ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জমি দখলের অভিযোগে তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

রাস্তা ও ড্রেনের জমির মালিক দাবি করে বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি-উল-কবিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার বরগুনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন তালতলী পাড়া এলাকার মোঃ ছগির হোসেন। শুনানি শেষে বিচারক মোঃ নাহিদ হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি-উল-কবির বলেন, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কলাবাগান এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তা নির্মাণ কাজে ভূমিদস্যু ছগির বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর আদালতে আমাকেসহ তিনজনকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এই ভূমিদস্যু ছগিরের বিরুদ্ধে ভুমি দখল,সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল ও ইয়াবা কারবারসহ অন্তত ২০ টি মামলা আছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুরে মামলার বাদী মোঃ ছগির হোসেনের ভোগদখলীয় জমিতে এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে মাটি কেটে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জোমাদ্দারসহ মামলায় উল্লিখিত অন্যরা।

সরেজমিনে ও এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলাবাগান এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি একটি মরা খাল কেটে ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এ এলাকার পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় জনদুর্ভোগে পড়েন এ এলাকার মানুষজন। তাদের সমস্যার কথা চিন্তা করে উপজেলা চেয়ারম্যান ড্রেন নির্মাণ করেছেন।এ ঘটনাটায় মামলা করে চেয়ারম্যান কে হয়রানি করছেন।

বড়বগী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল খান লিটু বলেন,ওখানে একটি সরকারি খাল ছিল সেখানে তালতলী বাজারসহ আশেপাশে এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণ করেছি। সেই কাজে সগির হোসেন নামের একজন ভূমিদস্যু বাধাগ্রস্ত করে আদালতে মামলা করেছেন। এছাড়াও উপজেলা পরিষদের পিছনে একটি রাস্তা নির্মাণের সময়ও তিনি বাধা দিয়েছেন। ছগির উপজেলা পরিষদের সামনে নিজেই সরকারি খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।

বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আলমগীর মিঞা বলেন,যখনই কোন সরকারি কাজ হবে তখনই এই ভূমিদস্য ছগির বাধা প্রদান করে। উপজেলা পরিষদের পিছনের একটি রাস্তা কয়েকবার নির্মাণ করতে গেল এই ছগির বাধা প্রদান করে।

মামলার বাদী ছগির হোসেন বলেন,উপজেলা পরিষদের পিছনে আমার জমি সেখান থেকে মাটি কেটে ড্রেন নির্মাণ করছে উপজেলা চেয়ারম্যান এতে আমার ক্ষতি হয়েছে তাই আমি মামলা করেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি-উল-কবির জানান, বৃষ্টির পানি জমে থাকে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি নাল ছিল সেখানে ড্রেন নির্মাণ করেছি। ওই জমির মালিক দাবি করেছেন একজন ভূমি দখলকারি ছগির। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সামাজিকভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে একটি কুচক্রী মহল এ ধরনের ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমি দখলের অভিযোগে তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৩:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০২৩

রাস্তা ও ড্রেনের জমির মালিক দাবি করে বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি-উল-কবিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার বরগুনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন তালতলী পাড়া এলাকার মোঃ ছগির হোসেন। শুনানি শেষে বিচারক মোঃ নাহিদ হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি-উল-কবির বলেন, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কলাবাগান এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তা নির্মাণ কাজে ভূমিদস্যু ছগির বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর আদালতে আমাকেসহ তিনজনকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এই ভূমিদস্যু ছগিরের বিরুদ্ধে ভুমি দখল,সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল ও ইয়াবা কারবারসহ অন্তত ২০ টি মামলা আছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুরে মামলার বাদী মোঃ ছগির হোসেনের ভোগদখলীয় জমিতে এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে মাটি কেটে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জোমাদ্দারসহ মামলায় উল্লিখিত অন্যরা।

সরেজমিনে ও এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলাবাগান এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি একটি মরা খাল কেটে ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এ এলাকার পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় জনদুর্ভোগে পড়েন এ এলাকার মানুষজন। তাদের সমস্যার কথা চিন্তা করে উপজেলা চেয়ারম্যান ড্রেন নির্মাণ করেছেন।এ ঘটনাটায় মামলা করে চেয়ারম্যান কে হয়রানি করছেন।

বড়বগী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল খান লিটু বলেন,ওখানে একটি সরকারি খাল ছিল সেখানে তালতলী বাজারসহ আশেপাশে এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণ করেছি। সেই কাজে সগির হোসেন নামের একজন ভূমিদস্যু বাধাগ্রস্ত করে আদালতে মামলা করেছেন। এছাড়াও উপজেলা পরিষদের পিছনে একটি রাস্তা নির্মাণের সময়ও তিনি বাধা দিয়েছেন। ছগির উপজেলা পরিষদের সামনে নিজেই সরকারি খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।

বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আলমগীর মিঞা বলেন,যখনই কোন সরকারি কাজ হবে তখনই এই ভূমিদস্য ছগির বাধা প্রদান করে। উপজেলা পরিষদের পিছনের একটি রাস্তা কয়েকবার নির্মাণ করতে গেল এই ছগির বাধা প্রদান করে।

মামলার বাদী ছগির হোসেন বলেন,উপজেলা পরিষদের পিছনে আমার জমি সেখান থেকে মাটি কেটে ড্রেন নির্মাণ করছে উপজেলা চেয়ারম্যান এতে আমার ক্ষতি হয়েছে তাই আমি মামলা করেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি-উল-কবির জানান, বৃষ্টির পানি জমে থাকে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি নাল ছিল সেখানে ড্রেন নির্মাণ করেছি। ওই জমির মালিক দাবি করেছেন একজন ভূমি দখলকারি ছগির। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সামাজিকভাবে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে একটি কুচক্রী মহল এ ধরনের ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।