ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্কুলছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ Logo তেজগাঁও সমাজ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি নিতাই, সাধারণ সম্পাদক ধীরেন Logo “মৃত্তিকা” এ যেনো পদ বানিজ্য, দুর্নীতি আর অনিয়মের সর্গ রাজ্য Logo গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরের উপর হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ Logo “কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা” Logo ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো দুই দিন ব্যাপী বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫ Logo নাঙ্গলকোটে আলাউদ্দিন মেম্বার হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo কটিয়াদীতে বৃদ্ধার আত্মহত্যা Logo বরুড়া ঈদ ই মিলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত Logo ঢাকাস্থ সরাইল সমিতির উদ্যোগে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

মানবেতার জীবন যাপন

কালীগঞ্জ পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬ মাসের বেতন ভাতা বকেয়া

শাহিনুর রহমান পিন্টু, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর একটি পৌরসভা হলেও এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা অনিয়মিত এবং ৬ মাসের বকেয়া থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কালিগঞ্জ পৌরসভার স্থায়ী এবং অস্থায়ী মিলে সর্বমোট ১১৯ জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন। কালীগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা ৬ মাসের বেতন বকেয়া থাকার কথা জানালেও পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন ৩ মাসের বেতন পাওনার কথা। বেতন ভাতা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কালীগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্থায়ীভাবে বিভিন্ন পদে চাকরি করছেন ৪৯ জন এবং অস্থায়ীভাবে রয়েছেন ৭০ জন। এর মধ্যে আবার পরিচ্ছন্নকর্মী আছেন ৪৯ জন।

পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের সম্মানি ভাতা সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে কালীগঞ্জ পৌরসভার খরচ হয় প্রায় ২২ লক্ষ টাকা।পৌরসভার বেতন অনিয়মিত এবং বকেয়া পড়ে যাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন ধারণ করায় এখন বড় চ্যালেঞ্জ এর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের নিকট। যারা তৃণমূলের কাছে সেবা পৌঁছে দেবে সেসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি হলো পৌরসভা। স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন ভাতা পান না।

পৌরসভাগুলোকে তাদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে বেতন ভাতা প্রদান করতে হয়। পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভাষ্যমতে, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে কালিগঞ্জ পৌরসভা উল্লেখযোগ্য হারে রাজস্ব আয় করে থাকে। তবুও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা অনিয়মিত এবং বকেয়া থাকায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালীগঞ্জ পৌরসভার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের সর্বমোট ৬ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।

এরমধ্যে সাবেক দুই পৌর মেয়র এবং বর্তমান মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ এর সময় ধরে মোট ৬ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।আগে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করে জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও মানা হয় না সে নিয়ম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬ মাসের বেতন পাওনা থাকলেও জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা ঠিকই নিয়মিত প্রদান করা হয়। পূর্বে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এর অর্থ আজও দেওয়া হয়নি।

পিএফ এবং গ্রাচুইটির টাকাও বকেয়া রয়েছে।কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন এবং অন্যান্য সুবিধাদির অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় তারা মানবেতার জীবন যাপন করছেন বলেও জানান। কালিগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য সব পাওনা পরিশধে বিলম্ব হওয়ার কারণ জানতে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম এর সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৩ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে মেয়র মহোদয় অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি অফিসে আসলে তার সাথে আলাপ আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্কুলছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

SBN

SBN

মানবেতার জীবন যাপন

কালীগঞ্জ পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬ মাসের বেতন ভাতা বকেয়া

আপডেট সময় ০৭:৪২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৪

শাহিনুর রহমান পিন্টু, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর একটি পৌরসভা হলেও এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা অনিয়মিত এবং ৬ মাসের বকেয়া থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কালিগঞ্জ পৌরসভার স্থায়ী এবং অস্থায়ী মিলে সর্বমোট ১১৯ জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন। কালীগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা ৬ মাসের বেতন বকেয়া থাকার কথা জানালেও পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন ৩ মাসের বেতন পাওনার কথা। বেতন ভাতা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কালীগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্থায়ীভাবে বিভিন্ন পদে চাকরি করছেন ৪৯ জন এবং অস্থায়ীভাবে রয়েছেন ৭০ জন। এর মধ্যে আবার পরিচ্ছন্নকর্মী আছেন ৪৯ জন।

পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের সম্মানি ভাতা সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে কালীগঞ্জ পৌরসভার খরচ হয় প্রায় ২২ লক্ষ টাকা।পৌরসভার বেতন অনিয়মিত এবং বকেয়া পড়ে যাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন ধারণ করায় এখন বড় চ্যালেঞ্জ এর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের নিকট। যারা তৃণমূলের কাছে সেবা পৌঁছে দেবে সেসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি হলো পৌরসভা। স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন ভাতা পান না।

পৌরসভাগুলোকে তাদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে বেতন ভাতা প্রদান করতে হয়। পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভাষ্যমতে, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে কালিগঞ্জ পৌরসভা উল্লেখযোগ্য হারে রাজস্ব আয় করে থাকে। তবুও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা অনিয়মিত এবং বকেয়া থাকায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালীগঞ্জ পৌরসভার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের সর্বমোট ৬ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।

এরমধ্যে সাবেক দুই পৌর মেয়র এবং বর্তমান মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ এর সময় ধরে মোট ৬ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।আগে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করে জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও মানা হয় না সে নিয়ম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬ মাসের বেতন পাওনা থাকলেও জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা ঠিকই নিয়মিত প্রদান করা হয়। পূর্বে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এর অর্থ আজও দেওয়া হয়নি।

পিএফ এবং গ্রাচুইটির টাকাও বকেয়া রয়েছে।কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন এবং অন্যান্য সুবিধাদির অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় তারা মানবেতার জীবন যাপন করছেন বলেও জানান। কালিগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য সব পাওনা পরিশধে বিলম্ব হওয়ার কারণ জানতে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম এর সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৩ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে মেয়র মহোদয় অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি অফিসে আসলে তার সাথে আলাপ আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।