ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ

হিজাব নিয়ে কটুক্তি করায় লাকসামপ অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

হিজাব নিয়ে কটুক্তি করায় কুমিল্লার লাকসামে নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে আবারো ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।

পরে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হাই সিদ্দিকী কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মাকছুদুর রহমান জিহাদী বলেন, তদন্ত চলাকালীন অধ্যক্ষ কলেজে আসতে পারবেন না এবং ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আন্দোলন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু সমাধান না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।

উল্লেখ্য, হিজাব নিয়ে কটুক্তি করায় নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজের অপসারণ দাবিতে (২৫ ফেব্রুয়ারি) কলেজ গেইট ও ক্যাম্পাস এলাকায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এতে কলেজের শতশত শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মানববন্ধনে কলেজের অধ্যক্ষ মেজর মিতা সফিনাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হিজাব নিয়ে কটুক্তি, বোরখা ধরে টানাটানি, হিজাব পরা ছাত্রীদের অপমান করাসহ নানা অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজের ডিগ্রি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আঞ্জুমা আক্তার আখি বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনার দেখাতে ও বইমেলা উপভোগ করতে ছোট বোনকে নিয়ে কলেজে আসি। সেখান থেকে নারী শিক্ষার্থীদের কমন রুমে যাওয়ার সময় অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজ আমাকে বোরখা পরিহিত দেখে রাগান্বিত স্বরে বলেন যে, তুমি এখানে কেন এসেছো?

তখন আমার ও আমার ছোট বোনের পোষাক দেখে তিনি বিভিন্ন বাজে মন্তব্য শুরু করেন। ছোট বোনের গায়ে ছিল একটি ছোট কালো বোরকা এবং একটি ছোট কালো হিজাব আর আমার পরনে ছিল বোরকা, হাত পায়ের মোজা ও হিজাব। তিনি আমাদেরকে দেখিয়ে রাগান্বিত স্বরে বলে ওঠেন, “ছোট বাচ্চাদের কি এগুলা কোন ধরনের পোশাক পরায় এই ধরনের পোশাক পরিয়ে বাচ্চাদের ভুলভাল জিনিস শেখায়”।
ওই সময় তাঁর সাথে থাকা কয়েকজন শিক্ষকের মধ্যে একজন প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেছিলেন বাচ্চাদেরকে হয়তো পরিবার থেকে ছোটবেলা থেকেই তারা পর্দা-নৈতিকতা শেখায়, কিন্তু প্রতিউত্তরে ম্যাডাম বলে ওঠেন এগুলা কোন ধরনের নৈতিকতা? এসব বোরখা হিজাবের ভিতরে দুষ্টামি ভন্ডামি আরো বেশি লুকিয়ে থাকে।
পরে আরেকজন শিক্ষক ওনাকে আরো বোঝানোর চেষ্টা করেন মুসলিম সমাজে পর্দা মেইনটেন করে চলতে হয়। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই তা শুনতে চাননি এবং অনেক ধরনের বাজে মন্তব্য করেছিলেন। পূর্বেও একবার তিনি আমাকে আমার পরিহিত হিজাব নিয়ে কটুক্তি করেছিলেন। তখন আমি কিছুই বলিনি ভেবেছিলাম সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। এইসব কথায় আমি খুবই কষ্ট পাই এবং মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরি। ওই অবস্থায় আমার মানসিক অবস্থা দেখার মত ছিল না এবং লজ্জাবোধ করি। একটা সাড়ে পাঁচ বছরের বাচ্চার ধর্মীয় পোষাক নিয়েও এমন কটুক্তি করেছিলেন যা আমাকে খুবই কষ্ট দেয় এবং আমার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে।”

কলেজের অপর শিক্ষার্থী মাকসুদুর রহমান জিহাদী বলেন, অধ্যক্ষ মেজর মিতা সফিনাজ হিজাব পরায় শুধু আঞ্জুমা আক্তার আঁখিকেই অপমান করেনি। ইতিপূর্বেও হিজাব পরায় তিনি অনেক ছাত্রীকে অপমান-অপদস্থ করেছেন। হিজাব নিয়ে টানাটানি করেছেন। বিশ্রী শব্দ দিয়ে গালাগাল করেছেন। কিন্তু কেউ শাড়ি কিংবা শর্ট পোশাক পরে আসলেও কাউকে কিছুই বলেন না। অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজ মুসলিম হয়েও হিজাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করেছেন। তিনি শিক্ষকতার নৈতিক ভিত্তি হারিয়েছেন।’
এ সময় তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত সময়ের মধ্যে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি জানান। অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরাও এ দাবির সাথে একমত পোষণ করে শ্লোগান দিতে থাকে।

কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান তানিম বলেন, আমরা সকল নৈতিক আন্দোলনে ছাত্রদের সাথে আছি। অধ্যক্ষ অসুস্থ বিধায় ঢাকায় আছেন। উনি আসলে আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ফায়সালা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠো ফোনে কল দিলে অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা নেই। এর বেশি কিছু বলব না। আমি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আছি। কলেজে এসে বিস্তারিত বলব।’

কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শামসুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে ম্যাডামকে জানাবো। আমিতো তাঁর বিচার করতে পারি না। তবে আমি দেখেছি বোরখার সামনের কালো অংশ তিনি পরতে বারন করতেন। সাদা পরতে বলতেন। কালো অংশ আমাদের ড্রেসের সাথে মানায় না।

এ বিষয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম মুঠো ফোনে বলেন, ‘অধ্যক্ষ যদি এমন আচরণ করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক শমেস কর চৌধুরী বলেন, ‘এমন আচরণ করে থাকলে অধ্যক্ষ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ

হিজাব নিয়ে কটুক্তি করায় লাকসামপ অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি

আপডেট সময় ০৯:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

হিজাব নিয়ে কটুক্তি করায় কুমিল্লার লাকসামে নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে আবারো ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।

পরে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হাই সিদ্দিকী কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মাকছুদুর রহমান জিহাদী বলেন, তদন্ত চলাকালীন অধ্যক্ষ কলেজে আসতে পারবেন না এবং ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আন্দোলন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু সমাধান না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।

উল্লেখ্য, হিজাব নিয়ে কটুক্তি করায় নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজের অপসারণ দাবিতে (২৫ ফেব্রুয়ারি) কলেজ গেইট ও ক্যাম্পাস এলাকায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এতে কলেজের শতশত শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মানববন্ধনে কলেজের অধ্যক্ষ মেজর মিতা সফিনাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হিজাব নিয়ে কটুক্তি, বোরখা ধরে টানাটানি, হিজাব পরা ছাত্রীদের অপমান করাসহ নানা অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজের ডিগ্রি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আঞ্জুমা আক্তার আখি বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনার দেখাতে ও বইমেলা উপভোগ করতে ছোট বোনকে নিয়ে কলেজে আসি। সেখান থেকে নারী শিক্ষার্থীদের কমন রুমে যাওয়ার সময় অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজ আমাকে বোরখা পরিহিত দেখে রাগান্বিত স্বরে বলেন যে, তুমি এখানে কেন এসেছো?

তখন আমার ও আমার ছোট বোনের পোষাক দেখে তিনি বিভিন্ন বাজে মন্তব্য শুরু করেন। ছোট বোনের গায়ে ছিল একটি ছোট কালো বোরকা এবং একটি ছোট কালো হিজাব আর আমার পরনে ছিল বোরকা, হাত পায়ের মোজা ও হিজাব। তিনি আমাদেরকে দেখিয়ে রাগান্বিত স্বরে বলে ওঠেন, “ছোট বাচ্চাদের কি এগুলা কোন ধরনের পোশাক পরায় এই ধরনের পোশাক পরিয়ে বাচ্চাদের ভুলভাল জিনিস শেখায়”।
ওই সময় তাঁর সাথে থাকা কয়েকজন শিক্ষকের মধ্যে একজন প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেছিলেন বাচ্চাদেরকে হয়তো পরিবার থেকে ছোটবেলা থেকেই তারা পর্দা-নৈতিকতা শেখায়, কিন্তু প্রতিউত্তরে ম্যাডাম বলে ওঠেন এগুলা কোন ধরনের নৈতিকতা? এসব বোরখা হিজাবের ভিতরে দুষ্টামি ভন্ডামি আরো বেশি লুকিয়ে থাকে।
পরে আরেকজন শিক্ষক ওনাকে আরো বোঝানোর চেষ্টা করেন মুসলিম সমাজে পর্দা মেইনটেন করে চলতে হয়। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই তা শুনতে চাননি এবং অনেক ধরনের বাজে মন্তব্য করেছিলেন। পূর্বেও একবার তিনি আমাকে আমার পরিহিত হিজাব নিয়ে কটুক্তি করেছিলেন। তখন আমি কিছুই বলিনি ভেবেছিলাম সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। এইসব কথায় আমি খুবই কষ্ট পাই এবং মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরি। ওই অবস্থায় আমার মানসিক অবস্থা দেখার মত ছিল না এবং লজ্জাবোধ করি। একটা সাড়ে পাঁচ বছরের বাচ্চার ধর্মীয় পোষাক নিয়েও এমন কটুক্তি করেছিলেন যা আমাকে খুবই কষ্ট দেয় এবং আমার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে।”

কলেজের অপর শিক্ষার্থী মাকসুদুর রহমান জিহাদী বলেন, অধ্যক্ষ মেজর মিতা সফিনাজ হিজাব পরায় শুধু আঞ্জুমা আক্তার আঁখিকেই অপমান করেনি। ইতিপূর্বেও হিজাব পরায় তিনি অনেক ছাত্রীকে অপমান-অপদস্থ করেছেন। হিজাব নিয়ে টানাটানি করেছেন। বিশ্রী শব্দ দিয়ে গালাগাল করেছেন। কিন্তু কেউ শাড়ি কিংবা শর্ট পোশাক পরে আসলেও কাউকে কিছুই বলেন না। অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজ মুসলিম হয়েও হিজাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করেছেন। তিনি শিক্ষকতার নৈতিক ভিত্তি হারিয়েছেন।’
এ সময় তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত সময়ের মধ্যে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি জানান। অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরাও এ দাবির সাথে একমত পোষণ করে শ্লোগান দিতে থাকে।

কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান তানিম বলেন, আমরা সকল নৈতিক আন্দোলনে ছাত্রদের সাথে আছি। অধ্যক্ষ অসুস্থ বিধায় ঢাকায় আছেন। উনি আসলে আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ফায়সালা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠো ফোনে কল দিলে অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা নেই। এর বেশি কিছু বলব না। আমি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আছি। কলেজে এসে বিস্তারিত বলব।’

কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শামসুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে ম্যাডামকে জানাবো। আমিতো তাঁর বিচার করতে পারি না। তবে আমি দেখেছি বোরখার সামনের কালো অংশ তিনি পরতে বারন করতেন। সাদা পরতে বলতেন। কালো অংশ আমাদের ড্রেসের সাথে মানায় না।

এ বিষয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম মুঠো ফোনে বলেন, ‘অধ্যক্ষ যদি এমন আচরণ করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক শমেস কর চৌধুরী বলেন, ‘এমন আচরণ করে থাকলে অধ্যক্ষ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।