ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রূপসায় সতি কুদির বটগাছের অজানা ইতিহাস

ইতিহাস, মানুষ কে অতিত মনে করিয়ে দেয়। আর সেই অতিত কে মনে রেখেই মানুষ বর্তমান কে সামনে রেখে ভবিৎষ্যতের জন্য কাজ করে থাকে। ইতিহাসে কালের সাক্ষি হিসাবে রয়েছে অনেক স্থাপনা, অনেক ধর্মীয় উপসানালয়, রাজা বাদশাদের রাজ্য পরিচালনা, সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান। অনেক সময় ইতিহাস সংরক্ষের অভাবে অনেক কিছু হারিয়েও যায়। যার ফলে না জেনে নানান কুসংস্কারে মূল ইতিহাসের বিকৃতি ঘটে।
ইতিহাসের সন্ধানে রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নে তিলক গ্রামে। এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান সহ সকল ধর্মের মানুষ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছে। প্রায় ২০০ বছর আগে নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের ভেতরে কুদি নামে একটি মেয়ে ছিলো। মেয়েটির সদ্য বিবাহ হয়েছিল। প্রতিটি মেয়ের সপ্ন থাকে স্বামী, সংসার জীবন নিয়ে, স্বামীর বাড়িতে বসবাস করার ইচ্ছা। কিন্তু কুদির ক্ষেত্রে ঘটে গিয়েছিলো এর ব্যাতিক্রম, বিয়ের ১৩ দিনের মাথায় তার স্বামী কলেরা রোগে মারা যাওয়ার ফলে তার হাতের শাখা খুলে ফেলতে হয়। মাথার সিদুর মুছে ফেলে সাদা শাড়ি পড়ে বিধবার সাজে সাজতে হয়।
অকালে স্বামীকে হারিয়ে তার মাথায় বিকৃতি ঘটলে সে বাড়ী থেকে বেরিয়ে বর্তমানে কুদির বটতলা নামে বাংলাদেশ সহ ভারতেও পরিচিত স্থান খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের তিলক গ্রামে, একটি বট গাছের চারা লাগিয়ে এবং তার পাশেই একটি শশান কালি মন্দির কাঁচা মন্ডব তৈরি করে। সেখানে ভগবানে ধ্যানে মগ্ন থাকে। এবং পৌষ মাস থেকে শ্মশান কালী পূজা শুরু করে। এই পুজার ফলে ধর্মীয় মেলার সৃষ্টি হয়। এর থেকেই কুদির বটতলার পরিচিতি লাভ শুরু হয়।
লোকমুখে শোনা যায় ঐ সময় কেহ কোন বড় ধরনের ব্যাধির মধ্যে পড়লে কুদির কাছে ছুটে যেতো। কুদি সেই ব্যাধির বেক্তিকে পূজার ফুল দিত। সেই ফুলেই নাকি ব্যাধি মুক্ত হতো। এভাবেই সুনাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং দিনদিন তার ভক্ত সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেই সময় কোন কঠিন ব্যাধি হলে ফুল নেয়ার পাশাপাশি মন্দিরে পাঠা মানত করত। ব্যাধি সেরে গেলে পাঁঠা বলির মাধ্যমে মানত পূর্ণ করত। কুদি ছিলেন একজন সতিমহিলা। তিনি মন্দিরে একা থাকতেন। এবং পুজা অর্চনার মধ্যে দিয়ে তার দিন রাত কেটে যেতো। কথিত আছে একদিন গভীর রাত্রে একদল ডাকাত যাচ্ছিল বট গাছ ও মন্দিরের পাশ দিয়ে। কুদির অল্প বয়স এবং রূপ লাবন্য দেখে ডাকাত দলের কুদির উপর কু নজর পড়ে। তারা কুদির ইজ্জত হরণ করার উদ্যেশ্যে ধাওয়া করে। ডাকাতের ধাওয়া খেয়ে ইজ্জত রক্ষার্থে কোন উপায় না পেয়ে বট গাছের কাছে শেষ সাহায্য প্রার্থনা করলে বটগাছ তার ইজ্জত রক্ষার্থে ফাঁক হয়ে যায় এবং সে বট গাছের ভিতরে ঢুকে পড়ে। বট গাছের ভেতরে ঢুকে পড়লেও বাইরে তার আচল বেরিয়েছিল। পরের দিন ভক্তবৃন্দ মন্দিরে এসে তাকে দেখতে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। খুজতে খুজতে এক পর্যায়ে গাছের বাইরে শাড়ির আঁচল দেখতে পেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। ভক্তবৃন্দের মধ্যে একজন সপ্ন দেখে কুদি ডাকাতদের হাত থেকে ইজ্জত রক্ষাতে গাছের ভিতর ডুকে পড়েছে। সেই ভক্ত সপ্ন দেখা কথাটি পরের দিন প্রকাশ করলে এটি লোক মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তার পর থেকে আর কোন দিন কুদিকে দেখা যাইনি সেই বট তলার শশান কালী মন্দিরে।সে না থাকলেও মানুষ কোন বিপদ আপদে পড়লে, অসুস্থ হলে সেখানে মানত করতো এবং তার রিতি অনুযায়ি প্রতি বছর পৌষ মাসে কুদির বটতলা শ্মশান কালী মন্দিরে পূজার সময় মন্দিরে পাঠা বলির মাধ্যমে মানুষ মানত শেষ করত। এবং ধর্মীয় মেলা অনুষ্ঠিত হত। সেই মেলায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিত হত। এভাবে চলে আসলেও পরে পূজারী এবং সাধারণ ভক্তদের সুবিধার্থে পৌষ মাসে সল্প আকারে এবং জ্যৈষ্ঠ মাসে বড় আকারে পুজা ও বড় ধর্মীয় মেলার আয়োজন করা হয়। লোক মুখে আর শোনা যায় নমঃশূদ্র সম্প্রদায় পুজা অর্চনা করলেও কায়েস্ত ব্রাম্মন সম্প্রদায়ের লোকেরা আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষে এই মন্দির টি দক্ষল করে নেয়। এবং আইন করে দেয়, নমঃশূদ্র গোত্রের কেহ এই মন্দিরে পুজা অর্চনা করতে পারবে না। শুধু মাত্র কায়েস্ত ব্রাম্মনরাই এখানে পুজা অর্চনা করার অধিকারী। এভাবে চলতে থাকলেও পরে সম্প্রদায়িক সম্প্রিতি বজায় রাখতে বর্তমানে ঐ রিতিটি আর নেই বলে জানা যায়।
বর্তমানে কুদির বটতলা শ্মশান কালী মন্দিরের রেজিস্টিকৃত সংবিধান অনুযায়ী সাধন কুমার মিত্র ১৯৮০ সাল থেকে ম্যানেজার হিসেবে এই মন্দিরের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। তিনি দায়িত্বে আসার পরে ১৯৮৮ সালে কুদির নিজ হাতে গড়া কাঁচা মন্দিরটি পাকা মন্দিরের রূপান্তরিত করেন। এছাড়া মন্দিরের জমির উপর নির্মিত ২৫ টি পাকা দোকান গৃহ নির্মান করেন। এখানে কালী পুজার পাশা পাশি অনেক দিন ধরেই শারদীয় দুর্গা পুজা হতো অস্থায়ী মন্দিরে। পরে মন্দিরের ম্যানেজার সাধন কুমার মিত্র ও মন্দির কমিটি ২০২০ সালে দূর্গা মন্দির স্থাপন সহ মন্দিরের সকল উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি মন্দির সম্পর্কে বলেন, এই স্থানটি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে খুবই পবিত্র স্থান হওয়ায় ভারতে এই স্থানটি নিয়ে বই বের হয়েছে। বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা এবং বাংলাদেশ বেতার খুলনায় অনেক আগে অচিন্ত কুমার ভৌমিকের এই স্থানটি নিয়ে কথিকা প্রচার হলেও বই আকারে এর কোন ইতিহাস সংরক্ষিত হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটাই চাওয়া এদেশের মানুষ কে কুদির বটতলার ইতিহাস জানাতে বই আকারে বের করলে পরবর্তি প্রজন্ম কে আর এর ইতিহাস জানার জন্য কাহারও কাছে যাওয়া লাগবে না। এই বই থেকেই সব ইতিহাস পেয়ে যাবে। তাই এই ইতিহাস বই আকারে বের হোক এটাই আমাদের সকলের মনের দাবী।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপসায় সতি কুদির বটগাছের অজানা ইতিহাস

আপডেট সময় ১০:০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

ইতিহাস, মানুষ কে অতিত মনে করিয়ে দেয়। আর সেই অতিত কে মনে রেখেই মানুষ বর্তমান কে সামনে রেখে ভবিৎষ্যতের জন্য কাজ করে থাকে। ইতিহাসে কালের সাক্ষি হিসাবে রয়েছে অনেক স্থাপনা, অনেক ধর্মীয় উপসানালয়, রাজা বাদশাদের রাজ্য পরিচালনা, সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান। অনেক সময় ইতিহাস সংরক্ষের অভাবে অনেক কিছু হারিয়েও যায়। যার ফলে না জেনে নানান কুসংস্কারে মূল ইতিহাসের বিকৃতি ঘটে।
ইতিহাসের সন্ধানে রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নে তিলক গ্রামে। এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান সহ সকল ধর্মের মানুষ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছে। প্রায় ২০০ বছর আগে নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের ভেতরে কুদি নামে একটি মেয়ে ছিলো। মেয়েটির সদ্য বিবাহ হয়েছিল। প্রতিটি মেয়ের সপ্ন থাকে স্বামী, সংসার জীবন নিয়ে, স্বামীর বাড়িতে বসবাস করার ইচ্ছা। কিন্তু কুদির ক্ষেত্রে ঘটে গিয়েছিলো এর ব্যাতিক্রম, বিয়ের ১৩ দিনের মাথায় তার স্বামী কলেরা রোগে মারা যাওয়ার ফলে তার হাতের শাখা খুলে ফেলতে হয়। মাথার সিদুর মুছে ফেলে সাদা শাড়ি পড়ে বিধবার সাজে সাজতে হয়।
অকালে স্বামীকে হারিয়ে তার মাথায় বিকৃতি ঘটলে সে বাড়ী থেকে বেরিয়ে বর্তমানে কুদির বটতলা নামে বাংলাদেশ সহ ভারতেও পরিচিত স্থান খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের তিলক গ্রামে, একটি বট গাছের চারা লাগিয়ে এবং তার পাশেই একটি শশান কালি মন্দির কাঁচা মন্ডব তৈরি করে। সেখানে ভগবানে ধ্যানে মগ্ন থাকে। এবং পৌষ মাস থেকে শ্মশান কালী পূজা শুরু করে। এই পুজার ফলে ধর্মীয় মেলার সৃষ্টি হয়। এর থেকেই কুদির বটতলার পরিচিতি লাভ শুরু হয়।
লোকমুখে শোনা যায় ঐ সময় কেহ কোন বড় ধরনের ব্যাধির মধ্যে পড়লে কুদির কাছে ছুটে যেতো। কুদি সেই ব্যাধির বেক্তিকে পূজার ফুল দিত। সেই ফুলেই নাকি ব্যাধি মুক্ত হতো। এভাবেই সুনাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং দিনদিন তার ভক্ত সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেই সময় কোন কঠিন ব্যাধি হলে ফুল নেয়ার পাশাপাশি মন্দিরে পাঠা মানত করত। ব্যাধি সেরে গেলে পাঁঠা বলির মাধ্যমে মানত পূর্ণ করত। কুদি ছিলেন একজন সতিমহিলা। তিনি মন্দিরে একা থাকতেন। এবং পুজা অর্চনার মধ্যে দিয়ে তার দিন রাত কেটে যেতো। কথিত আছে একদিন গভীর রাত্রে একদল ডাকাত যাচ্ছিল বট গাছ ও মন্দিরের পাশ দিয়ে। কুদির অল্প বয়স এবং রূপ লাবন্য দেখে ডাকাত দলের কুদির উপর কু নজর পড়ে। তারা কুদির ইজ্জত হরণ করার উদ্যেশ্যে ধাওয়া করে। ডাকাতের ধাওয়া খেয়ে ইজ্জত রক্ষার্থে কোন উপায় না পেয়ে বট গাছের কাছে শেষ সাহায্য প্রার্থনা করলে বটগাছ তার ইজ্জত রক্ষার্থে ফাঁক হয়ে যায় এবং সে বট গাছের ভিতরে ঢুকে পড়ে। বট গাছের ভেতরে ঢুকে পড়লেও বাইরে তার আচল বেরিয়েছিল। পরের দিন ভক্তবৃন্দ মন্দিরে এসে তাকে দেখতে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। খুজতে খুজতে এক পর্যায়ে গাছের বাইরে শাড়ির আঁচল দেখতে পেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। ভক্তবৃন্দের মধ্যে একজন সপ্ন দেখে কুদি ডাকাতদের হাত থেকে ইজ্জত রক্ষাতে গাছের ভিতর ডুকে পড়েছে। সেই ভক্ত সপ্ন দেখা কথাটি পরের দিন প্রকাশ করলে এটি লোক মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তার পর থেকে আর কোন দিন কুদিকে দেখা যাইনি সেই বট তলার শশান কালী মন্দিরে।সে না থাকলেও মানুষ কোন বিপদ আপদে পড়লে, অসুস্থ হলে সেখানে মানত করতো এবং তার রিতি অনুযায়ি প্রতি বছর পৌষ মাসে কুদির বটতলা শ্মশান কালী মন্দিরে পূজার সময় মন্দিরে পাঠা বলির মাধ্যমে মানুষ মানত শেষ করত। এবং ধর্মীয় মেলা অনুষ্ঠিত হত। সেই মেলায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিত হত। এভাবে চলে আসলেও পরে পূজারী এবং সাধারণ ভক্তদের সুবিধার্থে পৌষ মাসে সল্প আকারে এবং জ্যৈষ্ঠ মাসে বড় আকারে পুজা ও বড় ধর্মীয় মেলার আয়োজন করা হয়। লোক মুখে আর শোনা যায় নমঃশূদ্র সম্প্রদায় পুজা অর্চনা করলেও কায়েস্ত ব্রাম্মন সম্প্রদায়ের লোকেরা আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষে এই মন্দির টি দক্ষল করে নেয়। এবং আইন করে দেয়, নমঃশূদ্র গোত্রের কেহ এই মন্দিরে পুজা অর্চনা করতে পারবে না। শুধু মাত্র কায়েস্ত ব্রাম্মনরাই এখানে পুজা অর্চনা করার অধিকারী। এভাবে চলতে থাকলেও পরে সম্প্রদায়িক সম্প্রিতি বজায় রাখতে বর্তমানে ঐ রিতিটি আর নেই বলে জানা যায়।
বর্তমানে কুদির বটতলা শ্মশান কালী মন্দিরের রেজিস্টিকৃত সংবিধান অনুযায়ী সাধন কুমার মিত্র ১৯৮০ সাল থেকে ম্যানেজার হিসেবে এই মন্দিরের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। তিনি দায়িত্বে আসার পরে ১৯৮৮ সালে কুদির নিজ হাতে গড়া কাঁচা মন্দিরটি পাকা মন্দিরের রূপান্তরিত করেন। এছাড়া মন্দিরের জমির উপর নির্মিত ২৫ টি পাকা দোকান গৃহ নির্মান করেন। এখানে কালী পুজার পাশা পাশি অনেক দিন ধরেই শারদীয় দুর্গা পুজা হতো অস্থায়ী মন্দিরে। পরে মন্দিরের ম্যানেজার সাধন কুমার মিত্র ও মন্দির কমিটি ২০২০ সালে দূর্গা মন্দির স্থাপন সহ মন্দিরের সকল উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি মন্দির সম্পর্কে বলেন, এই স্থানটি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে খুবই পবিত্র স্থান হওয়ায় ভারতে এই স্থানটি নিয়ে বই বের হয়েছে। বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা এবং বাংলাদেশ বেতার খুলনায় অনেক আগে অচিন্ত কুমার ভৌমিকের এই স্থানটি নিয়ে কথিকা প্রচার হলেও বই আকারে এর কোন ইতিহাস সংরক্ষিত হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটাই চাওয়া এদেশের মানুষ কে কুদির বটতলার ইতিহাস জানাতে বই আকারে বের করলে পরবর্তি প্রজন্ম কে আর এর ইতিহাস জানার জন্য কাহারও কাছে যাওয়া লাগবে না। এই বই থেকেই সব ইতিহাস পেয়ে যাবে। তাই এই ইতিহাস বই আকারে বের হোক এটাই আমাদের সকলের মনের দাবী।