
সম্প্রতি আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন চায়না মিডিয়া গ্রুপ সিএমজিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে চীন-আসিয়ান সম্পর্ক, দু’পক্ষের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন।
সাক্ষাউকারে তিনি বলেছেন, আসিয়ান-চীন অংশীদারিত্ব বিকাশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, কয়েক দশকের যৌথ প্রচেষ্টার পরে, সম্পর্কটি শক্তিশালী গতি এবং প্রাণবন্ত অবস্থা বজায় রেখেছে এবং উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জন করেছে।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক সার্বিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের সাথে সাথে, উভয় পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে; যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য জয়-জয় সহযোগিতা এবং একটি অভিন্ন কল্যাণের সমাজের উদাহরণ স্থাপন করেছে।
তিনি আরো বলেন, চীন ও আসিয়ানের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরো বাড়ছে। তিনি মনে করেন, এই পরিমাণ আরও বাড়বে। আজ, আসিয়ানের জনসংখ্যা ৬৭ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি, যা ভারত ও চীনের পরে তৃতীয় বৃহত্তম এবং এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন সুযোগ থেকে উপকৃত হচ্ছে আসিয়ান, যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভৌগোলিক নৈকট্য। একই সঙ্গে, চীন-আসিয়ান অবাধ বাণিজ্য এলাকা রয়েছে, যা বাণিজ্য ও ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এই সুযোগগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে। এ ছাড়া, আঞ্চলিক সার্বিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি উভয় পক্ষের মধ্যে অব্যাহত বাণিজ্যকে সমর্থন করার আরেকটি সুযোগ এবং এটি একটি জয়-জয় সহযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি করবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং-এর উত্থাপিত বিশ্ব উন্নয়ন উদ্যোগ, বিশ্ব নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং বিশ্ব সভ্যতা উদ্যোগ সম্বন্ধে মহাসচিব কাও কিম হোর্ন বলেন, আমাদের একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎ আছে। আমাদের ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত। আসিয়ান ও চীনের ভবিষ্যৎ একই, যে কারণে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি দেখতে চান। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি ও রূপান্তরের জন্য ক্রমাগত উদ্ভাবন, প্রতিফলন ও নেতৃত্বের প্রয়োজন, যাতে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা যায় এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জনগণের উপকারে আসতে পারে।
সাক্ষাৎকারে, মহাসচিব বলেন যে, চীন-আসিয়ান সহযোগিতার ফলাফল অসাধারণ, যা ১১টি দেশের ২ বিলিয়নেরও বেশি মানুষকে সুবিধা দিয়েছে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতার সবচেয়ে গতিশীল এবং কার্যকর মডেল হয়ে উঠেছে। মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি আশা করেন, আসিয়ান ও চীন যৌথভাবে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে এবং একটি অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তুলবে।
সূত্র : শুয়েই-তৌহিদ-জিনিয়া, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।