ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে মাদক মামলায় ৫ পুলিশ সহ ১৩ জনের সাজা

ফেনীতে আলোচিত ৬ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দের মামলায় বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজসহ ছয়জনের ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। অপর ছয়জনের ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একজনে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫ হাজার টাকা জরিমানার করা হয়।

সোমবার ৬-৩-২৩ইং তারিখে ফেনীর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ মো. কায়সার মোশাররফ ইউসুফ এ রায় ঘোষণা করেন।ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) দ্বিজেন্দ্র কুমার কংস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে- এএসআই মো. মাহফুজুর রহমান, এসআই মো. বিল্লাল হোসেন বেলাল, এসআই মো. আশিকুর রহমান আশিক, সালেহ আহমদ, ফরিদুল আলম ফরিদ কোম্পানি, মো. জাফর কোম্পানির ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, কনস্টেবল মো. শাহীন এস বি শাহীন, মো. আব্দুল মোতালেব মুহুরী, কনস্টেবল কাশেম আলী কাশেম, গিয়াস উদ্দিন গেসুর ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। মো. জাবেদ আলীর পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আটজন উপস্থিত ছিলেন। অপর পাঁচজন পলাতক আছেন।

পলাতক আসামীরা হলেন- আবুল কাশেম কাশেম পুলিশ, আব্দুল মোতালেব মুহুরী, বিল্লাল হোসেন বেলাল, আশিকুর রহমান আশিক, জাফর কোম্পানি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহিদ হোসেন কমল জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই। রায়ের বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আশা করছি আমরা ন্যায়বিচার পাবো।

এপিপি দ্বিজেন্দ্র কুমার কংস বণিক বলেন, ১ মার্চ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ সৈয়দ মো. কায়সার মোশাররফ ইউসুফের আদালতে এ মামলার পূর্ণাঙ্গ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রধান আসামি পুলিশের বরখাস্তকৃত এএসআই মাহফুজসহ ৮ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এ মামলায় এএসআই মাহফুজসহ পাঁচজন ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে দায় স্বীকার করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, গত বছরের ৬ মার্চ তৃতীয় মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। সাত বছরে চাঞ্চল্যকর এ মামলায় তিন ম্যাজিস্ট্রেট, মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মোট ৩৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ জুন শহরতলীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোলে একটি শিশুকে ধাক্কা দিয়ে প্রাইভেটকার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন এএসআই মাহফুজুর রহমান। র‍্যাব-৭ এর একটি দল গাড়িটি ধাওয়া করে তাকে আটক করে। পরে তার গাড়ি থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৭ লাখ টাকা জব্দ করে। এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই মাহফুজুর রহমান ও গাড়ি চালক জাবেদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে নায়েক সুবেদার মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ২২ জুন ফেনী মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেনী মডেল থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর মো. শাহীনুজ্জামানকে। তিনি ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত সন্তুষ্ট না হয়ে পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

২০১৬ সালের ২২ মে দ্বিতীয় মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর আবুল বশর অভিযোগপত্র জমা দিলে আদালত গ্রহণ করেননি। আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। ১৩ জনকে আসামি করে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তৃতীয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে মাদক মামলায় ৫ পুলিশ সহ ১৩ জনের সাজা

আপডেট সময় ০৯:৪০:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩

ফেনীতে আলোচিত ৬ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দের মামলায় বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজসহ ছয়জনের ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। অপর ছয়জনের ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একজনে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫ হাজার টাকা জরিমানার করা হয়।

সোমবার ৬-৩-২৩ইং তারিখে ফেনীর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ মো. কায়সার মোশাররফ ইউসুফ এ রায় ঘোষণা করেন।ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) দ্বিজেন্দ্র কুমার কংস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে- এএসআই মো. মাহফুজুর রহমান, এসআই মো. বিল্লাল হোসেন বেলাল, এসআই মো. আশিকুর রহমান আশিক, সালেহ আহমদ, ফরিদুল আলম ফরিদ কোম্পানি, মো. জাফর কোম্পানির ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, কনস্টেবল মো. শাহীন এস বি শাহীন, মো. আব্দুল মোতালেব মুহুরী, কনস্টেবল কাশেম আলী কাশেম, গিয়াস উদ্দিন গেসুর ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। মো. জাবেদ আলীর পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আটজন উপস্থিত ছিলেন। অপর পাঁচজন পলাতক আছেন।

পলাতক আসামীরা হলেন- আবুল কাশেম কাশেম পুলিশ, আব্দুল মোতালেব মুহুরী, বিল্লাল হোসেন বেলাল, আশিকুর রহমান আশিক, জাফর কোম্পানি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহিদ হোসেন কমল জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই। রায়ের বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আশা করছি আমরা ন্যায়বিচার পাবো।

এপিপি দ্বিজেন্দ্র কুমার কংস বণিক বলেন, ১ মার্চ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ সৈয়দ মো. কায়সার মোশাররফ ইউসুফের আদালতে এ মামলার পূর্ণাঙ্গ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রধান আসামি পুলিশের বরখাস্তকৃত এএসআই মাহফুজসহ ৮ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এ মামলায় এএসআই মাহফুজসহ পাঁচজন ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে দায় স্বীকার করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, গত বছরের ৬ মার্চ তৃতীয় মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। সাত বছরে চাঞ্চল্যকর এ মামলায় তিন ম্যাজিস্ট্রেট, মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মোট ৩৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ জুন শহরতলীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোলে একটি শিশুকে ধাক্কা দিয়ে প্রাইভেটকার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন এএসআই মাহফুজুর রহমান। র‍্যাব-৭ এর একটি দল গাড়িটি ধাওয়া করে তাকে আটক করে। পরে তার গাড়ি থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৭ লাখ টাকা জব্দ করে। এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই মাহফুজুর রহমান ও গাড়ি চালক জাবেদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে নায়েক সুবেদার মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ২২ জুন ফেনী মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেনী মডেল থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর মো. শাহীনুজ্জামানকে। তিনি ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত সন্তুষ্ট না হয়ে পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

২০১৬ সালের ২২ মে দ্বিতীয় মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর আবুল বশর অভিযোগপত্র জমা দিলে আদালত গ্রহণ করেননি। আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। ১৩ জনকে আসামি করে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তৃতীয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন।