ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞান ও ধর্ম: পৃথিবীতে প্রাণের উম্মেষ

মহাবিশ্বের প্রাণের উদ্ভবের ক্ষেত্রে আলোর সবচাইতে শক্তিশালী গামা রশ্মি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার জীবন সৃষ্টির রহস্য উদঘাটনে এক ধাপ এগিয়ে গেছে, যাহা ইতিপূর্বে বৈজ্ঞানিক সমাজে এক অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত ছিল, বিষয়টি এখনও গবেষণার টেবিলে, চূড়ান্ত ফলাফল পেতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
মহাকাশের শিলার তেজস্ক্রিয় উপাদানসমূহের ক্রমাগত ক্ষয়ের ফলে এদের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণ সংগঠিত হয়। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, অ্যামিনো অ্যাসিড নামক যৌগগুলি যাদেরকে জীবনের বিল্ডিং ব্লক বলা হয়, ঐ সমস্ত আণবিক যৌগ গুলি গামা রশ্মি দ্বারা সৃষ্টি হয়।
ফলাফলগুলি অ্যামিনো অ্যাসিড সমূহের একটি সম্ভাব্য উৎসকে চিহ্নিত করে, যা কিনা বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটা আমাদের গ্রহকে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান দিয়ে সমৃদ্ধ করে।
জীবন কোথায়, কবে ও কীভাবে উদ্ভূত হয়েছিল সেই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়ে বহু পৌরাণিক কাহিনী কিংবা যার যার ধর্ম অনুযায়ী একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু এর কোন স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা যায়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে সঠিক মানদন্ড বলে ধরে নেওয়া হলেও বৈজ্ঞানিক চেতনার সাথে অসঙ্গত বিধায়, সেটা ছিল একান্তই অনুপ্রেরণামূলক কল্প কাহিনীর অন্তর্গত।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে সন্দেহ করেছিলেন যে, প্রাণের কিছু উপাদান পৃথিবীতে পৌঁছেছিল মহাকাশ শিলা থেকে প্রায় চার বিলিয়নেরও বেশি বছর আগে, মহাকাশ শিলা উল্কাপিণ্ড রূপে পৃথিবীর পৃষ্ঠকে আঘাত করেছিল। যাইহোক, এই প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের মধ্যে জীবনের বিল্ডিং ব্লক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকতে পারে কিন্তু কীভাবে তারা গঠিত হতে পারে তা স্পষ্ট ছিল না।
কোলাহলপূর্ণ এই পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী ও উদ্ভিদজগতের জীবন সৃষ্টির আণবিক মলিউকুল লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে মাইগ্রেশন ঘটেছিল এতে সন্দেহের অবকাশ নেই, আল কোরআন থেকেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যায়, তবে সেই তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। সেটা সামগ্রিক জীব ও উদ্ভিদের জীবন কেন্দ্রিক নয় , কেবলমাত্র অতি বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। পৃথিবীতে একজোড়া স্বয়ংসম্পূর্ণ মানব মানবীর আগমন হয়েছিল মহাকাশের অন্য কোন গ্রহ থেকে, যা ছিল জীবনধারণের শতভাগ উপযোগী গ্রহ।
এসিএস সেন্ট্রাল সায়েন্সে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে-
ইয়োকোহামা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একজন অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট ইয়োকো কেবুকাওয়ার নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণ করেছেন যে ফর্মালডিহাইড এবং অ্যামোনিয়া, মহাকাশের শিলাগুলির সাধারণ যৌগ, গামা রশ্মির সংস্পর্শে এলে অ্যামিনো অ্যাসিডে রূপান্তরিত হতে পারে, যা একটি নতুন প্রিবায়োটিক অ্যামিনোকে নির্দেশ করে। অ্যাসিড গঠনের পথ যা জীবনের উৎপত্তিতে অবদান রাখে,” এসিএস সেন্ট্রাল সায়েন্সে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে ।

“যতদূর আমরা জানি, গামা-রশ্মির দ্বারা ফর্মালডিহাইড এবং অ্যামোনিয়া থেকে অ্যামিনো অ্যাসিড প্রথমবারের মতো উৎপাদিত হয়েছে” কেবুকাওয়া মাদারবোর্ডে একটি ইমেলে বলেছেন, তার দল “ফলাফল দেখে অবাক হয়েছে।“

কালো ধুসর বর্ণের কার্বনাসিয়াস কন্ড্রাইট শ্রেণীভূক্ত মহাকাশ শিলা পৃথিবীতে উল্কাপিণ্ডরূপে পতিত হয়, যা প্রাণ সৃষ্টির অপরিহার্য উপাদান অ্যামিনো অ্যাসিড বহন করেছিল। মহান সৃষ্টিকর্তা পবিত্র আল-কোরআনে আদম সৃষ্টি তত্ত্বে পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক বালি মাটি থেকে আদম সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। পোড়া মাটির ন্যায় উপাদান সমূহ মূলত কার্বনাসিয়াস কন্ড্রাইট, এই ধরনের গ্রহাণুপুঞ্জ গঠিত হয় তারকা সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে মহাকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিক্ষিপ্ত ধুলি বালি থেকে। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় ও ধর্ম তত্ত্বের সামঞ্জস্যপূর্ণ ফলাফল প্রমাণ করে যে, পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব ঘটেছিল পোড়া মাটির ন্যায় মহাকাশ শিলা বা উল্কাপিণ্ড থেকে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিজ্ঞান ও ধর্ম: পৃথিবীতে প্রাণের উম্মেষ

আপডেট সময় ১০:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৩

মহাবিশ্বের প্রাণের উদ্ভবের ক্ষেত্রে আলোর সবচাইতে শক্তিশালী গামা রশ্মি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার জীবন সৃষ্টির রহস্য উদঘাটনে এক ধাপ এগিয়ে গেছে, যাহা ইতিপূর্বে বৈজ্ঞানিক সমাজে এক অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত ছিল, বিষয়টি এখনও গবেষণার টেবিলে, চূড়ান্ত ফলাফল পেতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
মহাকাশের শিলার তেজস্ক্রিয় উপাদানসমূহের ক্রমাগত ক্ষয়ের ফলে এদের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণ সংগঠিত হয়। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, অ্যামিনো অ্যাসিড নামক যৌগগুলি যাদেরকে জীবনের বিল্ডিং ব্লক বলা হয়, ঐ সমস্ত আণবিক যৌগ গুলি গামা রশ্মি দ্বারা সৃষ্টি হয়।
ফলাফলগুলি অ্যামিনো অ্যাসিড সমূহের একটি সম্ভাব্য উৎসকে চিহ্নিত করে, যা কিনা বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটা আমাদের গ্রহকে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান দিয়ে সমৃদ্ধ করে।
জীবন কোথায়, কবে ও কীভাবে উদ্ভূত হয়েছিল সেই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়ে বহু পৌরাণিক কাহিনী কিংবা যার যার ধর্ম অনুযায়ী একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু এর কোন স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা যায়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে সঠিক মানদন্ড বলে ধরে নেওয়া হলেও বৈজ্ঞানিক চেতনার সাথে অসঙ্গত বিধায়, সেটা ছিল একান্তই অনুপ্রেরণামূলক কল্প কাহিনীর অন্তর্গত।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে সন্দেহ করেছিলেন যে, প্রাণের কিছু উপাদান পৃথিবীতে পৌঁছেছিল মহাকাশ শিলা থেকে প্রায় চার বিলিয়নেরও বেশি বছর আগে, মহাকাশ শিলা উল্কাপিণ্ড রূপে পৃথিবীর পৃষ্ঠকে আঘাত করেছিল। যাইহোক, এই প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের মধ্যে জীবনের বিল্ডিং ব্লক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকতে পারে কিন্তু কীভাবে তারা গঠিত হতে পারে তা স্পষ্ট ছিল না।
কোলাহলপূর্ণ এই পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী ও উদ্ভিদজগতের জীবন সৃষ্টির আণবিক মলিউকুল লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে মাইগ্রেশন ঘটেছিল এতে সন্দেহের অবকাশ নেই, আল কোরআন থেকেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যায়, তবে সেই তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। সেটা সামগ্রিক জীব ও উদ্ভিদের জীবন কেন্দ্রিক নয় , কেবলমাত্র অতি বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। পৃথিবীতে একজোড়া স্বয়ংসম্পূর্ণ মানব মানবীর আগমন হয়েছিল মহাকাশের অন্য কোন গ্রহ থেকে, যা ছিল জীবনধারণের শতভাগ উপযোগী গ্রহ।
এসিএস সেন্ট্রাল সায়েন্সে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে-
ইয়োকোহামা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একজন অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট ইয়োকো কেবুকাওয়ার নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণ করেছেন যে ফর্মালডিহাইড এবং অ্যামোনিয়া, মহাকাশের শিলাগুলির সাধারণ যৌগ, গামা রশ্মির সংস্পর্শে এলে অ্যামিনো অ্যাসিডে রূপান্তরিত হতে পারে, যা একটি নতুন প্রিবায়োটিক অ্যামিনোকে নির্দেশ করে। অ্যাসিড গঠনের পথ যা জীবনের উৎপত্তিতে অবদান রাখে,” এসিএস সেন্ট্রাল সায়েন্সে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে ।

“যতদূর আমরা জানি, গামা-রশ্মির দ্বারা ফর্মালডিহাইড এবং অ্যামোনিয়া থেকে অ্যামিনো অ্যাসিড প্রথমবারের মতো উৎপাদিত হয়েছে” কেবুকাওয়া মাদারবোর্ডে একটি ইমেলে বলেছেন, তার দল “ফলাফল দেখে অবাক হয়েছে।“

কালো ধুসর বর্ণের কার্বনাসিয়াস কন্ড্রাইট শ্রেণীভূক্ত মহাকাশ শিলা পৃথিবীতে উল্কাপিণ্ডরূপে পতিত হয়, যা প্রাণ সৃষ্টির অপরিহার্য উপাদান অ্যামিনো অ্যাসিড বহন করেছিল। মহান সৃষ্টিকর্তা পবিত্র আল-কোরআনে আদম সৃষ্টি তত্ত্বে পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক বালি মাটি থেকে আদম সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। পোড়া মাটির ন্যায় উপাদান সমূহ মূলত কার্বনাসিয়াস কন্ড্রাইট, এই ধরনের গ্রহাণুপুঞ্জ গঠিত হয় তারকা সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে মহাকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিক্ষিপ্ত ধুলি বালি থেকে। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় ও ধর্ম তত্ত্বের সামঞ্জস্যপূর্ণ ফলাফল প্রমাণ করে যে, পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব ঘটেছিল পোড়া মাটির ন্যায় মহাকাশ শিলা বা উল্কাপিণ্ড থেকে।