
মোঃ বেলায়েত হোসেন, শেরপুর
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে বিএনপি থেকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন স্থানীয় ২৪ নেতাকর্মী। এ উপলক্ষে ২৮ আগস্ট চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন বিএনপির ২৪ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থককে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়া বিএনপির ২৪ নেতাকর্মীরা হলেন সোহেল রানা, মো. ইসমাইল, জাহিদুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, মো. মানিকুল, মো. ফারুক, মো. মামুন, মো. হাসান, মো. সাগর মিয়া, নোনা মিয়া, মো. রাকিবুল হাসান, ইবনে আনাজ, শফিকুল ইসলাম, সরাফাত মিয়া, হায়তুলা, মো. সেকান্দর আলী, মুসুদ, রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিক, মিলু মিয়া, মো. সেলিম মিয়া, মো. জাহিদুল ইসলাম এবং মো. মোখন।
এদিকে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি খাদিমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফয়জুর রহমান ফিরোজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নকলা পৌর জামায়াতের সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবির, ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমানসহ দলীয় অন্যান্য নেতারা।
অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতা ফয়জুর রহমান ফিরোজ যোগদানকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আপনারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে একটি আদর্শিক ইসলামী দলে যুক্ত হয়েছেন। তবে শুধু যোগদান করলেই চলবে না আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন মুক্তির লক্ষ্যে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলতে হবে এবং নিজেদের একজন ত্যাগী ও আদর্শিক দায়ী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
জামায়াতে যোগদানকারীরা বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক ইসলামী দল। দেশের চলমান পরিস্থিতি এবং জামায়াতের দেশপ্রেমমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা পারস্পরিক পরামর্শক্রমে ও স্বপ্রণোদিত হয়ে এই দলে যোগ দিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, জামায়াতের দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বই দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
যোগদান প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নকলা উপজেলা আমীর গোলাম সারোয়ার বলেন, যারা যোগদান করেছেন, তারা প্রায় দুই মাস আগে থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের প্রাথমিক কিছু বই দেওয়া হয়েছিল। তারা সেগুলো অধ্যয়ন করে জামায়াতের গঠনতন্ত্র ও কার্যক্রম ভালোভাবে জেনেছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই তাদের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খোরশেদুর রহমান ২৪ জনের জামায়াতে যোগদানের বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘যারা যোগদান করেছেন তারা কোনো নেতা নয়। তাদেরকে কখনোই আমরা নকলা উপজেলার বিএনপির কোনো অনুষ্ঠানে দেখতে পাইনি। এরকম কর্মী দল থেকে চলে গেলে বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে না। বিএনপি একটি বৃহৎ দল। কর্মী আসবে যাবে এটা একটি নিয়মিত ব্যাপার।
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে বলেন, চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন বিএনপির ২৪ জন নেতা-কর্মী জামায়াতে যোগ দিয়েছেন– এ বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। অনেক সময় আওয়ামী লীগের লোকজন টেনে জামায়াতে নিয়ে যাচ্ছে, তবে আমাদের বিএনপির কেউ যাচ্ছেন কি না, তা না জেনে বলা যাবে না। রাজনীতি করা সবার সাংবিধানিক অধিকার। কেউ কেন জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন, সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। কখনো রাগ-অভিমান, হিংসা, ক্ষোভ বা কোনো ধরনের সুবিধা পাওয়ার আশায় মানুষ দল পরিবর্তন করে থাকে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।