ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নাফনদী হতে ৬জন রোহিঙ্গা দূবৃর্ত্ত গ্রেফতারঃ বিপূল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য উদ্ধার

আজিজ উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
টেকনাফে নাফনদীর দ্বীপে কোস্টগার্ড সদস্যরা চিরুনী অভিযান চালিয়ে উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পের ৬জন দূবৃর্ত্তকে গ্রেফতার করেছে। এসময় বিপূল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলকার (৩রা জানুয়ারী) দুপুর ১টারদিকে টেকনাফ বিসিজি ষ্টেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২রা জানুয়ারী বিকালের দিকে একটি স্বশস্ত্র ডাকাত দল শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় ফিশিং বোটে ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডের একটি আভিযানিক দল অভিযানে যায়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল নাফনদীর বুকে জেগে থাকা চরে আশ্রয় নেওয়ার জন্য পালিয়ে আসতে থাকে। তখন বিষয়টি টেকনাফ কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হলে টেকনাফ ক্যাম্পের আরো একটি আভিযানিক দল ডাকাত দলকে ধাওয়া করতে থাকে। তখন দূবৃর্ত্ত দলের সদস্যদের বোঝাই করা বোটটি হ্নীলা রঙ্গিখালী সংলগ্ন নাফনদীর খেরের দ্বীপে নামিয়ে দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তে পালিয়ে যায়।

পরে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডের পৃথক আভিযানিক দল শক্তি সঞ্চয় করে দ্বীপটি ঘেরাও করে অভিযান চালিয়ে ২টি বিদেশী পিস্তল, ৩টি একনলা বন্দুক, ২টি এলজি, ১টি শর্ট গান, ৬টি দেশীয় পিস্তল, ৪টি পিস্তলের ম্যাগজিন, ৪৫০রাউন্ড তাজা বুলেট, ৩৬রাউন্ড খালি খোসা, ৪টি রামদা, ২০হাজার পিস ইয়াবা, ২১বোতল বিদেশী মদ, ৫৫১ক্যান বিয়ার, ৭ স্টে পোশাক, ১টি হ্যান্ডকাফ, ১টি ল্যান্ড ফোন, ৪টি বাটন মোবাইলসহ উখিয়া উপজেলার থাইংখালী ১৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হোসেন আহমেদের পুত্র মোঃ ইব্রাহিম (২৩), সোলতান আহমদের পুত্র মোঃ আরিফ (৩৩), নুর হাকিমের পুত্র মোঃ মাহমুদুর রহমান (১৮), ঊনছিপ্রাং ২২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নুরুল ইসলামের পুত্র মোঃ আমিন (৩৩), হাশেমের পুত্র মোঃ কানিজ (২৪), বালুখালী ১৪নং ক্যাম্পের সৈয়দ আহমেদের পুত্র মোঃ নবী হোসেন (২৮) কে গ্রেফতার করে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার বিএন আব্দুর রহমান জানান, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের পর জব্দকৃত অস্ত্রাদি ও মাদকদ্রব্যসহ ধৃতদের টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নাফনদীর বুকে জেগে উঠা লালদ্বীপ, জইল্যার দ্বীপ, খেরের দ্বীপ, নাগাকুরা দ্বীপ, লম্বাবিল এবং পালংখালী সংলগ্ন বিভিন্ন দ্বীপে গ্রুপ কেন্দ্রিক মাদক কারবারী, মানব পাচার, স্বর্ণ চোরাচালানী, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহকারী এবং বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্যরা কতিপয় স্থানীয়দের সাথে আতাঁত করে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে জনশ্রুতি রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাফনদী হতে ৬জন রোহিঙ্গা দূবৃর্ত্ত গ্রেফতারঃ বিপূল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য উদ্ধার

আপডেট সময় ১০:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৩

আজিজ উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
টেকনাফে নাফনদীর দ্বীপে কোস্টগার্ড সদস্যরা চিরুনী অভিযান চালিয়ে উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পের ৬জন দূবৃর্ত্তকে গ্রেফতার করেছে। এসময় বিপূল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলকার (৩রা জানুয়ারী) দুপুর ১টারদিকে টেকনাফ বিসিজি ষ্টেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২রা জানুয়ারী বিকালের দিকে একটি স্বশস্ত্র ডাকাত দল শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় ফিশিং বোটে ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডের একটি আভিযানিক দল অভিযানে যায়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল নাফনদীর বুকে জেগে থাকা চরে আশ্রয় নেওয়ার জন্য পালিয়ে আসতে থাকে। তখন বিষয়টি টেকনাফ কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হলে টেকনাফ ক্যাম্পের আরো একটি আভিযানিক দল ডাকাত দলকে ধাওয়া করতে থাকে। তখন দূবৃর্ত্ত দলের সদস্যদের বোঝাই করা বোটটি হ্নীলা রঙ্গিখালী সংলগ্ন নাফনদীর খেরের দ্বীপে নামিয়ে দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তে পালিয়ে যায়।

পরে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডের পৃথক আভিযানিক দল শক্তি সঞ্চয় করে দ্বীপটি ঘেরাও করে অভিযান চালিয়ে ২টি বিদেশী পিস্তল, ৩টি একনলা বন্দুক, ২টি এলজি, ১টি শর্ট গান, ৬টি দেশীয় পিস্তল, ৪টি পিস্তলের ম্যাগজিন, ৪৫০রাউন্ড তাজা বুলেট, ৩৬রাউন্ড খালি খোসা, ৪টি রামদা, ২০হাজার পিস ইয়াবা, ২১বোতল বিদেশী মদ, ৫৫১ক্যান বিয়ার, ৭ স্টে পোশাক, ১টি হ্যান্ডকাফ, ১টি ল্যান্ড ফোন, ৪টি বাটন মোবাইলসহ উখিয়া উপজেলার থাইংখালী ১৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হোসেন আহমেদের পুত্র মোঃ ইব্রাহিম (২৩), সোলতান আহমদের পুত্র মোঃ আরিফ (৩৩), নুর হাকিমের পুত্র মোঃ মাহমুদুর রহমান (১৮), ঊনছিপ্রাং ২২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নুরুল ইসলামের পুত্র মোঃ আমিন (৩৩), হাশেমের পুত্র মোঃ কানিজ (২৪), বালুখালী ১৪নং ক্যাম্পের সৈয়দ আহমেদের পুত্র মোঃ নবী হোসেন (২৮) কে গ্রেফতার করে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার বিএন আব্দুর রহমান জানান, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের পর জব্দকৃত অস্ত্রাদি ও মাদকদ্রব্যসহ ধৃতদের টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নাফনদীর বুকে জেগে উঠা লালদ্বীপ, জইল্যার দ্বীপ, খেরের দ্বীপ, নাগাকুরা দ্বীপ, লম্বাবিল এবং পালংখালী সংলগ্ন বিভিন্ন দ্বীপে গ্রুপ কেন্দ্রিক মাদক কারবারী, মানব পাচার, স্বর্ণ চোরাচালানী, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহকারী এবং বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্যরা কতিপয় স্থানীয়দের সাথে আতাঁত করে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে জনশ্রুতি রয়েছে।