
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত সিনচিয়াংয়ে কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য রূপান্তর-প্রক্রিয়া চলছে। অঞ্চলটি চীনের ‘পশ্চিমের শস্যভাণ্ডার’-এ পরিণত হচ্ছে।
গত তিন বছরে সিনচিয়াংয়ের আবাদি জমির আয়তন ৫.৮৮২ লাখ হেক্টর বেড়েছে, যা জাতীয় মোট বৃদ্ধির ৩৪.৮ শতাংশ পয়েন্ট। শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ৫০০ কোটি কেজি ছাড়িয়ে গেছে, যা জাতীয় মোট বৃদ্ধির ২৫.১ শতাংশ পয়েন্ট। সিনচিয়াং দেশের মধ্যে শস্য উৎপাদন ক্ষমতায় শীর্ষ অঞ্চল হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালে সিনচিয়াংয়ের মোট শস্য উৎপাদন ছিল ২৩৩০ কোটি কেজি, যা অঞ্চলটিকে এ ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে ১৩তম স্থানে উন্নীত করছে। প্রতি ইউনিট জমিতে শস্য উৎপাদনের পরিমাণের দিক দিয়ে চীনে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিনচিয়াং। ২০২৫ সালের মধ্যে আরও ৫০ কোটি কেজি শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সিনচিয়াংয়ের সাফল্যের পিছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে।
সিনচিয়াংয়ের শস্য উৎপাদন খাতের বিকাশের জন্য বিশাল জমি একটি প্রাকৃতিক সুবিধা। সিনচিয়াংয়ের চাষযোগ্য জমির আয়তন ৭০.৭ লাখ হেক্টর। এ ক্ষেত্রে এর অবস্থান চীনে পঞ্চম। অধিকন্তু, সিনচিয়াংয়ের পর্যাপ্ত সূর্যালোক, দিন ও রাতের মধ্যে তাপমাত্রার বিশাল পার্থক্য এবং ফসল বৃদ্ধির জন্য খুবই উপযুক্ত অনন্য প্রাকৃতিক জলবায়ু রয়েছে। ভুট্টা উত্পাদনকে উদাহরণ হিসেবে নিলে, কিছু এলাকায় আলো ও জলবায়ুর সুবিধার কারণে, ভুট্টা গাছের সংখ্যা ৮৫০০-তে পৌঁছাতে পারে এবং ফলনের সম্ভাবনা বিশাল। উৎপাদনের পরিমাণ অন্যান্য প্রদেশের দ্বিগুণ।
সিনচিয়াংয়ের উচ্চমানের কৃষিজমি গড়ে উঠছে। ২০২৪ সালে সিনচিয়াং ২.৮৯ লাখ হেক্টর উচ্চমানের কৃষিজমি নতুনভাবে সংস্কার করেছে এবং মোট ৩৯.৯৩ লাখ হেক্টর নির্মাণ করেছে, যা স্থায়ী মৌলিক কৃষিজমির ৭২.৮ শতাংশ। ক্ষেত্রটিতে দক্ষ জল সংরক্ষণ এবং জল-সার একীকরণের ক্ষেত্রটি ৪৮.৫৯ লাখ হেক্টর, যা মোট কৃষিজমির আয়তনের ৬৯ শতাংশেরও বেশি। এটি দৃঢ়ভাবে কৃষি উৎপাদনের ভিত্তি স্থাপন করে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সিনচিয়াংয়ের কৃষিশিল্প উন্নয়নের চাবিকাঠি। বুদ্ধিমান জল-সার সমন্বিত ব্যবস্থা, শুষ্ক বপন ও ভেজা রোপণের মতো উন্নত প্রযুক্তির প্রচার এবং স্মার্ট কৃষির মতো উন্নত মডেলগুলো, সিনচিয়াংয়ে কৃষি আধুনিকীকরণের স্তরকে ক্রমাগত উন্নত করেছে। যেমন, ছাংজি হুই জাতির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মানাসি জেলার ডিজিটাল কৃষি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে একটি একটি বড় স্ক্রিন গতিশীলভাবে ৮০০ হেক্টর প্রদর্শনী কৃষিজমির সামগ্রিক উৎপাদন-চিত্র প্রদর্শন করতে পারে। ফসলের অবস্থা, কীটপতঙ্গ ও রোগের ঝুঁকি এবং সরঞ্জাম পরিচালনার অবস্থাসহ বিভিন্ন তথ্য স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় স্ক্রিনে। সিনচিয়াং ফসলের জন্য বেশ কয়েকটি উচ্চমানের ও উচ্চ-ফলনশীল চাষ-প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়াও, নীতিগত সহায়তাও অপরিহার্য। ২০২৪ সালে সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ২১.৪৩ বিলিয়ন ইউয়ান আরএমবি বরাদ্দ করে, উচ্চমানের কৃষিজমি নির্মাণে সমর্থন দেওয়া হয়। এতে রোপণে ভর্তুকি, কৃষি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয়, উন্নত জাতের প্রজনন এবং শিল্প উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত হয়। বড় শস্য উৎপাদনকারী জেলাগুলোর জন্য একটি পুরষ্কার-নীতিও বাস্তবায়িত হয়েছে, যা শস্য উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ উৎসাহব্যঞ্জক।
সিনচিয়াং একটি ‘সম্ভাব্য কৃষি ভাণ্ডার’ থেকে ‘পশ্চিমের শস্যভাণ্ডার’ হয়ে উঠেছে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে, এটি মোট অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারে, দেশের খাদ্য মজুদ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে, এবং সম্ভাব্য খাদ্য সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারে; অন্যদিকে, এটি দেশের শস্য উত্পাদন বিন্যাসকে উন্নত করেছে, ঐতিহ্যবাহী প্রধান শস্য উৎপাদনকারী ক্ষেত্রগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হ্রাস করেছে, এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার স্থিতিশীলতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়িয়েছে।
ভবিষ্যতে সিনচিয়াং আরেক ধাপে কৃষি খাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন জোরদার করবে, আরও উন্নত জাতের চাষ করবে এবং কৃষি উত্পাদনের দক্ষতা উন্নত করবে। কৃষি অবকাঠামো ব্যবস্থার নির্মাণ জোরদার করা, দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষিক্ষেত্রের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করা ও কৃষি শিল্পায়নের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, শিল্পশৃঙ্খল সম্প্রসারণ করা, কৃষিপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা ও কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা হবে।
‘পশ্চিমের শস্যভাণ্ডার’ সিনচিয়াং চীনের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশা করা যায়, সকল পক্ষের প্রচেষ্টায়, সিনচিয়াংয়ের কৃষি একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সূচনা করবে এবং জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্য আরও দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করবে।
সূত্র: ছাই-আলিম-আকাশ, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।