
মো: রায়হান আলী, নওগাঁ
নওগাঁর রাণীনগরে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর উদ্যোগে এক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ আগস্ট, বুধবার সকালে রাণীনগর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার সূচনা হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিএফজির উপজেলা সমন্বয়কারী পাভেল রহমান।
সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ধর্মীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাণীনগরে বর্তমানে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান, যা ধরে রাখতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব থেকে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়াও তিনি সমাজে সম্প্রীতির পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পিএফজির বিভাগীয় সমন্বয়কারী এস এম শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটন, সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামান খান রুকু, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির ডা. আনজির হোসেন ও জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য মোস্তফা ইবনে আব্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজ মো. রায়হান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইবনু সাব্বির ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা ধর্মীয় সহনশীলতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, আমাদের সমাজে মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও আমরা সবাই মানুষ, এবং সেই মানবিক বন্ধনেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এ সময় ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করতে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে একটি সচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ধর্মীয় বিভ্রান্তি কীভাবে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং তা প্রতিরোধে কী করণীয়, তা তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা ভিডিওটি মনোযোগ সহকারে উপভোগ করেন এবং এর বার্তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) দীর্ঘদিন ধরে সমাজে শান্তি, সহনশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কার্যক্রম বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে। এই সংলাপ অনুষ্ঠান সেই নিরবিচারে প্রচেষ্টারই অংশ, যা সমাজকে আরও মানবিক ও সহনশীল করে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলে।