মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখের খোঁজে আলোচনা তুঙ্গে, বিএনপির তিন নেতা ও এক আমলা আলোচনায়

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি শিগগিরই পদ ছাড়তে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে সম্ভাব্য নাম হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম সামনে এসেছে। তারা হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান। রাজনৈতিক মহলে তাদের সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে এসব নাম আলোচিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক জ্যেষ্ঠ সচিবের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।সূত্রগুলোর মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদে কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে।সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আলোচনা চলছে।আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে বিএনপির কোনো নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ এবং দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ—এমন হিসাবও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। তবে এটিকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই সাংবিধানিক পদে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।অন্যদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো এখনো অনুমাননির্ভর। বাস্তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে জানেন কেবল শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা।সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও জল্পনা দুটোই বাড়ছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য নামগুলোকে আলোচনার পর্যায়েই রাখতে চাইছেন সংশ্লিষ্টরা।

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, বিকেল ৫টায় স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা ও নানা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানাতে আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ-পরবর্তী জরুরি সংবাদ সম্মেলন বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) অনুষ্ঠিত হবে।উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। এরপর থেকে জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয় এবং এ দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কর্মসূচি ও আন্দোলনও অনুষ্ঠিত হয়।রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতার সূচনা হলো। এখন সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও অন্তর্বর্তী সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, বিকেল ৫টায় স্পিকারের জরুরি সংবাদ সম্মেলন

সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ, আজ হিপ রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচার

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য  কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার কারণে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে তাঁর টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট (হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন) অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জন ডা. ডরেন তাই ক্যেং জিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করবেন।অস্ত্রোপচারের আগে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ এক বার্তায় দলীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশবাসীর কাছে নিজের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।এদিকে ধর্মমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য ও পূর্ণ সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক বিবৃতিতে দেশের সর্বস্তরের আলেম-উলামা, তৌহিদী জনতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর রোগমুক্তির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করার আহ্বান জানান।বিবৃতিতে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, “ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ একজন দীনদার, দেশপ্রেমিক ও মানবহিতৈষী মানুষ। মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি, তিনি যেন তাঁকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং পুনরায় দেশ ও জনগণের সেবায় ফিরে আসার তাওফিক দান করেন।”ধর্মমন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় বৃহস্পতিবার বাদ আসর চট্টগ্রামের জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসা মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা, জামিয়া ওবায়দিয়া নানুপুর, জামিয়া আরাবিয়া জিরি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া, জামিয়া ইউনুছিয়া এবং কুমিল্লার আশরাফুল উলুম মাদরাসাসহ দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।উল্লেখ্য, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ, আজ হিপ রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচার
রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখের খোঁজে আলোচনা তুঙ্গে, বিএনপির তিন নেতা ও এক আমলা আলোচনায়

রাষ্ট্রপতি পদে নতুন মুখের খোঁজে আলোচনা তুঙ্গে, বিএনপির তিন নেতা ও এক আমলা আলোচনায়

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি শিগগিরই পদ ছাড়তে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে সম্ভাব্য নাম হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম সামনে এসেছে। তারা হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান। রাজনৈতিক মহলে তাদের সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে এসব নাম আলোচিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক জ্যেষ্ঠ সচিবের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।সূত্রগুলোর মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদে কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে।সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আলোচনা চলছে।আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে বিএনপির কোনো নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ এবং দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কাউকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ—এমন হিসাবও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। তবে এটিকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই সাংবিধানিক পদে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।অন্যদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো এখনো অনুমাননির্ভর। বাস্তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে জানেন কেবল শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা।সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও জল্পনা দুটোই বাড়ছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য নামগুলোকে আলোচনার পর্যায়েই রাখতে চাইছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব এআই মঞ্চে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেখাল চীন

বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের চলতি বছরের আসরে উন্মোচিত হলো চীনের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল কিমি কে-৩। ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন প্যারামিটারযুক্ত মডেলটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন-সোর্স মডেল। এআই খাতে চীনের ধারাবাহিক অগ্রগতির আরেক মাইলফলক হয়েছে এটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এতে করে দেশটির সামগ্রিক এআই সক্ষমতায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে চীন তার উন্নয়নের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সাফল্য বিশ্বের সঙ্গে ভাগও করে নিচ্ছে।চীনের বেশ কয়েকটি বৃহৎ ওপেন-সোর্স মডেল ধারাবাহিক ও সমন্বিত অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এগুলো বৈশ্বিক এআই উন্নয়নে দিচ্ছে নতুন সমাধান ও পথের সন্ধান। সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ডনিং ৮০০০ (সামিট)’ সিস্টেম। এটি চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম ১ লাখ জিপিইউ-সমৃদ্ধ এআই সুপারক্লাস্টার। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, বৃহৎ পরিসরের দেশীয় কম্পিউটিং শক্তি এখন শুধু তৈরির পর্যায়ে আটকে নেই, বরং তা কার্যকর ব্যবহার, ব্যাপক আকারে পরিষেবা প্রদান এবং প্রতিলিপিযোগ্যতার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।‘সুপার-ইন্টেলিজেন্ট ফিউশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডনিং ৮০০০ (সামিট)। প্রচলিত বিভাজনভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে এটি বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটিং শক্তির সমন্বিত ব্যবহারে গুরুত্ব দেয়। ২০টিরও বেশি ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা সিস্টেমটি জাতীয় সুপারকম্পিউটিং ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের কম্পিউটিং পরিষেবা দিচ্ছে।সম্মেলনে প্রদর্শিত একটি স্মার্ট ফার্মেসি রোবট মাত্র ৭০ সেকেন্ডে ওষুধ শনাক্ত, বাছাই ও সরবরাহ করতে পারে। পরিবেশ বুঝে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিপুণ পরিচালনার মতো একাধিক সক্ষমতা নিশ্চিত করেছে এই রোবটের কার্যকারিতা।‘এক মস্তিষ্ক, একাধিক যন্ত্র’ প্রযুক্তির ক্রমাগত বিকাশের ফলে রোবটগুলো আরও স্পষ্টভাবে দেখতে, চিন্তা করতে এবং আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারছে। এসব রোবট এখন আর শুধু গবেষণাগার বা প্রদর্শনী বুথে সীমাবদ্ধ নেই। শাংহাইয়ের বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং রাতের শিফটেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।সম্মেলনে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন আরেকটি এআই রোবট বিশেষ নজর কেড়েছে। মাল্টিমোডাল পারসেপশন, দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি এবং আবেগ বোঝার সক্ষমতাসম্পন্ন এই রোবট ইতোমধ্যেই দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষকে সঙ্গ দিতে পারছে।জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগিতা ও উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা’ প্রকাশ করেছে। এতে এআই খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল বৈষম্য কমানো এবং এআই-সমর্থিত টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করার বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই-সম্পর্কিত বিশেষায়িত ক্ষেত্রে ৫ হাজার প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করবে চীন। একই সঙ্গে আসিয়ান, আরব লীগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, সিইএলএসি, এসসিও ও ব্রিকস দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক এআই প্রয়োগ সহযোগিতা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।জাতিসংঘের সর্বজনীন আগাম সতর্কীকরণ উদ্যোগের প্রতি সাড়া দিয়ে চীনের তৈরি বুদ্ধিমান আবহাওয়া-সংক্রান্ত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ‘মাচু’ এখন বিশ্বের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ভবিষ্যতে ‘মাচু’ ব্যবস্থার প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ৩০টি দেশের।চীন এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লবের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ এআই পেটেন্টের অধিকারীও চীন। দায়িত্বশীল বড় দেশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গণপণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রেখেছে দেশটি।২০২৬ সালের বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে চীনের এআই শিল্পে একের পর এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন উঠে এসেছে। সম্মেলনে প্রদর্শিত এসব বিস্ময়কর সাফল্য শুধু প্রদর্শনী বুথের চোখধাঁধানো প্রযুক্তি নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ভবিষ্যৎ জীবনের দরজা খুলে দেওয়ারও চাবিকাঠি।  সূত্র: লিলি-ফয়সল,চায়না মিডিয়া গ্রুপ ।

ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিএনপির মানববন্ধন; যোগদানপত্র প্রত্যাহারের দাবি, আইনের সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় নেতা সাইদুর রহমান লিটল / হত্যা মামলার আসামি চেয়ারম্যানের যোগদান ঘিরে উত্তাল দেবিদ্বার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মাসুদের চেয়ারম্যান পদে যোগদানকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তার যোগদানপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।বিক্ষোভকারীদের দাবি, ৫ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে নিহত রুবেল হত্যা মামলার একজন আসামিকে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হলে তা আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তারা অবিলম্বে যোগদানপত্র প্রত্যাহার এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানান।কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটল বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কর্মসূচি নয়। এটি নীতি, জবাবদিহি এবং ৫ আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন।”তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ প্রত্যাশা করেছিল। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।লিটল বলেন, “যারা জাতীয় পর্যায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমরা তাদের সম্মান করি। কিন্তু গণতন্ত্রে কোনো নেতৃত্বই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। জনগণের প্রশ্নের জবাব দেওয়াই গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম শর্ত।”তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় পর্যায়ে এক ধরনের নীতির কথা বলা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তার ব্যত্যয় ঘটছে। এতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে।ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মাসুদকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে যে অভিযোগ, মামলা ও বিতর্ক রয়েছে, সেগুলো নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিচার অবশ্যই আদালত করবেন। তবে জনগণের কাছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জবাবদিহি করতে হবে রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই। রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই আইনের প্রয়োগে ভিন্ন মানদণ্ড সৃষ্টি করতে পারে না।”তিনি আরও বলেন, “সংসদে এক নীতি আর নির্বাচনী এলাকায় আরেক নীতি চলতে পারে না। নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় কঠিন সময়ে নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করার মাধ্যমে। নীতি হবে এক, আইন হবে এক, বিচারও হতে হবে সবার জন্য সমান।”মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগকে সামনে রেখে দেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দ্বৈত মানদণ্ড পরিহার করা জরুরি। তারা প্রশাসনের প্রতি বিচারাধীন মামলার দ্রুত অগ্রগতি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্যসচিব আব্দুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ মিয়া, দেবিদ্বার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, মো. মনির, মো. কবির, বিএনপির নেতা বুলু পাঠান এবং উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লাসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। এতে মো. কামরুজ্জামান মাসুদের যোগদানপত্র প্রত্যাহার, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।দেবিদ্বারের এ কর্মসূচি স্থানীয় একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় আইনের সমতা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
প্রধান শিক্ষক মাসহুরার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিস্তর অভিযোগ

প্রধান শিক্ষক মাসহুরার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিস্তর অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ের ফ্রীড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরার) বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে ও অর্থ বাণিজ্যসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিস্ট দপ্তরে বেশকয়েকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। আর প্রশাসন বলছেন, ক্ষমতা স্বল্পতা থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুতই কার্যত প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) শাখায় শিক্ষকদের একাধিক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে নতুন করে সতেরো জন নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই সতেরো জন শিক্ষক-কর্মচারির কাছ থেকে অর্থ বাণিজ্যিকরণ, সময়মত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দেয়া, প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারের দেয়া বেশকিছু লেপটপ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, সরকারের দেয়া বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়।শুধু তাই নয় প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশনা ও সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানছেন না। একই সাথে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমত কোনমতে দায়সারছেন প্রতিষ্ঠানের। একের পর এক অভিযোগ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট দপ্তরে জমা পড়লেও কার্যত ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা সৃষ্টির পাশাপাশি মারমুখি আচরণে লিপ্ত হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। অভিযোগকারীদের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের বেশকয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) একজন মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী। সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এলাকায় জেলা শহরে অবস্থিত এই প্রতিবন্ধী স্কুলে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে কেক কাটেন এমন অভিযোগ সদর থানা পুলিশ অভিযান চালায়। স্কুলটিতে তার ভাই-ভাবিসহ পরিবারের ৯ জনকে নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন। আর সেকারণেই রাজত্ব কায়েম করছিল। তার অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলতে গিয়ে নানাভাবে নির্যাতিত হয় অন্যান্য শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে বাঁধা প্রদান করছেন। উপায় না পেয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় জেলা প্রশাসকের সংশ্লিস্ট দপ্তরে। তারপরেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রদক্ষেপ না নিলে প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবরে পরার আশঙ্কার পাশাপাশি শিক্ষক কর্মচারিরা পথে বসবে বলে জানান প্রতিষ্ঠান সংশ্লিস্টরা।অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) সব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে ঠিক করেনি। আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা যদি পারে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) দায়িত্বে থাকা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তিনি কোন কথাই কর্নপাত করছেন না। ক্ষমতা স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসন থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময় লাগছে। প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে লিখিত জবাব প্রেরণের। দ্রুতেই সময়ের মধ্যে না দিলে তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও

সমাজের প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন "বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেজ)" প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৯ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুজাউদ্দৌলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকার সহকারী পরিচালক তাসলিমা খাতুন। সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকার উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৫, আজিমপুরের সমাজসেবা অফিসার মো. জহির উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, খাগড়াছড়ির উপপরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালীউল্লাহ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, যশোরের সমাজসেবা অফিসার (রেজি.) মো. আব্দুল কাদের, প্রশিক্ষকবৃন্দ এবং পৌর সমাজকর্মী সোহেল রানা।বক্তারা বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ শুধু নিজের কর্মসংস্থানই নিশ্চিত করতে পারেন না, বরং পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবীর প্রত্যেককে এককালীন ১৮ হাজার টাকা অনুদান এবং প্রশিক্ষণ সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা এ উদ্যোগকে তাদের আত্মনির্ভরশীল জীবনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান / রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট তৈরি করে রাখার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার জাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমা।অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, রোগী আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য আসার আগেই বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখা হতো। পরে রোগীর নাম ও পরিচয় যুক্ত করে তা সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইউরিনের নমুনা সংরক্ষণ এবং রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় থার্মোমিটার না রাখাসহ আরও কয়েকটি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।অভিযানে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি দিয়ে কাজ করান নিজের জমিতে / হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থলীর কাজ করানো এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিন্মমানের ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে  লেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ➡️ হাজিরা দিয়ে চেম্বারে না থেকে চলে যান মাঠে। ➡ডাক্তারের জমিতে বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে করান কাজ। ➡️ যাতায়াতে সব সময় ব্যবহার করেন বিক্রয় প্রতিনিধির গাড়ি। ➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিরোধের নিকট থেকে গিফট ও উৎকোচ গ্রহণ। ➡️ হাসপাতালে বসে ব্যবস্থাপত্রে নিম্নমানের ঔষধ লিখেন। ➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিদেরকে দিয়ে মাঠে ও ব্যক্তিগত কাজ করানোর মধ্য দিয়ে অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন ডাক্তার। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জোভেনটেক লাইফ  সাইন্স নামক ঔষধ কোম্পানির উপজেলা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার মারুফ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে আসেন ডাক্তার অরুন। এরপর  প্রশাসনিক ভবনে থাকা পাঞ্চ মেশিনে ৮.৩০ মিনিটে  হাজিরা দিয়ে একই মোটরসাইকেল উঠে চলে যান হাসপাতাল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নিজের জমিতে। সেখানে গিয়ে ওই বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে নিজের বাগান পরিচর্যা ও বিভিন্ন ধরনের কৃষিকাজ করান। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে নিজের জমিতে ও ব্যক্তিগত নানা কাজ করান। যার প্রমান হাসপাতালে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখলেই পাওয়া যাবে। কিং ফার্মা নামে আরেকটি ওষুধ কোম্পানির এম পি ও মেহেদী হাসানকেও তিনি একইভাবে ব্যক্তিগত কাজে লাগান। এমনকি হাসপাতালে নিজের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় সামলানোর কাজও এই বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে তিনি করে থাকেন। এরকম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা তার কৃষিকাজ সহ গৃহস্থলীর কাজ করে থাকেন। প্রতিদানস্বরূপ তিনি রোগীদের অপ্রয়োজনীয় এবং নিন্মমানের কোম্পানির ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন, যা সাধারণ রোগীদের আর্থিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু তাই নয় কাছের কিছু বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে নানা ধরনের আর্থিক ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন ডাঃ অরুন কুমার দাস। নিয়মিত অফিস ফাকি দিয়ে এভাবে চললেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসব দেখেন না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অরুন কুমার দাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই  প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এমনটি আমি নিয়মিত করি না। বিশেষ কারনে বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে বাইরে গিয়েছি। ভুল হয়েছে, আর কখনো যাবো না। অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে বিক্রয় কর্মীদের দিয়ে কাজ করানোর  বিষয়ে  উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, চিকিৎসা সেবার মতো স্থানে এমন অনিয়ম ও পেশাগত দায়িত্বহীনতার বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানাব।ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষটি আমি জানতে পেরেছি,খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

বরুড়ায় সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ: ডাক্তারকে কৈফিয়ত তলব

বরুড়ায় সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ: ডাক্তারকে কৈফিয়ত তলব

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এক সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ ও হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মুহাম্মদ নাহিদ হোসাইনের কাছে লিখিত কৈফিয়ত তলব করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আনজার শাহ। এ সময় নিজের পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পরও ডাঃ নাহিদ হোসাইন তাঁর সাথে যথাযথ আচরণ না করে অসদাচরণ করেন এবং তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা বিষয়টি মৌখিক ও লিখিতভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ আকারে দাখিল করেন।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আচরণ একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণ এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার সম্পর্কিত পরিপন্থী। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডাঃ নাহিদ হোসাইনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক কৈফিয়ত তলব পত্র প্রেরণ করেন। চিঠিতে ঘটনার বিষয়ে সুস্পষ্ট, বিস্তারিত ও লিখিত ব্যাখ্যা পত্র প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে দপ্তরে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই কৈফিয়ত তলব পত্রের অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং কুমিল্লার সিভিল সার্জন বরাবর।স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সিভিল সার্জন সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতাল গেট ও আশপাশে ভাসমান ডাস্টবিন নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা দেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ধারাবাহিকতায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের সাথে ঘটে এই অনভিপ্রেত ঘটনা।স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সুশীল সমাজ এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের সৌজন্যমূলক ও শালীন আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে অনেকে মনে করছেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে এ ধরনের জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের লিখিত কৈফিয়ত পর্যালোচনা করবে কর্তৃপক্ষ।

বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্তের আশা

বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্তের আশা

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মানুষের জন্য সুখবর। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এ খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।ইতিমধ্যে  ১০১ শয্যা উন্নতি করনের চিঠি স্বাস্থ্য  মন্ত্রানালয় থেকে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।বর্তমানে হাসপাতালের সাইনবোর্ডে ৫০ শয্যার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে মাত্র ৩১ শয্যা নিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। অনেক রোগীকেই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে রোগীদের জন্য শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, নতুন জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। এতে বরুড়া উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করবেন।স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এটি বরুড়ার স্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা দ্রুত প্রকল্পের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ ১০১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।এদিকে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের খবরে বরুড়াবাসী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান / রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট তৈরি করে রাখার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার জাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমা।অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, রোগী আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য আসার আগেই বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখা হতো। পরে রোগীর নাম ও পরিচয় যুক্ত করে তা সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইউরিনের নমুনা সংরক্ষণ এবং রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় থার্মোমিটার না রাখাসহ আরও কয়েকটি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।অভিযানে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।