
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। একদল বিক্ষোভকারী এই হামলা চালায়। তারা ভবনটির নিচতলায় আগুন দেয়। আজ শনিবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
‘প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে একদল বিক্ষোভকারী জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়। ‘তাঁরা কেন্দ্রীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। ‘একপর্যায়ে কার্যালয়ের নিচতলায় আগুন দেওয়া হয়। ‘পরে পুলিশ জলকামান ব্যবহার ও লাঠিপেটা করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। জলকামান দিয়ে পুলিশ আগুন নিভিয়ে ফেলে।’
‘প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়।’ হামলার সময় বিক্ষোভকারীরা ভবনের সামনে টানানো জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের ছবি ভাঙচুর করে।’
‘এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ওই ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকালে ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিন–এর রিপোর্টার নাইমুর রহমান (২৫) ও বাংলানিউজের ফটোসাংবাদিক জিএম মজিবর (৪৫)। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সেখানে মোতায়েন রয়েছে। জাপার নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছেন।
‘জাতীয় পার্টির যুগ্মমহাসচিব জুবের আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জেলার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক আলোচনা চলছে। ‘কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজও দুটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয় বিকেল ৫টায়। ‘এরপর মাগরিবের নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন অনেকে। ‘তখন বিকট শব্দ ও স্লোগান শোনা যায়। ‘এরপর একদল লোক এসে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়। জুবের আলমের অভিযোগ, তারা গণঅধিকার পরিষদের নেতা–কর্মী।’
‘এর আগে গতকাল শুক্রবার জাপা ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কাকরাইলে সংঘর্ষ হয়। ‘পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।’