
মোঃ ইকরামূল হক
আজ ২৩শে মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা, কুমিল্লার বরুড়া থেকে চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম আবদুল হাকিম (এম এ) ১১তম মৃত্যু বার্ষিকী।
১লা জানুয়ারী ১৯৩৭ খ্রীষ্টাব্দে বরুড়া পৌরসভার এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বরুড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী ব্যাপারী।মরহুম আবদুল হাকিম প্রাথমিক তলগ্রাম সরকারী বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী পাশ করে তলগ্রাম ত চ লাহা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৫২ সালে মেট্রিক পাশ করেন। সফলতার সাথে মেট্রিক পাশ করে ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচ এস সি ও একই কলেজের ড্রিগ্রি শাখা থেকে বি এ ডিগ্রি অর্জন করেন, এরপর দেশের স্বনামধন্য বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬০ সালে রাষ্ট্র বিজ্ঞান এম এ ডিগ্রী অর্জন করেন এবং পাশাপাশি আইন শাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন।
১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করলে সবাই যখন নিজের ক্ষতি পোষাতে ব্যস্ত ঠিক তখন মরহুম আবদুল হাকিম (এম এ) ১৯৭২ সালের শুরুতেই প্রতিষ্ঠিত করেন মুক্তি যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণ কারী শহীদদের স্বরণে বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ যা ১৯৮৫ সালে সরকারি করণ করা হয় যেটি বর্তমানে বরুড়ার একমাত্র সরকারি কলেজ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
তারও আগে ১৯৭০ সালে যখন তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি তখন মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন যা তিনি বরুড়া মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন যা পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে সরকারি করণ হয় যার বর্তমান নাম বরুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়াও ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদে সাংসদ নির্বাচিত রেহেনা কারিগরী ও বানিজ্য কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেন এছাড়াও ৭ম সংসদে সদস্য থাকাকালীন সময়ে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত করেন জহিরা মহিলা কলেজ।
এরপর ২০১১ সালে তাঁর পিতা মরহুম সৈয়দ আলী ব্যাপারীর নামে নিজ জন্মস্থান বরুড়া পৌরসভার বাগমারায় প্রতিষ্ঠিত করেন বাগমারা হাজী সৈয়দ আলী হাফিজীয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। এছাড়াও বরুড়ার অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সরাসরি ভুমিকা রেখে বরুড়া কে একটি শিক্ষায় সমৃদ্ধ উপজেলা গঠনে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন আ-মরণ। আবার ৭ম সাংসদের সদস্য থাকাকালীন সময়ে ঐতিহাসিক বরুড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহয়ের বর্ধিত করণ কাজ করেন।
উল্লেখ্য ১৯৬৫ সালের ২রা জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহর নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে মাত্র এক ভোটে পরাজিত হন মুসলিম লীগের প্রার্থী আবাদ মিয়ার সাথে।
পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের শেষের দিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ মিজানূর রহমান চৌধুরী ও বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডাঃ আবদুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মেধাদ উদ্দিন আহম্মেদ সহ সকলের সমন্বিত উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের এমপি নির্বাচিত হন।
১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যগন ১৫ই আগষ্ট ঘাতকদের যড়যন্ত্রে স্বপরিবারে নিহত হলে বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ মুখথুবড়ে পরে, ঠিক সেই দুঃসময়ে জরাজীর্ণ বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগকে তিনি পূণরায় পূণগঠন করেন, এ সময় তাঁকে খন্দকার মোস্তাকের নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী হওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব পেয়েও তা তিনি ফিরিয়ে দেন যার অপরাধে তাঁকে ঝুলুম নির্যাতন করা হয়। এরপর জেল থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭৬ সালে পয়ালগাছায় অনুষ্ঠিত বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন আবদুল হাকিম (এম এ) এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত ঝলম ইউনিয়নের সিংগুর গ্রামের সামছুল হুদা মাষ্টার।
এরপর পর থেকে ২০১৪ সালের ২৩শে মার্চ পর্যন্ত এক নাগারে বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মরহুম আবদুল হাকিম (এম এ) এ ১ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৭৩ সাল কুমিল্লা ১৩(বরুড়া) সাংসদ নির্বাচিত হন, এছাড়াও ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা ০৭ (বরুড়া), ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা ০৭(বরুড়া) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং এ নিয়ে তিনি সর্বমোট চারবার সাংসদ নির্বাচিত হন।