মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তির অভিযোগে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলার আসামি প্রতারক হাবিবুর রহমান হাবিব এবার মামলা দিলেন ১০ পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। মামলাবাজ হাবিব চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি। সম্প্রতি ওই প্রতারকের নেতৃত্বে মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফসহ ৪ সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং অলিখিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে তাদের বিরুদ্ধে উল্টূ আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এতে মুরাদনগর উপজেলার সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এদিকে প্রতারক হাবিবের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও পুলিশ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার মোচাগড়া গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে প্রতারক হাবিবুর রহমান ওরফে ইব্রাহিম দীর্ঘদিন যাবত নানা ধরনের প্রতারণা করে আসছিল। সম্প্রতি ভোটার আইডি কার্ডের সংশোধন, জন্ম নিবন্ধনসহ নানা অনলাইন ভিত্তিক সেবা মূলক কাজের দালালির অন্তরালে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এরই মাঝে হাবিবের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি প্রতারক দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি সহ নানা অপকর্ম করে আসছে। এসব বিষয় নিয়ে রীতিমত প্রতিবাদ করে আসছিল সরকার নিবন্ধিত সংগঠন মুরাদনগর প্রেসক্লাবের মুলধারার সাংবাদিকরা। গত ১৯/০৫/২০২৩ তারিখে মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফ সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে প্রতারক হাবিবের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আরিফের উপর হামলা করে তাকে তুলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে অলিখিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে তাকে মারধর এবং প্রান নাশের চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা মাহবুব আলম আরিফকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। এ সময় এলাকার লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসী চক্র পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করা হলেও প্রতারক হাবিব উল্টো মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফ বলেন, প্রেসক্লাবের মুলধারার সাংবাদিকরা হাবিবুর রহমান ও আজিজুর রহমান রনির অবৈধ গ্যাস সংযোগসহ বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। প্রশাসন ভালোভাবে তদন্ত করলেই সব সত্যি বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে হাবিবুর রহমানের মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।