
মোঃ সোহেল আমান, রাজশাহী ব্যুরো
গত ২৪ ফেব্রয়ারী ২০২৫ খ্রি. সন্ধ্যায় নওগাঁ জেলার আত্রাই থানাধীন আহসানগঞ্জে একটি ডাকাত দল স্বর্ণ ব্যবসায়ী নান্টু কুমার প্রামানিকের পথরোধ করে মারপিট করে তার কাছে থাকা স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ অর্থ সহ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। এ সংক্রান্তে আত্রাই থানায় একটি ডাকাতি মামলা রুজু হয়।
নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার,বিপিএম নির্দেশক্রমে নওগাঁ জেলা পুলিশের একাধিক টিম ডাকাতির রহস্য উৎঘাটনে কাজ শুরু করে।মামলা তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায় যে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নান্টু ও তার ছোট ভাই মন্টুসহ একটি চক্র চোরাই স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত। স্বর্ণক্রয় বিক্রম সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই নিজস্ব সদস্যদের মাধ্যমেই এ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে এ চক্রের অন্য এক সদস্য ডাকাত রেজাউলকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই ডাকাত আজাদুল এবং জাহিদুলকে নওগাঁ জেলা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়।
মামলার বাদি নান্টুর কাছে রেজাউল একাধিকবার ডাকাতির স্বর্ণ কমদামে বিক্রয় করেছে। কিন্তু রেজাউল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে থাকাকালীন নান্টু তার কোন খোঁজ-খবর নেয়নি এবং তার পাওনা টাকাও পরিশোধ করেনি। ফলে রেজাউল অন্য ডাকাতদের সাথে যোগাযোগ করে নান্টুর স্বর্ণ এবং টাকা পয়সা ডাকাতি করে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাত ১। মোঃ আজাদুল দেওয়ান(৪৭),পিতা-মৃত-বদর উদ্দিন, সাং-বজরুক আতিয়া, থানা-নওগাঁ সদর, ২। মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৪২),পিতা-মৃত-আসাদুল ইসলাম,সাং-শেরপুর, থানা-নওগাঁ সদর ও ৩। মোঃ রেজাউল মন্ডল (৩০),পিতা-মৃত-তালেব মন্ডল, সাং-মালিপুকুর, থানা-আত্রাই, সর্বজেলা-নওগাঁসহ আরও ২ জন ডাকাত ২টি মোটরসাইকেলযোগে নান্টুর মোটরসাইকেল অনুসরণ করতে করতে আত্রাই থানার আহসানগঞ্জ হাটের দক্ষিণ পার্শ্বে মালাধর বড় ব্রিজের নিকট ফাঁকা স্থানে পৌছে ডাকাতদল পিছন থেকে তার মাথায় আাঘাত করে এবং তার ব্যাগে থাকা স্বর্ণ, রুপা এবং নগদ টাকা মিলে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল লুন্ঠন করে নিয়ে যায়।
পুলিশের একাধিক টিম গত রাতে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানা, নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর ও আত্রাই থানা এলাকা থেকে উল্লিখিত ৩ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করে।
আসামীদের হেফাজত থেকে ডাকাতিকৃত নগদ ৪০ হাজার টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল, ডাকাতির টাকায় ক্রয়কৃত ১টি নতুন মোটরসাইকেল এবং ১টি স্বর্ণের চেইন জব্দ করা হয়। উল্লেখ্য, আসামী আজাদুলের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি সহ ১৯ টি মামলা এবং আসামী রেজাউলের বিরুদ্ধে ৩টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ পূর্বক রিমান্ড আবেদন করা হবে।