
লাকসাম প্রতিনিধি
কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের জনপ্রিয় কারাতে ক্লাব লাকসাম সিতোরিউ কারাতে দোঃ ৩টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ১টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে। ২২ ও ২৩ দুই দিনব্যাপী ঢাকা মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে নবম সিতোরিউ কারাতে দো: বাংলাদেশ উন্মুক্ত কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে ক্লাবটি এ দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেন। বাংলাদেশ সিতোরিউ কারাতে দোঃ ইউনিয়ন (বিএসকেইউ) এর আয়োজনে এতে ১হাজার কারাতে খেলোড়ার অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ এর উদ্বোধন করেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি শাহাজাদা আলম, বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু, রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রশিদ চন্দন, বিএসকেইউ এর সভাপতি চিত্রনায়ক মাসুম পারভেজ রুবেল, বিএসকেইউ এর সাবেক আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
চিত্রনায়ক ও কারাতে প্রশিক্ষক মাসুম পারভেজ রুবেল বলেন, কারাতে একজন মানুষকে আত্মরক্ষা, নিয়মানুবর্তিতা, সংযম ও ধৈর্য বাড়াতে সাহায্য করে, যা তাকে সব দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই পড়ালেখার পাশাপাশি প্রত্যেক ছেলে-মেয়েদের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত। এছাড়া তিনি জোর দিয়ে বলেন, আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কারাতে প্রশিক্ষণ থাকা নারীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এর কোনো বিকল্প নেই।
লাকসাম সিতোরিউ কারাতে দো অ্যাসোসিয়েশনের প্রশিক্ষক মোঃ হারুনুর রশিদ সুমন বলেন, কারাতে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। মাঝে মাঝে আমরা এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে কারাতের বিকল্প নেই। কারাতে কখনো কোনো অপরাধজনিত কর্মকান্ডে জড়িত হতে দেয় না। তবে প্রতিবাদ করতে শেখায়। যে কারণে কারাতে শেখা জরুরী। কারাতে মাদক, ইভটিজিং ও সমাজের অবক্ষয় রোধ করে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পাশাপাশি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরী প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশে মার্শাল আর্টের প্রচলন রয়েছে। সে দিক থেকে আমাদের দেশও পিছিয়ে নেই। মার্শাল আর্ট খালি হাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শত্রুর হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার কৌশল এবং প্রতিযোগিতা মূলক আন্তর্জাতিক খেলা।
সুমন আরো বলেন, লাকসাম সিতোরিউ কারাতে দো অ্যাসোসিয়েশনের খেলোয়াড়রা অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করে ৩টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ১টি ব্রোঞ্জপদক জয় করে মোট ৮টি পদক অর্জন করেছে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে সারা দেশের ১হাজার কারাতে খেলোয়ারদের সাথে লড়াই করে এ ৮টি পদক ছিনিয়ে আনা এটা আমার ক্লাবের এবং লাকসাম উপজেলাবাসীর গর্ব করার মতো অর্জন।
এই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় আমার ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রতিভার যে বিকাশ ঘটিয়েছে তাতে আমি মুগ্ধ। আগামী দিনে লাকসাম উপজেলা থেকে আরো অনেক বেশী কারাতে খেলোড়ার তৈরি করে আমি সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখতে চাই। এ জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শরীর চর্চা ও এতদাঞ্চলের সবার উপস্থিতি প্রয়োজন। কারাতে প্রশিক্ষণ তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।