মুক্তির লড়াই

ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন ৪০২ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৯৪ জন। বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার তালিকায় সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিল মোটরসাইকেল।বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হন। একই সময়ে ৩১টি রেল দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত এবং ১৭টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪০ জন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ঈদের সময়ে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের হার ছিল ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ২১ শতাংশ, বাস ১৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ, অবৈধ ব্যাটারিচালিত যান ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, কার ও মাইক্রোবাস ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, নছিমন-করিমন ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং সিএনজি অটোরিকশা ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ।গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন।দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কার ঘটনায়, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এবং বাকিগুলো অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে বৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া গর্ত, ভাঙাচোরা অবকাঠামো, চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতা এবং বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল চলাচল দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়া চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একটানা ও বিশ্রামহীনভাবে চালানো হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।তিনি জানান, ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার পর ৮০ জন চালক জনরোষের শিকার হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, ৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৩ জন শিক্ষক, ১ জন চিকিৎসক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে— জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবাধ চলাচল, সড়কে রোড সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, মিডিয়ান ও ডিভাইডার না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, উল্টোপথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি এবং দীর্ঘ সময় বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো।প্রাণহানি কমাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা চালু করা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট, ফিটনেস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে।সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, যাত্রী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর কবির লিটুসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড: মাত্র ১৯ দিনেই বিচার সম্পন্ন, নজিরবিহীন দ্রুততায় রায়

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এই মামলার রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন নাগরিকরা।রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং রায় ঘোষণার আগে এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারক রায়ের বিস্তারিত অংশ পাঠ শুরু করেন।দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে, যা বিচারিক অঙ্গনে বিরল এক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ১৯ মে সংঘটিত হয় হৃদয়বিদারক এ ঘটনা। পরদিন রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতা ও লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। মাত্র চার দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা। পরে ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন তাকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যান। কিছু সময় পর মেয়েকে স্কুলে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের বাসার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে।নৃশংসতা, বর্বরতা ও মানবিক মূল্যবোধকে নাড়িয়ে দেওয়া এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও রায়ে একদিকে যেমন ক্ষতবিক্ষত পরিবার কিছুটা ন্যায়বিচারের আশ্বাস পেয়েছে, অন্যদিকে শিশু নির্যাতন ও নারী-শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড: মাত্র ১৯ দিনেই বিচার সম্পন্ন, নজিরবিহীন দ্রুততায় রায়

ছয় দফা থেকে স্বাধীনতা: ইতিহাসের অমোঘ মহাকাব্য

১৯৬৬ সালের ৭ জুন বাঙালির ইতিহাসে কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানোর দিন নয়, এটি ছিল পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের কৃত্রিম ও অন্যায্য কাঠামোর ভেতরে শোষিত এক জাতির পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর দিন। আজ সেই ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। ৬০ বছর আগের এই দিনে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া কেঁপে উঠেছিল স্বাধিকারের তীব্র দাবিতে। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পদ্ধতিগত শোষণ, চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ঔপনিবেশিক মানসিকতার বিরুদ্ধে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মতো কিংবদন্তি নেতারা আজীবন লড়াই করেছেন। তবে ষাটের দশকে এসে সেই দীর্ঘ সংগ্রামকে একটি সুনির্দিষ্ট, কাঠামোগত এবং আপসহীন রূপ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে তিনি উত্থাপন করেন ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি, যা দ্রুতই রূপ নেয় বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক মুক্তির ‘ম্যাগনা কার্টা’ বা মুক্তির সনদে। এই কর্মসূচির মূল দর্শনটাই ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার-পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সম্পদ, রাজনীতি আর নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে এ অঞ্চলের মানুষের হাতেই। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী একে রাষ্ট্রের অখণ্ডতার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেয়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগের ডাকা দেশব্যাপী সর্বাত্মক হরতালে। সেই দিন স্বাধিকারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসা হাজারো মানুষের ওপর টঙ্গী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআর নির্বিচারে গুলি চালালে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন বীর বাঙালি শহীদ হন। এই রক্তের দাগই পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের চরিত্রকে চিরতরে ড্রয়িংরুমের রাজনীতি থেকে বের করে শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও সাধারণ পেশাজীবীদের গণ-আন্দোলনে পরিণত করে এবং বাঙালি জাতিকে আপসহীন সংগ্রামের ধারায় ধাবিত করে।ইতিহাসের আলোকে এই ছয় দফার প্রতিটি দিক গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি ছিল মূলত পাকিস্তানের সংবিধানের ভেতরে থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার এক চরম গণতান্ত্রিক লড়াই। কর্মসূচির প্রথম দফায় ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকারের ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়, যেখানে সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির এবং আইনসভা নির্বাচিত হবে প্রাপ্তবয়স্কদের সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে; যা মূলত আইয়ুব খানের 'বেসিক ডেমোক্রেসি' বা নিয়ন্ত্রিত একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতার মূল উৎস জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার রাজনৈতিক চাবিকাঠি ছিল। দ্বিতীয় দফায় বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে কেবল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়, এবং বাকি সব ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে; যার উদ্দেশ্য ছিল করাচি বা ইসলামাবাদে পুঞ্জীভূত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটিয়ে পূর্ব বাংলার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঔপনিবেশিক শাসন খর্ব করা। অত্যন্ত সংবেদনশীল অর্থনৈতিক দিকটি প্রতিফলিত হয়েছিল তৃতীয় দফায়, যেখানে দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক কিন্তু সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা রাখার দাবি করা হয়, অথবা পুরো দেশের জন্য একটিই মুদ্রা থাকলে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয় যাতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন বা পুঁজি পাচার হতে না পারে; কারণ ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলার পাট ও চা বিক্রি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে গড়ে উঠছিল করাচি ও লাহোরের মতো শহর, আর এই দফাটি ছিল বাঙালির নিজস্ব অর্থ ব্যবস্থার এক অনন্য রক্ষাকবচ। চতুর্থ দফায় কর, শুল্ক বা রাজস্ব ধার্য এবং আদায়ের কোনো ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে না রেখে তা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে দেওয়ার দাবি করা হয়, যেখান থেকে আদায়কৃত রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেডারেল সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য তহবিল হিসেবে জমা হবে; কারণ তৎকালীন সময়ে সিংহভাগ রাজস্ব পূর্ব বাংলা থেকে আদায় হলেও তার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের পেছনে। পঞ্চম দফায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে নিজেদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব রাখার এবং স্বাধীনভাবে বৈদেশিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়, যা কার্যকর হলে পূর্ব পাকিস্তান নিজের আয়ে নিজে সমৃদ্ধ হতে পারত এবং পশ্চিম পাকিস্তানের পরজীবী অর্থনীতি এক বড় ধাক্কা খেত। সর্বশেষ ষষ্ঠ দফায় পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কার্যকরভাবে একটি আধা-সামরিক বাহিনী বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন এবং নৌবাহিনীর সদর দফতর পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন করার দাবি জানানো হয়; যার সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়, যখন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা পূর্ব বাংলাকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও ভারতের দয়ার ওপর ছেড়ে দিয়েছিল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ছয় দফা আন্দোলনই ছিল মূলত বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তি এবং এক দফায় অর্থাৎ স্বাধীনতায় পৌঁছানোর একটা সুনিপুণ কৌশলগত সাঁকো। বঙ্গবন্ধু জানতেন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কখনোই এই ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নেবে না, আর তা না মানার অর্থই হলো পূর্ব বাংলার মানুষের সামনে এটি পরিষ্কার হয়ে যাওয়া যে পাকিস্তানের অধীনে কোনোদিন স্বাধিকার মিলবে না। শাসকগোষ্ঠী এই জনপ্রিয় আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে না পেরে শেষ অস্ত্র হিসেবে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করে ফাঁসি দেওয়ার চক্রান্ত করে, কিন্তু তা উল্টো গণমানুষের ক্ষোভকে দাবানলে রূপ দিয়ে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের জন্ম দেয়। এই গণ-আন্দোলনের জোয়ারেই ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ ছয় দফার পক্ষে তাদের ঐতিহাসিক ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেয়। কিন্তু যখন পাকিস্তানি শাসকরা সেই গণতান্ত্রিক রায়কে বুলেটের মুখে স্তব্ধ করার চেষ্টা করে, তখনই ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতের পর শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, যার অনিবার্য পরিণতিতে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজ ছয় দশক পরও বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ জুনের গুরুত্ব একটুও ম্লান হয়নি, কারণ এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল গভীর অর্থনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং রাজনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের এই মহান মাইলফলককে স্মরণ করার অর্থ কেবল অতীতকে উদযাপন করা নয়, বরং যে শোষণহীন, বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন বুকে নিয়ে শহীদরা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন, সেই আদর্শকে বর্তমান ও ভবিষ্যতে অক্ষুণ্ণ রাখার জাতীয় শপথ নেওয়া। ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবসে সকল শহীদের প্রতি রইল আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।লেখক : সাংবাদিক ও সংগঠক।

ছয় দফা থেকে স্বাধীনতা: ইতিহাসের অমোঘ মহাকাব্য
ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল

ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন ৪০২ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৯৪ জন। বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার তালিকায় সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিল মোটরসাইকেল।বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হন। একই সময়ে ৩১টি রেল দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত এবং ১৭টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪০ জন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ঈদের সময়ে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের হার ছিল ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ২১ শতাংশ, বাস ১৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ, অবৈধ ব্যাটারিচালিত যান ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, কার ও মাইক্রোবাস ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, নছিমন-করিমন ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং সিএনজি অটোরিকশা ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ।গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন।দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কার ঘটনায়, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এবং বাকিগুলো অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে বৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া গর্ত, ভাঙাচোরা অবকাঠামো, চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতা এবং বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল চলাচল দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়া চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একটানা ও বিশ্রামহীনভাবে চালানো হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।তিনি জানান, ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার পর ৮০ জন চালক জনরোষের শিকার হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, ৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৩ জন শিক্ষক, ১ জন চিকিৎসক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে— জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবাধ চলাচল, সড়কে রোড সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, মিডিয়ান ও ডিভাইডার না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, উল্টোপথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি এবং দীর্ঘ সময় বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো।প্রাণহানি কমাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা চালু করা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট, ফিটনেস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে।সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, যাত্রী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর কবির লিটুসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনজীবনকেন্দ্রিক উন্নয়ন: আবাসন সংস্কারে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

আবাসন একাধারে জীবিকা ও উন্নয়নের বিষয়। চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, ‘পুরনো আবাসিক এলাকাগুলোর সংস্কার জনগণের প্রাপ্তি, সুখ ও নিরাপত্তার অনুভূতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এবং এটি জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘পুরনো শহরাঞ্চলগুলোর সংস্কারে বিভিন্ন ইচ্ছা ও চাহিদার প্রতি সাড়া দেওয়া উচিত এবং এ কাজ অনেক বড়। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর উচিত, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ও সতর্কতার সাথে কাজটি আঞ্জাম দেওয়া।’ মে মাসেও ইনার মঙ্গোলিয়ার হিঙ্গান লীগের আরশান শহরে হিমেল হাওয়া বয়ে চলে। বৃহত্তর সিংআন পর্বতমালার দক্ষিণ পাদদেশে অবস্থিত এই ছোট্ট শহরটিতে, গ্রীষ্মকাল সবসময় দেরিতে আসে।‘কাঠ-কাদা’ বলতে আরশানের বনকর্মীদের কাঠের তক্তা ও কাদার গাঁথুনি দিয়ে তৈরি দেয়ালকে বোঝায়। স্থানীয় বাসিন্দা চৌ ছাং হে এবং তার পাঁচ জনের পরিবার, কয়েক দশক ধরে, ২০ বর্গমিটারের কিছু বেশি আয়তনের একটি ঘিঞ্জি ‘কাঠ-কাদা’-র বাড়িতে বাস করতেন। তিনি বলেন, ‘তখন এই প্রশস্ত ও উষ্ণ অ্যাপার্টমেন্টের স্বপ্ন দেখার সাহসইবা কার ছিল!?’২০১৪ সালের জানুয়ারিতে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপেক্ষা করে, আরশান শহর পরিদর্শন করেন। তিনি দরিদ্র বনকর্মীদের বাড়ির ভূগর্ভস্থ কক্ষগুলো পরিদর্শন করেন, উত্তপ্ত দেওয়াল স্পর্শ করেন, নববর্ষের উপহারসামগ্রী দেখেন। তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের বস্তিগুলোর সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করতে, একটি সময়সূচি তৈরি করতে, এবং বাসিন্দারা যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন বাড়িতে যেতে পারে—তা নিশ্চিত করতে তাগিদ দেন। এরপর আরশান শহর একটি বড় আকারের বস্তি সংস্কার প্রকল্প চালু করে, যেখানে মোট প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন ইউয়ান বিনিয়োগ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৬.৬ লাখ বর্গমিটারের আবাসন ভেঙে ফেলা হয় এবং ১০.৪ হাজারটি বস্তির ঘরবাড়ি সংস্কার করা হয়। আরশান সিটি আবাসন ও নগর-গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক ওয়াং সিয়াও লং বলেন, বর্তমানে বস্তির সকল বাসিন্দা বস্তি ছেড়ে অ্যাপার্টমেন্টে চলে গেছেন। এই বস্তি সংস্কারের ফলে আরশান শহরের অর্ধেকেরও বেশি বাসিন্দা উপকৃত হয়েছেন।২০১৭ সালে চৌ ছাং হে মাটির ইটের বাড়ি থেকে ৬০ বর্গমিটারের একটি নতুন অ্যাপার্টমেন্টে হস্তান্তরিত হন। লিয়াওনিং প্রদেশের শেনইয়াং শহরের তাতং এলাকার চাং'আন আবাসিক এলাকায় একটি সুউচ্চ পুরোনো চিমনি দাঁড়িয়ে আছে। এটি বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত একটি বয়লার ঘর ছিল, যা পুরোনো আবাসিক এলাকাটির সংস্কারের সময় চাং'আন গণসেবা কেন্দ্র ও অন্যান্য আবাসিক কার্যকলাপের স্থানে রূপান্তরিত হয়। এখানে বিশেষ ক্লাসে অংশ নেওয়া শিশুরা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বয়স্করা, এবং সুবিধাজনক পরিষেবা গ্রহণকারী বাসিন্দারা অবিরাম আসা-যাওয়া করেন।আবাসিক এলাকার চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কমিটির সম্পাদক ছাও স্যুয়ে বলেন, ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং চাং'আন আবাসিক এলাকা পরিদর্শনকালে উল্লেখ করেন যে, নগর সংস্কার স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এলাকার উন্নয়নের সাথে সমন্বিত হওয়া উচিত। সবকিছু যেন জনগণের জন্য সুবিধাজনক, উপকারী ও নিরাপদ হয়, সেদিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের যত্ন নিতে হবে।প্রতি সপ্তাহান্তে এলাকাটির বাসিন্দা ওয়াং কুই মিন তার নাতিকে নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে গণসেবাকেন্দ্রে আসেন। এখানকার শিশুদের পড়ার জায়গায় ৫০০০-এরও বেশি শিশুতোষ বই রয়েছে এবং এখানে প্রায়শই অভিভাবক-সন্তান পাঠ পর্ব ও গল্প বলার আসরের মতো কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও, ‘সুখ শিক্ষা শ্রেণীকক্ষ’-এ রোবট প্রোগ্রামিং, ক্যালিগ্রাফি, এবং ফ্লোর কার্লিং-এর মতো শিশুদের আগ্রহের ২০ ধরনের কোর্স করানো হয়।ছাও স্যুয়ে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কয়লা, পানি, বিদ্যুৎ এবং তাপের মতো অবকাঠামোগত সুবিধাগুলোর সংস্কার একের পর এক সম্পন্ন হয়েছে এবং জীবনযাত্রার পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হলো, সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনা অনুসরণ করে, বয়স্ক-বান্ধব সংস্কার ও শিশু-বান্ধব স্থান নির্মাণ করা এবং বাসিন্দাদের সুখ বৃদ্ধি করা।২০২৪ সালে সি চিন পিং ছংছিং শহরের জিউলংফো এলাকার মিনেচু গ্রাম পরিদর্শন করেন। তখন তিনি বলেন, পুরোনো আবাসিক এলাকাগুলোর সংস্কার নগর নবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং এটি এমন একটি প্রকল্প, যা জনগণের উপকারে আসে। ঐতিহাসিক স্মৃতি ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো সংরক্ষণ করা অপরিহার্য।গ্রামটির সম্পাদক ও পাড়া কমিটির পরিচালক উ ছেং লি বলেন, সংস্কার ও আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া চলাকালে, গ্রামটি বাসিন্দাদের চাহিদার প্রতি সাড়া দিয়েছিল এবং নাপিত ও জুতা মেরামতকারীর মতো ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের জন্য বিশেষভাবে স্থান সংরক্ষিত রেখেছিল।৭৭ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা ছেন তাই রং বলেন, যদিও পুরোনো রাস্তা ও গলিগুলো সংস্কার করা হয়েছে, তবুও রেখে যাওয়া সুন্দর স্মৃতিগুলো ম্লান হয়ে যায়নি এবং পুরোনো প্রতিবেশীদের মধ্যকার বন্ধুত্বও কমেনি।চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৮তম জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে চীন বিভিন্ন ধরণের ৬৮ মিলিয়নেরও বেশি সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন এবং বস্তি সংস্কার আবাসন নির্মাণ করেছে, যা আবাসন সমস্যায় জর্জরিত ১৭০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করেছে; ৩০ লাখেরও বেশি পুরোনো আবাসিক এলাকা সংস্কার হয়েছে, যা ১৩০ মিলিয়নেরও বেশি নগরবাসীর উপকার করেছে। সূত্র:ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

রূপগঞ্জে এনসিপির ফল উৎসব পণ্ড, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ফল উৎসব হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পণ্ড হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেছেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় উৎসবের প্যান্ডেল একাধিকবার ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন।শনিবার (৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, রূপগঞ্জে এনসিপির উদ্যোগে শনিবার একটি ফল উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে শুক্রবার রাতে প্রথম দফায় নির্মিত প্যান্ডেল ভেঙে দেওয়া হয়। পরে শনিবার সকালে পুনরায় স্টেজ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ শুরু হলে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিনতাই করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তার দাবি, হামলার সময় দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন রক্তাক্ত হয়েছেন।ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।এনসিপির এই নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা প্রদানকারী দুষ্কৃতিকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সহিংসতার সংস্কৃতি রোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা জাহেদ। আপনি ও কি তাই মনে করেন?

বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা জাহেদ। আপনি ও কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক খাতে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা, ফ্যাশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে BGMEA University of Fashion & Technology (BUFT)।২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার তুরাগ থানার নিশাতনগর (পশ্চিম উত্তরা সংলগ্ন) এলাকায় অবস্থিত।দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন BGMEA-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ফ্যাশন, টেক্সটাইল, পোশাক প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক শিক্ষাকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফ্যাশন ডিজাইন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং, বিজনেস স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক ল্যাব, গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং, ফ্যাক্টরি ভিজিট এবং বাস্তবভিত্তিক প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে স্মার্ট টেক্সটাইল, সাসটেইনেবল ফ্যাশন, ডিজিটাল ডিজাইন ও অটোমেশনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শিক্ষার্থীরা জানান, BUFT-এ পড়াশোনার মাধ্যমে তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন প্রেজেন্টেশন এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন।নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য। ফ্যাশন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে দক্ষ ও উদ্ভাবনী তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে BUFT গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরবাসীর জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার আক্রমণে ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।নগরবাসীর অভিযোগ, মশা নিধনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। অনেক এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের অভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে মশার বিস্তার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মশার কারণে শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা দ্রুত ও কার্যকর মশা নিধন অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান, প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। অন্যথায় মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।এ বিষয়ে নগরবাসীর প্রশ্ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মশা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে এবার হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন ২০২৬ইং) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী ওই নার্স তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফারি ইন্টার্ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি হামের উপসর্গে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)- তে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ওই তরুণীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার অকাল মুত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাহবুবুল আলম বলেন, হামের উপসর্গ ছাড়াও ওই তরুণীর অন্যান্য জটিল সমস্যা ছিল। তবে এটি হচ্ছে হাম উপসর্গে সিলেট বিভাগের ২২ বছর বয়স্ক কারও মৃত্যুএর কারণ অনুসন্ধান করা হবে।এদিকে সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় প্রায় দেড় বছরের শিশু ইরফান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন। সোমবার (১ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৫৬ জন রোগী।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৬ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ৪২, হবিগঞ্জের ২১ ও  মৌলভীবাজারের ১৬।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৫৬ রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ২, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৩, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৭, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ৪, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২২, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থল আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ সেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই নেই হৃদরোগ শনাক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ইসিজি (ECG) ও ইকো( Echo) মেশিন। ফলে হৃদরোগ, বুকে ব্যথা, স্ট্রোকের ঝুঁকি কিংবা হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ইসিজি ও ইকো মেশিন নয়— হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ডাক্তার সংকট, ওষুধ সংকট, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা, রোগীদের প্রতি অবহেলা এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান—ইসিজি ও ইকো  মেশিনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।হাসপাতালে গিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা : বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কোটি মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই শেষ ভরসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা আশা নিয়ে ছুটে যান সরকারি হাসপাতালের দিকে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করার সামর্থ্য অধিকাংশ মানুষের নেই।কিন্তু বাস্তবে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অনেক রোগীকেই শুনতে হয়—মেশিন নষ্ট, এই পরীক্ষা এখানে হয় না, ডাক্তার নেই, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হবে, অথবা “দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান।ফলে দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঋণ করছেন, গবাদিপশু বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ: মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে গেলে মনে হয় শুধু নামেই চিকিৎসা হয়। ডাক্তাররা কিছু সাধারণ ওষুধ লিখে দেন, কিন্তু বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে? হাসপাতালে যদি ওষুধই না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর ভরসা করবে কীভাবে?তিনি আরও বলেন—অনেক সময় রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। জরুরি রোগী হলেও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। মকবুল হোসেন বলেন—একটু জটিল রোগী হলেই বলা হয়— ‘দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান’। এখানে নাকি চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষ আসবে কেন?তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—অনেক রোগীকে রাতের বেলা রাজশাহী নিতে গিয়ে রাস্তায় আরও খারাপ অবস্থায় পড়তে হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল। আবুল কাশেম বলেন—অ্যাম্বুলেন্সে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে না— এমন অভিযোগ বহুদিনের। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে থেকে বের হতে হয়।তিনি আরও বলেন—সরকার কোটি কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ সেই সেবার সুফল পাচ্ছে না। জরুরি মুহূর্তে যদি অক্সিজেন বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিই না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?এক নারী রোগীর স্বজন রতন মল্লিক  বলেন--রাতে মহিলা রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলে খুব ভয় লাগে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, নার্সও কম থাকে। রোগীর কষ্ট দেখেও অনেক সময় কেউ দ্রুত এগিয়ে আসে না। এক বৃদ্ধ রোগীর অভিযোগ—আজিম উদ্দিন মন্ডল (৬৯) বয়স হয়েছে, টাকা-পয়সাও নেই। সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম একটু ভালো চিকিৎসা পাবো বলে। কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে গরিব মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, কিন্তু দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না।তিনি আরও বলেন—কিছু অসাধু ব্যক্তি কৌশলে রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করেন। এতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচের শিকার হন। সরকারি হাসপাতালে যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেগুলোও অনেক সময় বাইরে করতে বাধ্য করা হয়। তার অভিযোগ—ওষুধ সরবরাহ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা প্রায়ই বলেন, হাসপাতালে ওষুধ নেই। অথচ এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি খুব কম।তিনি আরও বলেন—হাসপাতালে জনবল সংকট আছে ঠিকই, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলাও রয়েছে। গোপনে তদন্ত হলে অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসতে পারে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন—পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সংকট, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সংকট এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবের কারণেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অধিকাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।একই সঙ্গে হাসপাতালের পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট সচল রাখতে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দেন তিনি।সোমবার (২৫ মে) বিকেলে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে আকস্মিকভাবে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, চিকিৎসা সেবা, ওয়াসরুম সহ অবকাঠামোগত অবস্থা পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এছাড়াও হাসপাতালের রন্ধনশালায় রোগীদের পরীক্ষামূরক খেয়ে দেখেন তিনি।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছেন। আমি হাসপাতালের পুরাতন ভবন ও অক্সিজেন প্ল্যান্টটির কথা বললাম। উনি কাজ করতে বলেছেন। আমি বলেছি এটা পুরানো ভবন, এটা ভাঙতে হবে। নতুন ভবন করতে হবে। অক্সিজেন প্ল্যান্টের বিদ্যুতের সাব-স্টেশন দিতে হবে। তিনি কাগজপত্র প্রস্তুত করে কাজ শুরু করতে বলেছেন। আর এটার সাথে ১০০ শয্যার কাজ করে ফেলব।”তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের সামনের রাস্তার ব্যাপারে আমি সওজের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তারা ব্যবস্থা নেবেন।”স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় সেটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবিও দীর্ঘদিনের। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরু ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. ফজলে রাব্বি, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মো. বশির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান, থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান।

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

প্রয়োজন ৪ লক্ষ টাকা / হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

১৩ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু অর্পিতা। এই বয়সে তার দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে এবং তার খাদ্যনালী ব্লক হয়ে আছে। তাকে বাঁচাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।অর্পিতার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া গ্রামে। তার বাবা বিষ্ট রঞ্জন সাহা একজন সাধারণ মানুষ। সন্তানের এমন দুরারোগ্য ব্যাধির কথা শুনে দিশেহারা পুরো পরিবার। দিনের পর দিন মেয়ের কষ্ট দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে তাদের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব অর্পিতার অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, অন্যথায় তাকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে জমানো সব সম্বল শেষ করেছেন অর্পিতার বাবা। এখন নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তারা।বিষ্ট রঞ্জন সাহা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি একজন বাবা, আমার সন্তানের এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। ডাক্তাররা বলেছেন ৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। আমার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি দেশের সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে আমার সন্তানকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।"আপনার সামান্য একটু সহায়তা হয়তো ছোট্ট অর্পিতার জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে সুস্থতার হাসি। দানশীল ব্যক্তিরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিচের বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠাতে পারেন:সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:বিকাশ নম্বর: ০১৩২৮৪২৪৭৮৫ (অর্পিতার বাবা - বিষ্ট রঞ্জন সাহা)একটি নিষ্পাপ প্রাণ বাঁচাতে আজই এগিয়ে আসুন। আপনার এই সহযোগিতা হয়তো একটি শিশুকে নতুন জীবন দিতে পারে।

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে এবার হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন ২০২৬ইং) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী ওই নার্স তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফারি ইন্টার্ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি হামের উপসর্গে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)- তে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ওই তরুণীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার অকাল মুত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাহবুবুল আলম বলেন, হামের উপসর্গ ছাড়াও ওই তরুণীর অন্যান্য জটিল সমস্যা ছিল। তবে এটি হচ্ছে হাম উপসর্গে সিলেট বিভাগের ২২ বছর বয়স্ক কারও মৃত্যুএর কারণ অনুসন্ধান করা হবে।এদিকে সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় প্রায় দেড় বছরের শিশু ইরফান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন। সোমবার (১ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৫৬ জন রোগী।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৬ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ৪২, হবিগঞ্জের ২১ ও  মৌলভীবাজারের ১৬।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৫৬ রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ২, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৩, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৭, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ৪, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২২, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।