
বকুল
নন্দিনী লুইজা
বকুল হেমন্তের পড়ন্ত বিকেলে বসে আছে আনমনে গাছের তলে,
দূর থেকে কাশবন ঘন মনে হয় এটা সত্য- তা সে জানে।
তেমনি ভালোবাসা ভালোলাগা দূর থেকেই বেশি করে কাছে টানে,
উপলব্ধি করা যায় যখন ভালোলাগাটা ভালোলাগায় পরিণত হয়।
তখন কল্পনার জগতে ফানুস উড়াতে বড়ই ইচ্ছে হয় –
বকুল ভাবিনি বকুল ফুলের মতই ঝরে যাবে সকাল হতেই,
পথিক পায়ে দোলে যায়, কেউবা ফুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে, প্রেমিকা প্রেমিককে উপহার দেয় বকুল ফুলের মালা;
প্রেমিক পুরুষ যতনে তুলে রাখে শুকিয়ে গেলেও সুগন্ধি ছড়াবে।
কিন্তু ভালোবাসার ক্ষেত্রে যতই পুরনো হতে থাকে ফিকে হয়,
ভালোবাসা সহজ তবে ভালবাসাকে হৃদয়ে ধরে রাখা অনেক কঠিন।
বকুল এই পড়ন্ত বিকেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে- বিশাল আকাশ প্রতিনিয়ত বিশালতার মধ্যেই বেড়ে ওঠা;
ফেলে আসা দিনগুলোর কথা কতই না ভালোবাসা-
কতো না সরল সহজ ভাবে সত্যের স্বীকারোক্তি দিয়ে জীবন।
সত্য মিথ্যের পরীক্ষা চলে অবিরত -বকুল পরীক্ষা দেয়,
পাশ করে কিনা বাবু সাব জানে, তবে মিথ্যা যে বলে না এটা সে জানে।
যুগ যুগ ধরে বকুলেরা বোকার মতো ভালবাসার পসরা সাজায়,
ভুলে যায় রাত ফুরলে ভোরের শিশিরের মুক্তো দানাগুলো
সূর্যের আলো পড়লেই নিমিষে মিলে যাবে, বকুল ফুল ঝরে যাবে।