। আমাদের মধ্যে অনৈক্য ভূল চিন্তাধারা ,রাষ্ট্রপরিচালনায় চরম ব্যার্থতার ঘুষ,দুর্নীতি ,রাষ্ট্রের সম্পত্তি লুটপাট ,ব্যাংকের টাকা বিদেশে টাকা পাচারের মাধ্যমে দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলা হচ্ছে। রাষ্ট্র চিন্তাবিধ সিরাজুল আলম খান জাতীর স্বার্থে বিভিন্ন সময় লেখনীর মাধ্যমে জাতির দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতাশীনদের বুঝতে অসুবিধে ,, অথবা হীনমন্যতার কারনে তার চিন্তা ধারাকে আমলে নেওয়া হয়নি। তা' নাহলে নব্বইয়ের দশকে প্রথম দিকে তিনি ,রাষ্ট্র কাঠামো ও শাসন ব্যবস্থা সম্বলিত ১৪ দফা কর্মসূচি প্রনয়ন করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল জাতীয় সংসদে দু কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ,(৩০০+২০০ মোট ৫০০ আসনের )। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ,সংবিধানের ৭০ ধারা সহ কালা কানুন বাতিল করে সংবিধান সংস্কার ,,বাংলাদেশকে ৭/৯ টি প্রদেশে বিভক্ত করে আমলাতন্ত্র মুক্ত ,নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা দেশ পরিচালনা করতে হবে। নির্বাচন কালীন সরকার ,স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন ,স্থায়ী জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন ,মাইক্রো ক্রেডিট ,,এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের জন্য সিরাজুল আলম খানের প্রস্তাবনা পয়তাল্লিশ বছর আগে ছিল। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নাম না বলে (দাদার)কিছু দফার আলোচনা ও করলেও কিন্তু বর্তমান বি এন পি সরকার তা বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপ নিবে বলে মনে হয় না। এই সরকার সেই পুরনো পথেই হাটছে। তাদের সুবিধাজনক ভাবে রাষ্ট্রকে জনগণের শোষণ ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে চিরস্থায়ী ক্ষমতায় থাকার জন্য যা করার সব কিছুরই পদক্ষেপ নিচ্ছে । মানুষ ভূলের উর্ধ্বে নয়। সিরাজুল আলম খান ব্যতিক্রম ছিলেন না। কিন্তু আমরা জাতির স্বার্থে তার জীবনের ভালো দিক গুলো আলোচনা ও বাস্তবায়নের উদ্দোগে নিতে পারি। তিনি জীবনে কখনো ভোগের রাজনীতি করেন নাই। জাতীর সামনে ত্যাগের রাজনীতির এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। ঢাকার সাধারণ একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মৃত্যু বরন করেন। তার কোন বাড়ি ,গাড়ি ,ব্যাংক একাউন্ট ,পরিবার উত্তরাধিকার ,কিছু ই রেখে যাননি। রেখে গেছেন বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ । তার অছিয়ত অনুযায়ী ,"কোন শোক সভা নয় ,পূষ্পমাল্য বা শহীদ মিনারে লাশের ডিসপ্লে নয় , মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনারও চাননি। শুধু মায়ের একটা সাদা শাড়ি দিয়ে মুড়ে গ্রামের বাড়িতে ম/ বাবার কবরের পাশে যেন পুতে দেওয়া হয় "।তাই হয়েছে। এইসব ক্ষনজন্মা মানুষের ইতিহাস আমাদের স্কুল ,কলেজ, পাট্য পুস্তকে সংযোজন করা একান্ত জরুরী। তবে ই আগামী প্রজন্ম খাটি দেশ প্রেমিক হয়ে গড়ে উঠবে । সভায় সর্ব সম্মতি ক্রমে ,বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোহাম্মদ মতিউর রহমান কে সভাপতি এবং হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন কে সম্পাদক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজুল আলম খান সৃতি পরিষদ,,নিউইয়র্ক। আগামী দুই বছরের জন্য কমিটি গঠন করা হয়।সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি করা হয়।সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লায়ন এডভোকেট মতিউর রহমানকে সভাপতি ও জেএসএফ সংগঠক হাজী আনোয়ান হোসেন লিটনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় আগামী দুই বছরের জন্য এবং দূত একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য আহ্বান জানানো হয় ।নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাপসনিউজকে জানান তারা অতিশিগগিরই নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করবেন ।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা জাহেদ। আপনি ও কি তাই মনে করেন?
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব
প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি
প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে জেএ টিভির প্রতিনিধি কর্মশালা অনুষ্টিত