ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে সাহস

রবিবার কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের সিংগুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত সাহস যথাযথ মর্যাদায় পালন করে স্বাধীনতা দিবস। সাহস এর পরিচালক খায়রুল এনাম আলম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুকুন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জনাব সুবল দে, বিশেষ অতিথি ছিলেন সিংগুর সুধী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ ইদ্রিস মিয়া ও ছোট তুলাগাঁও মহিলা কলেজের প্রাক্তন প্রভাষক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন সাহস স্কুলের ছাত্র আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াছিন, গীতা পাঠ করেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক সুমনা সুত্রধর।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাহস এর প্রধান সমন্বয়কারী সবুর বাদশা, সাহস স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শামীমা ইয়াছিন, সহকারী শিক্ষক মোঃ মনির হোসেন। বক্তারা সাহসের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বলেন আজ স্বাধীনতার এই ক্ষণে আমরা স্মরণ করছি সেই সকল দেশপ্রেমিক শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাঁদের আত্নত্যাগে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, প্রিয় বাংলাদেশ। বক্তারা সমাজের সকল কুসংস্কার দূর করে একটি সভ্যসমাজ ও শিক্ষিত জাতি গঠনে সাহসের সাথে থেকে কাজ করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সুবল দে, বিশেষ অতিথি, মোঃ ইদ্রিস মিয়া, প্রভাষক মোঃ ইব্রাহীম হোসেন।
বক্তারা বলেন- ১৯৪৮সালে বাংলাভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালীর অধিকার আদায়ের সূচনা হয়। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের শাহাদতবরণকারী শফিক, রফিক, জব্বার, বরকতের রক্তে রচিত হয় স্বাধীনতার বীজ। ১৯৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯-এর অভ্যুত্থান এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন বেগবান হয় । ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত একটি বিপ্লব ও সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়।স্বাধিকার 
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি গণহত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং এই জনযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধের ফলে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। পশ্চিম পাকিস্তান-কেন্দ্রিক সামরিক জান্তা সরকার ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে এবং নির্মম গণহত্যা শুরু করে। তারা নির্বিচারে সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং পুলিশ ও ইপিআর কর্মকর্তাদের হত্যা করে । সামরিক জান্তা সরকার ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলকে অস্বীকার করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে ও স্বাধীনতা লাভ করে। বক্তারা আরো বলেন স্বাধীনতার সুফল পেতে হলে দেশে গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জাগাতে হবে। বক্তারা সাহস এর উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করেন। এরপর স্কুলের শিক্ষক ও
ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় সংগীত, নৃত্য ও নাটিকা *প্রতিবাদ* মঞ্চস্থ করা হয়। মনোজ্ঞ এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সকলেই দারুনভাবে উপভোগ করেন। সবশেষে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যেমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্কুলের সহকারি শিক্ষক শাহনাজ আক্তার।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে সাহস

আপডেট সময় ১১:৩৩:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মার্চ ২০২৩

রবিবার কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের সিংগুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত সাহস যথাযথ মর্যাদায় পালন করে স্বাধীনতা দিবস। সাহস এর পরিচালক খায়রুল এনাম আলম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুকুন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জনাব সুবল দে, বিশেষ অতিথি ছিলেন সিংগুর সুধী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ ইদ্রিস মিয়া ও ছোট তুলাগাঁও মহিলা কলেজের প্রাক্তন প্রভাষক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন সাহস স্কুলের ছাত্র আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াছিন, গীতা পাঠ করেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক সুমনা সুত্রধর।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাহস এর প্রধান সমন্বয়কারী সবুর বাদশা, সাহস স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শামীমা ইয়াছিন, সহকারী শিক্ষক মোঃ মনির হোসেন। বক্তারা সাহসের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বলেন আজ স্বাধীনতার এই ক্ষণে আমরা স্মরণ করছি সেই সকল দেশপ্রেমিক শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাঁদের আত্নত্যাগে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, প্রিয় বাংলাদেশ। বক্তারা সমাজের সকল কুসংস্কার দূর করে একটি সভ্যসমাজ ও শিক্ষিত জাতি গঠনে সাহসের সাথে থেকে কাজ করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সুবল দে, বিশেষ অতিথি, মোঃ ইদ্রিস মিয়া, প্রভাষক মোঃ ইব্রাহীম হোসেন।
বক্তারা বলেন- ১৯৪৮সালে বাংলাভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালীর অধিকার আদায়ের সূচনা হয়। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের শাহাদতবরণকারী শফিক, রফিক, জব্বার, বরকতের রক্তে রচিত হয় স্বাধীনতার বীজ। ১৯৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯-এর অভ্যুত্থান এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন বেগবান হয় । ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত একটি বিপ্লব ও সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়।স্বাধিকার 
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি গণহত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং এই জনযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধের ফলে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। পশ্চিম পাকিস্তান-কেন্দ্রিক সামরিক জান্তা সরকার ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে এবং নির্মম গণহত্যা শুরু করে। তারা নির্বিচারে সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং পুলিশ ও ইপিআর কর্মকর্তাদের হত্যা করে । সামরিক জান্তা সরকার ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলকে অস্বীকার করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে ও স্বাধীনতা লাভ করে। বক্তারা আরো বলেন স্বাধীনতার সুফল পেতে হলে দেশে গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জাগাতে হবে। বক্তারা সাহস এর উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করেন। এরপর স্কুলের শিক্ষক ও
ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় সংগীত, নৃত্য ও নাটিকা *প্রতিবাদ* মঞ্চস্থ করা হয়। মনোজ্ঞ এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সকলেই দারুনভাবে উপভোগ করেন। সবশেষে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যেমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্কুলের সহকারি শিক্ষক শাহনাজ আক্তার।